আমার প্রিয় পোস্ট
- নির্জন পুল পেরোলেই ঝিঝি পোকার গান। - কোলাহল
- আওয়ামী বর্বরতার শিকার এক শক্তিশালী কবি, আহমদ ছফার বর্ণনায় - সুধী
- এদেরকে প্রতিরোধ করুন। ব্লগের পরিবেশ সুন্দর করুন। - আবাবিল
- চিন্তে পাল্লে আওয়াজ দিয়েন
- ডিয়ার
- আমি এবং আমার বিবেক- বজলু মহাজন - বজলু মহাজন
- কানাডার আকসা পারভেজের মৃত্যুঃ একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ - শামসুজ্জামান সিদ্দিকী শাহীন
- বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন জগত এবং আমার কিছু নিজস্ব ভাবনা - আব্দুন নূর তুষার
- তুমি যে তোমারই তুলনা (উৎসর্গ - ইসলামের এক বীর সৈনিককে) - উম্মু আবদুল্লাহ
- ব্লগ ছাড়া/না ছাড়া বিষয়ক ব্যক্তিগত প্যাঁচাল... বিরক্ত হতে চাইলে পড়ুন - অমিত আহমেদ
- ভায়ের প্যান্ট পছন্দ হয় নাই!!! - মাথামোটা
'করিম সরকার'-দের হাত থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবে মুক্তি পাবে?
১১ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ৯:৩৫
করিম সরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের ছাত্রদল সেক্রেটারী। আজকের ইত্তেফাকে প্রকাশ- প্রতিদিন রাতে গেস্টরুমে ছাত্রদলের হলের লিডারদের নিকট হাজিরা দেবার কাজে অবহেলার দায়ে ছাত্রদল ২২ জন প্রথম বর্ষের ছাত্রকে হল থেকে বের করে দিয়েছে। আর তার নেতৃত্বে ছিল করিম সরকারের বাহিনী।
সূর্যসেন হলে থাকার অভিজ্ঞতা আমার আছে। করিম সরকারের হাতে পড়ার অভিজ্ঞতাও আমার আছে। ঢাবিতে ছাত্ররাজনীতির চাপে পিষ্ঠ ছাত্রদের হয়রানীর এটি মাত্র একটি চিত্র। প্রথম বর্ষের ছাত্রদের কি যে এক দূর্বহ মানসিক কষ্টে মাথা নিচু করে আত্মমর্যাদাবোধে লাথি মেরে করিম সরকারদের আনুগত্য করতে হয় সে অভিজ্ঞতাও আমার আছে। দেশের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রদের এভাবে নিগৃহিত হওয়াটা জাতির জন্য একটি কলঙ্ক বৈ আর কিছু নয়।
দীর্ঘদিন পর চলতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একটি বছরই এমন গেল যখন প্রথম বর্ষের ছাত্ররা এক নিঃসীম স্বাধীনতা ভোগ করেছিল। লিডররা সব পালিয়ে গেল। সাধারণ ছাত্ররা বিশেষত প্রথম বর্ষের ছাত্ররা বুক ভরে নিশ্বাস নিল। ওই সমস্ত লিডারদের কাউকে পাওয়া গেল নিয়মিত নামাজি, কাউকে দেখা গেল সেন্ট্রাল লাইব্রেরীতে, আর করিম সরকারকে পাওয়া গেল ব্যাগ কাধে ইভিনিং এমবিএ ক্লাসে। কিন্তু প্রথম বর্ষের ছাত্রদের কপালে সৌভাগ্য বেশিদিন স্থায়ী হলো না। আবার জেকে বসলো রাজনীতির করাল ছোবল। করিম সরকারদের বাহিনী হানা দিল আবার। আবারও সেই দাসত্বের শৃঙ্খল। পরীক্ষার কারণে হাজিরা না দেয়ায় হল থেকে উচ্ছেদ হতে হল প্রথম বর্ষের দেশ সেরা মেধাবী ছাত্রদের। প্রশাসনের ভিতরে কি অবাক করা এক শক্তিমান ছায়া প্রশাসন। যেই ছাত্ররা নিত্য মানবাধিকারের কথা বলে বিতর্কে বক্তৃতায় কিংবা লেখনিতে, তারাই কণ্ঠনালীতে বহন করে চলে এক অদৃশ্য দাসত্বের শৃঙ্খল। এদের মানবাধিকারের গ্যারান্টি দেবে কে? এই "গৌরবময়" ছাত্ররাজনীতির কি দরকার আমাদের দেশে? ছাত্রদের চরম ঘৃণার পাত্র এই সমস্ত তথাকথিত ছাত্ররাজনীতিকরা। তাইতো ছাত্রদের প্রতি এদের ন্যুনতম আস্থা থাকেনা। ২০০১ এ যেই রাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ পেল, পরাজয়ের ইঙ্গিত পাওয়া মাত্র ছাত্রলীগ মাঝরাতেই পালিয়ে গেল। এমন কি কেউ কেউ স্যান্ডেল পড়ারও সময় পায়নি। কেননা তারা জানে- হঠাৎ করে গণরোষে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার যদি ক্ষমতার পালা পরবর্তিত হয়, বর্তমানদেরও একই দশাই হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনেক কাজেই আমরা বিরক্ত, ক্ষুদ্ধ, আতঙ্কিত। তবে তাদের সুযোগ ছিল এই অপরাজনীতির কবল থেকে ছাত্রদের উদ্ধার করার। অন্তত একটা কাজে সবাই খুশি হত নিদারূনভাবে। কিন্তু তারা কাজে লাগালো না। এখনও সুযোগ আছে। যাবার আগে ছাত্রসমাজের অন্তত এতটুকু উপকার তারা করে যাক এটাই আন্তরিক প্রত্যাশা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ হোক। গুনগত পরিবর্তন ব্যাতিত এই ছাত্ররাজনীতির জোয়াল আমরা আর কাধে রাখতে চাইনা, আর পারিনা।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ১১:০৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
রাফা বলেছেন:
রাজনৈতিক দলের লেজুর ভিত্তিক ছাত্র রাজনিতী চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ।
লেখক বলেছেন: সে লক্ষ্যে প্রথমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা হোক।
সুপ্ত সবুজ বলেছেন:
লেখাটা খুব সুন্দর হয়েছে। কোন পক্ষ অবলম্বন করা হয়নি মনে হচ্ছে। এজন্য ধন্যবাদ। সেইসাথে রাফা'র সাথে আমিও একমত। লেজুরবৃত্তি ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা হোক।
কোপা সামছু বলেছেন:
ঢাবি র পুলাপাইন নাকি বাঘের বাচ্চা?হেরা রা সেনাবাহীনিরে তারাইছে, এখন বাঘ হইতে পারে না ক্যান?
আশিক হাসান বলেছেন:
এভাবেই চলুক । ভাল জিনিষ বাংলাদেশিদের মানে আমাদের বেশী দিন সয় না ।আর সবকিছু তাড়াতাড়ি আমাদের ভুল যাওয়ার ব্যারাম আছে ।
লেজুড়বৃত্তি রাজনীতি জিন্দাবাদ ।
পোস্টের লেখকের জন্য সমবেদনা কারন এই বোধ ওনার একার অথবা গুটিকয়েক জনের । যারা ম্যাসলম্যান ছাত্রদের হাতে বন্দী তাদের জন্য সমবেদনা ছাড়া আর কিছুই দেয়ার নেই আমার।
৫
কোলাহল বলেছেন:
সত্য কথা। রাফার সাথে একমত।
লেখক বলেছেন: আপনার সাথেও একমত।
আবাবিল বলেছেন:
আজকের ইত্তেফাকে প্রকাশ, বাহিষ্কৃত ছাত্রদেরকে পত্রিকায় 'প্রতিবাদ' পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে নতুবা ব্যাবস্থা নেয়া হবে। হায়রে রাজনীতি!
লেজুড় বৃত্তির রাজনীতির হাতে বন্দী হয়ে থাকে বিশ্ব বিদ্যালয় প্রশাসন।
সুন্দর হয়েছে লেখাটি।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














