একটি টাউন সার্ভিস দাড়িয়ে আছে গুলিস্থান ষ্ট্যান্ডে।বিভিন্ন ধরনের লোক এসে গন্তব্যে যাওযার জন্য সিটে বসেছেন। নির্দিষ্ট সময়ের পর বাসটি ছেড়ে দিলেন এবং ধিঁক ধিঁক করে চলছে। বাসের শেষ গন্তব্য গাবতলী।ড্রাইভার তার মতো গাড়ী ড্রাইভ করছে।কিছু প্যাসেঞ্জার কন্ডাক্টরের সাথে ভাড়া নিয়ে গন্ডগোল শুরু করল। মনে হয় এইদেশের সরকার পক্ষ আর রাজনৈতিক দলগুলো । বেচারা কন্ডাক্টর চাপে পড়েই কিছু ভাড়া কম নিয়ে শান্ত হলেন। কিছুদুর যাওয়ার পর একজন পিছনের প্যাসেঞ্জার ড্রাইভারকে বলল "এই বেটা আস্তে চালাতে পারিসনা? কোথায় ভাঙ্গা বা ভালা চোখে দেখিসনা? সালা কুত্তার বাচ্চা" সুরটা বি.এনপির মহাসচিবের মতো ছিল! ড্রাইভার চুপ করে গাড়ী চালাতে থাকল। বেশ কিছুক্ষন পর ড্রাইভারের পিছনের সিট থেকে একজন বলল"এই জোরে গাড়ী চলাতে পারোনা?,কত দিন হলো এই রুটে গাড়ী নেমেছো? ব্যাটা গাড়ী চালাতে পারোনা ভালোভাবে- ঠিক দেশের বুদ্ধিজীবিদের মতো।" এবারও ড্রাইভার চুপ করে হজম করল।গাড়ী চলতে থাকল এরমধ্যে গাড়ী শাহাবাগ মোড়ে এলো ঠিক বংলাদেশে নির্বাচন এর সময় যখন। সামনে প্রচন্ড জ্যাম গরমের দিন সবাই ক্লান্ত হয়ে গেছে। গাড়ীর মাঝের সিট থেকে একজন বলল"এই ড্রাইভার এলিফেন্ট রোড দিয়ে যাও,তাড়াতাড়ি যেতে পারব "অন্যজন বলল ''না যে রুটের গাড়ী সেই রুট দিয়েই যেতে হবে।" দুই যাত্রী একে অপরের সাথে বাক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়ল মনে হলো এখানে বি.এন.পি ও আওয়ামীলিগ হয়ে ভাগ হয়ে গেল। বাসের মধ্যেই দুই দল প্রচন্ড রকমের গন্ডগোল পাকিয়ে ফেলল যার যেমন সুবিধা সেইভাবে সেই পক্ষ নিলেন এর মধ্যে নিরপক্ষ তেমন কেউই ছিলনা তবে সুযোগের অপেক্ষায় ছিলো আমাদের দেশের ক্ষমতাসীনদের মতো। নিজ নিজ অভিমতের উপড় পুর্ন আস্তা রেখে বাসটিকে শাহবাগ মোড়ে থেমে দিলে।
পিছনের বাস যায় সামনের বাস আসে,যায় আর আসে তাদের বাস আর কোন দিকে যায়না। দুইঘন্টা অপেক্ষা করে ড্রাইভার বলল"ভাই আপনারা এখনও সিদ্ধান্ত দিতে পারছেননা? এই গাড়ীটি কয়েকটাকা করে ভাড়া দিয়ে সমস্ত দিনের জন্য কিনে নিয়েছেন ঠিক তাই আমাদের পলিটিক্যাল দলগুলো যেমন গনতন্ত্রের কথা বলে দেশটাকে জিম্মি করে রেখেছে। সরকার যেমন এখন প্রশ্নের মধ্যে তারা কি ডিসেম্বরের পরও থাকবে নাকি কাউকে ক্ষমতায় দিয়ে যাবে? হয়ত সেইটি এইদেশের দলগুলোই ঠিক করবে। গাড়ীর ড্রাইভার নিরুপায় হয়ে এইকথাটিই বলল" আমি কোন পথে যাবো ? এই দেশের সরকারের মতো!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



