somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুরা হুমাযা : (আয়াত ১-৯) : গর্বোদ্ধত-অহঙ্কারমত্ত অর্থলোলুপদের জন্য মেসেজ : ধবংশ এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য..

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ১২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধবংশ এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে (সামনা সামনি) লোকদের ধিক্কার দেয় এবং (পেছনে ) নিন্দা করতে অভ্যস্ত ।১



১) আরবী ভাষায় এই শব্দ দুটি অর্থের দিক দিয়ে অনেক বেশী কাছাকাছি অবস্থান করছে । এমন কি কখনো শব্দ দুটি সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আবার কখনো দু ’য়ের পার্থক্য হয় ।কিন্তু সে পার্থক্যটা এমন পর্যায়ের যার ফলে একদল লোক “হুমাযাহ’র যে অর্থ করে ,অণ্য একদল লোক “লুমাযা ”রও সেই একই অর্থ করে আবার এর বিপরীত পক্ষে কিছু লোক “লুমাযাহ ”র যে অর্থ বর্ণনা করে অন্য কিছু লোকের কাছে “হুমাযাহ”র ও অর্থ তাই এখানে যেহেতু দু’টি শব্দ এক সাথে এসেছে এবং “হুমাযাহ ” ও “লুমাযাহ” শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে তাই উভয় মিলে এখানে যে অর্থ দাঁড়ায় তা হচ্ছে : সে কাউকে লাঞ্ছিত ও তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে।





কারোর প্রতি তাচ্ছিল্য ভরে অংগুলি নির্দেশ করে। চোখের ইশারায় কাউকে ব্যঙ্গ করে কারো বংশের নিন্দা করে। কারো ব্যক্তি সত্তার বিরূপ সমালোচনা করে। কারো মুখের ওপর তার বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করে। কারো পেছনে তার দোষ বলে বেড়ায় । কোথাও চোখলখুরী করে এবং এর কথা ওর কানে লাগিয়ে বন্ধুদেরকে পরস্পরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়। কোথাও লোকদের নাম বিকৃত করে খারাপ নামে অভিহিত করে। কোথাও কথার খোঁচায় কাউকে আহত করে এবং কাউকে দোষারোপ করে । এসব তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।




2.) যে অর্থ জমায় এবং তা গুণে গুণে রাখে।২




২)প্রথম বাক্যটির পর এই দ্বিতীয় বাক্যটির থেকে স্বতষ্ফূর্তভাবে এ অর্থই প্রকাশিত হয় যে , নিজের অগাধ ধনদৌলতের অহংকারে সে মানুষরক এভাবে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করে । অর্থ জমা করার জন্য ( আরবী) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এ থেকে অর্থ প্রাচুর্য বুঝা যায়। তারপর ‘ গুণে গুণে রাখা ’ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কার্পণ্য ও অর্থ লালসার ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে।




3.) সে মনে করে তার অর্থ -সম্পদ চিরকাল থাকবে ।৩




৩)এর আর একটি অর্থ হতে পারে। তা হচ্ছে এই যে , সে মনে করে তার অর্থ - সম্পদ তাকে চিরন্তন জীবন দান করবে। অর্থাৎ অর্থ জমা করার এবং তা গুণে রেখে দেবার কাজে সে এত বেশী মশগুল যে নিজের মৃত্যুর কথা তার মনে নেই। তার মনে কখনো এ চিন্তার উদয় হয় না যে , এক সময় তাকে এসব কিছু ছেড়ে দিয়ে খালি হাতে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হবে।




4.) কখনো নয়, তাকে তো চূর্ণ - বিচূর্ণকারী জায়গায়৪ ফেলে দেয়া হবে।৫




৪)মূলে হুতামা ( আরবী ------) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এর মূল হাতম ( আরবী -----) । হাতম মানে ভেঙ্গে ফেলা , পিষে ফেলা ও টুকরা টুকরা করে ফেলা । জাহান্নামকে হাতম নামে অভিহিত করার কারণ হচ্ছে এই যে , তার মধ্যে যা কিছু ফেলে দেয়া হবে তাকে সে নিজের গভীরতা ও আগুনের কারণে ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে রেখে দেবে।



৫) আসলে বলা হয়েছে ( আরবী ---------) । আরবী ভাষায় কোন জিনিসকে তুচ্ছ ও নগণ্য মনে করে ছুঁড়ে ফেলে দেয়া অর্থে ( আরবী ------) শব্দটি ব্যবহার করা হয়। এ থেকে আপনা আপনি এই ইংগিত সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে যে , নিজের ধনশালী হওয়ার করণে সে দুনিয়ায় নিজেকে অনেক বড় কিছু মনে করে। কিন্তু কিয়ামতের দিন তাকে ঘৃণাভরে জাহান্নামে ছুঁড়ে দেয়া হবে।



5.) আর তুমি কি জানো সেই চূর্ণ - বিচূর্ণকারী জায়গাটি কি ?




6.) আল্লাহর আগুন ,৬ প্রচণ্ডভাবে উৎক্ষিপ্ত ,



৬)কুরআন মজীদের একমাত্র এখানে ছাড়া আর কোথাও জাহান্নামের আগুনকে আল্লাহর আগুন বলা হয়নি। এখানে এই আগুনকে আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত করার মাধ্যমে কেবলমাত্র এর প্রচণ্ডতা ও ভয়াবহতারই প্রকাশ হচ্ছে না। বরং এই সংগে এও জানা যাচ্ছে যে , দুনিয়ার ধন - সম্পদ লাভ করে যারা অহংকার ও আত্মম্ভরিতায় মেতে ওঠে তাদেরকে আল্লাহ কেমন প্রচণ্ড ঘৃণা ও ক্রোধের দৃষ্টিতে দেখে থাকেন। এ কারণেই তিনি জাহান্নামের এই আগুনকে নিজের বিশেষ আগুন বলেছেন এবং এই আগুনেই তাকে নিক্ষেপ করা হবে।)



7) যা হৃদয় অভ্যন্তরে পৌঁছে যাবে ।৭





৭) আসল বাক্যটি হচ্ছে , ( আরবী -----------) ‘ এখানে তাত্তালিউ ’ ( আরবী -------- ) শব্দটির মূলে হচ্ছে ‘ ইত্তিলা ’ ( আরবী -------) ‘ ইত্তিলা ’ এর একটি অর্থ হচ্ছে চড়া , আরোহণ করা ও ওপরে পৌঁছে যাওয়া । এর দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে , অবগত হওয়া ও খবর পাওয়া । আফইদাহ ( আরবী -----------) হচ্ছে বহুবচন। এর একবচন ফুওয়াদ ( আরবী --------------) এর মানে হৃদয়। কিন্তু বুকের মধ্যে যে হৃদপিণ্ডটি সবসময় ধুক ধুক করে তার জন্যও ফুওয়াদ শব্দটি ব্যবহার করা হয় না। বরং মানুষের চেতনা , জ্ঞান , আবেগ , আকাংক্ষা , চিন্তা , বিশ্বাস , সংকল্প ও নিয়তের কেন্দ্রস্থলকেই এই শব্দটি দিয়ে প্রকাশ করা হয়। হৃদয় পর্যন্ত এই আগুন পৌঁছবার একটি অর্থ হচ্ছে এই যে , এই আগুন এমন জায়গায় পৌঁছে যাবে যেখানে মানুষের অসৎচিন্তা , ভুল আকীদা - বিশ্বাস , অপবিত্র ইচ্ছা , বাসনা , প্রবৃত্তি , আবেগ এবং দুষ্ট সংকল্প ও নিয়তের কেন্দ্র। এর দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে , আল্লাহর এই আগুন দুনিয়ার আগুনের মতো অন্ধ হবে না। সে দোষী ও নির্দোষ সবাইকে জ্বালিয়ে দেবে না। বরং প্রত্যেক অপরাধীর হৃদয় অভ্যন্তরে পৌঁছে সে তার অপরাধের প্রকৃতি নির্ধারণ করবে এবং প্রত্যেককে তার দোষ ও অপরাধ অনুযায়ী আযাব দেবে।




8.) তা তাদের ওপর ঢেকে দিয়ে বন্ধ করা হবে৮




৮)অর্থাৎ অপরাধীদেরকে জাহান্নামের মধ্যে নিক্ষেপ করে ওপর থেকে তা বন্ধ করে দেয়া হবে। কোন দরজা তো দূরের কথা তার কোন একটি ছিদ্রও খোলা থাকবে না।




9.) (এমন অবস্থায় যে তা ) উঁচু উঁচু থামে (ঘেরাও হয়ে থাকবো )।৯



৯) ফি আমাদিম মুমাদ্দাদাহ ( আরবী --------) এর একাধিক মানে হতে পারে। যেমন এর একটি মানে হচ্ছে , জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দিয়ে তার ওপর উঁচু উঁচু থাম গেঁড়ে দেয়া হবে । এর দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে,এই অপরাধীরা উঁচু উঁচু থামের গায়ে বাঁধা থাকবে। এর তৃতীয় অর্থ ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেছেন , এই আগুনের শিখাগুলো লম্বা লম্বা থামের আকারে ওপরের দিকে উঠতে থাকবে।

কপি: তাফহীম-ফেসবুক..
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×