আপনার বাবার গাড়ির ব্যাবসা। ড্রাইভার নিয়োগ করবেন, খোঁজ নিয়ে জানলেন গ্রামে আপনার এক অন্ধ আত্মীয় বেকার। তার উপকার করতে গিয়ে ড্রাইভারের চাকরীটা দিলেন, ফলাফল কি হবে? নির্ঘাত যাত্রি শুদ্ধ গাড়ি খাদে পড়বে। বিসিএস ক্যাডাররা বাংলাদেশ নামক গাড়ির ড্রাইভার। এখানে অদক্ষ ড্রাইভার নিয়োগ দিলে এদেশও খাদে পড়বে।
বিসিএস এ কোটা প্রথা নিয়ে চলছে আলোচনা। ছাত্ররা আন্দোলন করছে। কিন্তু অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ভাবে কতিপয় রাজনৈতিক বিবেকহীন ক্যাডার সংকীর্ন স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে লাঠি ধরেছে। এর যুক্তিযুক্ততা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। সকলে যেন উপকৃত হতে পারে সে জন্য উপায় বের করা যেতে পারে। আমি এ বিষয়ে কয়েকটি বিকল্প প্রস্তাব করতে চাচ্ছি।
কোটা পদ্ধতি করা হয়েছে একদিকে জাতির কিছু সম্মানীয় লোকদের প্রতি সম্মান জানাতে, যেমন মুক্তিযোদ্ধারা, অন্যদিকে এদেশের কিছু সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠিকে এগিয়ে আনার জন্য, যেমন উপজাতি, প্রতিবন্ধি। আমার দৃষ্টিতে কোটা পদ্ধতি প্রবর্তনের উদ্দেশ্য অতি মহৎ কিন্তু পদ্ধতিতে গলদ আছে। অযোগ্য ডাক্তারের ছেলেকে অপারেশন করতে দিলে নির্ঘাত সে রোগী খুন করবে।
মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের গৌরব, একটি ক্রান্তিকালে তারা দেশের জন্য ভুমিকা রেখেছেন। আজীবন তারা সম্মান পাবার যোগ্য। উপজাতির লোকজন চরমভাবে সুবিধা বঞ্চিত। তাদের সুবিধা দেয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। মহিলারা অনেকভাবে সীমাবদ্ধতা নিয়ে লেখাপড়া নিয়ে করেন, সংসার পরিচালনা করেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তারা সহযোগীতা পাবার যোগ্য। জনগণের এই অংশগুলোকে সুবিধা দেয়ার জন্য কয়েকটি বিকল্প প্রস্তাব করছি।
প্রথমত, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের যে যেখানে চাকরীরত আছেন তাদের ব্যাসিক বেতন ৩০% থেকে ৫০% বাড়িয়ে দেয়া হোক। উপজাতি, মহিলা, প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে বেতন ১০% থেকে ১৫% বৃদ্ধি করা হোক।
দ্বিতীয়ত, অন্যদের চেয়ে তাদের বোনাস বছরে একটি বা দুটি বেশি দেয়া হোক।
তৃতীয়ত, গৃহঋন সহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধাদি গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের জন্য শর্তসমূহ হালকা করা হোক।
চতুর্থত, এই অংশের যারা ছাত্র-ছাত্রী আছেন, তাদের বেতন মৌকুফ করা হোক। পাঠ্যপুস্তক সামগ্রী ফ্রি দেয়া হোক।
পঞ্চমত, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতা যুক্তিযুক্ত পরিমাণে বৃদ্ধি করা হোক। বেচে থাকতে তাদের সম্মান দেয়া হোক।
প্রস্তাবগুলো গ্রহন করলে অন্যদের সাথে এই জনগোষ্ঠীর বৈষম্য হবে তাবে কারো অধিকার ক্ষুন্ন হবেনা। একজনের অধিকার ক্ষুণ্ণ না করে যদি অন্যের উপকার করা হয় তাতে কারোরই আপত্তি থাকবেনা। মুক্তিযোদ্ধার অযোগ্য সন্তানদের পাবলিক সার্ভিসে নিয়োগ না দিয়ে তাদেরকে যোগ্য করে গড়ে তুলে এখানে নিয়োগের জন্য প্রস্তুত করা হোক।
আমারা বাংলাদেশ নামক গাড়ির যাত্রি। অস্তিত্বের স্বার্থে আমরা আমাদের গাড়িতে অযোগ্য ড্রাইভার নিয়োগের প্রতিবাদ করে যাব। প্রতিহত করার চেষ্টা করবো। সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থ পিছনে ফেলে, সব জায়গায় মৌলবাদের গন্ধ না শূকে আসুন জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা পালন করি।
লেখাটি প্রবাল গ্রুপেও দেয়া হয়েছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


