somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বনসাই কবিতা তোমার নিশ্চয়ই মনে পড়ছে অ্যাক্রিলিক



তোমার নিশ্চয়ই মনে পড়ছে অ্যাক্রিলিক।
ভ্রমণের সিগন্যাল।
তোমার নিশ্চয়ই মনে পড়ছে প্রবণতা।

নৌসময়ের আগে
তুমি নিশ্চয়ই মনে করে নিচ্ছো ঠিকঠাক
চুম্বনের যাবতীয় খসড়া
অমোঘ হয়ে ওঠার
সবগুলো শ্রাবণ শৈলী!
--------------------------------------------------------------------------------
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/29035031 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/29035031 2009-10-31 03:44:20
বালকের পৃথিবী ভাবনা - বায়োগ্রাফিমূলক ৩ বালকের আকাশদর্শণ-বায়োগ্রাফিমূলক ১
আর্টের স্কুল-বায়োগ্রাফিমূলক ২ এই পোস্টের সাথে একজনের অনুপ্রেরণা জড়ানো আছে। তাঁর প্রায় এক হালি নামের মধ্যে একটা নাম হলো - একলব্যের পুনর্জন্ম। তিনি একজন বড় মাপের কবি। তাই তাঁকে ধন্যবাদ দিয়ে খাটো না করে লেখাটা শুরু করা গেলো না। আশাকরি তিনি এসে তাঁর ধন্যবাদটা বুঝে নিবেন। যে কোন লেখার ফরমায়েশি হয়ে ওঠার পেছনে দুটো প্রধাণ বৈশিষ্ট্য হলো - ১. এতে প্রচুর অযত্নের ছাপ থাকবে এবং ২. যিনি লিখছেন তিনি এমন ভাব করবেন যেন তার অনেক কাজ। নিতান্তই চাপের মুখে পড়ে তাড়াহুড়ো করে লিখে ফেলেছেন। আমি যে সমগ্র লেখা জুড়ে এইসব বৈশিষ্টাবলী অক্ষুণ্ণ রাখার প্রাণপন চেষ্টা করেছি, তা পাঠক একটু পড়লেই বুঝতে পারবেন।
-----------------------------------------------------------------------------------
বালকের পৃথিবী ভাবনা - বায়োগ্রাফিমূলক ৩


আমার চোখে রাজ্যের ঘুম আর ডান কাঁধে একটা শান্তি নিকেতনি। দৈর্ঘ্যে এবং গাম্ভীর্যে আমাকে ছাড়িয়ে গিয়ে পায়ের গোড়ালি ছুঁয়ে দিচ্ছে বারবার। মা'র কিনে দেওয়া। শান্তি নিকেতনি ঝুলিয়ে ছেলেকে আর্টিস্ট বানাবে। ভিতরে একটা নতুন কেনা খাতা, একটা প্যাস্টেলের বক্স। প্যাস্টেলের বক্সের মলাটে টম এন্ড জেরির ছবি। ছবির কাহিনী খুবই ইন্টারেস্টিং। জেরি ন্যাংটো হয়ে সাওয়ার নিচ্ছে আর টম তলোয়ারের মত গোঁফগুলো দু'দিকে বাড়িয়ে দিয়ে পিছন থেকে উঁকি দিচ্ছে। কিন্তু এতো মজার বিষয়েও আমি আজ কোন আগ্রহ পাচ্ছি না। আমার কাঁধ থেকে ঝোলানো শান্তি নিকেতনি যে হেলেদুলে, বাতাসে উড়ে আমার পার্শ্ববর্তী রাস্তাঘাট পরিস্কারের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে ওদিকেও খুব একটা ভ্রুক্ষেপ নেই।

ছুটির দিনে ঘুম হারানোর চেয়ে শোকাতুর বিষয় আর কিইবা হতে পারে? আমার এই এলোমেলো, ইতস্তত পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য আসলে মা'র প্রতি একটা মৌন স্মারকলিপি লেখা। শান্তি নিকেতনির ঝাড়ু হয়ে ওঠা এই স্মারকলিপির একটা অংশ মাত্র। মা ছোটবেলা থেকেই খুব বুদ্ধিমতী ছিলেন। অধিকাংশ কথাবার্তা আমার মুখ ফুটে বেরুবার আগেই অনায়াসে বুঝে ফেলতেন। এবারও তার অন্যথা হলো না। আমার ঝাড়ুদার হয়ে ওঠার প্রবৃত্তি তার চোখে ধরা পড়ে গেলো। "ছেলে ঝাড়ুদার হতে চাইছে" এটা নিশ্চয় কোন মা'ই সজ্ঞানে মেনে নিবেন না। আমার মাও নিলেন না এবং তৎক্ষণাৎ আমার শান্তি নিকেতনির কাঁধের ঝুলে একটা বড় গিট্টু মেরে দিলেন। ওবেচারা দৈর্ঘ্যে ও গাম্ভীর্যে ছোট হয়ে গিয়ে গোঁড়ালি থেকে আমার হাঁটুতে উঠে এলো। আমিও ঝাড়ুদার থেকে আর্টিস্ট বনে গেলাম।

সামনে একটা ছোট মাঠ। মাঠ পারলেই ক্লাসরুম। ক্লাসের নাম "হাসিখুশি"। আমার মত যেসব ছোট্ট বাচ্চা চোখ কচলে, হাঁড়িমুখ করে বাসা থেকে একগাদা মন খারাপের দিস্তা নিয়ে প্রতি সপ্তাহে এখানে ছবি আঁকতে আসে, মূলত: ওদের জন্যেই এই ক্লাস।

ক্লাসের বেঞ্চিগুলো বেঢপ সাইজের। বসে থেকে টেবিল নাগাল পেতে আমার বেশ কষ্ট হচ্ছে। কিছু আর্টিস্ট দেখি হাত পা ছড়িয়ে দিয়ে টেবিলের উপরেই বসে পড়েছে। কি সাংঘাতিক অভদ্র লোকজন! আমি কিছুক্ষণ জানলার বাইরে তাকিয়ে থাকি। মা'কে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। খানিকটা আকাশ আড়াল করা আম গাছটাকে দেখা যাচ্ছে। আম গাছে অনেক কাকের বাসা দেখা যাচ্ছে।

হঠাৎ দেখি একটা ইয়া বড় গোঁফ ওয়ালা ব্যস্ত ভঙ্গিতে ক্লাসরুমে এসে ঢুকলো। হাসি হাসি মুখ। কিন্তু গোঁফের আড়ালে তার হাসি বারবার চাপা পড়ে যাচ্ছে।

- আপনারা সবাই একটু ঠিকঠাক হয়ে বসেন তো দেখি। তারপর আসেন আমরা একটু গল্প গুজব করি।

চুলগুলো ঘাড় ছুঁই ছুঁই। খুব শীর্ণকায় দেহে বেখাপ্পা ঢোলা একটা প্যান্ট। সরু কোমর। দেখে মনে হচ্ছে একটা জীবন্ত বালুঘড়ি সারা ক্লাসময় হেঁটে হেঁটে বেড়াচ্ছে। উনি বিভিন্নভাবে আমাদের সাথে সুসম্পর্ক তৈরী করার চেষ্টা করলেন। তার মধ্যে একটা হলো এই "আপনি আপনি" করে বলা। ছোটরা সবসময় নিজেদের বড় ভাবতে পচ্ছন্দ করে। বালুঘড়ির এটা ভালোই জানা আছে। তার আরো কিছু মনভোলানো কথার শেষে আঁকিবুকি শুরু হলো। আঁকার বিষয় আমাদের চারপাশের পৃথিবী। আমি খানিকটা মাথা চুলকে খাতাটা বের করে গালে হাত দিয়ে বসে থাকলাম। চারপাশে তো অনেক জিনিসপত্র। কোনটা ফেলে কোনটা আঁকি। তাছাড়া পৃথিবীর তুলনায় খাতাটা অনেক ছোট।

- কি আপনি আঁকছেন না কেন? মন খারাপ?
- না।
- তাহলে?
- কি আঁকবো ঠিক বুঝতে পারছি না?
- কেনো? পৃথিবী আঁকবেন। পৃথিবী দেখেছেন কখনো?
- দেখেছি।
- কোথায় দেখেছেন?
- আমাদের বাসায়। ড্রইং রুমে।
- বাহ্! তাহলে ওটাই আঁকেন।
- গোল তো আঁকতে পারি না।
- আজকে তো প্রথম দিন। তাই পুরো গোল না হলেও সমস্যা নেই।

বালুঘড়ির কথা মত কালো প্যাস্টেলটা বের করে একটা গোল আঁকলাম। এবার চারপাশের জিনিসত্র আঁকতে হবে। জিনিসপত্রের কথা ভাবতেই প্রথমেই মনে এলো মাটি। মাটি ছাড়া তো পৃথিবী সম্ভব না। গোলের ভেতরে সব মাটি। মাটির উপরে আমরা দাঁড়িয়ে থাকি। কিন্তু. . . কিন্তু . . . কিন্তু নিচের দিকে যারা আছে ওদের তো ধপাস্ করে যাওয়ার কথা। তাহলে?

তাহলে কি নিচে কেউ থাকে না? মেটে রঙটা হাতে নিয়ে দাগ দিতে যাব, এমন সময় মনে পড়লো সমাজ বইয়ের কথা - পৃথিবীর তিনভাগ জল, একভাগ স্হল। মা বলেছে - স্হল মানে মাটি, জল মানে পানি। এইরে! তাইলে তো পানিও দেয়া লাগবে। গাঢ় নীলটা বের করি। গোলটার তিনভাগ এই রঙ দিতে হবে। কিন্তু পৃথিবীর সাথে পানিটা লেগে আছে কিভাবে? মাটি নাহয় লেগে আছে বুঝলাম, কিন্তু পানি তো ঝপাস্ করে পড়ে যাওয়ার কথা। তাহলে?

তাহলে আর কি? পৃথিবীটা আসলে পানির উপরে ভেসে আছে। একটা অনেক বড় সমুদ্র। সমুদ্রের ভিতরে পৃথিবীর তিনভাগ ডুবে থাকে। আর উপরের একভাগে আমরা দাঁড়িয়ে থাকি। মাঝে মধ্যে আমারা হেঁটে হেঁটে সমুদ্রে বেড়াতে যাই। মাছ ধরি। উপরের দিকে কিছু পাহাড়। খয়েরি রঙ এর। নীল রঙের আকাশ। আকাশে সূর্য। একটা সবুজ আম গাছ। তার নিচে আমি। তারপর এই স্কুল। বাহ! নিজের বুদ্ধিমত্তায় নিজেই যেন চমকে উঠলাম।

এই করতে করতে দেখি অনেকের আঁকা শেষ হয়ে গেছে। বালুঘড়িকে মাঝখানে বসিয়ে সবাই জটলা করে ছবি দেখাচ্ছে। একেকজন পৃথিবী সম্পর্কে নিজস্ব ধারণা ব্যক্ত করছে। লাল রঙের চশমা পড়া একটা মেয়ে বললো পৃথিবীতে নাকি কাকের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। এ নিয়ে তার দু:শ্চিন্তার কোন শেষ নেই। সে নিজেও এঁকেছে একটা মস্ত কাকের ছবি। পাশে একটা ছোট্ট পৃথিবী। কাকটা খুব আগ্রহ নিয়ে পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে আছে। যেন আরেকটু হলেই খেয়ে ফেলবে।

আমি খানিকটা ভয়ে ভয়ে আমার খাতাটা এগিয়ে দিলাম। সবাই আগ্রহ নিয়ে দেখতে শুরু করলো। একজন জিজ্ঞেস করলো, "কালো মতন জিনিসটা কি?" আমি বললাম, "ঐটা আমি। আম গাছের নিচের দাঁড়িয়ে আছি।" তখন লাল রঙের চশমা পড়া মেয়েটা বললো, "আম গাছের নিচে আর কখনো দাঁড়িয়ো না। কাকে পু করে দিবে।" আমি মাথা নেড়ে সায় দিলাম। বুঝানোর চেষ্টা করলাম যে আমার মস্তবড় ভুল হয়ে গেছে।

বালুঘড়ি তার চুলে আঙুল চালাতে চালাতে বললো, "তা, আপনি পানিতে ভেসে ভেসে কোথায় যাচ্ছেন?" আমি বললাম, "পৃথিবী যে দিকে যাচ্ছে ঐদিকে।" কে যেন জিজ্ঞেস করলো, "এতো পানি কোত্থেকে এলো?" আমি তখন সমাজ বইয়ের তিন ভাগ একভাগ ব্যাপারটা খুলে বললাম। এটা শুনে দেখি বালুঘড়ি জোরে জোরে হাসতে শুরু করলো। এবারও গোঁফের নিচে তার হাসি চাপা পড়ে গেলো। কোন একটা অদ্ভুত কারনে লোকটাকে আমার খুব ভালো লেগে গেলো। তার হাসি আড়াল করা গোঁফটাকেও। আরো কয়েকজনের ছবি দেখার পরে বালুঘড়ি বললো, "আমাদের এখানে একটা লাইব্রেরি আছে। আপনারা চাইলে ওখানে ঘুরে দেখতে পারেন। আর এখন আপনাদের ছুটি!"

ছুটি শব্দটার সাথে সবসময় একটা মন ভালো করা ব্যাপার থাকে। যথারীতি আমারও
মন ভালো হয়ে গেলো। কিন্তু বাইরে বের হতেই দেখি চারপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার। ঝড়ো বাতাসে মাঠের ধুলো উড়ছে। গেটের কাছে আঙ্কেল আন্টিদের জটলা। কিন্তু মা'কে কোথাও দেখতে পেলাম না। একটু পরেই ঝম ঝমিয়ে বৃষ্টি নামল। আমি তবু বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকলাম। মা আসলে যেন দূর থেকে আমাকে দেখতে পায়। ক্লাসরুমের টিনের চালে তুমুল শব্দ হতে লাগলো। আমি এতো জোরে বৃষ্টির শব্দ আগে কখনো শুনিনি।
----------------------------------------------------------------------------------]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/29034428 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/29034428 2009-10-30 01:43:58
এ জার্নি বাই বাস
এই রাত্রিকালীন মহাসড়কের সাথে আমার সখ্যতা বহুদিনের। স্পেসেফিকলি বলতে গেলে সেই কলেজে পড়ার সময় থেকেই। তখন এমনও দিন গেছে প্রতি সপ্তাহান্তে আমি একবার করে যাতায়াত করেছি এই মহাসড়ক ধরে। তখন আমার অলস দেহ কিংবা সে দেহে ক্লিষ্ট গতি, কোনটাই না থাকলেও গৃহের প্রতি একটা দুর্বার টান ছিল। এখনো যে নেই তা বলা যায় না। তবে বয়েসের টানে তানপুরার সুর এখন অনেক পাল্টে গেছে। মনে আছে সেদিন গলা কেমন কেঁপে কেঁপে উঠেছিলো, যেদিন আমি প্রথম শহর বদল করি। ফেলে আসা শহরটাকে আমি বহুদিন বুক পকেটে নিয়ে ঘুরেছি। নতুন শহরের দালান কোঠায়, মানুষের মুখের রেখায় উপযোজনের অনুপ্রেরণা খুঁজেছি এবং এরপর একদিন হঠাৎ আবিষ্কার করেছি আমার শার্টে আর কোন বুক পকেট নেই! এ শহরে থাকতে হলে বুক পকেট রাখতে নেই। মূলত: তখন থেকেই আমার ঘরমুখী যাতায়াত গুলো উল্লেখযোগ্য হারে কমে এলো। যদিও এই রাত্রিকালীন ভ্রমণের প্রতি আমার আকর্ষণ এখনো সমান দুর্নিবার রয়ে গেছে।

দূর পাল্লার বাসের জানলায় প্রায়শ:ই একটা বৈরাগ্যের সুর লেখা থাকে। আমার পক্ষে এর লোভ সামলানো দায়। তাই জানালার পাশের সিটটার ব্যাপারে আমি বরাবরই আপোষহীন থেকেছি। প্রয়োজনবোধে ঘন্টাখানেক কাউন্টারে কাটিয়ে দিয়েও পচ্ছন্দসই জায়গাটা না পেলে আমি বাসে উঠিনি। আজও যেমন তার অন্যথা ঘটে নি। একরাশ অন্ধকার আর মৃদু চন্দ্রালোক পাশে রেখে আমি ছুটে চলেছি পরিচিত প্রকান্ড মহাসড়ক ধরে। এসময় বাস জুড়ে থাকা ঘুমের প্রলেপ আমি স্পষ্ট টের পাই। বাসটাকে তখন একটা গহিন ঘুমপুরী মনে হয়। জানলার ফাঁক গলে শীতল বাতাস ঢুকে পড়ে। বাসের সিটে আমার এলিয়ে দেয়া শরীর জুড়োয়। আইপড্ শাফলের সাথে আমার মুডও শাফলড্ হয়, বিভিন্ন ভাবনারা দল বেঁধে আসে। মুড শাফলড্ হয়েও অবশ্য বেশি দূরে যাওয়ার উপায় থাকে না। কারন ট্র্যাক গুলো খুব যত্ন করে আমারই সিলেক্ট করা। যাত্রাকালীন বৈরাগ্য সাধনে এটা এক অপরিহার্য অনুষঙ্গের মত।

অধিকাংশ সময় ধরে আমি জানলার দিকে তাকিয়ে থাকি। কখনো একটা জঙ্গলের মতন, কখনো ক্ষেত, কখনো সেতু, কখনো একটা থমকে থাকা বিস্তীর্ণ মেঘ আমি পলকে পেরিয়ে যাই। অথচ আমার যে খুব তাড়া এমন নয়। অন্ধকার ফুঁড়ে আসা ছোট ছোট আলো চোখে পড়ে। সাথে ছোট ছোট ছাউনির ঘর, পুকুরের পাড়। একেকটা দ্বীপের মত বাড়ি। কখনো একটা সরু মেঠো পথ যেন আলগোছে নেমে হঠাৎ হারিয়ে গেলো। পাশে একটা টিনের ছাউনি, বসবার বেঞ্চি। চায়ের দোকান। এবং আরো অস্পষ্ট ঘুমন্ত জনপদ। আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে ওদের। কোন এক অজানা কারনে আমার কেবলই মনে হতে থাকে এরা পৃথিবীর সবচে' সুখী মানুষের দল। কি আশ্চর্য নৈ:শব্দে ঘুমিয়ে আছে। নাগরিক সব জটিলতা ভুলে কি সাধারন থেকে গেছে। এমন ভাবনা আমাকে প্রায় কাতর করে তোলে। আমি তখন বাসে বসে বসে অনেক শূন্যতা ভাবি আর কিছু একটা না পাওয়ার বেদনায় ক্রমশ: বিলাসি হই।

"মহাসড়কের সাথে সখ্যতা" ব্যাপারটা আসলে আমার ক্ষেত্রে পুরোপুরি প্রযোজ্য নয়। কারন আমি এর পার্থিব দিক গুলোর ব্যাপারে বরাবরই উদাসীন থেকেছি। আমার কখনোই জানতে ভালো লাগে নি - বাস এখন কোন এলাকায় চলছে, কিংবা এই জায়গাটার নাম কি? বা সচরাচর অন্য কোন ভৌগলিক বিষয়। আমি এই পথে প্রচুর নদী উপভোগ করেছি সত্যি। কিন্তু খুব সচেতনভাবে তাদের নামটা জিজ্ঞেস করতে ভুলে গেছি। নদীর উপর জোনাকির মত বিন্দু বিন্দু আলো। নৌকার সংসার। দূরবর্তী জাহাজের আভাস, বালি তোলার ডিঙ্গি আর সেতুর সারি বাঁধা সোডিয়াম আলোয় আমি মেকি রহস্য বুনি। বহু আগে শোনা একটা রবীন্দ্রনাথের গানে নতুন করে বিভোর হই।

------------------------------------------------------------------------------
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/29033041 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/29033041 2009-10-27 23:43:09
এন্ডগেম ও অন্যান্য

তাজা খবর নয়। বরং যথেষ্ট বাসি খবর। বাজারে "মেগাডেথ" এর নতুন এলবাম বেরিয়েছে। বাজারে না বলে বলা ভালো ইন্টারনেটে কিংবা টরেন্টে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাজারে আসার আগেই নাকি যাবতীয় জিনিসপত্র ঐখানে পাওয়া যায়। এন্ডগেমের বেলায়ও তা'র অন্যথা হলো না। ফলে অফিসিয়ালি রিলিজ হওয়ার সপ্তাহখানেক আগে থেকেই আমি এন্ডগেম শুনছি। মেগাডেথ একসময়ের খুব প্রিয় একটা নাম। বিশেষ করে মার্টি ফ্রিমেন যখন জড়িত ছিলেন ব্যান্ডটার সাথে। ওসময়ের এলবামগুলোতে (ক্রিপটিক রাইটিংস্, রিস্ক) তার একটা প্রভাব ছিলো। ওটা ভালো লাগতো।

পিক্সার এনিমেসনের একটা শর্ট ফিল্ম আছে। নাম "ওয়ান ম্যান ব্যান্ড"। মেগাডেথের ক্ষেত্রে কথাটা শতভাগ প্রযোজ্য। সবেধন নীলমনি হিসেবে ডেভ মাস্টেইন-ই শুধু রয়ে গেলেন। যে কোন জেনারের ব্যান্ডের ইতিহাসে এটা একটা রেকর্ড হতে পারে। মাস্টেইন সহ এ পর্যন্ত ২০ জন মিউজিশিয়ান বাজিয়ে গেছেন মেগাডেথে। সে তুলনায় উল্লেখ করার মত কোন বৈচিত্র্য আসে নি ওদের কম্পোজিশনে। এর প্রধান এবং একমাত্র কারন মাস্টেইন নিজে। লিরিক থেকে শুরু করে কম্পোজিশনের সব জায়গাতেই তিনি তীব্র আপোষহীন থেকেছেন। এবং তা এতোটাই তীব্র যে বিভিন্ন সময়ে তা ব্যান্ডের অন্যান্য সদস্যদের জন্যে অসহনীয় হয়ে ওঠেছিলো। মেটালিকা থেকে বের করে দেওয়ার পেছনেও এরকম কারন ছিলো। সাথে উশৃঙ্খল জীবনযাপন এবং ড্রাগ বিষয়ক সমস্যা তো ছিলোই। তবে এটা হলফ করে বলা যায় যে, মেটালিকা ছেড়ে আসার সময়ে তার মনে যে ক্ষোভ জন্মেছিলো, মেগাডেথ ফর্ম করার পর তা তিনি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পেরেছিলেন। কারন অল্প কিছু দিনের মধ্যেই মেগাডেথ হেভি মেটাল কি থ্রাশ মেটাল মহলেও তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময়ের কোন পারমানেন্ট লাইনআপ ছাড়াই মেটালিকা, এনথ্রাক্স, স্লেয়ার এর সাথে এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায়। এটা থেকে মাস্টেইনে'র এক রোখা চরিত্র সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা মেলে।



মাস্টেইন নি:সন্দেহে একজন কিংবদন্তী, কিন্তু একই সাথে খুব খারাপ একজন ব্যান্ড মেম্বার, যিনি বিভিন্ন সময়ে নিজ খেয়াল খুশিতে লাইন আপে পরিবর্তন এনেছেন। কোন গ্রহনযোগ্য কারন দর্শানো ছাড়াই অন্যদের ছাঁটাই করেছেন। শুরুর দিকে অনেক খোঁজাখুঁজির করেও যখন ব্যান্ডের জন্যে কোন ভোকাল মিলছিলো না, তখন জেদের বশে নিজেই গাইতে বসলেন। মেটালিকা'র প্রতি আক্রোশটা তখনও মাথায় ছিলো। ভাগ্যিস তখন কেউ গাইতে রাজী হয় নি। নইলে আমি একজন প্রিয় ভোকাল হারাতাম। মাস্টেইনের গিটার প্লেয়িং এর চেয়ে ওর ডিফারেন্ট ভয়েসটা আমাকে বেশি আকর্ষণ করে। মাস্টারমাইন্ড, ড্রেড এন্ড দ্য ফিউজিটিভ মাইন্ড, দ্য হার্ডেস্ট পার্ট অব লেটিং গো...সিল্ড উইথ আ কিস্ সহ আরো অনেক গানই যতখানি না বাজানো তার'চে অন্যরকম ভোকালের জন্য ভালো লাগে।

মাস্টেইনের খামখেয়ালিপনার সাথে মেগাডেথের লাইন আপ চেন্জকে জড়িত করে অনেক কানকথা চালু আছে। একবারে শুরুর দিকে স্লেয়ারের কেরিকিং মেগাডেথের সাথে কয়েকটা লাইভে বাজিয়েছিলেন। কেরি স্টেজে উঠলেই নাকি দর্শক শ্রোতা "স্লেয়ার! স্লেয়ার" বলে উল্লসিত হতো। এতে মাস্টেইন ব্যাপক মন:ক্ষুন্ন হন এবং দেরি না করে তৎক্ষণাৎ কেরিকে বিদায় জানান।
গিটারিস্টদের মধ্যে একমাত্র মার্টি ফ্রিম্যানই দীর্ঘ দিন টিকেছিলেন। তাও মোটে নয় বছরের মত। একসময় মার্টি থ্র্যাশমেটালের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন এবং জাপানে পাড়ি জমান। মাস্টেইন বাধা দেননি। নিন্দুকেরা বলে মার্টি চলে যাওয়ায় তিনি মোটেও অখুশি হননি। বরং এবার মনের সুখে সোলো বাজানো যাবে - এই ভেবে নতুন উদ্যমে রিদমিস্ট খুঁজতে বেরোন। ২০০২ সালের দিকে মাস্টেইন বাম হাতে ইনজুরির কারন দেখিয়ে ব্যান্ড ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং বিশাল ভক্তকুলের চোখ ভিজিয়ে মেগাডেথ সত্যি সত্যি ভেঙেও যায়। এসময় ডেভিডেরও বিদায় ঘন্টা বাজে, যিনি একদম গোড়া থেকেই ব্যান্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন। এই বেসিস্ট/গিটারিস্ট জুটি এর আগ পর্যন্ত খুব জনপ্রিয় ছিলো। বছর খানেক পরে মাস্টেইন সুস্হ হয়ে উঠলে নতুন লাইন আপ দাঁড় করানোর পরিকল্পনা করেন। কিন্তু কিছু ব্যবসায়িক কারনে এবং লেবেলে'র চাপে পড়ে পুরনো নাম ঠিক রেখে অর্থাৎ মেগাডেথ নামেই নতুন এলবাম রিলিজ করেন। তখন আর পুরনো বন্ধু ডেভিডকে সাথে নেয়ার প্রয়োজন বোধ করেন নি। খানিকটা অনাহূতের মত এভাবেই মেগাডেথের দ্বিতীয় জীবন লাভ ঘটে।


নতুন এলবাম ডাউনলোড করা হয়ে গেলে সচরাচর যা হয়, সপ্তাহখানেক শুধু ওটাই শুনতে থাকি। একসময় কিছু ট্র্যাকের প্রতি আলাদা ভালো লাগা জন্মে যায়। এন্ডগেম - এ একটা রোমান্টিক গান আছে "দ্য হার্ডেস্ট পার্ট অব লেটিং গো...সিল্ড উইথ আ কিস" এই শিরোনামে। মেগাডেথ এর আগেও কিছু রোমান্টিক ট্র্যাক করে মেটাল ভক্তকুলের বিরাগ ভাজন হয়েছিলো। মেটাল মূলত: কিছুটা শিশুসুলভ ব্যাপার। এখানে কারুকাজ থাকে, বাজানোয় কিংবা গাওয়ায় ষোলআনা মুন্সিয়ানা থাকে। কিন্তু সামগ্রিক প্রকাশটা হয় উদ্দাম। উদ্দামতা কখনো গভীরতার প্রতিশব্দ হতে পারে না। আমার মতে রোমান্স একটা গভীর বিষয়। একারনে ধাতব ভক্তকুলে রোমান্সের খুব একটা কদর নেই। অথচ এবারের এলবামে এই গানটাই আমার সব'চে ভালো লেগেছে। বিভিন্ন কারসাজি করেও গানটা এখানে শোনানোর ব্যবস্হা করা গেলো না। চাইলে লিরিকটা মিলিয়ে নিতে পারেন।

Such a pretty face
Radiant, I saw you across the room
I knew I had to have you
Thus started the chase
I knew I would do anything to take your hand and make you mine
But I learned long ago
If you love someone you have to let it go
Let it go, Let it go
The hardest part of letting go is saying
Goodbye, Goodbye, Goodbye

Feathered away in a makeshift cell
Beneath the venemos moonlight
I unleash my plan to watch you fail
The one I am so proud
Go to sleep my love
And taste my sweet revenge upon your lips
Sealed with a kiss

(Solo)

I return to the masquerade ball
And hear the news of your weeping
Stone by stone imbued in the wall
Forever left for safekeeping
Go to sleep my love
And taste my sweet revenge upon your lips
Sealed with a kiss

But I learned long ago
If you love someone you have to let it go
Let it go, Let it go
The hardest part of letting go is saying
Goodbye, Goodbye, Goodbye
(Goodbye)
(Let it go)

এলবামের প্রথম ট্র্যাকটা একটা ইনস্ট্রুমেন্টাল - "ডায়ালেক্টিক কেয়স্"। কম্পোজিশনটা অসাধারণ। গিটারিস্ট হিসেবে এন্ডগেমে কাজ করেছেন ক্রিস ব্রডেরিখ। মেগাডেথের সাথে এটাই তার প্রথম কাজ। কিন্তু মাস্টেইনের সাথে ক'দিন টিকতে পারেন এটাই এখন দেখার বিষয়।
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/29032828 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/29032828 2009-10-27 16:46:36
অবশেষে তুমি এক সুপেয় সিগারেট অবশেষে তুমি এক সুপেয় সিগারেট





সমুদ্রচারী ডুবুরীরা নেমে দেখছেন স্নানের সঞ্চালন।

এবং তাহার নদীরূপ।

দেখছেন স্হাণুর মত স্হির জলরাশিতে মগ্ন মারমেইড।

রাতের রুমালে উড়ে গেছে যাদের সামুদ্রিক ঘুম। অন্য কোন নাবিকের কাছে।

প্রিয় পাপ মনে রেখে তুমিও যৌন হয়ে ওঠো এমন।

বেঁচে থাকো বহুদিন পতনের অবসাদে।

দ্যাখো টেবিল ঘড়ির কাঁটায় আমাদের সব যৌনতা লেখা আছে।

যার অবশেষে তুমি এক সুপেয় সিগারেট।

--------------------------------------------------------------------------------]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/29032549 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/29032549 2009-10-27 03:59:49
মৌনতা হনন মৌনতা হনন



বিমান বন্দরেরও একটা পরিমিতি আছে কোথাও।
নৌকো বিদ্যা সমেত মেখলা মরে গেলে
একদিন চোখে পড়ে যাবে সব

পাখিদের প্রতিলিপি

আমাদের জানা হবে
উড্ডয়নের সমস্ত কৌশল
শূন্য থেকে ততোধিক শূন্যে
বিপুল হয়ে উঠবে একেকটা মৌনতা হনন।

পতঙ্গ ঘুমের ক্যাম্পেইন তুমি।
রানওয়ে জুড়ে পড়ে থেকো পতঙ্গের মতন।

-----------------------------------------------------------------------------
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/29031454 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/29031454 2009-10-25 05:42:55
ড্রাফট থেকে নেয়া তোমার পক্ষে একটা শ্রেষ্ঠ কবিতা যোগ করা যায়



তোমার পক্ষে একটা শ্রেষ্ঠ কবিতা যোগ করা যায়।
বিমনা বর্ষায় আমার ভিজে যাওয়া কবিতার থেকে
তোমার চিহ্নেরা জমা থাকে বহুদিন।
বহুদিন তুমি লাল জলগামছায়
এক দুপুর ভেজা চুলে
জন্ম দিয়েছো এমন অজস্র চিহ্নের।
টবগাছে,
ফুলগাছে কিংবা
আমাদের এক চিলতে বারান্দায়
ওরা কেমন আস্পর্ধায় বেড়ে ওঠে।
ইদানীং আমার আপিসেও যেমন দেখেছি ওদের প্রভূত যাতায়াত।
সুরত আলীর শিকারী গোঁফের কিনারা বেয়ে
লিফটের আয়ানায়,
আমার অপরাহ্ণের কফিমগে,
এমনকী আখলাক সাহেবের নিপাট টাইয়ের কালারেও আমি তোমাকে চিহ্নিত করি
প্রচুর অনায়াসে।
আমি চিহ্নে চিহ্নে তোমার আঙ্গিক দেখি।
কবিতার খাতায় নভেরার মা নামে গোপন লিখে রাখি।
তোমাকে ভাবার সময়েরা চলে গেলেও, একদিন
এইসব পেলবতার পলি জমে থাকে।
আমার কেবলই মনে হতে থাকে -

তোমার পক্ষে একটা শ্রেষ্ঠ কবিতা যোগ করা যায়।


বিমনা বর্ষায়....


--------------------------------------------------------------------------------

সমুদ্রে গেলে তার ব্যাপারে কথা হয়



সমুদ্রে গেলে তার ব্যাপারে কথা হয়।
হেলানো বেতের চেয়ারে বসে
আমরা যূথবদ্ধভাবে তাকে মনে করি।
তখন আমাদের মধ্যেই কেউ একজন বলে ওঠে -
"সে ছিলো মূলত: একটা শামুক।"
কেউ বলেছিলো, একটা ইটালিয়ান ছবি।
আবার এমনও শোনা গেছে
স্কচের ঐ বোতলটার মত
সে ছিলো অনেক নি:সন্তান।
পৃথিবীর অধিকাংশ রাতের যৌবনে
সেও এক আশ্চর্য মেঘ ছিলো এমন।
অথচ সেই সূত্রে সমুদ্রে গেলেই
আমাদের তার কথা মনে পড়ে।
ঠান্ডা শীতের রাতগুলোতে
আমরা যাকে কখনোই পাইনি পানীয় বাটোয়ারায়,
কফিন ভর্তি করে সমস্ত হিম নিয়ে
যে চলে গেছে যোজন দূরে,
আজ এই নীহার - নীহার আবহাওয়ায়
সে ক্রমাগত আমাদের বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে।

--------------------------------------------------------------------------------

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/29026740 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/29026740 2009-10-16 14:08:35
আঙুলে অসুখ আঙুলে অসুখ



অতি নিকটের মৃত সংবাদেও
আমি আজ কুশল বিনিময় করছি।
নির্মোহে দেখছি
বাড়ি ভর্তি সব লোকজন।
বিভিন্ন ভাবে যারা আজ
খুব বিষণ্ন হয়ে উঠেছে।
মুখপাত্র হয়ে উঠেছে
একেকটা শোকের।

কিংবা শবের।

সে তুলনায় আমার কোন ছায়া নেই আজ।
নেই কোন ভঙ্গিমা উল্লেখিত বিষাদের।
আমার কেবলই মনে হতে থাকে
একটা আঙুল ও অসুখের কথা।
নখেদের ঘর বাড়ি রোদে
হারানো গিয়েছে যে মসৃণতা,
সেখানে খুন হলো যেন
বিপুল শোক প্রবণতা।
----------------------------------------]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/29019004 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/29019004 2009-10-02 03:26:13
নৌভ্রমণ নৌভ্রমণ





মুখবই জুড়ে গঠিত হয়েছে

সহস্র ঘুম

কিটারোর মৌন অবসাদ

আমাকে জড়িত করে তোলে

প্রিয় মুখে

পাখির মত রাতে

বিশ্রাম খোঁজে

মৃতচোখ

রচিত করে

ঘুমের নৌভ্রমণ!

------------------------------------------------------------------------



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/29007906 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/29007906 2009-09-10 10:06:14
আমি বিষাদ দেখেছি এমন মনলোভা নীল আমি বিষাদ দেখেছি এমন মনলোভা নীল





আমি বিষাদ দেখেছি
এমন মনলোভা নীল।
যদিও সেদিন তুমি হেসেছিলে প্রচুর।
সেই সোমবার বর্ষায়
অনন্য নীলক্ষেতে
মুখে আর অবয়বে
কি ভীষণ অবগত ছিলে তুমি।
একটা বিষাদের মেঘ সম্পর্কে
ট্রাফিকের শহর যখন বেলুন গাড়িতে চাপে
অনেক মেদুর হতে চেয়েও আমাদের
জানা ছিলো না কোন বিস্তারিত ঘুম।
ফলে তোমার সমস্ত গহন জুড়ে
আমি শুধু বিষাদ ধারণা করি।


জলকেলি।

----------------------------------------------------

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/29004331 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/29004331 2009-09-04 01:55:48
The Three Bushes আপাত ম্রিয়মাণ থেকেও
হাওয়ার বেগে চলে গেছে
নিদ্রাবাহী ম্যাটাডর।
ফলে গোলাপের আশা করে
কেউ মিলিত হচ্ছে না আর।
চোখের সংকেতে জাগছে না
কোন বিশেষ ঘুমের লেপন।
পাহাড়ের মত নির্ঘুম কেটে যাচ্ছে
একেকটি বিশ্বস্ত রাত!

নদীপথে পানসি আসবে জেনেও হায়
আমাদের রাতগুলো আর ঘুমন্ত হচ্ছে না মোটেই।
------------------------------------------

২.
রোদ সম্পন্ন কেবিন থেকে সমুদ্র দেখা যায়।
চিলপাখির নখে হেলে পড়া পোর্সিলিন
দুপুরের জাহাজে বয়ে আনে সঙ্গীত
আরো দূরবর্তী বন্দরে
যেন আমিও শুনেছি কত
এই হাওয়ার বায়েন
কোন এক উত্তুরে বাতাসে
আমার চুল থেকে বিষাদেরা খসে পড়ে
ঢেউয়ের মত এসে যারা
পুনরায় জড়ো হল পায়ে
খুব উত্তাপের খাতিরে ওরা
আজ ভেসে গেলো না কেউই।
-------------------------



৩.
প্রিয় পাপ মনে থাকতেই
এসো গহীন গোলাপ হই
বাগানের পথে মৃত চোখ হই সমূহ চুম্বনে
আমাদের স্পর্শেরা জমা থাক রূপসী দরজায়
দেখো আহত পাখির পালক
দাগ রেখে গেছে কারো ময়ূর বিষাদে
এই মাংস মুখ্য বেডরুমে
প্রজাপতি মরে গেলেই
এসো পায়ে পায়ে জলীয় হই।
-------------------------

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28998534 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28998534 2009-08-23 16:25:03
আমাদের জানলার পাশে একটা আকাশ ঢাকার তোড়জোড় চলছে



আমাদের জানলার পাশে
একটা আকাশ ঢাকার তোড়জোড় চলছে।
সেখানে অবিরাম বেড়ে উঠেছে দালান।
সশব্দ নির্মাণ কাজ।
পাখিদের মৌনতা ভেঙে দিয়ে
শ্রমিকের আনাগোনা।

দ্যাখো, সবদিক কেমন মুখর মুখর!

ভাবছি ভোরগুলোকে নিয়ে।
প্রায় পাথর হবার আশঙ্কায়
দাগ ফেলছি রোজ কপালে,
টেবিলে, কবিতার খেরোখাতায়।

জানি এই শীতে রোদ পড়বে না আর।
পড়ন্ত বিকেলে চশমার ছায়া দীর্ঘ হবে না মোটেই ।
উড়ে আসবে না কোন বিশেষ বাতাস কোন বিশেষ বসন্তের।

নারিকেলের পাতায় ইদানীং মন বসছে না আর।
অন্তত: কিছু একটা লিখবার আগে
আগেকার মত....

দ্যাখো আকাশটাও কেমন তাকিয়ে আছে নুয়ে!

-----------------------------------------------------------------]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28996262 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28996262 2009-08-19 08:32:46
খুব রোদ খুব রোদ



শহরে খুব রোদ।
রোদের দরুন গলে গেছে বিলবোর্ড
প্রসাধনের বিজ্ঞাপন।

সচরাচর ভিড় নেই তেমন
চত্বরে কিংবা খোলা ময়দানে
চিমনির মত ঋজু দাঁড়িয়ে থাকে ফ্ল্যাটবাড়িগুলো
দেখো ফুটন্ত ফুটপাথ।

আর এইসব আসন্ন দুপুরে
সকলে কেমন চুপচাপ
রোদবন্দী হয়ে থাকে শুধু

গলনের আশঙ্কায়
গোলাপী ছাতার যুবতীরা।
মসৃণ ভ্রু বেয়ে যাদের
বয়ে গেছে তাপের নদী।
এইসব প্রখর রৌদ্রে।

----------------------------------------------------------------------------]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28988022 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28988022 2009-08-03 07:45:41
পতঙ্গেরা উড়ে আসুক এই প্রবণতায় পতঙ্গেরা উড়ে আসুক এই প্রবণতায়



পতঙ্গেরা উড়ে আসুক
এই প্রবণতায়
ঘুমহীন কেটে গেছে
আমাদের লীন রাত
দেয়ালে মথের মুখ
দেখা হবে জেনে
দারুণ জেগেছে আজ
এই ব্যালকনি-মনস্কতায়
তুমি তো প্রণয়প্রার্থী মথ
ডানার বিলাপে আদর চেয়েছো
বামন নক্ষত্রের কাছে
দেখোনি নিপাট
মৃতদের উদাহরণ
দেখোনি গৃহত্যাগী প্রসঙ্গে
আমিও কেমন
যুগপৎ শুয়েছিলাম
নীল টাইলস্ এর মত ফ্লোরে।


পতঙ্গের পাহাড়ে!

---------------------------------------------------------------------------]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28967169 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28967169 2009-06-20 18:17:21
জুনের চিঠি জুনের চিঠি




একটা চিঠি আসবে এবার
নিকট ডাকবাক্সে
যার ভেজা খামে জমা
সব অফুরান বর্ষা
আমাদের শীতল বিষাদ
স্কুলপথে আকাশ দ্যাখেনি বলে
অভিযোগ ছিলো মলিন মুখে
যখন থামেনি কোন মেঘ
চার্চের চুড়োয়
বিভিন্ন বন্দর হতে এসে
এইখানে নমিত হয়েছে এমন
দীঘল ডানা ভেঙে

তারই পালক পেয়েছি আমি
স্খলনের বহু আগে
ছাতাসহ আটক হলো যেবার
নিখিলের মেয়ে
কলেজের পথে যেতে
তিমিত বর্ষায়
ফলে আমিও জেনে গেছি ঠিক
কোন্ চিঠি আসবে এবার
আমাদের নিকট ডাকবাক্সে

অন্তত নিখিলের নামে।

--------------------------------------------------------------------------------]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28963488 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28963488 2009-06-12 01:44:41
প্রাচীন দেরাজের কোণ প্রাচীন দেরাজের কোণ




কলমটা খুঁজে পেলাম না আর
এখানে ওখানে
ন্যাপথালিন উড়ে উড়ে
দেখি শুধু প্রাচীন দেরাজের কোণ পড়ে আছে।
কপিকল বেয়ে উঠে আসে
ফ্যামিলি এ্যালবাম
হেডিং সমেত বিগত মুখ
বিগত চোখ
বিগত খোলাবাজার!
প্রেমালাপের পত্রিকায়
চুপসানো মলম হায়।
পড়ে আছে সেই কবেকার।
পড়ে আছে এখনো আধ খাওয়া।
পড়ে আছে বিষণ্ন সিগারেট।
যেন যাদুকর ফেলে গেছে
ভুল গ্রিনরুমে
মলিন নোটবুক তার
বিবিধ ম্যাজিক বিষয়
পড়ে আছে এমন বিস্তর সরঞ্জামে।
কিন্তু কলমটা খুঁজে পেলাম না আর
এখানে ওখানে

প্রাচীন দেরাজের কোণে।

-------------------------------------------------------------------------------]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28962561 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28962561 2009-06-10 02:25:15
পরমা' র অডিশন পরমা' র অডিশন




এক চোখে গ্রহণ নামে
আর চোখে অন্ধকার
তবু নখর দেখেছি দারুণ!

কুচযুগে।

তাই জরুরী মুহূর্তেই ভুলে গেছি সব
যা কিছু
মনে
ছিলো
ছিলো উইকএন্ডের শিডিউলে
বিনম্র পোলভল্ট লক্ষ্য করে
হোটেলওয়ালি হেঁটে হেঁটে আসে

এবং ঠোঁট নাড়ে
অথবা নড়ে।

মথিত প্রসঙ্গে সে শাড়ি খুলে ফ্যালে
বুক খুলে দেখিয়ে দেয় চাপা নিকেল পরন।
দেখেছি আঁইশের সিনেট সেইখানে
প্রতি রোববারে
তার নাভিমূলে যারা যারা জিভ চেটে গেছে।
আমিও যে শোভনীয় নই তেমন
পরমার পিঠজুড়ে
ডিম লাইটের আলোয় অ-সাবধান হতে গিয়ে
বলে ফেলেছি বারবার-
"আজ তাহলে আসি?"


---------------------------------------------------------------------------------
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28960039 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28960039 2009-06-04 13:49:41
প্রফেসরের চোখ প্রফেসরের চোখ




এখানে নিলাম হবে চোখের
যদিওবা মামুলি ধরনের
এক বেলেল্লা প্রফেসরের চোখ
অডিটরের মুখে জানা গেলো তাঁর পত্নী প্রসঙ্গে

যিনি কিনা প্রচুর রূপসী ছিলেন বটে
বিহারী বিমান থেকে চুরি হবার আগে

এশিয়ার পথ ভুলে ছিলো যেবার
নহর দেশের বিমানবালা
এবং দোহারা গড়ন ছিলো যার
ঠিক তরুণীর মতন!

খুবলিয়ে তুলেছে সে চোখ
নিব্ পেন্সিলে
নভেলের চাপায় আজ মরে গ্যাছে সে
প্রফেসরের বেডরুমে


-------------------------------------------------------------------------------

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28957682 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28957682 2009-05-30 02:44:18
বায়োস্কোপ বায়োস্কোপ




কৃষ্ণচূড়ায় ছেয়ে গেছে রাজপথ
পানশালা মোড়।
ফুটেছে এমন জুয়েলারির মতন!
বিস্তর মথিত হয়ে
তাই আজ চোখ দেইনি
কোন শহরের ম্যাপে
গাছে গাছে লাল রঙ
ভরাট হয়ে এলে
রুটের বাস ফেলে
হেঁটে গেছি নির্লিপ্ত

একা।

বিষন্ন হকার যখন
ডেকেছিলো অফিস পাড়ায়
চালশের লোকেরা
দেখেনি কিছুই
মাড়িয়ে চলে গেছে

মার্বেল।

লাল রোশনাই।




---------------------------------------------------------------------------------]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28956292 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28956292 2009-05-27 01:36:15
ওয়েনব্রেনারের জুতো ওয়েনব্রেনারের জুতো






কত আর? এই ধরেন, মাস ছ'য়েক হবে আমরা একসাথে আছি।
তুমুল বর্ষার তারিখে দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের মতন।
আমরা প্রায়ই হেঁটে গেছি এই পার্কের পথ ধরে।
এই সেদিনও অনেক গড়িমসি করে নামা একটা বিকেলের বেঞ্চিতে বসে আমি ভাবছিলাম এইসব। ভাবছিলাম বিভিন্ন শতাংশ, বিভিন্ন প্রাইজ ট্যাগ, কোন চেনামুখ স্টোর।
হয়তো ভাবছিলাম আরো অনেক কিছুই।
অথচ এসময়ে আমি কেমন অমলিন ভুলে থেকেছি একটা ভ্যাটযুক্ত সম্পর্কের কথা।
কুয়াশার মাসগুলোতেও যারা যথেষ্ট উষ্ণতা পায়নি আমার সেল্ফের কোণে,
ভেতরের দরজায় কিংবা সংলগ্ন পাপোশে, যারা নিয়মিত ভিজে গেছে বিভিন্ন স্নানঘরে।
তবে মাস ছ'য়েকে অনেক বদলেছি আমি। বদলেছে আমার দু্ই পাটি জুতোও।
ওরাও যেমন জেনে গেছে আমার যাবতীয় অক্ষাংশ দ্রাঘিমাংশ।
নিবিড় জড়িত হয়ে গেছে আমার প্রতিটি পর্যটনে।


-------------------------------------------------------------------
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28954863 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28954863 2009-05-24 05:29:46
বোর্ডপিন ও সুরেশের গল্প বোর্ডপিন ও সুরেশের গল্প





এই গেল রোববারেই শুনছি আবার অবরোধ ছিলো।
শহর ছিলো সচেতন।
একটুও হাসেনি এমন সারাবেলা।
দেখেছি অফিসপাড়াতেও আসে নি তেমন কেউই।
সুরেশের ছেলেটি যেমন এসেছিলো গত জুনে।
সুরেশের সাথে।
রিডাকশনে কেনা জুতো পায়ে হেঁটেছিলো এদিক ওদিক।
পেতেছিলো কান আমার টেবিলের পায়ায়,
অফিসের দেয়ালে আর সব গোছানো ফোল্ডারে।
খেলতে খেলতে কখন যে পেটে পুরেছিলো দু'য়েকটা বোর্ডপিন।
বুঝে উঠতেই সরে গেলো আমাদের সব পরিপাটি রোদ।
মৃত ঘোষনার।

যদ্দুর মনে পড়ে, সেই সুরেশের আর ছেলেপুলে হয় নি কোন।
কিংবা হলেও যথেষ্ট বাঁচেনি ওরা কেউই।
আমি ও আমার বোর্ডপিনগুলো যখন বেঁচে ছিলাম এক গাদা হেমন্তের ভোরে।
এই গেল রোববারেই যেমন হেঁটে গেছি প্রচুর মহাদেশে।
টেবিল থেকে টেবিলে বরাদ্দ ছিল আমাদের অখন্ড অবসর।

-----------------------------------------------------------------------------






]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28951003 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28951003 2009-05-15 04:52:18
টিভি অভিনেত্রীর প্রতি টিভি অভিনেত্রীর প্রতি





আজকের দিনে আর কারুরই জানতে বাকি নেই যে,
আমি খুব দুর্মরভাবেই তোমাকে চেয়েছিলাম।

সমস্ত টং এর দোকান, তাদের অলস খদ্দের
কিংবা স্টপেজের চৌকস টিকেট বিক্রেতা অব্দি জেনে গেছে
তোমার লিনেনের মত শাড়ি।
প্রচ্ছদের দিনগুলোতে তোমার লিপস্টিকের রঙ।
আর সব শাখা প্রশাখার মত।
এমনকী তোমার নীল টিপ শিখে গেছে ওরা!
দেখেছে হেমন্তের ভোরে অফিসগামী লোকগুলোকে।
ফি বছর কেমন উচ্ছন্নে গেছে হেসে হেসে।
আরো দূরাগত মারসিয়ায়,
যাকে বলা যায় সমগ্রভাবে শুধু তোমার চোখ ভেবে
ভুলে বসেছে দু'য়েকটা মহাসমুদ্রের মত জল রাশি।

তুমি কি তখনো হয়ে ওঠো নি?
এমন পর্যাপ্ত সেলুলয়েড!

---------------------------------------------------------------------------]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28948266 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28948266 2009-05-09 05:17:50
বৃষ্টির ট্রাফিকে টিউশনি বৃষ্টির ট্রাফিকে টিউশনি




তাৎক্ষণিকভাবে বৃষ্টিতে ভেজার কোন প্ল্যান ছিলো না।
বিশেষত এমন ব্যবস্হাপনায়
যখন খুব মিইয়ে গেছে আমার ছাত্রীর মুখ।
বিপুল মিনিটে ক্রমেই দেরি করে ফেলছি আমি
এই পালিশের দোকানে।

সেতু নির্মাণে জড়িত
একজন পরামর্শক জানাচ্ছেন-

এবার মিনারে মাতম হবে।
অতএব,
না ভিজে যাবেন কোথায়?
মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী এবার জাতিকে কিছু চমক দিয়েছেন বটে।
যারা নাকি প্রত্যেকেই
দিকাক্ষের মত আশাজাগানিয়া
এবং
যথেষ্ট মেঘমেদুর।


---------------------------------------------------------------------------
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28948238 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28948238 2009-05-09 02:10:34
রেণু বিষয়ে রেণু বিষয়ে




বিগত দশকেও রেণু এরকমই ছিলো।
ঘুম ভোরে উঠে গিয়ে কেমন একটা বিষাদে যুক্ত হতো।
আমি বিছানায় শুয়ে শুয়ে তার অবারিত টুং টাং শুনতাম।
শুনতাম কিচেন থেকে আসা জল পড়ার শব্দ।
ধোঁয়া ওঠা কেটলি আর কাপের শব্দ।

আমি তখন দু'কানে বালিশ চেপেও সহস্র চুড়ির শব্দ পেতাম।
এখনো যেমন আমার সমস্ত দেয়াল জুড়ে থাকে মৃত প্রজাপতির দল।
এবং গ্রথনে ওদের পৃথিবীর রোদ।
জানালার গ্রিল বেয়ে গোপনে নেমে আসে যখন
রেণুর আলনায়,
ড্রেসিং টেবিলে
কিংবা
খুব এটিকেট মানা শুধু ঘুমের চাদরে।

অথচ তারপর থেকে তেমন কিছুই ঘটে নি রেণু বিষয়ে।
এমনকি বিগত দশকেও রেণু এরকমই ছিলো।
ডাইনিং টেবিলের ভোরে আমার অপেক্ষায় থেকে থেকে
যথেষ্ট বিষণ্ন একটা অমলেট হাতে।


-----------------------------------------------------------------------]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28947027 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28947027 2009-05-06 12:16:57
অনুমোদিত রিসেপশনিস্টের সাথে হোটেল লবিতে অনুমোদিত রিসেপশনিস্টের সাথে হোটেল লবিতে




চোখ চলে যায় পৃথিবীর শেষ দরজায়।


উড়ন্ত চাবির সহিস হয়ে
যখন প্রমেহ জেগেছিলো মনে।
রিসেপশনিস্ট মেয়েটির গহীন ক্লিভেজে।

দেখা গেলো বহু চাঁদ
ঝুলে আছে অবসরে
একটা অনুমোদিত দূরত্ব রেখে
খুব শুনশান হোটেল লবিতে।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28944263 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28944263 2009-04-29 21:28:35
বিষাদ যাপন কেন্দ্র বিষাদ যাপন কেন্দ্র




বসে আছি পার্কের নির্জনতম বেঞ্চিতে।
মুঠো ভরে নিয়ে তোমার সমস্ত পেলবতা
ক্রমশ: দূরবর্তী হই লেকের জলে ভেসে ভেসে।

যেন বহুকাল আগে
এখানেই হয়েছিলো ছিনতাই।
পায়রার পালকে গেঁথে
এইখানে এই লেকের তীরে
এসেছিলো যারা বিষাদ যাপনে।

পাপের আকাশ ফুঁড়ে উড়ে গেছে ওদের রকেট
পার্কের সব ত্বরণ ভুলে গিয়ে
আরো দীঘল কোন বেঞ্চির খোঁজে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28944261 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28944261 2009-04-29 21:16:14
"পি-কক" সন্ধ্যায় "পি-কক" সন্ধ্যায়




একজন ওয়েটার এসে
ভুলিয়ে দিচ্ছে বারবার।
কটাক্ষে দেখছে
এবং বলছে-
কোন কয়েনই অবশিষ্ট নেই আর।

কোন কয়েনই অবশিষ্ট নেই আর
আমাদের টেবিলে।

টেবিল সংলগ্ন ক্লথে।

ক্রমশ: গভীরমান এমটিভির পর্দা জুড়ে
একজন গ্রাফিক্যাল ভিজের সমস্ত সুহাসে।

অথচ কি এক গুহ্যকের মত
শুধু একটা গ্লাস আঁকড়ে পড়েছিলাম আমি।
যেন অদূরে কোন শেরাটনের শহর থেকে
নেমে এসেছিলো ওরা।
এসেছিলো আমারই টেবিলের ক্লথে।
ঘুম ও ঘোর মদিরে
একদিন ভিজেছিলো কত বিস্তর।
বুনোট ফেলে রেখে
এসেছিলো সব।

মদ্যপ সুদূর!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28943847 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28943847 2009-04-28 23:19:06
ঋতুগত বিপণন ঋতুগত বিপণন


মৌসুমি বাতাসে চেপে
এসেছিলো গোধূলির বাস।
দূর-পাল্লার।

ফেলে এসে ভুল পথে
তাহার সমস্ত তেল তৈজস
পেতেছিলো কি অপরূপ! এইখানে।
এমন বৈশাখের রাতে।


বিষাদের ঘুড়ি কেটে কেটে
যারা হেসেছিলো অমলিন।

হয়তো আমিও মুখর ছিলাম তখন
ওই সব তীব্র রোদের মত তারিখে।


হাওয়ায় হাওয়ায় অবারণ পুলকে
দেখা হয়েছিলো আমাদের।

প্রচুর সমরে।

ঋতুজ অবসাদের এই প্রখর জ্বরে।








]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28943745 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28943745 2009-04-28 19:34:45
ইজি চেয়ারে ইজি চেয়ারে





জানা গেল না

কি ছিলো ফার্ণের পাতাদের মনে?
সমস্ত বারান্দা ও তাহার গ্রিল জুড়ে।

পয়মন্ত প্রদোষে।


তবুও শেষ সম্পাদকীয়তে
লেখা ছিলো আমার সব অসুখের কথা।
প্রতিটি পিক্সেলে পিক্সেলে
ফুটেছিলো সুদক্ষিণ।
মৃদু দ্রাঘিমা রেখায়।


এমন অ-সময়ে
কেউ চায়ের কাপ হাতে হেঁটে এলে
আমি একে একে লুকিয়ে ফেলি
আমার সকল গোলার্ধ।

পর্ণমোচী বহুবিধ বিকেল।









]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28938298 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28938298 2009-04-15 08:20:05
জনৈকা রিকশাযাত্রীর চোখ ভেবে ভেবে জনৈকা রিকশাযাত্রীর চোখ ভেবে ভেবে




সিনেমা হলের সবগুলো চৌকসগ্রন্থি মিলে
আজকাল কোন বিষাদ লিখে রাখেনি।
হোটেল নীলিমা (আবাসিক) এর দক্ষিণমুখী জানলা থেকে
উদগ্র নেমে আসেনি কোন রাত্রিকালীন চুপিসার।
সমস্ত নীল হয়ে ওঠে নি এখনো; এই গহীন সেগুনবাগিচায়।
আমি তবু ঊন মূক বসে থেকেছি বহুকাল
তাহার বিস্তৃত যানজটে।
গনপূর্ত অধিদপ্তরের সমস্ত গা জুড়ে
স্টাফবাসটা যখন ঘাই মারছিলো বিকট।
আমি খুব অপলক দেখে নিয়েছিলাম
এক জোড়া বিপরীতগামী চোখ।
বহুদূর সিগন্যাল ফেলে এসেও
যারা মৃতবৎ লেপ্টে ছিলো
আমারই বুক পকেটের ভাঁজে ।
মূলত: তখনই মনে পড়ে এইসব এপ্রিলের পূর্ণিমায়
একদিন মুখ গুঁজে শুনেছিলাম কত বিস্তর পরকুপাইন!







]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28936481 http://www.somewhereinblog.net/blog/ghum_ghum_classroom/28936481 2009-04-11 06:31:23