somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার দ্বিতীয় ছবি ব্লগ : ঘুরে এসেছি Fucking ( অস্ট্রিয়া )

২০ শে মার্চ, ২০১১ রাত ৯:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত গ্রীষ্মে অস্ট্রিয়া গিয়েছিলাম। ইউনিভার্সিটি অফ ভিয়েনার সামার স্কুলে।সালজবুর্গের কাছে স্ট্রবল নামের এক জায়গায় ওদের সামার ক্যাম্পাস। খুব সুন্দর দেশ অস্ট্রিয়া। অধিকাংশ অস্ট্রিয়ানের দাবী সুইজারল্যান্ডের চেয়ে তাদের দেশটা বেশি সুন্দর। আমার মনে হয়েছে তাদের এই দাবী খুব একটা ভুল নয়! এ নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে।

সুইজারল্যান্ড দেখতে একটা পরিপাটি গলফ মাঠের মত আর অস্ট্রিয়া আরো বড় এবং আরো বেশি বৈচিত্রপুর্ণ গলফের মাঠ! সুইজারল্যান্ডের সব জায়গায় নজরদারীর ছাপ পাওয়া যায় অস্ট্রিয়ায় একটু বেশি প্রাকৃতিক ছাপ পাওয়া যায়।

আমার চোখে সুইজারল্যান্ডের গ্রাম্য এলাকার সবচেয়ে পরিচিত দৃশ্য (রেল পথের পাশে)


অস্ট্রিয়ার গ্রাম ( সড়ক পথে পাশে)


আরেকদিন সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়া নিয়ে বিশদ পোস্ট দিবো।আজকে একটা স্পেশাল জায়গায় যাওয়ার গল্প বলি।

সামার স্কুলের শেষের দিন লান্চের টেবিলে রাশিয়ান বন্ধু মিখাইল জানালো কাছেই Fucking নামের একটা জায়গা আছে।এমন নামের একটা জায়গা বেড়াতে যাবার লাইফ টাইম চান্স মিস করার মানে হয় না। অস্ট্রিয়ান বন্ধু বিবি'র কাছে প্রস্তাব রাখলো যে ওর ভ্যানে আমাদের Fucking ঘুরিয়ে আনবে কি না! আমার তো কান খাড়া হয়ে গেছে! বলে কি?ইংরেজী ভাষার এই যুগে জায়গার নাম "ফাকিং"! নিশ্চয়ই মিখাইল মজা করছে।

বিবি নিশ্চিত করলো যে আসলেই একটা জায়গা আছে নাম Fucking তবে জার্মান ভাষায় ওটা উচ্চারিত হয় "ফুকিং" বলে। আমি নগদ নেটে সার্চ দিয়ে দেখলাম যে হ্যা, শুধু মাত্র নামের কারনেই জায়গাটিতে প্রতি বছর প্রচুর বিদেশী পর্যটক ওখানে যায়:) এবং ইউটিউব ও অন্যান্য ওয়েবে নানা রকম জোকস ও রয়েছে।

এমন জায়গা বেড়ানোর চান্স কি 'মিস' করা যায়?


বিবি'র ভ্যানে রওয়ানা দিলাম ৪ টার দিকে সাথে পেলাম ইরানের মরিয়ম,লাটভিয়ার লাইমা,রাশিয়ার মারিয়া ও মিখাইল,ফিলিপাইনের এইস, বাংলাদেশের আমি এবং আমাদের লোকাল বন্ধু বিবি!


সেদিন ছিল একটি মেঘলা দিন


তবুও সুন্দর


পথ নির্দেশিকার নামগুলো আমার খুব ভাল লাগে


রাস্তাও ছিল সেরকম,


অস্ট্রিয়ান আর্কিটেক্চার খারাপ না,এটা একটা সুপার মার্কেট সম্ভবত


পাহাড়ি রাস্তার প্রায় পুরোটাতেই সাথে সাথে চলছিল 'লেক উলফগ্যাং'


হঠাৎ হঠাৎ দৃশ্য ছিল এমন চোখ জুড়ে শুধুই মেঘলা আকাশ,


পরক্ষনেই লোকালয়,


আবার জঙ্গল


সব জায়গাতেই চার্চ


এসব দেখতে দেখতেই পৌছে যাই আমাদের গন্তব্যে। কিন্তু ওখানে কিছুই নেই, আর দশটা গ্রামের মতই একটা গ্রাম শুধু গ্রামের বিশেষ নেমপ্লেট ছাড়া!


আমরা গাড়ী থেকে নেমে ওখানে কিছু ছবি তুললাম মানে "ফুকিং" গ্রামটির নাম লেখা টিনের ফলকের সামনে।ঐটাই একমাত্র গমনের কারন ও দর্শনীয় স্থান গ্রামটির:) !

এলাকার ৩/৪ জন কিশোরদের একটা গ্রুপ দেখলাম ও তাদের সাথে কথা বললাম।ওরা নিয়মিত আমাদের মত ট্যুরিস্ট দেখে অভ্যস্ত।বললো, নিয়মিত এই নেমপ্লেট চুরি হয়।মুলত ইংরেজ ট্যুরিস্টরা আর মাতালরা এটা বেশি করে।তাই এবার বিশেষ স্ক্রু দিয়ে লাগানো হয়েছে।প্রফেশনাল স্ক্রু ড্রাইভার নিয়ে এসে তারপরেও চুরি গেছে এই গ্রামের নাম।

আমি প্রশ্ন করলাম যে, গ্রামের নাম বদলায় না কেন?
বললো যে,এটা নিয়ে কথা হয় পৌরসভায় কিন্তু মুরুব্বীরা নাম বদলাবে না কারন 'ফুকিং' পুরোনো নাম এবং ইংরেজী ভাষায় কি বলে না বলে সেটা তারা পাত্তা দেয় না।
বুঝলাম নাম বদলে ট্যুরিস্ট আকর্ষন কমাতে চায় না। তবে ওখানে কোন বসার মত রেস্টুরেন্ট বা ক্যাফে পেলাম না আর সন্ধ্যায় সামার স্কুল এর কিছু বিদায়ী অনুস্ঠান ছিল তাই খুজে বের করে বসার মত সময়ও ছিল না।
তবে রাত-বিরাতে ইংল্যান্ড বা ইংরেজী ভাষায় কথা বলা মাতালদের কাছ থেকে অনেক ফোন আসে যা এলাকাবাসী'র জন্য অনেক বিরক্তিকর ব্যাপার কারন তারা ঘুমায় রাত ৮-৯টার মধ্যেই কিন্তু মাঝে মাঝেই রাত ১-২ টার সময় ফোন আসে।শুধু বলে "হ্যালো,ইউ আর ইন ফাকিং? এরপরই শুরু হয় বিকট অট্টহাসি
তখন বলতে হয় "নো,দিস ইজ ফুকিং"!!!!!!





তবে এটা সত্যিই মজার একটা জায়গা।শুধু একটা নামের আকর্ষনে ওখানে গেলে অস্ট্রিয়া দেশটারও সুন্দর একটা অংশ দেখে ফেলবেন সাথে এমন একটা জায়গায় গেলেন যা শুধু নামের জন্যই আন্তর্জাতিক ভাবে বিখ্যাত!

সেখানে আকাশ মেঘলা হোক আর রোদেলা ঐ জায়গায় গেলে সকল ট্যুরিস্ট এর চেহারাই থাকে এমন হাস্যোজ্বল
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ৮:০০
৩১টি মন্তব্য ৩১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×