একটা মজার ব্যাপার খেয়াল করলাম। কি চমৎকারভাবে আজকে বিশ্বে ইসলামোফোবিয়া বাজারজাত হচ্ছে।খুবই সুক্ষ তবে দৃষ্টির অগোচরে না।একটু সচেতন হলেই বুঝবেন।
বিশ্বের যেকোন দাড়ি টুপি ওয়ালা লোক কিছু করলে তার দোষ ইসলামের উপর যায়।
কিন্তু অন্য কেউ করলে সেটা তার দেশের উপরও যায় না বরং এককভাবে ঐ ব্যাক্তিটার উপরে যায়!
কিছু উদাহরন দেখেন:
ফরাসি বিপ্লবের পরে ফ্রান্স পুরো ইউরোপে ব্যাপক আগ্রাসন চালিয়াছিল।অবশেষে ইংরেজ ডিউক ওয়েলিংটনের কাছে নেপোলিয়নের পরাজয় এবং ফ্রান্সের পতন।বিশাল অংকের জরিমানা করা হয় ফ্রান্সকে কিন্তু পাওয়ার ব্যালেন্সের কথা মাথায় রেখে ওদের ফিরে আসার সুযোগ করে দেয়া হয় আর সব দোষ চাপিয়ে দেয়া হয় নেপোলিয়নের উপর।
কারন ফ্রান্স একটা সুসভ্য দেশ,ওরা কখনোই অন্যের দেশ দখলের চিন্তা করতে পারে না! ঐ নেপোলিয়ন বর্বরটাই সহজ-সরল ফরাসিদের ভুলিয়ে যুদ্ধে করিয়েছে।
১৮৭২ এ জার্মান রাষ্ট্র গঠনের পর থেকেই জার্মানরা কন্টিনেন্টাল ইউরোপ গঠনের লক্ষে অনেকগুলো যুদ্ধ চালায়,যার মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় গ্রেট ইউরোপীয়ান ওয়ার (বিশ্বযুদ্ধ)।অস্ট্রিয়ার মত দেশ নিজেদের রাষ্ট্র বিলুপ্ত করে দিয়ে জার্মানীর সাথে একাত্ম হয়েছিল।কিন্তু যেই ২য় বিশ্বযুদ্ধ হারলো সাথে সাথে নতুন খবর যে হিটলারের একক প্রচেষ্টায় এসব হয়েছে।দুগ্ধপোষ্য জার্মানরা মোটেও বর্বর নয়।এমনকি রিসার্চ শুরু হলো যে, হিটলাম বোধহয় 'ম্যাস হিপনোটিজম' জানতো।জার্মান জনগণ ও অস্ট্রিয়া নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে হিটলারের উপর খুব রেগে গেল এবং নিজেদের নিরপেক্ষ ঘোষনা করে দিল।
সব ঠিক,জার্মানী এখন কি তা সবাই দেখি।
জাতিসংঘের পুরান ভার্সন লীগ অফ নেশনের সদস্য রাষ্ট্র ইথিওপিয়া দখল করে নিল ইটালী। পরে সব দোষ কার? ফ্যাসিস্ট মুসোলিনি!
রাশিয়া পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া পুরাটা নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন করলো,কোটি কোটি মানুষ মারলো কিন্তু ফলাফল? স্ট্যালিনের মৃত্যুর পর ওরে ধিক্কার আর তিরস্কারের বন্যা বইলো আর মূর্তি ভেঙ্গে ফেললো।ব্যাস।
সার্বিয়ায় লাখ লাখ মানুষ হত্যা করলো কিন্তু জন্ম নিল বলকান কসাই মিলুটিনোভিচ।সে ক্ষমতায় ছিল বলেই এই ঘটনা!
ইসরাইল কি করতেছে তা নিয়ে আর কি বলার আছে কিন্তু দোষ কার? নেতানিয়াহু!
আমেরিকা সেই যে শুরু করছে অন্যান্য দেশ দখল তা আজো চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু দোষী সাব্যস্ত হয় কিছু , রিগ্যান বা বুশ
এমনকি ক্রুসেড করতেও যেই ইউরোপিয়ানরা জেরুজালেম আসছিল ওদের দেশের নাম বলে না!!!! বলে রিচার্ড আসছিল।
এবার ঘটনা উল্টান, দেখি তো মুসলমানদের ক্ষেত্রে কি হয়?
টুইন টাওয়ার ভাঙ্গলো সন্দেহ করা হইলো এটা করছে আল-কায়েদা নামের এক বেসরকারী সংগঠন যার একক নেতৃত্বের ছিল ওসামা বিন লাদেন কিন্তু সব দোষ জিহাদী ধর্ম ইসলামের।
আফগানিরা বৌদ্ধ মূর্তি ভাঙ্গলো এরপর আবার এক মহিলার নাক কেঁটে দিল কিন্তু দোষ হলো ইসলামের।
পাপীস্তানে কিশোর তরুনরা হিন্দি ছবি দেখতে দেখতে বলিউডি স্টাইলে গিয়া মুম্বাইয়ে গোলাগুলি করলো কিন্তু আসলে ওরা নাকি জিহাদ করছে।এই দোষ ইসলামের!
তুর্কিরা পূর্ব ইউরোপ দখল করে রাখছিল প্রায় ৪০০ বছর কিন্তু ঐটার মুল কারন ইসলামী জোশ। দোষী ইসলাম!
চেচনিয়ার লোকজন স্বাধীনতার দাবিতে প্রায়ই মস্কোর ডিস্কো বা বন্দরগুলোতে বা স্কুলে হামলা চালায় কিন্তু ঐটা জিহাদ আর মুল নায়ক ইসলাম!
পাপীস্তানী এক মেয়ে ইটালীতে যেয়ে মডার্ন হয়ে গেছে তাই ওর বাবা ওরে হত্যা করছে কিন্তু সে নাকি করছে ইসলাম মোতাবেক তাই খলনায়ক ইসলাম!
শুধু মাত্র সাদ্দাম আর গাদ্দাফী ছাড়া মুসলমান দেশগুলোতে যা যা অন্যায় অপরাধ হয় বা ইসলামিক দেশগুলোর যত বর্বর আইন-কানুন আছে তার সব দোষ ইসলামের কারন ইসলাম হইলো আদর্শ।সুতরাং ডাল-পালাকে গাছ বলে স্বীকৃতি দেয়া কোন বুদ্ধিমানের কাজ না।মুল গোড়া চিন্হিত করাই কাজ আর গোড়া হলো ইসলাম সুতরাং কোন দেশ দখল না করে অন্য কোন দেশে বোমাবাজি বা গণহত্যা না করে এমনকি এর কোন নিদৃষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃত রূপ না থেকেও ইসলাম আজকের বিশ্বে সবচেয়ে স্বীকৃত সন্ত্রাসী।এমনকি নাইজেরিয়াতেও যদি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগে তার দোষও এসে পড়ে ইসলামের উপর!!!!!
আপনারা নিজেরাও বিভিন্ন উদাহরন জানেন বা দেখবেন আগামীতে শুধু মিলিয়ে দেখুন যে একই অন্যায়ে কিভাবে ভিন্ন চরিত্র দোষী হয়।
তুমিও যেই পাপ করলা আমিও সেই পাপ করলাম, তোমার পাপের দোষ গেল তোমার নিজের কাঁধে আমার পাপের দোষ গেল আমার ধর্মের কাঁধে!!!!!
এই পার্থক্য কেন? একই রকম পরিস্থিতিতে দুই রকমের ফল কেন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

