সৌদি আরবের কোন একটি ঘটনায় বাংলাদেশে প্রতিবাদ একেবারেই নতুন ঘটনা বলেই আমার মনে হচ্ছে।
৮ বাংলাদেশীর শিরচ্ছেদের পর দুঃখজনক হলেও অনুমিতভাবেই আমরা ২ ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছি।
তবে এর পক্ষে- বিপক্ষে যারা তাদের নিয়ে ভাবতে বাধ্য হয়েছি বলা যায়।
এটুকু বুঝি যে, মুক্তমনা নামের গুপ্ত সংগঠন যখন ঘটনার পর পরই সক্রিয় হয়ে রাজপথে নামার ঘোষনা দেয় তখন এই বিচারের বিপক্ষে যারা আছে তাদের নিয়ে ভ্রু কুচকানোর ব্যাপার আছে। আবার নিজের দেশের এত বড় অপমান এবং নিজের মানুষদের এভাবে জবাই করার পরেও যারা হত্যাকারীদের পক্ষে যায় তাদের আসল পরিচয়টাই ঘোলাটে!
সৌদি প্রেমিকদের নিয়ে কয়েকদিন আগেই অবশ্য লিখেছিলাম। তাই আজ প্রতিবাদীদের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে চাই।
জামাত যেভাবে বিএনপি ও সাধারন মানুষের ইস্যু ব্যাবহার করে তৎপর হয়ে নিজেদের গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায় তেমনই আমি চাই না জামাতের বিপরীত অবস্থানে থাকা অন্য কোন গোষ্ঠী আমাদের আবেগ ও নাম ব্যাবহার করে তাদের গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করুক।
সৌদি আরব এবং মধ্যপ্রাচ্যের মানুষজন বিশ্বের নুন্যতম মানবিকতার অধিকারী। তাদের বর্বরতা ইতিহাস বিখ্যাত। তাদের গোয়াড় আচরন মানবতা বিরোধী এবং তাদের আচার আচরন অসভ্য হলেও আমি বাংলাদেশী হিসেবে ভুলতে পারি না যে সেখানে ২০ লক্ষ শ্রমিক কাজ করে এবং দেশে তাদের অন্তত ১৫ লক্ষ শ্রমিক পরিবার তাদের উপর নির্ভরশীল। । আজ যদি আমাদের প্রবাসী শ্রমিকদের দেখভাল করার মত শক্তি আমার সরকারের থাকতো তাহলে আমি অবশ্যই মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাদের ফিরিয়ে আনার দাবী করতাম,কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমাদের সেই ক্ষমতা নেই।
বাংলাদেশের সাথে সরকারী সম্পর্কও দুই দেশের মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ। এবং সত্যতা হলো, সৌদি আমাদের দেশের সরকারী ও বেসরকারী মাধ্যমে অন্যতম বড় দাতাদেশ!
সুতরাং আমার আবেগের বশে আমি চাইলেও খেয়াল খুশীমত যা ইচ্ছা তা করতে পারি না। আমি সৌদি দুতাবাস ঘেরাও করতে যেতে পারি না অথবা আমি এই ৮ জনের বর্বর বিচারের প্রতিবাদে সৌদির সাথে সম্পর্ক নষ্ট করার দাবী জানাতে পারি না।
কিন্তু শাহবাগে মুক্তমনা বা কোন ইসলামবিদ্বেষী যায় নাই। তেমন কোন ব্যানারই ছিল না সেখানে। আমাদের দেশের তরুনরা যদি আমাদের বিরুদ্ধে হয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক বিচারের শান্তিপূর্ণ নির্বাক প্রতিবাদ জানায় এবং কেউ সেটারও বিপক্ষে অবস্থান নেয় তাহলে বলতে হবে, তার অন্ডকোষ ২টিই ডিমের অভাবে সকালে ভাজি করে খেয়ে ফেলেছে।
আমরা একটি ঐতিহ্যবাহী দেশ ও জাতি। আমাদের সভ্যতা রয়েছে। দারিদ্রতার কারনে পাওয়া কিছু দুর্নাম ছাড়া, বিশ্বজুড়েই আমাদের সুনাম রয়েছে। আমরা যেভাবে প্রতিবাদ করছি সেটা যথাযত। সবারই উচিৎ বর্বরতার শিকার ৮জন ভিক্টিমের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ১:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



