somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের আন্চলিক ভাষারঙ্গ

১৬ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভাষা বিরাট মজার জিনিস।একই ভাষা কিন্তু উচ্চারনে ভিন্নতার কারনে কিন্তু একটা 'এক্সপ্রেশন' তৈরী হয়।'অটো' চিন্তা ভাবনা করতে আমার খুব ভাল লাগে তো তাই ব্যাক্তিগত ভাবে প্রায় সকল আন্চলিক ভাষার প্রতিই আমার কিছু বিশেষ কল্পনা বা অনুভুতি রয়েছে যা আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।

নোয়াখালীর ভাষাটা শুনলে আমার মনে হয়, ব্যাপক চিন্তা-ভাবনা চলছে।মানে সবকিছু গোছানো 'টোন' আছে।ঐ ভাষায় কেউ মুখ খুললেই কেন জানি মনে হয় যে ধীরে ধীরে সে তার লক্ষ্যের দিকে চলতেছে।তবে চালাকি ফুটে বের হয় তাই অন্য যে শুনে সে 'অটোই' একটু সতর্ক হয়ে যায়।তবে এই ভাষায় কেউ যদি আমাকে বলে যে, নো টেনশন! আমি সত্যিই টেনশনমুক্ত হয়ে যাবো।

বরিশালের ভাষাটা শুনলে মনে হয় "রিল্যাক্স" বক্তা বোধহয় মজা নিতেছে, শ্রোতারে দাম দিতেছে না।
এই ভাষায় গল্প শুনতে মজা লাগে।'জীবনের দর্শন' সহজ-সরল হয়ে যায় বরিশালের ভাষায়।তবে বিপদে আপদেও সিরিয়াসনেস একটু কোম! এই ভাষায় কিন্তু মায়া ফুটে উঠে খুব প্রখর ভাবে। বিপদের দিনে এমন গলায় দুটি বাক্য অনেক ভরসা দেয়।

চট্টগ্রাম আর সিলেটের ভাষা শুনলে মনে হয় ওনারা নিজেদের মধ্যেই কথা-বার্তা বইলাই খুশী।অন্য কাউকে বুঝানের টাইম নাই।তবে চাটগাঁ'র ভাষা শুনলে মনে হয় যে সব বাক্যের শেষেই প্রশ্ন জুড়ে দেয়।আর সাতকানিয়া বা কক্সবাজারের ভাষায় মনে হয় শব্দগুলো ছুড়ে ছুড়ে মারতেছে,কোন প্যাচগোচ নাই,ঠাস ঠাস ভাবপ্রকাশ।এই ভাষায় একটা শিশুও যদি কথা বলে আমার কাছে "ম্যাচিউর" মনে হয়।আর মনে হয় এই ভাষায় টাকা পয়সা চাইলেই পাওয়া যাবে।

কুমিল্লার ভাষাটা তেমন স্বতন্ত্র না তবে নিজস্ব 'টোন' আছে।আমার নিজের এলাকা তাই নিজে নিরপেক্ষভাবে বুঝতে না পারলেও টের পাই যে, কুমিল্লা বেড়াতে গেলে অন্যান্য বিভাগের মানুষজন সাচ্ছন্দ্য বোধ করে না কারন কুমিল্লার মানুষের সরল ভাষায় যে কোন প্রশ্ন শুনলেও অনেকে অপমানিত বোধ করে।রাস্তা-ঘাটে ঝগড়া করার জন্য উত্তম ভাষা, তবে বক্তা কেমন মানুষ সেটা তার গলার স্বরেই বুঝা যায় এই ভাষায় রাখঢাক চলে কম।

ময়মনসিংহের ভাষাটা শুনলে মনে হয় সব কথাই ব্যাখ্যা বিশ্লেষন সহ বুঝায়ে দিতেছে অথবা স্বগোতোক্তি করতেছে।বাক্যের শেষে খুব চমৎকারভাবে ফুলস্টপ দিয়ে দেয়।নিজ নিজ দুঃখ-দুর্দশা প্রকাশের জন্য চমৎকার ভাষা আবার কাউকে ঝাড়ি দিয়ে বসায়ে দেয়ার জন্যও উত্তম।

উত্তরান্চলের ভাষার প্রতি আমার ব্যাক্তিগত দুর্বলতা রয়েছে।কারন ওদের ভাষা শুনলেই খুব নিরাপদ বোধ হয়।ওরা যে আমার কোন ক্ষতি করবে না তা গলার স্বরেই টের পাই তবে খোঁচা মারা টাইপের কথা ভালই বের হতে পারে।এর মধ্যে সিরাজগন্জে একটু এগিয়ে তবে মুলত একটা সহজ-সরল চিত্র পাই। ঝিনেদা'র কথা শুনলে আমি বিগলিত হয়ে যাই। আমার ক্লাসে এক ঝিনেদা'র বন্ধর টিফিন খাওয়ার পর ও যেই গলায় অভিযোগ করছিল তাতে আমার চোখ ছলছল করে উঠতে নিছিল।
তবে সার্বিকভাবে উত্তরবঙ্গের ভাষাটাই আমার প্রিয়।

খুলনার ভাষা শুনলে মনে হয় ওরা মোটামুটি সবই জানে।হেন কোন বিষয় নাই যে ওদের আয়ত্বের বাইরে।তবে খুলনার মানুষ যখন খাবার খেতে ডাকে তখন ক্ষিদে বেড়ে যায়।

ঢাকা'র ভাষার মধ্যে ২টা ভাগ, একটা হলো পুরান ঢাকা আরেকটা নতুন ঢাকা।
নারায়নগন্জ,গাজীপুর,টাঙ্গাইল,নরসিংদি এসব ভাষার প্রভাবের সাথে চলিত ভাষা মিলিয়ে নতুন ঢাকার ভাষা।
আর হিন্দি-উর্দুর প্রভাবে পুরান ঢাকার ভাষা।
নতুন ঢাকার ভাষা নিয়ে বলার মত কিছু পাই না তবে পুরান ঢাকার ভাষা শুনলে মনটা ভালো হয়ে যায়। মনে হয় মশকারা চলতেছে একটু পরেই চানাচুর খাবো।অথবা ধাধাঁ জিজ্ঞেস করতেছে।দিলখোশ টাইপের মানুষের মুখে পুরান ঢাকার বুলি বেশী মজা।
আর প্রায় সবার মুখে এবং বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মুখে নতুন ঢাকার টোন খুব ভাল মানায়।

তবে নতুন ঢাকার ভাষায় যেই কথা বলুক না কেন, যার যার গ্রামের বাড়ীর টোনটা কিন্তু থেকেই যায় :)



নাই কাজ খই ভাজ টাইপের পোস্ট। আস্তিক- নাস্তিক আর পহেলা বৈশাখের পোস্টের ভীড়ে কোন উদ্দেশ্য ছাড়াই লিখলাম। তবে গত পোস্টে খুবই নিরীহ একটি "মজা"র ফলাফল হিসেবে বেশ কিছু পাঠক বোধহয় রিপোর্ট করেছিল এবং আমার একটি পোস্ট মডারেশন মুছে ফেলেছে তাই আগে থেকেই বলি, আমি আমার মত করে লিখলাম, কারো যদি অনুভুতিতে আঘাত লাগে তাহলে মন্তব্যের ঘরে বলে দিন।আমি নিজেই উপযুক্ত ব্যাবস্থা গ্রহন করবো, মডারেশন থেকে আমার ব্লগে হাত দেয়াটা খুবই অসন্মানজনক।
১১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×