somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরাজিতজন

০৩ রা মে, ২০০৯ রাত ৯:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মনে করি, এই ব্লগ সাইটের কোন একটি পাতায় কোন একটি নির্দিষ্ট বিন্দু আছে। বিন্দুটির একটি নাম দেওয়া দরকার। বেশ সুন্দর নাম। যেনো মনে হয়, বিন্দুটি কোনো প্রাণ থেকে উৎসারিত কিংবা কেউ একজন বিন্দু থেকে। বিন্দুতে যেনো কারো না কারো অস্তিত্ব বজায় থাকে। বিন্দুর কোন আনন্দে কেউ যেনো আনন্দিত হয়, বিন্দুর কোন দুঃখেও তেমনি। কী নাম দেওয়া যায়? শেকড়ের সন্ধানে গেলে কেমন হয়? এই যেমন সঙ্গম, কিংবা দশ মাসের অপো, কিংবা প্রসব বেদনা, কিংবা একেবারে জন্ম! নাম হিসেবে জন্মটাই তো বোধহয় ভালো, তাই না? নর-নারী সঙ্গম করে যতোটা না ভবিষ্যৎ প্রাণের জন্মের আশায়, তার চাইতে বেশি তাৎক্ষণিক সুখের। আর দশ মাসের অপেক্ষা? সেটাও আসলে এক প্রকার সুখ। কোনো কিছু উদ্ভাবনের সুখ। প্রসব বেদনা শরীরের একটা অসাধারণ মুহূর্ত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাহলে সেই জন্মই দাঁড়াচ্ছে। জন্মমুহূর্তে আত্মীয়-পরিজন একটা অনুষ্ঠানের উপলক্ষ খুঁজে পায়, বাবা খুঁজে পায় বংশ, আর মা পায় পৃথিবীর খাতায় আবিষ্কারকের নাম হিসেবে নিজেকে দেখতে পাওয়ার সুখ।

বিন্দুটি তা-হলে জন্ম। ইউক্লিডীয় জ্যামিতি অনুসারে যে কোনো বিন্দুকে তার অবস্থান থেকে সামনে বাড়াতে থাকলে তৈরি হয় সরলরেখা। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, সরলরেখার কোনো সীমা নেই, পরিসীমা কি আছে? জ্যামিতি অনুসারে আমরা কি এগুতে থাকবো?


তাহলে জন্মমুহূর্তটিকে যদি আমরা উপরের ছবির মতো A ধরি, তাহলে কিছুদূর এগিয়ে B অবস্থানে গেলে শৈশবকে দেখতে পাবো। তাকে হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে এলাম বিন্দু C-তে। কিন্তু C-তো কৈশোরকাল- D বিন্দু যাকে হাত তুলে ডাকছে খেলতে। হাঁসিমুখে সাড়া দিতেই কৈশোর হয়ে যায় গোঁফ ওঠা এক তরুণ। সব কিছু ভেঙেচুরে নতুন করে ঠিক করবে বলে তরুণ যখন নিজেকে প্রস্তত করছে তখনই নিজেকে সে আবিষ্কার করে E বিন্দুতে। বেশ গাট্টাগোট্টা এক যুবক। সংসার পালন করা আদৌ ধর্ম কি-না, ভাবনা আসে সংসারধর্ম পালন করতে গিয়ে। এখানে প্রবেশ করে যুবকটি সমাজ, রাষ্ট্র, পৃথিবীর কথা ভুলে গিয়ে নিজের দিকে তাকায়। দেখতে পায় এক প্রৌঢ় F বিন্দুতে বসে আছে। পেনশন নিতেই সবাই মিলে জোর করে তাকে ঠেলে দেয় G বিন্দুতে। নিজেকে দেখে ভারি অবাক হয় সে। এ কি সে? সাদা- সব সাদা। জীবনের পরিণত রূপ কি সাদা?

না, জীবনের পরিপূর্ণ রূপ সাদা নয়, কালো- এবং ওই H বিন্দুতে। এটা আরো প্রমাণিত হয়ে গেলো যখন কালো পোশাক পরা কিছু মানুষ তাকে নিয়ে গেলো কবরে-মহাশ্মশানে। কিন্তু এটা তো কথা ছিল না! কথা ছিল জ্যামিতি বাড়তে বাড়তে A, B, C, D, E, F, G, H ... চলতেই থাকবে। কিন্তু এখানে হঠাৎ থেমে গেলো কেন?


ইউকিডীয় জ্যামিতিতে সময়কে বিবেচনায় আনা হয়নি। সম্ভবত তাই এ অবস্থা। প্রশ্ন হলো, যে জ্যামিতি জীবনকে অসীমের সন্ধান দিতে পারে না, তার মূল্য কতোটুকু?


ঢাকা শহরের একটি ঘর। উপরে পলিথিন, চারদেয়াল পাটকাঠির। দরোজা বন্ধ। গোঙানির শব্দ আসছে ভেতর থেকে। বাইরে মানুষের ভিড়, অজানা আশঙ্কায় কাঁপা চাহনি। শিশুটি ভূমিষ্ঠ হলো। প্রাকৃতিক নিয়মে কিছুণ কেঁদে চোখ মেলে তাকিয়ে দেখলো- পাটকাঠি, পলিথিন- বাঃ বেশ! পৃথিবীর তাহলে বেশ উন্নতি হয়েছে! আচ্ছা, ঘরটা কি জ্যামিতিক ছকে বানিয়েছে?

কিন্তু শিশুটি যেনো হঠাৎই শুনতে পায় আরেক ডাক। মহাজীবন, অনন্তের ডাক। কিন্তু কাজ? তার যে সব কাজই পড়ে থাকলো!

সব কাজ ফেলে, বাইরের উন্নতির এই দুনিয়ার চোখ ধাঁধানো আলো না দেখে সে আস্তে করে ঘুমিয়ে পড়লো। আবিষ্কারকের খাতায় মায়ের নাম থাকলেও সেখানে সফল ব্যক্তিদের প্যারা থেকে মুছে গেলো মায়ের পরিচিতিটা।


আমরা কিন্তু কেউই জানি না, শিশুটি ছিলো ইউক্লিড।


ঈশ্বর দুঃখ প্রকাশ করলেন। ‘আরেকজনের পরিবর্তে ভুল করে তোমাকে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। তুমি বেঁচে থাকলে নিশ্চয়ই জীবনকে জ্যামিতিতে মিলিয়ে নিতে! মানুষ হয়ে যেতো অমর। সেটি আমি হতে দিই কী করে? আমি নিশ্চয়ই আমার প্রতিদ্বন্দ্বি তৈরি করবো না। কী বলো?’


ঈশ্বর কি ভুল করেন? নাকি মানুষ তার প্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে যাবে এ শংকায় অবশেষে পরাজিত হলেন তাঁরই সৃষ্টির কাছে?
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×