সাধারণভাবে যেটা মনে করা হয়, অপেক্ষাকৃত কম মেধাবী বা গরিব ঘরের ছেলেমেয়েরা কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় যায়- যাতে শিক্ষা শেষ করেই অপেক্ষাকৃত ছোট চাকুরিগুলোতে ঢুকতে পারে। এই ধারণা যে পুরোপুরি ভুল, সেটা বলা যাবে না। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতে যারা ভর্তি হয়, তাদের অনেকেই হয় অন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারে না; নয়তো আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে বা নানা ধরনের সীমাবদ্ধতার কারণে তাদেরকে সেখানে ভর্তি হতে হয়।
অথচ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে এই চিত্রটা হওয়া উচিত পুরোপুরি উল্টো। এখানে সাধারণ শিক্ষা থেকে শিক্ষিত হয়ে বসে থাকা বেকারের সংখ্যাটা যেমন প্রচুর, তেমনি নানা কারণে একটি নির্দিষ্ট স্তর পর্যন্ত শিক্ষাগ্রহণ করে পরবর্তী স্তরে পড়ালেখা না করতে পারার সংখ্যাটাও প্রচুর। এই দুটো গ্রুপের মানুষদেরই যদি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় পড়ালেখা করানো যেতো, তাহলে বেকারের সংখ্যা যেমন কমতো, তেমনি বাড়তে দক্ষ জনশক্তিও।
তাছাড়া বাংলাদেশে বিভিন্ন সেক্টরে দক্ষ জনশক্তির প্রবল অভাব রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই অভাব বিদেশে পাঠানো দক্ষ জনশক্তির ক্ষেত্রেও প্রবলভাবে দেখা যাচ্ছে। শিক্ষাকে যদি মানব উন্নয়নের একটি অন্যতম সূচক ধরা হয়, তাহলে সেই শিক্ষার ধরণটা এমন হওয়া উচিত, যেখানে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের পাশাপাশি প্রাপ্ত শিক্ষাকে ব্যবহার করে একজন শিক্ষার্থী জীবনধারণে সক্ষম হবে ও ক্রমশ উন্নতি করবে। আর এখানেই বাংলাদেশ পিছিয়ে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় জোর দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের চাইতে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার জিডিপির হার অনেক বেশি। অথচ ১৯৭০ সালে এই দেশগুলোর জিডিপির হার ছিলো প্রায় কাছাকাছি।
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা কেন গুরুত্বপূর্ণ- বিষয়টি নিয়ে আইএলও বাংলাদেশ অফিসের প্রোগ্রাম অফিসার ড. গাজী মাহাবুবুল আলম সম্প্রতি একটি প্রবন্ধ লিখেছেন www.bdeduarticle.com -এ। সেখানে তিনি এই শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা-সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। শুধু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট নয়, সারা বিশ্বেই এই শিক্ষা কতোটুকু গুরুত্ব পাচ্ছে এবং কেন বাংলাদেশে এই শিক্ষা বাস্তবায়নের প্রতি অধিক জোর দেওয়া উচিত, সেগুলো তিনি যুক্তি ও প্রমাণসহকারে তুলে ধরেছেন। আগ্রহীরা এখানে ক্লিক করে লেখাটি পড়তে পারেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


