কিছু অনুভব সকলের...

০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:২৭

শেয়ার করুন:                   Facebook

আমাদের নিউজ রুমটা ৯তলায়। কাচের দেয়াল। তাকালেই অদ্ভুত দৃশ্য। ব্যস্ত সড়কটা যেন ঠিক পায়ের নিচে। নিচের দিকে তাকালে রাজধানীর জনারণ্য চোখে পড়ে। অনেক উপর থেকে দেখা বলে গাড়ির জট, কারো সবল, ভয়ের পায়ে কারো রাস্তা পেরুনো, ট্রাফিক পুলিশদের কারিশমাও সুন্দর লাগে। প্রায়ই দেখি, কাজের অবসরে আমার সহকর্মীদের কেউ কেউ ওই কাচের দেয়াল দিয়ে ভাবুক চোখে বাইরের বিশ^ দেখছেন।
ওদিকেই দেশের সবচেয়ে বড় শপিং মল বসুন্ধরা সিটি। ঈদ মৌসুমে ব্যাপক মানুষের আগাগোনা চলছিল। হঠাৎ হঠাৎ আমাদের চোখ চলে যায় ওদিকে, আমরা খানিক দেখি আবার কাজে ডুবি।
ঈদের আগে আগে, ওরকম একদিন আমার সহকর্মী সাজেদা বাইরে দেখতে দেখতে হঠাৎ বলল, দেখেন দেখেন...!
দেখলাম। বাবার হাত ধরে ভীরু ও ত্রস্ত পায়ে গাড়ির ফাঁক-ফোকড় গলে রাস্তা পেরুচ্ছে এক কিশোরী। ঈদের কেনাকাটার প্যাকেট কতগুলো বাবা পরম মমতায় ধরে আছেন মেয়ের হাত। বাবার হাত- পৃথিবীর সবচেয়ে নির্ভরতার হাত।
সাজেদা বলল, এ রকম দেখলে মনে হয় কী জানেন, আমার বাবা আসবে। বাবা এসে জিজ্ঞেস করবে, ঈদে কি নিবি, মা?
আমি বললাম, তোমার বাবা কবে আসবেন?
ও দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, 'গত বছর বাবা মারা গেছেন। আর আসবেন না।' বলে ও চুপ করে গেল।
আমিও চুপ হয়ে গেলাম। বুকের ভিতর হু হু করে উঠল। আমার আব্বা চলে গেছেন সেই '৮৫ সালে। শিপলুর বাবা-মা দুজনই তো নেই। আমার আব্বার মুখ ভেসে ওঠল মনে। বুকে ভারী চাপ...।

দূর্গা পুজা শুরু হয়েছে আজ। আরেক সহকর্মী রাখী সাহা পুজার ওপর ওর স্ক্রিপ্ট দেখাতে এসেছে। বললাম, কি বাবা-মা পুজার নাড়–-মুড়ি পাঠায়নি বাবা-মা? খাওয়াবা না?
ও বলল, মা আমার সাথে থাকেন। আর বাবা তো নেই।
আমি আবার চুপ হয়ে গেলাম। বুকের ভিতরে ভারী চাপ...।

 

 

  • ২০ টি মন্তব্য
  • ১৬১ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৭ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:৪৮
comment by: মেঘ বলেছেন: দাদা, বাবা মা যার আছে সেই জানে সে কত লাকি।
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:১২

লেখক বলেছেন: দিদি, সেটা জানলে তো ভালোই। কিন্তু মর্মান্তিক হলো, দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা অনেকেই বোঝে না।

২. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:০২
comment by: ভোরের তারা বলেছেন: আমার আব্বাও চলে গেছেন গত বছরের জুলাইতে।সবার বাবা যেন ভাল থাকেন এই দোয়া করি।
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০০

লেখক বলেছেন: আপনার আব্বার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।
যে পারেই থাকুন, সবার বাবা ভালো থাকুন- এই দোয়া।

৩. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:০৯
comment by: প্রতিফলন বলেছেন: চোখ ভিজে উঠার মতো লেখা। ভাল থাকবেন।
০৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:৫৩

লেখক বলেছেন: আপনিও ভালো থাকবেন প্রিয় প্রতিফলন।

৪. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:১৩
comment by: মেসবাহ য়াযাদ বলেছেন: এ সব মরা মরির গল্প শুনতে ভালো লাগে না !
মা ৮৮ তে আর বাবা ২০০১ সালে...
সেই থেকেই কষ্ট...অনেক কষ্ট।
ছেলেটাকে আঁকড়ে ধরে ভুলে যেতে চেষ্টা করি-
প্রিয়জন হারানোর কষ্ট...

সকল বিদায় নেয়া মা-বাবার আত্নার শান্তি হোক ।
০৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:৫২

লেখক বলেছেন: যে পারেই থাকুন, সবার বাবা- মা ভালো থাকুন- এই দোয়া।

৫. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:১৪
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: যাদের বাবা মা অনেক অনেক দূরে !
০৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:৩০

লেখক বলেছেন: যাদের বাবা-মা অনেক দূরে, তারাই বুঝবেন এ বেদনা...

৬. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১০
comment by: নুশেরা বলেছেন: মাথার ওপরের ছাদ না পায়ের তলার মাটি কোনটা যেন সরে যেতে থাকে এমন মনে হলেই...
ভাল থাকবেন, গিয়াস ভাই। শারদীয় শুভেচ্ছা আপনাদের সবাইকে।
০৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:৩২

লেখক বলেছেন: শারদীয়া শুভেচ্ছা তোমাকে।
অপনি মামণির জন্য আদর। কেমন আছে বুড়িটা?

৭. ০৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:০৯
comment by: আহমেদ হেলাল ছোটন বলেছেন: বাবা মা এর অবস্থান অনেকটা বুঝতে পেরেছি নিজে বাবা হবার পর।
সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ
০৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:১০

লেখক বলেছেন: একজন নতুন বাবাকে অভিনন্দন। ধন্যবাদ আপনাকে ছোটন।

৮. ০৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:১২
comment by: সুরভিছায়া বলেছেন: কেমন মন ছুয়েঁ যাওয়া লেখা , অনেক ধন্যবাদ।
০৯ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:৩০

লেখক বলেছেন: আপনার ছোট্ট মন্তব্যও মন ছুঁয়ে গেছে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকেও।

৯. ০৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৩
comment by: অপ্‌সরা বলেছেন: কাটেনা সময় যখন আর কিছুতে
বন্ধুর টেলিফোনে মন বসেনা-
জানালার গ্রীলটাতে ঠেকাই মাথা
মনে হয় বাবার মত কেউ বলেনা
আয় খুকু আয়----------
০৯ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:৩২

লেখক বলেছেন: ...তাঁর মতো কেউ বলে না, আয় খুকু আয়...

১০. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৯
comment by: তপন বাগচী বলেছেন: আমার মা-বাবা দুজনেই আছেন। তাই কষ্টের পুরোটা ভার অনুভব করি না। আমার দাদা মারা গেছেন ১০৮ বছর বয়সে গত বছর। কিন্তু দাদিকে (ঠাকুমরমা) আমি চোখে দেখি নাই। আমার জন্মের একমাস মারা গেছেন। নানা-নানি ছিল। তারাও চলে গেছেনগতবছর। আমার মামাও গেছেন কাছাকাছি সময়ে। আমার দাদা-নানা-নানি-মামা মারা গেছেন একবছর সময়ের মধ্যে। তখন বুঝেছি কষ্টের স্বাদ কেমন? বাবা-মায়ের অনুপস্থিতির কথা ভাবতেই পারি না!
১১. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৯:১৮
comment by: গিয়াস আহমেদ বলেছেন: দাদা, আপনি অনেক ভাগ্যবান। আপনার বাবা-মা দুজনেই আছেন।
আমার বাবা চলে গেছেন সেই '৮৬ সালে। এখনো কী যে কষ্ট... দাদা!

 



 


সাংবাদিকতা করি।
আড্ডা, বন্ধুতা আর ঘোরাঘুরিটা দারুণ প্রিয়। এই তো আমি...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৪৬০৫