ঘটনা:১
মে ২০০৮, একদিন ভোরবেলা ঘুমঘুম চোখে সিগারেট কেনার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে সিড়ি ভেঙ্গে নীচে নামছিলাম হঠাৎ আমার পা যুগলের আত্মসন্মানবোধ মাথাচাড়া (নাকি পা চাড়া)দিয়ে উঠলো।তাদের মনে হলো এতদিন তাহারা শরীরের নিম্নাংশে অবস্থান করেছে এইবার সময় হয়েছে উপরে উঠবার অর্থাৎ মস্তকের স্থান দখল করবার।তাদের এহেন সিদ্ধান্তে তৎক্ষনাত বাসার সিড়ি আমার মাথার উপরে আর ছাদ আমার পায়ের নীচে চলে আসলো।এই অবস্থায় সিড়ি দিয়ে এক্সপ্রেস ট্রেনের গতিতে ফুটবলের মতো গড়াতে গড়াতে ৪ তলা থেকে ৩ তলায় এসে থামলাম সাথেসাথে দুই চোখে নিকষ কালো অন্ধকার ঘনায় আসলো।হুশ ফেরার পর দেখি হাসপাতালের বিছানায় মাথায় বিশাল একটা পট্টি বেধে শুয়ে আছি আর আমার ডান পা বিধবার সাজে সজ্জ্বিত হয়ে রশি দিয়ে বেডস্ট্যান্ডে ফাঁসী নিয়েছে মানে ঝুলে আছে। ঐ ঘটনায় আমার ৫ কেজী ওজনের ঠ্যাং এ ৫০ কেজী ওজনের প্লাষ্টার বেঁধে ২ মাস বিছানায় শয্যাশায়ী ছিলাম।এ অবস্থায় সবচেয়ে বড় যন্ত্রনা ছিলো চুলকানী।সারাক্ষন পায়ের পাতা চুলকাতো কিন্তু কিছুই করতে পারতাম না।একদিন চুলকানীর চোটে পায়ের ঘায়ে (নাকি মাথার ঘায়ে!?)হনলুলু পাগল অবস্থা।
ঘটনা:২
সেপ্টেম্বর ২০০৮।বান্ধবীর সাথে ফোনে মানঅভিমান পর্ব শেষে মাথা ঠান্ডা করার উদ্দ্যেশ্য ধানমন্ডির মোটামুটি নির্জন এক গলিতে বৈকালিক ভ্রমন করতেছিলাম।নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে উদাস নয়নে সন্ন্যাসী হবো কিনা এইরূপ উচ্চ মার্গীয় ভাবনায় বুঁদ ছিলাম হঠাৎ দেখি রাস্তা আকাশে উঠে গেছে আর আকাশ পায়ের নীচে নেমে আসছে।এইরুপ ঘটনা কিভাবে ঘটা সম্ভব তা নিয়া গভীর চিন্তায় নিমগ্ন হতে যাবো সেই মুহুর্তে উপলদ্ধি করলাম চারখানা হস্ত আমাকে নিয়া টানাটানি করতেছে।হস্তদ্বয় এমন ভাবে আমার দেহখান টানতে ছিলো যে আমার মনে হতে ছিলো দেহ আট টুকরা না হওয়া পর্যন্ত তাহারা থামবে না।এদিক সেদিক তাকিয়ে বুঝতে পারলাম আমি ঠেলাগাড়ীর নীচে জিলাপীর মতো প্যাচ খেয়ে আছি।এই নির্জন গলিতে ঠেলাগাড়ী কোথ্থেকে আসলো সেটা নিয়া চিন্তাভাবনা করবো কি না তা চিন্তা করার আগেই দেখি সেই চার হস্তদ্বয় আমাকে প্যাচমুক্ত করে ফেলেছে।ঠেলাগাড়ীর হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার পর দাড়াতে গিয়ে দেখি বা পায়ে ভর দিতে পারছি না ব্যাথার চোটে।অতঃপর কয়েকজনের সাহায্যে রিকশায় উঠে ডাক্তার নামক জল্লাদের কাছে গেলাম।সবকিছু দেখে ডাক্তার বললো মচকে গেছে একসপ্তাহ বেড রেস্টে থাকতে হবে।হাটাচলা করা যাবে না।
ঘটনা:৩
নভেম্বর ২০০৮।বন্ধুর বিয়ে কয়দিন পরেই,এই উপলক্ষে বন্ধুর দেওয়া ব্যাচেলর পার্টিতে গিয়েছিলাম।পার্টির একপর্যায়ে সবাই বিয়ের পর আসন্ন বিপর্যয়ের কথা শুনিয়ে বন্ধু কে ভয় দেখানোর সফল চেষ্টা করছে।বন্ধুকে এই অবস্থায় দেখে আমার ৩২ টা দাত খুশিতে যে বের হলো আর ভিতরে যাবার নাম নেয়না।আমাকে দাত কেলাতে দেখে বন্ধুর মুখ কালো হতে থাকলো।আমি যত দাত কেলাই বন্ধুর মুখ তত কালো হয়।বন্ধু আমার টকটকে গৌড়বর্ণ হলেও আমার অনবরত দাত কেলানোর সুবাদে তা কালো হতে হতে আবলুশ কাঠের ন্যায় রং ধারন করলো।আমার খুশি তো আর ধরেনা।বিপদের দিনে পাশে একজন সহযোদ্ধা পেলে কে না খুশি হয়।খুশীর চোটে আমার পদদ্বয়ও দেখি নড়াচড়া শুরু করলো মানে নাচার জন্য অস্থির হয়ে উঠলো যদিও আমি নাচতে পারিনা।নাচের নামে যা করি তা হাত পা ছুড়াছড়ি করার সামিল।আমার এইরুপ হাত পা ছুড়াছুরি অনেক বন্ধুর কাছে ঘন কালো বিভীষিকাময় দূঃস্বপ্নের চেয়ে কোন অংশে বেশী বৈকি কম নয়।এহেন ছুড়াছুড়ি ফলে অনেক বন্ধুকে নাক,চোখ,দাতের ডাক্তারের স্বরণাপন্ন হতে হয়েছে।যাই হোক ঐ দিন পদযুগলের অনুরোধ রাখতে গিয়ে ও প্রাণপ্রিয় বন্ধুর কোরবানী হওয়ার খুশিতে তুড়ুক তুড়ুক করে যে দু'পাক নাচতে যাবো ওমনি দেখি সোফা ও সোফাতে বসা গোটাদুয়েক বন্ধুকে নিয়ে ধরণীপ্রপাত হলাম।বন্ধুদের সাহায্যে কিছুক্ষন পর দাড়াতে পারলাম কিন্তু পায়ে ব্যাথার চোটে আবার বসে পড়তে হলো।ফলাফল ডাক্তারের কাছে যাওয়া এবং পা মচকানোর কারণে আবারও দিন সাতেক বিছানায় শয্যা গ্রহন করা।
ঘটনা:৪
১৯ শে ফেব্রুয়ারী ২০০৯।সারারাত বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ন বিষয়ে এবং ততোধিক গুরুত্বপূর্ন ব্যাক্তিদের সাথে মতবিনিময় অর্থাৎ ব্লগিং শেষে সকালে নাস্তার টেবিলে হাজির হলাম।ডিম সহকারে পরোটার টুকরো টা গলাধকরণ করতে যাবো এই সময় মনে হলো কে যেনো আমার ডান পায়ের বুড়া আঙ্গুলে তীক্ষ্ম ছুরি বসিয়ে দিয়েছে।টেবিলের নীচে মাথা ঢুকিয়ে দেখলাম পাশের ফ্ল্যাটে অবস্থানরত খালাতো বোনের আদরের বেড়াল আমার বৃদ্ধাঙ্গুলী কামড়ে ঝুলে আছে।এ অবস্থায় রান্নাঘর থেকে বেলন যোগাড় করে যেই অসভ্য বিড়ালটা কে শিক্ষা দেওয়ার জন্য তার ঠ্যাং এ বাড়ি দিতে যাবো ওমনি দেখি পত্নী দু'দিকে দুহাত ছড়িয়ে আমার আর বিড়ালের মাঝে বাংলা সিনেমার নায়িকার ন্যায় প্রতিবন্ধক হয়ে দাড়িয়েছেন।এবং আমাকে অশিক্ষিত,পাষন্ড,জানোয়ার ইত্যাদি বিশেষণে ভুষিত করলেন।সেইসাথে যোগ করিলেন এই বিড়ালের গায়ে যদি একটা আঘাতও লাগে তাহলে উনি বাপের বাড়ি চলে যাবেন।বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার কথা শুনে খুশী বোধহয় একটু বেশীই হয়েছিলাম সেটা বোধহয় পত্নীর চোখ এড়ায়নি।তিনি আরও ক্রোধান্বিত হয়ে আমার বেলনখানা নিজের হস্তগত করিয়া উহা পুণরায় আমার দিকে ছুড়িয়া দেবার অভিপ্রায় করিতেই একলাফে বাড়ির বাইরে চলিয়া আসিলাম।
উপসংহার:
বিড়ালের কামড়ে আজকে জুতার বদলে রুপসা হাওয়াই চপ্পল পড়ে অফিসে গেছি কারন ঢাউস সাইজের ব্যান্ডেজ করার ফলে জুতার মধ্যে পা ঢুকাইতে পারছি না।কালকে রাত থেকে না খেয়ে আছি।বাবা,মা ভাই,বউ সবাই খাওয়া শেষ করলেও আমার ভাগের খাবার পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখা হইছে।আমার মা আমার বউয়ের সাথে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে আমাকে আজকেও ভুখা রেখে শাস্তি দেওয়ার প্ল্যান করেছেন গতরাতে।এই মুহুর্তে ড্রয়িংরুমে বসে ব্লগিং করতেছি।আমার কম্বল,বালিশ সব বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।অনেক খোজাখুজির পর একটা টিনের ব্ক্সের মধ্যে গত শতাব্দীতে তৈরী করা টুস বিস্কুটের সন্ধান পাইছি।পাথরের ন্যায় শক্ত এই বিস্কুট দিয়ে কারও মাথায় বাড়ি মারলে এ্যাটেম্ট টু মার্ডার কাসে ফেঁসে যাওয়ার শতভাগ সম্ভবনা আছে। ২ঘন্টা ধরে সেই টুস বিস্কুট দাত দিয়ে ভাঙ্গার চেষ্টা করতেছি।ইতিমধ্যে আমার সামনের তিনটা দাত শহীদ হওয়ার তালে আছে।পানি আর চা এর মধ্যে বিস্কুট ভিজায়া নরম করার চেষ্টা করতেছি
আমার পদদ্বয়ের সাথেই কেন এমন হয়???।আমি মানুষটা খারাপ হতে পারি কিন্তু আমার পা তো কোনদোষ করে নাই।তাহলে আমার মাথা,হাত,চোখ মুখের করা পাপের শাস্তি আমার পা কেন দেওয়া হচ্ছে?বিধাতার এই বিশাল পৃথিবী তে ইনসাফ বলে কি কিছু নেই????
মেজাজ প্রচন্ড খারাপ হয়া আছে।ছোটবেলায় আমার বাসায় কুত্তা,বিলাই,হাস,মুরগী যা আছিলো সব ২ তলার জানালা দিয়ে ছুড়ে ছুড়ে ফেলতাম।একবার খালার বিড়াল কে ২ তালার জানালা দিয়ে নীচে ছুড়ে ফেলছিলাম একটু পর কাউকাউ শব্দ শুনে জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখি বিড়ালটা খালুর টাকের উপর গিয়ে পড়ছে।আর নখ দিয়ে টাক ধরে ঝুলে আছে।আজকেও সবকিছু ছুড়ে ফেলতে ইচ্ছা করতেছে।বউ,বিলাই,বোন সবকয়টারে জানালা দিয়ে ছুড়ে নীচে ফেলে দিতে মন চাইতেছে।
বিশেষদ্রষ্টব্য:
১।ইহা একটি সিরিয়াস পোষ্ট।কেউ ফান করার চেষ্টা করলে তাকে ব্লক করা হবে।তবে কেউ সমবেদনা জানাতে চাইলে নির্দ্বিধায় জানাতে পারেন।
২।এই পোষ্ট শুধুমাত্র প্রাপ্ত বয়ষ্ক ও বিবাহিতদের জন্য।কোন বাচ্চাপোলা এই পোষ্টে ঢুকলে ও পোষ্ট পড়ে মজা করার চেষ্টা করলে থাবড়া খাবা।
পূনশ্চ: আমার সাময়ীক পোষ্টে যারা যারা মন্তব্য করেছেন সবাই কে ধন্যবাদ।ব্লগার তনুজা কে বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই বারবার আমার বেলনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাওয়ায়
টীকা:ইহা একটি সামুয়ীক পোষ্ট।তবে মন্তব্য সংখ্যা বেশী হয়ে গেলে বেসামুয়ীক করা হইতে পারে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

