somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার প্রথম ছবি ব্লগ : ইস্তানবুল, তুরস্ক।

১৮ ই মার্চ, ২০১১ রাত ২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীবনে অল্পই ভ্রমন কাহিনী পড়েছি। লেখকের দৃষ্টির সাথে পাঠকের চোখের মিল হয় না।আর বর্তমানে বিশ্বের সুন্দর ও আকর্ষনীয় দেশ,শহর ও প্রাকৃতিক দৃশ্য টিভিতে এত বেশী দেখায় যে জায়গার বর্ণনা পড়া প্রায়ই বিরক্তিকর হতে পারে।

ট্যুরিস্ট ভিউ আর এক্সপ্লোরার ভিউ দুটি আলাদা। নিজের জীবনে যেসব পর্যটক প্রিয় জায়গায় গিয়েছি তার খুব কম জায়গা থেকেই আনন্দ পেয়েছি।বেশী বেশী মানুষ আর জায়গাটার রূপ বদলে হয়ে যায় ট্যুরিস্ট প্লেস! বেশীর ভাগ জায়গাতেই দেখেছি মানুষের ভীড়ে সব জায়গা একই রকম লাগে! স্থাপনা বা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছাপিয়ে মানুষ বা মানুষের নিয়ন্ত্রন বেশী চোখে পড়ে।

সেজন্য নিজে নিজে বা বন্ধুদের সাথে বিলের পাশে,ক্ষেতের পাশে,রেল লাইনের পাশে, এয়ারপোর্টের রানওয়েতে,এক্যোয়ার করা বাইলজুরী গ্রামে অদেখা সৌন্দর্য আবিস্কার করতাম।এর মাঝে কিছু কিছু পরবর্তীতে সত্যিই জনপ্রিয় হয়েছে কিন্তু তখন আর নিজে সেখানে যেতাম না কারন সৌন্দর্যটা পাবলিক হয়ে গেলে তার চরিত্র বদলে গিয়ে আর সব কিছুর মত হয়ে যায়!

তাই সবসময় সাধারনে চোখে নিজস্ব "দৃশ্য" আবিস্কার করাই আমার নেশা।

তুরস্কে গিয়েছি বেশ কয়েকবার।ইস্তানবুল তুরস্কের বিখ্যাত শহর।একসময় বাইজেন্টাইন সম্রাজ্যের রাজধানী কন্সটান্টিনাপোল পরে হয় অটোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী ইস্তানবুল।কৃষ্ন সাগর আর ভুমধ্যসাগর দুটিকে এক করেছে যেই সরু বসফরাস চ্যানেল সেটির দুইকুল ধরেই গড়ে উঠেছিল এই শহর।এর পশ্চিমের তীর ইউরোপের মুল ভুখন্ডের সাথে যুক্ত আর পূর্বের তীর এশিয়ার ভুখন্ডের সাথে।

চলেন দেখি কি দেখলাম আমি। মোবাইলে ও ৪ বছর পুরানো ক্যামেরায় তোলা নন টেকি ও এ্যামেচার হাতের তোলা সব ছবি!


অনেক বড় শহরটা অনেক ঐতিহ্যবাহী। এর মাঝে আছে অনেক স্থাপনা।এর একটা হলো হাজিয়া সোফিয়া। বাইজেন্টাইন আমলে এটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্যাথেড্রাল পরে অটোমানরা একে মসজিদে রুপান্তর করে


বর্তমানে এটি শুধুমাত্র যাদুঘর হিসেবে ব্যাবহৃত হচ্ছে।

আলোকিত হাজিয়া সোফিয়া





অটোমানরা হাজিয়া সোফিয়াকে মসজিদ বানিয়েই থামে নাই তার আঙ্গিনাতেই বানায় তৎসম বড় আরেকটি মসজিদ। নীল পাথরে তৈরী মসজিদটি সুলতান আহমেত মসজিদ বলেই জানে সবাই।



সুলতান আহমেত চত্বরে অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনাই আছে যেমন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে মিত্রশক্তি তুর্কী ও জার্মানদের বন্ধুত্বের নিদর্শন এই পানির ঝরনা


ঐ জায়গার পার্কিং এড়িয়ে দেখুন, আমাদের পরিচিত দৃশ্য


তবে আমি ইস্তানবুল দেখেছি অন্য চোখে, বসফরাসের দুই কুলেই আমার দেখা আসল ইস্তানবুল।


এটা গ্যালাতাসারায় বিশ্ববিদ্যালয়


তুর্কীরা ওদের পতাকা সব জায়গায় লাগিয়ে রাখে! সাগরপাড়ে বাড়ীগুলো আতি চমৎকার


ইউরোপ এশিয়ার সেই বিখ্যাত ব্রিজ ( পূর্ব পাড়)

পশ্চিম তীর

বসফরাসের তীরে ইস্তানবুল

একটি সরকারী স্থাপনা


ছবিগুলো তেমন আকর্ষনীয় নয় জানি কিন্তু ইস্তানবুল বেড়াতে এলে দেখবেন এই ছবিগুলো মানে এই ছবিগুলোর দৃশ্য খুব পরিচিত মনে হবে।এটাই বলা যায় নরমাল ভিউ!

চারদিকে 'ডোনার' কাবাবের দোকান।বাংলাদেশে ইদানিং শর্মা নামে চলছে তবে উত্তরা ৪ নং এ একটা তুর্কিশ কাবাবের দোকান আছে


সবশেষে
চলুন একসাথে উড়ে যাই ইস্তানবুল থেকে আগামীর ইউরো ভ্রমনের উদ্দেশ্যে







অনেক বিরাট আকারের বিরক্তিকর এই ব্লগ পড়ায় ধন্যবাদ আগেভাগেই! তুর্কী চা ও মিষ্টি 'বাকলাভা' খাইয়ে বিদায় দিতে চেয়েছিলাম আপনাদের কিন্তু ঐ ছবিটা আপলোড না হওয়ায় একটা তুর্কী গানের লিংক দিলাম ইউটিউবে যেয়ে শুনতে পারেন ভাল লাগতে পারে!
http://www.youtube.com/watch?v=7fO2CkHSYVo
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০১১ রাত ১১:৪৫
৩০টি মন্তব্য ২৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×