অনেকদিন পর দেশে আন্তর্জাতিক ফুটবলের (অনেকের মতে দক্ষিন এশিয়ার বিশ্বকাপ) আসর বসলো আজ। সাফ ফুটবলের ষষ্ঠ আসরের পর্দা উঠলো ঢাকায়। আর উদ্বোধনী দিনেই স্বাগতিক বাংলাদেশের খেলা। অনিচ্ছাসত্বেও বিটিভি নামক চ্যানেলের সামনে বসলাম সন্ধ্যার সময়। খেলার ৯০ মিনিট আর আগে পিছে আরো ১৫-২০ মিনিট উপভোগ করলাম ধারাভাষ্যকারদের নারকীয় (!) ভাষা উৎসব। যথারীতি ধারাভাষ্যকারের মাইকের সামনে পেলাম আমাদের স্বনামধন্য ধারাভাষ্যকারদের। খেলার ২ অর্ধের তাদের ধারাভাষ্যের চুম্বক অংশ তাদের ভাষায় তুলে ধরলাম।
তবে এই পোষ্ট পড়ে আমার মত কারো মেজাজ বিলা হইলে আমি দায়ী নই। নিজ দায়িত্বে পড়বেন।
প্রথম অর্ধঃ
প্রথমেই একজন ধারাভাষ্যকার (নতুন পাগল, ইনার নাম জানিনা) শ্রদ্ধেয় জাফর চাচাকে স্বাগত জানালেন তার মুখ নিঃসৃত বাণী দেওয়ার জন্য। জাফর চাচা শুরুতেই বাংলাদেশের আক্রমন রচনার কথা বললেন (জীবনে অনেক রচনা লিখেছি কিন্তু আক্রমন রচনা কিভাবে করতে হয় তা আজকেই প্রথম জানলাম)। রচনার পর বললেন কিভাবে বরফের মত ঠান্ডা মাথায় আক্রমন শাণাতে হয় (চাকু/ছুরিতে শান দেয়ার কথা অবশ্য আগে শুনেছি; খেলার মাঠে শান দেয়া এবারই প্রথম দেখলাম)। ইতিমধ্যে তিনি কিছু খেলোয়াড়কে তিনি তার স্বভাবসুলভ উপাধি দিয়ে ফেললেন; যেমনঃ বাংলাদেশের সুযোগসন্ধানী খেলোয়াড় (এনামুল), অতন্দ্র প্রহরী (গোল রক্ষক আমিনুল)। তবে এ বিষয়ে আমাদের বাক্স সাহেব (খোদা বাক্স) ও কম যান না। তিনি এরই মধ্যে এমিলিকে দিয়ে ফেললেন পরিশ্রমি ও দ্রুতগতির খেলোয়াড় এর উপাধি। মাঝে আরেক ভাষ্যকার ভাষ্য দিলেন যে এটা বাংলাদেশ-ভুটানের ৪র্থ সাক্ষাতকার (তাই বলে ইন্টারভিউ ভেবে বইসেন না) এবং খেলা হচ্ছে ভুটানের ভূ-খন্ডে (চমকে উঠার কিছু নাই, এর মানে হল বল এখন ভুটানের সীমানায়)। বলতে বলতেই বাংলাদেশ পেনাল্টি থেকে একটি গোল হজম করে ফেলল (খাইতে না খাইতেই হজম; ওরে কত হজমশক্তি রে!!)। এরই সাথে প্রথমার্ধের খেলা শেষ।
দ্বিতীয়ার্ধের খেলাঃ
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যাকপাস, সেখান থেকে ভুলপাস। এরই মাঝে ভাষ্যকাররা একযোগে অভিযোগ করলেন যে কমেন্ট্রি বক্সের সামনে একগাদা পিলারের কারনে তাদের বল ফলো করতে সমস্যা হচ্ছে (মানে তাদের ধারাভাষ্যে পিলারগুলো ড্রিবলিং করছিল)। একফাঁকে বাক্স সাহেব সুকৌশলে জানিয়ে দিলেন যে তিনি একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক। ততক্ষনে মাঠে কিন্তু বাংলাদেশের আক্রমনের ঢেউ বার বার আছড়ে পড়ছিল ভুঠানের সীমানায় (সরি ভুটানের তীরে)। যাহোক বাকী সময় বাংলাদেশ আক্রমন-পাল্টা আক্রমণে জর্জরিত করে ভুটানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে আগের ম্যাচের হারের শোচনীয় প্রতিশোধ নিল।
পরিশেষে জাফর চাচা তার দরাজ গলায় জানালেন, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল তাদের খেলা দিয়ে আজ জাতিকে অনেকদিন পর পরিতৃপ্ত করল.....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


