আমার প্রিয় পোস্ট
- C প্রোগ্রামিং....পর্ব : ৪....."লুপের রাজ্যে
" - বিলুপ্ত বৃশ্চিক
- মাত্র ১ মিনিটেরো কম সময়ে ১ টা ইয়াহু আইডি বানান এবং 5 মিনিটে কমপখ্যে 11 টা । - নীল দরিয়ার মাঝি
- শুধুমাত্র একটি সিরিয়াল কি দিয়েই উইন্ডোজ সেভেন কে জেনুইন করাঃ - সুফিয়ান আহমেদ
-
আবার জেনুইন Windows 7 পাইরেটেড বইল্লা এই খানে কিছু নাই।
- এম. এ. খসরু নোমান
- টেকি হেল্প : উইন্ডোজ ৭ জেনুইন নোটিশ - রুবাইয়াৎ রহমান
- নেদারল্যান্ড ফেলোশীপের জন্য আবেদন করবেন কিভাবে - মিয়া মুস্তাফিজ
- ▓▓▒▒░░░
IELTS পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ১ ডজন বই + একটা ফ্রি!!!!
░░░▒▒▓▓ - রাফি মাহমুদ
- ইংলিশ গ্রামার চেক করার টুল whitesmoke writer software - টেকি মামুন
- নষ্ট হার্ডডিস্ক ফেলবেন না!! - দুনিয়ার সব ভাল মানুষ
- টিউটোরিয়ালঃ প্রফেশনাল ওয়েব ২.০ টেম্পলেট ডিজাইন করা শিখি - খুজে ফিরি অজানা কে?
- আসেন পাইথন শিখি - শুভ রহমান
- জল পানি সমাচার - রাগিব হাসান ও আবুল বাশারের আর্টিকেল - কৌশিক
- মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট অভিযান : বামনকূলের ২০ প্রপাগাণ্ডা নিয়ে একটি পোড়ামাটি অনুসন্ধান - পর্ব : ১ - ফিউশন ফাইভ
- ফ্রীতে এস এম এস পাঠাইতে কত সহজ কষ্ট গুলো একটু আলাদায় , জিপির বাশ জিপি দিয়েই - ধ্রুবনীল
- IELTS এর বইয়ের পাহাড় ০১
- বিডি গ্লাডিওটোর
- ১০ টি জেমস বন্ড মুভির ১০ টি মিসটেক!
- অসমাপ্ত কবিতা
- ওয়েব সাইট ডিজাইনিং ,ফ্রী ওয়েব টেম্পলেট ডাউনলোড, সোর্স কোড ডাউনলোড এবং ওয়ার্ড প্রেস এর থিম ডাউনলোডের লিঙ্ক লিস্ট...... - খুজে ফিরি অজানা কে?
- ১০টি ফ্রী ওয়েব এপ্লিকেশন যা আপনার ডেস্কটপ এপ্লিকেশনকেও হার মানাবে!(না দেখলে মিস করবেন) - খুজে ফিরি অজানা কে?
- উবুন্টুতে পুরাতন সফটওয়্যার ফিরে পাওয়ার সহজ উপায়!!!
- আদনান শওকত
- IELTS ফ্রি ডাউনলোড এর কারখানা (নতুন) !!!যাবতীয় মালমশলা ফ্রি ডাউনলোড : পর্ব -৪ - পরিবেশবাদী ঈগলপাখি
- অনলাইনে আয় করুন টুইটারের মাধ্যমে - হাসমত০০৯
- ইংরেজি শেখার ওযেব সাইট - নিলআকাশেরদুঃখ
- সার্চ ইঞ্জিন রেংক, SEO ও গুগল এডসেন্স বিষয়ক কিছু লিংক - সুইট
- নতুন উবুন্টুতে প্রবেশকারীদের জন্য - রিফাত হোসেন
- .htaccess ফাইলের কাজ কারবার – পর্ব-১ - আরিফ বল্গ
- ওয়েব ডেভেলপমেন্ট টিউটোরিয়াল:- পর্ব 0: সূচনা ও প্রস্তুতি
- সিউল রায়হান
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের সূচনা, বিব্রত ম্যাক্স প্লাঙ্ক (এবং কোয়ান্টামকে বোঝার চেষ্টা) - শুভ রহমান
- বাংলা একাডেমী প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম - খলিল মাহ্মুদ
- বাংলা ব্লগ'স্ফেয়ারে মুক্ত'চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ লেখা/পোস্ট/ব্লগ সংগ্রহের উদ্যোগঃ সচেতন সকলে'র অংশগ্রহন কাম্য … - মনির হাসান
- প্রস্তাবিত শিক্ষানীতি নিয়ে কিছু আলোচনা (২) - নাজনীন১
- টেকি হেল্পঃ উবুন্টু/লিনাক্স প্রেমিরা সাহায্য করুন

- ইসানুর
- বুকরিভিউ: ওয়ার্ডপ্রেস ২.৭ কুকবুক - 'লেনিন'
- মুক্তিযুদ্ধের কিছু প্রামান্য বইয়ের তালিকা - ফারহান দাউদ
- একসাথে একাধিক ইয়াহু মেসেন্জারে লগ ইন করুন!!

- ইসানুর
- কিছু প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার। - বেশিরভাগই নিজের ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা থেকে দেয়া। - ১ম পর্ব। - নির্ভয় নির্ঝর
- যে লেখাগুলো প্রিয়তে নেয়া হয়নি... - ভেবে ভেবে বলি
- বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গুগলের স্কলার প্রকাশন সংখ্যা - আহমেদ শামসুল আরেফীন
- মেগাআপলোড থেকে আজীবন মুভি ডাউনলোড/স্ট্রিমিং করবেন যেভাবে--(like premium user) - বিডি আইডল
- একটি চরম বাটপাড়িমূলক পোষ্ট!!! - জেনুইন করুন আপনার প্রায় সকল প্রকার উইন্ডোজ(উইন্ডোজ এক্সপি, উইন্ডোজ ভিসতা এবং উইন্ডোজ সেভেন)। - নির্ভয় নির্ঝর
- বান্দরবানঃ যাবার আগে জেনে নিন দরকারী কিছু তথ্য : পর্ব ২ - জুহো.
- বান্দরবানঃ যাবার আগে জেনে নিন দরকারী কিছু তথ্যঃ পর্ব ১ - জুহো.
- কিভাবে Free Ebook/Thesis/Article/Journal Download - স্স্পরসের বাহিরে
- Deep Freeze স্যাফটওয়্যার এবং এর পরিপূর্ন ব্যবহার সম্পর্কে জানুন - দুখী মিয়া
- উবুন্টুতে আমার প্রিয় দশটি সফটওয়্যার(ইন্জিনিয়ার'স চয়েস ) - ইন্ঞ্জিনিয়ার
- "আপনার লিখা"র কপি করা মানুষদের খুঁজে বের করার সহজ উপায় - সিউল রায়হান
- চা লাগবে, চা?
(আপডেটঃ আইস টী'র রেসিপি) - দি ফ্লাইং ডাচম্যান
- গ্রামীনফোন মোডেম দিয়ে অন্য অপারেটরের(একটেল, বাংলালিংক,ওয়ারিদ) ইন্টারনেট ব্যাবহার - ফরহাদুল কবির
- উবুন্টুর মোবাইল জাদুকর!!!
- ইন্ঞ্জিনিয়ার
- ডাডাবাদ থেকে সুররিয়ালিজম: অবিস্মরণীয় সেই শৈল্পিক উত্তোরণ - ইমন জুবায়ের
- ইংরেজী ভালো করে শিখতে গেলে নেট থেকে কিভাবে হেল্প পেতে পারি? - শামীমস
- সামহোয়্যারে বিজ্ঞাপন প্রকাশঃ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক নিশ্চয়তার স্বরুপ... - জাতেমাতাল
- পুরুষতান্ত্রিকতার ধ্বজভঙ্গ সমাজতত্ত্বঃ “নারীর ইজ্জতই তার প্রধান সম্বল” - মনির হাসান
- আমি লুল!
- তামিম ইরফান
- আবেগীয় শিক্ষা - সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন জীবনের প্রথম পাঁচটি বছর - সীমন্ত ইসলাম
- কিছু প্রয়োজনীয় Google Seacrh টিপস n' টার্মস
- নাফিস ইফতেখার
- অপদার্থের জ্ঞান: প্রথমেই নিউক্লিয়ার রিএ্যাক্টর নিয়া নাড়াচাড়া- ১; অতএব দূরে সাবধানে থাকেন! - উদাসী স্বপ্ন
- ফেসবুকে বাংলা অক্ষর ছোট দেখার সমস্যা দূর করে নিন সহজেই.... - সুনীল সমুদ্র
- বাংলা ভিডিও টিউটোরিয়াল - মাহবুব আলম পলাশ
- উবুন্টু : অটো মাউন্ট করুন ড্রাইভ - আমড়া কাঠের ঢেকি
প্রাইভেট টিউশনি কি আদৌ বন্ধ হবে?
০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:৩৫
কথাটায় একটু ঝুঁকি আছে; তারপরও সেই ঝুঁকিটুকু নিয়ে বলা যায়- ব্রিটিশদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা শুরুর আগে ভারতীয় উপমহাদেশে যে ধরনের শিক্ষাপদ্ধতি চালু ছিলো, তা ছিলো পুরোপুরি ব্যক্তিকেন্দ্রিক-- যার সাথে আজকের প্রাইভেট টিউশনির এক ধরনের সাযুজ্যতা রয়েছে।
ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রধানত দু’ভাগে ভাগ করা যায়-- একভাগে পিতা বা পিতামহের কাছ থেকে বংশানুক্রমিকভাবে শিখে আসা পেশাগত জ্ঞান এবং আরেকভাগে গুরুর কাছ থেকে গ্রহণ করা নৈতিক শিক্ষা। প্রথম ধরনের শিক্ষা ছিলো অনানুষ্ঠানিক-- কাজ করতে করতে পূর্বপুরুষদের পেশায় প্রবেশ ও সেটাকে কেন্দ্র করে জীবিকানির্বাহ। দ্বিতীয় ধরনের শিক্ষা তখনকার পরিপ্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিক- গুরুগৃহে নৈতিক শিক্ষা অধ্যয়ন করা, যেখানে দর্শন, ধর্ম, জীবনচর্চা ইত্যাদি ছিলো মুখ্য এবং এই শিক্ষা পেশাগত জীবনে বা বৈষয়িক সমৃদ্ধিতে খুব একটা কাজে আসতো না।
দ্বিতীয় ধরনের শিক্ষাপদ্ধতি থেকে আমরা মূলত যে বিষয়টা জানতে পারি সেটি হচ্ছে, এই শিক্ষাব্যবস্থায় গুরু সর্বেসর্বা। তিনি শিক্ষার্থীদের যা অধ্যয়ন করাতেন, শিক্ষার্থীরা মূলত সে বিষয়েই পারদর্শী হতো। অবশ্য অনেকক্ষেত্রে গুরু শিক্ষার্থীর আগ্রহ ও সক্ষমতা বিচার করেও শিক্ষাপ্রদান করতেন। এ ধরনের শিক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিকতার বালাই ছিলো না, কিন্তু শিক্ষাকার্যক্রম সমাপ্ত হওয়ার পর অনেকক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকতা করা হতো- যার একটি পর্যায়ে সমাবর্তন পদ্ধতির সূচনা ঘটে।
ভারতীয় উপমহাদেশে আলাদাভাবে বিদ্যালয়ের মতো করে কিংবা আলাদা একটি কক্ষে বা গৃহে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিদ্যাশিক্ষার কার্যক্রমের ধারণা শুরু হয় মূলত ব্রিটিশদের হাতে। এর আগে বিভিন্ন জায়গায় নানা ধরনের বিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয় (যেমন- নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়) গড়ে ওঠেছে, কিন্তু সেগুলো আসলে মূল স্রোতের বাইরে। সাধারণভাবে উপমহাদেশের প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতি ছিলো ব্যক্তিনির্ভর, যাকে গৃহশিক্ষকতা পদ্ধতির সবচেয়ে মার্জিত ও কার্যকর পদ্ধতি বলে অভিহিত করা যেতে পারে।
২.
বর্তমান সময়ের প্রাইভেট টিউশনির সাথে শত শত বছর আগের ভারতীয় উপমহাদেশের শিক্ষাপদ্ধতির মিল খোঁজা কেন? কারণ হলো, দুটো পদ্ধতিরই মূল এক-- একজন শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষার্থীকে কোনো কিছুর বিনিময়ে শিক্ষাদান করছেন। তবে সবসময়ই যে এই ‘বিনিময়’-এর একটি দৃশ্যমান রূপ থাকতেই হবে তা কিন্তু নয়; এমনকি এই বিনিময় আর্থিক নাও হতে পারে। পুরনো শিক্ষাপদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকার্যক্রম সম্পন্ন করার পর গুরুদক্ষিণা দিতে হতো- এই গুরুদক্ষিণা অনেক ক্ষেত্রে ছিলো জাগতিক, অনেকক্ষেত্রে অজাগতিক। তাছাড়া জাগতিকতার বাইরে নানা ধরনের অঙ্গীকারও এই গুরুদক্ষিণার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলো। ফলে শিক্ষা সবসময়ই বিনিময়জাত হলেও এই বিনিময় কখনোই ব্যবসা হয়ে উঠে নি। পুরাকালের ব্যক্তিপর্যায়ের শিক্ষাপ্রদান পদ্ধতির সাথে বতর্মান সময়ের প্রাইভেট টিউশনির মূল পার্থক্যটা গড়ে উঠেছে এখানেই। শিক্ষাপ্রদান বা শিক্ষা ছড়িয়ে দেয়া এখন আর ব্রত নয়, নিজের বিশ্বাস বা দর্শন অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া নয়- এটা এখন ব্যবসা। কিংবা জীবিকার মূল উপকরণ। কিংবা আর দশটি বস্তুগত সামগ্রীর মতোই- কিছুটা হয়তো অবস্তুগত পণ্য, যেখানে মূল্যমান নির্ধারণের চেয়েও দাম-ই প্রাধান্য পায় বেশি।
৩.
প্রাইভেট টিউশনির ব্যাপারে আজকাল নানা মহল থেকে বেশ ওজর-আপত্তি আসছে। কিন্তু একটু তলিয়ে দেখা গেলে বুঝা যাবে- প্রাইভেট টিউশনি আদতে খারাপ কিছু নয়। প্রাইভেট টিউশনির নামে যে ব্যবসা-প্রক্রিয়া চলছে সেটা খারাপ। যে কোনো কাজেরই একটি পর্যায় থাকে- সেই পর্যায়টি অতিক্রম করে গেলে সেটি যতো ভালো কাজই হোক না কেন, তা খারাপে রূপ নিতে পারে কিংবা মানুষের কাছে খারাপ হিসেবে প্রতিভাত হতে পারে। প্রাইভেট টিউশনির ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। আমরা যদি বাংলাদেশে আশির দশকের শিক্ষার কথা চিন্তা করি, তাহলে দেখা যাবে তখনও প্রাইভেট টিউশনি বেশ জোরালোভাবেই সমাজে বিদ্যমান ছিলো। সে সময়কালে লজিং মাস্টার নামে একটি প্রথা চালু ছিলো, চালু ছিলো প্রতিবেশি কিংবা পাড়ার শিক্ষক কর্তৃক ‘পড়া দেখিয়ে দেয়ার’ একটি স্বল্প-আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। এ সমস্ত কার্যক্রমে বিনিময়ের একটা পদ্ধতি ছিলো ঠিকই, কিন্তু সেটি মুখ্য হয়ে উঠে নি। আজকে প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ করা বা এর সমালোচনামূলক যে সমস্ত কথাবার্তা হচ্ছে, তার প্রধান কারণ হচ্ছে দিনে দিনে পড়ালেখার বদলে এই বিনিময়টিই মুখ্য হয়ে উঠছে।
৪.
যারা প্রাইভেট টিউশনি বন্ধের পক্ষে অবস্থান নেন, তাদের একটি সাধারণ যুক্তি হচ্ছে- প্রাইভেট টিউশনি ক্ষতিকর। কোন অর্থে ক্ষতিকর? ক্ষতিকর এই অর্থে প্রাইভেট টিউশনিতে প্রচুর অর্থ খরচ হয়, অতিরিক্ত সময় নষ্ট হয়, প্রাইভেট পড়ার ফলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের পড়ালেখার প্রতি আগ্রহী হয় না ইত্যাদি ইত্যাদি। যারা প্রাইভেট টিউশনি বন্ধের বিপক্ষে অবস্থান নেন, তাদের যুক্তি হচ্ছে, বিদ্যালয়ে যথাযথভাবে পড়ালেখা হয় না বলেই শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে হয়। তাদের মতে, কোনো অভিভাবক যদি শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে পড়াতে চান, তাহলে অন্যেরা এ ব্যাপারে নাক গলানোর কে? যার সামর্থ্য আছে, তিনি তো চেষ্টা করবেনই অন্যদের চেয়ে বেশি ভোগ করার। শিক্ষা যেহেতু মোটামুটি পণ্যের কাতারে দাঁড়িয়ে গেছে এবং শিক্ষার পেছনের খরচকে এ সময়ে বিনিয়োগ, অনেকক্ষেত্রে সমাজের শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ, হিসেবে ধরা হয়-- সেখানে যার টাকা আছে তিনি যদি সেই টাকা শিক্ষার পেছনে খরচ করতে চান, তাহলে সমস্যা কোথায়? আপনি যদি ‘ফ্রিডম অব চয়েজ’-এ বিশ্বাস করেন, তাহলে একজন অভিভাবকের অধিকার আছে বিদ্যালয়ের পড়ালেখার বাইরেও শিক্ষার্থীকে আরেকটু ‘বেটার ট্রিটমেন্ট’ দেয়ার। প্রশ্ন ওঠে- তাহলে যাদের টাকা নেই তাদের কী হবে?
সমস্যাটা সেখানেই এবং উত্তরটাও সেখানেই নিহিত। মূল সমস্যা চিহ্নিত না করে প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই, বরং তা আরো নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করবে।
৫.
শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট পড়ে কেন? মোটাদাগে দুটো কারণ এখানে চিহ্নিত করা যায়। প্রথম কারণ হলো- বিদ্যালয়ে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যতোটুকু পড়ালেখা যেভাবে হওয়ার কথা সেভাবে হয় না, কিন্তু পরীক্ষা পাসের সিস্টেমটা অত্যধিক গুরুত্ব পাওয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা বা তাদের অভিভাবকেরা প্রাইভেট পড়ার ওপর জোর দিয়ে থাকে। দ্বিতীয় কারণ হলো- যে সমস্ত অভিভাবক স্বচ্ছল, তারা চান তাদের ছেলেমেয়েরা অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকুক। ফলে এর জন্য প্রয়োজনীয় টাকা খরচ করতে তারা দ্বিধা করেন না। আমার মতে, প্রথম কারণটিই মুখ্য, দ্বিতীয় কারণটি গৌণ। দ্বিতীয় কারণটিকে গৌণ বলার পেছনে যুক্তি হলো, বর্তমান সমাজ বা রাষ্ট্রব্যবস্থাকে পুঁজিবাদী, মুক্তবাজার অর্থনীতি ইত্যাদি যে নামেই চিহ্নিত করা হোক না কেন; এ ধরনের রাষ্ট্র বা সমাজের বিরাজমান বৈষম্য মূল সিস্টেমের পাশাপাশি নানা উপজাতের জন্ম দেয়। প্রাইভেট পড়াটাই যেমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি উপজাত-পদ্ধতি হিসেবেই বেড়ে উঠেছে! এটা বন্ধ করতে হলে পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকেই বদলে ফেলতে হবে, যা আসলে অন্যদের বা অন্যত্র আলোচনার বিষয়।
সেক্ষেত্রে প্রথম কারণটি নিয়েই আলোচনা করা যাক। আমাদের দেশের যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেগুলোর জন্য নানা ধরনের কাজ নির্ধারণ করা রয়েছে কেন্দ্রীয়ভাবে রচিত কারিকুলাম বা শিক্ষাক্রম দ্বারা। এই শিক্ষাক্রম অনুসারে, বিদ্যালয়ের একটি বড় কাজ হচ্ছে নির্ধারিত কারিকুলাম বা শিক্ষাক্রমের অন্তর্ভুক্ত পাঠ্যক্রমের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা। এর জন্য নানা ধরনের শিক্ষোপকরণ রয়েছে, রয়েছে অবকাঠামোগত ব্যবস্থা, শিক্ষক, নানা ধরনের শিক্ষাপদ্ধতি ইত্যাদি। এসব কিছু আয়োজনের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে এই নির্দিষ্টকৃত শিক্ষাক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেন সব শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রবাহিত করা যায়। যে বিদ্যালয় অন্যান্য অনেক কাজ বাদ দিয়ে শুধু এটুকু করতে সক্ষম, বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সেটিকেই ভালো বিদ্যালয় হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে এবং সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থী বা অভিভাবককে এই শিক্ষাক্রম সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে অন্য কোনো উপায় নিয়ে ভাবতে হয় না। গোল বাধে তখনই যখন শিক্ষার্থী কিংবা অভিভাবক লক্ষ্য করেন যে, বিদ্যালয় তার দায়িত্ব সুসম্পন্ন করছে না কিন্তু শিক্ষার্থীকে ঠিকই প্রচলিত পদ্ধতিতে কঠোরভাবে মূল্যায়ন করে যাচ্ছে, যে মূল্যায়নের সাথে আবার শিক্ষার্থীর ‘ক্যারিয়ার’ও সম্পৃক্ত। সেক্ষেত্রে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই ভীত হন এবং বিদ্যালয়ের বাইরের সাহায্য পাওয়ার আশায় ব্যাকুল হয়ে যান। ফলে প্রাইভেটের প্রতি তাদের দ্রুত নির্ভরশীলতা গড়ে ওঠে। যদি কোনো বিদ্যালয় তার শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে শিক্ষাক্রমের আওতাভুক্ত সমস্ত কাজকর্ম বিদ্যালয়েই সম্পন্ন করে দেয়, তাহলে সেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা তার অভিভাবক কি প্রাইভেটের প্রতি আগ্রহী হবেন? উত্তর হলো, না। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেটের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত নেশার মূল কারণ খুঁজতে গেলে প্রথমেই বিদ্যালয়ের দিকে তাকাতে হবে। যদি বিদ্যালয়কে তার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালনে বাধ্য করা হয়, তাহলে বাড়তি কোনোরূপ প্রচেষ্টা ছাড়াই প্রাইভেট টিউশনি পদ্ধতি বন্ধ হয়ে যাবে- এতে কোনো সন্দেহ নেই।
৬.
পড়ালেখার মতো কোনো বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত উপাদান বা কার্যপ্রক্রিয়াকে জোর করে বা আইন করে বন্ধ করা যায় না, করা উচিত নয়। সম্প্রতি নানা মহল থেকে প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ করার একটি প্রচেষ্টা চালানোর কথা শোনা যায়। হয়তো এ সম্পর্কিত আইনও তৈরি হবে যাতে শিক্ষকরা প্রাইভেট টিউশনি না করতে পারেন। এভাবে কি আদৌ প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ করা যাবে? প্রাইভেট টিউশনির মূল কারণগুলো খুঁজে বের না করে এর উপরিকাঠামোর কারণগুলোকে নিয়ে যতোই কার্যক্রম গ্রহণ করা হোক না কেন, নানা ফর্মে প্রাইভেট টিউশনি ঠিকই বহাল থাকবে। শিক্ষকদের যদি প্রাইভেট টিউশনি করতে না দেয়া হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবে একজন ডাক্তার বা আইনজীবি কিসের ভিত্তিতে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করবেন? যে আইন শিক্ষকদের জন্য তৈরি করা হলো, সেই আইন তো একইভাবে কার্যকর হতে পারে অন্যদের জন্যও। সেটি না করে শুধু শিক্ষকদের একতরফাভাবে তাদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস থেকে সরিয়ে রাখলে তা থেকে আদৌ কি কোনো ভালো ফল পাওয়া যাবে? বোধহয় এ বিষয়ে ভাবার দরকার আছে। পেশাজীবিদের একটি ভাগের জন্য এক নিয়ম, আরেকটি ভাগের জন্য আরেক নিয়ম চালু হলে তা নতুন কিছু অসন্তোষের জন্ম দিতে পারে।
৭.
উপরের অংশগুলো পড়ে মনে হতে পারে, আমি বোধহয় প্রাইভেট টিউশনির পক্ষে। মোটেও না। কিন্তু আইন করে বা জোরজবরদস্তি করে প্রাইভেট টিউশনি পদ্ধতি বন্ধ করারও পক্ষে না। প্রাইভেট টিউশনি পদ্ধতি কেন সমাজে এখনো বিদ্যমান, সেই কারণটুকু বের না করে এবং সে অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ না করে অন্য যতো ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হোক না কেন, তা থেকে বিশৃঙ্খলা ছাড়া আর কিছু পাওয়া যাবে না। লেখাপড়ার আনুষ্ঠানিক মাধ্যম হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আর এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই বাদ দিয়ে পুরো সিস্টেম ব্যস্ত টাকা কামানো ও ব্যবসার ধান্ধায়। যতোদিন পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি দূর না করা হবে, ততোদিন হাজার চেষ্টায়ও প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ করা যাবে না।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): প্রাইভেট টিউশনি, গৃহশিক্ষকতা, শিক্ষা, বাংলাদেশের শিক্ষা ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। কিন্তু স্কুল/কলেজের শিক্ষকরা তাদের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াতে পারবে না এমন বিধান কেন হওয়া উচিত? আপনি কি ডাক্তার, আইনজীবীসহ অন্য পেশাজীবীদেরও প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করতে পারবেন? যদি তা না করা হয়, তাহলে এই খড়গটা শুধু শিক্ষকদের ওপর কেন?
কৌশিক বলেছেন:
আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দিয়ে দেখছি, ক্লাসে শিক্ষক ফাকি মারে, যা পড়াতে পারতো তা পড়ায় না। ঐ একই স্টুডেন্ট তার বাসায় কোচিং এ বিকেলে পড়তে আসে এবং সে তখন তাকে সেই এক ঘন্টায় ক্লাস নোট থেকে শুরু করে পড়া কিভাবে রেডি করতে হবে ইত্যাদি বুঝিয়ে দেয়। ঢাকার ১০০ টা স্কুলের মধ্যে ৯৯.৯৯ টা স্কুলের এই একই চিত্র। যা তারা কোচিং এ পড়ায় তা ক্লাস রুমে পড়াতে নিষেধ করেছে কে?
লেখক বলেছেন: সেই একই কথা তো ডাক্তার বা আইনজীবীর জন্যও প্রযোজ্য। শুধু এই কারণে যদি শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করতে চান, তাহলে ডাক্তার কিংবা আইনজীবীর প্রাইভেট প্র্যাকটিসও বন্ধ করা উচিত।
আর তার বদলে যদি সিস্টেমটা এমন করা যায় যে, শিক্ষক বিদ্যালয়ে ঠিকমতো পড়াতে বাধ্য হবে তাহলে অটোমেটিকভাবেই শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট পড়তে চাইবে না। এক জিনিস দুইবার পড়তে কার ভালো লাগে, তাও আবার টাকা দিয়ে?
মোঃ হাসিবুল হাসান বলেছেন:
ভাল লিখেছেন।আমি কিছু যোগ করতে চাই। আমাদের দেশে বিষেশ করে ঢাকা তে এখনও অনেক ছাত্র তার উচ্চ শিক্ষআ চালিয়ে নিচ্ছে সুধু ওই প্রাইভেট টিউশান এর উপর, এমন কি অনেক ছাত্র তার পরিবার ও চালাচ্ছে এ ভাবে। আমার এক সহপাঠী তার বাবা কুস্টিয়া শহরের টিনের বালতি সারাতো। তার পক্ষে electrical engineer হওয়া সম্ভব হয়েছে ওই প্রাইভেট টিউশানি করেই। বাহিরের দেশগুলতে পার্ট টাইম চাকুরি করে লিখাপরার খরচ চালান জায়ে কিন্তু আমাদের দেশে ত তামন কনো সুজগ নাই। অবশ্য এ যুক্তি প্রাইভেট টিউশান বন্ধের বিপক্ষে দেয়া চলে না। তবু ও বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এসব করে সুধু আমরা মেধাবী মুখ গুল কেই হারাব। আর আইন করে প্রাইভেট টিউশান বন্ধ করা যাবে তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো তে শিক্ষার মান কি উন্নত করা যাবে?
লেখক বলেছেন: আপনার যুক্তিটা অবশ্য ফেলে দেয়ার মতো নয়। শুধু শিক্ষকরাই যে টিউশনি করেন তা নয়। অনেক বেকার ছেলেমেয়ে এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও টিউশনি করে। এবং সন্দেহ নেই, দেশের অর্থনীতির ওপর এর একটা প্রভাব রয়েছে। তারপরও যেখানে এই ব্যবস্থার কারণে গোটা সিস্টেমে বিরূপ প্রভাব পড়ছে, সেখানে প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ হওয়াটা জরুরি। আর যেহেতু এটা বন্ধ করতে হলে একটা বিদ্যালয়-সংস্কৃতি বিশেষ করে পড়ালেখার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, তাই আস্তে আস্তে যখন প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ হবে, তখন সেটার আঁচ হয়তো কারো গায়ে লাগবে না। কিন্তু আইন করে হুট করে বন্ধ করে দেওয়া হলে সেটার কুফল সবাইকে পোহাতে হবে।
শিক্ষার গুণগত মান বিশেষ করে বিদ্যালয়ে পড়ালেখার মান উন্নত করা ছাড়া কোন গতি নেই।
মন্তব্যের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
কালীদাস বলেছেন:
মূল সমস্যা চিহ্নিত না করে প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই, বরং তা আরো নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করবে।প্লাস না দিয়ে যাওয়ার কোন সুযোগই রাখলেন না।
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন:
কথাগুলো খুব ভালো লাগলো। প্রাইভেট টিউশনির গোড়াপত্তন কিভাবে হয়েছিলো এটা জানা ছিলো না, জানতে পারলাম। অন্য অনেক পয়েন্টেই একমত হলাম, শুধুমাত্র ৬ নম্বর ছাড়া।
লেখক বলেছেন: ছয় নম্বরটাতে কেন একমত হলেন না জানতে পারলে ভালো লাগত। পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। পাশের জনকেও পড়ায়েন। ![]()
দিগন্ত বলেছেন:
আপনার লেখাটা সচলায়তনে দেখেছি কিন্তু কমেন্ট লেখা হয়ে ওঠে নি। এখন লিখছি। আমি আপনার সাথে দ্বিমত পোষণ করছি প্রাইভেট টিউশনির কারণগুলো নিয়ে। আমার ধারণা, এটা শুধু কালচারাল একটা দিক মাত্র। আমি আপনাকে একটা লিঙ্ক দিচ্ছি, এটা সময় করে দেখে নিন। এতে ভারতের প্রাথমিক শিক্ষার ওপর সার্ভে আছে। এবছরের আগের সার্ভেগুলোকে তেমন গুরুত্ব দেবেন না, শুধু এ বছরেরটা দেখুন।
সার্ভে রিপোর্টের শেষ পৃষ্ঠায় দেখুন রাজ্যব্যাপী বিভিন্ন বিষয়ের হার উল্লিখিত আছে। চতুর্থ কলামে দেখুন প্রাইভেট টিউশনের হার উল্লেখ আছে ক্লাস ফোর থেকে এইট পর্যন্ত। তাতে জাতীয় গড় ২৭ শতাংশ মত আর পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে একই হার প্রায় ৮০ শতাংশ। অথচ শিক্ষাগত বিভিন্ন কলাম দেখলে পাবেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষার্থীরা অন্যান্য রাজ্যের মতই প্রায় সবকিছু শেখে। ডমিনো এফেক্টের মত যে যে রাজ্যে বাঙালী বেশী সেখানেও টিউশনের হার বেশী - বিহার ও ঊড়িষ্যা (উভয়েই ৫৪%)।
আমি এই সার্ভে দেখে মনে করেছি যে বাঙালী বাবা-মা শুধু ভয়ে ভয়ে বা সামাজিক চাপে ছেলেমেয়েকে টিউশনে পাঠান, আদপে এর কোনো দরকার নেই। এই কালচারটা আমাদের সমাজে পণপ্রথার মতই একটা অভ্যাসের মত। বন্ধ সবাই উদ্যোগ নিয়েই করা সম্ভব।
লেখক বলেছেন: এটা কালচারাল দিক তো বটেই, তবে সেটা একটু অন্য ধরনের আলোচনা বিধায় এখানে উল্লেখ করি নি। প্রশ্ন আসে, এই কালচারটা কীভাবে তৈরি হলো? আমি কিন্তু এর পক্ষে কিছুটা হিন্টসও দিয়েছি যেখানে প্রাচীণ ভারতীয় উপমহাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রাইভেট টিউশনি প্রথম থেকেই নানাভাবে বা ভিন্ন ফর্মে যুক্ত ছিল।
কিছুটা অবাক হওয়ারও বিষয় আছে এখানে। প্রাইভেট টিউশনির বর্তমান রূপটি কিন্তু চালু হয় জাপান থেকে। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়াসহ অধিকাংশ উন্নত দেশেই এ ধরনের প্রাইভেট টিউশনির ব্যবস্থা চালু আছে। সে হিসেবে বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে স্কুলসিস্টেম এখনো ইফেক্টিভ না, সেখানে প্রাইভেট টিউশনি তো বেড়ে উঠবেই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আলাদা করে কালচারালগতভাবে এই প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ করা সম্ভব? আমার মনে হয় না। বরং বিদ্যালয় ব্যবস্থাকে কার্যকর করে অভিভাবকদের যদি বুঝানো যায়, বিদ্যালয়ে যথাযথভাবে পড়ালেখা হচ্ছে তাহলে আস্তে আস্তে প্রাইভেট টিউশনি পদ্ধতির তীব্রতা কমে যাবে। ছোট স্কেলে এই ধরনের ইন্টারভেনশন দিয়ে কার্যকর ফল পাওয়া গেছে। অবশ্য ম্যাক্রো ও মাইক্রোলেভেলে সব সময় একই ফল আসে না।
আপনার আলোচনার জন্য অনেক ধন্যবাদ। ![]()
লেখক বলেছেন: লিঙ্কের জন্য ধন্যবাদ।
কৌশিক বলেছেন:
শিক্ষক ক্লাসে ভালো পড়াতে বাধ্য যেসব কারণে হবে তার মধ্যে একটা হতে পারে নিজের স্কুলের স্টুডেন্টদের প্রাইভেট পড়ানোর উপরে নিয়ন্ত্রন আরোপিত থাকলে। বেশীরভাগ স্কুলের শিক্ষকদের প্রাইভেট স্টুডেন্ট তার নিজের স্কুলেরই। আমার কাছে সবার আগে এটা করা জরুরী মনে হচ্ছে।
লেখক বলেছেন: "বেশীরভাগ স্কুলের শিক্ষকদের প্রাইভেট স্টুডেন্ট তার নিজের স্কুলেরই।" - মনে হয় না। এটা এলাকার ওপর ডিপেন্ড করে। কিন্তু সার্বিকভাবে এই তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই। এই তথ্য সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক মার্কস আছে, সেগুলোতে; কিন্তু সেখানেও দেখা যাচ্ছে-- একটি বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছাড়াও অন্যদের কাছে পড়ে।
আর বিদ্যালয়-ব্যবস্থাকে কার্যকর না করে শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করে দিলেই যে ক্লাসে ভালো পড়াবে-- এটা ঠিক নয়। বরং শিক্ষক তখন আয়ের অন্য উৎস খুঁজতে বের হবেন।
সুন্দর আলোচনার জন্য ধন্যবাদ।
ভাল ভাবেই জানি, বাংলাদেশে টিউশনি বন্ধ করা এত সহজ নয়। খুব সম্ভবত তা করা যাবেওনা। তবে এ বিষয়টা যে অমানবিক, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারন আমি যখন এইচ,এস,সি লেভেলে প্রাইভেট টিউশনি পড়েছি, তখন আমার রুমমেট নিজে টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ চালিয়েছে। টিউশনি ব্যপারটা এটাই বোঝায় যে, লেখাপড়া বিষয়টা দিন দিন উচ্চবিত্তদের বিষয় হয়ে যাচ্ছে। স্কুল কলেজের শিক্ষকরা তাদের কম বেতনের কথা বলে প্রাইভেট টিউশনিকে জায়েজ করার কথা বলেন। কিন্তু আমার দেখা বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য বেসরকারী স্কুল কলেজের শিক্ষককে উচ্চ অর্থের বিনিময়ে টিউশনি করতে দেখেছি, যদিও তাদের মূল চাকরীর বেতন যথেষ্ট বেশি। যাই হোক টিউশনি বিষয়ে বাবা-মাদের একধরেনের ভয় কাজ করে। তারা মনে করে প্রাইভেট না পড়লে তার সন্তান মনে হয় অন্য সবার চেয়ে পিছিয়ে পড়বে। তাই তখন খেয়ে না খেয়ে সন্তনকে প্রাইভেট টিউটর দেবার চেষ্টা করে
যাই হোক, প্রাইভেট টিউটর ছাড়াও যে ঠিক মত লেখাপড়া সম্ভব, তা স্বচক্ষে দেখার জন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া প্রয়োজন। কারন এখানে সারাজীবন প্রাইভেট পড়ে আসা ছাত্ররা বেশ ভাল ভাবেই ইংলিশমিডিয়ামে প্রাইভেট টিউটর ছাড়াই পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে।
আর একটি বিষয় হল ঘনঘন শিক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন বাবা-মা দের দুশ্চিন্তার কারন। অনেক শিক্ষিত বাবা-মা সন্তানকে লেখাপড়ায় কোন সাহায্য করতে পারেন না নতুন শিক্ষা পদ্ধতির কারনে। উদাহরন স্বরূপ স্কুল ও কলেজ লেভেলে ইংরেজি বিষয়টির কথা বলাযেতে পারে।
ভাল থাকবেন।
লেখক বলেছেন: আপনার সুন্দর আলোচনার জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ। প্রাইভেট টিউশনি হয়তো পুরোমাত্রায় বন্ধ করা যাবে না, কিন্তু যেভাবে লাগামহীনহারে এটা বাড়ছে সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। বিদ্যালয় ব্যবস্থাকে কার্যকর করা ও পিতামাতার মধ্যে সচেতনতা বাড়িয়ে হয়তো কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা যেতে পারে।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















নালন্দা বিষয়ে আরেকটু যোগ করি। তখনকার যুগে এশিয়ার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় ছিল এটি, যার অধ্যক্ষ একজন বাঙালি ছিলেন।