ড়াশেদ আর ভিমা কে নিয়ে, চিকন মিয়া রাস্তার অপরপাশে একটি চিপা গলির ভিতরে দাড় করানো স্কুল ভ্যানের মধ্যে উঠে পড়লো।এমন বিতিচ্ছিরি রকমের ভ্যান দেখে ড়াশু মনে মনে অনেকখানি দমে গেলো
প্রথমটা অত্যন্ত অন্ধকার।তারপর একটা সিঁড়ি দেখা গেলো,সেখানে বাতি জ্বলছে।সিঁড়ি বয়ে উপরে উঠে ড়াশু একটা বড় হলরুমে ঢুকে পড়লো।সে প্রথমে ভেবেছিলো,নাদান ব্যাপারী যখন এত ধনী লোক তখন গৃহসজ্জাদি নিশ্চয় সাহেবী ধরনের হবে
চিকনমিয়া এসে টাকমাথা লোকটি কে বললো ,"বাবা -এই হচ্ছে ড়াশেদ"।-"বাবা" আর কেউ নন-স্বয়ং নাদান ব্যাপারী।নাদন ব্যাপারী আদর করে ড়াশু কে কাছে বসিয়ে কিছুক্ষন নানা কথায় সময় কাটালো,তারপর চিকনমিয়া কে ডেকে বললো,"বাবা চিকনা- আমি ভিতরে গিয়ে মেয়ে কে নিয়ে আসতে বলি
এই বলে নাদান ব্যাপারী ভিতরে চলে গেলো।চিকনা সেখানে বসে রইলো।কিছুক্ষন পরে এক চাকর এসে প্লেটে করে কিছু মিষ্টি আর গ্লাসে বাদামের শরবত দিয়ে গেলো।
চিকনা বললো,"আপনারা ক্লান্ত হয়ে এসেছেন,-তাই বাদামের শরবতের ব্যাবস্থা করেছি, ময়ুরী নিজের হাতে বানিয়েছে আপনার জন্য"।
ড়াশেদ আর ভিমা চিকনার অনুরোধে মিষ্টি আর শরবত শেষ করলো।ড়াশু তার সদরঘাট থেকে ৬৫ টাকা দামের ক্যাসিও ঘড়িতে দেখলো রাত আটটা বাজে।ঘড়ি দেখতে দেখতে তার চোখ দুটি যেন ঘুমে জড়িয়ে আসতে লাগলো।এদিকে ভিমা শরবত খাওয়ার পরেই দুই পা দু দিকে ছড়িয়ে মহিষের ন্যায় ভোঁষ ভোঁষ করে নাক ডাকতে শুরু করেছে
চিকনা ড়াশু কে বললো, "আপনি গান বাজনা জানেন কি? আমাদের বাড়ির মহিলারা আবার গানবাজনা খুব পছন্দ করে"
ড়াশু বললো, "গান বাজনা? জানি বৈ কি! আমি গান গাইটে পারি আর ভিমা খুব সুন্দর নাচতে পারে।ওর নাচের সামনে অন্জু ঘোষও ফেল"
ঔষুধের ক্রীয়ায় ড়াশুর মস্তষ্ক চনমন হয়ে উঠেছে।তার মনে হতে লাগলো- সে যেন কোন ডিস্কোতে ঢুকেছে।চারপাশে তাকে ঘিরে সুন্দরী বালিকারা নর্তনকূর্দন করছে।
ড়াশু উঠে দাড়িয়ে চিকনা কে বললো,"গান? শুনবে একটা? বলে ভিমা কে চুলের মুঠি ধরে দাড় করিয়ে নাচতে বলে গান ধরলো-
অল্প বয়সে করলাম বিয়া
মুরুব্বীরা কইলো সবাই
নো টেনশন নো চিন্তা
পাইছো জীবন দারুন একটা পুলা
পুলা তো নয় সে তো আগুনেরই গুলা
পুলা তো নয়,একখান আগুনেরই গুলা"
গানের সাথে তাল মিলিয়ে ভিমা, ভাওয়া ব্যাঙ্গের মতো, তার বাঁশের কন্চির ন্যায় চিকন হাত পা উর্ধ্ধকাশে ছুড়তে লাগলো
"পুলা তো নয়,একখান আগুনেরই গুলা" লাইনটির পর ড়াশুর মুখ দিয়ে আর কোন কথা বের হলনা।গু-গু-গু কয়েকবার বলে ভিমা কে নিয়ে মেঝের উপর চিৎপটাং হয়ে পড়ে গেলো।
কিছুক্ষন পর নাদান এসে বললো,"কিরে ঔষুধে কাজ হয়েছে?"
চিকনা হেসে বললো,"হবে আবার! যাবে কোথায়?"
নাদান বললো,"দেখতো কি পাওয়া যায়"
চিকনা তখন অচেতন ড়াশু আর ভিমার শরীর থেকে একে একে ঘড়ি ,চেন,নগদ ৪২০ টাকা মায় পান্জাবী পর্যন্ত খুলে নিলো।শুধু অতি ব্যবহারে মলিন লাক্স কোম্পানির লাল রঙ্গের জাঙ্গিয়া দুইখান ছেড়ে দিলো
তারপর নাদান আর চিকনা, ড়াশু আর ভিমার দেহ দুটি বয়ে নিয়ে গুলিস্তান সিনেমা হলের সামনে শুইয়ে দিয়ে আসলো।
কয়েকদিন পরে মিরপুরের মানুষজন শুনলো,ড়াশেদ আর ভিমা তাদের সব ধন সম্পদ পরিত্যাগ করে সন্ন্যাস নিয়ে লেংটি পরে হিমালয় গমন করেছে
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৩:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


