আজকের দিনে মানুষের নিত্য সঙ্গী রেডিও, টিভি, ভ্যাকুয়েম ক্লিনার, থালা-বাসন, হাড়ি-পাতিল, ওভেন , মাইক্রোওভেন, পানির বোতল--- এ রকম হাজারো উপকরণ । খালি চোখে এদের সব কিছুই নির্দোষ বলে মনে হতে পারে । কিন্তু এর মধ্যে যে কত বিপদ লুকিয়ে আছে তা আমরা ভাবতেও পারব না । যদি বলি নিত্যদিন চোখের সামনে সব সময় যা দেখতে পান সেই প্লাস্টিক আপনার স্বাস্হ্যের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে পারে তাহলে অবাক হবেন । সত্যিই তাই । প্লাস্টিক আমাদের জন্য মহা-বিপর্যয় সৃষ্টির কারণ হতে পারে ।
১৯৬৭ সালে হলিউডে 'The Graduate' নামে একটি ধ্রুপদীচলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছিল । ছবির নায়ক বেন ব্রাডক ( Ben Braddock) তার এক বন্ধু একদিন বললেন, 'আমি তোমাকে একটি কথাই বলতে চাই, আর তা হলো প্লাস্টিক ' । ব্রাডক বন্ধুর কথার অর্থ বুঝতে পারেন নি । আজ ২০০৮ সালে বলা যেতে পারে যে, আগামীতে প্লাস্টিকের জন্য অনেক জটিল পরিস্হিতি অপেক্ষা করছে । জটিল সমস্যাটা কি ? সেটি হচ্ছে অন্তঃস্রাবী বিচ্ছিন্নকরণ (Endocrine disruption) ।
অন্তঃস্রাবী বিচ্ছিন্নকরণ (Endocrine disruption) এমন এক রাসায়নিক উপাদান যা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত পদার্থে পাওয়া যায় । রাসায়নিক কাঠামোর দিক দিয়ে এরা হরমোন সদৃশ হওয়ায় অনেক গবেষক বিশ্বাস করেন যে, আমাদের দেহও এদেরকে হরমোন বিবেচনায় গ্রহণ করে । এগুলি দেহাভ্যন্তরে প্রবেশের পর, অন্তঃস্রাবী বিচ্ছিন্নতাকারী (Endocrine disruption) স্বাভাবিক হরমোন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন সৃষ্টি করে । এর ফলে দেখা দেয় জীনগত ক্ষতি, বিশেষ করে প্রভ্রূণ ও শিশুর বিকাশে তা বিশেষভাবে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে । অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে এই রাসায়নিক যৌন বিকাশে অস্বাভাবিকতা সৃষ্টি করে জননতন্ত্রের কার্যক্রমে (Sexual development) বিশৃংখলা ডেকে আনে । যার ফলে হরমোন সংশ্লিষ্ট ক্যান্সার উদ্ভব হয় । এ সর্ম্পকিত একমাত্র হুমকির তথ্য প্রাণী গবেষণা থেকে পাওয়া গেলেও মানুষও এই বিপর্যয়ের শিকার হতে পারে বলে ধারণা করা হয় ।
অন্তঃস্রাবী বিচ্ছিন্নকরণ (Endocrine disruption) সংক্রান্ত তথ্যটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে ১৯৯৬ সালে জিওলজিষ্ট থিও কলবর্ন ও অন্যান্যদের একটি গ্রন্হ Our Stolen Future প্রকাশের পর । কলবর্ন তার বইতে অন্তঃস্রাবী বিচ্ছিন্নতাকরণ সংক্রান্ত গবেষণার ফলাফল উল্লেখ করে বিপন্ন ভবিষ্যতের চিত্র তুলে ধরেন । কলবর্ন বলেন- মানব সমাজ এখনই হয়ত এই বিপর্যয়ের ফল ভোগ করতে শুরু করেছে । উদাহরণ স্বরূপ তিনি স্তন ক্যান্সারের চিত্র তুলে ধরেন । এতে দেখা যায়- বিশের দশকের তুলনায় স্তন ক্যান্সারের হার ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে । এর কারণ হতে পারে কীটনাশক ও গুল্মনাশকের ব্যাপক ব্যবহার ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথাই ধরুণ । অন্তঃস্রাবী বিচ্ছিন্নকারীর বিপর্যয় বুঝতে হলে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত একটি রাসায়নিক বিসফেনল -এ (Bisphenol-A) এর কথাই ধরা যাক । এই আঠা; মেঝেতে বিছানোর PVC; কতক কীটনাশক; বাড়ি তৈরীর বিভিন্ন উপাদান; মেডিকেল টিউবিং ও স্যালাইনের ব্যাগ; বাগানের গাছে পানি দেওয়ার পাইপ; রঙ; রেইনকোট ও অন্যান্য প্লাস্টিকের পোশাক; শাওয়ারের পর্দা এবং জুতো - এ রকম আরো কত !
আপনার শিশুকে বোতল দুধ নয় বুকের দুধ খাওয়ান ।
ক্যানকৃত খাবার এবং কোমল পানীয়ের লাইনিং সহ ক্যানজাত শিশুখাদ্যের ফর্মূলায় BPA পাওয়া যায় এবং নিঃসৃত হয় । এ ছাড়া স্বচ্ছ প্লাস্টিকের ফিডিং বোতল, বাচ্চাদের পানি খাওয়ার চুষি কাপ ; পুনভরণযোগ্য পানির বোতল, খাদ্য গুদামের কন্টেইনার এবং ডেন্টাল সিলান্ট BPA-এর উৎস । দুভার্গক্রমে এসব রাসায়নিক থেকে আপনি দূরে থাকার যত চেষ্টা করবেন দেখবেন তা অসম্ভব ।
---চলবে ।
উৎস- মাসিক গণস্বাহ্য - ২৭ বর্ষ সংখ্যা / ফাল্গুন ১৪১৫ ।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



