আমার প্রিয় পোস্ট
- গল্প: নতুন গান - প্রণব আচার্য্য
- ২/২ -২/৩/৪/৫ এবং - কাকশালিখচড়াইগাঙচিল
- বিজ্ঞাপন বউঃ ধুলো ধুলো হয়ে গেছে - মরিয়ম
- দাপ্তরিকের প্রত্যাবর্তন - ছন্নছাড়ার পেন্সিল
- চোখের ছুরিতে দৃশ্যগুলি চিরে দেখি - নির্ঝর নৈঃশব্দ্য
- বেবীসিটার মহিলার চোখ - আন্দালীব
- ছোটখালার যাওয়া - সুমন রহমান
- ড্রয়ারের কোণে স্মৃতিগন্ধী ন্যাপথালীন - আন্দালীব
- দাপ্তরিক পুজা ও গ্রাস - আমি ও আমরা
- কেউ এসে চলে গেছে - আন্দালীব
- ঘুমরোচক নৈশগীত - সবাক
- সাইবর্গ দিনলিপি - অন্যমনস্ক শরৎ
- তৈজসরেখা বেয়ে পিঁপড়ের ক্যারাভান.. - আন্দালীব
- স্নায়ুযুদ্ধ - আমি ও আমরা
- ইন্টেল্যাকচুয়ালেরা একদিন কবিতা লিখবে - আমি ও আমরা
এ জার্নি বাই বাস
২৭ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:৪৩
এই রাত্রিকালীন মহাসড়কের সাথে আমার সখ্যতা বহুদিনের। স্পেসেফিকলি বলতে গেলে সেই কলেজে পড়ার সময় থেকেই। তখন এমনও দিন গেছে প্রতি সপ্তাহান্তে আমি একবার করে যাতায়াত করেছি এই মহাসড়ক ধরে। তখন আমার অলস দেহ কিংবা সে দেহে ক্লিষ্ট গতি, কোনটাই না থাকলেও গৃহের প্রতি একটা দুর্বার টান ছিল। এখনো যে নেই তা বলা যায় না। তবে বয়েসের টানে তানপুরার সুর এখন অনেক পাল্টে গেছে। মনে আছে সেদিন গলা কেমন কেঁপে কেঁপে উঠেছিলো, যেদিন আমি প্রথম শহর বদল করি। ফেলে আসা শহরটাকে আমি বহুদিন বুক পকেটে নিয়ে ঘুরেছি। নতুন শহরের দালান কোঠায়, মানুষের মুখের রেখায় উপযোজনের অনুপ্রেরণা খুঁজেছি এবং এরপর একদিন হঠাৎ আবিষ্কার করেছি আমার শার্টে আর কোন বুক পকেট নেই! এ শহরে থাকতে হলে বুক পকেট রাখতে নেই। মূলত: তখন থেকেই আমার ঘরমুখী যাতায়াত গুলো উল্লেখযোগ্য হারে কমে এলো। যদিও এই রাত্রিকালীন ভ্রমণের প্রতি আমার আকর্ষণ এখনো সমান দুর্নিবার রয়ে গেছে।
দূর পাল্লার বাসের জানলায় প্রায়শ:ই একটা বৈরাগ্যের সুর লেখা থাকে। আমার পক্ষে এর লোভ সামলানো দায়। তাই জানালার পাশের সিটটার ব্যাপারে আমি বরাবরই আপোষহীন থেকেছি। প্রয়োজনবোধে ঘন্টাখানেক কাউন্টারে কাটিয়ে দিয়েও পচ্ছন্দসই জায়গাটা না পেলে আমি বাসে উঠিনি। আজও যেমন তার অন্যথা ঘটে নি। একরাশ অন্ধকার আর মৃদু চন্দ্রালোক পাশে রেখে আমি ছুটে চলেছি পরিচিত প্রকান্ড মহাসড়ক ধরে। এসময় বাস জুড়ে থাকা ঘুমের প্রলেপ আমি স্পষ্ট টের পাই। বাসটাকে তখন একটা গহিন ঘুমপুরী মনে হয়। জানলার ফাঁক গলে শীতল বাতাস ঢুকে পড়ে। বাসের সিটে আমার এলিয়ে দেয়া শরীর জুড়োয়। আইপড্ শাফলের সাথে আমার মুডও শাফলড্ হয়, বিভিন্ন ভাবনারা দল বেঁধে আসে। মুড শাফলড্ হয়েও অবশ্য বেশি দূরে যাওয়ার উপায় থাকে না। কারন ট্র্যাক গুলো খুব যত্ন করে আমারই সিলেক্ট করা। যাত্রাকালীন বৈরাগ্য সাধনে এটা এক অপরিহার্য অনুষঙ্গের মত।
অধিকাংশ সময় ধরে আমি জানলার দিকে তাকিয়ে থাকি। কখনো একটা জঙ্গলের মতন, কখনো ক্ষেত, কখনো সেতু, কখনো একটা থমকে থাকা বিস্তীর্ণ মেঘ আমি পলকে পেরিয়ে যাই। অথচ আমার যে খুব তাড়া এমন নয়। অন্ধকার ফুঁড়ে আসা ছোট ছোট আলো চোখে পড়ে। সাথে ছোট ছোট ছাউনির ঘর, পুকুরের পাড়। একেকটা দ্বীপের মত বাড়ি। কখনো একটা সরু মেঠো পথ যেন আলগোছে নেমে হঠাৎ হারিয়ে গেলো। পাশে একটা টিনের ছাউনি, বসবার বেঞ্চি। চায়ের দোকান। এবং আরো অস্পষ্ট ঘুমন্ত জনপদ। আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে ওদের। কোন এক অজানা কারনে আমার কেবলই মনে হতে থাকে এরা পৃথিবীর সবচে' সুখী মানুষের দল। কি আশ্চর্য নৈ:শব্দে ঘুমিয়ে আছে। নাগরিক সব জটিলতা ভুলে কি সাধারন থেকে গেছে। এমন ভাবনা আমাকে প্রায় কাতর করে তোলে। আমি তখন বাসে বসে বসে অনেক শূন্যতা ভাবি আর কিছু একটা না পাওয়ার বেদনায় ক্রমশ: বিলাসি হই।
"মহাসড়কের সাথে সখ্যতা" ব্যাপারটা আসলে আমার ক্ষেত্রে পুরোপুরি প্রযোজ্য নয়। কারন আমি এর পার্থিব দিক গুলোর ব্যাপারে বরাবরই উদাসীন থেকেছি। আমার কখনোই জানতে ভালো লাগে নি - বাস এখন কোন এলাকায় চলছে, কিংবা এই জায়গাটার নাম কি? বা সচরাচর অন্য কোন ভৌগলিক বিষয়। আমি এই পথে প্রচুর নদী উপভোগ করেছি সত্যি। কিন্তু খুব সচেতনভাবে তাদের নামটা জিজ্ঞেস করতে ভুলে গেছি। নদীর উপর জোনাকির মত বিন্দু বিন্দু আলো। নৌকার সংসার। দূরবর্তী জাহাজের আভাস, বালি তোলার ডিঙ্গি আর সেতুর সারি বাঁধা সোডিয়াম আলোয় আমি মেকি রহস্য বুনি। বহু আগে শোনা একটা রবীন্দ্রনাথের গানে নতুন করে বিভোর হই।
------------------------------------------------------------------------------
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ভ্রমণ ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: :
সিদ্ধার্থ হইতে মন চায়
অদ্রোহ বলেছেন:
অনুভবের ব্যাপারগুলো অনেকটাই দেখি মিলে গেল ।স্থান -কালের মত নিরেট বিষয়ে আমি অনেকটাই নির্লিপ্ত ,একাকী বাসযাত্রায় আমি নিজের মত করেই আনন্দের উপলক্ষ খুঁজে নেই ।লেখা কিন্তু কবিতার মতই সুখপাঠ্য ,দাদা
লেখক বলেছেন: :
আমি ট্রেনে চড়ি না বহুদিন। টিকেটের ঝক্কি ঝামেলা! ভালো লাগে না।
লেখক বলেছেন: :
নাম্বার দিবেন এটা আগে বলবেন না। তাইলে আরেকটু যত্ন আত্তি নেয়া যেত।
হাসান মাহবুব বলেছেন:
কতদিন রাতের বাসে লংজার্নি করা হয়না! লেখক বলেছেন: :
আমি তো খুব অলস। মাঝে মধ্যে বাড়ি যাওয়া উপলক্ষ্যে দুয়েকটা লং জার্নি হয়।....
সুক্রিয়া...সুক্রিয়া ![]()
রানাকবির বলেছেন:
ভাল লাগলো!
লেখক বলেছেন: :
শুভেচ্ছা।
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন:
ভ্রমণ চিন্তার জন্যে দারুণ একটা সুযোগ। আমার সব রাজ্যের চিন্তা যেগুলো ঢাকার ধুলা ধোঁয়া আর হর্নের কারণে ছুটে ছুটে যায় সেগুলো বাসের ভেতরে বসে চলতে চলতে করা।ঘুমন্ত বাসের বর্ণনা পড়ে এখনই একটা রাতের জার্নি করতে ইচ্ছা করছে...!
লেখক বলেছেন: :
রাতের জার্নিতে প্রচুর ভাবনার খোরাক থাকে, যেটা দিনের বেলা দূর্লভ। ধন্যবাদ অনীক ভাই।
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য বলেছেন:
কে বললো আমি অভিযোজন জানি
আমি কি মানুষ নই
তখন আমি ইশ্কুলে পড়ি। হোস্টেলে থাকি। শীতকাল। রাতে লোকাল বাসে বাড়ি ফিরছিলাম। বাসের জানলা খোলা রেখেছিলাম বলে অন্যান্য যাত্রীরা এবং বাসের লোকজন গভীর আমাকে এমন একটা জয়গায় বাস থেকে নামিয়ে দিলো যেখানে থাকার কোনো বোর্ডিং কিংবা হোটেল ছিলো না।
লেখক বলেছেন: আপনাকে খুব হিংসে হচ্ছে।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














