আমার প্রিয় পোস্ট

নর্দমার রাত, হিরন্ময় তাঁত

পার্বত্য চট্টগ্রাম: কান্না যেমন করে রক্তের রূপ পরিগ্রহ করে

১০ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৩:৫৪

শেয়ারঃ
0 17 0

০১.
পাহাড়ি আদিবাসীদের কান্নায় যে উপত্যকা একদিন হ্রদে পরিণত হয়েছিলো তা ক্রমশ পাহাড়িদের রক্তেই পাল্টে নিচ্ছে দেহের রঙ।
আমার অনেক পাহাড়ি বন্ধুদের কাছে শুনেছি তাদের কথা; শুনেছি বাঙালি সেটেলার আর সেনাবাহিনি মিলে কেমন করে তাদের উপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। শুনেছি কীভাবে রাতের অন্ধকারে পাহাড়ি মেয়েদের সেনাবাহিনি অথবা সেটেলাররা ধরে নিয়ে ধর্ষণ করে ছেড়ে দেয় কিংবা খুন করে লাশ গুম করে সেই কথা।
সশরীরে পার্বত্য চট্টগ্রামের গহিন এলাকায় গিয়েছি তাদের সাথে কথা বলেছি। পড়ে যতোটা না জেনেছি তাদের সাথে কথা বলে উপলব্ধি করেছি ঢের বেশি।
এইখানে বাঙালি সেটেলাররা চিরদিন ব্যবহৃত হয়েছে রাষ্ট্রযন্ত্রের ঘৃণ্য স্বার্থে।

০২.
১৯৯৯ সনের ৪ এপ্রিল বাঙালি সেটেলারদের হামলায় ৫১ জন পাহাড়ি আহত ও একজন পাহাড়ি নারী ধর্ষিত হয়েছিলেন।
২০০৬ সালে গঙ্গারামমুখ এলাকায় ৩২টি বাঙালি সেটেলার পরিবারকে বসতি স্থাপনের জন্য পাঠানো হয়। তখন থেকে ওই অঞ্চলে বাঙালি-পাহাড়িদের মধ্যে বিরোধের সূচনা।
২০০৮ সালের ২০ এপ্রিল অজ্ঞাত পরিচয়ের সন্ত্রাসীরা সাজেক ইউনিয়নের গঙ্গারামমুখের বাঘাইহাট নার্সারি এলাকায় সাতটি গ্রামে আগুন লাগিয়ে দেয়। ওই সময় বিরোধ নিষ্পত্তি করতে একটি কমিটি গঠিত হয়েছিল। কিন্তু বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়া দূরে থাক, দিনে দিনে বাঘাইহাটে বাঙালি পরিবার ক্রমশ বাড়তে থাকে।
সাজেক ইউনিয়নের গঙ্গারাম-বাইবাছড়া ও বাঘাইহাট এলাকায় আদিবাসী পাহাড়িরা বসবাস করে আসছে বহুকাল ধরে। জরুরি অবস্থার মধ্যে এ এলাকাগুলোতে পাহাড়িদের জায়গায় ২০০৭ সনে অভিবাসী বাঙালিরা ছোট ছোট চার বেড়ার এবং পলিথিন দিয়ে বানানো ছাদযুক্ত বাড়ি নির্মাণ করে। সেনাবাহিনি এতে সরাসরি নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। আর পাহাড়িদের ঘরগুলো তুলনামূলক মজবুত ও স্থায়ী। ফলত এ এলাকা থেকে পাহাড়িদের তাড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নানা পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়। ২০ এপ্রিল ২০০৭ রাত সাড়ে ৯টার দিকে কতিপয় বাঙালি তাদের নিজেদের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। সাথে সাথে পাহাড়িদের গ্রামে আগুন লাগানোর জন্য ১০/১২ জনের সংঘবদ্ধ চক্রকে পথে নামিয়ে দেয়া হয়। অন্যদিকে গ্রাম জুড়ে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি চলে ব্যাপক লুটপাট, ধর্ষণ এবং হত্যা। আগুনে পাহাড়িদের গ্রামে পুড়ে যায় ৭৩টি ঘর, আর পাহাড়িদের জায়গায় গড়ে তোলা বাঙালি বসতিতে পুড়ে যায় চার বেড়া ও পলিথিনের ছাদবিশিষ্ট ৪৩টি ঘর।

০৩.
৫ জানুয়ারি ২০১০ সাজেক নারী সমাজের পক্ষ থেকে পাহাড়িদের বিভিন্ন দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি পেশের পর সেনাবাহিনির তৎপরতা বেড়ে যায়। তাদের দাবির মধ্যে বাঙালি ব্যবসায়ী এবং সেনাবাহিনির অত্যাচার-শোষণ বন্ধের দাবিও ছিলো। একপর্যায়ে পাহাড়িরা বাঘাইহাট বাজারে আসা বন্ধ করে দেয়। এতে বাজারের বেচাকেনা বন্ধ হয়ে যায় এবং বাঙালি ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণেও বাঙালিরা পাহাড়িদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। দীর্ঘ ২ মাস বাজার বয়কটের ঘটনা চললেও স্থানীয় প্রশাসন এটা নিরসনের কোনো পদক্ষেপ নেয় নি। বরং সিভিল প্রশাসন ও সেনাবাহিনি পাহাড়িদের ওপর নির্যাতন ও হামলায় প্রত্যক্ষভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে।
২৫ জানুয়ারি,২০১০ বাঘাইছড়িতে সেটেলার বাঙালিরা সাতজন পাহাড়িকে মারধর করে, কয়েকজন পাহাড়ি স্কুলছাত্র কিশোর-কিশোরীকে জিম্মি করে পুরো এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। পরদিন বাঙালিরা কয়েকটি পাহাড়ি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। সহিংসতার জের ধরে পাহাড়িরা বাঙালিদের সাতটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। ওই সময় সন্তু লারমা ও রাজা দেবাশীষ রায়ের গাড়িবহরে বোমা হামলার ঘটনাও ঘটে।
আর ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১০ শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয় আরেক রক্তক্ষয়। ২০০৭ সালের শেষ দিকে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের গঙ্গারামমুখ এলাকায় বাঙালি সেটেলার বসতি স্থাপনকে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত। এখানে সেনাবাহিনি প্রথমে ৮টি পরিবারকে বসতি করার জন্যে নিয়ে যায় এবং পরে আরো ১৭/১৮টি পরিবার বসিয়ে দেয়। যেখানে বাঙালি সেটেলারদের বসতি স্থাপন করা হয় ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়িরা বসবাস করতো এবং জুম চাষসহ অন্যান্য চাষাবাদ করে আসছিলো। বাঙালি বসতি হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে পাহাড়ি-বাঙালি সংঘাতের ঘটনা ঘটে চলছিলো। এ সংঘর্ষ প্রকট রূপ নেয় এক বাঙালি পরিবার কর্তৃক গঙ্গারামপুরে একটি ছড়ায় বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের উদ্যোগ নিলে। এতে একটি চাকমা পরিবারের জুম চাষের জমি পানিতে ডুবে যায়। পাহাড়িরা এ বাঁধ তৈরিতে আপত্তি করে ও বাধা দেয়। এভাবেই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।
২০ ফেব্রুয়ারি ২০১০ সংঘর্ষ আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ৪ শতাধিক বাড়িঘর ভস্মিভূত হয় ওই সংঘাতে কমপক্ষে ৭/ ৮ জন পাহাড়ি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন নারী।
ওই ঘটনার জের ধরে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট প্রথমে ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১০ রাঙামাটি ও পরে তিন পার্বত্য জেলায় সড়ক অবরোধ ঘোষণা করে। খাগড়াছড়ি শহরে পাহাড়িদের মিছিল বের হলে একদল বাঙালি তাদের ধাওয়া করে। এভাবেই উত্তেজনা পুরো শহর এবং আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে। কমপক্ষে ৫টি পাহাড়ি পাড়া এবং একটি বাঙালি পাড়ায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সে সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও বরাবরের মতো নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

০৪.
বাঙালিরা সেটেলাররা পাহাড়িদের ভূমি অবৈধভাবে দখল করে নিচ্ছে সরকারি প্রশাসন থেকে শুরু করে সেনাবাহিনির সহায়তায়। আর সরকার ভূমি সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হওয়ায় ধারাবাহিক সহিংসতা ঘটে চলছে।

পাবর্ত্য এলাকার সংকট নিরসনে ভূমি কমিশন গঠন করা হয়। কিন্তু গত ১২ বছর ভূমি কমিশনকে সচল হতে দেখা যায়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামে বেআইনি ভূমির ইজারা ও বন্দোবস্ত দেয়ার ঘটনা ধারাবাহিকভাবে চলছে। ২০০৯ আগস্টে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পাহাড়ে প্রায় ১২ হাজার একর জমি বেআইনিভাবে ইজারা ও বন্দোবস্ত দেয়ার ঘটনা সনাক্ত করে। গত সেপ্টেম্বরে বান্দরবানে প্রায় সাড়ে আট হাজার একর এ ধরনের জমির ইজারা ও বন্দোবস্ত বাতিল করা হয়।
ভূমি সমস্যা নিরসন করতে পার্বত্য চুক্তির ৫ নম্বর শর্তানুযায়ী পাবর্ত্য চট্টগ্রামের ভূমি কমিশন গঠন করা হয়। এর চেয়ারম্যান হবেন একজন
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। কমিটির অন্য যারা সদস্য হিসেবে থাকবেন তারা হলেন, চাকমা-বোমাং-মং সার্কেল চিফ (রাজা), পার্বত্য আঞ্চলিক
পরিষদের চেয়ারম্যান অথবা তার একজন প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার অথবা একজন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার এবং বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের তিনজন চেয়ারম্যান। গত এক যুগে বিভিন্ন রদবদলসহ কমিশনে কাঠামোগত নানা পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ তেমন কিছুই হয় নি। সুনির্দিষ্টভাবে কমিশনের কার্যালয়ও নির্মিত হয়নি। খাগড়াছড়িতে অবস্থিত এর সদর দপ্তর এখনো নির্মাণাধীন। অন্য দুজেলা রাঙামাটি এবং বান্দরবানে এখনো এর অস্তিত্বই নেই। কাজের অগ্রগতি যেটুকু হয়েছে, তা হল, ২০০১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন পাস হয়েছে। এর তিনবছর পর ২০০৪ সালের ১ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এম মাহমুদুর রহমানকে চেয়ারম্যান করে তিনবছর মেয়াদি ভূমি কমিশন গঠন করা হয়। কিন্তু, আইনের কিছু বিরোধাত্মক ধারার জন্য কমিশনকে কার্যকর করা যায় নি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান হিশেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি চেয়ারম্যান হিশেবে নিয়োগ পেয়েছেন ছয়মাস আগে। অথচ এ সময়ে তিনি পাবর্ত্য চট্টগ্রাম গেছেন মাত্র কয়েকবার। অফিস করছেন ঢাকায় নিজের বাসায় বসে। অথচ তা হওয়ার কথা ছিলো খাগড়াছড়িতে। এবারো যখন ভূমি বিরোধ নিয়ে পাহাড়ি-বাঙালি সংঘর্ষ চলছে তখন তিনি বান্দরবানের নীলগিরি পর্যটনকেন্দ্রে সপরিবারে সফর করছিলেন।
পুনর্বাসিত শরণার্থীদের ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ পার্বত্যাঞ্চলের প্রচলিত আইন ও রীতি অনুযায়ী নিষ্পত্তি, আইন বহির্ভূতভাবে কোনো ভূমি বন্দোবস্ত দেয়া হলে তা বাতিল এবং বৈধ মালিককে ভূমিতে বহাল করার ক্ষমতা দেয়া হয় কমিশনকে। ভূমি কমিশন সক্রিয় না হওয়ায় পাহাড়ে বাঙালি-পাহাড়িদের মধ্যে সংঘর্ষ লেগে রয়েছে। পার্বত্য চুক্তির মৌলিক শর্তগুলো যথাযথ বাস্তবায়ন করলে ভূমি কমিশন ও শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স সক্রিয় করা সম্ভব।
সম্প্রতি যে সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে, ভূমি কমিশন সচল ও কার্যকর থাকলে তা ঘটতে পারত না বলে অনেকেই মনে করেন। কারণ, গত
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বাঘাইছড়ি, বাবুছড়া, মাইসছড়ি ইত্যাদি এলাকায় বেশ কিছু বাঙালি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। যাদের ওই সব এলাকায় পুনর্বাসন করা হয়েছে তাদের জমির কাগজ-পত্রে আমিন-কানুনগো ইত্যাদির স্বাক্ষর হয়েছে ২০০৪ সনে। আর ২০০৮ সন পর্যন্ত ওইসব এলাকার হেডম্যানগণ কোনো খাজনা গ্রহণ করেন নি বা তাদের জমাবন্দি বইয়ে কোনো রেকর্ড হয় নি। তখন বাঙালিরাও অভিযোগ করেছিলো যে রেশন বন্ধ করাসহ বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখিয়ে তাদেরকে ওই এলাকায় যেতে বাধ্য করা হয়েছে।

০৫.
১৮৯৮ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে প্রথম রাঙামাটিতে জেলাসদর স্থাপন করা হয়। ১৯০০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন জারি করা হয় যা পার্বত্য চট্টগ্রাম ম্যানুয়েল নামে পরিচিত। পার্বত্য এলাকার স্বাতন্ত্র্য রক্ষা এবং ব্রিটিশ শাসনের নিজস্ব প্রয়োজনের তাগিদে এ রেগুলেশনে বলা হয়, “একজন চাকমা, মগ অথবা পার্বত্য চট্টগ্রাম, লুসাই পাহাড়, পার্বত্য আরাকান বা ত্রিপুরা রাজ্যের অধিবাসী পাহাড়ি সম্প্রদায় ব্যতীত অন্য কেউ ডেপুটি কমিশনারের নিজ বিবেচনা প্রদত্ত অনুমতিপত্র ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে বাস করতে বা বসবাস করতে পারবে না”। ১৯২১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামকে পশ্চাদপদ এলাকা এবং ১৯৩৫ সালে বহির্ভূত এলাকা হিশেবে ঘোষণা করা হয়।
ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রথম থেকেই পাহাড়িরা অংশগ্রহণ করে। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন শেষ পর্যন্ত দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একদিকে হিন্দু ধর্মীয় পুনরুজ্জীবনবাদ প্রভাবান্বিত কংগ্রেসী আন্দেলন ও অন্যদিকে হিন্দু-মুসলিম দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে মুসলিম লীগের পাকিস্তান আন্দোলন। ফলে, পাহাড়িদের পক্ষে এ আন্দোলনে সামিল হওয়া ছিলো কঠিন।
১৯২০-এর দশকে কামিনী মোহন দেওয়ান ও বীরেন্দ্র কিশোর ত্রিপুরার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসমিতি গঠিত হয়। এ সংগঠনকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি জনগণ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হয়। কিন্তু এ স্রোত মুসলিম লীগ কিম্বা কংগ্রেসের সাথে যুক্ত হতে পারে নি।
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা অর্জন করে। কিন্তু তখনো পার্বত্য এলাকা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা
আসে নি। পার্বত্য জনগণের ধারণা ছিলো তাদের অঞ্চল ভারত বা বার্মার অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ, ৯৫ শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠী নিয়ে পাকিস্তান গঠিত হয়। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় ৯৭ শতাংশ অধিবাসী ছিল বৌদ্ধ বা অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। ’৪৭-এর ১৫ আগস্ট রাঙামাটি জেলা প্রশাসন অফিসের সামনে স্নেহকুমার চাকমার নেতৃত্বে ভারতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়। অন্যদিকে বোমাং সার্কেলের অধিকাংশ আদিবাসী মারমা বা বংশী বংশোদ্ভুত হওয়ায় বান্দরবানে বার্মার পতাকা উত্তোলিত হয়। অবশেষে ১৭ আগস্ট বঙ্গীয় সীমানা নির্ধারণ কমিশন এর চেয়্যারম্যান র‌্যাডক্লিপের রায় অনুসারে চট্টগ্রামের আশেপাশের পার্বত্যাঞ্চল পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। ২১ আগস্ট পাকিস্তানের বেলুচ রেজিমেন্ট রাঙামাটিতে ভারতের পতাকা নামিয়ে পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলন করে। একইভাবে বান্দরবানেও বার্মার পতাকা নামিয়ে ফেলা হয়। ভারত ও বার্মার পতাকা উত্তোলনের ঘটনা পাকিস্তানি শাসকদের ক্ষুব্ধ করে। তাদের ধারণা জন্মায় যে পাহাড়িরা পাকিস্তান বিরোধী। এর ফলে তাদের ওপর দমন-পীড়ন শুরু হয়। ১৯০০ সালের পার্বত্য রেগুলেশনের ধারা বিলুপ্ত করা হয়। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের নিজস্ব পুলিশ বাহিনি বিলুপ্ত হয়ে যায়। প্রথমবারের মতো শুরু হয় বাঙালি পুনর্বাসন।

০৬.
পাহাড়ি জনগণের ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত হিশেবে নেমে আসে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। ১৯৫৯ সালে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়, শেষ হয় ১৯৬৩ সালে। কিন্তু এর সাথে শেষ হয়ে যায় লাখো পাহাড়িদের আবাসস্থল, জীবন-জীবিকা এবং স্বাভাবিক জীবন। ৩৫০ বর্গমাইল এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায়। উপত্যকার ৪০ শতাংশ কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। কাপ্তাই হ্রদে ডুবে যায় রাজবাড়ি। ১০ হাজার পরিবার স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ হয়ে যায়। ১৮ হাজার পরিবারের ১ লাখ পাহাড়ি জমি হারায় ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৫৪ হাজার একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। উৎখাত হওয়া চাকমারা অনেকে ভারতের অরুণাচলে আশ্রয় নেয়। ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়িদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫৯ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প ঘোষণা করা হয়। কিন্তু, বাস্তবে তারা ক্ষতিপূরণ পায় মাত্র ২.৬ মিলিয়ন ডলার। বাকিটা প্রশাসনিক কারচুপি, দুর্নীতি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে পাকিস্তানি-বাঙালি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ীরা আত্মসাৎ করে। ওই ঘটনার ৫০ বছর পার হয়েছে, কিন্তু পুনর্বাসন বা কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ পায়নি প্রায় ৮ হাজার পরিবার। যাদের পুনর্বাসন করা হয়েছিল তাদেরকে দেয়া হয়েছিলো নামমাত্র ক্ষতিপূরণ, পাঠানো হয়েছিল দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়। এরপর আজ পর্যন্ত কোনো সরকারই ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এ ঘটনা, পুরো পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মনে এক দগদগে ঘা হয়ে টিকে আছে।
যে বিদ্যুতের জন্যে পাহাড়িরা একদিন বাস্তুহারা হয়েছে, সেই বিদ্যুৎ সুবিধা তারা এখনও পায় নি, কেবল জেলাসদর গুলিতেই বিদ্যুত আছে।

০৭.
পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বাঙলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী শরিক হয়েছিলো। তাদের ধারণা ছিলো, দেশ স্বাধীন হলে তাদের পরবাসী দশার অবসান ঘটবে, সাংবিধানিকভাবে তাদের স্বীকৃতি দেয়া হবে। কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন অচিরেই ধুলিসাৎ হয়ে যায়। পার্বত্যাঞ্চলের অবিসংবাদিত নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা উত্থাপিত গণপরিষদে (১৯৭২) সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে নাকচ হয়ে যায়। ওই সংবিধানে সংখ্যালঘু জাতিসমূহের স্বাতন্ত্র্যের স্বীকৃতি এবং মর্যাদার ব্যাপারে কোনো কিছু উল্লেখ করা হয় নি। ফলে ১৯৭২ সনে গড়ে ওঠে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। সংগঠনের প্রথম সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হিশেবে দায়িত্ব পান বি. কে রোয়াজা এবং মানবেন্দ্র লারমা।
আওয়ামী সরকারের বিভিন্ন নীতি পাহাড়িরা মানতে পারে নি। ১৯৭৩ সালে শেখ মুজিব নির্বাচনী সফরে রাঙামাটি যান। তিনি ভাষণে বলেন, “এতদিন তাদের (পাহাড়িদের) তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিকেরও মর্যাদা দেয়া হয় নি। সেদিনের অবসান হয়েছে। উপজাতিরা দেশের যে কোনো নাগরিকের সমান মর্যাদা পাবে। উপজাতীয়দের অবস্থার উন্নতি সাধনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ... উপজাতিদের প্রমোশন দিয়ে আজ থেকে বাঙালি করা হলো।”
ইতোমধ্যে পার্বত্য এলাকায় বিডিআর এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনির বিভিন্ন নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ড পাহাড়িদের বিক্ষুব্ধ করে তোলে। ওই বছর জনসংহতি সমিতির নেতৃত্ব সিদ্ধান্তে আসেন, বাংলাদেশ সরকারের কাছে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে তারা দাবি আদায় করতে পারবে না। ফলে, ১৯৭৩ সালের ৭ জানুয়ারি জনসংহতি সমিতির গোপন এবং সশস্ত্র সংগঠন হিশেবে শান্তিবাহিনি আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৭৫-এর আগস্টে দেশে সামরিক শাসন জারির পর পাহাড়ের পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করে।
১৯৭৭ সালে মিলিটারি কনভয়ে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামরিক বাহিনি সরাসরি পার্বত্য চট্টগ্রামের কর্তৃত্ব নিয়ে নেয়। এর মাধ্যমে পার্বত্য
চট্টগ্রামে অঘোষিত যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। ১৯৭৭ সালেই পাহাড়ি জনগণের বিরুদ্ধে বড় রকম সেনা অভিযান পরিচালিত হয়। মাটিরাঙা, গুইমারা,
মানিকছড়ি, লক্ষ্মীছড়িতে সামরিক অভিযানে ৬৩ জন পাহাড়ি নিহত হয়। ১৯৮৪ সালের ৩১ মে বরকলে ২৬ বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ১৭ ব্যাটালিয়ন বিডিআর ১১০ জন পাহাড়িকে হত্যা করে।
১৯৮৬-এর ১ মে পানছড়িতে ১০০ পাহাড়িকে হত্যা করা হয়। এবং মাটিরাঙায় হত্যা করা হয় ৭০ জনকে।
১৯৯২-এর ১০ এপ্রিল খাগড়াছড়ির লোগাং-এ ১৩৮ জন পাহাড়িকে হত্যা করা হয়।
এসব ছিল বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড। এর বাইরেও অসংখ্য হত্যাকাণ্ড পাহাড়ে পরিচালিত হয়। শত শত পাহাড়ি নারী ধর্ষণের শিকার হয়। হামলার তীব্রতায় অনেক পাহাড়ি ভারতে পালিয়ে যায়। এসব ঘটনার দায় সরাসরি বা প্রত্যক্ষভাবে সেনাবাহিনি এবং শাসক সরকারসমূহের ওপরই বর্তায়।
পক্ষান্তরে শান্তিবাহিনির হাতে ১৯৮০ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত ৯৫২ জন বাঙালি নিহত হয়েছে। শান্তিবাহিনি বিভিন্ন সময় ৪১১ জন বাঙালি এবং ২১১ জন পাহাড়িকে অপহরণ করে। এই সমস্ত সংঘাতে প্রায় ২০ হাজার পাহাড়ি-বাঙালি মৃত্যুবরণ করেছে।
পাহাড়ি জনগোষ্ঠী একদিকে দেশের শাসকদের অগণতান্ত্রিক নীতি ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে, অন্যদিকে পাহাড়িদের বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে আমেরিকা ও ভারতের মতো সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো তাদের আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেছে যে কাজে আমাদের সরকারও শরিক থেকেছে। এর বলি হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর গণতান্ত্রিক দাবি। অথচ, পাহাড়ের এ সমস্যাকে যদি সংবেদনশীলভাবে এবং গণতান্ত্রিক পন্থায় বিচার করা হতো তাহলে সংঘাতময় পরিস্থিতির উদ্ভবই হত না। সেটেলার বাঙালিদের পরিস্থিতি সমতল ভূমির ভাগ্যহীন দরিদ্র মানুষদের এখানে সেটেলার নাম দিয়ে পুনর্বাসিত করা হয়। তাদের কেউ নদী ভাঙনে নিঃস্ব, কেউ ভূমিহীন, কেউ বা মহাজনী ঋণে এবং পুঁজিবাদী শোষণে সর্বস্বান্ত। শুরু থেকে তাদের যে প্রক্রিয়ায় সেটেলার হিশেবে বসানো হয় তা যে উদ্দেশ্যমূলক ছিলো এটা স্পষ্ট।

০৮.
তিন পার্বত্য জেলার সিংহভাগ ব্যবসা অথবা কারবার নিয়ন্ত্রণ করছে বাঙালিরা। আদিবাসীরা শুরু থেকেই সুবিধা বঞ্চিত। এখনো তাই। এইসব অঞ্চলে বোট (টেম্পু/ট্রলার), আবাসিক হোটেল, মুদিদোকান, মার্কেট, বাস, অটোরিকশা, ট্রাক অধিকাংশের মালিক পাহাড়ি বাঙালি এবং বাঙালি সেটেলাররা। আর পাহাড়ি আদিবাসীরা অধিকাংশই এখনোই জুমচাষের উপর নির্ভরশীল। এমন কি হ্রদের মাছ পর্যন্ত বাঙালিদের, বাঙালিরা লিজ নিয়ে বাঙালি জেলেদের (যাদের আনা হয় উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে) দিয়ে মাছচাষ এবং মাছ ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিপণন এবং বাইরে রপ্তানি করে। দেশের সিংহভাগ মাছ উৎপাদিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রামের বিস্তারিত হ্রদে।


০৯.
পার্বত্য অঞ্চলের বসবাসরত জনগোষ্ঠীকে তিনভাগে শ্রেণিবিভাগ করা হয়-- পাহাড়ি আদিবাসী, স্থায়ী বাঙালি এবং সেটেলার বাঙালি।
১৯৫১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি জনসংখ্যার পরিমাণ ছিলো মাত্র ১৮ হাজার ৭০ জন; মোট জনসংখ্যার ছয় শতাংশ। স্বাধীনতার আগে ১৯৬৬ সালে কয়েক হাজার বাঙালিকে সেটেলার হিসাবে বসানো হয়। স্বাধীনতার পরপর এখানে বিপুল সংখ্যক বাঙালিকে পুনর্বাসন করা হয়। ফলে তখন শতকরা হিসেবে বাঙালিদের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৬.২৯ জন। ১৯৭৯ সাল থেকে পাবর্ত্যাঞ্চলে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ব্যাপক আকার ধারণ করে। ওই সময় সরকার বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কাছে গোপন সার্কুলার পাঠায়। তারই অংশ হিসেবে ওই বছর ৩০ হাজার বাঙালিকে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এ প্রক্রিয়া পরবর্তী বছরগুলোতেও অব্যাহত ছিল। যে কারণে ১৯৮১ সালে পাহাড়ে বাঙালির পরিমাণ দাঁড়ায় মোট জনসংখ্যার ৪০.৯৩ শতাংশ। এক হিসাবে জানা যায়, ১৯৮৪ সালের মধ্যে পার্বত্য এলাকায় চার লক্ষ বাঙালিকে পুনর্বাসিত করা হয়।

১০.
স্বাভাবিক অভিবাসন প্রক্রিয়ায় যেসব বাঙালি পাহাড়ে জায়গা-জমি কিনে বসবাস করছেন তাদের বিরুদ্ধে পাহাড়িদের খুব একটা অভিযোগ নেই; তাদের মূল অভিযোগ হচ্ছে সেটেলার বাঙালিদের বিরুদ্ধে। কারণ, এরা পাহাড়ে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আসে নি। সরকার এদেরকে এখানে এনেছে তথাকথিত কাউন্টার-ইন্সারজেন্সি পলিসির আওতায়, পাহাড়িদের পার্বত্য এলাকায় সংখ্যালঘু বানিয়ে তাদের ক্ষোভ-বিক্ষোভকে দাবিয়ে রাখার বুর্জোয়া ঘৃণ্য কৌশল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে; যে-কারণে গত ৩০ বছর যাবৎ এদের বেঁচে থাকার প্রধান উপায় হলো সরকারি রেশন। থাকতে হয় সেনাপ্রহরাধীন গুচ্ছগ্রামে। রেশনের নামে এখানে ব্যয় হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সরকারি অর্থ। তবে, অভিযোগ আছে, তাদেরকে দেওয়া রেশন নিতান্তই অপ্রতুল। ফলে, এ অসহায় বাঙালিরা চরম মানবেতর জীবন যাপন করছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের অনেককে খাস জমির জাল দলিলও দেয়া হয়েছিলো।

১১.
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য এলাকায় বিরোধ নিরসন ও শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে জনসংহতি সমিতি এবং সরকারের মধ্যে একটা চুক্তি হয়েছিল যাকে ওই সরকারের পক্ষ থেকে শান্তি চুক্তি নামে অভিহিত করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী সরকার পর্যায়ক্রমে পার্বত্য জনপদগুলো থেকে সামরিক বাহিনি প্রত্যাহার করে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়ার কথা এবং ভূমি কমিশন গঠন করে পাহাড়িদের ভূমি, যেগুলি নিয়ে বাঙালিদের সাথে বিরোধ আছে তার সমাধান করার কথা। চুক্তির এক পক্ষ, জনসংহতি সমিতির দাবি যে লিখিতভাবে না থাকলেও, সরকার মেনে নিয়েছিল যে পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারিভাবে পুনর্বাসিত বাঙালিদের (১৯৭৯ থেকে ৮৪ পর্যন্ত) পর্যায়ক্রমে সুবিধামতো দেশের অন্য জায়গায় সরকার পুনর্বাসন বা স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে সরিয়ে নেবে। জনসংহতি সমিতির এই দাবি সরকার সরাসরি স্বীকার না করলেও জোর গলায় অস্বীকারও করতে পারছে না। চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদকে শক্তিশালী করা ও এর ক্ষমতায়ন, তিন পার্বত্য জেলায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা-- এসবের কোনোটাই হয় নি। সন্তু লারমাকে কলের পুতুল হিশেবে আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান করা হয়।
চুক্তিতে আরো বহু বিষয় থাকলেও উপরোক্ত বিষয়গুলোই প্রধান। চুক্তি হয়েছে একযুগ পার হয়ে গেছে। কিন্তু, ক্যান্টমেন্টের বাইরে সেনাবাহিনি
পুরোদমেই বহাল আছে। তাদের বিভিন্ন অপারেশন কার্যক্রমও চলছে প্রায় আগের মতোই। বাঘাইহাটে কোনো ক্যাম্প প্রত্যাহার হয় নি। ফলে
সেনাবাহিনি থাকার পরও, এমনকি সেনাক্যাম্পের ৫০/১০০ গজের মধ্যে ঘটা এবারের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো যায় নি। সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সহায়তায় বাঘাইহাট ও গঙ্গারামমুখে এ নারকীয় ঘটনা ঘটেছে এবং সেনাবাহিনীর গুলিতেই পাহাড়িদের মৃত্যু হয়েছে।
বর্তমান সরকার ২৯ জুলাই ’০৯-এ পার্বত্য এলাকার বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত কিছু সেনাক্যাম্প গুটিয়ে সেনা সদস্যদেরকে ওই এলাকারই ক্যান্টনমেন্টে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। সে হিসেবে কিছু কিছু জায়গা থেকে ছোট ছোট সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছে যেগুলো আসলে বর্তমান সময়ে তাদের কাছেই অপ্রয়োজনীয় ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছিল। এখানে সামরিক অভিযানের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। তবে, সেনাবাহিনি সরে গেলেও ক্যাম্পগুলোতে বিডিআর, আর্মড পুলিশ, আনসার ইত্যাদি থেকে গেছে অথবা নতুন করে এসব বাহিনির ক্যাম্প বসছে। আর ভূমি কমিশন এখন পর্যন্ত কোনো কাজই করতে পারে নি। পাহাড়ে বাঙালি সেটেলারদের পুনর্বাসনও বন্ধ হয় নি।

১২.
এখন পাহাড়ে পাহাড়ি আদিবাসীরা সংখ্যালঘু। পরিকল্পিতভাবেই রাষ্ট্রযন্ত্র ক্রমে ক্রমে তাদের সংখ্যালঘুতে পরিণত করেছে। খুব সম্ভব তাদের হার ৪২ শতাংশ। আর সংখ্যালঘু মানেই নির্যাতিত এবং সুবিধাবঞ্চিত। এখনো তারা প্রথমশ্রেণির নাগরিক নয়। তাদেরকে সাংবিধানিক ভাবে আদিবাসি অথবা বাঙালি বলা হয় না। বলা হয় উপজাতি।
একসময় সেটেলারদের বসানোর আগে পাহাড়িবাঙালি মিলেমিশে থাকতো। তখন বাঙালি ছিলো সংখ্যালঘু। জিয়া সরকার বাঙালি ছিন্নমূলদের পাহাড়ে বসানোর পর থেকেই সমস্যা মহামারি আকার ধারণ করে। কেননা, যার কিছু নেই সে যদি হঠাৎ করে কিছু পেয়ে যায় সদ্যপাওয়া নিজেরটা আকড়ে ধরার সাথে সাথে অন্যেরটাও কেড়ে নিতে নিজের দখলে রাখতে চায়। এইখানে ধর্ম একটা বিরাট ফ্যাক্ট। বাঙালি সেটেলারদের ধরতে গেলে নব্বইভাগই মুসলমান, আর অশিক্ষিত মুসলমান মাত্রই ফ্যানাটিক হ্ওয়ার সম্ভাবনা আশি ভাগ। পারিবারিকভাবেই তারা জেনে যায় ইসলাম ছাড়া কোনো ধর্ম নাই। অন্যান্য ধর্মীয় গোষ্ঠি বিধর্মী, বা জাতিগোষ্ঠী (বলাবাহুল্য আমাদের দেশে ধর্মের ভিত্তিতে জাতিগোষ্ঠী নির্ধারণ করা হয় প্রকৃত অর্থে, ভাষাভিত্তিক বাঙালি কেবল নথিপত্রে, ওটা মানেনও কয়েকজন) বিধর্মী মানেই পাপী, এবং এদের শেষ ঠিকানা নরক। ফলত তৈরি হয় একধরনের ঘৃণা। আর ঘৃণাটা প্রকাশিত হয় দলে ভারি হওয়ামাত্র।
হিশেব কষলে দেখা যায় উগ্রজাতীয়তাবাদিদের মধ্যে হিন্দু খ্রিষ্টান কিংবা বৌদ্ধ তেমন কেউ নেই। বলতে গেলে সবাই মুসলমান। তাই বলতে পারছি উদ্রজাতীয়তাবাদের জন্ম ইসলাম ধর্ম থেকেই, বাঙলা ভাষা থেকে নয়। যদিও বলা হয় ইসলাম মানবতাবাদী, কিন্তু ইতিহাস বলে ইসলামই সবচে বেশি পৃথক করেছে। যথা ইসলামি রাষ্ট্রকল্পে বিধর্মী কোনো প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয় না।
পাহাড়ে এখন হানাহানি রোধ কোনো চুক্তি কিংবা প্রশাসন কিংবা সেনাবাহিনি (সেনাবাহিনি অবশ্য একটাকাজ পারে, সেটা হলো কল্পনা চাকমার মতো আন্দোলনকারি আরও কাউকে রাতের অন্ধকারে অপহরণ করে নিয়ে ধর্ষণ করে লাশ গুম করে ফেলতে) বন্ধ করতে পারবে না। কারণ হিংসা আর প্রতিহিংসা পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘতর হ্রদটির মতো আজ বিস্তারিত।
উপায় হলো, আমার যা মনে হয়, বাঙালি সেটেলার প্রত্যাহার করে সরকারি খাসজমি (হাজার হাজার একর খাসজমি পড়ে আছে এবং বেদখল হয়ে আছে, বেখল করে রেখেছে প্রভাবশালি পুঁজিপতিরা যাদের জমির দরকার নাই) এবং সেইসব পাহাড়ে আদিবাসিরা থাকে না ওইসব জায়গায় পুনর্বাসন করতে হবে। জিয়া এবং তার পূর্ববর্তী প্রশাসনের হঠকারিতার মাসুল এ ছাড়া আর কোনোভাবেই দেয়া সম্ভব নয়।
একটা জাতিসত্তা স্বায়ত্তশাসন এমনিতেই দাবি করে না। কেনো দাবি করে সেটা বলাবাহুল্য।

উগ্রজাতীয়তাবাদী, ফেসিস্ট এবং ফ্যানাটিক শক্তি ধ্বংস হোক।

-----------------------------------------------------------------------------------

তথ্যসূত্র:
* পার্বত্য চট্টগ্রাম: সবুজ পাহাড়ের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হিংসার ঝর্ণাধারা-- হুমায়ুন আজাদ।
* ভ্যানগার্ড, মার্চ. ২০১০.
* কর্ণফুলির কান্না (প্রামাণ্যচিত্র)-- পরিচালক: তানভীর মোকাম্মেল
* কল্পনা চাকমার ডায়েরি
* মুক্তাশ্রী চাকমা সাথী, আমার বন্ধু। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, আইন শেষবর্ষ।
* চয়ন চাকমা, একজন কবি।
* শান্তিবাহিনির একজন প্রাক্তন সদস্য, এখন রাঙ্গামাটি সদরে, রাজবাড়ি সড়কে ছোটোখাটো চায়ের দোকানদার।
* সাজেক ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন আদিবাসী নারী পুরুষ।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): জাতিসত্তা ;
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:৪১ | বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:০৬
মিলটনরহমান বলেছেন: আপনার দীর্ঘ লেখাটা পড়ে আমি বেশকিছু বিষয়ে অবগত হয়েছি। লন্ডনে এ নিয়ে আমার মানববন্ধনও করেছি ক'দিন পূর্বে। আমার ইচ্ছে আছে একবার সরাসরি পাহাড়ী এলাকায় গিয়ে দেখার। আপনাকে জানাবো যাবার আগে।


আপনার লেখার জন্য ধন্যবাদ।
১০ ই এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:১৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মিলটন দা

২. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:০৭
আফসার নিজাম বলেছেন: আসসালাম।

এই পাহাড়িরা আমার মা'য়ের আপন ফোফাকে ঘরে আগুন ধরিয়ে হত্যা করেছ। তার যুবতি মেয়েসহ।

আমার সেই নানী কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলো।


প্রমাণ আসে দেখে যান। আমি আপনাকে দেখিয়ে দেবো।




আরা তারা আদিবাসী এটা আপনাকে কে বলল?
তারা কবে কোথা থেকে এসেছে জানেন?
তারা ভূমিপুত্র নয়। তারা উপজাতি।
আমাদের দেশে এসে থাকছে।



মা'আসসালাম।
১০ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৪৯

লেখক বলেছেন:
কবি, আপনি সবকিছু আবেগ দিয়ে বিচার না করে পোস্ট পুরোটা পড়ে কমেন্ট করেন।
মা'আসসালাম।

৩. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:০৭
মাহামুদ রাহি বলেছেন: সহমর্মীতা পাহাড়ীদের প্রতি...
কিস্যু বলবার নাই...
Click This Link
১১ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:৫৪

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ

১১ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:৫৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ফ্রেন্ডো

৫. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:১০
হায় ঈশ্বর! বলেছেন: @আফসার নিজাম ...আবাল কুনহানকার
১২ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৩০

লেখক বলেছেন:

৬. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:১৩
সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: নীরবে প্রতিবাদ করে গেলাম আপনার একপেশে ও প্রপাগান্ডামূলক পোস্টের জন্য। দেখুন : Click This Link
১০ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৩৮

লেখক বলেছেন: কবি, আপনি সবকিছু আবেগ দিয়ে বিচার না করে পোস্ট পুরোটা করে কমেন্ট করেন। ধন্যবাদ

১০ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৪৩

লেখক বলেছেন: *পড়ে

১২ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৪০

লেখক বলেছেন:

৭. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:১৭
নষ্ট ছেলে বলেছেন: একতরফা লেখা মাইনাস।
১০ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৪৩

লেখক বলেছেন: পোস্ট পুরোটা করে কমেন্ট করেন। ধন্যবাদ

৮. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:১৭
অণুসন্ধানী বলেছেন: নীরবে প্রতিবাদ করে গেলাম আপনার একপেশে ও প্রপাগান্ডামূলক পোস্টের জন্য।
১০ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৪২

লেখক বলেছেন: পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বাঙলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী শরিক হয়েছিলো। তাদের ধারণা ছিলো, দেশ স্বাধীন হলে তাদের পরবাসী দশার অবসান ঘটবে, সাংবিধানিকভাবে তাদের স্বীকৃতি দেয়া হবে। কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন অচিরেই ধুলিসাৎ হয়ে যায়। পার্বত্যাঞ্চলের অবিসংবাদিত নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা উত্থাপিত গণপরিষদে (১৯৭২) সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে নাকচ হয়ে যায়। ওই সংবিধানে সংখ্যালঘু জাতিসমূহের স্বাতন্ত্র্যের স্বীকৃতি এবং মর্যাদার ব্যাপারে কোনো কিছু উল্লেখ করা হয় নি। ফলে ১৯৭২ সনে গড়ে ওঠে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। সংগঠনের প্রথম সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হিশেবে দায়িত্ব পান বি. কে রোয়াজা এবং মানবেন্দ্র লারমা।
আওয়ামী সরকারের বিভিন্ন নীতি পাহাড়িরা মানতে পারে নি। ১৯৭৩ সালে শেখ মুজিব নির্বাচনী সফরে রাঙামাটি যান। তিনি ভাষণে বলেন, “এতদিন তাদের (পাহাড়িদের) তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিকেরও মর্যাদা দেয়া হয় নি। সেদিনের অবসান হয়েছে। উপজাতিরা দেশের যে কোনো নাগরিকের সমান মর্যাদা পাবে। উপজাতীয়দের অবস্থার উন্নতি সাধনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ... উপজাতিদের প্রমোশন দিয়ে আজ থেকে বাঙালি করা হলো।”
ইতোমধ্যে পার্বত্য এলাকায় বিডিআর এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনির বিভিন্ন নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ড পাহাড়িদের বিক্ষুব্ধ করে তোলে। ওই বছর জনসংহতি সমিতির নেতৃত্ব সিদ্ধান্তে আসেন, বাংলাদেশ সরকারের কাছে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে তারা দাবি আদায় করতে পারবে না। ফলে, ১৯৭৩ সালের ৭ জানুয়ারি জনসংহতি সমিতির গোপন এবং সশস্ত্র সংগঠন হিশেবে শান্তিবাহিনি আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৭৫-এর আগস্টে দেশে সামরিক শাসন জারির পর পাহাড়ের পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করে।
১৯৭৭ সালে মিলিটারি কনভয়ে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামরিক বাহিনি সরাসরি পার্বত্য চট্টগ্রামের কর্তৃত্ব নিয়ে নেয়। এর মাধ্যমে পার্বত্য
চট্টগ্রামে অঘোষিত যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। ১৯৭৭ সালেই পাহাড়ি জনগণের বিরুদ্ধে বড় রকম সেনা অভিযান পরিচালিত হয়। মাটিরাঙা, গুইমারা,
মানিকছড়ি, লক্ষ্মীছড়িতে সামরিক অভিযানে ৬৩ জন পাহাড়ি নিহত হয়। ১৯৮৪ সালের ৩১ মে বরকলে ২৬ বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ১৭ ব্যাটালিয়ন বিডিআর ১১০ জন পাহাড়িকে হত্যা করে।
১৯৮৬-এর ১ মে পানছড়িতে ১০০ পাহাড়িকে হত্যা করা হয়। এবং মাটিরাঙায় হত্যা করা হয় ৭০ জনকে।
১৯৯২-এর ১০ এপ্রিল খাগড়াছড়ির লোগাং-এ ১৩৮ জন পাহাড়িকে হত্যা করা হয়।
এসব ছিল বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড। এর বাইরেও অসংখ্য হত্যাকাণ্ড পাহাড়ে পরিচালিত হয়। শত শত পাহাড়ি নারী ধর্ষণের শিকার হয়। হামলার তীব্রতায় অনেক পাহাড়ি ভারতে পালিয়ে যায়। এসব ঘটনার দায় সরাসরি বা প্রত্যক্ষভাবে সেনাবাহিনি এবং শাসক সরকারসমূহের ওপরই বর্তায়।
পক্ষান্তরে শান্তিবাহিনির হাতে ১৯৮০ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত ৯৫২ জন বাঙালি নিহত হয়েছে। শান্তিবাহিনি বিভিন্ন সময় ৪১১ জন বাঙালি এবং ২১১ জন পাহাড়িকে অপহরণ করে। এই সমস্ত সংঘাতে প্রায় ২০ হাজার পাহাড়ি-বাঙালি মৃত্যুবরণ করেছে।
পাহাড়ি জনগোষ্ঠী একদিকে দেশের শাসকদের অগণতান্ত্রিক নীতি ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে, অন্যদিকে পাহাড়িদের বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে আমেরিকা ও ভারতের মতো সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো তাদের আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেছে যে কাজে আমাদের সরকারও শরিক থেকেছে। এর বলি হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর গণতান্ত্রিক দাবি। অথচ, পাহাড়ের এ সমস্যাকে যদি সংবেদনশীলভাবে এবং গণতান্ত্রিক পন্থায় বিচার করা হতো তাহলে সংঘাতময় পরিস্থিতির উদ্ভবই হত না। সেটেলার বাঙালিদের পরিস্থিতি সমতল ভূমির ভাগ্যহীন দরিদ্র মানুষদের এখানে সেটেলার নাম দিয়ে পুনর্বাসিত করা হয়। তাদের কেউ নদী ভাঙনে নিঃস্ব, কেউ ভূমিহীন, কেউ বা মহাজনী ঋণে এবং পুঁজিবাদী শোষণে সর্বস্বান্ত। শুরু থেকে তাদের যে প্রক্রিয়ায় সেটেলার হিশেবে বসানো হয় তা যে উদ্দেশ্যমূলক ছিলো এটা স্পষ্ট।

৯. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:২৫
শৈল্পিক ভাবনা বলেছেন: নষ্ট ছেলে বলেছেন: একতরফা লেখা মাইনাস।
১০ ই এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩০

লেখক বলেছেন:

১০. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:৪৬
অডং চাকমা বলেছেন: @ ফারিহান মাহমুদ, বাংলায় কথা আছে, "ঘোমটার ভিতর খেমটা"। আদিবাসী শব্দের ঘোমটা দেখেছেন, কিন্তু খেমটা দেখেন নি। ইন্ডিজেনাস-এর প্রতিশব্দ হিসেবে আদিবাসী শব্দটি ব্যবহার করা হয়। বাংলায় কথা বলতে গিয়ে সমস্যা হয়ে গেল। আপনারা শব্দটা নিয়ে টানাটানি করতেছেন। এর ভেতরটা দেখেন নি। ভেতরটাও জানতে হবে। অল্প বিদ্যা নিয়ে ব্লগে বক বক করা ঠিক নয়।

যাক, প্রশ্ন করি, জাতি ও উপজাতি কাকে বলে? উপজাতির সাথে আদিবাসীর পার্থক্য কি কি?

আপনার আগে ছিলেন বংগাল, তারপর বাঙ্গাল এবং সবশেষে হলেন বাঙালি/বাঙ্গালি। এখন প্রশ্ন হলো, আপনি নিজেকে কি হিসেবে পরিচয় দেন - বংগাল, বাঙ্গাল নাকি বাঙালি/বাঙ্গালি?

বি:দ্র: উত্তর দেওয়ার আগে অবশ্যই প্রাচীন ইতিহাস পড়ে নেবেন। উত্তরের অপেক্ষায় আছি।
১২. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:৫০
এস এইচ খান বলেছেন:
একতরফা লেখায় মাইনাস।

হায় ইশ্বর নামক দেশদোহীকে সবাই চিনে রাখুন।
১০ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৪৪

লেখক বলেছেন: পোস্ট পুরোটা পড়ে তারপর কমেন্ট করেন। ধন্যবাদ

১২ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৪৪

লেখক বলেছেন:

১৩. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:৫৩
অডং চাকমা বলেছেন: @নির্ঝর, চালিয়ে যান আমরা আছি আপনার সাথে। উগ্র জাতীয়তাবাদী ও জামাতীদের তিতা লাগবে। তিতা দিয়ে চিকিতসা করাতে হবে।

উগ্র জাতীয়তাবাদী, জামাতী ও তাদের ভাবশিষ্যরা নিপাত যাক।
১১ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:৫০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

১০ ই এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২৯

লেখক বলেছেন:

১৫. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:১৮
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: @ এস এইচ খান

হায় ইশ্বর নামক দেশদোহীকে সবাই চিনে রাখুন।

আপনের লাইনটা ইন্টারেস্টিং। বুঝায়া বলেন না একটু।
১৬. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:২০
ব্রাইটসেন্ট্রাল বলেছেন: উগ্র উপজাতীয় ফেসিস্ট এবং ফ্যানাটিক শক্তি ধ্বংস হোক।
১২ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৩২

লেখক বলেছেন:

১৭. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:২০
সপ্নবাজ_আমি বলেছেন: @মিলটনরহমান- লন্ডনে না থেকে দেশে এসে মানববন্ধন করেন । আর পারলে পার্বত্য চট্টগ্রাম এ সেটেল হন ।আপনাদের মত মানুষ রা আছে বলে আমাদের এই দশা ।লেজঘুটাইয়া দেশ ছাইরা পালাইছেন আবার বড় বড় কথা বলেন ,মানববন্ধন করেন।
@মিলটনরহমান-লন্ডনে মানববন্ধন না করে দেশে এসে করেন আর পার্বত্য চট্টগ্রাম এ সেটেল হন এবং তখন বেশি বেশি মানববন্ধন করতে পারবেন যদি তা না পারেন তবে মায়াকান্না দেখাবেন না দয়া করে।
@লেখক-বাংলাদেশ এর বড় বড় দূ্যোর্গ এবং বিপদ –এ সেনাবাহিনী এগিয়ে আসছে,আর আপনার মত সুশীলরা তখন লেজ তুলে পালাইছে। আপনার সেনাবাহিনী নিয়ে কোনো কথা বলার অধিকার নাই ।
পার্বত্য চট্টগ্রাম এ যতো রাগ সব বাঙ্গালী এর তাই না বাঙ্গালি কারা ? নিজের স্বজাতির বিরুদ্ধে যারা বলে তাদের কে আমরা বলি রাজাকার,মীর জাফর,আল-বদর, আল-শামস । আচ্ছা আপনি কি বলতে পারবেন পাহাড়িদের হাতে কত জন বাঙ্গালি বা সেনাসদস্য খুন হইছে? কত জন বাঙ্গালি নারী ধর্ষিত হইছে?সেটা নিয়ে আমি লিখব একদিন এই সামু তে।
১০ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৫২

লেখক বলেছেন:
স্যার! আপনি সত্য। শুধু আমাদের দেশে কেনো সারা পৃথিবীতে সেনাবাহিনির ভূমিকা অনস্বীকার্য।
স্যালুট।

১৮. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:৩৬
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: @ সপ্নবাজ- হা হা ............ হাসি আসলো আপনের কমেন্ট পইড়া।

ক্যান পরে কইতাছি।
১৯. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:৪৫
কিরিটি রায় বলেছেন: ইইউর না হয় এনজিওর টেকা খাইয়া দেশী কুত্তা গুলা বিদেশী মিশন বাস্তবায়নে কাজ করে!!!!!

এরা কি???

রাজাকার! মিলেনিয়াম রাজাকার!!!
এদের জণ্য ঘৃনা..
১২ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:৪০

লেখক বলেছেন: তাই নাকি

২০. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:৪৭
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: @ কিরিটি রায়........ট্যাগ দেন ক্যান।
ঠিকাদারি আছে নাকি।
২১. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:৫২
এস এম মোমিন বলেছেন: আবাল কুনহানকার.................বুদাই কুথাকার
১০ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৪৫

লেখক বলেছেন: নিজের নামে গালি দিলা?

১২ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৩৪

লেখক বলেছেন:

১১ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:৪৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আকাশ

২৩. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩২
চন্দন বলেছেন: @সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র আপনি মিডিয়ার সাথে জড়িত তাই আপনার মন্তব্য আশা করছি এখানে

এক পেশে লেখাকে গদাম সহকারে মাইনাস।
১০ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৪৬

লেখক বলেছেন: পোস্ট পুরোটা পড়ে তারপর কমেন্ট করেন। ধন্যবাদ

২৪. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩৩
চন্দন বলেছেন: বাঘাইহাটের প্রকৃত ঘটনা এখানে
১১ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:৪৭

লেখক বলেছেন: বানোয়াট

১০ ই এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

১১ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:৪৫

লেখক বলেছেন: .

২৭. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:০০
হায় ঈশ্বর! বলেছেন: @ সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র ..সুনো আবাল একসময় তোর বাপেরাও মুক্তিযুদ্ধাদের দেশদ্রোহী কইসিলো
১২ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৩৬

লেখক বলেছেন:

২৮. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:৫১
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: @ হায় ঈশ্বর! আমার দাদা সারাদনি খালি আল্লাহর ধ্যান করতেন। আর আমার বাবা একজন সরকারি চাকুরে। ওনার মুক্তিযদ্ধের সার্টিফিকেট আছে।

@ চন্দন বিরোধটা জাতীগত না, রাজনৈতিক। আপনার পোস্ট আগেই পড়া হইছে। সমস্যার সমাধানটাও রাজনৈতিক।
২৯. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:৫৪
সপ্ন পুরন বলেছেন: হায় ঈশ্বর!,বস মনে হয় ক্রস ফায়ার কইরা ফালাইছেন। সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র ভাই,এস এইচ খান রে বুঝায় বলতে বলছে যে সে কেন আপনারে দেশদোহী বলছে।

আমার তো তাই মনে হইলো :||
৩০. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:০১
শৈল্পিক ভাবনা বলেছেন:
হায় ইশ্বর নামক দেশদোহীকে সবাই চিনে রাখুন।
১২ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৩৮

লেখক বলেছেন:

৩১. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:২২
হুনার মন্দ বলেছেন: আবার লাগছে...বহুত দিন আগে একটা পোষ্ট দিছিলাম...বর্তমান চাকমা রাজার বক্তব্য সহকারে...কইতে পারেন....উনি আবার কে? যারা জানেন না...উনি একজন ব্যারিষ্টার...এবং আইনের অনেক বিষয়ই আমাদের অনেকের চাইতে স্পষ্ট বোঝেন..বলেন...

"২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪০

গতকাল চাকমা রাজার সাক্ষাৎকার দেখলাম এটিএন'এ...তিনি যা বললেন...তার সারমর্ম হচ্ছে এই দ্বন্দ্বটা মোটেই জাতিগত নয়...বরং তা হয়েছে ভূমি আইন এবং ভূমি বন্টন থেকে...সরকার চুক্তি মোতাবেক একটা কমিটি করেছে ঠিকই..কিন্তু কোন স্পষ্ট নির্দেশনা দেয় নি...ফলে সেই কমিটি কার্যত অকার্যকর। এবং এখনও এই নিয়ে সরকারের উপরের লেভেলের কারো তেমন কোন বক্তব্য নেই...তাছাড়া পাহাড়ীদের যে গুচ্ছগ্রাম প্রথমে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে তা সেনা ক্যাম্পের পাশেই...সেখানে কিন্তু সেনা সদস্যদের উপস্থিতি তা বন্ধ করতে পারে নি...বাঙালিদের ক্ষেত্রেও একই কথা..ফলে তাঁর যুক্তি হচ্ছে সেনাবাহিনী'র পুনর্নিয়োগ কোন দীর্ঘমেয়াদী সমাধান আনতে পারে না...প্রয়োজন স্বচ্ছ ভূমি আইন...সমতলের সাথে আইনের পার্থক্য কিন্তু ভূমিরূপগত কারণেই...তার সমাধানের জন্য গোত্রপতিরা আছেন..সরকারের নিয়োজিত কর্মকর্তারা আছেন...তাদের মধ্যেও সদ্চ্ছিার অভাব আছে...আর অফুরন্ত জমি'র বিষয়টি অবান্তর...কারণ পাহাড়ীদের চাষযোগ্য জমির পরিমাণ আসলে অনেক কম....

তিনি "খাস" জমির বিষয়টিও উল্লেখ করে বলেন যে, এই ভূমি বন্টনের হিসেবটি অনেক আগ থেকেই আছে..এখানে সরকারের খাস জমির কোন হিসেব নেই...বিষয়টি সংবিধানেও আছে...

আমার মনে হয়..যারা কাল এই আলোচনাটি দেখেছে..তাদের এ সম্পর্কে ধারণাটা অনেক পরিষ্কার হয়ে গেছে...

কে জানে...সরকার আসলে কি চায়!?? আমি শান্তির পক্ষে।"


মূল সমস্যার দিকে না গিয়া ফাও ফাও ফাল দিয়া উইঠেন না... পাহাড়ীগো কথা কইলে দেশদ্রোহী কন? "দেশপ্রমিক ভাইয়েরা"...বাংলাদেশের আর্মি'রে অন্য যেই কোন দেশের আর্মির চাইতে খুব আলাদা কিছু মনে করার কারণ নাই...আমেরিকান আর্মি যেমন বাগদাদে শান্তি নিয়া আসে...আমাগো তেনারাও কিন্তু সিয়েরা লিওন কিংবা কঙ্গোয় জাতিসংঘ নামে আমেরিকার একটা পকেটজাত সংস্থার হৈয়া শান্তি রক্ষা করে...বিপদ-আপদের কথা কন? খালি আর্মিরাই মনে হয় একলা সবাইরে উদ্ধার করে!!...আর আর্মি গো যেই গুণগান শুনলাম....তাতে তো মইন ইউ আহমেদের আমলই ভালো আছিল...দুই বুড়ি'রে জেলের মইধ্যে আটকাইয়া দেশ শান্তিতে (!) রাখছিল...নাকি?

গণতন্ত্রের দরকার নাই...আর্মি শাসিত বাংলাদেশ চাই... (খেখেখেৈখৈখে)
১১ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:৪৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

১১ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:৪৪

লেখক বলেছেন: ইনকিলাবের খবর

৩৩. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:৪৯
রোনাল্ডো ভাই বলেছেন: যে ম্যাপ দিলেন তাতে চট্রগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা সবই চাকমাদের হাতে তুলে দিতে চান বলে মনে হচ্ছে। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে যারা ঘরবাড়ি জমিজমা হারাবে তাদের কোথায় পাঠাবেন? আমার মনে হয় বিদেশীরা এ ব্যাপারটা চাকমাদের বুঝাতে পেরেছে তাই তাড়াতাড়ি পার্বত্য চট্রগ্রামে বাংগালী জনসংখ্যা সীমিত করতে চাচ্ছে।
১১ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:২৬

লেখক বলেছেন: আপনার বুদ্ধি ভালো

৩৪. ১১ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:৫৬
অমিত চক্রবর্তী বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
১১ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:৪৩

লেখক বলেছেন: তোমাকেও ধন্যবাদ

৩৫. ১১ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:০৪
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন: আসো উলুবনে মুক্তা ছড়াই।
___________________
আসো উলুবনে মুক্তা ছড়াই।
___________________
আসো উলুবনে মুক্তা ছড়াই।
___________________
আসো উলুবনে মুক্তা ছড়াই।


সেই মুক্তা কুড়াতে পাঠাই চকমাদের যাদের এক জেনারেশন অন্ধকারে পচে গেচে পাশের দেশের ক্যাম্পে, সেই কুড়ানো মুক্তা আড়তে জমা করতে তাদের পাঠাই শহুরে জহুরুরির কাছে।

আসো উলুবনে মুক্তা ছড়াই।
___________________
আসো উলুবনে মুক্তা ছড়াই।
___________________
আসো উলুবনে মুক্তা ছড়াই।
___________________
আসো উলুবনে মুক্তা ছড়াই।


________________________________________
________________________________________
________________________________________


এই চট্টগ্রামের পাহাড়েই আশ্রয়দেয়া হয়ছে সরকারিভাবে উ পূ ভারতের সন্ত্রসাবাদীদের। যাদের কয়জন মাস খানেক আগের ডামাডোলে পুলিশের খাতায়ও গেছে। তাদের ক্যাম্প এখনও আছে।

________________________________________
________________________________________
________________________________________

আসো উলুবনে মুক্তা ছড়ায়ে আরেকটা কথা জিগাই, চাকমা এবং অন্যরা ( কালেক্টিভলি যারা জুম্মা), এখনও চট্টগ্রাম পাহাড়ের আরও পূবে কেন যেতে চায় সুযোগ বুঝেই!!??? জুম চাষীরা স্বভাবতই এখজায়গায় থাকেন না ??
২০১০ এ কেন এখনও জুম চাষ? সেটল হয় না কেন ?

এটা যদিও কারন না, কারন আমেরিকা ও সৌদিতে যাওয়ার মতই, কাজের অভাব! যদিও সেই রেমিটেন্স তারা পাঠাতে পারবে না কারন সেভাবেও তাদের প্রস্তুতির সুযোগ নেই।

আসো উলুবনে মুক্তা ছড়াই।
___________________
আসো উলুবনে মুক্তা ছড়াই।
___________________
আসো উলুবনে মুক্তা ছড়াই।
___________________
আসো উলুবনে মুক্তা ছড়াই।
১২ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:৩৬

লেখক বলেছেন:







২২ শে মে, ২০১০ সকাল ১১:২৭

লেখক বলেছেন: লেট ইট বি

৩৭. ১৫ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ২:২৫
মনজুরুল হক বলেছেন: এখন আর শান্তিচুক্তি দিয়ে কি হবে? আদালত তো সব খারিজ করে দিয়েছে! বাঙালিত্ব জয়যুক্ত হয়েছে, জয়যুক্ত হয়েছে, জয়যুক্ত হয়েছে।

ভালই হলো। নতুন করে আগুন জ্বালাবার ব্যবস্থা হলো আর কি! দেখো, জাতীয়তাবাদের শক্তিমত্তা!


পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইনকে অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের কিছু কিছু বিধানও বাতিল করা হয়েছে। এ রায়ের ফলে পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ এবং এ আইনের অধীনে পরিচালিত সকল কাজ অবৈধ হয়ে গেছে। তবে জনসংহতি সমিতির সঙ্গে সম্পাদিত শান্তিচুক্তি একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বলে এর বৈধতা বিচারের প্রয়োজন নেই। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর বেঞ্চ এ রায় দেন। রায় স্থগিত রাখতে সরকারপক্ষ তাৎক্ষণিক আবেদন জানালেও তা আমলে নেয়নি আদালত। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরের বছরই এই চুক্তির আওতায় গঠিত হয় পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ। আঞ্চলিক পরিষদের কারণে আদিবাসী পাহাড়ি ও বসতিস্থাপনকারী বাঙালিদের মধ্যে বৈষম্য বেড়ে চলেছে- এ অভিযোগে ২০০০ সালে মোঃ বদিউজ্জামান নামে রাঙ্গামাটির একজন বাঙালি অধিবাসী একটি রিট আবেদন করেন। পরে একই অভিযোগে ২০০৭ সালে আরেকটি রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোঃ তাজুল ইসলাম। রিটে পার্বত্য শান্তিচুক্তি, পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ আইন এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ সংশোধনী আইন ১৯৯৮-এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। গতকাল দেয়া রায়ে শান্তি চুক্তিকে ‘সহিংসতা বন্ধে রাজনৈতিক সমঝোতা’ অভিহিত করে এর বৈধতা আদালতের বিবেচনার বিষয় নয় মন্তব্য করা হলেও কার্যত এ রায় চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া বাতিল করেছে। বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর বেঞ্চ সোমবার রায় পড়া শুরু করে গতকাল মঙ্গলবার শেষ করেন। সরকার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাবে। রায়ের পর অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আপিল করার জন্য সনদ চান। একইসঙ্গে রায় স্থগিত রাখতেও হাইকোর্টের ওই বেঞ্চে আবেদন করেন। সে আবেদন নাকচ করে আদালত। ড. কামাল হোসেন বলেন, আপিল বিভাগ রয়েছে, তাই এটিই চূড়ান্ত রায় নয়। চুক্তি বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখতে আইনি লড়াই চলবে। রায়ের পর রিটকারীদের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেনঃ "আদালত পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। এখন পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ বলতে কিছু নেই। আদালত রায়ে বলেছে এ পরিষদ বাংলাদেশের একক চরিত্র ধ্বংস করেছে। পার্বত্য জেলা পরিষদের আইনে বাঙালিদের কিছু অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছিল। আদালত আইনের শাসনের পক্ষে রায় দিয়েছে। শান্তি চুক্তির অধীনে করা আইনে বাংলাদেশীদের যেসব অধিকার হরণ করা হয়, তা আদালত পুনরুদ্ধার করেছে। জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা বলেছেন, এ ব্যাপারে কয়েকদিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। আদালত রায়ে দেয়া পাঁচটি নির্দেশনায় বলেছেঃ ১. শান্তি চুক্তির পর পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন ও তিনটি জেলা (বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি) পরিষদ আইন হওয়ায় চুক্তির আর কার্যকারিতা নেই। এ কারণে এর বৈধতা নিয়ে আদালতের বিবেচনার প্রয়োজন নেই। ২. সরকার ইচ্ছা করলে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের আদলে বিকল্প হিসেবে একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা করতে পারে, যার সদস্যরা হবেন সরকার কর্তৃক মনোনীত। ৩. তিনটি পার্বত্য জেলার শান্তি প্রক্রিয়ায় সব রাজনৈতিক দল-মতের সমন্বিত প্রচেষ্টায় শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারগুলো দীর্ঘ সময় অতিক্রম করলেও ওই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার শাসন শান্তি প্রক্রিয়ার জীবনপ্রবাহ; একে সব সময় উৎসাহ জোগাতে ও কার্যকর করতে হবে। ৪. অনগ্রসর শ্রেণী নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশে কমিশন ও সংস্থা গঠনের নজির আছে। জীবনযাত্রা, আয়, শিক্ষা, জমির মালিকানাসহ সামগ্রিক বিষয় বিবেচনা করে অনগ্রসরতা নির্ণয় করা হয়। আমাদের দেশেও রাষ্ট্র এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে। এজন্য যৌক্তিক ও সুবিধাজনক পদ্ধতি নির্ণয় করতে হবে। ৫. ভূ-কৌশলগত অবস্থান, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, শান্তি চুক্তি হওয়ার প্রেক্ষাপটসহ সামগ্রিক বিষয় বিবেচনায় শান্তি প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখে এগিয়ে নিতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ (সংশোধিত) আইন বাতিলের রায়ে আদালত বলেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ কোনো স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নয়। এই আঞ্চলিক পরিষদকে বাংলাদেশের প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। আদালত সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর রায়ের উদাহরণ টেনে বলেন, আঞ্চলিক পরিষদ আইন রাষ্ট্রের একক চরিত্রের সাংবিধানিক ভিত্তিতে আঘাত হেনেছে। তাই আইনটি সংবিধান পরিপন্থী ও বাতিল ঘোষণা করা হলো। পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ (সংশোধিত) ১৯৯৮ আইন এর চারটি ধারা বাতিল করেছে আদালত। আইনটির ৬(ঙ) ধারা বাতিলে আদালত অভিমতে বলেছে, এতে উপজাতীয় গ্রামপ্রধানের কাছ থেকে সনদ নেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় তা সংবিধানের ২৭, ২৮, ২৯, ও ৩১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। ১১ ধারা বাতিলের বিষয়ে আদালত বলেছে, পার্বত্য জেলায় অ-উপজতীয়দের ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে সেখানে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার বিধানটি অসাংবিধানিক। এর মাধ্যমে অ-উপজতীয়দের অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে। যদিও বাংলাদেশের সব জায়গায় তাদের ভোটার হওয়ার অধিকার রয়েছে। ১৫ ধারা বাতিলের বিষয়ে আদালত বলেছে, পার্বত্য তিন জেলায় যাবতীয় নিয়োগের ক্ষেত্রে উপজাতীদের অগ্রাধিকার দেয়ার বিধান সংবিধানের ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩১ ধারার পরিপন্থী। আদালত ওই আইনের ২৮ ধারায় পুলিশ নিয়োগের ক্ষেত্রে উপজাতীদের অগ্রাধিকার দেয়ার বিধান অসাংবিধানিক বলে বাতিল করেছে। শান্তি চুক্তির বিষয়ে আদালত বলেছে, পার্বত্য শান্তি চুক্তি একই রাষ্ট্রে দুটি বিবদমান পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত একটি রাজনৈতিক সমঝোতা। এই চুক্তির মাধ্যমে সংঘাতে লিপ্ত দুটি পক্ষ তাদের অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে তারা শান্তির শর্তাবলী নির্ধারণ করেছে। সেজন্য এ চুক্তি সংবিধানের ১৪৫ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আন্তর্জাতিক চুক্তির পর্যায়ে পড়ে না। আদালত অভিমতে আরো বলে, চুক্তিটি কেবল রাজনৈতিক চুক্তি। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন হয়েছে। এটি সরকার ও উপজাতীদের মধ্যে সশস্ত্র আন্দোলন সমাপ্তির জন্য করা হয়েছিল। এটি আদালতের বিচারিক হস্তক্ষেপের বিষয় নয়।

লিঙ্কঃ Click This Link
২২ শে মে, ২০১০ সকাল ১১:৩০

লেখক বলেছেন: গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ, দাদা

৩৮. ২৬ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২১
মতিউর রহমান সাগর বলেছেন: আরো পড়ার অবকাশ রাখতে প্রিয়তে নিলাম...
২২ শে মে, ২০১০ সকাল ১১:৩৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২২ শে মে, ২০১০ সকাল ১১:৩৯

লেখক বলেছেন: ???????????????????

২২ শে মে, ২০১০ সকাল ১১:৩৯

লেখক বলেছেন: ??????????????????

০১ লা জুলাই, ২০১০ রাত ১১:০৭

লেখক বলেছেন: তাই নাকি!
শুভরাত্রি

৪২. ১০ ই জুলাই, ২০১০ বিকাল ৪:১২
রিপন উদ্দিন বলেছেন: কিরিটি রায় বলেছেন: ইইউর না হয় এনজিওর টেকা খাইয়া দেশী কুত্তা গুলা বিদেশী মিশন বাস্তবায়নে কাজ করে!!!!!

এরা কি???

রাজাকার! মিলেনিয়াম রাজাকার!!!
এদের জণ্য ঘৃনা.
৪৩. ১৭ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:২০
ফুরামন ২ বলেছেন: এই ঘটনাটা পুরোটাই ছিল সাজানো ঘটনা। এটা অন্য কেউ নয়, এই মন্তব্য করেছেন সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান এল থাঙ্গা পাংখোয়া।
বিস্তারিত এখানে দেখুন-

Click This Link
৪৪. ১৭ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:০৫
ফুরামন ২ বলেছেন: চাকমারা নিজেদের ঘরে আগুন লাগিয়ে বাঙালির দোষ দিচ্ছে--- থাঙ্গা পাঙ্খো
০৮ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৫:০১
শেয়ার করুন:

আজ দৈনিক ইনকিলাবে বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এল থাঙ্গা পাঙ্খো'র স্বাক্ষাৎকার ভিত্তিক একটি সংবাদ ছাপা হয়েছে। সংবাদটি ব্লগারদের জন্য তুলে দিলাম। তবে এর জন্য আবার আমাকে ব্লগ থেকে ব্যান করা হবে কিনা জানি না? কেননা একই বিষয়ে লেখাকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগে একবার জেনারেল করা হয়েছিল।
আজকের দৈনিক ইনকিলাবের প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত সংবাদ---

চাকমারা নিজেদের ঘরে আগুন লাগিয়ে বাঙালিদের দোষ দিচ্ছে
--থাঙ্গা পাঙ্খো
রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার বিক্ষুদ্ধ সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এল থাঙ্গা পাঙ্খো বলেছেন, চাকমারা নিজেরাই নিজেদের ঘর পুড়িয়ে বাঙালীদের দোষ দিচ্ছে। বাঘাইহাটের সা¤প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য চাকমাদের অতি বাড়াবাড়ি দায়ী। দৈনিক ইনকিলাবকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, চাকমারা বাঘাইহাট বাজার বর্জন অব্যাহত রেখে গঙ্গারাম মুখে নতুন বাজার বসাতে চেষ্টা করছে। সেখানে তারা ৪১টি বাঙালী পরিবারের জায়গা দখল করে নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, এনজিওরা বর্তমানে যেসব ত্রাণ বিতরণ করছে তা বাঙালীরা পাচ্ছে না।
এল থাঙ্গা পাঙ্খো বলেন, গত ৪ মার্চ রাতে সাজেকের ভাইবোন ছড়ায় ছয়টি উপজাতির ঘর পুড়ে গেছে, সংবাদে এসেছে কে বা করার পুড়িয়েছে। কিন্তু যারা অত্র এলাকার জনগণ বা প্রত্যক্ষদর্শী তারা প্রত্যেকেই জানে এই ঘটনায় চাকমারা নিজেরাই নিজেদের ঘর পুড়িয়েছে প্রতিপক্ষকে দোষারোপ করার জন্য। কিন্তু মিডিয়ায় তো সত্য ঘটনা আসছে না। তিনি বলেন, ইউপিডিএফ-এর ভয়ে কেউ সত্য কথা বলছেনা। চেয়ারম্যান হিসাবে আমাকে মাঝে মধ্যে পাহাড়ে যেতে হয় আর পাহাড় ইউপিডিএফ-এর নিয়ন্ত্রণে থাকায় সত্য কথা বলায় আমারো বিপদ হতে পারে।

এলাকায় ইউপিডিএফ এর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। যেহেতু মাঝে মধ্যে আমাকে পাহাড়ে যেতে হয় সেকারণেই এখানে সত্য কথা বলা আমাদের জন্য খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে।
দৈনিক ইনকিলাবকে সাক্ষাৎকারে বাঘাইহাটের সা¤প্রতিক অস্থিরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাঙালীরা সাজেকে এসেছে ১৯৬০ সালের দিকে আর চাকমারা এসেছে ১৯৯৭-১৯৯৯ সালের দিকে পাশ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলার থেকে। এখানকার জমির ১০ ভাগের ৮ ভাগই রিজার্ভ ফরেস্ট। হেডম্যানরা সবাই পাঙ্খো লুসাই স¤প্রদায়ের। সে হিসাবে এখানে বাঙালী চাকমা কারোরই কোনো বৈধ জমি নেই।
১৯-২০ ফেব্রুয়ারীর অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, গঙ্গারামমুখের বালুঘাট এলাকার বাসিন্দা পাথরমুনি চাকমার কাছে একই এলাকার বাঙালী শাহ আলম অনেক টাকা পেত। সে টাকার বিনিময়ে পাথরমুনি চাকমা তার অধিকৃত একটি জায়গা শাহ আলমকে স্টাম্পে লিখিতভাবে দিয়ে দেয়। ইউএনডিপি সমর্থিত হিলেহিলি নামক এনজিও সাজেক নারী উন্নয়ন সংস্থা নামক আরেকটি ছোট এনজিওকে একটি প্রজেক্ট দেয় সেখানে অফিস করার জন্য। সাজেক নারী উন্নয়ন সংস্থা বালুঘাটে শাহ আলমের ঐ জায়গায় তাদের প্রজেক্ট অফিস নির্মাণ করতে শুরু করলে শাহ আলম তাতে বাঁধা দেয়। এ নিয়ে বাঙালী পাহাড়ীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শাহ আলম আইনের আশ্রয় নিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে অর্ধেক সমাপ্ত অবস্থায় প্রজেক্ট অফিসের কাজ নির্মাণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে চাকমারা বাঘাইহাট বাজার অবোরোধ করে আর বাঙালীরা সড়ক অবোরোধ করে। এরপর বাঘাইছড়িতে ঘটনার মিমাংসার জন্য ইউএনও একটি বৈঠক ডাকে। এলাকার চেয়ারম্যান হিসাবে আমিও সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম। শাহ আলম যখন কাগজপত্র দেখিয়ে বলল, আমার জায়গায় কেন এনজিও অফিস নির্মাণ করা হলো। তখন আমি তাদের বললাম, এটাতো রিজার্ভ ফরেস্ট, শাহ আলমের জায়গা বাদ দিযে আরো অনেক জায়গা আছে সেখানে ঘর তোলেন। কিন্তু সেখানে উপস্থিত ইউএনডিপির চাকমা কর্মকর্তারা তাতে রাজি হলো না। ইউএনডিপি’র কর্মী অফিসাররা তো সবাই চাকমা। এরপর গত ১৪ ফেব্রুয়ারী আমার ইউনিয়ন পরিষদে ইউএনও এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি গঠন করে আমাকে সে কমিটির আহবায়ক করে। আমি সেই মিটিংএ বললাম, বিষয়টাকে আর বাড়তে দেয়া হউচিত হবে না। বাঙালীরা রাস্তা অবরোধ তুলে নাও আর চাকমারা বাঘাইছড়ি বাজার বয়কট কর্মসূচী তুলে নিক। বাঙালীরা এ প্রস্তাবে রাজি হলেও মিটিংএ উপস্থিত চাকমারা তাতে রাজি হয়নি। পরে আমি রাতে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির এক চাকমা সদস্যকে ফোন করলে তিনি আমাকে বলেন, এই চেয়ারম্যান আপনি মিটিংএ একথা বললেন কেন? বাঙালীরা রাস্তা অবোরোধ তুলে নিক কিন্তু আমরা বাঘাইহাট বাজার অবোরোধ কর্মসূচী তুলে নেবো না। ইউএনও ১৮ তারিখ ফাইনাল মিটিংএর দিন ধার্য করে। কিন্তু তারা আমাদের কথা শুনতে রাজি না হওয়ায় সে মিটিং আর হয়নি।
এল থাঙ্গা বলেন, ওখানে কাচলং নামে একটা নদী আছে যার একপাশে বাঙালীদের বসবাস আর অন্যপাশে চাকমাদের গুচ্ছগ্রাম, মাঝখানে বাজার। ১৯ ফেব্রুয়ারী রাত ১২টায় চাকমারা বাজার দখলের ঘোষণা দিয়ে ‘উজাও উজাও’, ‘এডভান্স, এডভান্স’ বলে সংগঠিত হতে থাকে। এসময় তারা বাঙালীদের উচ্ছেদ করার জন্য তাদের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। তখন বাঙালীরাও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। গঙ্গারামমুখ এলাকায় চাকমারা নিজেরাই নিজেদের অনেক ঘরে আগুন লাগিয়েছে। পরদিন চাকমাদের গ্রাম থেকে বাঙালীদের দিকে গুলী ছোঁড়া হয়। সেসময় আর্মিরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করে। তাদেরকে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে বলে। তারা পোষাকধারী ছিল বলে তাদের ‘কালা কুত্তা’ বলে গালাগালি করতে থাকে চাকমারা। এসময় সার্জেন্ট রেজাউল নামে এক সেনাসদস্যকে চাকমারা দা দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে।
সাজেক চেয়ারম্যান বলেন, গত ৪ মার্চ রাতে যে ৬টি ঘর পুড়েছে। আমার বাসার পশ্চিম দিকে আলো দেখে আমি পুলিশ নিয়ে দৌড়ে আসি। আধা ঘন্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখি বেশ কয়েকটি ঘরে এর মধ্যে তারা আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। সেখানে ইউনিসেফের একটি স্কুল আছে। এই স্কুলে আগুন লাগাতে যাওয়া একজন আমাদের আসা দেখতে পেয়ে আগুন রেখে পালিয়ে যায়। অন্ধকার থাকায় আমি তাকে সনাক্ত করতে পারিনি।
তিনি বলেন, বাঙালীরা যেখানে বসবাস করে সেখান থেকে ঘর পোড়া স্থানের দুরত্ব ১ কিলোমিটার। নিরাপত্তাহীনতার কারণে বর্তমানে তারা সেনা পুলিশ নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে বসবাস করছে। কাজেই বাঙালীদের পক্ষে সেখানে গিয়ে ঘর পোড়ানো অসম্ভব। ফলে বুঝতে কারো অসুবিধা হবার কথা না কারা এই আগুন লাগিয়েছে।

সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান এল থাঙ্গা পাঙ্খো বলেন, এনজিওরা যেসব ত্রাণ বিতরণ করছে তা বাঙালীরা পাচ্ছে না। এখানে যাদের ঘর নেই বাড়ি নেই তারাও ত্রাণ পাচ্ছে, ঘর তৈরীর টিন পাচ্ছে। কিন্তু ঘরবাড়ি পুড়েছে এমন অনেকে ত্রাণ পাচ্ছে না। তিনি বলেন, চাকমারা বাঘাইহাট বাজার বর্জন অব্যাহত রেখে গঙ্গারাম মুখে নতুন বাজার বসাতে চেষ্টা করছে। সেখানে তারা ৪১টি বাঙালী পরিবারের জায়গা দখল করে নিয়েছে। সরকারের উচিত দ্রুত এ সমস্যার ন্যায্য সমাধান করা।
৪৫. ২৪ শে জানুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৫১
পিচ্চি চাপাবাজ বলেছেন: a very heart touching pic.but never seen any bangali is crying.most probably they r so heartless that after loosing their relatives they dont feel anything.
৪৬. ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৩:৫৩
রুদ্র রেজা বলেছেন: কিসু গানজা খোরি information ase.......
৪৭. ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ৮:০৩
বিপ্লব রহমান বলেছেন: অনেক দেরীতে হলেও বলছি:

চমৎকার তথ্যবহুল লেখা। অনেকদিন পাহাড়ের ওপর এমন গভীর বিশ্লেষণমূলক লেখা পড়িনি। লেখককে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

একইসঙ্গে বিনীত অনুরোধ জানাই, মুক্তমনা ডটকম-এ প্রকাশিত আমার ই-বুক রিপোর্টারের ডায়েরি: পাহাড়ের পথে পথে এবং একই স্থানে আমার ব্লগগুলো পড়ার জন্য।
---
এই লেখাটি ফেসবুক গ্রুপ পাহাড়ের রূদ্ধকণ্ঠ CHT Voice - এ শেয়ার করলাম।
৪৮. ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ৮:০৫
বিপ্লব রহমান বলেছেন: অনেক দেরীতে হলেও বলছি:

চমৎকার তথ্যবহুল লেখা। অনেকদিন পাহাড়ের ওপর এমন গভীর বিশ্লেষণমূলক লেখা পড়িনি। লেখককে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

একইসঙ্গে বিনীত অনুরোধ জানাই, মুক্তমনা ডটকম-এ প্রকাশিত আমার ই-বুক রিপোর্টারের ডায়েরি: পাহাড়ের পথে পথে এবং একই স্থানে আমার ব্লগগুলো পড়ার জন্য।
---
এই লেখাটি ফেসবুক গ্রুপ পাহাড়ের রূদ্ধকণ্ঠ CHT Voice - এ শেয়ার করলাম।

 

মোট সময় লেগেছে ১.২০৭৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
i am looking for the face i had
before the world was made.
-yeats.
© নির্ঝর নৈঃশব্দ্য...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ