somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... মিডিয়ার গাড়ি
মফস্বলের ছেলে, তাই এস এ পরিবহনের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিজ্ঞতা আমার বেশ পুরোনো। হঠাৎ শুনলাম, তারা টিভি বানাচ্ছে। ভাবলাম, বরিশালের সেই খান সন্সের মতো সাদাকালো টিভি সেট বানাবে। ওমা, পরে দেখি সেটা টিভি স্টেশন বানাচ্ছে। তাও বাংলাদেশের আধুনিকতম একটি স্টেশন! চ্যানেল আইয়ের মাদার অর্গানাইজেশন ইমপ্রেসও কিন্তু এস এ পরিবহনের ব্যবসায় ভাগ বসিয়েছে। আই পোস্ট নামে একটি পার্সেল সার্ভিস চালু করেছে। তবে কি এবার এস এ'র রিভেঞ্জ নেয়ার পালা? হয়তো দেখা যাবে, সারা দেশে পার্সেল বহনকারী কাভার্ড ভ্যানগুলোতেও এস এ টিভি'র লোগো লাগাবে প্রতিষ্ঠানটি। টিভি স্টেশনের লোগোর অনেক সুবিধা, পুলিশী ঝামেলা নেই। আর তাই, মাদক-আদম থেকে শুরু করে যে কোনো চোরাচালান বেশ নিরাপদেই সম্ভব!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29526253 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29526253 2012-01-21 12:15:06
মিডিয়ার গাড়ি এয়ারপোর্ট যাওয়ার জন্য একটা গাড়ি ভাড়া করলাম। শালার রেন্ট-এ-কারের গাড়ির সামনেও প্রেস স্টিকার লাগানো। জিগাইলাম, গাড়িটা কার? কইলো, ইত্তেফাকের নামকরা রিপোর্টার জাহাঙ্গীর ভাইয়ের। আমারে ড্রাইভার উল্টা জিগাইলো, চিনেন নাই অহনো? আমি হা-না কিছুই বললাম না।

২.
ঢাকা শহরটা মিডিয়ার গাড়িতে ছেয়ে গেছে। মনে আছে, রাত বারোটার দিকে চ্যানেল আই অফিস থেকে বের হতাম। আমি আর আমার শিফটের জয়েন্ট নিউজ এডিটর। ফাকা রাস্তা দিয়ে হেটে হেটে ছিনতাই ঝুঁকিপূর্ণ নাবিস্কো মোড়, মহাখালী বাস টার্মিনাল পেড়িয়ে ফ্লাইওভারের নিচে। ট্যাম্পুতে শ্যমলী। এরপর রিকসায় শেখেরটেক। দেখতাম, আমাদের পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে চ্যানেল আইয়ের স্টিকার লাগানো ঝকঝকে এসি মিনিবাস। ওটা ইনসেপ্টার।

(চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29525228 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29525228 2012-01-19 19:14:03
বদলে যাও, বদলে দাও যাক, আরেকবার এই উটপাখিদের দেখা পেলাম। দৈনিক প্রথম আলোর বদৌলতে বুঝলাম এই না উট, না পাখিটা এখন বালিতে মুখ লুকাচ্ছে! যেখানে সুধীন বলছেন, কেন মুখ গুঁজে আছো তবে মিছে ছলে ? সেখানে প্রথম আলোও বলছে, ইভটিজিং দেখে তরুণরা বালির বস্তায় মুখ লুকায়। যেভাবে প্রথম আলোও মুখ লুকায়, প্রতিদিন অসংখ্য সত্য খবরে। ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29506257 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29506257 2011-12-20 01:50:48 বোতলভুত মা রুহানি একটা স্বুলের ড্রইং টিচার। মা-মেয়ের ঝামেলাহীন সংসার। হঠাৎ একদিন চোখে পড়লো মায়ের, কি যেন লিখে পাস্টিকের বৈয়মে ভরছে শ্রাবণী। মার দিকে তাকিয়ে শ্রাবণী বলল, এটা কবিতা। নদীতে ভাসাবো, কেউ একজন পড়ে নেবে। ১০ বছরেরর মেয়ের কবিতা দেখে অবাক সাহিত্যপড়ুয়া মা। শ্রাবণীর পড়ার অভ্যাসের খবর জানলেও এই প্রথম জানলেন, তার মেয়ের অদ্ভুত এক কাব্যশক্তি আছে। অদ্ভুত, ওর বাপের মতোই এই কবিতা সংরক্ষণের বোধই জন্মায়নি মেয়েটার মধ্যে। মরার পরই রায়হান সাহেব কবি খ্যাতি পান। রুহানি বেশ কিছু পান্ডুলিপি উদ্ধার করেন। বেশ কয়েকটি বই ব্যবসার মুখ দেখে।
রায়হান সাহেবের মধ্যও এমন বোতলভুত দেখেছিলেন একবার ছিল। হানিমুনে কক্সাবাজারে একবার বউকে না পড়িয়েই ভদকার বোতলে একটা কাগজ ছুড়েছিলেন রায়হান।
আরো এক যুগ পেড়োলো। কবি হিসেবে শ্রাবণী এখন বাজার ধরে ফেলেছে। টক শো, সাহিত্যপাতা, ফেইসবুকে দারুণ দাপট। টিভিতে সাগর দেখলে শৈশবে যেমন চমকে উঠতো, ভার্জুয়াল সাগর দেথে সে ভয়ও কেটে গেছে। মাকে না জানিয়েই বন্ধুদের নিয়ে কক্সবাজার।
সাগর সৈকতে একটা হাটছে শ্রাবণী। অসময়ের বর্ষায় ভিজছে তার দেহ। মনে মনে কবিতার সুতো গাঁথছে। এমন সময় দূর থেকে ভেসে এলা একটা বোতল। ভদকার বোতাল। ভেতরে একটা লেখা.... শিরোনাম: শ্রাবণীর জন্য কবিতা। দমফাটানো কান্না-সাগরের নোনা জলে একাকার শ্রাবণী। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29483998 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29483998 2011-11-15 21:49:47
শ্বাসকষ্ট বাড়ছে. শীত আসছে অবশ্য গ্রীষ্মেই হয়ে গেছে রবি ফলনের বাম্পার।
শীত-গ্রীষ্মে যখন আটকে যাবে ঋতুচক্র
তখন আবহাওয়া অফিস, তোতাপাখির মতো
সারা বছর বলে যাবে বর্ষার পূর্বাভাস।

ঘড়ির কাঁটায় পোষ মানবে বৃষ্টি,
কার্বনের মাত্রা।
আপলোড হওয়া ছবিগুলো বলে দেবে
হাঁপানি যুগের বহুজাতিক পৃথিবীর ইতিহাস।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29479615 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29479615 2011-11-08 07:31:16
লিবিয়া জীবন http://www.samowiki.com/details.php?id=500 ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29476762 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29476762 2011-11-02 10:15:20 লিবিয়া জীবন: ১৬
আগের লেখার লিংক:
http://www.samowiki.com/details.php?id=500

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29472052 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29472052 2011-10-25 07:40:51
কৌন বানেগা ক্রোড়পতি!
কচ্ছ্প-খরগোশের দৌড়ে কে জিতেছিল?
(ক) কচ্ছপ (খ) খরগোশ
(গ) মানুষ (ঘ) কেউ জেতে নাই

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29469589 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29469589 2011-10-20 10:55:34
কোন বানেগা ক্রোড়পতি! কে হতে চায় কোটিপতিতে আজকের প্রশ্ন

কোন নদীতে পানি নাই?

(ক) পদ্মা (খ) মেঘনা
(খ) যমুনা (ঘ) বুড়িগঙ্গা]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29469055 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29469055 2011-10-19 10:09:45
লাখ টাকা দামের প্রশ্ন (ক) ডানা দিয়া (খ) পুটকি দিয়া
(গ) পা দিয়া (ঘ) গলা দিয়া ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29468288 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29468288 2011-10-18 03:42:45
লিবিয়া জীবন: ১৫
গাদ্দাফি পরবর্তী লিবিয়া কি তবে ভাঙতে বসেছ? যুদ্ধ চলাকালে তেরঙ্গা পতাকা দেখে আমারও এমন সন্দেহ হয়েছিল। গাদ্দাফিকে হঠাতে না পারলে অবশ্য হয়তো সেপথেই হাটতো ন্যাটো। যাক, গাদ্দাফির বিদায় লিবিয়ার মানচিত্র আরো কিছুদিনের জন্য অখণ্ড রাখছে তাহলে।

ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিল কি তবে নেমকহারামের দল? মোটেই না। গাদ্দাফির পুলিশি শাসন তাদের স্বাধীনতার স্পৃহা উসকে দিয়েছে। মুসরাতার মুহাম্মাদের মতো যারা রাষ্ট্রযন্ত্রে স্বজন হারিয়েছেন, তারাই তেরঙ্গা পতাকা মাথায় বেধে অস্ত্র তুলেছেন। তবে যাই হোক, উপনিবেশের মধ্যেই যেভাবে ঘুরপাক খাচ্ছে আফ্রিকার রাজনীতি। লিবিয়া আপাতত স্বাধীন হচ্ছে না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29463732 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29463732 2011-10-11 03:32:34
লিবিয়া জীবন: ১৪
কুসকুসি-ও দারুণ টেস্টি। সুজি তেলে ভেজে এক ধরনের হলুদ খাবার। আরও ছিল এক ধরনের রুটি, খুবজা। বেকারিগুলোতে আশরা গুরুশ-এ (১০ পয়সায়) ৪টা খুবজা পাওয়া যেত। নিচতলায় মিশরীয় মহিলা জামালাতের গোটা দশেক ছেলেমেয়ের সঙ্গে আমি কুসকুসি খেতাম। আমাদের দেশে গরুরে খড় খাওয়ার সেই প্রকান্ড পাত্র চারি'র মতো সাইজের একটা বউলে অনেক কুসকুসি দিতেন জামালাত। ওটার চারপাশে বসতাম আমরা। সবার হাতে চামচ। সবাই একসঙ্গে খাচ্ছে একপাত্রে। ডাল-মাছ-মাংস-ভাত মিশিয়ে তবলিগি খাওয়ার মতো ঘেন্না লাগার সুযোগ নেই শুকনো শুকনো কুসকুসিতে। অদ্ভুত এক দৃশ্য। একটায় আরেকটারে খাওয়ায় দিচ্ছে। একটা আবার আরেকটার চামচে বাড়ি দিচ্ছে। তবে চামচের যুদ্ধ ছিল এই খাওয়ায় সবচেয়ে বড় পাপ। জামালাত নামের দৌত্যের মতো বিশাল মহিলাটি ভীষণ রাগতেন তখন।

গরুর মাংসের ঝোলে ডুবিয়ে খুবজা খেতাম বাসায়। আর বাঙালি বাবা-মা অবশ্য ভাতেই ঢুবে থাকতেন। শ্রীলংকা থেকে প্যাকেটজাত চিংড়ি আসতো। চিংড়িগুলো কালো কালো বিশ্রি ‌দেখতে হলেও বেশ সুস্বাদু। একবার ঘানা থেকে ২ জাহাজ কলা এসেছিল। খবর পেয়ে সুক-তালাতায় লম্বা লাইন। মাথাপিছু এক ডজন করে কলা বিক্রি হয়েছিল। শুনেছি কলার লাইনে মারামারির ঘটনাও ঘটেছিল। এরপর অনেক দিনের জন্য কলা আমদানি বন্ধ ছিল লিবিয়ায়।

নাকবোচা কোরিয়ানরা নাকি মানুষ খায়-- গুজবটা খুবই বিশ্বাস করতাম শৈশবে। কোরিয়ান শ্রমিকরা নাকি এক পাগড়িওয়ালা ইন্ডিয়ান শিখকে জবাই করে খেয়েছে। কোরিয়ানদের ফ্রিজে নাকি ওই শিখ ব্যাটার রানও পাওয়া গেছে। এমন উদ্ভট সব তথ্য। পার্কে, মাঠে-ময়দানে কোরিয়ান দেখলেই ভো দৌড়! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29462197 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29462197 2011-10-08 16:25:21
লিবিয়া জীবন: ১৩
এবারের গৃহযুদ্ধে সেই সেন্ট্রাল হাসপাতালেও গোলা বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শুনেছি, মুসরাতা এখন গণকবরের নগরী। তবে আমার বোনের কবরটা সম্ভবত এখনো আছে। তিরিশ বছর আগের এক বাংলাদেশী শিশুর কবর। আমার বোনের কবর। খুব যেতে ইচ্ছা করে]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29459704 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29459704 2011-10-04 03:32:00
লিবিয়া জীবন: ১২
লেপটিস ম্যাগনা এখন পতিত শহর। পাশেই গড়ে উঠেছে খোমস। একটি ছিমছাম আধুনিক শহর। এই শহরেই আমি জীবনে প্রথম খাল দেখি। সাগরের পানি লবনমুক্ত করে চলতো একটি সেচপ্রকল্প। সেই প্রকল্পেই খালের মতো নালা। ভূম্ধ্যসাগরীয় ফল আর শাকশবজির আবাদ হতো মাইলের পর মাইল ক্ষেতজুড়ে। ভারতীয় আর বাংলাদেশীরাই মূলত এই ক্ষেতগুলোতে কাজ করতো।

জাহিদ আংকেল একটি শিপিং ফার্মে কাজ করতেন। তার কাজ ছিল, সাগরের মাঝে জাল ফেলা আর ওঠানো। তবে যন্ত্রের বদৌলতে কায়িক শ্রম অতোটা ছিল না। মাসের পর মাস তাকে ভূমধ্যসাগরেই থাকতে হতো। যা হোক, নিজিকে একটি শিপিং কোম্পানির ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে বিক্রমপুরের এক বনেদি পরিবারে বিয়ে করলেন। নিজে ইন্টারমিডিয়েট পাস হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএ পাস করা মেয়েকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পরই ফাঁপড়ে পড়লেন তিনি। বউ লিবিয়ায় আসতে চায়। তারও বউ আনার সুযোগ আছে। তবে সমস্যা অন্যখানে। বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করা বউটি জেনে যাবেন, তার স্বামী নিতান্তই এক জেলে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29458666 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29458666 2011-10-02 11:16:55
লিবিয়া জীবন: ১১
নিরোদ সি. চৌধুরীকে আমি মোটেই পছন্দ করি না। তার ভাবনাকে প্রশ্রয় দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এরপরও বলবো-- ইউরোপিয়ান সাম্রাজ্যবাদীদের মধ্য ব্রিটিশরাই অপেক্ষাকৃত ভালো। নিজেদের প্রয়োজনে হলেও এরা আমাদের দেশে শিক্ষা আর যোগাযোগের অবকাঠামো গড়ে তুলেছিলেন। ফরাসিরা আফ্রিকায় গিয়ে সেটাও করেনি। শুধুই শোষণ করেছে। এখনও মধ্য আফ্রিকার দেশগুলোতে ফ্রেঞ্চ ভাষার দাপট। নামেমাত্র কলোনি গুটিয়েছে তারা। ব্যাংক থেকে শুরু করে অনেক প্রতিষ্ঠানের সদর দফতর এখনো প্যারিসে। আইভোরিকোস্ট, সেনেগাল বা কঙ্গো-- কালো আফ্রিকানদের দেশগুলোর সমস্যা এখনও জিইয়ে রেখেছে ফ্রান্স। শাসক হিসেবে ইতালিয়ানরা আরও খারাপ। লুট-পাট-ছিনতাই-ই ছিল তাদের শাসনের একমাত্র মাধ্যম। মুসরাতাসহ লিবিয়ার শহরগুলোতে গির্জা বানিয়ে রেখেছিল, তবে ধর্মপ্রচার চালায়নি। খ্রিষ্টপূর্ব ১১শ' সালে খোমস-এ ভূমধ্যসাগরের তীরে প্রকাণ্ড এক গোলাকার মঞ্চ বানিয়েছিল রোমানরা। কালক্রমে গোটা দেশটাকেই নাটকীয় মঞ্চ বানিয়ে ছেড়েছে তারা। হাজার বছরের পথ পরিক্রমায় পরিত্যাক্ত হয়ে যায় রোমান সাম্রাজ্যের অভিজাত নগরী লেপটিস মাগনা। সেই লেপটিস মাগনাই আজকের খোমস। শহরটির নন-মুসলিম, সাম্রাজ্যবাদী পুরাকীর্তিগুলো অবশ্য বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই সংরক্ষণ করেছে গাদ্দাফি প্রশাসন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29458339 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29458339 2011-10-01 20:34:46
লিবিয়া জীবন: ৮ বৃষ্টি না নামলেও, শহরজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অসংখ্য কৃত্রিম ঝর্না। বাবা বলতেন, তেলের বিনিময়ে ওরা পানি কিনছে। ওরা কল্পনাও করতে পারবে না-- আমাদের দেশে কত পানি। লিবীয়রা যখন বাবাকে বলতেন তোমরা গরীব দেশ থেকে এসেছো. মিসকিন! তখন বাবা জবাব বেশ কৌশলে জবাব দিতেন। বলতেন, তোমাদের দেশের সবাইকে বাংলাদেশে এক মাসের জন্য দাওয়াত দিলাম। ৩০ লাখ মানুষকে মেহমান করে রাখতে ঢাকা আর চট্টগ্রামের পরিবারগুলোই যথেষ্ট, সারা দেশ লাগবে না। এবার আমরা আসি তোমাদের দেশে। ১২ কোটি মানুষকে রাখতে হলে মাথাপিছু তোমাদের প্রত্যেকের ঘাড়ে পড়বে ৪০ জন করে। প্রতি পরিবারে এক মাস খাবে গড়ে দেড় শ জন। যতোই তেল উঠাও, ১২ কোটি মানুষের এক বেলা গোসল করানোর মতো পানির যোগানও তোমরা দিতে পারবে না।]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29456952 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29456952 2011-09-29 11:26:10 লিবিয়া জীবন: ১০ সম্ভবত বর্ধমানে সেটেলড ইলিয়াস বা লন্ডনে সেটেলড রহিম আংকেলকে দেখেই বাবার দেশপ্রেম চাঙ্গা হয়েছিল। একটা কানাডীয় কোম্পানির অফারও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি সব সময়ই চাইতেন, আমরা, তার সন্তানরা দেশেই সেটেলড হই। মুক্তিযোদ্ধা আর আওয়ামী লীগের অন্ধ ভক্ত এই মানুষটি যে কারণে আমাদের দেশের বাইরে যাওয়ার সব পথই বন্ধ করে দিয়েছিলেন। লিবিয়ায় অবস্থানের কোনও কাগজপত্র নেই আমাদের দুই ভাইয়ের। দুজনকেই ক্যাডেট কলেজে পড়িয়েছেন। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত করার সব চেষ্টাই করেছেন তিনি। প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছি কি না বা পারবো কি না-- তা জানা নেই। তবে দেশেই রয়ে গেলাম।
কাগজপত্র না থাকলেও স্মৃতিটা রয়ে গেছে খণ্ড খণ্ড। বাবা লিবিয়ার মাটিতে বসেই আমাদের বাংলা মিডিয়ামে পড়ানোর চেষ্টা করতেন তিনি। মা নিজের হাতে আদর্শলিপি লিখেছিলেন আমাদের বাংলা শেখানোর জন‌্য। মাতৃভাষার আগাগোড়া আমার তার কাছেই শেখা। বাংলাদেশ থেকে ফেরার পথে আমাদের জন্য প্রথম থেকে ৫ম শ্রেণীর বই কিনে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিধিবাম। ত্রিপোলি বিমানবন্দরে রাজনৈতিক বই সন্দেহে সেগুলো আটকে দিলো লিবিয়ার কাস্টমস বিভাগ। মা আরবিতে বোঝালেন, তোমরাও নিশ্চয়ই চাও না আমার ছেলেরা তোমাদের দেশে থাকুক এবং বিয়ে করুক। এতে তোমাদেরই ক্ষতি। কালচার নষ্ট হয়ে যাবে। হুমকির মুখে পড়বে আরব জাতীয়তাবাদ। এরপর কোমড়ে পিস্তল গোজা ওই কাস্টমস কর্মকর্তা ডেকে আনলেন তাদের বসকে। ভাগ্যিস, বস মিশরীয় ছিলেন। তিনি কাহিনীর কিছুটা বুঝলেন। তবে তিনি মাকে প্রশ্ন করলেন, বইগুলো শিশুদের হলেতো আরও কালারফুল হওয়ার কথা, নিউজপ্রিন্টে ছাপা হওয়ার কথা না। মা জবাব দিলেন, গরীব দেশতো। তাছাড়া শিক্ষার খরচটা বাংলাদেশে সরকার দেয় না। অভিভাবকদেরই বইগুলো কিনতে হয়। এক ইন্ডিয়ান পুলিশ কর্মকর্তা, শ্রীলংকান ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা আর ওই মিশরীয় কাস্টমস কর্মকর্তা প্রায় ৩ ঘণ্টা নানা গবেষণা করে বইগুলো ছাড়লেন। বাঙালি কমিউনিটিতে ওই বইগুলো যে কতোবার ফটোকপি হয়েছে, তার হিসেব নেই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29455795 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29455795 2011-09-27 06:12:55
লিবিয়া জীবন: ৯ এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে যতোই বাংলাদেশ দেখছি, ততোই অবাক হচ্ছি আমরা। বাসায় বাবা লুঙ্গি পড়তেন। আর দেশে ঘরে-বাইরে সব জায়গায়ই মানুষ লুঙ্গি পড়ে। লিবিয়ার ফিলিস্তিনিদের মতো দেশজুড়ে ভিক্ষা করছে লাখ লাখ মানুষ। ঢাকা থেকে বরিশাল যাওয়ার পথে বাবাকে দেখলাম স্টিমারের টিকেটের জন্য বাড়তি কিছু টাকা দিচ্ছেন। জানলাম, ওটা ঘুষ। আরও মজার ব্যাপার ঘটলো নদী দেখে। ছোট ভাই বলতে লাগলো, পিচ্চি সমুদ্র। বাবা বললেন, পানি খেয়ে দেখ। একটুও নোনতা না। আমিতো পানি খেয়ে অবাক। নীল নদের চেয়ে অনেক মিষ্টি কীর্তনখোলার জল।]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29454768 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29454768 2011-09-25 15:19:51 লিবিয়া জীবন: ৭ বাবা বলতেন, যখন বাংলাদেশ গড়ার সময়, তখন তিনি লিবিয়া নির্মাণে ব্যস্ত। এ নিয়ে খুব আক্ষেপও ছিল তার। শপিংমলগুলো কাজ করতো ফিলিপনো আর মিশরীয় মেয়েরা। অধিকাংশ নার্সই যুগোশ্লাভিয়ার-- দেশটা এখন ভেঙে গেছে।
মানচিত্র নিয়ে যে আমাদেরও ঝামেলা আছে, তা বুঝতাম ইলিয়াস আংকেলকে দেখে। ভদ্রলোক আমার বাবার সঙ্গেই ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছেন। একই সঙ্গে একই কায়দায় বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে ডেপুটেশনে মুসরাতা গেছেন। কিন্তু বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে যাওয়ার পর তার মনে হলো-- তার আসল দেশ ইন্ডিয়া। বর্ধমানে পৈত্রিক ভিটায় দালান করলেন, দোকান-পাট করলেন। আর বাংলাদেশের পাট চুকিয়ে ফেললেন।
যা হোক, আবারও সবুজ লিবিয়া ফিরে আসি। আমার বাবা যে পাওয়ার স্টেশনে কাজ করতেন, সেখানের শীর্ষ দুয়েকটি আর ছোট কয়েকটি পদ ছাড়া বাকি সবই বিদেশি। বেদুইন লিবিয়ানরা তখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে আর বিদেশীরা তাদের দেশটি গড়ে দিচ্ছে। অদ্ভুত এক দৃশ্য।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29454709 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29454709 2011-09-25 13:29:36
ইশপের গল্প! http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29445292 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29445292 2011-09-09 15:20:40 লিবিয়া জীবন: ৬ ইতালিয়ানদের তাড়িয়ে স্বাধীনতা এনেছিল লিবিয়া, আমরা যেমন তাড়িয়েছি ব্রিটিশদের। তবে এখনো যেভাবে আমাদের রাষ্ট্রীয় অস্থিমজ্জায় ব্রিটিশ শাসন, সেখানে পুরো বিপরীত!
মরুভূমির সিংহ ওমর মুক্তারের দেশ বলে কথা, সবুজ বিপ্লবের ছোঁয়ায় তা আমুল বদলে গেলো সেখানে। আর শৈশবে আমার সবচেয়ে প্রিয় সেই টেলিভিশনে প্রায়ই দেখতাম ওমর মুক্তারের সিনেমাটি। শিখেছি স্বাধীনতার জন্য জীবন দিতে হয়, উপনিবেশের শোষণমুখী চরিত্র; দেখেছি প্রকাশ্য ফাঁসির দৃশ্যও। অন্তত বাংলা সিনেমা দেখার আগপর্যন্ত আমার ধারণা ছিল, ফাঁসিটা দিনে-দুপুরেই হয়। অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দৃশ্যটা দেখে, নিঃশ্বাস ফেলে। আর একটা টুলের ওপর দন্ডিতকে দাঁড় করা হয়। টুলটা ফেলে দিলে দড়িতে ঝুলানো রুই-কাতলার মতো কাতরাতে থাকে দেশপ্রেমিক আসামী, করুণ মৃত‌্যু হয় তার। যেমন হয়েছিল ওমর মুক্তারের। সিনেমা দেখার ফাঁকে ফাঁকে বাবা শেখাতেন-- এটা হচ্ছে ওমর মুক্তার বাহিনীর কাউন্টার অ্যাটাক, আর ওইটা ছিল এ্যাম্বুশ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29443612 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29443612 2011-09-06 03:03:11
লিবিয়া জীবন: ৫ ... আমাদের পাশের বিল্ডিংয়ে একটা লিবীয় পরিবার থাকতো। ভদ্রলোককে আমি কখনোই দেখিনি। শুনেছি, তাকে গুম করেছে সরকারি বাহিনী। ভদ্রলোকের স্ত্রী ইতালিয়ান বংশোদ্ভুত হলেও তুখোড় আরবি বলতে পারতেন। তিনিই আমার মাকে আরবি শিখিয়েছিলেন। রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় ৫ বছর ধরে কারাগারে তার এক ছেলে। অপর এক ছেলে মোহাম্মদ ছিলেন পুলিশের বড় কর্তা। চাকরি আর জীবন বাঁচাতে পরিবারের বাইরে আলাদা থাকতেন তিনি। মেয়ে মরিয়ম থাকতেন মায়ের সঙ্গে। সারাদিন গাদ্দাফিকে অভিশাপ দিতেন মা-মেয়ে। গভীর রাতে লুকিয়ে মাকে একবার দেখতে আসার অপরাধে তাকে দক্ষিণের প্রত্যন্ত এক মরুভূমিতে বদলি করা হয়েছিল। আমি নিশ্চিত, মোহাম্মদ যদি এখনও বেঁচে থাকেন-- তাহলে সে এখন মুসরাতায় বিদ্রোহীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
পুলিশ বলেই মোহাম্মদকে খুব ভয় পেতাম আমি। একবার বাবা বললেন, সেকি, ওতো তোমার আংকেল। আমি বললাম, পুলিশ আবার আংকেল হয় ক্যামনে। পুলিশ আর সেনাবাহিনীর পার্থক্য আসলে তখনো বুঝিনি। সেনাবাহিনীর চেয়ে পুলিশকেই বেশি হিরো মনে হতো। ওই হিরোইজমে বুদ হয়ে আমিও বলতাম, বড় হয়ে পুলিশ হবো। শুধু আমি না, আমার স্কুলের সব শিক্ষার্থীদেরই স্বপ্ন ছিল পুলিশ হওয়ার। সুপারমলগুলোতে পুতুল পাওয়া যেতো না। মেয়েরাও বন্দুক-পিস্তল নিয়েই খেলতো। যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা। যা আজও চলছে লিবিয়ায়।
পুলিশের পরই সবচেয়ে বেশি ভয় ছিল কুকুরে। লিবিয়ার কুকুরগুলো না বোঝে আরবি, না বোঝে বাংলা-ইংরেজি। কোনও ভাবেই থামানো যেতো না ওদের। তবে পুলিশ আরো বেশি হিংস্র। প্রকাশ্যেই গুলি করে মারতো কুকুরগুলোকে। রক্ত ছড়িয়ে পড়তো রাস্তায়। জান খতম হওয়ার পর আসতো সিটি করপোরেশনের ক্লিনাররা। আমাদের দেশে যেমন ক্রসফায়ারের পর মিডিয়া আসে।
১৯৮৬ সালে মার্কিন হামলার পর আরো মজার একটা দৃশ্য দেখতাম। আমাদের বারান্দা থেকেই দেখা যেতো, ইনিফর্ম পড়ে সশস্ত্র অবস্থায় গাদ্দাফির পক্ষে মিছিল করছে সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীও যে স্লোগান দিতে পারে, এটা দেখেছি তখন। সন্ধ্যার পর শুরু হতো ব্ল্যাকআউট পর্ব। ঘরের সব বাতি নিভিয়ে রাখার কঠোর নির্দেশ। রাজপথে সেনাবাহিনী। ট্যাংক পাহাড়া দিচ্ছে পাড়া-মহল্লা। মাথার ওপর দিয়ে সাই সাই করে উড়ে যেতো জঙ্গিবিমান!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29439854 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29439854 2011-08-28 11:32:39
লিবিয়া জীবন: ৪
১৯৭৮ সালে ইসরাইলের সঙ্গে মিশরের ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির কড়া বিরোধিতা করেছিলেন গাদ্দাফি। তার মদতেই আরব লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল মিশরকে। যে জামাল আবদেল নাসেরকে গুরু মানতেন গাদ্দাফি, তার সঙ্গে সব সম্পর্কও ছিন্ন করলেন তিনি। আশির দশকে আরো একবার মিশরের সঙ্গে ঝামেলা হয় লিবিয়ার। মুসরাতায় সন্ধ্যার পরই নেমে গেল সেনাবাহিনী। সিনেমা হল, শপিং মল, হাসপাতাল থেকে শুরু করে অফিস আদালত-- যেখানেই মিশরীয়দের পেয়েছে, দলে দলে ট্রাকে ভরে পাঠিয়ে দিয়েছে দেশে।

আমাদের বাসার নিচতলায় এক মিশরীয় মহিলা থাকতেন। দৈত্যের মতো লম্বা, ইউরোপীয়ানদের মতো ফর্সা-- নাম ছিল জামালাত। গোটা দশেক ছেলে-মেয়ে ছিল তার। স্বামী ছিলেন ফিলিস্তিনি। আর এ কারণেই সেই দফা বহিষ্কারের মুখে পড়েননি তিনি।

একদিন বাবার সাথে বাজার থেকে ফিরছি। আমার হাতে বকসাদা ফার্মের মুরগী, লোকাল আরবিতে বলতো দেজাজ। পথে এক লোক বাবাকে খুব গোপনে কি যেন বললেন। আমি আরবি অতোটা ভাল বুঝি না। কিছুক্ষণ পর দেখলাম, বাবা তাকে এক দিনার দিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, বাবা তুমি ওকে টাকা দিলে কেন? বাবা বলেন, ও ফিলিস্তিনি। বাড়ি হারিয়ে এখানে এসেছে। তাই ওকে সাহায্য করলাম। এরপর বাবার কাছে ফিলিস্তিনের গল্প শুনতে শুনতে বাড়ি ফিরলাম। জীবনে ওই প্রথম দেখলাম, আদি পেশা ভিক্ষাবৃত্তি! তবে এই পেশাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল লিবিয়ায়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29439457 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29439457 2011-08-27 15:41:55
লিবিয়া জীবন: ৩
বাবা-মার কাছে শুনেছি সবুজ বিপ্লবের মধ্যদিয়েই ক্ষমতায় এসেছিলেন গাদ্দাফি। গাদ্দাফির সবুজপ্রীতি ছিল অসাধারণ। সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশকে ভালো করেই চিনতেন তিনি। টেলিভিশনে সেনা কর্মকর্তাদের জন্য একটা সাপ্তাহিক ক্লাস নিতেন গাদ্দাফি। একবার এই ক্লাসে তিনি বললেন, বাংলাদেশের আয়তন ৫৫ হাজার বর্গমাইল। লোকসংখ্যা ১০/১২ কোটি। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক খবরটি হচ্ছে-- এবার বাংলাদেশে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অর্ধ শতাধিক প্রার্থী অংশ নিচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে হাসির রোল। এ সবই অনএয়ার হলো টেলিভিশনে।

সপ্তাহখানেক পর সপরিবারে দেশে বেড়াতে আসার জন্য ছুটি চাইলেন আমার বাবা। চিফ ইঞ্জিনিয়ার তাকে প্রশ্ন করলেন-- কেন ছুটি চান, দেশে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ইলেকশন করবেন?

মুসরাতায় (বিবিসি যে শহরটার নাম মিসরাতা লেখছে) আমরা যে বাড়িতে থাকতাম, তার পাশেই একটা পার্ক ছিল। সবুজে ভরা পার্ক। সুন্দর টাইলসে বাধানো রাস্তা। সি-স, ল্যাডার আরো কতো শিশুতোষ খেলনার সরঞ্জাম! বাড়িতে থাকলেও মন পড়ে থাকতো ওই সবুজ পার্কেই।
স্কুলে ঢোকার মুখেই গাদ্দাফি আর তার ভাবগুরু জামাল আবদেল নাসেরের বড় দুটি ছবি। টেলিভিশনের বদৌলতে গাদ্দাফিকে প্রথম দেখায় চিনলেও, জামাল নাসেরকে চিনতে আমার বেশ কিছুদিন লেগেছিল। পাগড়ি পড়া এক ইন্ডিয়ান শিখ ইংলিশ টিচার আমাকে শিখিয়েছিলেন, এটা জামাল আবদেল নাসের। আধুনিক মিশরের নেতা। তার ইয়ং অফিসার্স রেভ্যুলেশনে অনুপ্রাণিত হয়েই অকর্মন্য উপনিবেশের তাবেদার রাজা ইদ্রিসকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসেন গাদ্দাফি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29439387 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29439387 2011-08-27 13:15:23
লিবিয়া জীবন; ২ ৮৬ সালে যখন লিবিয়ায় বিমান হামলা চালালো যুক্তরাষ্ট্র, তখন টিভি দেখতাম, প্রেসিডেন্ট রিগ্যান পিস্তল হাতে পৃথিবীর ওপর বসে আছেন। মজার মজার সব স্টিল কার্টুন অনএয়ার হতো টেলিভিশনে।
আমেরিকানরা কাফের। ওরা মুসলিমদের ভালো কখনোই মেনে নেবে না-- এমন জ্বালাময়ী ভাষণের পর গাদ্দাফিকে দেখতাম, আরেক কাফের রাশিয়ার সঙ্গে সেকি দহরম মহরম। হোক ইসলামী সোশ্যালিজম! এই বিপ্লবী নেতার কারণে শৈশবেই আমার সোশ্যালিজমের সঙ্গে পরিচয়।
আগের পর্ব পড়ুন: Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29437654 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29437654 2011-08-24 09:51:02
লিবিয়া জীবন: ১ যে টিভি স্টেশনটি আজ বন্ধ হয়ে গেছে, সেটাই তখন আমাদের টেলিভিশনের একমাত্র চ্যানেল। ছাদে উঠে ঠিকমতো অ্যান্টেনা ঘুরাতে পারলে, ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইতালিয়ান টিভিও আনা যেতো। টিভি সারাদিন দেখতাম, একটা জাতি কিভাবে সামরিক হয়ে উঠছে। ছানি পড়া চোখে রাইফেলের লেন্সে চোখ রেখে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে বুড়িরাও। আরও দেখতাম, মরুভূমি থেকে দলে দলে বেদুইন ধরে কলোনিতে উঠিয়ে দিচ্ছে সেনাবাহিনী। স্কুলের মেয়েরা বেদুইনদের বাথরুমের ফ্লাশ টানা শেখাচ্ছে। ওই কলোনিগুলোতে বেড়ে ওঠা প্রজন্মই আজ গাদ্দাফিকে হঠালো।
ত্রিপোলি-বেনগাজিতে গাদ্দাফি বিরোধী মিছিলের তরুণরা জানে না, অর্থাভাবে চিকিৎসা জোটে না আমার দেশে। স্বাস্থ্য, চিকিৎসা বা শিক্ষার মতো মৌলমানবিক চাহিদাগুলো নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র বাধ্য, সে কথা যেমন বাংলাদেশীরা ভাবতে পারে না; ঠিক তেমনি ওরাও সত্তর দশকের মাঝামাঝি থেকেই ভাবতে পারছে না লোডশেডিং কি?
গাদ্দাফি পরিবারের দুর্নীতি প্রশ্নবিদ্ধ হলেও, জনগণকে তিনি দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পেরেছিলেন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29437018 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29437018 2011-08-23 02:54:11
আহা বাণিজ্যমন্ত্রী! http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29425878 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29425878 2011-08-05 11:16:04 কনসার্ট ফর বাংলাদেশ

৪০ বছর পেরোলো, কনসার্ট ফর বাংলাদেশের সেই শিল্পীদের কোনো রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেয়া হয়নি আজো। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29424179 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29424179 2011-08-02 02:28:06
পোস্ট আর্কাইভ: কোন মাসে কতগুলা পোস্ট দিলাম! * জুন,২০১১(৫)
* মে,২০১১(১)
* মার্চ,২০১১(১)
* ফেব্রুয়ারী,২০১১(৩)
* জানুয়ারী,২০১১(২)
* নভেম্বর,২০১০(১)
* অক্টোবর,২০১০(২)
* সেপ্টেম্বর,২০১০(৭)
* আগস্ট,২০১০(৮)
* জুলাই,২০১০(২৪)
* জুন,২০১০(১৮)
* মে,২০১০(৯)
* এপ্রিল,২০১০(৫)
* মার্চ,২০১০(৫)
* ফেব্রুয়ারী,২০১০(৬)
* জানুয়ারী,২০১০(৪)
* ডিসেম্বর,২০০৯(১৭)
* নভেম্বর,২০০৯(১৪)
* অক্টোবর,২০০৯(১৭)
* সেপ্টেম্বর,২০০৯(২১)
* আগস্ট,২০০৯(৭)
* জুলাই,২০০৯(৪)
* জুন,২০০৯(১০)
* মে,২০০৯(৬)
* এপ্রিল,২০০৯(১৮)
* মার্চ,২০০৯(২২)
* ফেব্রুয়ারী,২০০৯(৩)
* জানুয়ারী,২০০৯(১০)
* ডিসেম্বর,২০০৮(৮)
* নভেম্বর,২০০৮(৪)
* অক্টোবর,২০০৮(১৬)
* সেপ্টেম্বর,২০০৮(২)
* জুলাই,২০০৮(৪)
* জুন,২০০৮(৯)
* মে,২০০৮(১১)
* এপ্রিল,২০০৮(৬)
* মার্চ,২০০৮(৮)
* ফেব্রুয়ারী,২০০৮(৪)
* জানুয়ারী,২০০৮(১৩)
* ডিসেম্বর,২০০৭(৩৬)
* নভেম্বর,২০০৭(৭)
* অক্টোবর,২০০৭(৪২)
* সেপ্টেম্বর,২০০৭(৩২)
* আগস্ট,২০০৭(৮)
* জুলাই,২০০৭(১)
* এপ্রিল,২০০৭(৩০)
* মার্চ,২০০৭(৯০)
* ফেব্রুয়ারী,২০০৭(১৮)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29408778 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29408778 2011-07-07 12:24:51
পোস্ট ৬০০টি পেরিয়েছে!
* পোস্ট করেছি: ৬০০টি
* মন্তব্য করেছি: ১৫৪৩টি
* মন্তব্য পেয়েছি: ৩২০৬টি
* ব্লগ লিখেছি: ৪ বছর ৪ মাস

* ব্লগটি মোট ১০৪২১৪ বার দেখা হয়েছে ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29408019 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghorblog/29408019 2011-07-06 11:26:40