ভাষা বিরাট মজার জিনিস।একই ভাষা কিন্তু উচ্চারনে ভিন্নতার কারনে কিন্তু একটা 'এক্সপ্রেশন' তৈরী হয়।'অটো' চিন্তা ভাবনা করতে আমার খুব ভাল লাগে তো তাই ব্যাক্তিগত ভাবে প্রায় সকল আন্চলিক ভাষার প্রতিই আমার কিছু বিশেষ কল্পনা বা অনুভুতি রয়েছে যা আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।
নোয়াখালীর ভাষাটা শুনলে আমার মনে হয়, ব্যাপক চিন্তা-ভাবনা চলছে।মানে সবকিছু গোছানো 'টোন' আছে।ঐ ভাষায় কেউ মুখ খুললেই কেন জানি মনে হয় যে ধীরে ধীরে সে তার লক্ষ্যের দিকে চলতেছে।তবে চালাকি ফুটে বের হয় তাই অন্য যে শুনে সে 'অটোই' একটু সতর্ক হয়ে যায়।তবে এই ভাষায় কেউ যদি আমাকে বলে যে, নো টেনশন! আমি সত্যিই টেনশনমুক্ত হয়ে যাবো।
বরিশালের ভাষাটা শুনলে মনে হয় "রিল্যাক্স" বক্তা বোধহয় মজা নিতেছে, শ্রোতারে দাম দিতেছে না।
এই ভাষায় গল্প শুনতে মজা লাগে।'জীবনের দর্শন' সহজ-সরল হয়ে যায় বরিশালের ভাষায়।তবে বিপদে আপদেও সিরিয়াসনেস একটু কোম! এই ভাষায় কিন্তু মায়া ফুটে উঠে খুব প্রখর ভাবে। বিপদের দিনে এমন গলায় দুটি বাক্য অনেক ভরসা দেয়।
চট্টগ্রাম আর সিলেটের ভাষা শুনলে মনে হয় ওনারা নিজেদের মধ্যেই কথা-বার্তা বইলাই খুশী।অন্য কাউকে বুঝানের টাইম নাই।তবে চাটগাঁ'র ভাষা শুনলে মনে হয় যে সব বাক্যের শেষেই প্রশ্ন জুড়ে দেয়।আর সাতকানিয়া বা কক্সবাজারের ভাষায় মনে হয় শব্দগুলো ছুড়ে ছুড়ে মারতেছে,কোন প্যাচগোচ নাই,ঠাস ঠাস ভাবপ্রকাশ।এই ভাষায় একটা শিশুও যদি কথা বলে আমার কাছে "ম্যাচিউর" মনে হয়।আর মনে হয় এই ভাষায় টাকা পয়সা চাইলেই পাওয়া যাবে।
কুমিল্লার ভাষাটা তেমন স্বতন্ত্র না তবে নিজস্ব 'টোন' আছে।আমার নিজের এলাকা তাই নিজে নিরপেক্ষভাবে বুঝতে না পারলেও টের পাই যে, কুমিল্লা বেড়াতে গেলে অন্যান্য বিভাগের মানুষজন সাচ্ছন্দ্য বোধ করে না কারন কুমিল্লার মানুষের সরল ভাষায় যে কোন প্রশ্ন শুনলেও অনেকে অপমানিত বোধ করে।রাস্তা-ঘাটে ঝগড়া করার জন্য উত্তম ভাষা, তবে বক্তা কেমন মানুষ সেটা তার গলার স্বরেই বুঝা যায় এই ভাষায় রাখঢাক চলে কম।
ময়মনসিংহের ভাষাটা শুনলে মনে হয় সব কথাই ব্যাখ্যা বিশ্লেষন সহ বুঝায়ে দিতেছে অথবা স্বগোতোক্তি করতেছে।বাক্যের শেষে খুব চমৎকারভাবে ফুলস্টপ দিয়ে দেয়।নিজ নিজ দুঃখ-দুর্দশা প্রকাশের জন্য চমৎকার ভাষা আবার কাউকে ঝাড়ি দিয়ে বসায়ে দেয়ার জন্যও উত্তম।
উত্তরান্চলের ভাষার প্রতি আমার ব্যাক্তিগত দুর্বলতা রয়েছে।কারন ওদের ভাষা শুনলেই খুব নিরাপদ বোধ হয়।ওরা যে আমার কোন ক্ষতি করবে না তা গলার স্বরেই টের পাই তবে খোঁচা মারা টাইপের কথা ভালই বের হতে পারে।এর মধ্যে সিরাজগন্জে একটু এগিয়ে তবে মুলত একটা সহজ-সরল চিত্র পাই। ঝিনেদা'র কথা শুনলে আমি বিগলিত হয়ে যাই। আমার ক্লাসে এক ঝিনেদা'র বন্ধর টিফিন খাওয়ার পর ও যেই গলায় অভিযোগ করছিল তাতে আমার চোখ ছলছল করে উঠতে নিছিল।
তবে সার্বিকভাবে উত্তরবঙ্গের ভাষাটাই আমার প্রিয়।
খুলনার ভাষা শুনলে মনে হয় ওরা মোটামুটি সবই জানে।হেন কোন বিষয় নাই যে ওদের আয়ত্বের বাইরে।তবে খুলনার মানুষ যখন খাবার খেতে ডাকে তখন ক্ষিদে বেড়ে যায়।
ঢাকা'র ভাষার মধ্যে ২টা ভাগ, একটা হলো পুরান ঢাকা আরেকটা নতুন ঢাকা।
নারায়নগন্জ,গাজীপুর,টাঙ্গাইল,নরসিংদি এসব ভাষার প্রভাবের সাথে চলিত ভাষা মিলিয়ে নতুন ঢাকার ভাষা।
আর হিন্দি-উর্দুর প্রভাবে পুরান ঢাকার ভাষা।
নতুন ঢাকার ভাষা নিয়ে বলার মত কিছু পাই না তবে পুরান ঢাকার ভাষা শুনলে মনটা ভালো হয়ে যায়। মনে হয় মশকারা চলতেছে একটু পরেই চানাচুর খাবো।অথবা ধাধাঁ জিজ্ঞেস করতেছে।দিলখোশ টাইপের মানুষের মুখে পুরান ঢাকার বুলি বেশী মজা।
আর প্রায় সবার মুখে এবং বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মুখে নতুন ঢাকার টোন খুব ভাল মানায়।
তবে নতুন ঢাকার ভাষায় যেই কথা বলুক না কেন, যার যার গ্রামের বাড়ীর টোনটা কিন্তু থেকেই যায়
নাই কাজ খই ভাজ টাইপের পোস্ট। আস্তিক- নাস্তিক আর পহেলা বৈশাখের পোস্টের ভীড়ে কোন উদ্দেশ্য ছাড়াই লিখলাম। তবে গত পোস্টে খুবই নিরীহ একটি "মজা"র ফলাফল হিসেবে বেশ কিছু পাঠক বোধহয় রিপোর্ট করেছিল এবং আমার একটি পোস্ট মডারেশন মুছে ফেলেছে তাই আগে থেকেই বলি, আমি আমার মত করে লিখলাম, কারো যদি অনুভুতিতে আঘাত লাগে তাহলে মন্তব্যের ঘরে বলে দিন।আমি নিজেই উপযুক্ত ব্যাবস্থা গ্রহন করবো, মডারেশন থেকে আমার ব্লগে হাত দেয়াটা খুবই অসন্মানজনক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

