আমার প্রিয় পোস্ট

সবাই যখন পরিতৃপ্ত 'জিলাপির কাস্টমার'।

১৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:৩১

শেয়ারঃ
0 0 0

নিলক্ষেতের জিলাপীর দোকানটার চোহারা যাই হোক, জিলাপিগুলো মজার। প্রতি পিস মাত্র ৪ টাকা করে জিলাপিগুলো ভালোই চলছিল। এমনকি পিক আওয়ারে কাড়াকাড়ি অবস্থা। আমিও এক নিয়মিত কাস্টমার।

হঠাৎ একদিন . . . দোকানে কাস্টমার নেই। দোকানদার আছে, জিলাপী আছে, কাস্টমার নেই। রাস্তা ছেড়ে ফুটপাতে উঠে দোকনের কাছে গিয়ে যা দেখলাম তাতে আমিও ক্ষুদ্ধ হয়ে দোকান ত্যাগ করলাম। বিষয়টি কিছুই নয়, ছোট্ট একটি নোটিশ ঝুলানো, "চিনির দাম বৃদ্ধিহেতু জিলাপির দাম এখন থেকে ১ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে মাত্র ৫ টাকা।" আমি অভিমানে কেটে পড়লাম। "এত দাম" দিয়ে একটা জিলাপি! খাবনা।

কদিন পর হঠাৎ দেখি জিলাপির দোকানে যথারীতি ভীড়। ঘটনা কি? - "সিদ্ধান্ত পরিবর্তন। পূর্বের দাম বহাল, সম্মানিত ক্রেতাদের দাবীর প্রেক্ষিতে পূর্বের দাম ৪ টাকায়ই জিলাপি বিক্রি হবে।" আমিও অন্যদের মত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে যথারীতি মাত্র ৪ টাকায় একটা জিলাপির গর্বিত কাস্টমার। দিনগুলো চলে যাচ্ছিল। হঠাৎ একদিন দেখি নোটিশ- "জিলাপির দাম ৫ টাকা।" . . . . কিন্তু পাবলিকের তেমন কোন ভাবান্তর নেই। কাস্টমারও কমেনা। আমি রাগ করিনা। ভাবি, লোকটা নিশ্চয়ই সত্যিই সমস্যায়, নইলে আবারও কেন বৃদ্ধি করলো। সহানুভূতি জাগ্রত হলো। ভাবলাম, 'মোটেতো একটাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। অসুবিধা কি?' অতপর সবাই আমার মত, আমি সবার মত। জিলাপির দোকান আগের মতই চলছে- কারোই মনে নেই- ২৫% বেশি দামে আমরা জিলাপি খাচ্ছি।


গত সরকারের চেয়ে এখন বিদ্যুৎ বিভ্রাট মোটেই কম নেই। সরকারের খাস ভক্তও কেউ এ দাবী করতে পারবেনা। কিন্তু গত সরকার যদি এখনও ক্ষমতায় থাকতো তবে কি দশা হতো? শুষ্ক মওসুম আসামাত্র নির্ঘাত সারাদেশে বিদ্যুত অফিসে হামলা হতো, মিছিল, সমাবেশ, মানব বন্ধন, আলটিমেটাম, ঘেরাও- কিছু বাদ থাকতো না। সরকার পরিবর্তন হলো, শুকনো মওসুম আসলো এবং বিদ্যৎ যথারীতি তার খেল দেখাতে শুরু করলো। কিন্তু জিলাপীর কাস্টমারের মত এবার আর পাবলিক কিছু বলেনা, আন্দোলন বিক্ষোভে সকলেই শ্রান্ত। ভাবে, এটাই আমাদের কপাল, সরকারের দোষ দিয়ে কি লাভ।


বলাই বাহুল্য যে একটি সরকারের তিন মাস তার মূল্যায়নের জন্য মোটেই যথেষ্ট নয়। আর বিদ্যুত সমস্যার সমাধান বললেই হয়ে যায়না। মানলাম। সকলেই মানে। মানুষ যে একটু আশাবাদি হবে, তেমন কোন উদ্যোগ কি দেখা যায়? মাটির তলা থেকে জঙ্গি খুঁজে বের করা, (অথচ নিজের ঘরের জঙ্গিরা মাঠ তছনছ করে ফেললো), ট্রানজিট-করিডোর, দক্ষিণ এশিয় টাক্সফোর্স, খালেদার বাড়ি বাতিল, ইত্যাদি দূরবর্তী বিষয়গুলো একের পর এক সামনে আনা হচ্ছে। কোথায় দ্রব্যমূল্য, কোথায় বিদ্যুত, কোথায় ক্রমবর্ধমান ছিনতাই-চুরি। কোথায় বিশ্ব মন্দার আগ্রাসী থাবা মোকাবেলা। কোন যথার্থ উদ্যোগই অন্তত আমাদের চোখে পড়ছেনা।

প্রতিটি পাঁচ বছরের প্রান্তে এসে জনগণ আশায় বুক বাধে, এবার বুঝি পরিবর্তন। মিষ্টি মিষ্টি আশ্বাস প্রতিশ্রুতিতে তারা আরো উদ্বেলিত হয়। কিন্তু সিংহাসন আরোহন পরবর্তী সেই একই চিত্র। বাধ্য হয়ে সবাই ৫ টাকা দরেই জিলাপি কিনতে থাকে। জনগণের প্রতারিত হবার এ ইতিহাস দীর্ঘ থেকে দীর্ঘই হচ্ছে।

 

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:৩১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:৩৫
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: কতদিন পরে লেখা পেলাম। যথারীতি ভাল লেখা।
১৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:৪৫

লেখক বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

২. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:৩৮
লেখাজোকা শামীম বলেছেন: গাছভুদাই পাবলিক এই দু্ই মহিলারে যত দিন না ছাড়ব তত দিন দেশের কোন পরিবর্তন হবে না।
৩. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:৪৪
গিফার বলেছেন: গত সরকারের চেয়ে এখন বিদ্যুৎ বিভ্রাট মোটেই কম নেই। সরকারের খাস ভক্তও কেউ এ দাবী করতে পারবেনা। কিন্তু গত সরকার যদি এখনও ক্ষমতায় থাকতো তবে কি দশা হতো?

৩ মাসে মনে হয় আপনার জন্যে একটা বিদ্যুত স্টেশন বানায় দিব ?
আর যারা নতুন কাম করতে আসছে তাদের বিরুদ্ধে মানুষ মিছিল করবে
নাকি যারা এই অকাম ডা কইরা রাইখা গেছে তাগ বিরুদ্ধে মিছিল করবে ?

চাল তেলের দাম কি কমে নাই ? ৩ মাস আগে তেল চাল ডাল ইত্যাদি কত তে খাইছেন তা মনে নাই ? তখন কি এর চেয়ে কম ছিল ?

এটাই তো সমস্যা মাইনষে শুকর করে না। যত দাও তত চাও।
১৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:৫৫

লেখক বলেছেন: পুরো লেখা পড়ে এই বুঝলেন মানুষকে আন্দোলন সংগ্রামে নামতে বলছি? এই বুঝলেন যে কেন ৩ মাসে বিদ্যুৎ স্টেশন হলোনা বলে হাশফাস করছি?

দয়া করে আরেকবার পড়েন।

৪. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:৫৫
সোহানী বলেছেন: সহমত.... ধন্যবাদ লিখার জন্য।
১৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:৫৭

লেখক বলেছেন: আপনাকেও।

৫. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:৫৯
গিফার বলেছেন: পুরা টাই পড়েছি হাশফস করেন নাই তবে লেখার মধ্যে বুঝাই যাইতাসে আপনি এই সরকারের উপর চেতা।
১৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:০৭

লেখক বলেছেন: বুঝাই যাইতাছে আপনি খুব খুশি। আমি চেতা এটা তো যে কেউ লেখা পড়ে বুঝবে, আর এতে দোষেরও কিছু নেই। কিন্তু কি কারণে চেতা তা আপনি যা বুঝছেন অন্যেরা সম্ভবত তা বোঝেনাই।

বিদ্যুত সমস্যার সমাধান কেন হলোনা, এই কারণে আমি ক্ষুদ্ধ না। সরকার যে আলাদীনের চেরাগ নিয়ে আসেনাই এতটুকু বোধ অন্তত আমার আছে। আজকেও ৩৬ টাকা করে বরবটি আর ৩০ টাকা করে রেখা আমি নিজে কিনেছি। আমি এ জন্য ক্ষুদ্ধ না যে কেন তা ২০ টাকা হয়না। আমার বন্ধু নূরুল আমীনের মোবাইলখানা যে ছাত্রলীগ পরিচয়ে ছিনতাই হয়েছে কেন, এজন্যও আমি ক্ষুদ্ধ না।


. . . . আমি ক্ষুদ্ধ এসবের প্রতিকারার্থে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যে পদক্ষেপের আশা জনগণ করে বসে আছে, তার খুব সামান্যই আমরা দেখতে পাচ্ছি। বরং দূরবর্তী ও অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলো জোড় করে জনগণের চোখের তাড়ায় নিয়ে এসে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকে অগ্রাহ্য করার যে প্রবণতা আমরা দেখছি- আমার এবং আমাদের ক্ষোভ এখানেই। বুঝাতে পেরেছি আশা করি।

৬. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:৩২
সুমন আহমদ বলেছেন: জমাইছেন ভালই, + দিলাম
৭. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:৪০
ভুডুল বলেছেন: অনেকদিন পর দেখলাম, ভাই ভালো আছেন?
১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:৫১

লেখক বলেছেন: এতদিন ধরে আমাকে মনে রেখেছেন! ! ভালই আছি আল্লাহর রহমতে।

৮. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:৪২
ভুডুল বলেছেন: খাঁটি কথা বলেছেন। এরকমটাই হচ্ছে আমাদের।
৯. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৬
আকাশ_পাগলা বলেছেন: আপনার পয়েন্ট ধরতে পারছি। ভাল বলেছেন। তবে, সরকারের সমালোচনার আগে সরকারকে এখনও কিছু সময় দিতে হবে।ব্লগটা আরো ২ মাস পরে দিলে ভালো করতেন। ভাল জমত।

যাই হোক, ভাল লিখেছেন। +
১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:৫৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

কিন্তু সময় তো পাঁচ বছর দেয়াই আছে। আমাদের চাহিদা এই যে তারা কার্যকর ও আন্তরিক উদ্যোগ নিক। প্রভাব গিয়ে দূ-বছর পরে পড়ুক তা ভিন্ন বিষয়।

১০. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:৩৪
গিফার বলেছেন: মিয়া পারলে যায়গায় গিয়া দেখেন খালি দুরে বইয়া সমলোচনা করলেই হয় না।
১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:৫৬

লেখক বলেছেন: জনগণের কাজই তো দূরে বসে আলোচনা-সমালোচনা করা, পরামর্শ দেয়া, দাবী জানানো। সে কাজই তো করছি। এ ছাড়া আর কি করণীয় আছে? জনগণ সবাই যদি "যায়গায়" যেতে চায়, তবে অবস্থা কি হবে?

১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:০০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে। প্রসংশা উৎসাহ যোগায়।

১২. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৩
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: "আমি ক্ষুদ্ধ এসবের প্রতিকারার্থে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যে পদক্ষেপের আশা জনগণ করে বসে আছে, তার খুব সামান্যই আমরা দেখতে পাচ্ছি।"

কোন চেষ্টাই চোখে পড়ছে না।
বরং অহেতুক অনেক অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে তাদের ব্যস্ত দেখা যাচ্ছে।
১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:০১

লেখক বলেছেন: "অহেতুক অনেক অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে তাদের ব্যস্ত দেখা যাচ্ছে।"


আমাদের উদ্বেগ এবং ক্ষোভ এখানেই।

১৩. ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:১০
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: আবাবিল, খুব মিস করি আপনাকে আর কোলাহলকে। দেখুন আই ডিতে লেখার এক কপি দেয়া যায় কিনা। বিভিন্ন কারনে এখানে আসা একটু কম হয়। অবশ্য কারন তো আপনার ভাল জানার কথা।

http://www.idbangla.com/forums/
০৭ ই মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৭

লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ, ও কৃতজ্ঞতা।



আপনার জন্য চমক হচ্ছে, আপনার কাঙ্খিত দুজনই ওখানে আছেন ! ! !

১৪. ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪০
জাতেমাতাল বলেছেন: বিদ্যুত সমস্যার সমাধানের জন্য মাত্র তিন মাস বয়সী সরকারের সমালোচনা নাকি এখনই করা যাবে না... পুর্ববর্তী সরকারগুলোই এসবের জন্য দায়ী!!!

আমার তো মনে হয়-- সিরাজদ্দৌলা আর লর্ড ক্লাইভও (!) এ বিষয়ে তাদের দায়ীত্ব এড়াতে পারে না। তাদের কেও আমরা এ জন্য দায়ী করতে পারি।

তিন মাসে বিদ্যুত স্টেশন বানানো যায় না--খুব শক্ত যুক্তি। কিন্ত সরকারকে অবশ্যই আমাদের জানাতে হবে, ঠিক কয়মাস সময় পেলে তারা একটা বিদ্যুত স্টেশন বানাতে পারেন? এবং বিগত তিন মাসে সেই বিদ্যুত স্টেশন বানানোর পরিকল্পনায় কতটুকু অগ্রগতি অর্জন হয়েছে?

বর্তমান সরকারকে সোজা সাফটা বলতেই হবে--বিদ্যুত উৎপাদন বাড়ানোর জন্য তাদের সামগ্রিক পরিকল্পনাটা কি? কি লক্ষ্যমাত্রা তার জন্য ধার্য্য করা হয়েছে? এই তিন মাসে সেই পরিকল্পনার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে? এ বছরের শেষ নাগাদ তারা কতটুকু অগ্রগতি হবে?


০৭ ই মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৬

লেখক বলেছেন: এটাই বলতে চয়েছিলাম। ধন্যবাদ।

১৫. ০৮ ই মে, ২০০৯ সকাল ৯:২৩
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: "আপনার জন্য চমক হচ্ছে, আপনার কাঙ্খিত দুজনই ওখানে আছেন ! ! !"


আমাকে কেন অন্ধকারে রেখেছেন তবে। আমি কিছুটা হাবা। বুঝিয়ে না দিলে বুঝতে পারি না।
১৬. ০৮ ই মে, ২০০৯ সকাল ৯:৪৭
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: আরেকটা ব্যপার। লেখাগুলো সেখানে দিলে আলোচনার সুবিধা বেশী হয়।
১৭. ১৪ ই এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০১
সাইফুর বলেছেন: লেখাটা ভালো লাগছে

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৪৮১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের একজন ছাত্র। এখনও চাকরির সন্ধানে পুরোপুরি বের হইনি। ইত্যাবসরে ব্লগের সদস্য হয়ে গেলাম। চেষ্টা করবো...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই