ছোট বেলায় টিভি-সিনেমাতে দেখতাম নায়িকার কাছে ছ্যাঁকা খেয়ে কিংবা বাড়ি থেকে ত্যাজ্য হয়ে নায়কের হাতে রঙিন মদের বোতল। সে বোতল একেক সময় একেক রঙের হতো
যাহোক, মানবদেহের উপর এলকোহলের প্রভাব--এ বিষয়ে একটা প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে গিয়ে ইন্টারনেটের সহায়তায় জানলাম কিছু তথ্য। শেয়ার দিলাম আপনাদের জন্য।
মদ/এলকোহল কি?
উইকি বলছে মদ হল সেই পানীয় যাতে ইথানল বা ইথাইল এলকোহল বিদ্যমান। বিশ্বের ১০০ টিরও বেশি দেশে আইনগতভাবে মদ পানের অনুমতি আছে; তবে তা অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্কদের (বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ১৮ বা তদুর্ধ বছর বয়সীদের) জন্য।
এলকোহলের প্রকারঃ
এলকোহল পানীয় মূলত তিন প্রকারঃ
১। বিয়ার (Beer)
২। ওয়াইন (Wines)
৩। স্পিরিট (Spirits)
১। বিয়ারঃ
অনেকে এলকোহল বলতে বিয়ারকেই বুঝে থাকেন। বিয়ার হল পৃথিবীর সবচে পুরনো এবং বেশি পানকৃত মদ যা বিশ্বের তৃতীয় জনপ্রিয় পানীয় (পানি এবং চায়ের পর)।
বিভিন্ন রকম খাদ্যশস্য (যেমনঃ গম, ভুট্টা, ধান ইত্যাদি) ফার্মান্টেশন (fermentation) করে তৈরি করা হয় বিয়ার। তবে আজকাল বেশির ভাগ বিয়ার তৈরি হয় যবের দানা থেকে। ফার্মান্টেশনের পর যে বিয়ার পাওয়া যায় তা তেতো স্বাদযুক্ত। হপ কোন নামক ফুলের ক্লাস্টার ব্যবহার করে এ তেতো স্বাদ দূর করা হয়। বিয়ারে সাধারনতঃ ২-৬% এলকোহল থাকে। তবে তা ২০% পর্যন্ত হতে পারে। বিয়ার ধূসর, উজ্জ্বল হলুদ বা লালচে-বাদামী রঙের ফেনাযুক্ত পানীয়।
পশ্চিমা বিশ্বে সাধারনত সেলিব্রেশন, আমোদ-ফুর্তি কিংবা রিলাক্সেশন এর সময় বিয়ার পান করা হয়।
২। ওয়াইনঃ
ওয়াইন মুলতঃ তৈরি হয় আঙুর থেকে। তবে পাম, চেরি কিংবা আপেল থেকেও ওয়াইন তৈরি করা হয়। ওয়াইনের ফার্মান্টেশনের সময়কাল অনেক লম্বা (এমনকি বছর পর্যন্ত হতে পারে)। যত বেশি সময় ধরে ফার্মান্টেশন হয় তত বেশি ফ্লেভার আসে। ওয়াইনে সাধারনতঃ ৯-১৬% এলকোহল থাকে। ওয়াইন মূলতঃ ২ প্রকার (আঙুরের উপর ভিত্তি করে)--
রেড ওয়াইন (Red Wine )
হোয়াইট ওয়াইন (White Wine)
*শ্যাম্পেন (Champagne)--
শ্যাম্পেন মুলতঃ ওয়াইনের আরেক রূপ; যা বোতলে অনেকটা কার্বনেটেড অবস্থায় (বোতলের ছিপি খুললে সজোরে বের হয়ে আসে) রাখা হয়। পশ্চিমা বিশ্বে কোন সেলিব্রেশন, বিয়ে-জন্মদিন, অভ্যর্থনা বা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শ্যাম্পেনের বোতল খোলা সামাজিকতার একটি অংশ।
৩। স্পিরিটঃ
স্পিরিট হল একটি সমষ্টিগত মদের নাম যার মধ্যে এলকোহলের মাত্রা সবচে বেশি (২০% এর অধিক)। স্পিরিট সাধারণত ফার্মান্টেশন করা পানীয়ের পাতনের (distillation) মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয় এবং এতে কোন মিষ্টিকারক বা প্রিজারভেটিভ থাকেনা।
স্পিরিটে অধিক পরিমানে এলকোহল থাকায় প্রচলিত ভাষায় একে "হার্ড ড্রিংকস" বলা হয়। অনেকে সরাসরি স্পিরিট পান করে আবার কেউ কেউ সোডা, কোক, পেপসি বা এনার্জি ড্রিংকসের সাথে মিশিয়ে পান করে।
স্পিরিটের কয়েকটি জনপ্রিয় প্রকারভেদঃ
* হুইস্কি (Whiskey)--
সাধারনত গম, ভুট্টা, রাই থেকে তৈরি হয়। এলকোহলের পরিমান ৪০-৫০%। স্কচ (Scotch) আর হুইস্কি মুলতঃ একই জিনিস। স্কটল্যান্ডের তৈরি হুইস্কিকে "স্কচ" বলা হয় এবং পৃথিবীতে স্কচ হল সবচে উন্নত শ্রেণীর হুইস্কি। কয়েক টুকরো বরফকুচি হুইস্কির স্বাদ বহুগুনে বাড়িয়ে দেয়।
হুইস্কির বিভিন্ন টাইপ জানতে ক্লিক করুন
* রাম (Rum)--
১৭শ শতাব্দীতে ক্যারিবিয়ানে প্রথম ঝোলাগুড়, আখ ফার্মান্টেশনের পর পাতনের মাধ্যমে তৈরি করা হয় রাম। এতে এলকোহলের পরিমান ৪০-৫৫%। রাম লালচে-বাদামী রঙের।
* ব্র্যান্ডি (Brandy)--
ওয়াইন কে ফার্মান্টেশনের পর পাতন করে (উত্তপ্ত করে) ব্র্যান্ডি তৈরি করা হয়। অর্থ্যাৎ আঙুর বা ফলের রস থেকে ব্র্যান্ডি উৎপন্ন হয়। প্রাচীনকালে আরবে ব্র্যান্ডি ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হত। ইউরোপে ১৪শ শতকে প্রথম ব্র্যান্ডির প্রচলন হয়। এতে এলকোহলের পরিমান ৩০-৬০%।
* জিন (Gin)--
জুনিপার বেরি (juniper berries) কে ফার্মান্টেশনের মাধ্যমে জিন তৈরি করা হয়। তবে জিনে এলকোহলের সাথে পানি এবং বিভিন্ন রকমের ফ্লেভার মেশানো থাকে। এতে এলকোহলের পরিমান ৩৭-৪০%। জিন সাধারনত বর্ণহীণ। তবে ফ্লেভার মেশানোর কারনে রঙ পরিবর্তিত হতে পারে।
* ভদকা (Vodka)--
ভদকা হল গন্ধহীন, বর্ণহীন, উগ্র এলকোহল পানীয়। পূর্ব ইউরোপের লোকজন প্রচন্ড শীতের কারনে বিয়ার এবং ওয়াইন পান করতে পারত না; কারন বিয়ার এবং ওয়াইনে এলকোহলের পরিমান কম থাকায় তা ঠান্ডায় জমে যেত। এ অবস্থায় ওই অঞ্চলের লোকজন বিয়ারের চাহিদা পূরণে নতুন পানীয় তৈরি করে যা ঠান্ডায় জমে না। এই পানীয় হল "ভদকা"।
ভদকার অনেক প্রকার আছে; তার মধ্যে রাশিয়ান ভদকা অন্যতম সেরা। তীব্র শীতের সময় শরীরকে "গরম" করতে ভদকা পান করা হয়।
এলকোহল কনজিউমের পরিমান সাধারনত পেগ-এ করা হয়।
১ ছোট পেগ= ৩০ মিলি (১ আউন্স) হুইস্কি= ১০ মিলি এলকোহল।
১ বড় পেগ= ৬০ মিলি (২ আউন্স) হুইস্কি= ২০ মিলি এলকোহল।
এলকোহল সেবনের আইনগত মাত্রা (দেশ ভেদে ভিন্ন)--
*১ বড় পেগ= রক্তে এলকোহলের পরিমান ০-০.৫মিগ্রা/মিলি= নিরাপদ (safe)।
*১-২ বড় পেগ= রক্তে এলকোহলের পরিমান ০.৫-১মিগ্রা/মিলি= সম্ভবত (possibly) এলকোহল দ্বারা প্রভাবিত।
*২-৩ বড় পেগ= রক্তে এলকোহলের পরিমান ১-১.৫মিগ্রা/মিলি= সম্ভাব্য (probably) এলকোহল দ্বারা প্রভাবিত।
*৩ এর অধিক বড় পেগ= রক্তে এলকোহলের পরিমান ১.৫মিগ্রা/মিলি এর বেশি = সুনির্দিষ্ট (definitely) এলকোহল দ্বারা প্রভাবিত। মানে... মাতাল
সূত্রঃ বিভিন্ন ওয়েবসাইট

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



