somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা - মেজর জলিল | ষষ্ঠ অধ্যায় : বাংলাদেশে ভারতীয় বাহিনীর পরিকল্পিত লুন্ঠন

১৬ ই নভেম্বর, ২০১১ ভোর ৬:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ডাউনলোড লিঙ্ক ►
ষষ্ঠ অধ্যায় : বাংলাদেশে ভারতীয় বাহিনীর পরিকল্পিত লুন্ঠন

সশস্ত্র যুদ্ধে জাগ্রত বাঙলী জাতিকে ভারতীয় প্রতিক্রিয়াশীল শাসক গোষ্ঠী প্রথম দিকে স্বাগত জানালেও ধীরে ধীরে তাদের সে উৎসাহে ভাটা পড়ে। বাঙালীর দুর্দমনীয় জাতীয়তাবাদী চেতনার বিষ্ফোরণ তাদের ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাহ্যিকভাবে মৈত্রীর বন্ধন রক্ষা করা গেলেও তাদের অন্তরে ছিল ষড়যন্ত্র ও সন্দেহ। পূর্ব বাংলার বাঙালীদের জাগরণ পশ্চিম বাংলার বাঙালীদেরকেও বিদ্রোহী করে তুলতে পারে এ সন্দেহে এবং ভীতির কারণেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত মুক্তিযুদ্ধ অবসানের ফর্মুলা সন্ধানে ব্যতিব্যস্ত ছিল। তাদের এই মহান দায়িত্ব পালনে সক্রিয়ভাবে সহয়তা করেছে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনের জন্য যেভাবে গনমানুষের ঢল বর্ডার অতিক্রম করছিল তাতে মুক্তিযুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পড়বে এ আশংকায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব এবং ভারতীয় প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী উভয়ই সমানভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল। কারণ, মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ীত্ব উভয়েরই স্বার্থের বিপক্ষে যেতে পারে বলে তারা অনুমান করেছে।
যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষমতালোভী আওয়ামী লীগও মুক্তিযুদ্ধের উপর তাদের পোদ্দারী হারিয়ে বসবে আশংকা করেছে। মুক্তিযুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পড়লে তাদের মনে আরও যে ভয়টি দানা বেঁধেছিল তা হলো মুক্তিযুদ্ধের উপর যুদ্ধরত বাঙালী সোবাহিনীরও কর্তৃত্ব এবং নের্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাওয়ার ভয়। এক্ষেত্রেও যুদ্ধবিমুখ আওয়ামী লীগ নের্তৃত্ব হারানোর ভয়ে প্রতিনিয়তই ভারতীয় শাসক গোষ্ঠির কাছে আনুনয়-বিনয় জানাত মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সরাসরি নের্তৃত্ব প্রদানের জন্য। মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই যে ভারতীয় সেনাবাহিনী কৌশলের সাথে পেছন থেকে নেতৃত্ব প্রদান করে এসছিল এ সত্য যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কোন মুক্তিযোদ্ধার কাছেই গোপন ছিল না। ভারতীয় বর্ডার ফোর্স বি,এস, এফ, কে সামনের সারিতে নিয়োজিত রেখে সেনাবাহিনী পেছন থেকে সর্বরকম লজিষ্টিক সাহায্য প্রদান করা, সর্বরকম তথ্য সংগ্রহ করা এবং সামগ্রিকভাবে যু্দ্ধের প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত ছিল। বস্তুতপক্ষে ৭১-এর আগস্ট মাস থেকেই ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশ-ভারত বর্ডারের সকল অঞ্চলে দৃঢ়ভবে অবস্থান নিয়েছিল। এই দীর্ঘ চার মাস ধরেই বর্ডার অঞ্চলে ভারতীয় সৈন্যের বিন্যাস, পুনঃ বিন্যাস এবং রণ কৌশলগত দিক নিয়ে ব্যাপক তৎপরতা অব্যাহত ছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সরাসরি হস্তক্ষেপ ঘটেনি বলে যাদের ধারণা, তারা ভারতীয় সেনাবাহিনীর রণকৌশল এবং যুদ্ধ তৎপরতা সম্পর্কে মোটেও অবগত নয়। মুক্তিযুদ্ধাদেরকে ভরতীয় সেনা কর্তৃপক্ষ এক ধরনের ‘রেকী ফোর্স’ হিসেবেই গন্য করেছে, এর অধিক নয়।
কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরে’গেরিলা ঘাঁটির সম্প্রসারন এবং ট্রেনিংপ্রাপ্ত গেরিলাদের সশস্ত্র তৎপরতা ভারতীয় সেনা-কৃর্তৃপক্ষের মনে যেমন ভীতির সঞ্চার করে, ঠিক তেমনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের কাছেও তা ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দেশের অভ্যন্তরে ‘গেরিলা ঘাঁটিগুলোতে’ যুদ্ধরত গেরিলা বাহিনীদের আনুগত্য ক্ষমতালোভী আওয়ামী লীগের পক্ষে দীর্ঘ দিন নাও থাকতে পারে সেই সন্দেহ এবং ভয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে। ভারতীয় কৃর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অনতিবিলম্বে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতার মসনদে বসানোর জন্য বেহায়াপনার সাথে ধর্ণা দিতে থাকে। আওয়াম লীগের এহেন আচরণ ভারতীয় প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের জন্য সোনায় সোহাগা হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ ভারতীয় চক্র নিজেরাই দীর্ঘদিন থেকে বাংলাদেশে এক ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করার পরিকল্পনায় রীতিমত মশগুল ছিল। দুর্বল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের অসহায় আত্মসমর্পণই ভারতীয় চক্রকে তাদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার সুবর্ণ সুযোগ এনে দেয় । অপরদিকে ১৯৭১ সনের ৩রা ডিসেম্বর পাকিস্তান কর্তৃক ভারতের পশ্চিম সীমান্তে আকস্মিক যুদ্ধ ঘোষণও ভারতকে বাংলাদেশ অভিযানে সরাসরিভাবে অনুপ্রানিত করে। এক তুমুল রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ভারত নিঃস্বার্থভাবে বাঙালীদের সুখ-শান্তির জন্য স্বাধীনতা এনে দেবে এ ধরনের ধারনা যারা পোষণ করেন, তারা হয় ভারতের কট্টর সমর্থক না হয় তারা ভারতের কৃপা ভিক্ষাকারীদের মধ্যে অন্যতম। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতীয় সাধারণ জনগণ বিশেষ করে পশ্চিম বাংলার বাঙালী জনগণ এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাধারণ সদস্য এবং নিম্নপদের আফিসারদের বিস্ময়কর মানবতা এবং ভ্রাতৃত্ববোধ পরিলক্ষিত হয়েছে। তাদের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাদের সকল কর্মতৎপরতাই যে নিছক হীন স্বার্থভিত্তিক ছিল তা নয়, অসংখ্য ক্ষেত্রেই তারা অতুলনীয় মানবতাবোধের প্রমাণ রেখেছেন। যুদ্ধরত অবস্থায় প্রচন্ডভাবে ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও আমর দৃষ্টি তাদের সেই মানবতাবোধের স্বাক্ষর এড়িয়ে যায়নি। একথা স্মরনীয় যে, একটি দেশের সাধারণ জনগণের মানবতাবোধের সাথে সে দেশের শাসক চক্রের মূল্যবোধের কোন সম্পর্ক বা সংগতি নাও থাকতে পারে। ভারত ঠিক তেমনি একটি নমুনা। ভঅরত আপাত দৃষ্টিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যে ধরনের উসাহ-উদ্দীপন নিযে ঝাঁপিযে পড়েছে কই তারা তো সেভাবে ‘নাগাল্যান্ড’, ‘মিজোরাম’, গুর্খাল্যান্ড,’ এবং পাঞ্জাবে শিখদের খালিস্তান স্বাধীন করার যুদ্ধে তেমন উদ্যোগ নিচ্ছে না? সে সকল ক্ষেত্রে তো বরং এর উল্টোটাই সঠিক। নাগা, মিজো, গুর্খা এবং শিখদের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সমর্থন নেই কেন? সমর্থনের পরিবর্তে সেখানে ভারতীয় শাসক চক্র শ্বেত সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে কেন? যে শাসক চক্র নিজের দেশের জনগণের স্বাধীনতা কামনা করে না, তারা কি করে পূর্ব বাংলায় বসবাসরত বাঙালীদের স্বাধীনতা কমনা করতে পরে? এটা কি তাদের উদারতা না কি তাদের নির্যাতনমূলক প্রতিক্রিয়াশীল শাসন কাঠামো সম্প্রসারণ করারই উগ্র বসনা? বাংলাদেশের মুক্তিযু্‌দ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অংশগ্রহন এবং বাংলাদেশে ভারতীয় বাহিনীর অভিযানকে উপরোক্ত আঙ্গিকেই বিচার করতে হবে।
১৯৭১ সনের ৩রা ডিসেম্বর থেকে ১৬/১৭ই ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সরাসরিভাবে হস্তক্ষেপ করে এবং পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধেও আনুষ্ঠানিকভাবেই যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এই দিনগুলোতেও মুক্তিযুদ্ধারাই সম্মুখের সারিতে যুদ্ধ করেছে, অকাতরে শহীদ হয়েছে, পঙ্গু এবং আহত হয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী পেছনেই অগ্রসর হয়েছে। তবে এই চৌদ্দ দিনের যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীরও আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ হাজার সদস্য প্রাণ হারিয়েছে। তাদের এই প্রাণ হারনো সার্থক হয়েছে কি? কার স্বার্থে ১৪ হাজার ভারতীয় সৈন প্রাণ বিসর্জন দিল? বাংলাদেশের স্বার্থে? কিসের টানে? না, একটি ‘মার্সিনারী আর্মির’ সদস্যদের কোন স্বার্থ নেই, থাকতে পারে না। তারা কেবল প্রাণ দেয় স্বার্থান্বেষী মহলের নির্দেশে, কোন প্রাণেল টানে নয়। জীবন তাদের কাছেও প্রিয়, কিন্তু তবু তা তুচ্ছ, যেহেতু তারা বেতনভুক্ত কমর্কচারী। বেতনভুক্তদের কোন আপন ইচ্ছে নেই, তারা কেবল প্রভুর ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটাতে বাধ্য থাকে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাধারন সদস্যসহ নিম্নপদবীধারীরা ভারতীয় প্রতিক্রিয়াশীল শাসক চক্রেরই সম্প্রসারণবাদী পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ঘটিয়েছে কেবল। বাংলাদেশের কোন খালে, কোন বিলে ভারতীয় বাহিনীর কোন সদস্য লাশ হয়ে ভেসে গেছে, সে ইতিহাস কেউ কোন দিন লিখবে না, তবে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সনে ভারতীয় সেনাপতি জেনারেল আরোরার কাছে পাকিস্তানী সেনাপতি জেনারেল নিয়াজী যে আত্মসমর্পণ করেছে, সে ইতিহাস চিরযু্গই অম্লান হয়ে থাকবে। বেতনভুক্তদের ইতহাস লেখঅ হয় না, তারা ইতিহাস নয়, তারা ইতিহাসের খোরাক মাত্র । ঐতিহসিক ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসানের দিন। হানদার পাকিস্তানী বাহিনী ভারতের পূর্ব অঞ্চলীয় কমান্ডের অধিনায়ক লেঃ জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে ঢাকা রেস কোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ করে। যে যুদ্ধ বাঙালীদের সশস্ত্র গণবিষ্ফোরণ এবং মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার শেষ হয় ভারতীয় সেনাবাহিনীর অধিনায়কের কাছে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর অধিনায়কের আত্মসমর্পণের মধ্য দিযে। হিসেব মিলছে না কেন? হিসেবের এই গরমিলের জন্য দায়ী কো বা কারা? যারা মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছিল যুদ্ধ শেষে পরাজিত শত্রুপক্ষ সেই মুক্তিযুদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পন করল না কেন? পাকিস্তান এবং ভারতরে মধ্যে তো কোন মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল হানাদার পাকিস্তানী সেনাবাহিনী এবং মুক্তিকামী বাঙালী জনগণের মধ্যে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের হেতুটি দেখা দিল কেন-কোন উদ্দেশ্যে?
মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্ণেল ওসমানীর কাছে পাকিস্তানের পরাজিত জেনারেল নিয়াজী আত্মসমর্পন করলেন না কেন? আত্মসমর্পণের সময় কর্ণেল ওসমানী অনুপস্থিত ছিলেন কেন? আত্মসমর্পণের বেশ কয়েকদিন পরে কর্ণেল ওসমানী ঢাকায় এলেন কেন? এ সময়কাল তিনি কোথায় ক্ষেপন করেছিলেন? তিনি কি তাহলে সত্যিই কোলকতায় বন্দী ছিলেন? আজো বাংলাদেশের জনমনে নানান প্রশ্নের ভীড় জমছে। এ সব প্রশ্নের উত্তর দেশবাসী আওয়ামী লীগের কাছে থেকে প্রত্যাশা করছে, কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব এবং ভারতে অবস্থানরত প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব এ সকল প্রশ্নের জবাব দেয়ার আজ পর্যন্ত কোন তাগিদই বোধ করেনি।
তাছাড়া আত্মসমর্পনের প্রায় ১ সপ্তাহের পরে প্রবাসী আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশে ফিরে এসে বিনা প্রশ্নে গদিতে বসেন। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ঐতিহাসিক আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে কেন অনুপস্থিত ছিলেন, সে সত্যটি উদঘাটন করার জন্য আজ পযন্ত কোন তদন্ত কমিটি গঠন করা হল না। অথচ মুক্তিযুদ্ধের এই অসহায় মহানায়ক কর্ণেল ওসমানীর কতই না প্রশংসা। কেন এই মিছেমিছি প্রশংসা? এর অন্তরালে কি রহস্য? রহস্য তো নিশ্চই রয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর অধিনায়কের কাছে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে প্রকৃতপক্ষে ১৬ই ডিসেম্বর, যাকে আমরা বিজয় দিবস হিসেবে অভিহিত করি, সেই দিন থেকেই বাঙালীর মুক্তিযুদ্ধকে সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। ১৬ই ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধাদের ‘বিজয় দিবস’-এর পরিবর্তে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘বিজয় দিবস’ হিসেবে ইতহাসে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ষড় যন্ত্রের পেছনে আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাঙালীর স্বাধীনতা সংগ্রামকে অস্বীকার করা এবং পাক-ভারত যুদ্ধে পূর্বাঞ্চলের রণাঙ্গনে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিজয় ঘোষনা করা।
এই বিজয়ে বাংলাদেশের মুক্তিপিপাসু জনগণ এবং মুক্তিযুদ্ধারা ছিল নীরব দর্শক, আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব ছিল বিনয়ী তাবেদার এবং কর্ণেল ওসমানী ছিলেন অসহায় বন্দী। এ যেন ছিল ভারতের বাংলাদেশ বিজয় এবং আওয়ামী লীগ সরকার এই নব বিজিত ভারতভূমির যোগ্য লীজ গ্রহনকারী সত্তা। সুতরাং যেমন সত্তা তেমনই তার শর্ত-আর যায় কোথায়! এতো গেল ১৬ ই ডিসেম্বর সম্পর্কে কিছু কথা। অনুরূপভাবে ১৭ই ডিসেম্বর তারিখে খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানেও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। নবম সেক্টরের অধিপতি হিসেবে আমি সেখানে উপস্থিত থাকলেও ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্তৃপক্ষ আমাকে একরকম জোর করেই পেছেনের সারিতে ঠেলে দেয়। বারবার প্রচেষ্টা চালানো সত্তেও আমাকে সামনে আসতেই দেয়া হলোনা। আমার প্রতিপক্ষ ভারতীয় সেনবাহিনীর মেজর জেনারেল দালবীর সিংকে দিয়েই সেই আত্মসমর্পনের নেতৃত্ব বজায় রাখা হয়। অথচ দালবীর সিংয়ের অধীনস্ত সৈন্যরা যুদ্ধ ক্ষেত্রে সব সময়েই আমার বাহিনীর অনেক পেছনে অবস্থান করত ।
মুক্তিযুদ্ধাদের দীর্ঘ ন’টি মাসের অসীম ত্যাগ, তিতিক্ষা এবং আত্মাহুতির মধ্য দিয়ে রচিত বিজয় পর্ব এভাবেই ভারতীয় শাসক চক্র দ্বারা লুন্ঠিত হয়ে যায়। সংগ্রামী, লড়াকু বাঙালী জাতি প্রাণপণ যুদ্ধ করেও যেন বিজয়ী হতে পারল না, পারল কেবল অপরের করুণায় বিজয় বোধ দুর থেকে অনুভব করতে। বিজয়ের সরাসরি স্বাদ থেকে কেবল বাঙালী জাতি বঞ্চিত হলো না। বঞ্চিত হলো প্রকৃত স্বাধীনতা থেকেই। সুতরাং সেই বঞ্চনাকারীদের কবল থেকে বঞ্চিতদের ন্যায্য পাওনা আদায় করার লক্ষ্যে আর একটি প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজন কি এখনও রয়ে যায়নি?

ডাউনলোড লিঙ্ক ►
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:৪০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×