somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বাণিজ্যে বন্ধ শিক্ষা!
তারপরও প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ভ্যাকেশন ডিপার্টমেন্ট বলার দুর্নামটা পুরোপুরি ঘুচে যায় নি। শিক্ষকদের কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান না থাকা বা অন্য যে কারণেই হোক, মানুষের মধ্যে ওই ধারনাটা রয়েই গেছে। রমজান মাস উপলক্ষ্যে যখন প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ করার খবরটা প্রচারিত হলো, তখন মানুষের যে প্রতিক্রিয়া দেখেছি- তাতে মনে হয়েছে মানুষের ওই ধারণাটা আরো পোক্ত হচ্ছে। এটা শুধু ঢাকার চিত্র। ঢাকার বাইরেও নানা সময়ে মানুষজনের সাথে মিশে মনে হয়েছে, মানুষ এখনো প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একটি ফ্লেক্সিবল কাজের এলাকা হিসেবেই দেখে। শিক্ষকরা যে নানা ধরনের কাজ করছেন, সেগুলো সাধারণের মাঝে দৃশ্যমান নয়। অপরদিকে মানুষ দেখে নানা সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো নানা কারণে বন্ধ থাকছে। এলাকায় ছোটখাটো কিছু হলেও সবার আগে বন্ধ বা ছুটি হয়ে যায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ই। মানুষের একবার কোনো কিছু ধারণা করলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা সহজ নয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থাটা সেরকমই।

উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগের পর প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর পর যতোদিন মানুষ প্রাথমিক বিদ্যালয় না ছাড়ে, ততোদিন পড়ালেখা বন্ধ। আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ছেড়ে যাওয়ার পরও ছোটবড় ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আরো সময় চলে যায়। যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কম হয়, সেখানকার চিত্রটাও ভিন্ন কিছু নয়। বিদ্যালয়ের পাশে বাজার থাকলে মাঝে মাঝেই বিদ্যালয় ছুটি হয়ে যায়। নদী কিংবা হাওরের পাশে বিদ্যালয় থাকলে পানি বাড়লেই বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। এমনিতে বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বছরে মোটামুটি ১৫০ দিনেরও বেশি বন্ধ থাকে। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্রবার) ৫২ দিন, সাধারণ ছুটি, নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি, ঐচ্ছিক ছুটি (ধর্মভিত্তিক) ইত্যাদি মিলিয়ে আরো প্রায় ৬০ দিনের মতো ছুটি থাকে। গরমের ছুটি বা স্থানীয় পর্যায়ে ছুটি তো আছেই। তাছাড়া বছরে তিনটি পরীক্ষার জন্য সবমিলিয়ে কমপক্ষে এক মাস কোনো ক্লাশ হয় না। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ছুটির পরিমাণটা নেহায়েত কম না। হয়তো সব ছুটি শিক্ষকরা ভোগ করতে পারেন না, কিন্তু শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সময়টা স্বাভাবিকভাবেই কমে আসে। পড়ালেখা ঠিকমতো চালানোর জন্য ছুটির প্রয়োজন আছে, কিন্তু সব ছুটিই দরকার আছে কিনা সেটি ভেবে দেখা দরকার। আমাদের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে পড়ালেখার জন্য অনেক কম সময় পায়, সেটির জন্য হলেও এই বিষয়টি নতুন করে ভাবা দরকার।

*
রমজান মাস উপলক্ষ্যে রাজধানী ঢাকার বিদ্যালয় বন্ধ হওয়াটা এখন নিয়ম হয়ে যাচ্ছে। সম্ভবত চট্টগ্রামেও একই অবস্থা। বলা হচ্ছে, যানজট কমানোর লক্ষ্যে এই উদ্যোগ। প্রশ্ন হলো, রমজানে যে যানজট বাড়ে, তার জন্য তো বিদ্যালয় দায়ী নয়। রমজানে মানুষজনের কেনাকাটা বেড়ে যায়, বাড়ে মার্কেটের ব্যস্ততা। বাড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য। এই ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়াটা কতোটুকু যৌক্তিক?

রাজধানী ঢাকায় সারাবছরই বেশ ভালো যানজট থাকে। স্কুল শুরু ও শেষের সময় যানজট সহ্যসীমার বাইরে চলে যায়। একই কথা প্রযোজ্য অফিস শুরু ও ছুটি এবং মার্কেটের পিক আওয়ারের ক্ষেত্রেও। যে যানজটের দোহাই দিয়ে মাসব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হলো, সেই একই দোহাই দিয়ে কি অফিস আর মার্কেট বা বিপণীবিতানগুলো বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব? সেটা কখনোই হবে না। বরং রমজান মাস এলে দোকান বা মার্কেটের সুবিধা বাড়িয়ে দেয়া হয়। রাত আটটায় বন্ধের বদলে ১০টা বা আরো পরে বন্ধ হয়। মার্কেটের সাপ্তাহিক ছুটির দিনও বাতিল করা হয়। এক্ষেত্রে কিন্তু সরকার কিছু বলে না। বরং রমজানে কেনাকাটা বা বাণিজ্য বাড়ানোর ব্যাপারে সরকার আন্তরিক। তার মানে দেখা যাচ্ছে- সরকার একদিকে রাত আটটার পর মার্কেট চালু রাখতে দিচ্ছে, ছুটির দিনে খোলা রাখতে দিচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সব রমজানের শুরুতেই বন্ধ করে দিয়েছে। এ থেকে যদি কেউ সিদ্ধান্তে পৌঁছেন যে, সরকার শিক্ষার চেয়ে বাণিজ্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কিংবা বাণিজ্যকে সুবিধা দিতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে, তাহলে কি খুব ভুল হবে?

সরকার আন্তরিকভাবে চাইলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখেই যানজট সমস্যার মোকাবিলা করা সম্ভব। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুক্রবারে বন্ধ না রেখে একেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একেকদিন ছুটি দিলে যানজট অনেকটা কমে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু ও বন্ধ করার সময়ও ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে, যেমনটা আছে সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলোর জন্য। প্রয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো একেবারে বন্ধ না করে দিয়ে শিক্ষাকার্যক্রমের সময় কিছুটা কমিয়ে আনা যেতে পারে। কিংবা যদি এসময়ে ছুটি দিতেই হয়, শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত গ্রীষ্মের ছুটি বা অন্য ছুটিগুলোকে রমজান মাসের ছুটির সাথে সমন্বয় করা যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়ার জন্য অধিকাংশ বিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা নেই। সরকার তাদেরকে নিজস্ব পরিবহনের জন্য তাগিদ দিতে পারে। মাঝে মাঝেই সরকার বিদেশ থেকে ২০০-৩০০ বাস আনছে বিআরটিসির জন্য। সেগুলো থেকে কিছু কিছু যদি বিদ্যালয়কে দেয়া হয়, তাহলেও অনেকটা উপকার হয়। প্রয়োজনে বিদ্যালয়গুলোকে আস্তে আস্তে এরকম পরিবহন বা বাসের ব্যবস্থা করতে বলা হোক।

সরকার চাইলে নানা উদ্যেগ গ্রহণ করে বিদ্যালয়গুলোকে খোলা রাখতে পারে- এটা তেমন কঠিন কাজ নয়। রমজানে বাণিজ্য বাড়বে, স্বাভাবিক। অর্থনীতির জন্য এটা হয়তো সুস্বাস্থ্যের পরিচায়কও। কিন্তু এর জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বলি দেওয়া সুবুদ্ধির পরিচয় নয়। বাণিজ্যের কারণে শিক্ষা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি নিশ্চিত করা দরকার। বাণিজ্য-শিক্ষা দুটোই বাড়ুক, কেউ কারো প্রতিদ্বন্দ্বী নয়।

(লেখাটি এর আগে বাংলাদেশের শিক্ষা সাইটে প্রকাশিত)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29430163 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29430163 2011-08-11 23:38:15
স্বাধীনতার ৪০ বছর: শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতি কতোটুকু?
ব্যক্তি মানুষের অগ্রগতি এবং দেশের অগ্রগতি মাপার কৌশল এক নয়। ব্যক্তি মানুষের অগ্রগতি যতো সহজে মাপা যায়, একটি দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি মাপা ততোটাই দুরূহ হয়ে উঠতে পারে। এর একটি কারণ হলো- একটি নির্দিষ্ট সময় পর আমরা দেশকে কোন জায়গায় দেখতে চাই, সে স¤পর্কিত সূচক, ধারণা বা পরিকল্পনার অভাব। স্বাধীনতার পর নানা সূচকে দেশের অবস্থা কীরকম ছিল, সে স¤পর্কিত খুব কম তথ্য পাওয়া যায়। তার চেয়েও বড় বিষয় হলো, স্বাধীনতার ১০, ২০ বা ৫০ বছর পর দেশকে কোন জায়গায় দেখতে চাই, সেরকম পরিকল্পনার অভাব আমাদের সবসময়ই ছিল। ফলে কীসের ভিত্তিতে দেশের অগ্রগতি নির্ধারণ করা হবে, সেই বিষয়টিও তর্কসাপেক্ষ হয়ে যায়। তারপরও মানুষের কিছু আশা-আকাক্সক্ষা থাকে। থাকে চাওয়া-পাওয়া। সেগুলোর ভিত্তিতে দেশের অগ্রগতি কিছুটা হলেও মাপা যায় বা মাপা সম্ভব। অন্য দেশের তুলনায় নিজ দেশের অবস্থা জেনেও অগ্রগতি বুঝার একটি চেষ্টা করা যায়। সবচেয়ে ভালো হয়, স্বাধীনতার সময় অর্থনৈতিক শক্তিতে যে সব দেশ বাংলাদেশের সাথে একই কাতারে ছিল, তাদের সাথে তুলনা করে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান নির্ধারণ করতে পারলে। ৪০ বছরের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার দৌড়ে আমরা অবশ্যই কিছু না কিছু উন্নতি করেছি; কিন্তু সেটির গতি অন্যদের তুলনায় কম না বেশি, সেটিই আসলে মূল বিবেচ্য।

এ ধরনের কাজে অর্থনীতিবিদরা প্রায়শই নানা সূচক, সংখ্যা বা উপাত্ত ব্যবহার করে দেশের অবস্থা বিচার করেন, বিভিন্ন দেশের মধ্যকার অবস্থার তুলনা করেন। যেসব ডিসিপ্লিনে এ ধরনের সংখ্যাগত ফলাফল পাওয়া যায়, সেগুলো দিয়ে দেশের অবস্থা স¤পর্কে মোটামুটি একটি ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু শিক্ষা বা এ ধরনের সামাজিক অবস্থার অগ্রগতি বা উন্নতি নির্ধারণ করা এক অর্থে কঠিন কাজ। দেশে কতোটি বিদ্যালয় আছে, কতোজন শিক্ষার্থী আছে ইত্যাদি বিষয় স¤পর্কে তথ্য-উপাত্ত সহজেই বলে দেওয়া গেলেও এসব তথ্য থেকে দেশের শিক্ষার সার্বিক অগ্রগতি স¤পর্কে ধারণালাভ অসম্ভব। ফলে শিক্ষার অগ্রগতি নিয়ে কথা বলতে গেলে একটু অন্যভাবে বিষয়গুলো দেখতে হবে।

যারা শিক্ষা নিয়ে কাজ করেন, তাদের কাছে শিক্ষার গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞাগুলোর একটি হচ্ছে- শিক্ষা মানুষের মধ্যে এমন ইতিবাচক পরিবর্তন আনে যা সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য। অর্থাৎ শিক্ষাকে ধরা হয় মানুষের ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে সহায়ক একটি পদ্ধতি হিসেবে। এই জায়গাতে বাংলাদেশ কতোটা এগিয়েছে? সন্দেহ নেই- গত ৪০ বছরে দেশে সাক্ষরতার হার বেড়েছে, প্রচলিত শিক্ষায় শিক্ষিতের হার বেড়েছে, নানা বিষয়ে দক্ষ জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, নানা ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেড়েছে, বেড়েছে শিক্ষাস¤পর্কিত সচেতনতাও। কিন্তু সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত হতে পেরেছি আমরা কজন? শিক্ষিত হওয়া যদি বুঝায় মানুষের নৈতিক অবস্থার উন্নতি, মানবতাবোধের উন্নতি, সংস্কারমুক্ত হওয়ার দিকে অগ্রসর হওয়া; তাহলে এগুলোর বিচারে আমরা কজন নিজেদের শিক্ষিত বলে দাবি করতে পারবো? তাত্ত্বিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পড়ালেখা করে শিক্ষিত হওয়ার সাথে মানুষের মানবিক গুণাবলী বিকাশের একটা ইতিবাচক যোগসূত্র থাকার কথা। আমাদের রাষ্ট্রীয় নানা নীতিতেও সে ধরনের কথা বলা আছে। কিন্তু বর্তমানে একজন ব্যক্তি কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করার পরও তার মানবিক গুণাবলীসমূহ অন্তত একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় বিকশিত হয়েছে বলে দাবি করতে পারবেন কি? বোধহয় না। কারণ আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা মানুষকে চাকুরির জন্য প্রস্তুত করে ঠিকই, কিন্তু মানবিক গুণাবলী শেখার বিষয়গুলো সেখানে উপেক্ষিত, কোথাও বা পুরোপুরিভাবেই অনুপস্থিত। আজকে যখন দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের শীর্ষ তালিকায় থাকে এবং প্রধানত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিরাই এসব দুর্নীতির মূল কারিগর; তখন সহজেই বুঝা যায়, সার্টিফিকেট অনুসারে দেশে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও সত্যিকার অর্থে শিক্ষার মান নিুগামী, শিক্ষার প্রভাব নেতিবাচক। আজকে যখন বিদ্যালয় থেকে শুরু করে অফিস-কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের নিজ কাজে অবহেলা করতে দেখা যায়, তখন সহজেই বুঝা যায় প্রচলিত শিক্ষা আমাদেরকে কাজে ফাঁকি দেয়া শিখিয়েছে। অথচ গত ৪০ বছরে এই মানুষগুলোই শিক্ষিত হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে কাজ করছে! তাহলে এ সময়ের শিক্ষা মানুষকে কি শুধু সার্টিফিকেটই দিয়েছে, শিক্ষিত করতে পারে নি?

শিক্ষার কাজ ব্যক্তির উন্নয়ন, সমাজের উন্নয়ন, দেশের উন্নয়নে মূল ভ’মিকা পালন করা। নানা দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা সেই ভূমিকা পালন করতে পারছে না। এই দুর্বলতাগুলোর একটি হলো শিক্ষার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও নীতি না থাকা। স্বাধীনতার পর একটি দেশের নানা প্রায়োরিটি থাকে। হাজারো প্রায়োরিটির ভিড়ে শিক্ষা পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত। স্বাধীনতার বছর চারেকের মধ্যে এই দেশ একটি পূর্ণাঙ্গ এবং সময়ের তুলনায় আধুনিক শিক্ষা পরিকল্পনা পেয়ে যায়। কিন্তু রাজনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ও প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির সংস্কৃতি শিক্ষাকে কখনোই সুস্থির জায়গায় পৌঁছাতে দেয় নি। স্বাধীনতার পর ক্ষমতায় আসা প্রতিটি সরকার আগের কমিশন রিপোর্টগুলোর কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে নতুন করে প্রতিবেদন প্রণয়ন করিয়েছে- তাদের ইচ্ছা ও দলীয় আদর্শ অনুসারে। রাষ্ট্রের আদর্শও অবশ্য ইতোমধ্যে বদলে গেছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন যে চার মূলনীতিকে কেন্দ্র করে দেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন প্রতিবেদন রচিত হয়েছিল, রাষ্ট্র এখন সেখান থেকে বেশ দূরে। এর প্রভাব পড়েছে পরবর্তী সময়ের প্রতিবেদনগুলোতেও। অর্থাৎ শিক্ষাকে সব সরকারই অত্যন্ত স্থূলভাবে তাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছে এবং করেছেও। ফলে চল্লিশটি বছর ধরে বাংলাদেশের শিক্ষা চলে এসেছে নির্বাহী আদেশের জোরে। এমনটা আর কোথাও পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ! এক্ষেত্রে যে পরিবর্তনটুকু এসেছে, সেটি একেবারেই সাম্প্রতিক।

এ ধরনের ব্যর্থতার উদাহরণ প্রচুর দেওয়া যাবে। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা ৪০ বছর আগে কীরকম ছিল? তখনকার মতো মেধাবী, নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের বদলে এখন দলীয় লেজুড়বৃত্তি শিক্ষকদেরই প্রাধান্য দেখতে পাই। যে মালয়েশিয়া, হংকং বা কোরিয়া থেকে একসময় শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসতো, এখন তার ঠিক উল্টো চিত্র দেখা যায়। দেশে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সংখ্যা কমছে উল্লেখযোগ্য হারে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার সার্বিক অবস্থা বাংলাদেশের মতোই ছিল। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে এবং পরিকল্পনামাফিক সব পর্যায়ের শিক্ষার প্রতি নজর দিয়ে আজ তারা কোন পর্যায়ে? এই হিসাবগুলো এখন নির্মোহভাবে করা দরকার। এই দেশগুলোর সাথে আমাদের অবস্থার তুলনা সমাজের প্রতিটি স্তরে দেখানো দরকার। শিক্ষা নিয়ে আমরা যারা নানা সময়ে উদাসীন থেকেছি, তাদের উপলব্ধি করানো দরকার- শিক্ষা কোনো রুটিন কাজ নয়; একে নিয়ে ভাবতে হয়, সযতেœ পরিচর্যা করতে হয়। আর সেই কাজগুলো করা গেলেই কেবল অগ্রগতির আশা করা যায়। শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যর্থতার পাশাপাশি আমাদের অনেক সাফল্যও আছে, কিন্তু সেগুলো সামগ্রিক উন্নয়নকে প্রতিনিধিত্ব করে কম। প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে এ দেশের সাফল্য এখন বর্হিবিশ্বে উচ্চারিত হয় অহরহ। দেশের প্রচুর মেধাবী তরুণ বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নানা সাফল্য দেখাচ্ছে। বিভিন্ন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রায়শই হারাচ্ছে আমাদের সীমিত স¤পদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তরুণরা। স্বল্প সুযোগে এসব সাফল্য হতাশার আড়ালে বড় কোনো সুসংবাদের বার্তাই প্রদান করে। কিন্তু ছোট সাফল্য নিয়ে বসে থাকার দিন এখন ফুরিয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য দরকার সামগ্রিক ও বিস্তারিত পরিকল্পনা যেখানে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী উভয় ধরনের চিন্তাভাবনা প্রতিফলন দেখা যাবে। স্বাধীনতার চল্লিশটি বছর আমরা পার করেছি অনেক অবহেলায়। আর মাত্র দশটি বছর পরই উদযাপিত হবে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর। পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে ব্যর্থতায় ঠাসা লেখার বদলে যেন সাফল্যের তুষ্টিতে ভুগতে পারি, সেজন্য অনেকে আগে থেকেই নানা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার ছিল। এই অব্যাহত ব্যর্থতা আর যেন আমরা লালন না করি!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29352056 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29352056 2011-03-27 13:54:14
ফেসবুক বাংলা অনুবাদ: গ্রামীণফোনের আহ্বান নাকি কৃতিত্ব বাগানোর ধান্ধা?
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে মোবাইল ফোন কোম্পানি গ্রামীণফোন ‘জরুরিভত্তিতে ফেসবুক অনুবাদক আবশ্যক’ বিজ্ঞাপন দিয়েছে। বিজ্ঞাপনটি দেখে শুরুতে মনে হয়েছিল, গ্রামীণফোন কিছু অনুবাদক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে যাদের কাজ হবে ফেসবুকের যাবতীয় বিষয়-আশয় অনুবাদ করা। বিজ্ঞাপনটির আউটলুক এমন যেন এটি একটি চাকুরির বিজ্ঞপ্তি এবং অনুবাদক নিয়োগ করে অনুবাদের কাজটি করার জন্য ফেসবুক গ্রামীণফোনকে দায়িত্ব দিয়েছে।

স্বল্পপরিমাণে হলেও একসময় ফেসবুক বাংলা অনুবাদের কাজ করেছি, এখনও মাঝে মাঝে করি। ফলে কৌতুহলভরে বিজ্ঞাপনের বাকি অংশগুলো পড়লাম এবং চরমভাবে হতাশ হলাম। একই বিজ্ঞাপনের অংশ হিসেবে ভেতরের পাতায় আরেকটি ছোট বিজ্ঞাপনে কীভাবে ফেসবুক বাংলা অনুবাদ করা যায়, তার বিভ্রান্তিকর নির্দেশনাও দেয়া ছিল। পরদিন ওই পত্রিকার প্রতিদিনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে এ সম্পর্কিত খবরও প্রকাশিত হয়। তাতে জানানো হয়, “গ্রামীণফোন ও ফেসবুক যৌথ উদ্যোগে বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য আনছে বাংলায় জনপ্রিয় এই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ।” খবরে এও বলা হয়, “এর আগে কিছু উৎসাহী ফেসবুক ব্যবহকারকারী বাংলা ভাষায় ফেসবুকের রূপান্তর কাজ শুরু করলেও এর উল্লেখযোগ্য অংশই অসম্পূর্ণ থেকে গেছে।” খবর আর বিজ্ঞাপনটি মিলিয়ে পড়ার পর পুরো বিষয়টি বুঝা গেলো এবং একই সাথে গ্রামীণফোন যে মিথ্যাচার করে সাধারণ ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কৃতিত্ব হাইজ্যাক করার ধান্ধা করছে, তাও পরিষ্কার হলো।

মিথ্যাচারের বিষয়টি পরিষ্কার করার আগে ফেসবুক বাংলা অনুবাদ সম্পর্কে কিছু বলা দরকার। ফেসবুক বাংলা অনুবাদ আসলে নতুন কিছু নয়। প্রায় আড়াই বছর আগে থেকেই বাংলাদেশ ও ভারতের বেশ কিছু ব্যবহারকারী নিজ উদ্যোগে, নিজ সময় ব্যয় করে এই ফেসবুক অনুবাদের কাজটি করে আসছেন। গ্রামীণফোন যেদিন বিজ্ঞাপনটি পত্রিকায় প্রকাশ করেছে সেদিন পর্যন্ত ফেসবুক অনুবাদের ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেছে। তাছাড়া শুধু ইংরেজি থেকে বাংলাতে রূপান্তর করাই অনুবাদের একমাত্র কাজ নয়। এ সমস্ত অনুবাদের ক্ষেত্রে লোকালাইজেশনের প্রয়োজন পড়ে। এই ব্যবহারকারীরা লোকালাইজেশনের কাজটিও করে যাচ্ছে নিরলসভাবে। উল্লেখ্য, এই একই ধরনের কাজের জন্য ইন্টারনেট জায়ান্ট গুগল যেখানে রীতিমতো পয়সা দিয়ে লোক নিয়োগ করে, সেখানে ফেসবুক বাংলা অনুবাদের কাজে এখন পর্যন্ত ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে কোনো প্রকার অর্থ খরচ করতে হয় নি। অনুবাদকরা নিজে থেকেই এই কাজটি করছে। পাশাপাশি একজন অনুবাদে ভুলত্রুটি থাকলে অন্যজন ধরিয়ে দিচ্ছে, একাধিক ভালো অনুবাদের মধ্যে সবচেয়ে ভালোটি বেছে নেওয়ার জন্য ভোটাভুটি হচ্ছে এবং এই করতে করতেই ফেসবুক বাংলা অনুবাদের কাজটির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ শেষ হয়ে গেছে। কোনো ধরনের অর্থকড়ি ছাড়া মানুষের নিজ উৎসাহে এই অনুবাদের ফল হচ্ছে-- অনেকক্ষেত্রে গুগলের অনুবাদের চেয়েও ফেসবুকের অনুবাদ গুণগতভাবে ভালো অবস্থায় আছে। ফেসবুকে এখন পর্যন্ত কে কতোটি বাংলা অনুবাদ করেছে, ভোট দিয়েছে- তার সবকিছুরই রেকর্ড রয়েছে। বাংলাদেশের একজন তরুণ ওয়েব প্রোগ্রামার লেনিন ২২০০-এরও বেশি অনুবাদ করে এ কাজের শীর্ষে রয়েছেন। তিনিসহ যারা এ কাজের সাথে যুক্ত আছেন তারা কোনো প্রকার লাভের উদ্দেশ্যে কাজটি করছেন না, বরং কাজের তালিকায় নিজের নাম দেখা আর বাংলা ভাষার জন্য কিছু একটা করা ছাড়া আর কোনো তৃপ্তি বা পাওনা এ কাজের সাথে জড়িয়ে নেই।

ঠিক এই জায়গাতেই মিথ্যাচার করেছে গ্রামীণফোন। খবরে বলা হয়েছে, গ্রামীণফোন ও ফেসবুক যৌথ উদ্যোগে এই অনুবাদের কাজটি করছে। খোঁজ নিয়ে যতোদুর জানা গেছে, এটা এমন কোনো উদ্যোগ নয় যেখানে একমাত্র গ্রামীণফোন ও ফেসবুক যৌথ উদ্যোগে সেটি করবে। গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে অনুবাদের কাজে আগ্রহ দেখিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ফেসবুক এতে সম্মতি দিয়েছে এবং এর ফলে গ্রামীণফোন ফেসবুকের লোগোটি তাদের বিজ্ঞাপনে ব্যবহারের অনুমতি জোগাড় করতে পেরেছে। যে সাধারণ ব্যবহারকারীরা এতোদিন ধরে অনুবাদের কাজটি করে আসছে, তার চেয়ে গ্রামীণফোন আলাদা কিছু করতে যাচ্ছে না। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ প্রতিটি ভাষাতেই তাদের সেবা দিতে চায় এবং এ কাজে যে কেউই এগিয়ে আসতে পারে। ব্যবসায়িক কোনো উদ্দেশ্য না থাকলে এই অনুবাদ কাজ করার জন্য ফেসবুকের অনুমতিরও প্রয়োজন পড়ে না। তারা অনুবাদ করার যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়েই রেখেছে, যে সুবিধা ব্যবহার করে গত আড়াই বছরে ফেসবুক অনুবাদের অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন করা হয়ে গেছে। ফলে খবরের পরের অংশে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ যে দাবি করছে ‘এর উল্লেখযোগ্য অংশই অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে’, তা ডাহা মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ ছাড়া আর কিছু নয়। পুরো বিজ্ঞাপনটিই আসলে এক ধরনের মিথ্যে কথার সমষ্টি যেখানে ফেসবুক বাংলা অনুবাদকদের কৃতিত্ব হাইজ্যাক করা ছাড়া আর কোনো উদ্দেশ্য চোখে পড়ে না।

এটা ঠিক, ফেসবুক যে বাংলাতে ব্যবহার করা যায়, তা অনেকেই জানেন না। এটা যে অনুবাদ করা যায়, তাও অনেকে জানেন না। গ্রামীণফোন দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল ফোন কোম্পানি, তার ওপর বিজ্ঞাপনটি যেহেতু শীর্ষ জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে, সুতরাং এর মাধ্যমে অনেকেই ফেসবুক বাংলার কথা জেনে গেছেন। অনেকে নিশ্চয়ই অনুবাদেও আগ্রহী হয়েছেন। ফেসবুকসহ নানা ধরনের ওপেন সোর্স প্রজেক্টে যে কেউ বাংলায় অনুবাদ করতে পারেন, লোকালাইজেশন করতে পারেন। তাতে আমাদেরই লাভ বেশি। এই কাজে অংশ নেয়ার জন্য গ্রামীণফোন কেন, যে কেউই আহ্বান জানাতে পারে। কিন্তু তার মানে কি এই-- অন্যদের কৃতিত্ব হাইজ্যাক করে এই কাজটি করতে হবে? অধিকাংশ মানুষের না জানাকে পুঁজি করে ব্যবসা করতে হবে? অন্যের কৃতিত্ব চুরি করতে হবে? মোবাইল ফোন কোম্পানিসহ অনেক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান দিন দিন সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নানা ধরনের কাজে অংশ নিচ্ছে। এটাও গ্রামীণের সে ধরনেরই উদ্যোগ বলে মনে হয়। কিন্তু সেটি করতে গিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নেয়া তো অপরাধের শামিল। একটি প্রায় সম্পন্ন হতে যাওয়া কাজে এ ধরনের একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করে এবং অনুবাদের কাজ সম্পন্নকারীদের অবদানকে বেমালুম অস্বীকার করে, মিথ্যাচার করে গ্রামীণফোন যে কাজটি করেছে, সেটি প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। গ্রামীণফোনের এই প্রতারণা ও কুরুচিপূর্ণ কাজকে ধিক্কার জানাই। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29338750 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29338750 2011-03-05 17:55:58
বাংলাদেশের শিক্ষা বিষয়ক ওয়েব সাইটের যাত্রা শুরু হলো এই সাইটটি পুরোপুরি চালু হয়েছে। বছরখানেকেরও বেশি সময় ধরে পরীক্ষামূলকভাবে চালু থাকা এই সাইটটি আজ থেকে পুরোপুরি চালু হওয়ার পেছনে যাদের অবদান রয়েছে আমরা তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানচ্ছি। বিশেষ করে এই সময়কালে যে সমস্ত পাঠক সাইটটি খুঁজে বের করে বিভিন্ন লেখা পড়েছেন, সেগুলোর ওপর আলোচনা করেছেন এবং আমাদেরকে সাইট সম্পর্কে মতামত জানিয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। একটি পরীক্ষামূলক সাইটে লেখা পাঠানো যে প্রকৃতপক্ষে সেই লেখার কোনো ধরনের প্রচার না পাওয়া- এই সত্যটি জেনেও যে সমস্ত লেখক আমাদের কাছে লেখা পাঠিয়েছেন, আমরা তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞ।

এই সাইটের স্লোগান ঠিক করা হয়েছে: জ্ঞান হোক উন্মুক্ত, সবার জন্য। আমরা চাই জ্ঞান কখনো কারো কাছে কুক্ষিগত না থাকুক। যে জ্ঞান মানুষ অর্জন করেছে, সেই জ্ঞান সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই হোক জ্ঞান অর্জনের অন্যতম উদ্দেশ্য। জ্ঞান তখনই কাজে লাগবে যখন তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়া যাবে। জ্ঞান তখনই শক্তি হিসেবে দেখা দিবে যখন তা সবাই ব্যবহার করতে পারবে। ঠিক এই বিশ্বাস ও প্রত্যয় থেকে আমরা এই সাইটের কাজ শুরু করেছিলাম। সুতরাং, এই সাইটে যা কিছু প্রকাশিত হবে, তা হবে সবার জন্য উন্মুক্ত। শিক্ষা ও বাংলাদেশের শিক্ষা বিষয়ে যে কেউ এখানে লিখতে পারবেন। অবাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে জ্ঞানার্জনের কাজে যে কেউ এই সাইটের লেখা ব্যবহার করতে পারবেন। এ সম্পর্কিত বিস্তারিত দেখুন এখানে , এখানেএখানে

এই সাইটটি মূলত বাংলাদেশের শিক্ষা বিষয়ে। বাংলাদেশের শিক্ষার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যা কিছু সম্পর্কিত, সেই বিষয়গুলো নিয়ে লেখা প্রকাশ হবে এখানে। আজকে এই দিনে, আমরা সবাইকে আহ্বান জানাই, বাংলাদেশের শিক্ষা-সম্পর্কিত আলোচনা-সমালোচনা-পর্যালোচনা-বিতর্কের ঝড় উঠুক এখানে। প্রত্যেকের মধ্যেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে, আছে নানা মতামত বা বক্তব্য। কেউ সরাসরি এই শিক্ষা সেক্টরে কাজ করে সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বক্তব্য রাখতে পারেন, কেউ পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে মন্তব্য করতে পারেন আবার কেউ বা ছোটবেলায় নিজ শিক্ষার স্মৃতি মনে করে মতামত ব্যক্ত করতে পারেন। আমাদের কাছে সবার বক্তব্যই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা এমন কোনো বিষয় নয় যে শুধু এর সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তি বা বিশেষজ্ঞরাই এ নিয়ে কথা বলতে পারবেন। একটি দেশের শিক্ষা কেমন হওয়া উচিত, কীভাবে চললে শিক্ষাব্যবস্থার আরো উন্নতি হবে ইত্যাদি নানা বিষয়ে প্রত্যেকের নিজস্ব চিন্তা বা অভিমত রয়েছে। এই সাইটে সব ধরনের মানুষের সব ধরনের মতামত প্রকাশের ব্যবস্থা থাকবে। বাংলাদেশের শিক্ষা নিয়ে পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হোক এই সাইটে- এটা আমাদের কামনা।

আজকের এই সাইট চালু হওয়ার মুহূর্তে আমরা তাই সবাইকে আহ্বান জানাই শিক্ষা বিষয়ে লেখা পাঠানোর জন্য। আপনার বক্তব্য, আপনার মতামত, আপনার লেখা, আপনার পরামর্শ, আপনার চিন্তাভাবনা ছড়িয়ে যাক সারা বিশ্বের মানুষের কাছে। কে জানে, আপনার আজকের বক্তব্যই হয়তো আগামী দিনে শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে দিতে পারে।

উল্লেখ্য, আমরা এই সাইটে কোনো প্রকার ভর্তি, টিউশনি, টিউটোরিয়াল সম্পর্কিত লেখা বা কনটেন্ট না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ ধরনের সাইট প্রচুর রয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষা বিষয়ক এই সাইটটি বাণিজ্যিক কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হবে না বা এর কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য নেই। আমরা চাই বাংলাদেশে শিক্ষা নিয়ে সিরিয়াস আলোচনার ক্ষেত্র হয়ে উঠুক এই সাইটটি।

এই মুহূর্তে সাইটে খুব কম লেখা আছে। বেশ কিছু লেখা আমাদের কাছে ইতোমধ্যে জমা হয়েছে। আমরা আস্তে আস্তে লেখাগুলো প্রকাশ করবো। একসাথে অধিক লেখা নয়, গুণগত মানসম্পন্ন লেখা যাতে প্রকাশিত হয়, সেদিকে আমরা বেশি করে নজর দিতে চাই। সেজন্য প্রতিটি লেখায় আপনাদের মন্তব্য কাম্য।

সবাইকে ওয়েব সাইটটি দেখার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাই। অনুরোধ জানাই সাইটটি দেখে মতামত প্রদানের জন্য, পরামর্শ দেওয়ার জন্য এবং বিশেষ অনুরোধ থাকবে শিক্ষাবিষয়ক লেখা পাঠানোর জন্য। লেখা পাঠানোর বিস্তারিত নিয়মাবলী পাওয়া যাবে এখানে । আপনাদের মতামত ও লেখায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক এই সাইটটি।

সাইটে এখনো আমরা বেশ কিছু ফিচার যোগ করতে পারি নি। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে থাকা ফিচারগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। পাশাপাশি এই সাইটটিকে আপনি কীভাবে দেখতে চান, কী ধরনের ফিচার চান- তা যদি আমাদের জানান তাহলে আমরা সে অনুযায়ী বিভিন্ন ফিচার যোগ করতে চেষ্টা করবো। যারা সময় স্বল্পতা বা নানা কারণে সাইটি প্রতিনিয়ত ভিজিট করতে পারবেন না, তারা যদি সাইটের ইমেইলের মাধ্যমে এই ওয়েব সাইটটির গ্রাহক হয়ে যান, তাহলে নতুন লেখা বা ফিচার প্রকাশের সাথে সাথেই আপনাদেরকে জানিয়ে দেয়া হবে।

আমরা বিশ্বাস করি লেখক আর পাঠকই সব। সাইটের দায়িত্ব তাদের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করা। সেই বিশ্বাস থেকে আমরা এই সাইটে কোনো প্রকার মডারেশন রাখতে চাই না। পাঠক যে সমস্ত মন্তব্য করবেন সেগুলো সরাসরি প্রকাশিত হবে। কোনো মন্তব্য বা বক্তব্য সাইটের সাথে সম্পর্কযুক্ত না হলেই কেবল তা পরবর্তীতে সরিয়ে ফেলা হবে।

সাইটটি ভিজিট করার আপনাদের আবারো অনুরোধ ও ধন্যবাদ জানাই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29331008 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29331008 2011-02-21 01:10:43
আউটসোর্সিং: যে সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে উঠা জরুরি
এ সাফল্যের মূল দাবিদার যে তরুণরা তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মূলত ব্যক্তি উদ্যোগেই আউটসোর্সিং হচ্ছে বাংলাদেশে। সময়মত এবং মানসম্মত পণ্য সরবরাহ করা আউটসোর্সিঙের প্রধান শর্ত এবং এ শর্ত ঠিকমতো পালন করছে বলেই আজকে বাংলাদেশ এ অবস্থানে আসতে পেরেছে। মানসম্মত পণ্য সরবরাহ করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে এবং বাংলাদেশ এক্ষেত্রে আস্থা তৈরি করতে পেরেছে। কিন্তু সময়মত সরবরাহ করার বিষয়টি শুধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে না; এর সঙ্গে আরো অনেককিছু জড়িত। আউটসোর্সিঙে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ধরে রাখা বা উন্নতির জন্য আরো কিছু কাজ করা দরকার। যে সীমাবদ্ধতাগুলো প্রকাশ্য এবং আলোচিত, অন্তত সেগুলোর দিকে নজর দেয়া বিশেষভাবে জরুরি। এতে আউটসোর্সিঙের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের চেয়েও বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের দায়িত্ব অনেক বেশি। মাত্র কয়েকটি সীমাবদ্ধতা দূর করতে পারলে আউটসোর্সিং খাত থেকেই বাংলাদেশ প্রতি বছর বড় অংকের আয় করতে পারে। এমনকি অদূর ভবিষ্যতে এই আয় গার্মেন্টস সেক্টরকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সফল আউটসোর্সিঙের একটি অন্যতম প্রধান শর্ত। বাংলাদেশের বিদ্যুতের অবস্থা নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। বিদ্যুতের কারণে অনেকে সময়মত পণ্য সরবরাহ করতে পারে না। আউটসোর্সিঙের পুরো কাজটি যেহেতু ইন্টারনেটভিত্তিক, তাই কোনো প্রতিষ্ঠান বিদ্যুতের কারণে একাধিকবার পণ্য সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে ক্রেতা তার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। সীমিত ইন্টারনেট ব্যবস্থাও সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারার একটি কারণ। ভি-স্যাটের মাধ্যমে ইন্টারনেট যোগাযোগ বন্ধ। সারাদেশ এখন একটিমাত্র সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে যুক্ত। কোনো কারণে এ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। ইন্টারনেটের গতিও বেশ ধীর। সব জায়গায় ইন্টারনেট নেই। মূলত এই দুটো কারণে পণ্য সরবরাহ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সরবরাহকারীদের বেশ সমস্যা পোহাতে হয়। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারলে এক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশের অবস্থান আরো উন্নত করা সম্ভব।

ক্রেডিট কার্ডের সীমিত ব্যবহার আউটসোর্সিঙের আরেকটি বড় সমস্যা। বাংলাদেশ থেকে ইন্টারনেটে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অর্থ আদানপ্রদান বা বিদেশে কেনাকাটা করা যায় না। অথচ আউটসোর্সিঙের অধিকাংশ লেনদেনই করতে হয় ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে। এর বিকল্প পেপল নামক ইন্টারনেটভিত্তিক সেবাটিও বাংলাদেশে নেই। বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়, স্বীকৃত ও নিরাপদ এই অর্থ আদানপ্রদানকারী ব্যবস্থাটি বাংলাদেশে এখনো কেন অনুমতি পাচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়। পেপলের ওয়েব সাইটে যেসব দেশের নাম রয়েছে, সেখানে স্বল্পপরিচিত অনেকে দেশের নাম থাকলেও বাংলাদেশের নাম না থাকাটা বেশ পীড়াদায়ক। যারা আউটসোর্সিং বা ইন্টারনেটে লেনদেনের সাথে যুক্ত, তারা সবাই বুঝতে পারেন এ সেক্টরে পেপলের প্রয়োজনীয়তা কতোটুকু। শুধু পেপলের অনুপস্থিতির কারণে আরো অনেকের আউটসোর্সিং করার মতো দক্ষতা থাকলেও তারা তা করতে পারে না। হিসেবে করলে দেখা যাবে, যারা আউটসোর্সিঙের সাথে জড়িত, এ সংখ্যাটা তাদের চেয়ে বেশিই হবে। পেপলের নিরাপত্তা সিস্টেম এতোটাই সুরক্ষিত যে, বিদেশে অবস্থানকারী কারো ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে পেপল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করার চেষ্টা করলেও পেপল কর্তৃপক্ষ সেটি বন্ধ করে দেয়। তাছাড়া প্রতিটি লেনদেনের হিসাব তো সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে থাকছেই। বিএনপি সরকার তথ্যপাচারের আশঙ্কায় বিনামূল্যে সাবমেরিন কেবল লাইন নেয়া থেকে বিরত ছিল। সম্ভবত সেই একই ধরনের অর্থাৎ অর্থপাচারের আশঙ্কায় পেপলকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু ব্যাংকের নিয়মকানুন মেনে ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে লেনদেন করলে অর্থপাচার বা এ ধরনের আশঙ্কাটা পুরোপুরি অমূলক। বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর বেশ কিছু ভালো কাজ করেছেন। দেশে এখন ইন্টারনেটে কেনাকাটা করা যাচ্ছে, সীমিত পর্যায়ে হলেও অর্থ আন্তঃব্যাংক লেনদেন হচ্ছে। তিন মাসের মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিং চালু হতে যাচ্ছে। গভর্নর যদি আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড ও পেপল ব্যবহারের সুযোগটি খুব তাড়াতাড়ি চালু করেন, আউটসোর্সিং খাতে দেশের উপার্জন বহুগুণে বেড়ে যাবে।

আউটসোর্সিঙের ক্ষেত্রে ডাকবিভাগও কিছুটা যুক্ত। প্রথাগত অর্থে আউটসোর্সিং না করে অনেকে নিজস্ব ওয়েব সাইটে নানা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে বেশ ভালো আয় করে থাকেন। উদাহরণস্বরূপ কারো ওয়েব সাইটে গুগলের বিজ্ঞাপন ব্যবহার করলে গুগল ব্যবহারকারীকে নিজস্ব আয়ের একটি অংশ প্রদান করে থাকে। শুধু গুগলের বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে প্রতি মাসে প্রচুর আয় করছেন দেশে এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়। কিন্তু এই আয় তুলতে গিয়েও নানা সমস্যায় পড়তে হয়। গুগল অনলাইনে টাকা না পাঠিয়ে সরাসরি চেক পাঠায় যা প্রায়ই ডাকবিভাগ থেকে হারিয়ে যায় বলে অভিযোগ আছে। আবার কিছু টাকা খরচ করলে সেটা ফেরতও পাওয়া যায়। ডাকবিভাগের ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে অনেকেই ২৮ ডলার খরচ করে ডিএইচএলে চেক আনান। চেক ছাড়াও বিদেশ থেকে আসা নানা ডকুমেন্টসও ডাকবিভাগ থেকে হারায়। আউটসোর্সিঙের সঙ্গে যারা জড়িতরা তাই ডাকবিভাগের সেবা না নিয়ে বেশি টাকা খরচ করে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এসব আনার ব্যবস্থা করেন। অথচ ডাকবিভাগের সেবাকে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করলে প্রচুর বিদেশী মুদ্রা দেশেই রাখা যেত।

গার্টনারের প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর অনেকেই নবউদ্যমে এ সেক্টরে কাজ করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়বেন। সবাই যে বুঝেশুনে ঝাঁপ দিবেন তা নয়; বরং না বুঝেই অনেকে কিছু একটা করার চেষ্টা করবেন এবং সেক্ষেত্রে বিফল হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। আউটসোর্সিঙে বাংলাদেশের ভালো করার মানে এটা নয় যে- কেউ চাইলে কাল থেকেই কাজ শুরু করে দিতে পারে। মনে রাখা দরকার, আউটসোর্সিং অনেক বড় একটা প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র এবং এখানে নিজের যোগ্যতা দিয়েই টিকে থাকতে হয়। টেকনিক্যাল বিষয় জানা না থাকলে আউটসোর্সিং থেকে হতাশাও আসতে পারে। এটা এমন নয় যে একবার টাকা বা শ্রম বিনিয়োগ করলে আস্তে আস্তে রিটার্ন আসতে থাকবে। বরং নিজেকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা, যারা কাজ দেয় তাদের কাছে নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতা যথাযথভাবে তুলে ধরা ও সুনাম বজায় রাখা অনেক জরুরি। এগুলো সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন না করে আউটসোর্সিঙের কাজ শুরু করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। আর এর জন্য দরকার প্রশিক্ষণ।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন না করেও আউটসোর্সিঙে ভালো করা সম্ভব। কিন্তু ইংরেজি ভাষাটা জানতে হবে ভালোভাবে; জানতে হবে কম্পিউটারের বেশকিছু বিষয়ও। ওয়েব সাইট ডিজাইন, প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, সফটওয়্যার তৈরি, কল সেন্টার ইত্যাদি থেকে শুরু করে ইন্টারনেট টিউশনি বা অনুবাদ করার মতো কাজও বিদ্যমান। কিন্তু সবক্ষেত্রেই ইংরেজির কোনো বিকল্প নেই। কম্পিউটারে যে যেদিকে আগ্রহী, তাকে সেদিকেই নিজের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। আউটসোর্সিং নিয়ে দেশে প্রশিক্ষক বা প্রশিক্ষণ সেন্টারের অভাব রয়েছে। যারা এ বিষয়গুলো ভালো জানেন, তারা সম্ভবত প্রশিক্ষণ বা এ ধরনের কাজে আগ্রহী নন। পত্রপত্রিকায় মাঝেসাঝে আউটসোর্সিঙের বিজ্ঞাপন দেখা গেলেও সেগুলোর মান খুব একটা ভালো নয়। যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে আউটসোর্সিঙের কাজ করছে, তারা সীমিত জনসম্পদ ব্যবহার করে হলেও যদি কিছু মানুষকে প্রশিক্ষিত করতে পারে, তাহলে এই প্রশিক্ষণার্থীরাই পরবর্তী সময়ে অন্যদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তুলতে পারে। এক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসাটা খুবই জরুরি। কিছুদিন আগে যখন দেশে কল সেন্টার স্থাপনের হিড়িক উঠলো, তখন ভারতের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়লো। এর আগেও আইটি প্রশিক্ষণে বেশ কিছু ভারতীয় প্রতিষ্ঠান এদেশে রাজত্ব করে গেছে। তাদের সিলেবাস ও প্রশিক্ষণের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও একদল মানুষের কাছ থেকে তারা কিন্তু প্রচুর পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে গেছে। আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণেও এমনটি হতে পারে বলে অনুমান করি।

গার্টনারের দেওয়া এই সুসংবাদে যথারীতি সরকার ভাগ বসিয়েছে। বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেজ ওসমান বলেছেন, “তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপের কারণে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে”। দেশের যে কোনো অর্জন বা কৃতিত্বে সরকারের ভাগ বসানোটা স্বাভাবিক; কিন্তু আউটসোর্সিঙের ক্ষেত্রে সরকার রুটিন কাজের বাইরে কিছু করেছে কিনা জানা নেই। সরকারের নীতি বা কর্মপন্থার কারণে অনেক সাফল্য আসতে পারে, কিন্তু রুটিন কাজের বাইরে উল্লেখযোগ্য কিছু না করলে সরকার সেখানে কৃতিত্ব দাবি করতে পারে কি? তবে দাবি করলে প্রচলিত সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে উঠার জন্য প্রধান দায়দায়িত্বও সরকারকে বহন করতে হয়। আশা করব, সরকার আউটসোর্সিঙের অসুবিধাগুলো যতো দ্রুত সম্ভব দূর করার ক্ষেত্রে নিজের দায়িত্বটুকু পালন করবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29311853 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29311853 2011-01-21 23:57:45
উইকিপিডিয়ার ১০ বছর পূর্তি: আমরা কী করতে পারি?
১০ বছর আগে যে উইকিপিডিয়ার জন্ম হয়েছিল, তা এখন অনেকটা বদলে গেছে, সময়ের খাতিরেই। এই বদলানোটা ইতিবাচক- এতে প্রচুর ফিচার যোগ হয়েছে, সহজ করা হয়েছে লেখালেখির টেকনিক্যাল দিকগুলোও। ফলে আজকে যে কেউ সহজেই রেজিস্ট্রেশন করে তথ্যসূত্র দিয়ে উইকিপিডিয়াতে লিখতে পারেন, পারেন উইকিকমন্সে সুন্দর সুন্দর ছবি যোগ করতে কিংবা কপিরাইটের আওতামুক্ত প্রিয় লেখকের লেখাগুলো তুলে দিতে পারেন উইকিসংকলনে।

উইকিপিডিয়ার ১০ বছর পূর্তি কীভাবে উদযাপন করা যায়, তা নিয়ে আলোচনার জন্য কিছুদিন আগে উইকিমিটআপে বসেছিলাম আমরা কয়েকজন। এতে উইকিপিডিয়ান এবং নন-উইকিপিডিয়ান মিলে প্রায় ১০-১২ জন উপস্থিত হয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে অংশগ্রহণকারীরা যেসব পরামর্শ এবং আইডিয়া দিয়েছেন তার তালিকাটি এমন:


(ছবি কৃতজ্ঞতা: রণদীপম বসু)

উইকপিডিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে ১ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত ১৫ দিনের অনুষ্ঠানমালা আয়োজন করা যেতে পারে। এই ১৫ দিনে বিভিন্ন ছোট ছোট কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উইকিপিডিয়ার জন্মদিন উদযাপন করা যেতে পারে। যে কোন আগ্রহী ব্যক্তি বা সংগঠন আলাদা আলাদাভাবে দেশের যেকোন স্থানে যার যার এলাকাতে উদযাপন করতে পারেন। এই কর্মকাণ্ডগুলো দুটো ভাগে বিভক্ত:

১. অনলাইন কর্মকাণ্ড ২. অফলাইন কর্মকাণ্ড অনলাইন কর্মকাণ্ডের মধ্যে যা যা থাকতে পারে উইকিপিডিয়ার উন্নয়নে এই ১৫ দিনে বা তারও আগে থেকে বিভিন্ন লক্ষ্য স্থির করে তা পূরণে কাজ করার জন্য সকলকে আহ্বান করা যেতে পারে। লক্ষ্যগুলো এমন হতে পারে-

• ন্যূনতম মান বজায় রেখে বাংলা উইকিপিডিয়ার নিবন্ধ সংখ্যা ২৫,০০০-এ বৃদ্ধি করা।
• ‘ভালো’ নিবন্ধের সংখ্যা ২৫-এ উন্নীত করা।
• ‘নির্বাচিত’ নিবন্ধের সংখ্যা ৫-এ উন্নীত করা।
• ১০০ বড় নিবন্ধের সম্পূর্ণ বানানশুদ্ধি করা।
• মেইলিং লিস্ট, ব্লগ, ফেইসবুক, টুইটারসহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে উইকিপিডিয়া সম্পর্কিত প্রচারণা চালানো।

অফলাইন কর্মকাণ্ডে মধ্যে যা করা যেতে পারে
• মিডিয়া ক্যাম্পেইন: পত্রিকায় উইকিপিডিয়ায় যোগদানের আহ্বান জানিয়ে লেখালেখি, রেডিও বা টেলিভশনে উইকিপিডিয়া সম্পর্কিত আলোচনার আয়োজন করা যেতে পারে।
• ছবি আপলোড ক্যাম্পেইন: ওই ১৫ দিনে উইকিপিডিয়ার জন্য ছবি সংগ্রহ করা এবং তা আপলোড করা। যারা প্রচুর ছবি তোলেন কিন্তু নানা কারণে তা উইকিপিডিয়াতে দিতে পারেন না, তারা পেন ড্রাইভ বা সিডিতে ছবি দিলে সেগুলো উইকিতে আপলোড করার।
• উইকিপিডিয়া একাডেমি: অন্যান্য কমিউনিটিকে উইকিপিডিয়ায় লেখালেখির উপরে প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে। ব্লগারদের জন্য একটি ওয়ার্কশপের আয়োজন করা যেতে পারে।
• স্যুভেনির ও স্টিকার: স্যুভেনির তৈরি এবং বিতরণ, স্টিকার, কলম, প্যাড করা যেতে পারে, যাতে উইকিপিডিয়ার ১০ বছর পূর্তির বিষয়টি লেখা থাকবে।
• ছবি আপলোড: ১৫ তারিখে বা অন্য কোনো দিনে কোথাও জড়ো হয়ে সারাদিনব্যাপী ছবি আপলোড করার কাজ করা যেতে পারে। এ ধরনের আয়োজনের জন্য ১/২ এমবি ওয়াইম্যাক্স ইন্টারনেট ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে।
• আলোচনা অনুষ্ঠান: এ সময়ে উইকিপিডিয়া সংক্রান্ত কোনো আলোচনা বা সেমিনারের আয়োজন করা যেতে পারে যেখানে এ সমস্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য কয়েকজন সেলিব্রেটিকে আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে।
• পার্টি বা আড্ডা: ১৫ তারিখে কেক কেটে একটি জন্মদিনের পার্টি বা আড্ডার আয়োজন করা যেতে পারে। যেখানে বিশেষ কোনো অতিথিদের আনা যেতে পারে।

মোটামুটি এই ছিল ১০ বছর পূর্তি উদযাপনের আইডিয়া। এগুলো কোনো পরিপূর্ণ আইডিয়া নয়, উইকিমিটআপে তাৎক্ষণিকভাবে এগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা আরও আইডিয়া চাই, বিশেষ করে ছোট ছোট আইডিয়া যা যে কেউ দেশের যে কোন স্থানে আয়োজন করে উইকিপিডিয়াকে ওই এলাকায় তুলে ধরতে পারেন। পাশাপাশি আপনি কীভাবে এ আয়োজনের শরিক হতে পারেন, তাও জানাতে পারেন। উপরের যে আইডিয়াগুলো এখানে তুলে ধরা হলো, তার সবগুলো উইকিকর্মীদের পক্ষে এককভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আইডিয়া প্রদানের পাশাপাশি কোন ক্ষেত্রে আপনি কীভাবে সহায়তা করতে পারেন, তাও জানাতে পারেন এখানে। আমরা চাই যারা উইকিপিডিয়ার এই ১০ বছরপূর্তি উদযাপন করতে ইচ্ছুক তারা যেন অনেক অপশন থেকে নিজের সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী উইকিপিডিয়াকে মানুষের সামনে তুলে ধরুন।

আয়োজন সম্পর্কে আপডেট জানতে এবং আয়োজনের আলোচনায় অংশ নিতে মেইলিং লিস্টে যোগ দিতে পারেন।

এছাড়াও রয়েছে ফেইসবুক ইভেন্ট পেজ

এছাড়া আগামী উইকিমিটাপের খবর পাবেন এখানে ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29286789 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29286789 2010-12-10 03:11:31
এই আমার ঢাকা " style="border:0;" /> কিছুটা এডিটিত মানে সম্পাদিত)

*
আমার অফিস টাইমটা রমজান মাসে মজার- সকাল সাড়ে আটটা থেকে তিনটা অথবা সাড়ে নয়টা থেকে চারটা। এক সময় গেলেই হলো-- এমনকি সাড়ে আটটা বা সাড়ে নয়টার মাঝখানে কোনো এক সময় কিংবা একটু আগে বা পরে গেলেও সমস্যা নেই; নির্ধারিত সময়টুকু থাকলেই হয়। আমার যে স্বভাব, প্রতিবারই আগের রাতে ভাবি কাল থেকে সাড়ে আটটায় অফিস করবো; কিন্তু সকালবেলায় মন ঘুমন্ত থাকে‍! সেদিন, কোনো এক রমজান মাসের সকালেও সাড়ে আটটার অফিস ধরার কথা ছিল, কিন্তু সম্ভবত সকালের স্বপ্নে ‘শাবনূর’ এসে সঙ্গ দিচ্ছিল বলে বরাবরের মতোই উঠতে দেরি হল! শাবনূরের সাথে স্বপ্নে ইটিশ-পিটিশ করতে গিয়ে দেখি অলরেডি সাড়ে আটটা বাজে- এখন বেরুতে গেলেও সাড়ে নয়টার আগে পৌঁছানো যাবে না; তবুও কোনোমতে জামাটা গায়ে গলিয়ে দৌড়। ভাগ্য ভালো একটা সিএনজি পাওয়া গেল‍!

**
অফিস থেকে বেরুতে বেরুতে বিকেল সাড়ে চারটা। এমনিতেই দেরি করে এসেছিলাম, আবার একটু কাজও ছিল- বেরুতে অন্তত ১৫ মিনিট দেরি। এই সময়টায় ১৫ মিনিট দেরি মানেই বাসায় পৌঁছতে অন্তত এক ঘণ্টা লেট। তারপরও পাশের মার্কেটে সাজানো তরুণী কর্মী দেখতে দেখতে একটা ঠ্যাংছিরা, একটা তবন আর একটা সাতকড়ার আচার কেনার খায়েশে মার্কেটে কাটিয়ে দিলাম আরো অন্তত আধা ঘণ্টা। ততক্ষণে সোয়া পাঁচটা। নাহ্, বাসায় ইফতারের আগে পৌঁছতে হলে এবার দৌড়াতেই হবে।

***
নিয়মানুযায়ী কোনো সিএনজি যাবে না। নতুনবাজার থেকে বাসাবোর উদ্দেশ্যে ১৩ টাকার টিকিট কেটে রডে হাত ধরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পার হলাম বড়জোড় এক থেকে দেড় কিলোমিটার। এর মধ্যেই ঘড়ি ধরে ৫০ মিনিট পার। ভেতরের গেঞ্জিটা তো বটেই, বাইরের শার্ট পর্যন্ত ভিজে শেষ- প্রচণ্ড রোদ, তার চেয়ে বেশি গরম বাসের ভেতর। ওদিকে পাশের সিটে একটা পিচ্চি বমি করতে করতে যাচ্ছে, ডানপাশের যাত্রী মাঝেমাঝেই হেলে পড়ছেন। চোখমুখ তুলে বাইরে তাকানোর চেষ্টা করলাম- বৃথা! এর মধ্যে আবার বাসে উঠেই একেবারে পেছন দিকে চলে এসেছি যাতে অন্তত শান্তিমতে দাঁড়ানো যায়। কীসের কী! এই দুনিয়ায় শান্তি যা আছে তা তো ওই প্রাইভেটকারওয়ালাদের গাড়ির ভেতর!

****
গাড়ি আগাচ্ছেই না! ত্যক্তবিরক্ত হয়ে পেছন থেকে কোনোমতে ঠেলেঠুলে বেরিয়ে এলাম। সামনে পুরো রাস্তাটাই পড়ে আছে। এই বাসে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। বাস থেকে নামামাত্রই মনে হলো এসিরুমে ঢুকলাম। ৫০ টাকা দিয়ে মধ্য বাড্ডা থেকে বাসাবো পর্যন্ত রিকশা ঠিক করলাম। উদ্দেশ্য, রিকশা যদি ফাঁকফোকর দিয়ে যেতে পারে। আর যেতে না পারলেও অন্তত বাইরের বাতাসটা তো লাগবে! তো, রিকশা মোটামুটি এ গলি-ও গলি দিয়ে, একটু বড় রাস্তায় উঠে, আরেক রিকশাকে ধাক্কা দিয়ে, দু-চারটা গালিগালাজ করে বাসাবো চলে আসলো, এবং হ্যাঁ, বাসের আগেই।

*****
বাসাবোতে যখন নামলাম তখন ইফতার শেষ, সবাই চা-পান-বিড়ি খাচ্ছে। রাস্তার ধারের দোকান থেকে এক গ্লাস পানি মেরে চা-টা খেয়ে যখন বাসার দিকে হাঁটা শুরু করবো, তখন দেখি ১৩ টাকার টিকিট কাটা সেই সালসাবিল বাস বৌদ্ধমন্দির পার হচ্ছে। সামনে লাগানো একটা বিজ্ঞাপনের স্টিকার, বাইরের বডিতে লাগানো দুটো পোস্টার আর সামনের লুকিং গ্লাসের নিচের ডান্ডায় লেগে থাকা ছোট এক টুকরা সবুজ কাপড় দেখে চিনতে পারলাম- এই বাসেই উঠেছিলাম আমি নতুনবাজারে।

******
যে শহরে ঠেলা গাড়ির (রিকশা তো পা দিয়ে ঠেলেঠেলেই চালাতে হয়!) গতি ইঞ্জিন গাড়ির চেয়ে বেশি, সেই শহরে বাস করি আমি। এই আমার ঢাকা!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29272552 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29272552 2010-11-15 10:31:47
প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি: লটারিই কি সর্বশেষ সমাধান?
প্রথম শ্রেণীতে শিশুদের ভর্তি পরীক্ষা শুধু অমানবিক নয়, অন্যায়ও বটে। শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয় নানা ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে অনেক কিছু শেখানোর জন্য যেগুলোকে ভিত্তি করে সে পরবর্তী জীবনে সফলকাম হতে পারবে। কিন্তু যে শিশু সেই কর্মকাণ্ডের জগতে প্রবেশই করে নি, তার পরীক্ষা নিয়ে মেধা যাচাইয়ের প্রচলিত পদ্ধতিটি যে পুরোপুরি অন্যায় কাজ, সেটা উপলব্ধি করতে আমরা অনেক সময় পার করে ফেলেছি। সন্দেহ নেই, আসন সংখ্যার চেয়ে বেশি শিশুর ভর্তিচাহিদাই এই ব্যবস্থা তৈরি করেছিল। পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোও চেয়েছে তুলনামূলক মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তি করতে যাতে তারা পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে বিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করে। পদ্ধতিটি যে আদতে শিশুর জন্য ক্ষতিকর, তা হয়তো তখন গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হয় নি। তাছাড়া এ পদ্ধতি শিশুদের জন্য অমানবিকও বটে। নিয়মানুযায়ী ছয় বছর বয়সে শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার কথা। বয়স বিবেচনা করলে ভর্তির সময় শিশুকে কোনো ধরনের পরীক্ষায়ই অংশগ্রহণ করার কথা না; কারণ এটা কোনোভাবেই শিশুদের জন্য আনুষ্ঠানিক পরীক্ষার বয়স হতে পারে না। তাছাড়া কোনো কিছু না শিখেই যার বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার কথা, তাকে কেন কিছু নির্দিষ্ট বিষয়বস্তুর ওপর পরীক্ষা দিতে হবে? যে সমস্ত বিষয়ের ওপর প্রথম শ্রেণীতে ভর্তিচ্ছু শিশুদের পরীক্ষা নেওয়া হয়, সেগুলো তো তার বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরই শেখার কথা! ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুদের ও তাদের অভিভাবকদের এক ধরনের চাপে ফেলা হয় যাতে তারা বিদ্যালয়ে ভর্তির আগেই অনেক কিছু শিখে আসে। এতে বিদ্যালয়ের লাভ কিছুটা- তাদেরকে নতুন করে কিছু শুরু করতে হয় না বরং তারা বাড়তি কিছু পড়াতে পারে। এতে মূল ক্ষতি হয় শিশুদের। প্রতিটি শিশুরই বয়স অনুসারে ধারণক্ষমতা আছে এবং একটি শিশুকে যখন ধারণক্ষমতার বেশি শেখার জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চাপ দেওয়া হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার মানসিক বিকাশ ব্যহত হয়। শিক্ষামনোবিজ্ঞানীরা শিশুদের এ শিক্ষাকে পরবর্তী জীবনের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করেন।

প্রথম শ্রেণীতে এই ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে পূর্ববর্তী বছরগুলোতেও নানা কথাবার্তা হয়েছে; প্রতি বছরই অনেকে এ নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন। পরীক্ষার হলে শিশুর ঢুকতে না চাওয়া ও তাকে জোর করে ঢুকানো; পরীক্ষার হলে কান্না বা পরীক্ষা শেষ হওয়ামাত্রই শিশুর মায়ের কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ার ছবি আমরা প্রতি বছরই পত্রিকার পাতায় দেখতে পাই। ভয়কাতুরে শিশুর মায়ের কোলে আসার এই ছবি খাঁচা থেকে মুক্তি পাওয়া পাখির ছটফটানির সমতূল্য। ভর্তি পরীক্ষা শিশুর মনে প্রথম দিনই পরাধীনতা ও খাঁচায় আবদ্ধতার যে অনুভূতি সৃষ্টি করে, তা সব শিশু কাটিয়ে উঠতে পারে কিনা জানি না; কিন্তু এটি কোনো অর্থেই শিশুর মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না।

অবাক হলেও সত্য, এই ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রচুর কোচিং সেন্টারও গড়ে উঠেছে এবং শিশুকে বছর ধরে সেখানে কিংবা প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে প্রস্তুতি নিতে হয়। ভর্তি পরীক্ষায় যেসব ভয়াবহ প্রশ্ন আসে, সেগুলো না বুঝেই তাকে মুখস্ত করানো হয়। অভিভাবকদের টাকার হিসাব না হয় বাদই দিলাম। বিদ্যালয়ে নানা খেলাধুলা ও আনন্দদায়ক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যার বর্ণপরিচয় ঘটার কথা, তাকে ভর্তি পরীক্ষায় লিখতে হয় কঠিন সব প্রশ্নের উত্তর। যারা ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করেন, তারা শিশুদের মনস্তত্ব যে একেবারেই বুঝেন না, তা ওই প্রশ্নপত্র দেখলেই টের পাওয়া যায়। আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় প্রবেশের আগেই এই পরীক্ষা শিশুকে বুঝিয়ে দেয় যে, সারাজীবন তাকে এরকম নিরানন্দ মুখস্তবিদ্যার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি চাপই হবে তার পড়ালেখা জীবনের একমাত্র সঙ্গী। শিশুর মধ্যে এমন ভয়াবহ ধারণা প্রবেশ করিয়ে তার সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠার অযৌক্তিক আকাঙ্ক্ষা অভিভাবকদের মধ্যে থাকলেও শিক্ষার নীতিনির্ধারকরা এই পদ্ধতিটিকে কীভাবে প্রশ্রয় দিলেন, তা বোধগম্য নয়। তারপরও আমাদের শিশুরা জীবনযুদ্ধে সাফল্যলাভ করেছে বা করছে; কিন্তু ব্যতিক্রম ছাড়া সম্ভবত প্রতিটি মানুষকেই পড়ালেখার ভূত তাড়িয়ে বেড়াতে হয় সারাজীবন।

প্রথম শ্রেণীতে শিক্ষার্থীর ভর্তির বয়স যদিও ছয় কিন্তু পরীক্ষায় সম্ভবত এর চেয়েও অধিক বয়সের শিক্ষার্থীই অংশ নেয় বেশি। অনেক অভিভাবকই তার শিশুকে পছন্দনীয় নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর জন্য দু-তিন বছর লস দেন বা তাকে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে একাধিক বছর ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করান। জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় কিছু বিদ্যালয়ের সুনাম দেখে বা এসব বিদ্যালয়ের পড়ালেখা ভালো হয় মনে করে অভিভাবকরা এ কাজগুলো করেন। এতে দুধরনের ক্ষতি হয়। যেসব শিক্ষার্থী যথাযথ বয়সে ভর্তি হয়, তারা ‘সিনিয়র সহপাঠী’দের সাথে পড়ালেখা বা অন্যান্য কর্মকাণ্ডে পেরে উঠে না যা তাদের মধ্যে মানসিক দূরত্বের সৃষ্টি করে। অপরদিকে যারা বেশি বয়সে ভর্তি হয়, তাদের একাধিক শিক্ষাবছর নষ্ট হয়, যার প্রভাব পড়ে পরবর্তীতে- জীবনযুদ্ধে। প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষার এ ভয়াবহ চিত্রগুলো প্রতিবছরই উঠে আসে নানা আলোচনা ও লেখায়। কিন্তু কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া কোনো বিদ্যালয়ই বোধহয় এ নিয়ে মাথা ঘামাতে রাজি নয়।

প্রশ্ন হলো, এই লটারি পদ্ধতিই কি প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির শেষ সমাধান? কিংবা আদৌ কি এটি সমাধান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে? রাজধানীর বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে যে অবস্থা বিরাজ করছে, তাতে একে আপাতত সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে; কিন্তু কোনোমতেই এটিকে একমাত্র বা শেষ সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত হবে না। যেহেতু কিছু কিছু বিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার বিকল্প নিয়ে ভাবছে এবং এদের অনেকে এ পদ্ধতিকে আপাতসমাধান হিসেবে বিবেচনা করছে, এখন নীতিনির্ধারকদের উচিত হবে এর একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা। লটারি পদ্ধতি বিদ্যালয়ে ভর্তির কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।

ভিকারুননিসা ও অন্যান্য বিদ্যালয় লটারি পদ্ধতিতে ভর্তির ব্যবস্থা চালু করলেও তাদেরকে বেশ কিছু সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে। প্রথমেই আসবে স্বচ্ছতার প্রশ্নটি। বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিবছরই নানা দুর্নীতির কথা শোনা যায়। প্রভাবশালীদের সন্তানরা ভর্তি পরীক্ষা না দিয়েই ভর্তি হয়ে যায়, কিংবা ভর্তি পরীক্ষার আড়ালে টাকাপয়সা নিয়ে ভর্তিবাণিজ্য চলে- এমন কথাও শোনা যায়। লটারি পদ্ধতি সঠিকভাবে মানা হলে হয়তো এ প্রশ্নগুলো উঠবে না; কিন্তু সেজন্য দরকার স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত লটারি। স্বচ্ছতা না থাকলে এই পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। যেহেতু ভর্তির ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতার অভিযোগ রয়েছে, তাই বিদ্যালয়গুলোর উচিত হবে লটারির পুরো কাজটি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে করান। এতে পদ্ধতিটির উপর অভিভাবকদের আস্থা থাকবে এবং শিক্ষার্থী ভর্তির সাথে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জড়িত বা পক্ষপাতিত্ব থাকার অভিযোগও দূর করা যাবে। এ সম্পর্কিত দুর্নীতির অভিযোগও এড়ানো যাবে। আর লটারির উপযুক্ত কারা হবে সে সম্পর্কিত কিছু সিদ্ধান্তও আগেই নিতে হবে। যেমন, নির্দিষ্ট বয়সের শিশু ছাড়া বেশি বা কম বয়সের শিশুর জন্য ভর্তি ফরম কেনা যাবে না। বয়স নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনে জন্মনিবন্ধন সনদ দেখে বা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য উপায় মেনে এ কাজটি করতে হবে। ফরম কেনার সহজ ব্যবস্থা চালু করতে হবে যাতে যুদ্ধ করে ফরম কিনতে না হয়। মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেটে ফরম বিক্রির সুলভ ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ভর্তি পরীক্ষার খরচ না থাকায় শুধু লটারি সম্পর্কিত খরচ হিসেব করে ফরমের দাম ঠিক করা ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত আগেই নিতে হবে যেন লটারির কাজটি সুচারূভাবে সম্পন্ন করা যায়। ভর্তি পরীক্ষার চেয়ে লটারি প্রথায় অনেক বেশি অভিভাবক অংশগ্রহণ করবে বলে আশা করা যায়। সুতরাং এটা যেন আবার বিদ্যালয়ের জন্য বাণিজ্যে পরিণত না হয়, সে দিকটিও খেয়াল রাখতে হবে।

আগেই বলা হয়েছে, প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে লটারি কোনো স্থায়ী সমাধান হওয়া উচিত নয়। এটি কোনো সফিসটিকেটেড পদ্ধতি নয়; সুতরাং এর বিকল্পের কথা এখন থেকেই চিন্তা করা দরকার। এই চিন্তা করতে হবে নীতিনির্ধারকদের এবং তা সামগ্রিক চিন্তার অংশ হিসেবে। নীতিনির্ধারকদের প্রথম চিন্তাই হওয়া উচিত, প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি কেন, কোনো ধরনের সিলেকশনই যাতে না হয় সে উপায় বের করা। শিক্ষা কর্তৃপক্ষ যদি এখন থেকেই কাজ শুরু করে তাহলে সেটা করতে খুব বেশি সময় লাগার কথা না। সরকার কিছুদিন আগে একটি শিশু জরিপ করেছে এবং কোন এলাকায় কতো শিশু আছে সে তালিকা রয়েছে রয়েছে সরকারের কাছে। তালিকা ধরে কোন এলাকায় কী পরিমাণ বিদ্যালয় দরকার তা সহজেই বের করা সম্ভব। যদি কোনো এলাকায় চাহিদার চেয়ে কম বিদ্যালয় থাকে, তাহলে অবিলম্বে সেখানে বিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত কিংবা বর্তমান বিদ্যালয়সমূহ বর্ধিত করার সুযোগ থাকলে (শিফট বাড়ানোসহ) সেখানে অবকাঠামোগত ও অন্যান্য সুবিধা বাড়ানো উচিত। পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় যে সমস্ত মানসম্মত (এখানে নামকরা পড়াই সঙ্গত) বিদ্যালয় রয়েছে, অন্য বিদ্যালয়গুলো যেন সেগুলোর কাছাকাছি অবস্থানে যেতে পারে, সেরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। থাইল্যান্ডে অপেক্ষাকৃত দুর্বল বিদ্যালয় চিহ্নিত করে সেগুলোকে ‘আইসিইউ’ ক্যাটাগরিতে ফেলে বিদ্যালয়গুলোর দ্রুত উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় সরকারের পক্ষ থেকে। সরকার চাইলে এ ধরনের কিছু কাজও করতে পারে। নতুন বিদ্যালয় স্থাপনের কাজটিও আগামী এক বছরের মধ্যেই করা সম্ভব। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যালয় ও আসন সংখ্যা দ্রুত নিশ্চিত করার পর যিনি যে এলাকায় বাস করেন, তার সন্তানকে সেই এলাকায় ভর্তি করাতে হবে এরকম বিধান করতে হবে। তখন যেহেতু প্রতিটি এলাকাতেই পর্যাপ্ত বিদ্যালয় থাকবে, সেহেতু কোনো অজুহাতেই অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিজ এলাকার বাইরে ভর্তি না করাতে পারে, সে ব্যবস্থা জোরালোভাবেই গ্রহণ করা উচিত। এতে সন্তান ও অভিভাবকদের যাতায়াতে যেমন সময় কম লাগবে, তেমনি এ ব্যবস্থা যানজট সমস্যা কিছুটা হলেও কমাতে পারবে। তারপরও যদি কোনো এলাকায় সব বিদ্যালয়ের আসন পূরণ হয়ে যায় একমাত্র তখনই অভিভাবক পাশের এলাকার বিদ্যালয়ে সন্তানকে ভর্তি করাতে পারবে। পুরো কাজটি কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটর করবে সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টর।

মনে রাখা দরকার, কোনো বিদ্যালয় রাতারাতি ভালো হয়ে যায় না। রাজধানী ঢাকার যে বিদ্যালয়গুলো ভালো বলে খ্যাত, খোঁজ নিলে দেখা যাবে সে সব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের বাইরে প্রাইভেট শিক্ষক ও কোচিঙে সময় ব্যয় করে বেশি। বিদ্যালয়ে ভালো ফলাফল করার ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের অবদান বেশি নাকি এসব বাইরের পড়ালেখার অবদান বেশি, তা নিয়ে নানা মত রয়েছে। এ নিয়ে গবেষণাও হতে পারে। সুতরাং ভালো ফলাফলের জন্য বিদ্যালয়ই একমাত্র ফ্যাক্টর নয়। এই শিক্ষার্থীরা যখন নানা ধরনের বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়বে, তখন সব বিদ্যালয়ই নিজেদের মধ্যে ভালো ফলাফলের প্রতিযোগিতা করতে পারবে। নামী আর অনামী বিদ্যালয়ের প্রচলিত দেয়াল ভেঙে ফেলা দরকার। সব বিদ্যালয়ই যেন একটি নির্দিষ্ট লেভেল পর্যন্ত মান অর্জন করতে পারে, কর্তৃপক্ষকে সেদিকে সচেতন হতে হবে। যদি কোনো নির্দিষ্ট বিদ্যালয় ও তাদের শিক্ষকবৃন্দ সত্যিকার অর্থেই মানসম্মত হন, তাহলে প্রয়োজনে সেই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ‘লিয়েনে’ অন্য বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার ব্যবস্থা করতে হবে। এতে অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেমন তুলনামূলকভাবে ভালো শিক্ষকের সংস্পর্শে আসবে, তেমনি অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও কীভাবে ভালোভাবে পড়াতে হয়, সেটি বুঝতে পারবেন। ভালোকে এক জায়গায় আবদ্ধ রাখলেই চলবে না, তা ছড়িয়ে দিতে হবে সব জায়গাতেই।

এ আলোচনার প্রাসঙ্গিকতা মূলত রাজধানী ঢাকা বা চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে, কারণ ভর্তি সংক্রান্ত সমস্যা এ দুটো শহরেই বেশি দেখা যায়। অন্যান্য শহরেও আস্তে আস্তে এটি সমস্যা হিসেবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। ঢাকা বা চট্টগ্রামের সমস্যাটি প্রকট বলে তার সমাধান এখনই করতে হবে। পাশাপাশি অন্যান্য শহর বা গ্রামে এটি যেন সমস্যা হয়ে উঠতে না পারে সে জন্য এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। সারাদেশ যেন কেন্দ্রের মতো একই আলোতে এবং একই মাত্রায় আলোকিত হয়, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে শিক্ষা কখনোই উন্নয়নের হাতিয়ার হবে না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29271554 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29271554 2010-11-13 21:57:22
শিক্ষার্থীদের পিটুনি নিষিদ্ধ: এবার কি একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলা যাবে? " style="border:0;" />। শিক্ষকের হাতে মার খাওয়ার বিষয়টি আমাদের কাছে এতোটাই স্বাভাবিক ছিল যে, কোনোদিন কোনো কারণে ক্লাশে মার না খেলে আমরা দুরুদুরু বুকে অপেক্ষা করতাম- না জানি কী কেয়ামত হতে যাচ্ছে! কারণ একবার কী এক অপরাধের পর (সম্ভবত পিটি ক্লাশে আমরা কয়েকজন ক্লাশে লুকিয়ে ছিলাম, সেই অপরাধে) নির্ধারিত শিক্ষক আমাদের মারলেন তো না-ই, বরং মিষ্টিমধুর অনেক কথা বলেছিলেন। আর পরবর্তী ক্লাশে এসে প্রধান শিক্ষক পুরো ক্লাশ ধরে পিটিয়ে অন্তত ৬/৭টা বেত ভেঙ্গেছিলেন। পরে জেনেছিলাম, নির্ধারিত শিক্ষক একটু কম পেটাতে পারেন বলে প্রধান শিক্ষককে দিয়ে এই অপরাধে আমাদেরকে পিটিয়েছিলেন। সুতরাং শিক্ষকদের হাতে মার খাওয়া আমাদের কাছে ক্লাশে ফাঁকি দিয়ে টয়লেটে যাওয়ার মতো স্বাভাবিক ঘটনাই ছিলো। তবে মাত্র দুটো ঘটনা শিক্ষকদের শারীরিক শাস্তি দেওয়ার কাজটিকে আমার কাছে মারাত্মক ভীতিপ্রদ, এমনকি ট্রমাটিক করে তোলে।

আমাদের এক বন্ধু, আলামিনের অভ্যাস ছিল গোসল না করে স্কুলে আসা। ওটা আরো অনেকেই না করে আসতো, কিন্তু আলামিনকে দেখলেই কেমন যেন মনে হতো সাতদিন ধরে পানির সাথে তার কোনো যোগাযোগ নাই। সেদিনও আলামিন গোসল না করে বিদ্যালয়ে এসেছিল। কোনো কারণে শ্রেণীশিক্ষক প্রচণ্ড রেগে ছিলেন এবং আমাকে বললেন বেত আনতে। কিছুটা ভয়ে ভয়েই হেডস্যারের কক্ষ থেকে বেত নিয়ে এসেছিলাম। ভয়ের কারণটা ছিল আজকে চোটটা কার ওপর যাবে, সেটি আন্দাজ করতে না পারা। বেত নিয়ে আসামাত্রই শুরু হলো স্যারের পিটুনি- একধার থেকে। মোটামুটি সবারই কোনো না কোনো দোষ পাওয়া গেল এবং সেই দোষের মাত্রানুযায়ী পিটুনি খেতে হলো সবাইকেই। কারো নখ কাটা নেই, কেউ চুলে তেল দেয় নি, কেউ পড়া তৈরি করে নি, কেউ বেঞ্চ থেকে পা বের করে বসেছে। আমার অপরাধ ছিল বেত আনতে দেরি করেছি। কিন্তু সবচেয়ে বেশি মার খেলো আলামিন- কারণ সে গোসল করে আসে নি। শ্রেণী শিক্ষক তাকে পেটাতে পেটাতে পাশের পুকুরে নিয়ে নামালেন; জামাকাপড়সহ তাকে গোসল করতে হলো এবং সেই ভেজা কাপড়ে তাকে হাঁটতে হাঁটতে তিন মাইল দূরের বাড়িতে যেতে হলো। স্বাভাবিকভাবেই পরবর্তী কয়দিন জ্বরে ভোগে সে বিদ্যালয়ে আসতে পারে নি এবং এই অপরাধে তাকে আবারো পিটুনি খেতে হয়েছে। আলামিন আমার বন্ধু ছিল- বন্ধুর ওপর এই অত্যাচার সেদিন ছোট মনে বড় ব্যাথা হয়ে বেজেছিল।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছিল আমার ওপর। পড়া পারি নি বলে শিক্ষক আমাকে দিয়েই বেত আনালেন। এবং কোনো কারণে সেদিন আর কাউকে না পিটিয়ে আমাকে ইচ্ছেমতো পিটিয়েছিলেন। রক্তাক্ত হাত নিয়ে বাড়ি ফিরে বাবাকে জানিয়েছিলাম, ওই স্কুলে আমি আর পড়বো না। বাবা এসএমসির (স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটি) সদস্য ছিলেন বলে পরবর্তী সময়ে এসএমসির সভায় এই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেছিলেন এবং প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকগণ (শুধু পিটুনিদাতা শিক্ষক ছাড়া) আমাকে বাড়িতে এসে সান্ত্বনা জানিয়ে গিয়েছিলেন। এই মারের ফলে আমি একটানা ৮/১০ দিন জ্বরে ছিলাম, ঘুমের ঘোরে আবোলতাবোল বকেছি। আর এই ভয় কাটিয়ে উঠতে সময় লেগেছিলো আরো অনেকদিন।

***
হঠাৎ করে এই পিটুনি-সংক্রান্ত স্মৃতিচারণ করার কারণ হলো, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষার্থীদের এখন থেকে আর শারীরিক শাস্তি দেয়া যাবে না- খবরটি (Click This Link) পড়ে বেশ পুলকিত বোধ করছি। ছোট মানুষ বলে তখন অনেক কথাই বলতে পারি নি, অনেক প্রতিবাদ করতে পারি নি। কিন্তু বড় হওয়ার পর নানা কাজের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই শারীরিক শাস্তি বন্ধের জন্য ছোটখাট কিছু কাজ করেছি। অনার্স কোর্সে থাকার সময় মাইক্রোটিচিঙে ঢাকার একটি নামকরা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আমরা কয়েকজন আইইআরের শিক্ষার্থী হাতেকলমে (মানে ছয় মাস নিজেরা ক্লাশ ও পরীক্ষা নিয়ে) বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি কীভাবে ক্লাশ নিলে বেতের প্রয়োজন পড়ে না। বাংলাদেশে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা থেকে (এডুকেশন ওয়াচের গবেষণাগুলো এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য, তবে মূল গবেষণা প্রতিবেদনগুলো ইন্টারনেটে সহজলভ্য নয়। কেউ আগ্রহী হলে এখান থেকে (http://www.campebd.org/content/download.htm) কিছু কিছু গবেষণার সারসংক্ষেপ দেখে আসতে পারেন) দেখা গেছে, প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক শিক্ষার্থীই মাঝপথে ঝরে পড়ে কেবল শিক্ষকদের মারের ভয়ে। ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ থেকে দেখেছি, যেসব শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পেটান, তাদের অনেকেই পিটিআই থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। পিটিআইতে শিক্ষকদের ভালোভাবেই জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের মার দিলে তাদের ওপর কী পরিমাণ প্রভাব পড়ে, কীভাবে পড়ালেখা করালে শিক্ষার্থীদের মার ছাড়াই ভালোভাবে সম্ভব। কিন্তু প্রশিক্ষণ নিয়ে এসে তারা সবই ভুলে যান। অনেকে আগের চেয়েও বেশি পেটাতে থাকেন, এমন উদাহরণও আছে। সরকার যেহেতু এটিকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে, তাই কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছি।

তবে, অনেক শিক্ষক যেহেতু মনে করেন, পেটানো ছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পড়া আদায় করা যায় না, তাই স্বস্তির নিঃশ্বাসটা পুরোপুরি ফেলতে পারলাম না। হয়তো তারা অন্য কোনো উপায় বের করে ফেলবেন এরই মধ্যে। যতদিন পর্যন্ত না আমাদের শিক্ষককে বুঝানো যাচ্ছে যে, শিক্ষার্থীরা ছোট হলেও মানুষ এবং শিক্ষক হলেও একজন মানুষ হিসেবে অন্য মানুষের গায়ে হাত তোলার অধিকার নেই- ততোদিন পর্যন্ত বোধহয় এই বিষয়টি নিয়ে একেবারেই নিরুদ্বিগ্ন থাকা যাবে না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29225733 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29225733 2010-08-19 14:08:47
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, এতো তাড়াহুড়ার কি কোনো দরকার আছে?
বর্তমান সরকারের শিক্ষাবিষয়ক বেশ কিছু ভালো উদ্যোগ আছে। সবচেয়ে বড় উদ্যোগটি হচ্ছে একটি নতুন শিক্ষানীতি উপহার দেয়া যা সংসদের আগামী শীতকালীন অধিবেশনে আলোচনার মাধ্যমে গৃহীত হবে বলে আশা করা যায়। এ শিক্ষানীতিটির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো প্রাথমিক শিক্ষা মেয়াদ বাড়ানো এবং কারিগরি শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া কিন্তু ক্রমবিকাশমান তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে কারিগরি শিক্ষা সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে থাকে; কিন্তু বাংলাদেশে সেই অর্থে এ নিয়ে কোনো কাজ হয় নি। বরং কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারার বাইরেই রাখা হয়েছে। বিদ্যালয়ের সেরা শিক্ষার্থীদের কখনোই কারিগরি শিক্ষায় ভর্তি হতে উৎসাহিত করা হয় নি, অভিভাবকেরাও চান নি তাদের সন্তান মূলধারার শিক্ষায় না গিয়ে কারিগরি শিক্ষায় ভর্তি হোক। নীতিনির্ধারকেরাও এই শিক্ষাকে এমন কোনো গুরুত্ব দেন নি যাতে মানুষের এ ধারণা হবে যে কারিগরি শিক্ষা ক্লাসের দ্বিতীয় স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য নয়। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০০৯ কারিগরি শিক্ষার ওপর যে গুরুত্ব দিয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে সরকার কারিগরি শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষার মতোই গুরুত্ব দিতে চায়।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য থেকে বুঝা যায়, নতুন শিক্ষানীতি আগামী বছরের শুরু বা এ বছরের শেষ থেকে বাস্তবায়িত হবে। সে হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এ বছরের শেষে বিপুল পরিমাণ কাজের বোঝা নিয়ে নামতে হবে- আনঅফিসিয়ালি বোধহয় এখনই নামতে হয়েছে। একটা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার এই ধরনের বিপুল পরিবর্তন সহজসাধ্য নয়। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ বাড়ানো সরকারের জন্য বেশ কষ্টকরই হবে। এটা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সুবিধা যেমন বাড়াতে হচ্ছে, তেমনি তৈরি করতে হচ্ছে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক। তাছাড়া বর্তমানে মাধ্যমিক স্তরে থাকা বিদ্যালয়গুলোর অবস্থা কী হবে তাও ভাবতে হচ্ছে। এ অবস্থায় কারিগরি শিক্ষাকেও আলাদা করে গুরুত্ব দিতে হচ্ছে সরকারকে যেখানে প্রস্তাবিত শিক্ষানীতি অনুসারে কারিগরি শিক্ষার মান ও ব্যবস্থাপনার দিক মোটামুটি ঢেলেই সাজাতে হচ্ছে।

এ অবস্থায় হুট করে আগামী জানুয়ারি থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কারিগরি শিক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো তা পরিষ্কার নয়। এটি প্রস্তাবিত শিক্ষানীতিকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য আলাদা কোনো উদ্যোগ কিনা তাও পরিষ্কার নয়। পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, এ কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দশ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। সে টাকা একসঙ্গে না পাওয়া গেলে পুরো পরিকল্পনা ধাপে ধাপে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে। খবরের এ অংশ থেকে মনে হচ্ছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কারিগরি শিক্ষা চালুর এ উদ্যোগটি প্রস্তাবিত শিক্ষানীতির উদ্যোগ থেকে আলাদা। প্রস্তাবিত শিক্ষানীতিতে প্রস্তাব অনুসারে কারিগরি শিক্ষার জন্য অবশ্যই আলাদা বাজেট থাকার কথা এবং নতুনভাবে বিন্যস্ত প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষাপর্যন্ত কোথায় কীভাবে কারিগরি শিক্ষা দেওয়া হবে, তারও একটি পরিকল্পনা রয়েছে বলে শুনেছি। সামনে যখন এরকম একটি পরিকল্পনা আছে, তখন কেন শুধু তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এর আওতায় আনা?

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে দেশব্যাপী ৭৩টি বিদ্যালয়ে বর্তমানে এ শিক্ষা চালু আছে। মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে জীবনমুখী শিক্ষাকে সমন্বিত করার প্রয়াসে প্রাথমিক পর্যায়ে এ কারিগরি শিক্ষার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভালো কথা। কিন্তু এর জন্য এখনই সময়টা বেছে নেওয়া হলো কেন? এটা কি কেবল উদ্যোগের পর উদ্যোগ নিয়ে জানান দেয়া যে আমরা প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন কাজ করে যাচ্ছি? নাকি এটাও নির্বাহী আদেশে চলা শিক্ষাব্যবস্থার যুক্ত হওয়া আরেকটি নতুন আদেশ-মাত্র; কিছুদিন পরই যার কোনো প্রত্যক্ষ ফলাফল পাওয়া যাবে না, কিন্তু ইতোমধ্যেই খরচ হয়ে যাবে বেশ কিছু অর্থ?

এটা এখন প্রতিষ্ঠিত যে, আমাদের সার্বিক পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে এটা আরো বেশি করে সত্য। প্রস্তাবিত শিক্ষানীতিতেও কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর জোর দেয়ার কথা বলা হচ্ছে কিন্তু কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা আসলে কতোটুকু দরকার, কোন পর্যন্ত এর পরিসীমা হবে কিংবা এ খাতে আমাদের দক্ষ জনশক্তি আসলে কতোটুকু দরকার, তার হিসেব-নিকেশ কি আছে কারো কাছে? যতদূর জানি, নেই। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর কোনো গবেষণা নেই। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার আবার বেশ কিছু ভাগ রয়েছে। আগামী বিশ বছরে এই প্রত্যেকটি ভাগে কী পরিমাণ জনশক্তি রয়েছে, কী পরিমাণ জনশক্তি বিদেশে রপ্তানি করা যাবে, কোন স্তর পর্যন্ত কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা যথেষ্ট- এ ব্যাপারে গবেষণার অপ্রতুলতা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে এ নিয়ে উপযুক্ত পরিকল্পনার অভাবও। এ অবস্থায় হুট করে কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কারিগরি শিক্ষা চালু করাটা কোন অর্থে প্রয়োজন হলো, সেটি স্পষ্ট নয়। যদি ধরেও নেওয়া হয় যে, প্রস্তাবিত শিক্ষানীতিকে এই কর্মকাণ্ড সাপোর্ট করবে, তাতেও সন্দেহ থেকে যায়। কারণ প্রস্তাবিত শিক্ষানীতি বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ হবে আট বছর এবং সেখানে কারিগরি শিক্ষা চালু হলে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণীতে চালু করার কথা। এ অবস্থায় তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী সময়সীমায় এই শিক্ষা চালু করে সরকার আসলে এ থেকে কী অর্জন করতে চায়?

বলতে কোনো দ্বিধা নেই যে, বিগত শিক্ষামন্ত্রীদের তুলনায় বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা সম্পর্কে বেশ খোঁজখবর রাখেন এবং বিষয়টি তিনি বুঝেনও। সম্ভবত তাঁর পূর্বোক্ত রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, নিজস্ব আগ্রহ এবং শিক্ষা বিষয়ে তাঁর দলের অব্স্থানই তাঁকে নানা সময়ে শিক্ষা-সম্পর্কিত নানা উদ্যোগ নিতে আগ্রহী করেছে। শিক্ষা নিয়ে তাঁর নানা বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড দেশের শিক্ষার একটি আমূল সংস্কারের ব্যাপারে আমাদের আশাবাদী করে। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয়, একটা সার্বিক পরিকল্পনার মধ্যেই সব আয়োজন থাকা দরকার। যে সময়ে একটি বড় পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে কথা উঠছে, সে সময় ছোটখাট এসব উদ্যোগ না নেয়াই ভালো। দূরবর্তী লক্ষ্যকে সামনে না রেখে এসব কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করলে তাতে সময় যেমন নষ্ট হবে, তেমনি অর্থও খরচ হবে যেগুলো দিয়ে বড় পরিকল্পনাকে অনেকটা সাপোর্ট দেয়া যায়। আর তাছাড়া, এ ধরনের কোনো উদ্যোগ যদি নিতেই হয়, তাহলে নতুন শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করে সেটার অধীনে করা দরকার। এই মুহূর্তে সবার আগে দরকার নতুন শিক্ষানীতিটাকে শক্ত করে বাস্তবায়ন করা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবার উচিত সেদিকেই নজর দেওয়া। অনেক ভালো ভালো পরিকল্পনা কিংবা বাজেট আসবে- কিন্তু একটু ভেবেচিন্তে আস্তেধীরে করলেই বরং এর থেকে পূর্ণ সুফলটুকু পাওয়া সম্ভব।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29224469 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29224469 2010-08-17 11:31:43
ব্লগ কি বিকল্প গণমাধ্যম হতে পারবে?
ব্লগ বা ব্লগিং আমাদের দেশে নতুন। শুধু আমাদের দেশেই না, বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিতেও ব্লগ সংস্কৃতি এসেছে খুব বেশিদিন আগে নয়; কিন্তু এরই মাঝে এটি মিডিয়াজগতে কিছুটা আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একটা সময় পর্যন্ত ব্লগের ধারণা শুধু ব্যক্তিমানুষের লিখিত অনলাইন ডায়েরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও আস্তে আস্তে এতে বহুমাত্রা যুক্ত হয়েছে। আজ থেকে বছর পাঁচেক আগেও অনেকে ব্লগের কথা জানতেন না। যারা ব্লগ লিখতেন, তাদের অধিকাংশ মূলত নিজেদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা পর্যবেক্ষণ ওয়েবে লিপিবদ্ধ করে রাখতেন। সে অবস্থা থেকে ব্লগ এখন এমন পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে যেখানে ব্লগকে একটি আলাদা মিডিয়ার মর্যাদা দেয়া যায় কিনা, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্লগ মানুষের মত প্রকাশের অন্যতম একটি হাতিয়ার হিসেবেও দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। মত প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে প্রচলিত 'গণমাধ্যম'গুলোর সীমাবদ্ধতা হচ্ছে-- এগুলো মোটামুটি একরতফা বা একপাক্ষিক। সেখানে পাঠকের দিক থেকে লেখক বা বক্তার সঙ্গে সরাসরি মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ খুবই কম। কিন্তু ব্লগে লেখকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়, বক্তব্য পছন্দ বা অপছন্দ হলে তা সরাসরি বলা যায়। এমনকি লেখক ভুল তথ্য দিলে বা লেখায় অসততা থাকলে পাঠক সেখানে প্রতিবাদও জানাতে পারে। প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় লেখক-পাঠক মিথস্ক্রিয়ার এ চরিত্রটি মোটামুটি অনুপস্থিত। যে দুয়েকটি সীমিত ক্ষেত্রে পাঠক বা দর্শককে সরাসরি যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়, সেখানেও মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ ও সময় থাকে তুলনামূলকভাবে কম। আজকাল অবশ্য সংবাদমাধ্যমগুলোর কিছু কিছু তাদের ওয়েব সংস্করণে পাঠকের প্রতিক্রিয়া জানার ব্যবস্থা যুক্ত করেছে, কিন্তু সেটিও আসলে একতরফা যোগাযোগ। পাঠকের মতামতের ওপর ভিত্তি করে লেখকের প্রতিক্রিয়া জানা যায় না, এমনকি ভুল তথ্য থাকলে লেখকের সেটি সংশোধনের সুযোগ নেই। ব্লগ এ সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত।

ব্লগ একসময় ব্যক্তিকেন্দ্রিক লেখালেখির ক্ষেত্র থাকলেও আস্তে আস্তে বেশ কিছু ব্লগ-প্ল্যাটফর্ম তৈরি হতে থাকে। এসবের কোথাও কোথাও মডারেশন রয়েছে, কোনোটি বা উন্মুক্ত। ব্যক্তিকেন্দ্রিক লেখার বাইরেও ব্লগের যে বৈশিষ্ট্যটি দিন দিন সমাজবিজ্ঞানীদের কাজের ক্ষেত্র হয়ে দাড়াচ্ছে, সেটি হচ্ছে এর সংবাদ প্রদানের ক্ষমতার বিশেষ বৈশিষ্ট্যটি। যারা ব্লগ লিখেন, অর্থাৎ ব্লগাররা প্রথাগত অর্থে সাংবাদিক নন (যদিও অনেক সাংবাদিক ব্লগ লিখেন); কিন্তু ব্লগের মাধ্যমেই অনেক তাৎক্ষণিক খবর পাওয়া যায়।

সংবাদ মাধ্যমের আগে এখন ব্লগেই খবর আগে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা অনেকে জেনেছেন ব্লগের মাধ্যমেই। ব্লগাররা ঘটনা ঘটামাত্র ব্লগে লিখে ফেলতে পারেন। প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় খবর প্রকাশে যেসব পদ্ধতিগত দিক, সময় বা উপস্থাপনার বিষয় মাথায় রাখতে হয়, ব্লগে তার দরকার পড়ে না। ভাষার কারুকাজের চেয়ে ব্যক্তির তথ্য প্রদানের দ্রুততা এবং নিজস্ব পর্যবেক্ষণ সেখানে গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনা ঘটামাত্রই তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার যে ক্ষমতা ব্লগের রয়েছে, 'মুহূর্তেই সব সংবাদ'-জাতীয় শ্লোগানের দাবিদার তথ্যমাধ্যমেরও সেই ক্ষমতা নেই।

ব্লগের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে-- সেগুলো পদ্ধতিগত নাকি ব্লগের চরিত্র নির্ধারণ না হওয়ার কারণে সৃষ্ট তা অন্য বিতর্কের বিষয়। এর সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা দায়বদ্ধতায়। প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদে যে আপাত-দায়বদ্ধতা দেখা যায়, ব্লগের সেটি অনেকটা অনুপস্থিত। বিশ্বে অনেকেই নিষ্ঠা ও দায়বদ্ধতার সাথে ব্লগিং করে যাচ্ছেন, অনেক জনপ্রিয় সংবাদপত্রের চেয়ে তাদের প্রকাশিত তথ্য বা লেখার জনপ্রিয়তা কম নয়-- কিন্তু সেগুলো বিচ্ছিন্ন উদাহরণ। দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে ব্লগ এখনো নিজের অবস্থান পোক্ত করতে পারে নি। ফলে ব্লগ থেকে পাওয়া খবর অনেকে প্রথমে বিশ্বাস করতে চান না; খবরের সত্যতা যাচাই করতে চান। সন্দেহ নেই, অনেক ব্লগার কিছুটা বাড়িয়ে লিখেন, অনেক তথ্য ঠিকমতো উপস্থাপিত না হওয়ায় বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়, গুজবও রটে ব্লগ থেকে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, ব্লগে ভুল বা অসত্য তথ্য উপস্থাপন করে পার পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ব্লগের দায়িত্বশীলতাও বাড়ছে দিন দিন। এ কারণেই তথ্য ও গণমাধ্যমে ব্লগ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। যাত্রা শুরুর সময় উইকপিডিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন উঠেছিল, কিন্তু উইকিপিডিয়ার দায়িত্বশীল আচরণে আজকে এটি অনেকের কাছেই গ্রহণযোগ্য। ব্লগও সে অবস্থানে যাচ্ছে দিন দিন।

লেখাটির শিরোনামে 'বিকল্প' ও 'গণমাধ্যম' শব্দদুটো ব্যবহার করা হয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে। প্রশ্ন উঠতে পারে, বিকল্প কেন, মূল গণমাধ্যম নয় কেন? এছাড়া ব্লগকে শুধু 'মাধ্যম' না বলে 'গণমাধ্যম'-ই বা কেন বলা হচ্ছে?

আমাদের পরিচিত মাধ্যমগুলো কোনো না কোনোভাবে প্রাতিষ্ঠানিকতার চর্চা করছে। এগুলোর প্রতিষ্ঠা, পরিচালন বা অগ্রগতি-প্রক্রিয়া-- সবকিছুর সঙ্গেই কোনো না কোনোভাবে প্রাতিষ্ঠানিকতা জড়িত এবং এর সবকিছুই কাজ করে নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যে। মূলধারার মাধ্যম হতে হলে এর ব্যত্যয় নেই। অপরদিকে ব্লগের চরিত্র মূলত বৈশ্বিক। মূল মাধ্যমগুলোতে কারা লিখবেন ও কী লিখবেন, তাও নিয়ন্ত্রিত হয় একটি কাঠামোর মধ্য থেকেই। লেখক সেই কাঠামো ভাঙতে পারেন না। অপরদিকে ব্লগলেখকদের ভৌগলিক সীমানা নেই, নেই এই কাঠামোগত বাধ্যবাধকতা। নানা দেশ থেকে, ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে অবস্থান করে তারা লিখছেন। মূল সংবাদমাধ্যমগুলোতে নামিদামি লেখকরা গুরুত্ব পায় বেশি। সেখানে তারকালেখকদের আলাদা মূল্য দেওয়া হয়। ব্লগে ঠিক সেরকমটি দেখা যায় না। অবশ্যই ব্লগে তারকালেখক রয়েছেন কিন্তু তাদেরকে 'তারকা' হতে হয়েছে ব্লগ-পাঠকদের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে, নিজের লেখার গুণে। তারা মিডিয়াসৃষ্ট নন। অনেক মিডিয়া-তারকা ব্লগে লেখালেখি শুরু করলেও টিকতে পারেন নি এসব কারণেই। একটি মূল মিডিয়া হওয়ার জন্য যেসব চরিত্র থাকা দরকার, ব্লগ সেগুলোর বিকল্প চরিত্র ধারণ করে বলেই ব্লগকে বিকল্প মাধ্যম হিসেবে বলা হচ্ছে।

'গণমাধ্যম'-এর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বহুল ব্যবহারে গণমাধ্যম শব্দটির ভিন্নার্থ দাড়িয়ে যাচ্ছে; কিন্তু জনমানুষের মিথস্ক্রিয়া এবং মাধ্যমের যাবতীয় কাজকর্মে জনমানুষের সম্পৃক্ততা ছাড়া কোনো মিডিয়া নিজেকে গণমাধ্যম বলে দাবি করতে পারে না। ব্লগ এখন পর্যন্ত যে চরিত্র ধারণ করেছে, তাতে তার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে নিজেকে গণমাধ্যম হিসেবে বিকশিত ও প্রতিষ্ঠা করার-- যেখানে সত্যিকার অর্থেই মানুষ নিজেদের বিষয় নিয়ে কথা বলবে। নিজের কথা অপরের মুখ দিয়ে বলানোর চেয়ে নিজের কথা বলবে নিজেই। নিজেদের চিন্তাভাবনা অন্যের সঙ্গে নিজেই শেয়ার করবে এবং পরস্পরের যুক্তিতর্কগুলো উঠে আসবে সরাসরি। ব্যক্তির নিজস্ব চিন্তাভাবনা পণ্যের প্রভাবে প্রভাবিত না হয়ে নিজস্ব প্রয়োজনে আবর্তিত হবে। একটি কার্যকর বিকল্প গণমাধ্যম হওয়ার জন্য ব্লগমাধ্যমকে আপাতত পাড়ি দিতে হবে মাত্র দুটো পথ-- ব্লগারদের নিজেদের বক্তব্যের প্রতি আরো দায়িত্বশীল হওয়া এবং ইন্টারনেট ব্যবস্থার প্রসার। বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার সহজলভ্য না হওয়ায় ব্লগ এখনো শহুরে নাগরিক সমাজের নাগালের বাইরে যেতে পারে নি। এ সীমাবদ্ধতাটুকু কাটিয়ে উঠতে পারলে একটি কার্যকর বিকল্প গণমাধ্যম হওয়ার সব সম্ভাবনাই রয়েছে ব্লগের মধ্যে।

লেখাটি এর আগে দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত -http ://www.jugantor.info/enews/issue/2010/07/12/news0341.php
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29215459 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29215459 2010-08-05 11:04:28
সাতকড়ার আচার পাওয়া যায় কোথায়? সিলটিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি
প্রথমবার সাতকড়ার আচার খেতে মোটেও ভালো লাগে নি। কিন্তু আস্তে আস্তে মনে হলো, ভালোভাবে বানাতে পারলে যে কোনো আচারকে টেক্কা দিতে পারবে। ফলে যখনই সিলেট যাই, কয়েক বোতল সাতকড়ার আচার নিয়ে আসি। বিশেষ করে নিকোবিনা নামক একটি কোম্পানির সাতকড়ার আচারটা বেশ লাগে! পরিমাণেও থাকে বেশি!

কিন্তু সিলেট তো আর সবসময় যাওয়া হয় না! সর্বশেষ গিয়েছিলাম মাস তিনেক আগে। তখন আনা তিনটি বোতলের সবগুলোই শেষ! ভালো কথা, বাড়িতে আমি ছাড়া বউ-পোলাপান কেউই সাতকড়ার আচার খায় না। ফলে এটি খাওয়ার মজা বেড়ে গেছে বহুগুণে! দরজা বন্ধ না করেও একা একা আরামসে খাওয়া যায়! <img src=" style="border:0;" />

কালকে রাতে মুরগির ঝোল খেতে গিয়ে দেখি সাতকড়া শেষ! <img src=" style="border:0;" /> এখন উপায় কী‍!

সাতকড়ার আচার কি ঢাকায় পাওয়া যায়? কোথায়? কেউ কি জানেন? সিলটি বন্ধুরা কি ঢাকার কোথায় সাতকড়ার আচার পাওয়া যায় তার সন্ধান দিতে পারবেন? কিংবা এমন কি কেউ আছেন যিনি কয়েক বোতল সাতকড়ার আচার কিনে পাঠিয়ে দিতে পারবেন? শুনেছি এস. আলম বা এস এ পরিবহনে পণ্য পাঠিয়ে দেওয়া যায় যা পরে ক্রেতা দাম দিয়ে উঠিয়ে নিতে পারে। যদি সেটাও সম্ভব না হয়, তাহলে সিলেটের এমন কি কোনো দোকানের নাম জানাতে পারবেন যাদেরকে ফোনে অর্ডার দিলে এভাবে আচার পাঠিয়ে দিতে পারবে?

ভাই-বেরাদর বা বোন-সিসটেরররা আওয়াজ দেন না!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29214972 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29214972 2010-08-04 15:49:04
প্রাকপ্রাথমিক শিক্ষা ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিয়ে কয়েকটি কথা
১৯৯০ সালে থাইল্যান্ডের জমতিয়েনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সম্মেলনে বাংলাদেশ ‘সবার জন্য শিক্ষা’ কর্মসূচিতে অঙ্গীকার ব্যক্ত করার পর থেকেই মূলত প্রাথমিক শিক্ষায় সব শিশু ভর্তির বিষয়টি গুরুত্ব পেতে থাকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৬-১০ বছর বয়সী সব শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক করা হয়। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠনগুলোও এ কাজে এগিয়ে আসে।

কিছুদিন আগ পর্যন্তও প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের ভর্তির বিষয়টি সরকারের মূল ফোকাসে থাকলেও এ হার সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছার পর সরকার প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিসহ অন্য কিছু বিষয়ে মনোযোগ দিতে শুরু করে। ভর্তির ক্ষেত্রে সাফল্য আসলেও শিক্ষার গুণগত মান ও ভর্তিকৃত সব শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় নি। গবেষণা থেকে দেখা গেছে, প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হওয়া শিশুদের প্রায় অর্ধেক পঞ্চম শ্রেণী পাশ করে। মানে অর্ধেক শিশুই মাঝপথে কোনো না কোনো শ্রেণীতে ঝরে পড়ছে। গবেষণা থেকে এটাও দেখা গেছে, পঞ্চম শ্রেণী পাশের পর শিশুরা আসলে তৃতীয় শ্রেণীর যোগ্যতা অর্জন করছে; মাত্র দুই শতাংশ শিশু পঞ্চম শ্রেণীর উপযোগী সব যোগ্যতা অর্জন করতে পারছে। এই ফলাফলই প্রমাণ করে, ভর্তির উচ্চ হার শেষ পর্যন্ত সফল সমাপ্তিতে পরিণত হতে পারছে না।

বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির হার সুস্থির হওয়ায় সরকারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে অন্য দিকগুলোতে নজর দেওয়ার। সম্প্রতি সরকার প্রাকপ্রাথমিক শিক্ষা ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছে। দুটো কর্মসূচিরই উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, এগুলো একাধারে শিক্ষার মান বৃদ্ধি ও প্রাথমিক শিক্ষা সফলভাবে শেষ করার ক্ষেত্রে অবদান রাখতে সক্ষম। পাঁচ বছর বয়সী সব শিশুর প্রাকপ্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে তারা প্রাথমিক শিক্ষায় প্রবেশের আগেই আনন্দদায়ক নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিদ্যালয়-ব্যবস্থার সাথে পরিচিত হবে। এ সময় শিশুর কাছে শিক্ষাপ্রক্রিয়াকে যদি আকর্ষণীয় করা যায়, তাহলে শিশুর বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ তৈরি হবে যা পরবর্তীতে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া এ সময় নানা খেলা, সঙ্গীত বা হাতেকলমে কাজের মাধ্যমে বর্ণমালা, সংখ্যা, গণনা ইত্যাদির সাথে যে পরিচয় ঘটবে, তা শিশুর শিখনকে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী করবে। এখন প্রথম শ্রেণীতে যা যা শেখানো হয়, তার কিছু কিছু তখন প্রাকপ্রাথমিক স্তরেই শুরু করা যাবে এবং ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় পরবর্তী শ্রেণীতে এই শিখনগুলো দৃঢ় করা যাবে। এতে শিশুর পরবর্তী শ্রেণীর শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও সেটিকে আরো ভালোভাবে বুঝার ক্ষমতা তৈরি হবে। অর্থাৎ প্রাকপ্রাথমিক শিক্ষায় একদিকে শিশুর উপস্থিতি ও পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ তৈরি করা যাবে; তেমনি তা পড়ালেখার গুণগত মান বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাকপ্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে আসা শিশুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডে তুলনামূলভাবে ভালো ফলাফল করে।

স্কুল ফিডিং কর্মসূচিও একইভাবে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি ও ঝরে পড়া রোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে। যদিও সঠিক সংখ্যা জানা নেই, কিন্তু দেশের বিপুল সংখ্যক শিশু বিদ্যালয়ে যেতে পারে না বা গেলেও পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারে না খাবারের অভাবে। যে শিশু সকালে বাড়ি থেকে না খেয়ে আসে, বিদ্যালয়ের পড়ালেখায় স্বভাবতই সে মনোযোগী হবে না। ক্ষুধা পেটে কতোটুকু পড়ালেখা সম্ভব? উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় গত কয়েক বছরে কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা কিছু জায়গায় পুষ্টিকর বিস্কুট খাবার কর্মসূচি শুরু করেছিল। এ প্রকল্পগুলো থেকে দেখা গেছে, পুষ্টিকর খাবার কর্মসূচি শিশুদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিস্কুট খাওয়ানো হয় যে বিদ্যালয়গুলোতে, সেখানে শিশুদের উপস্থিতি থাকে বেশি। খাবারের কারণে তাদের ক্ষুধা কিছুটা নিবৃত্তি হয় বলে তারা পড়ালেখায়ও মনোযোগ দিতে পারে। এর আরেকটি সরাসরি প্রভাব হলো, বিস্কুট বা খাবার পুষ্টিকর দেওয়া হলে তা শিশুর স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। অর্থাৎ একটি কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনটি অর্জন সম্ভব হচ্ছে।

এ কাজগুলো স্থানীয় পর্যায়ে দেশের নানা জায়গায় বাস্তবায়ন করছিল বেসরকারি সংস্থাগুলো। বিভিন্ন সভা-সেমিনারে এসব বিষয় নিয়ে প্রচুর কথাবার্তা হয়েছে। টাকার অভাব বা অন্য কোনো সীমাবদ্ধতার কারণে বিগত দিনে এগুলো নিয়ে তেমন কোনো সরকারি উদ্যোগ দেখা যায় নি। বর্তমান শিক্ষানীতিতে প্রাকপ্রাথমিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ায় এখন এ নিয়ে অনেক কাজ হবে বলে আশা করা যায়।

দেশে প্রাকপ্রাথমিক শিক্ষা চালু বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচি কোনোটিতেই সরকারের অভিজ্ঞতা খুব একটা নেই। এ বিষয়ে বেসরকারি সংস্থাগুলো বেশ কিছুদিন ধরে কাজ করছে। কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন সরকারের জন্য তাই চ্যালেঞ্জ বটে। এটা ঠিক, কোনো কাজ স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন আর পুরো দেশে বাস্তবায়ন করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সেই অর্থে বেসরকারি সংস্থাগুলোর জন্যও এটা চ্যালেঞ্জ যে, সরকারের এ কর্মসূচির সাথে তারা কতোটুকু ও কীভাবে কাজ করতে পারবে। যেহেতু বেসরকারি সংস্থাসমূহের এ ব্যাপারে অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাই সরকার তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে। প্রাকপ্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক কাজ করছে। এ বয়সের শিশুদের উপযোগী বইপত্র ও অন্যান্য উপকরণ অনেক সংস্থা ইতোমধ্যে তৈরি করেছে। তাদের সাথে নিয়ে প্রাকপ্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের কাজটি একসাথে করা যায়।

এ কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে সমস্যা হতে পারে সঠিক ব্যবস্থাপনায়। দেশে বিরাশি হাজারেরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রতিটিতে প্রাকপ্রাথমিক শিক্ষা ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করতে গেলে বিপুল সংখ্যক মানুষের অন্তর্ভুক্তি ও তাদের কাজ যাতে সূচারুরূপে সম্পন্ন হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে। আর শুধু প্রাকপ্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করলেই চলবে না, গুণগত মানও নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি ধাপে যথাযথ মনিটরিং ও সুপারভিশন করতে হবে এবং সে অনুযায়ী যখন যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, তখন সে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাস্তবায়নের এ দিকটি সামাল না দেয়া গেলে পুরো কর্মযজ্ঞটি প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। এর আগে যখন বন্যা বা অন্যান্য কারণে বিদ্যালয়ে শিশুদের খাবার বিতরণ করা হতো, তখন সেখানে নানা দুর্নীতির কথাও শোনা গেছে। আগে থেকে এসব বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন না করলে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতেও যে এমনটি ঘটবে না তা বলা দূরূহ। আশা রাখতে চাই, সরকার এসব বিষয় চিন্তাভাবনা করেই এ কাজ শুরু করতে যাচ্ছে।

*
প্রাকপ্রাথমিক শিক্ষার প্রসঙ্গ যেহেতু এলোই, সেহেতু এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে। দেশের বড় শহরগুলোতে নামিদামি বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর জন্য শিশুদের আগে থেকেই নানা বিষয় মুখস্থ করিয়ে ভর্তি পরীক্ষার উপযোগী করে তোলা হয়। শিশুর যেসব বিষয় শেখার বয়স হয় নি বা যেগুলো তার বিদ্যালয়ে শেখার কথা, ভর্তি পরীক্ষার ফাঁদে পড়ে সেগুলো তাকে ভর্তির আগেই শিখতে হয়। এক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবক দুপক্ষই দায়ী, দায়ী এই শিক্ষাব্যবস্থাও। শিশুর মানসিক বিকাশ ও পড়ালেখার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টির ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি শিশুর মনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। দেশে যেহেতু প্রাকপ্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে নীতি তৈরি হচ্ছে এবং এ আলোকে সারা দেশে প্রাকপ্রাথমিক চালু হচ্ছে, সেহেতু ঢাকার মতো বড় বড় শহরের বিদ্যালয়ও যেন এ নীতির আওতায় চলে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। নামিদামি বিদ্যালয়গুলোয় প্রাকপ্রাথমিকে ভর্তির আগেই শিশুকে যেন দ্বিতীয়-তৃতীয় শ্রেণীর সিলেবাস শেষ করে আসতে না হয়, তা নিশ্চিত না করা গেলে প্রাকপ্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। ভর্তি ও পড়ালেখার নামে শিশুকে এ অত্যাচার থেকে রেহাই দেওয়ার বিষয়টি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29179307 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29179307 2010-06-18 00:40:17
সমাধান পোস্ট: যে পদ্ধতিতে দুদিন পর সামুতে ঢুকলাম <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /> " style="border:0;" /> কিন্তু সামু ওপেন হতে চায় না। ফায়ারফক্স, পাইরেটেড ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার দিয়েও হয় না। এদিকে গুগল ক্রোম আবার আরেক কাঠি সরেস। সে বার্তা দেখায়- Error 101 (net::ERR_CONNECTION_RESET): Unknown error. মহা মুসিবত!

এই বার্তা নিয়ে গুগলিং করে ঘণ্টা দুয়েক সময় কাটলো! কে বলে গুগল শালার কাছে সব সমাধান আছে? নেই। এই সমস্যারও কোনো সমাধান পেলাম না।

বাধ্য হয়ে কবিরাজি চিকিৎসা শুরু করলাম। প্রথমেই কন্ট্রোল প‌্যানেল থেকে উইন্ডোজ ফায়ারওয়াল বন্ করে দিয়ে ফায়ারফক্স ওপেন করে বুকমার্ক করা সামুতে গুতা দিলাম। ব্যস, তর তর করে সামু ওপেন হয়ে গেল! <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> কত্তো সোজা! <img src=" style="border:0;" /> তাই না?

কিন্তু কামডা ভালা কর্লাম না খ্রাপ কর্লাপ, হেডাই বুইঝবার পারতেআছি না! ফায়ারওয়াল বন্ধ করা কি ভালো কিছু? ও মোর টেকি ভাইয়েরা-বোনেরা- কিছু একটা কন্না!

*****
উইন্ডোজে না হয় এভাবে সমস্যার সমাধান হলো। কিন্তু উবুন্টুতে? একজনের পরামর্শে গুগল ডিএনএস করলাম। তাতে প্রথমদিন সমস্যার সমাধান হলেও এখন সেই আগের মতো! খিতা খরথাম! খেউ খি খুনু উফদ্যাশ ডিবাইন?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29166411 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29166411 2010-05-31 00:11:22
দেশের শিক্ষার মান কি আসলেই বাড়ছে?
শিক্ষার্থীদের মেধা বা শিক্ষার মান বৃদ্ধি-সম্পর্কিত আলোচনায় একটি গুরুতর সমস্যা রয়েছে। সেটি হলো, জাতীয়ভাবে শিক্ষার মানের গ্রহণযোগ্য কোনো সংজ্ঞা বা সূচক নেই। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা যেহেতু প্রান্তিক যোগ্যতা-নির্ভর, সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত প্রান্তিক যোগ্যতাগুলো অর্জনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার মান নিয়ে কিছু কথাবার্তা বলা যায় (যদিও দেশের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নব্যবস্থা প্রান্তিক যোগ্যতাভিত্তিক নয়)। অপরদিকে মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক স্তরে নির্ধারিত কিছু শিখনফল ছাড়া সেরকম কোনো প্রান্তিক যোগ্যতাও নেই, যাকে ভিত্তি ধরে মোটামুটি আন্দাজ করা যাবে এই স্তরের শিক্ষার অবস্থা কীরূপ। ফলে শিক্ষার মান বা শিক্ষার্থীদের মেধা বাড়ার বিষয়টি কীভাবে আলোচিত হবে, সে বিভ্রান্তিতে পড়তে হয় সবাইকে। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় জিপিএ ৫ অর্জন করা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা প্রকাশের সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে বিবেচিত। সে হিসেবে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর এই সর্বোচ্চ গ্রেড পাওয়া শিক্ষার মান বৃদ্ধিরই ইঙ্গিত দেয়; কিন্তু বাস্তব অবস্থা কি সেই সাক্ষ্য দেয়?

যে অধ্যক্ষ জিপিএ ৫-পাওয়া শিক্ষার্থী বাড়লেও শিক্ষার্থীদের মেধা বাড়ছে না বলে আশ্চর্যান্বিত হয়েছেন, তিনি সম্ভবত এই বাস্তব অবস্থাকে ভিত্তি ধরেই তাঁর বিস্ময়টুকু প্রকাশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এক লেখায় জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীদের ইংরেজির অবস্থা করুণ। তাছাড়া যে সমস্ত শিক্ষার্থী এসএসসিতে জিপিএ ৫ পায়, যথাযথ মেধা থাকলে তাদের একটি বড় অংশেরই এইচএসসিতে একই ধরনের ফলাফল করার কথা। এটা ঠিক, এসএসসির পর অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে, অনেকে নানা কারণে পরবর্তী স্তরের পড়ালেখায় ঠিকমতো মনোযোগ দিতে পারে না বা নানা বাধা আসে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই বলা যায়, এই শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই এইচএসসিতে গিয়ে তুলনামূলকভাবে খারাপ ফল করে। এসএসসি পরীক্ষার ফল যদি সত্যিকার অর্থেই শিক্ষার মানের নির্দেশক হতো, তাহলে এইচএসসির ফলাফলেও সেই প্রতিফলন দেখা যেত।

অন্যদিকে রাজধানীরই আরেক সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মনে করেন, শিক্ষার্থীদের মেধা আসলেই বাড়ছে। তিনি মনে করেন, আগে যেভাবে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হতো, তার চেয়ে বর্তমান মূল্যায়ন পদ্ধতি অনেকটাই ব্যতিক্রম; যে কারণে আগের চেয়ে এখন জিপিএ ৫-পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার প্রতি অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, বিদ্যালয়ের মান বৃদ্ধি ইত্যাদি প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে এনেছেন।

এটা ঠিক, প্রতিনিয়ত নানা উপাদান আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে। শিক্ষাবিষয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে, পাঠদানপদ্ধতির নতুন নতুন দিক সম্পর্কে শিক্ষকরা অবহিত হচ্ছেন, মূল্যায়নপদ্ধতি সম্পর্কে চিরায়ত ধারণাগুলোও বদলে যাচ্ছে। আগে গণিত বা বিজ্ঞানের মতো কিছু বিষয় ছাড়া অন্যগুলোতে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দিতে চাইতেন না; ফলে বাংলা বা সমাজবিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলোতে ৮০ শতাংশের ওপর নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থী পাওয়া যেত কালেভদ্রে। এখনকার শিক্ষকদের অনেকেই সেই সনাতনী ধারণা থেকে বেরিয়ে এসেচেন। তাঁরা মোটামুটি সব বিষয়কে একইভাবে দেখার চেষ্টা করছেন এবং এর প্রতিফলনও দেখা যাচ্ছে পরীক্ষার ফলাফলে। শিক্ষার্থীরা কতটুকু জানে না-- তা নির্ধারণ করার চেয়ে তারা কতটুকু জানে, উত্তরপত্র মূল্যায়নে এই মনোভাবই শিক্ষকদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে হয়, যদিও এটা সারাদেশের সাধারণ চিত্র নয়।

এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের এই বিপুল সাফল্যকে ভিত্তি ধরেও যদি শিক্ষার মানের ব্যাপারে মানুষের মনে সংশয় রয়ে যায়, তাহলে প্রকৃতপক্ষে পুরো মূল্যায়ন ব্যবস্থাটিই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়। এক্ষেত্রে খুব গভীরভাবে চিন্তাভাবনা না করেও বলা যায়, আমাদের দেশে শিক্ষার্থীরা এখনও যথাযথভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে না। শিক্ষকরা প্রতিনিয়ত শিক্ষার নতুন নতুন পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন, কিন্তু সে অনুপাতে কীভাবে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে তা নিয়ে শিক্ষকদের দক্ষতাবৃদ্ধির বিষয়টি তুলনামূলকভাবে উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা সহজ কোনো বিষয় নয়; বরং অনেকক্ষেত্রে পাঠদানের চেয়েও কঠিন। একে তো শিক্ষার্থীদের কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে তা নিয়ে দেশের শিক্ষাসেক্টরে তাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক গাইডলাইনের অভাব রয়েছে, অন্যদিকে মাধ্যমিক স্তরের জন্য শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তিরও (প্রাথমিক স্তরের জন্য যেমন প্রান্তিক যোগ্যতা) অভাব রয়েছে। এ স্তরে শিখনফলকে ভিত্তি ধরে শিক্ষার্থীকে মূল্যায়ন করা যায়, কিন্তু শিখনফলের সংখ্যা এতো বেশি যে, এটি ধরে মূল্যায়ন শুরু হলে কোনটি রেখে কোনটি মূল্যায়ন করা হবে তা নির্ধারণ করাই মুশকিল হয়ে যাবে। বর্তমান পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীকে যেভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে, সেখানে মূলত শিক্ষার্থী কিছু নির্দিষ্ট বিষয়বস্তুর ওপর কতোটুকু জ্ঞান অর্জন করলো, তা যাচাই করা হয়; শিক্ষার্থীর সার্বিক দক্ষতা উপেক্ষিত থাকে। উপরন্তু শিক্ষার্থীর উচ্চতর অর্জনদক্ষতাগুলোও যাচাই করার সুযোগ না থাকার পাশাপাশি নির্ধারিত বিষয়বস্তুর বাইরে সমপর্যায়ের অন্য বিষয়বস্তুতে শিক্ষার্থীরা কতোটুকু দক্ষতা দেখাতে পারে, তারও পরিমাপের সুযোগ নেই। ফলে এ ফলাফল শিক্ষার্থীদের দক্ষতার একটি অংশের প্রতিফলন ঘটায় মাত্র, সার্বিক অর্থে তাদের সক্ষমতার কোনো চিত্র প্রকাশ করে না। যতোদিন না এই সক্ষমতার চিত্র পরীক্ষার ফল থেকে পাওয়া না যাবে, ততোদিন পরীক্ষার ফলকে ধরে শিক্ষার মান বাড়ছে কি কমছে, সে সিদ্ধান্তে পৌঁছা যাবে না বা যাওয়া উচিত নয়।

এ বছর দুটি বিষয়ে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। এ বিষয়গুলোতে কীভাবে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়েছে জানা নেই, কিন্তু অভিজ্ঞতা বলে, সৃজনশীল পদ্ধতিতে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা অনেকটাই দুরূহ। প্রথমত এতে যেহেতু শিক্ষার্থীর উচ্চতর শিখনদক্ষতা যুক্ত থাকে, সুতরাং এটি মূল্যায়ন করতে গেলে শিক্ষকেরও সমানভাবে শিক্ষার্থীর কল্পনাশক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হয় এবং তাদের মননশীলতাকে প্রশ্রয় দিতে হয়। আবার একেক শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা ও মননশীলতার প্রকাশ একেকরকম। কোনোরকম পক্ষপাত না করে এক শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতার সঙ্গে অন্য শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতার তুলনার বিষয়টিকেও মাথায় রাখতে হয়। দ্বিতীয়ত, শিক্ষকের যথাযথ প্রশিক্ষণ না থাকলে সৃজনশীল উত্তরপত্র মূল্যায়ন খুবই কঠিন। এ বছর যারা ওই দুটো বিষয়ের পরীক্ষার খাতা দেখেছেন তাঁদের সবাই কি এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন? না হলে শিক্ষার্থীর যথার্থই সৃজনশীল উত্তরকে বাজে উত্তর মনে করে শূন্য দেওয়ার ঘটনা ঘটলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না। এমনিতেই শিক্ষকরা যে পদ্ধতিতে গণিত পড়ান, শিক্ষার্থী অন্য পদ্ধতিতে গণিতের উত্তর দিলে তা পুরোপুরি কেটে দেয়ার মতো ঘটনা ঘটে; সেখানে বাংলা কিংবা চিন্তাশ্রয়ী বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উন্মুক্ত জবাব যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়েছে বা হবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ তাই থেকে যায়।

বেনজামিন ব্লুমের তত্ত্ব অনুযায়ী, প্রশ্নপত্রকে জ্ঞান, অনুধাবন, প্রয়োগ, বিশ্লেষণ, সংশ্লেষণ ও মূল্যায়ন-- এই ছয়টি ভাগে ভাগ করা যায়। প্রশ্নপত্রে এই ভাগগুলোর সুসমন্বিত উপস্থাপনাই সৃজনশীল প্রশ্ন। উত্তরপত্রে শিক্ষার্থীরা এগুলোর প্রতিফলন কীভাবে ঘটাতে পারে সে সম্পর্কে শিক্ষক যদি সম্যক অবহিত না থাকেন, তাহলে জ্ঞানের প্রশ্নকে যেভাবে মূল্যায়ন করা হবে, সংশ্লেষণের প্রশ্নও সেভাবেই মূল্যায়িত হবে। এবারের সৃজনশীল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হওয়া বিষয়গুলোর উত্তরপত্রগুলো থেকে শিক্ষাবোর্ড একটি কাজ করতে পারে। যেহেতু মাত্র দুটি বিষয়ে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে, তাই এই উত্তরপত্রগুলোকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে তা পুনরায় পর্যালোচনা করে সে আলোকে পরীক্ষকদের সে বিষয়ে নিবিড় প্রশিক্ষণ দেয়া যেতে পারে। বলা বাহুল্য, এই প্রশিক্ষণের আওতায় আস্তে আস্তে সব শিক্ষকদের নিয়ে আসতে হবে।



অপরদিকে শিক্ষার মান কিন্তু এককভাবে শিক্ষার্থীদের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল নয়। দেশের সব শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় কৃতকার্য হলেও বলা যাবে না যে দেশের শিক্ষা গুণগত মানের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গেছে। শিক্ষার মান অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। এ বিষয়ে ইউনেস্কোর একটি ইনপুট-প্রসেস-আউটপুট বা আইপিও নামক একটি ফ্রেমওয়ার্ক আছে যাতে দেখা যায় এই তিনটি অংশের প্রতিটিতেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূচক রয়েছে। এই সূচকগুলোর প্রত্যেকটিরই গুণগত মান সার্বিকভাবে শিক্ষার মানকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। শিক্ষার্থীর ফলাফল এসমস্ত সূচকের একটিমাত্র। সুতরাং হাজার হাজার জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর হাস্যোজ্জ্বল মুখ দেখেই শিক্ষার মানের ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া উচিত নয়। বরং এ বিষয়ে আরো গভীর আলোচনা দরকার। শিক্ষার মান বাড়ছে না বলে যারা মত প্রকাশ করেছেন, তাঁদের বক্তব্যকেই গুরুত্ব দিয়ে এ আলোচনা শুরু করা উচিত।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29164953 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29164953 2010-05-29 15:23:45
জুমলা টিউটোরিয়াল ১১: ক্যাটাগরি তৈরি আগের পর্বে সেকশন তৈরির নিয়মকানুন দেখান হয়েছে। সেকশনের মতোই জুমলাতে কোনো আর্টিক্যাল বা লেখা পোস্ট করতে চাইলে তা নির্দিষ্ট কোনো ক্যাটাগরিতে ফেলতে হয়। সেকশন বা ক্যাটাগরি-সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক কথাবার্তা আগের পর্বে বিস্তারিত বলা হয়েছে। এই পর্বে কীভাবে ক্যাটাগরি তৈরি করা যায়, সে বিষয়টি আলোচিত হবে।

জুমলাতে লগইন করুন। এরকম একটি পৃষ্ঠা আসবে।



Category Manager বাটনে ক্লিক করুন। এরকম একটি পৃষ্ঠা আসবে।



দেখুন এখানে বেশ কিছু ক্যাটাগরি আগে থেকেই দেওয়া আছে। ইচ্ছে করলে সেগুলো মুছে নতুন ক্যাটাগরি তৈরি করতে পারেন, কিংবা প্রদত্ত ক্যাটাগরিগুলোকে সম্পাদনা করে নিজের মতো করে নামকরণ ও কাস্টমাইজ করতে পারেন বা একেবারে আরও কিছু নতুন ক্যাটাগরি তৈরি করতে পারেন। প্রথমে দেখা যাক, কীভাবে নতুন ক্যাটাগরি তৈরি করা যায়।

ক্যাটগরির পৃষ্ঠায় উপরে ডান দিকে অনেকগুলো বাটন আছে। নতুন ক্যাটাগরি তৈরি করার জন্য New বাটনে ক্লিক করুন। এরকম একটি পৃষ্ঠা আসবে।



এই পৃষ্ঠাটি নতুন সেকশন যেভাবে তৈরি করেছিলেন, সেটিরই অনুরূপ; কেবল এখানে ক্যাটাগরিটি কোন সেকশনে রাখতে হবে তার জন্য একটি আলাদা ঘর আছে। প্রথমে Title-এ আপনার ক্যাটাগরির নাম লিখুন। ধরি, আপনি Poem নামে একটি ক্যাটাগরি তৈরি করতে চাচ্ছেন। Alias-এর ঘরেও Poem লিখুন। যেহেতু নতুন ক্যাটাগরি তৈরি করছেন, তাই ধরে নেয়া যায় সেটিকে প্রকাশ করতে চান। সেক্ষেত্রে Published-এর ঘরে Yes বাটনে ক্লিক করতে হবে। যদি আগে থেকেই বেশ কিছু ক্যাটাগরি তৈরি করে রাখতে চান যেগুলো পরে প্রকাশ করবেন, সেক্ষেত্রে No অংশে ক্লিক করতে হবে। সেকশন অংশেই ঠিক করতে হবে আপনি কোন সেকশনের অধীনে ক্যাটাগরিটি রাখতে চান। আগের পর্বে আমরা কয়েকটি সেকশন যেমন 2005, 2006, 2007 ইত্যাদি তৈরি করেছিলাম। যদি মনে করেন, Poem ক্যাটাগরিটি 2005 সেকশনে রাখতে চান, তাহলে Section ড্রাপ-ডাউন মেন্যু থেকে 2005 সিলেক্ট করুন। অর্থাৎ এখানে আপনি 2005 সালে যে সমস্ত কবিতা লিখেছেন, সেগুলোকে একসাথে রাখতে পারবেন। একইভাবে 2006 সালের জন্য আরেকটি Poem যেখানে আপনি ওই বছরের লেখা কবিতাগুলো রাখতে পারেন, 2007 সালের জন্য আরেকটি Poem- এভাবে প্রতিটি সেকশনের জন্য আলাদা আলাদাভাবে ক্যাটাগরি তৈরি করতে হবে। এরকম একই কাজ বারবার করা কিছুটা বিরক্তিকর হলেও সাজানোর স্বার্থে তা করতেই হবে। অবশ্য জুমলার পরবর্তী সংস্করণে নির্মাতারা সেকশন ও ক্যাটাগরি দুটোর বদলে যে কোনো একটি রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

সেকশন সিলেক্ট করার পর পরবর্তী কাজগুলো হুবহু সেকশনের মতোই। সেগুলো আগের পর্বে আলোচনা করা হয়েছে বলে এখানে আর নতুন করে উল্লেখ করা হলো না। একেবারে নিচে ক্যাটাগরির বর্ণনায় যদি কোনো ছবি যোগ করতে চান তাহলে Image বাটনে ক্লিক করে ছবি যোগ করতে পারবেন। ছবি যোগ করার উপায় অন্য একটি পর্বে বিশদ আলোচনা করা হবে। সবগুলো কাজ করার পর পৃষ্ঠাটির চেহারা দাঁড়াবে এরকম।



উপরে Save করে বেরিয়ে আসুন। দেখুন Poem নামে নতুন একটি ক্যাটাগরি দেখা যাচ্ছে। ক্যাটাগরিটি কোন সেকশনের অধীনে তাও দেখা যাবে পাশের সেকশন অংশে। ক্যাটাগরিগুলোকে যদি আপনি নিজস্ব সিরিয়াল অনুসারে সাজাতে চান তাহলে Order-এর ঘরে আপনার সুবিধানুযায়ী সিরিয়াল দিয়ে সেভ (ফ্লপির ছবিতে) বাটনে ক্লিক করলেই নতুন সিরিয়াল হয়ে যাবে।



উপরে আরো কিছু বাটন রয়েছে। এর মধ্যে Publish, Unpublish, Delete, Edit বাটনের কাজ আগের পর্বের সেকশন অংশের মতোই, যে কারণে সেগুলো এখানে আলোচনা করা হলো না।

আপনার সাইটের জন্য বিভিন্ন ধরনের ক্যাটাগরি তৈরি করার পর যদি মনে হয় কোনো একটি ক্যাটাগরিকে অন্য সেকশনে নিয়ে যেতে চান, তাহলে বামপাশে সেই ক্যাটাগরি সিলেক্ট করার পর উপরে Move বাটনে ক্লিক করুন। কিংবা একই ক্যাটাগরি অন্য কোনো সেকশনের জন্য হুবহু তৈরি করবেন সেক্ষেত্রে Copy বাটনে ক্লিক করুন। উভয়ক্ষেত্রেই এ ধরনের একটি পৃষ্ঠা আসবে যেখানে যে সেকশনে আপনি ক্যাটগরিটিকে নিতে চান বা হুবহু তৈরি করতে চান সেটি সিলেক্ট করে উপরে Save বাটনে ক্লিক করলেই ক্যাটাগরি Move বা Copy হয়ে যাবে।



জুমলাতে ডিফল্ট যে ক্যাটাগরিগুলো দেয়া থাকে, সেগুলো আপনি প্রয়োজনানুযায়ী মুছে দিন, বা নতুন নামকরণ করে নিন।

সেকশন ও ক্যাটাগরি তৈরির কাজ শেষ। এখন নতুন পোস্ট বা লেখা দেয়ার পালা। এই আলোচনা পরের পর্বে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29152986 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29152986 2010-05-11 12:17:36
শিক্ষানীতি বাস্তবায়িত হবে কবে?
শিক্ষানীতি প্রণয়নের ইতিহাস আমাদের দীর্ঘদিনের, কিন্তু বাস্তবায়নের ইতিহাস নেই বললেই চলে। এ সরকার বর্তমান শিক্ষানীতি কমিটি গঠনের সময়ই ঘোষণা দিয়েছিল যে, তারা শুধু শিক্ষানীতি তৈরি করেই বসে থাকবে না; সরকার এটির বাস্তবায়নও নিশ্চিত করবে। পরবর্তী সময়ে এমন কথাও শোনা গিয়েছিল, যেহেতু পূর্বের শিক্ষানীতিগুলোর আলোকে বর্তমান শিক্ষানীতিটি তৈরি হয়েছে, সেহেতু এর অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় না নিয়ে সরকার বরং বাস্তবায়নের দিকেই মনোযোগ দিবে বেশি। তাছাড়া শিক্ষামন্ত্রী এটাও জানিয়েছিলেন, শিক্ষানীতি অপরিবর্তনীয় (rigid) কোনো বিষয় নয়; বরং সময়ের প্রয়োজনে এর মধ্যে নানা পরিবর্তন আসতে পারে। বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হলে পরবর্তী সময়ে পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দিলে সে অনুসারে পরিবর্তন করা যাবে। এ সমস্ত নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়াকে একজায়গায় আবদ্ধ না রেখে পরিবর্তনকে স্বাগত জানানোর শিক্ষামন্ত্রীর এ অ্যাপ্রোচ অভিনন্দনযোগ্য; কিন্তু বাস্তবায়নের যে সময়সীমা তিনি জানিয়েছিলে সেটা পূরণ না হওয়ায় শিক্ষানীতির ভবিষ্যৎ আমাদেরকে কিছুটা চিন্তিত করে বটে। এই শিক্ষানীতি পূর্বতন নীতিগুলোর ভাগ্যবরণ করতে যাচ্ছে কিনা, সেটা একটা ভাবনা তো আছেই (যদিও সেটা হবে না বলে দৃঢ় বিশ্বাস, কিন্তু বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত স্বস্তি মেলে না); পাশাপাশি এই শিক্ষানীতি প্রণীত হওয়ার পর বেশ কিছু মহল থেকে যে ধরনের আপত্তি এসেছে, সেগুলোর কারণে সরকার কিছুটা পিছিয়ে গেল কিনা, সেটাও চিন্তার বিষয়। এটা ঠিক, শিক্ষানীতির বাস্তবায়ন নিয়ে তড়িঘড়ি কিংবা দীর্ঘসূত্রিতা- কোনোটাই কাম্য নয়। গত বছরের শেষ দিক থেকেই যখন শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের কথা শোনা যাচ্ছিল, তখন সেটাকে তড়িঘড়ি বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু ইতোমধ্যে অনেকটা সময় পেরিয়ে যাওয়ায় এখন এটা দীর্ঘসূত্রিতার ফাঁদে পড়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে।

শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের আগে অবশ্য বেশ কিছু কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথম কাজটিই হচ্ছে সংসদে শিক্ষানীতিটি পাশ করানো। এ বছরের শুরুতে যে সংসদ অধিবেশন ছিল, শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য সেটাই সম্ভবত উৎকৃষ্ট সময় ছিল। কিন্তু কী কারণে তা করা হলো না সেটি বোধগম্য নয়। ওয়েবে শিক্ষানীতি উন্মুক্ত করার পর বেশ সময় দিয়েই মানুষজনের মতামত আহ্বান করা হয়েছিল এবং অনেকেই তাঁদের মতামত বা পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। সেই মতগুলোকে নিশ্চয়ই পরবর্তী সময়ে পর্যালোচনাও করা হয়েছে। যেহেতু এই শিক্ষানীতিটা পূর্বতন শিক্ষানীতিকে কেন্দ্র করে তৈরি করা, তাই নানাজনের মতামত পর্যালোচনা করে ‘চূড়ান্ত খসড়া’টাকে ‘চূড়ান্ত’ করে ফেলাটা খুব একটা সময়ের কাজ নয়। ভেতরের খবর জানি না, কিন্তু ধারণা করি সেসব কাজের সবই হয়ে গেছে। এখন বাকি কাজটুকু করার পালা।

শিক্ষানীতি নিয়ে এই দীর্ঘসূত্রিতার আরো নানা কারণ থাকতে পারে, সব কারণ হয়তো আমাদের পক্ষে জানা বা আন্দাজ করা সম্ভব নয়। কিন্তু শিক্ষানীতি তৈরি ও বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তের সাথে যারা জড়িত, অর্থাৎ শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটি, শিক্ষামন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষা-বিষয়ক সংসদীয় কমিটিসহ অন্যরা যদি এই প্রক্রিয়াটাকে দ্রুততর করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে আগামী বাজেট অধিবেশনের পর সংসদের যে শীতকালীন অধিবেশ অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে এটি বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা মাধ্যমে পাশ করানোটা কঠিন হবে বলে মনে হয় না। সংসদে এখন আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ, তারা চাইলে শিক্ষানীতিটাকে পাশ করিয়ে দিতে পারে। কিন্তু যেহেতু এটা দেশের একটা নীতির ব্যাপার এবং এই নীতির ওপর দেশের সার্বিক ভবিষ্যৎও অনেকটা নির্ভর করে, সেহেতু শিক্ষানীতি সম্পর্কে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার পরই এটাকে চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহণ করা উচিত হবে। শিক্ষামন্ত্রীর মনোভাবে অবশ্য সবার মতামত নিয়েই এটাকে চূড়ান্ত করার মানসিকতার দেখা মেলে, তবে এক্ষেত্রে বিরোধী দলেরও কর্তব্য আছে। শিক্ষানীতির ওপর পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করে, এর বাস্তবায়নের সুবিধা-অসুবিধাগুলো বের করে এবং সে অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথনির্দেশ করে তাঁরা সেই দায়িত্বশীলতার প্রমাণ দিবেন বলে আশা করি। এই শিক্ষানীতির মূল অ্যাপ্রোচ ইতিবাচক, যদিও সেখানকার নানা সুপারিশ নিয়ে বিভিন্নজনের বিভিন্ন মত রয়েছে। কিন্তু দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। আর যে যে বিষয়ে দ্বিমত বা ভিন্নমত রয়েছে, সেগুলো বরং আলোচনায় বেশি বেশি উঠে আসা দরকার। তাতে বিষয়গুলো বাস্তবায়নের সময় সরকার ভিন্নমতের দৃষ্টিভঙ্গিগুলো মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, সরকার সবকিছু ঠিকঠাক করে রাখলে এ বছরের শেষ দিকে অর্থাৎ সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সংসদ সেটি পাশ করলে সাথে সাথেই বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা যাবে; না হলে হয়তো আবার সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠাতে হবে এবং কমিটির মতামতের পর হয়তো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। জানি না সরকার এ ব্যাপারে কী চিন্তা করছে কিন্তু সব মিলিয়ে শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের পথে আরো বেশ খানিকটা পথ এগুতে হবে বলেই মনে হচ্ছে। সরকার যদি এসব বিষয় মাথায় রেখে সেভাবেই পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করে, তাহলে হয়তো আগামী বছরের শুরু থেকেই শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা যাবে। স্বাধীনতার পর এতোগুলো বছর পার হয়ে গেলো, আমারা এখন পর্যন্ত একটা শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করতে পারলাম না- এই ব্যর্থতার দায়ভার আর বেশিদিন বহন করা উচিত হবে না।

২.
খসড়া শিক্ষানীতির ওপর মতামত পাঠানোর সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ড. এমাজউদ্দীন আহমদসহ অনেক বিদগ্ধ ব্যক্তি তাঁদের মতামত পাঠিয়েছেন এবং শিক্ষামন্ত্রী সেটাকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিষয়টাকে নানাভাবেই দেখা যেতে পারে। নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পর মতামত গ্রহণ করা উচিত কিনা সেটা একটা প্রশ্ন হতে পারে। আবার এটাকে ইতিবাচকভাবেও দেখা যেতে পারে যে, শিক্ষানীতি অপরিবর্তনীয় কোনো বিষয় নয়, চাইলে যে কোনো সময় মতামত দেয়া সম্ভব এবং সরকারের সেটা গ্রহণ করার মানসিকতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অনুরোধ থাকবে, যদি সময় থাকে, তাহলে এখনো মানুষজনের মতামত গ্রহণ করা হোক। অনেকে সে সময় নানা কারণে মতামত দিতে পারেন নি। সেক্ষেত্রে তারা মতামত দেয়ার আরেকটি সুযোগ পাবেন। বিশিষ্টজনরা যেহেতু সময়সীমা পার হওয়ার পরও মতামত দিতে পেরেছেন, সময় ও সুযোগ থাকলে সাধারণ মানুষদেরও এই সুযোগটি দেয়া যেতে পারে।

পাশাপাশি এখন পর্যন্ত যে যে মতামত এসেছে সেগুলোও জনগণের সাথে শেয়ার করতে পারলে ভালো হয়। শিক্ষানীতি নিয়ে পরস্পরের চিন্তাভাবনাগুলো বিনিময় করার কোনো আনুষ্ঠানিক বা নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম নেই। যেহেতু সবার মতামত এক জায়গায় অর্থাৎ শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির কাছে জড়ো হয়েছে, তাই সেগুলোও যদি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়, তাহলে একজন সহজেই অন্যের মতামতের সাথে নিজের মতামতটি মিলিয়ে নিতে পারবেন, প্রয়োজনে আরও নতুন কোনো মত থাকলে সেটিও দিতে পারবেন। মতামত নেয়ার সুযোগটি একেবারে বন্ধ করে না দিয়ে সেটি সারাবছর চলমান রাখতে পারলে আরো ভালো হয়। যেহেতু পরবর্তী সময়ে শিক্ষানীতিকে আপডেট করার বিধান রাখা হয়েছে, তাই সব মতামত এখনি গ্রহণ না করতে পারলেও পরবর্তী সময়ের জন্য সেগুলোকে বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট জায়গায় ইমেইল বা ডাকে মতামত পাঠানো ছাড়াও অনেকে পত্রপত্রিকা, টকশো কিংবা ব্লগে তাদের মতামত দিয়েছেন, যেগুলো সংখ্যায় খুব একটা কম হবে না। অনেক গুরুত্বপূর্ণ মতামতও সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত মতামতগুলোর পাশাপাশি এগুলো সংগ্রহ করা ও সে অনুসারে মূল্যায়ন করা হলে শেষ পর্যন্ত লাভ-ই হবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29150720 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29150720 2010-05-07 23:02:23
শোষিতের শিক্ষাতত্ত্ব: পাওলো ফ্রেইরে - ১ অনুবাদকের নোট

পাওলো ফ্রেইরের নিজস্ব ভূমিকা বা মূল অধ্যায় দিয়ে শুরু না করে প্রথমেই অনুবাদকের নোট দেওয়ার প্রয়োজন পড়ল কেন, তা খোলাসা করা দরকার। শিক্ষাক্ষেত্রে বেশ কয়েক বছর কাজ করার সুবাদে অনুবাদকের উপলব্ধি হচ্ছে- পাওলো ফ্রেইরের নাম শিক্ষাকার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের কাছে যতটুকু পরিচিত, ঠিক ততটুকুই অপরিচিত তাঁর কাজকর্ম-লেখালেখি-চিন্তনপ্রক্রিয়া। এর কারণ মূলত দুটো: প্রথমত, পর্তুগীজ ভাষায় লিখেছেন বলে পাওলো ফ্রেইরের বই সহজলভ্য নয়; বেশ কয়েকটি বইয়ের পর্তুগিজ থেকে ইংরেজি অনুবাদ করা হয়েছে কিন্তু বাংলায় সেই অনুবাদ পাওয়া দুরূহ এবং দ্বিতীয়ত, তাঁর লেখার বিষয়বস্তু ও প্রকাশভঙ্গি কিছুটা জটিল, দুরূহ। শিক্ষা নিয়ে আমরা যেভাবে প্রচলিত পন্থায় চিন্তাভাবনা করে অভ্যস্ত, ফ্রেইরে সে পথে না হেঁটে একটু অন্যপথে শিক্ষার নানা দিক, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রক্রিয়া কীভাবে মানুষের স্বাধীনতা ও সচেতনায়নের সাথে সম্পর্কিত, সেই বিষয়গুলোই ব্যাখ্যা করেছেন বেশি। ফলে যারা শিক্ষার তাত্ত্বিক দিকগুলো সম্পর্কে খুব একটা অবহিত নন; কিংবা শিক্ষা যে মানবমুক্তি ও সমাজকাঠামোর নানা অংশের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত- সেই উপলব্ধি যাদের মধ্যে ভাসাভাসাভাবে বিদ্যমান অথচ কোনো না কোনোভাবে শিক্ষার নানা কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের কাছে প্রথম ধাক্কায় ফ্রেইরের লেখা অপরিচিত বা শিক্ষার সঙ্গে আপাত-সম্পর্কহীন কথাবার্তা বলে মনে হতে পারে। যারা শিক্ষাবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক দিকগুলো সম্পর্কে পড়ালেখা করে এসেছেন তাঁদের কাছেও যে ফ্রেইরে একেবারে সহজেই প্রতিভাত, তাও কিন্তু নয়! মোট কথা, ফ্রেইরে সমাজ-রাষ্ট্র ও শিক্ষার নানা সম্পর্কের সূত্র ধরে যে সমস্ত কথাবার্তা বলেছেন, সেগুলো প্রচলিত অর্থে শিক্ষার সঙ্গে অনেকক্ষেত্রেই মেলান যায় না; কিন্তু শিক্ষাকে অর্থবহ করতে হলে এ বিষয়গুলো জানা জরুরি।

নানা দেশে নানা ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। বর্তমানে সব দেশেই শিক্ষা মূলত মানুষের কিছু 'দক্ষতা' বিকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে; যদিও পূর্বতন আমলে বিশেষ করে কয়েকশ বছর আগেকার শিক্ষা শুধু ‘দক্ষতাকেন্দ্রিক’ই ছিল না, ‘বোধ’ সৃষ্টির প্রয়াসও সেই শিক্ষায় বিদ্যমান ছিল। ফ্রেইরে বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা মানুষের এমন একটি ক্ষেত্র যার মাধ্যমে মানুষ নিজের সচেতনায়নের মাধ্যমে বৈষম্যহীন নতুন পৃথিবীর জন্ম দিতে সক্ষম। কিন্তু জ্ঞান সবসময়ই বিশেষ একটি শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় জ্ঞানের প্রয়োগ, জ্ঞান অর্জনে মানুষের প্রবেশাধিকার এবং জ্ঞানের রাজ্যকে বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে নিপীড়িত মানুষরা এগুলোর প্রকৃত আস্বাদ থেকে বঞ্চিত। এই বইতে ফ্রেইরে এসব বিষয় নিয়েই কথা বলেছেন। তিনি মানুষের স্বাধীনতা-ভীতি, সংলাপের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রক্রিয়া সৃষ্টি ও জনগণের সঙ্গে নেতৃবৃন্দের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সচেতনায়ন ও সাংস্কৃতিক চেতনা বিনির্মাণের মাধ্যমে নতুন সমাজ গঠনের ওপর বেশি জোর দিয়েছেন। যারা এসব বিষয় নিয়ে পড়তে চান, ভাবতে চান-- তাঁদের কাছে এই বইটি অবশ্যপাঠ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে এই বইয়ের বক্তব্য এবং বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ফ্রেইরের মধ্যেও বেশ কিছু দ্বিধা রয়েছে। তিনি নিজেই মনে করেন, এই বইয়ের বক্তব্য অনেকের মনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে; বিশেষ করে মার্ক্সবাদী ও খ্রিস্টান শাসকবর্গ তাঁর বইয়ের বক্তব্য গ্রহণের ক্ষেত্রে রক্ষণশীল মনোভাবের পরিচয় দিতে পারেন। তাছাড়া কিছু কিছু চিন্তাভাবনা তিনি পরবর্তী সময়ে বদলানোর আভাসও দিয়েছিলেন-- যদিও সেটা আর করা হয়ে ওঠে নি। একটি বিষয় পরিষ্কার যে, ফ্রেইরের এই বইটি প্রকাশের সময় খুব কম মানুষই বইটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে পেরেছে। একটা সময় পর আস্তে আস্তে বইটি গ্রহণযোগ্যতা (প্রয়োগের ক্ষেত্রে না হলেও অন্তত চিন্তাভাবনার ক্ষেত্রে) পেতে থাকে এবং বর্তমানে শিক্ষাসেক্টরে একে ক্ল্যাসিক্যাল সংযোজন হিসেবে অনেকে মনে করেন। ফ্রেইরের চিন্তাভাবনার সূত্রকে ব্যবহার করে বর্তমান বাংলাদেশেও অনেকে কাজ করছেন-- ব্যক্তিগত কিংবা সামষ্টিক পর্যায়ে। সব মিলিয়ে যত দিন যাচ্ছে, মানুষের চিন্তনপ্রক্রিয়ায় ফ্রেইরে আস্তে আস্তে জায়গা করে নিচ্ছেন। যে কারণেই এই বইটি সব চিন্তক, বিশেষ করে যারা শিক্ষা ও সমাজ পরিবর্তন নিয়ে ভাবেন, তাঁদের পড়া দরকার।

বলা দরকার, অনুবাদক নিজেও ফ্রেইরের এই বইয়ের সব বক্তব্যের অনুসারী নন, কিন্তু সেটা অন্য আলোচনার বিষয়। ফ্রেইরের লেখার সঙ্গে অনুবাদকের পরিচয় স্নাতক পর্যায়ে পড়ালেখার সময়। তুলনামূলক শিক্ষার একটি কোর্সে ফ্রেইরে শিক্ষার প্রচলিত ‘ব্যাংকিং ব্যবস্থা’কে যে সমালোচনা করেছিলেন, সেটি শিক্ষকের জবানিতে শোনার পর থেকে ফ্রেইরের কাজ সম্পর্কে অনুবাদকের আগ্রহ জন্মে। কিন্তু বইয়ের অপ্রতুলতা এবং বই হাতে পাওয়ার পর ইংরেজি ভাষায় জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার দরুণ বইটি অনেক দিন পড়া হয়ে উঠে নি এবং এক পর্যায়ে হারিয়ে যায়। বছর তিনেক আগে মূল পর্তুগিজ ভাষা থেকে মিরা বার্গমান রামোস কর্তৃক ইংরেজিতে অনুদিত বইটি জোগাড় করে পড়ার পাশাপাশি অনুবাদে রত হন। অনুবাদক নিশ্চিত নন, পর্তুগিজ ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ এবং সেই ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদে লেখকের মূল বক্তব্যের কতটুকু হেরফের ঘটেছে; কিন্তু অনুবাদক এক্ষেত্রে ইংরেজি অনুবাদের মূলানুগ থাকার চেষ্টা করেছেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে লেখকের ব্যাখ্যার পাশাপাশি অনুবাদকের দেয়া টিকা-টিপ্পনি সংযোজন করা হয়েছে সঙ্গতকারণেই। তারপরও কোথাও কোথাও ভুল থেকে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়; কেউ দেখিয়ে দিলে অনতিবিলম্বেই তা সংশোধন করা হবে।

লেখকের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি



পাওলো ফ্রেইরে ১৯২১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরে ব্রাজিলের রেসিফ শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৫ বছর বয়সে ১৯৯৭ সালের ২ মে তারিখে মারা যান। তিনি মূলত জাঁ-পল সার্ত্র, এরিক ফ্রম, লুইস আলথুসার, হার্বাট মার্কুস, কার্ল মার্কসের চিন্তা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন যার ছাপ পাওয়া যায় তাঁর লেখনীতে। তিনি ব্রাজিলের সাও পাওলো শহরের শিক্ষাসচিব ছিলেন এবং পরবর্তীকালে তিনি পন্টিফিক্যাল ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব সাও পাওলোতে অধ্যাপনায় যুক্ত হন। তিনি ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক জুরি বোর্ডেরও সদস্য ছিলেন এবং ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার ২৯টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি সেন্টার ফর দি স্টাডি অব ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সোসাল চেঞ্জ-এর ফেলো এবং হার্ভার্ড সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন এডুকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর অতিথি অধ্যাপক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি জেনেভাস্থ অফিস অব দি ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল অব চার্চেস-এর উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি চিলির ইউনেস্কোর ইনস্টিটিউট অব রিচার্স অ্যান্ড ট্রেনিং ইন এগ্রোরিয়ান রিফর্ম-এর উপদেষ্টা ছিলেন এবং একই দেশের চিলি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ব্রাজিলে বয়স্ক শিক্ষার জাতীয় পরিকল্পনার সাধারণ সমন্বয়কও ছিলেন। তিনি নানা বিষয়ে পনেরটি বই প্রকাশ করেছেন যার মধ্যে এই বইটি আঠারটিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে Pedagogy of the oppressed বইটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29143963 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29143963 2010-04-28 11:30:02
জুমলা টিউটোরিয়াল ১০: সেকশন তৈরি আগের পর্ব

কীভাবে সাইটে নতুন আর্টিকেল যুক্ত করা যায় সে সম্পর্কে আলোচনা করার আগে সেকশন ও ক্যাটাগরি ম্যানেজারের কাজ সম্পর্কে আলোচনা করা ভালো। না হলে আগেই আর্টিক্যাল যুক্ত করার বিষয়টি আলোচনা করা হলে অনেকে সমস্যায় পড়তে পারেন। কারণ আর্টিক্যাল যুক্ত করার বিষয়টি পুরোপুরিভাবেই সেকশন ও ক্যাটাগরির ওপর নির্ভরশীল। তাই এ পর্বে শুধু সেকশন তৈরির প্রক্রিয়াটি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

সেকশন ও ক্যাটাগরি ম্যানেজার আসলে আপনি কীভাবে সাইটটাকে ভাগ ভাগ করে সাজাতে চাচ্ছেন সেটি ঠিক করে দেয়। আপনি যে সাইট বানাবেন সেখানে হয়তো অনেক বিভাগ থাকবে; বিভাগেরও উপবিভাগ থাকতে পারে। সেকশন ম্যানেজার ও ক্যাটাগরি ম্যানেজার দিয়ে সেগুলো তৈরি ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

উদাহরণস্বরূপ, আপনি আপনার নিজের ব্যক্তিগত লেখালেখির সাইটটি জুমলা দিয়ে করতে চান। সেক্ষেত্রে স্বভাবতই লেখাগুলোকে নানা ভাগে সাজাতে চাইবেন। ধরে নিই, আপনি চাচ্ছেন 2005, 2006, 2007, 2008, 2009, 2010, 2011 ইত্যাদি সালে লেখা কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, দিনপঞ্জিগুলোকে আলাদা আলাদাভাবে সাজাতে। সেক্ষেত্রে সালগুলো দিয়ে আলাদা আলাদা করে সেকশন বানাতে হবে। অর্থাৎ প্রতিটা সালের জন্য একটি করে সেকশন বানাতে হবে। আর কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও দিনপঞ্জিকে ক্যাটাগরি হিসেবে তৈরি করতে হবে।

সেকশন বানানোর জন্য আপনার জুমলা সাইটে লগইন করুন। যে পৃষ্ঠা আসবে সেখানে Section Manager-এ ক্লিক করুন।



দেখুন সেখানে আগে থেকেই কিছু সেকশন তৈরি করা আছে। প্রয়োজনে সেগুলোকে বদলে নিতে পারেন বা নতুন সেকশন তৈরি করতে পারেন। আমরা প্রথমে নতুন সেকশন তৈরি করব। সেক্ষেত্রে উপরে কর্নারে New বাটনে ক্লিক করুন।



এরকম একটি পৃষ্ঠা আসবে।



এখন সেকশনের নাম দিন। উদাহরণস্বরূপ এখানে 2005 দেয়া হয়েছে। সেকশনটি যেহেতু পাবলিশ করতে চাচ্ছেন সেহেতু পরের Yes বাটনে ক্লিক করুন। Access level-এ যদি সবাইকে অ্যাকসেস দিতে চান, অর্থাৎ সবাই যাতে দেখতে পারে, সে ব্যবস্থা চাইলে Public, যদি শুধু রেজিস্ট্রেশন করা ব্যক্তিদের দেখাতে চান তাহলে পরেরটা আর Special কিছু হলে শেষটি সিলেক্ট করতে হবে। এখানে আমরা Public সিলেক্ট করলাম।

Image অংশে যদি এই সেকশনের জন্য কোনো ইমেজ নির্দিষ্ট করে দিতে চান, তাহলে সেখান থেকে ইমেজ ঠিক করে দিতে পারেন। এই ইমেজগুলো ছাড়াও যদি অন্য কোনো ইমেজ দিতে চান তাহলে সেটি আপলোড করে তারপর সিলেক্ট করতে পারেন। তারপর Image position ঠিক করে দিতে পারেন।

নিচে Description অংশে আপনি এই সেকশনটির কোনো বর্ণনা দিতে চাইলে তা লিখে দিতে পারেন। কাজ শেষে আমাদের সেকশনটির চেহারা দাড়াবে এরকম।



উপরে সেভ করে বেরিয়ে আসুন। দেখুন 2005 নামে একটি সেকশন তৈরি হয়েছে। ঠিক একইভাবে আপনি যতো খুশি সেকশন তৈরি করতে পারবেন।

কোনো সেকশন তৈরি করার পর সেটি সাধারণত Publish অবস্থায়ই থাকে। যদি সেটিকে Unpublish করতে চান, অর্থাৎ এখন হয়তো সেকশনটি তৈরি করে রেখেছেন কিন্তু ব্যবহার করা হবে ভবিষ্যতে, সেক্ষেত্রে বামপাশের বক্সে সিলেক্ট করে উপরে Unpublish বাটনে ক্লিক করুন। তখন সেটা দেখাবে এরকম।



কোনো সেকশন মুছতে চাইলে সেটি সিলেক্ট করে Deleteকরুন। সেকশনের লেখা বা ছবি ইত্যাদি পরিবর্তন করতে চাইলে Edit বাটনে ক্লিক করে তারপর সেগুলো সম্পাদনা করতে পারবেন।

একটি সেকশনের মতো হুবহু আরেকটি সেকশন তৈরি করতে চাইলে যে সেকশনটির মতো তৈরি করতে চাচ্ছেন সেটিকে সিলেক্ট করে Copy বাটনে ক্লিক করুন। এরকম একটি পৃষ্ঠা আসবে।



সেখানে সেকশনের নাম লিখে সেভ দিলেই আগের সেকশনের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এরকম আরেকটি সেকশন তৈরি হয়ে যাবে। অর্থাৎ আগের সেকশনে Access level, Image position ইত্যাদি যা যা কনফিগার করেছিলেন, নতুন সেকশনেও তাই তাই আসবে।

মোটামুটি এই হলো সেকশন তৈরির নিয়মকানুন। আগামী পর্বে দেখান হবে ক্যাটাগরি তৈরির নিয়ম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29135344 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29135344 2010-04-15 11:11:40
যে ডুবে ভেসে উঠি বারবার - ০৪ গানের শ্রোতা হিসেবে আমি একটু সেকেলে। পুরনো দিনের অনেক গান পছন্দ, বর্তমান সময়ের অধিকাংশ গানই উঁচু নাকের বেড়াজাল পার হয়ে মগজে পৌঁছতে পারে না। মাঝে মাঝে ভাবি— কেন এমনটা হলো? গানের কথা একটা বড় ব্যাপার, কিন্তু আধুনিক অনেক গানের কথা বেশ সুন্দর! সুর? চটুল সুরের অনেক গানই তো প্রিয়। গায়কও তেমন কোন ফ্যাক্টর কি? গানের পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তিও বেশ লাগে। মোবাইলের মেমোরি কার্ডে একসময় গান আর কবিতার সংখ্যা ছিল প্রায় সমান।

এই পুরনো দিনের গান বা কবিতা আবৃত্তি ভালো লাগার একটা জাস্টিফিকেশন খুঁজছিলাম বেশ কিছুদিন যাবত। আজকে একটু আগে হঠাৎ করেই মনে হলো— এর কারণ অন্য জায়গায়। পুরনো দিনের গানে বা কবিতা আবৃত্তিতে গায়ক বা আবৃত্তিকার যেভাবে প্রতিটা শব্দ আলাদাকরে গুরুত্ব বা ওজন অনুসারে স্ট্রেস বা ইনটোনেশন দিয়ে উচ্চারণ করেন, ওভারল্যাপিং না করে যেভাবে প্রতিটা শব্দকেই মগজে হিট করাতে পারেন, আধুনিক গানে সেটা অনুপস্থিত। এমনকি আমাদের দৈনন্দিন কথাবার্তায়ও আমরা প্রায়ই ওভারল্যাপিং করি— যদিও অন্যেরা সেটা অভ্যাস ও কল্পনার সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা বিবেচনাবোধ থেকেই বুঝে নেয়।

এই কারণটা বের করার পর থেকে একটু স্বস্তি লাগছে। অধিকাংশ আধুনিক গান পছন্দ না করার দোষটা শুধু আমার একার না, গায়কেরও! <img src=" style="border:0;" />
২৩.০১.১০

২.
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় একটা ছাত্রসংগঠনে কাজ করতাম। মোটামুটি ছাত্রসংগঠনের নেতা হিসেবে যতটুকু সাংগঠনিক ক্ষমতার স্বাদ নেয়া যায়, তার পুরোটা না হলেও ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছাকাছিই ছিলাম। স্বপ্ন তো তখন অনেক ছিল— সেগুলো বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে কারা সবচেয়ে বেশি যোগ্য, সেটা তখনকার মতো বুঝেটুঝে সেই দলে যোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু স্বপ্ন দেখতে চেষ্টা করার সাথে স্বপ্ন দেখার দূরত্ব আসলে অনেক!

সেই দলের অনেকের সাথেই যোগাযোগ নেই এখন। দলের খোঁজখবরও খুব একটা পাই না। অথচ মনে হত, এই দলটিই বা এদের মতো দলগুলোই প্রগতিশীল আন্দোলনের নেতৃত্ব দিবে। ঘটনা তো এখন দেখি সেরকম না! দলগুলো তাহলে কী করছে?

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সূত্র ধরে হতাশ মুহূর্তের কোন কোন সময়ে উপসংহারে পৌঁছে যাই— এদের দ্বারা অনেককিছুই সম্ভব নয়। ষাটের দশকের ওই সংগঠনের রাজনীতি তখনকার সময়ের তুলনায় এগিয়ে ছিল— ফলে সহজেই প্রগতিশীল আন্দোলনের সাথে যুক্ত থাকতে পেরেছে। সে সময়ের প্রগতিশীল সব মানুষেরা ওই দলটিতে যুক্ত হয়েছিলেন, যে ধরনের প্রগতিশীলতা এখনকর সময়ের বিচারে তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। আশির দশকে এসেও ষাটের দশকের রাজনীতি চালানোও গেল, কারণ ষাটের দশকের আলোকিত এলাকার একটা বিম্ব আশির দশক থেকে দেখা যেত। তাছাড়া আশির দশকের সময়টা ষাটের দশক থেকে একেবারে ভিন্ন কিছুও ছিল না। কিন্তু এই সময়ে এসেও যখন ষাটের দশকের রাজনীতি চলতে থাকে, তখন সেটাকে নিশ্চয়ই প্রগতিশীল বলা যায় না! সে কারণেই বোধহয় আমার দলটি প্রগতিশীল আন্দোলনের মূল ভূমিকায় যতটুকু দায়িত্ব পালন করতে পারছে, তার চেয়ে কম পালন করতে পারছে ছাত্ররাজনীতিটাকে প্রগতিশীলতার ধারায় নিয়ে আসতে। অথচ এটুকু না করতে পারলে দল হিসেবে যত প্রগতিশীলই হোক না কেন, প্রগতিশীলতার ছোঁয়াটা মানুষের জন্য ফ্রুটফুল হয় না। ফলে সবক্ষেত্রে আমাদেরকে এখনও মন্দের ভালোটাই বেছে নিতে হয়, ভালোগুলোর মধ্যকার মন্দটাকে বাদ দিতে পারি না। সেদিনের এক তিক্ত অভিজ্ঞতার পর এই অনুভূতিগুলো আরও প্রকট হচ্ছে।
০৭.০২.১০

৩.
সুনামগঞ্জে এই নিয়ে তিনবার আসা হলো। দেশের যে তিনটি জেলা তুলনামূলকভাবে বঞ্চিতের কাতারে— নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ বোধহয় তার অন্যতম। মানুষগুলো দেখি অভাবের তাড়নায় নির্বাক হয়ে গেছে! কল্পনা কিংবা স্বপ্ন দেখতেও ভুলে যাচ্ছে কি? দিরাইয়ের হাওর-পাড়ের এক গ্রামের কয়েকজন মাকে জিজ্ঞাসা করলাম তাদের সন্তানদের কোন পর্যন্ত পড়ালেখা করাতে চান? কেউই উত্তর দিতে পারলেন না। কোন পর্যন্ত সন্তানকে পড়ান যায়, সেই ধারণাই নেই তাদের অনেকের— সেটা জানি। কিন্তু বড় হয়ে কী হলে খুশি হবেন— তাতেও তাদের কোন কল্পনা নেই, স্বপ্ন নেই! যা হয় একটা কিছু হলেই হল! অভাবটা না থাকলেই হয়!

হা! দারিদ্র্য নাকি মানুষকে মহান করে?
১৬.০৩.১০

৪.
ডে-লাইট সেভিং নিয়ে কালকে আবার মেজাজ খারাপ হল। এক অগার সাথে কথা শুরু করেছিলাম, পরে দেখি সে এটা সম্পর্কে কিছু জানেই না। তবে সাফল্যের সাথে ঘণ্টাখানেক বগরবগর করল! ...াল! ক্যান যে এগুলার সাথে তর্ক করতে যাই!

বিশেষ করে ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবালের প্রতি মেজাজটা আরও খারাপ। কদিন আগে তাঁর একটা লেখা পড়লাম প্রথম আলোতে। বড়লোক দেশেরা নাকি ফুর্তিফার্তা করার জন্য এটা করে! আজকাল চট করে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়!

বছরের নির্দিষ্ট সময়ে ডে-লাইট সেভিং পদ্ধতি কার্যকর থাকতেই পারে—এতে দোষের বা ক্ষতির কী সেটাই ঠিক বুঝি না! আমরা জনগণই কি চেটের ...াল! সামান্য একটা জিনিসকে নিয়ে হাউকাউ শুরু করে দিতে পারি! ঘড়ির কাটা একটা ঘণ্টা এগিয়ে বা পিছিয়ে বাদবাকি সব কাজকর্ম ঠিক রাখলে কী অসুবিধা, সেটাই তো বুঝতে পারি না! এখানে বিভ্রান্তির অবকাশ কোথায়? বরং সূর্য উঠার উপর নির্ভর করে ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে বা পিছিয়ে দেয়াটাকেই আমার কাছে বৈজ্ঞানিক বলে মনে হয়। দেহঘড়ি বলে একটা ব্যাপার আছে না? আমাদের পূর্বপুরুষেরা সূর্য উঠার সাথে সাথেই কি ঘুম থেকে উঠতেন না, সে সময় তারা এক ঘণ্টা আগে ঘুমাতে যেতেন না?

লেনিন একটা কথা বলেছিলেন—'বিজ্ঞান কখনও গণভোটে নির্ধারিত হয় না।' এই কথার গুরুত্ব হাড়ে হাড়ে টের পাই মাঝেমাঝেই। জনগণকে সবসময় মহান বা কেন্দ্র বলে ভাবা ঠিক না।
০১.০৪.১০]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29133931 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29133931 2010-04-13 10:54:35
প্রাইভেট টিউশনি কি আদৌ বন্ধ হবে?
ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রধানত দু’ভাগে ভাগ করা যায়-- একভাগে পিতা বা পিতামহের কাছ থেকে বংশানুক্রমিকভাবে শিখে আসা পেশাগত জ্ঞান এবং আরেকভাগে গুরুর কাছ থেকে গ্রহণ করা নৈতিক শিক্ষা। প্রথম ধরনের শিক্ষা ছিলো অনানুষ্ঠানিক-- কাজ করতে করতে পূর্বপুরুষদের পেশায় প্রবেশ ও সেটাকে কেন্দ্র করে জীবিকানির্বাহ। দ্বিতীয় ধরনের শিক্ষা তখনকার পরিপ্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিক- গুরুগৃহে নৈতিক শিক্ষা অধ্যয়ন করা, যেখানে দর্শন, ধর্ম, জীবনচর্চা ইত্যাদি ছিলো মুখ্য এবং এই শিক্ষা পেশাগত জীবনে বা বৈষয়িক সমৃদ্ধিতে খুব একটা কাজে আসতো না।

দ্বিতীয় ধরনের শিক্ষাপদ্ধতি থেকে আমরা মূলত যে বিষয়টা জানতে পারি সেটি হচ্ছে, এই শিক্ষাব্যবস্থায় গুরু সর্বেসর্বা। তিনি শিক্ষার্থীদের যা অধ্যয়ন করাতেন, শিক্ষার্থীরা মূলত সে বিষয়েই পারদর্শী হতো। অবশ্য অনেকক্ষেত্রে গুরু শিক্ষার্থীর আগ্রহ ও সক্ষমতা বিচার করেও শিক্ষাপ্রদান করতেন। এ ধরনের শিক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিকতার বালাই ছিলো না, কিন্তু শিক্ষাকার্যক্রম সমাপ্ত হওয়ার পর অনেকক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকতা করা হতো- যার একটি পর্যায়ে সমাবর্তন পদ্ধতির সূচনা ঘটে।

ভারতীয় উপমহাদেশে আলাদাভাবে বিদ্যালয়ের মতো করে কিংবা আলাদা একটি কক্ষে বা গৃহে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিদ্যাশিক্ষার কার্যক্রমের ধারণা শুরু হয় মূলত ব্রিটিশদের হাতে। এর আগে বিভিন্ন জায়গায় নানা ধরনের বিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয় (যেমন- নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়) গড়ে ওঠেছে, কিন্তু সেগুলো আসলে মূল স্রোতের বাইরে। সাধারণভাবে উপমহাদেশের প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতি ছিলো ব্যক্তিনির্ভর, যাকে গৃহশিক্ষকতা পদ্ধতির সবচেয়ে মার্জিত ও কার্যকর পদ্ধতি বলে অভিহিত করা যেতে পারে।

২.
বর্তমান সময়ের প্রাইভেট টিউশনির সাথে শত শত বছর আগের ভারতীয় উপমহাদেশের শিক্ষাপদ্ধতির মিল খোঁজা কেন? কারণ হলো, দুটো পদ্ধতিরই মূল এক-- একজন শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষার্থীকে কোনো কিছুর বিনিময়ে শিক্ষাদান করছেন। তবে সবসময়ই যে এই ‘বিনিময়’-এর একটি দৃশ্যমান রূপ থাকতেই হবে তা কিন্তু নয়; এমনকি এই বিনিময় আর্থিক নাও হতে পারে। পুরনো শিক্ষাপদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকার্যক্রম সম্পন্ন করার পর গুরুদক্ষিণা দিতে হতো- এই গুরুদক্ষিণা অনেক ক্ষেত্রে ছিলো জাগতিক, অনেকক্ষেত্রে অজাগতিক। তাছাড়া জাগতিকতার বাইরে নানা ধরনের অঙ্গীকারও এই গুরুদক্ষিণার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলো। ফলে শিক্ষা সবসময়ই বিনিময়জাত হলেও এই বিনিময় কখনোই ব্যবসা হয়ে উঠে নি। পুরাকালের ব্যক্তিপর্যায়ের শিক্ষাপ্রদান পদ্ধতির সাথে বতর্মান সময়ের প্রাইভেট টিউশনির মূল পার্থক্যটা গড়ে উঠেছে এখানেই। শিক্ষাপ্রদান বা শিক্ষা ছড়িয়ে দেয়া এখন আর ব্রত নয়, নিজের বিশ্বাস বা দর্শন অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া নয়- এটা এখন ব্যবসা। কিংবা জীবিকার মূল উপকরণ। কিংবা আর দশটি বস্তুগত সামগ্রীর মতোই- কিছুটা হয়তো অবস্তুগত পণ্য, যেখানে মূল্যমান নির্ধারণের চেয়েও দাম-ই প্রাধান্য পায় বেশি।

৩.
প্রাইভেট টিউশনির ব্যাপারে আজকাল নানা মহল থেকে বেশ ওজর-আপত্তি আসছে। কিন্তু একটু তলিয়ে দেখা গেলে বুঝা যাবে- প্রাইভেট টিউশনি আদতে খারাপ কিছু নয়। প্রাইভেট টিউশনির নামে যে ব্যবসা-প্রক্রিয়া চলছে সেটা খারাপ। যে কোনো কাজেরই একটি পর্যায় থাকে- সেই পর্যায়টি অতিক্রম করে গেলে সেটি যতো ভালো কাজই হোক না কেন, তা খারাপে রূপ নিতে পারে কিংবা মানুষের কাছে খারাপ হিসেবে প্রতিভাত হতে পারে। প্রাইভেট টিউশনির ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। আমরা যদি বাংলাদেশে আশির দশকের শিক্ষার কথা চিন্তা করি, তাহলে দেখা যাবে তখনও প্রাইভেট টিউশনি বেশ জোরালোভাবেই সমাজে বিদ্যমান ছিলো। সে সময়কালে লজিং মাস্টার নামে একটি প্রথা চালু ছিলো, চালু ছিলো প্রতিবেশি কিংবা পাড়ার শিক্ষক কর্তৃক ‘পড়া দেখিয়ে দেয়ার’ একটি স্বল্প-আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। এ সমস্ত কার্যক্রমে বিনিময়ের একটা পদ্ধতি ছিলো ঠিকই, কিন্তু সেটি মুখ্য হয়ে উঠে নি। আজকে প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ করা বা এর সমালোচনামূলক যে সমস্ত কথাবার্তা হচ্ছে, তার প্রধান কারণ হচ্ছে দিনে দিনে পড়ালেখার বদলে এই বিনিময়টিই মুখ্য হয়ে উঠছে।

৪.
যারা প্রাইভেট টিউশনি বন্ধের পক্ষে অবস্থান নেন, তাদের একটি সাধারণ যুক্তি হচ্ছে- প্রাইভেট টিউশনি ক্ষতিকর। কোন অর্থে ক্ষতিকর? ক্ষতিকর এই অর্থে প্রাইভেট টিউশনিতে প্রচুর অর্থ খরচ হয়, অতিরিক্ত সময় নষ্ট হয়, প্রাইভেট পড়ার ফলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের পড়ালেখার প্রতি আগ্রহী হয় না ইত্যাদি ইত্যাদি। যারা প্রাইভেট টিউশনি বন্ধের বিপক্ষে অবস্থান নেন, তাদের যুক্তি হচ্ছে, বিদ্যালয়ে যথাযথভাবে পড়ালেখা হয় না বলেই শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে হয়। তাদের মতে, কোনো অভিভাবক যদি শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে পড়াতে চান, তাহলে অন্যেরা এ ব্যাপারে নাক গলানোর কে? যার সামর্থ্য আছে, তিনি তো চেষ্টা করবেনই অন্যদের চেয়ে বেশি ভোগ করার। শিক্ষা যেহেতু মোটামুটি পণ্যের কাতারে দাঁড়িয়ে গেছে এবং শিক্ষার পেছনের খরচকে এ সময়ে বিনিয়োগ, অনেকক্ষেত্রে সমাজের শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ, হিসেবে ধরা হয়-- সেখানে যার টাকা আছে তিনি যদি সেই টাকা শিক্ষার পেছনে খরচ করতে চান, তাহলে সমস্যা কোথায়? আপনি যদি ‘ফ্রিডম অব চয়েজ’-এ বিশ্বাস করেন, তাহলে একজন অভিভাবকের অধিকার আছে বিদ্যালয়ের পড়ালেখার বাইরেও শিক্ষার্থীকে আরেকটু ‘বেটার ট্রিটমেন্ট’ দেয়ার। প্রশ্ন ওঠে- তাহলে যাদের টাকা নেই তাদের কী হবে?

সমস্যাটা সেখানেই এবং উত্তরটাও সেখানেই নিহিত। মূল সমস্যা চিহ্নিত না করে প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই, বরং তা আরো নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করবে।

৫.
শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট পড়ে কেন? মোটাদাগে দুটো কারণ এখানে চিহ্নিত করা যায়। প্রথম কারণ হলো- বিদ্যালয়ে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যতোটুকু পড়ালেখা যেভাবে হওয়ার কথা সেভাবে হয় না, কিন্তু পরীক্ষা পাসের সিস্টেমটা অত্যধিক গুরুত্ব পাওয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা বা তাদের অভিভাবকেরা প্রাইভেট পড়ার ওপর জোর দিয়ে থাকে। দ্বিতীয় কারণ হলো- যে সমস্ত অভিভাবক স্বচ্ছল, তারা চান তাদের ছেলেমেয়েরা অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকুক। ফলে এর জন্য প্রয়োজনীয় টাকা খরচ করতে তারা দ্বিধা করেন না। আমার মতে, প্রথম কারণটিই মুখ্য, দ্বিতীয় কারণটি গৌণ। দ্বিতীয় কারণটিকে গৌণ বলার পেছনে যুক্তি হলো, বর্তমান সমাজ বা রাষ্ট্রব্যবস্থাকে পুঁজিবাদী, মুক্তবাজার অর্থনীতি ইত্যাদি যে নামেই চিহ্নিত করা হোক না কেন; এ ধরনের রাষ্ট্র বা সমাজের বিরাজমান বৈষম্য মূল সিস্টেমের পাশাপাশি নানা উপজাতের জন্ম দেয়। প্রাইভেট পড়াটাই যেমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি উপজাত-পদ্ধতি হিসেবেই বেড়ে উঠেছে! এটা বন্ধ করতে হলে পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকেই বদলে ফেলতে হবে, যা আসলে অন্যদের বা অন্যত্র আলোচনার বিষয়।

সেক্ষেত্রে প্রথম কারণটি নিয়েই আলোচনা করা যাক। আমাদের দেশের যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেগুলোর জন্য নানা ধরনের কাজ নির্ধারণ করা রয়েছে কেন্দ্রীয়ভাবে রচিত কারিকুলাম বা শিক্ষাক্রম দ্বারা। এই শিক্ষাক্রম অনুসারে, বিদ্যালয়ের একটি বড় কাজ হচ্ছে নির্ধারিত কারিকুলাম বা শিক্ষাক্রমের অন্তর্ভুক্ত পাঠ্যক্রমের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা। এর জন্য নানা ধরনের শিক্ষোপকরণ রয়েছে, রয়েছে অবকাঠামোগত ব্যবস্থা, শিক্ষক, নানা ধরনের শিক্ষাপদ্ধতি ইত্যাদি। এসব কিছু আয়োজনের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে এই নির্দিষ্টকৃত শিক্ষাক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেন সব শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রবাহিত করা যায়। যে বিদ্যালয় অন্যান্য অনেক কাজ বাদ দিয়ে শুধু এটুকু করতে সক্ষম, বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সেটিকেই ভালো বিদ্যালয় হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে এবং সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থী বা অভিভাবককে এই শিক্ষাক্রম সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে অন্য কোনো উপায় নিয়ে ভাবতে হয় না। গোল বাধে তখনই যখন শিক্ষার্থী কিংবা অভিভাবক লক্ষ্য করেন যে, বিদ্যালয় তার দায়িত্ব সুসম্পন্ন করছে না কিন্তু শিক্ষার্থীকে ঠিকই প্রচলিত পদ্ধতিতে কঠোরভাবে মূল্যায়ন করে যাচ্ছে, যে মূল্যায়নের সাথে আবার শিক্ষার্থীর ‘ক্যারিয়ার’ও সম্পৃক্ত। সেক্ষেত্রে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই ভীত হন এবং বিদ্যালয়ের বাইরের সাহায্য পাওয়ার আশায় ব্যাকুল হয়ে যান। ফলে প্রাইভেটের প্রতি তাদের দ্রুত নির্ভরশীলতা গড়ে ওঠে। যদি কোনো বিদ্যালয় তার শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে শিক্ষাক্রমের আওতাভুক্ত সমস্ত কাজকর্ম বিদ্যালয়েই সম্পন্ন করে দেয়, তাহলে সেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা তার অভিভাবক কি প্রাইভেটের প্রতি আগ্রহী হবেন? উত্তর হলো, না। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেটের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত নেশার মূল কারণ খুঁজতে গেলে প্রথমেই বিদ্যালয়ের দিকে তাকাতে হবে। যদি বিদ্যালয়কে তার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালনে বাধ্য করা হয়, তাহলে বাড়তি কোনোরূপ প্রচেষ্টা ছাড়াই প্রাইভেট টিউশনি পদ্ধতি বন্ধ হয়ে যাবে- এতে কোনো সন্দেহ নেই।

৬.
পড়ালেখার মতো কোনো বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত উপাদান বা কার্যপ্রক্রিয়াকে জোর করে বা আইন করে বন্ধ করা যায় না, করা উচিত নয়। সম্প্রতি নানা মহল থেকে প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ করার একটি প্রচেষ্টা চালানোর কথা শোনা যায়। হয়তো এ সম্পর্কিত আইনও তৈরি হবে যাতে শিক্ষকরা প্রাইভেট টিউশনি না করতে পারেন। এভাবে কি আদৌ প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ করা যাবে? প্রাইভেট টিউশনির মূল কারণগুলো খুঁজে বের না করে এর উপরিকাঠামোর কারণগুলোকে নিয়ে যতোই কার্যক্রম গ্রহণ করা হোক না কেন, নানা ফর্মে প্রাইভেট টিউশনি ঠিকই বহাল থাকবে। শিক্ষকদের যদি প্রাইভেট টিউশনি করতে না দেয়া হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবে একজন ডাক্তার বা আইনজীবি কিসের ভিত্তিতে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করবেন? যে আইন শিক্ষকদের জন্য তৈরি করা হলো, সেই আইন তো একইভাবে কার্যকর হতে পারে অন্যদের জন্যও। সেটি না করে শুধু শিক্ষকদের একতরফাভাবে তাদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস থেকে সরিয়ে রাখলে তা থেকে আদৌ কি কোনো ভালো ফল পাওয়া যাবে? বোধহয় এ বিষয়ে ভাবার দরকার আছে। পেশাজীবিদের একটি ভাগের জন্য এক নিয়ম, আরেকটি ভাগের জন্য আরেক নিয়ম চালু হলে তা নতুন কিছু অসন্তোষের জন্ম দিতে পারে।

৭.
উপরের অংশগুলো পড়ে মনে হতে পারে, আমি বোধহয় প্রাইভেট টিউশনির পক্ষে। মোটেও না। কিন্তু আইন করে বা জোরজবরদস্তি করে প্রাইভেট টিউশনি পদ্ধতি বন্ধ করারও পক্ষে না। প্রাইভেট টিউশনি পদ্ধতি কেন সমাজে এখনো বিদ্যমান, সেই কারণটুকু বের না করে এবং সে অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ না করে অন্য যতো ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হোক না কেন, তা থেকে বিশৃঙ্খলা ছাড়া আর কিছু পাওয়া যাবে না। লেখাপড়ার আনুষ্ঠানিক মাধ্যম হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আর এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই বাদ দিয়ে পুরো সিস্টেম ব্যস্ত টাকা কামানো ও ব্যবসার ধান্ধায়। যতোদিন পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি দূর না করা হবে, ততোদিন হাজার চেষ্টায়ও প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ করা যাবে না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29128913 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29128913 2010-04-04 16:35:27
জুমলা টিউটোরিয়াল: সম্পূর্ণ খুবই অগোছালো ও ছাড়াছাড়াভাবে জুমলা টিউটোরিয়াল দিয়ে যাচ্ছি। অনেকে বলছিলেন টিউটোরিয়ালগুলো একসাথে রাখা গেলে মন্দ হয় না। তাতে খুঁজে-পেতে সুবিধা হয়। তাই এ পর্যন্ত প্রকাশিত টিউটোরিয়ালগুলো একসাথে এই পোস্টে রেখে দিলাম। পরবর্তী পর্বগুলো প্রকাশের সাথে সাথে পোস্টটি আপডেট করা হবে।

জুমলা টিউটোরিয়াল ১: প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ডাউনলোড

জুমলা টিউটোরিয়াল ২: wamp সার্ভার ইনস্টল

জুমলা টিউটোরিয়াল ৩: লোকালহোস্টে wampserver কনফিগারেশন

জুমলা টিউটোরিয়াল ৪: ফ্রি ওয়েব সার্ভারে মাইএসকিউএল কনফিগারেশন

জুমলা টিউটোরিয়াল ৫: জুমলা ইনস্টল

জুমলা টিউটোরিয়াল ৬: configuration.php ফাইল ঠিকঠাক করা

জুমলা টিউটোরিয়াল ৭: জুমলার বিভিন্ন মেন্যু বা অপশন পরিচিতি

জুমলা টিউটোরিয়াল ৮: সাইট মেন্যু

জুমলা টিউটোরিয়াল ৯: মেন্যু ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29084858 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29084858 2010-01-24 17:08:33
যে ডুবে ভেসে উঠি বারবার - ০৩ স্বভাবগত কারণে <img src=" style="border:0;" /> নারী-সম্পর্কিত লেখাগুলো একটু বেশি পড়া হয়। স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভলপমেন্ট, অ্যাকশন অ্যাইড বাংলাদেশ ও পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার থেকে প্রকাশিত বেশ কিছু পুস্তিকা পড়ছিলাম। বিষয়- নারীর ওপর সহিংসতা। কী কী করলে নারীর প্রতি সহিংসতা ধরা হবে, যৌতুকপ্রথা বন্ধ করতে হলে কী কী করা উচিত ইত্যাদি নানা বিষয়ে ভরা পুস্তিকাগুলো।

বেশ অবাক হয়েই লক্ষ্য করলাম- প্রায় প্রতিটা ক্ষেত্রেই পুরুষকে নারীর প্রবল প্রতিপক্ষ হিসেবে ধরা হয়েছে। নারীর বর্তমান দুরবস্থার মূল কারণ পুরুষ কিংবা বলা ভালো পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা- এতে সন্দেহ নেই; কিন্তু যখন সচেতনতামূলক আন্দোলনের পর্যায় আসে, ঘোষিত ‘প্রতিপক্ষ’কে সহায়তাকারীর ভূমিকা নিতে বলা হয়, তখন এ ধরনের মনোভাব কি পুরো আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না? আজকে নারীর পিছিয়ে পড়ার জন্য যদি একমাত্র পুরুষকেই দায়ী করা হয়, এবং সে অনুযায়ী নারী-আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত এনজিওসমূহ কর্মপন্থা ঠিক করে, তাহলে এদেশে নারীমুক্তি (অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে) সুদূরপরাহত বলা যায়। পুরুষ যতোটুকু নারীর প্রতিপক্ষ, নারীও তার চেয়ে নারীর কম প্রবল প্রতিপক্ষ নয়। মূল বিষয় হলো- মানসিকতা। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা যেখানে যেখানে আছে, প্রতিপক্ষ হিসেবে সেগুলোকেই আসলে ধরা উচিত। নারী হলেই যে তিনি নারী-নিপীড়নকারী নন, এ ধারণার বৃত্ত থেকেও বেরিয়ে আসা দরকার। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা অনেক নারীর মধ্যেই প্রবলভাবে বিদ্যমান। আমাদের প্রধান দুই নেত্রী নারী- কিন্তু তারা কি পুরুষতন্ত্রের পৃষ্ঠপোষক নন? লড়াইটা আসলে কার সাথে- সেটা ঠিক করতে না পারলে নিজের শক্তিক্ষয় ছাড়া অন্য কোনো ফলাফল পাওয়া দুষ্কর।

যৌতুক নিয়েও একই কথা। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, সম্পদের ওপর নারী-পুরুষের সমঅধিকার যতোদিন না প্রতিষ্ঠা করা যাবে, ততোদিন যৌতুকপ্রথা থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব নয়- রূপ বদলাবে কেবল। যতোই সমাজ-সচেতনতা বাড়ান বা প্রচারণা চালান, যৌতুকের মূল কারণ নারী-পুরুষের সম্পদের অসম-বণ্টন। এই বণ্টন যতোদিন না হবে যৌতুক ততোদিন থাকবে, নানা ফর্মে, গিফট হিসেবে, পিতামাতা কর্তৃক কন্যাকে গাড়ি উপহার-ফ্ল্যাট উপহার-স্বর্ণ উপহার-জামাই বাবাজিকে মোটর সাইকেল-ফ্রিজ-টিভি-নিদেনপক্ষে হানিমুন করার জন্য টাকা উপহার- নানা ফর্মে যৌতুকপ্রথা থাকবেই। মধ্যবিত্তের শব্দ ও বাক্যজনিত সমস্যা বা সংবেদনশীলতা বেশি, যৌতুক তাই দিন দিন পরিণত হচ্ছে উপহারে। আচ্ছা, পিতামাতার সামর্থ্য থাকলে মেয়েরা কি চান না বিয়ের সময় পিতামাতার কাছ থেকে কিছু না কিছু নিয়ে আসতে? চান না নিজের হাতে কিছু একটা সম্পদ রাখতে? মেয়েরা কি এর উত্তর দেবেন? আচ্ছা, যদি ছেলেদের মতো মেয়েরাও পিতামাতার সম্পদের উত্তরসূরী হন, তাহলে কি মেয়েরা বিয়ের সময় পিতামাতার কাছ থেকে কিছু আনতে চাইবেন?
১২.১২.০৯

২.
অফিস শেষ হয় ৫.১৫-তে। আমি নেমে আসি একটু আগেই- পুঁচকিগুলো আসে তো! ওদের নিয়ে একটু খেলা করি। কেউ কেউ যাবার সময় হ্যান্ডশেক করে, হাত নেড়ে দেয়, কেউ কেউ বললে পাপ্পিও দেয় <img src=" style="border:0;" /> । একজন তো দূর থেকে ফ্লাইং কিসও দেয় মামাকে। কয়েকটা রাজকন্যা বিকেলটাকে ভরিয়ে রাখে প্রতিদিন। অফিস ছুটি আমার কাছে তাই শুধু অফিস থেকে বেরুনোই নয়, গুল্টুপুল্টুদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কাটানোর লোভনীয় অফারও।

এ মাসে বাসা বদল করলাম। আগের রুটের অফিসের গাড়ি ছাড়তো ৫.২৫-এ। বর্তমান রুটের গাড়ি ছাড়ে ৫.১৬-তে। তার মানে আমাকে মোটামুটি আরও আগে থেকেই গাড়িতে উঠে বসে থাকতে হবে- আর ওই সময়টাতে ছোট্ট মামারা মাত্র বেরুনোর প্রস্তুতি নেবে। ওরা যখন বের হবে, আমি হয়তো তখন গুলশান ছাড়িয়ে বাড্ডায় পৌঁছে যাবো।

অর্থাৎ মামাদের সাথে বিকেলে এখন আর দেখা হবে না। কোনোদিন দেখা হলে, সেটা হবে সৌভাগ্য। এখন থেকে কচি দাঁত দিয়ে কামড়ে কামড়ে লালামেশানো অর্ধেকটা বাদাম বিকেলবেলা কেউ মুখে তুলে দিবে না, নিজের ঠোঁটের লিপিস্টিক দিয়ে কেউ মামার গালে টিপ দিয়ে দিবে না, কিংবা সিঁড়ির ওপর থেকে নিচে লাফ দিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বায়না ধরবে না কেউ- আমার মামারা আমাকে মিস করবে কিনা জানি না, কিন্তু প্রতিটা বিকেলে আমার হৃদয়ে একটা ছোট্ট বেদনার ঢেউ উঠবে। এটা ঢাকা শহর না হলে কবেই গুল্লি মারতাম অফিসের গাড়িকে!
০৩.০১.১০

৩.
গতকাল রাতে ছিনতাই হয়ে গেল- দুটো মোবাইল সেট আর কিছু টাকা। রাত তখন মাত্র নয়টা বাজে, বাসাবো প্রধান সড়কের ওপর ছিনতাইটা হলো। রিকশাটা নাটকীয়ভাবে থামিয়ে কয়েকজন মিলে জোর করে (আসলে জোর করতে হয় নি, গলায় ছুরি ধরে চাহিবামাত্র নিজে থেকেই দিয়ে দিয়েছি) এগুলো নিয়ে নিলো। প্রথমদিকে খুব একটা দুঃখ হয় নি- এও তো জীবনের একটা অংশ। রাত যতোটুকু বাড়তে লাগলো ততোই যেন একটা অপমানবোধ কিংবা অসহায়ত্বের বোধ জন্ম নিতে লাগলো- কয়েকটা মানুষ আমাকে অসহায় বানিয়ে আমার জিনিসগুলো নিয়ে গেলো, আর আমি কিছুই করতে পারলাম না! আচ্ছা, আমরা ধনীরা যখন গরীবের সম্পদ নানা কৌশলে লুট করে তাদের অসহায় বানিয়ে নিয়ে যাই, তখন কি গরীবদেরও এই একই অনুভূতি হয়? নাকি তাদেরকে যে অসহায় বানানো হচ্ছে, সেটা তারা বুঝতেই পারে না!
১৩.০১.১০]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29083851 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29083851 2010-01-23 00:00:14
সার্ক হাঁটছে ডেডহর্সের চামড়া গায়ে: শিক্ষাসম্মেলনের পর অনুভূতি
ব্যাপারটা হয়তো দোষের কিছু নয় এবং কোন দেশ কাকে পাঠাবে সেটা ওই দেশের নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু এটা যদি সার্কের মন্ত্রীপর্যায়ের সম্মেলেনের মতো ঘটনায় ঘটে, তাহলে বোধহয় মেনে নেয়া যায় না।

সম্প্রতি বাংলাদেশে সার্কভুক্ত দেশগুলোর শিক্ষামন্ত্রীদের দ্বিতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম সম্মেলনে যা যা ঘোষণা দেয়া হয়েছিল সেগুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষাকে নতুন করে দেখা এই সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল। এতে ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশের শিক্ষামন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন না, কোনো কোনো দেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব দিয়ে কাজ সেরেছে। কোনো কোনো দেশ তো আরও সরেস- বাংলাদেশের তাদের নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকেই সম্মেলনে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য পাঠিয়ে দিয়েছে। খরচ কমল। একমাত্র মালদ্বীপ থেকে শিক্ষামন্ত্রী এসেছেন (তাও নাকি সাফ ফুটবলের ফাইনাল দেখা মূল উপলক্ষ) এবং নেপালের শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন।

তার মানে দেখা যাচ্ছে, শুধু ভারত নয়, অন্য দেশগুলোও আস্তে আস্তে সার্ককে অগ্রাধিকারের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীদের সম্মেলনে মন্ত্রী ছাড়া অন্য কাউকে যে পাঠানো উচিত না- সেটা স্বীকার করে নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সম্মেলন থেকে যে সমস্ত কারণ দেখানো হয়েছে, সেগুলো হাস্যকর ছাড়া আর কিছু না। যে কথাটা সরাসরি বলা অস্বস্তিকর, অর্থাৎ সার্কের সম্মেলনে আসাটা যে সময় আর টাকা খরচ করা ছাড়া আর কিছু না, সেটা আকারে-ইঙ্গিতে পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিয়ে গেল সবাই।

২.
গত সম্মেলনে সার্কভুক্ত দেশগুলো জিডিপির অন্তত চার শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের অঙ্গীকার করেছিল। হিসেব শেষে দেখা যায়, ভুটান ও মালদ্বীপ সাত শতাংশ, নেপাল চার শতাংশ, ভারত প্রায় চার শতাংশ, শ্রীলংকা তিন ও বাংলাদেশ মাত্র দুই শতাংশ বরাদ্দ দিচ্ছে। ভারত, নেপাল ও শ্রীলংকা তিনটি দেশই আগামী কয়েকবছরের মধ্যে এই বরাদ্দ সাত শতাংশের উপরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে বছর দুয়েক আগেই এবং প্রতি বছর একটু একটু করে বাড়ানোর মাধ্যমে সেটা তারা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এ বছর সম্মেলন থেকে অঙ্গীকার করা হয়েছে জিডিপিতে ছয় শতাংশ বরাদ্দ দেয়ার। অধিকাংশ দেশ ছয়ের কোটা যেখানে ইতোমধ্যে পেরুতে যাচ্ছে, সেখানে আবার ছয় শতাংশের অঙ্গীকার কেন? কারণটা বাংলাদেশ। শিক্ষাখাতে জিডিপির বরাদ্দের পরিমাণ দুই থেকে ছয়ে বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা বাংলাদেশের নেতৃত্বের নেই। বাংলাদেশ ছাড়া বাকি দেশগুলো সার্কের সিদ্ধান্ত ছাড়াই আগে থেকেই যে সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে আছে, সেটির জন্য বাংলাদেশ সার্কের আশায় বসে ছিল। শিক্ষামন্ত্রী যতো চিল্লাচিল্লি করুন না কেন, আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিত থেকে চাপ না আসলে বাংলাদেশ কখনোই এ বরাদ্দ বাড়াবে না- অন্তত নিকট অতীতে এরকম উদাহরণ দেখা যায় নি। সে হিসেবে এই সম্মেলনকে বাংলাদেশ ব্যবহার করেছে জিডিপি বরাদ্দ বাড়ানোর একটি অজুহাত হিসেবে। বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশের সার্কের ওপর এরকম নির্ভরশীলতা কি দেখা গেছে অতীতে?

৩.
একটা আঞ্চলিক পর্যায়ের সম্মেলনে কী নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত? বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে নাকি দেশীর পরিমণ্ডল নিয়ে? সম্মেলনের প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী যে ভাষণ দিলেন, তাতে বাংলাদেশের শিক্ষার অবস্থা ও কিছু প্রতিশ্রুতি ছাড়া আর কিছু উঠে আসে নি। সম্মেলনে যে আলোচনা হলো বা সিদ্ধান্ত হলো, সেগুলো মূলত এমডিজি, ডাকার বা জমতিয়েন কনফারেন্সের বুলিগুলো ছাড়া আর কিছুই নয়। একটি নির্দিষ্ট দেশের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা বা উপর্যুক্ত কনফারেন্সগুলোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার জন্য তো সার্কের জন্ম হয় নি। আঞ্চলিক পর্যায়ের সম্মেলনে যদি এ অঞ্চলের নানা সমস্যা ও সমাধানের উপায়গুলো উঠে না আসে, চিন্তাচেতনায় অঞ্চল যদি মুখ্য না হয় তাহলে এ ধরনের সম্মেলন করে লাভ কী?

৪.
সার্ককে পাশ কাটিয়ে সব দেশ নিজের মতো করে সার্ক স্ট্যান্ডার্ডের উপরে উঠার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। সার্ক এখন তাদের কাছে ফ্যাশন ছাড়া আর কিছুই না। একমাত্র বাংলাদেশই বোধহয় সার্ক নামক ডেডহর্সটাকে যত্ন করে গোসল করায়, নিয়মিত।

(ডিসক্লেইমার: সম্মেলনের নানা অবস্থা দেখে মাথা গরম। রাগের বশে লেখা এটা। কোনো পদেরই হয় নাই। কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29062887 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29062887 2009-12-21 11:57:19
সমাপনী পরীক্ষা: কিছু প্রশ্ন ও প্রস্তাব
সমাপনী পরীক্ষা গ্রহণের পক্ষে যেসব যুক্তি দেখানো হচ্ছে সেগুলো খুবই খাঁটি। প্রথমত, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান কীরূপ, তা বোঝার জন্য এডুকেশন ওয়াচের দু-একটি গবেষণা ছাড়া আর কোনো স্বীকৃত পরীক্ষা ও মানদণ্ড নেই। এর আগে বৃত্তি পরীক্ষা থাকলেও সেখানে মাত্র ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারতো। এই পরীক্ষা সে অভাব ঘুচাতে পারবে। দ্বিতীয়ত, বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলের সাথে যেহেতু বিদ্যালয়ের ভৌত সুবিধা ও সম্মান জড়িত, তাই চতুর্থ শ্রেণী বা পঞ্চম শ্রেণীর শুরু থেকেই শিক্ষকরা বাছাইকৃত শিক্ষার্থীদের প্রতি আলাদা মনোযোগ দিতেন। এতে অন্য শিক্ষার্থীদের সাথে যে বৈষম্য সৃষ্টি হতো, তা কোনো কোনোক্ষেত্রে প্রবলতর রূপ ধারণ করতো বলে জানা গেছে। কোথাও কোথাও সব শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্টকৃত কার্যক্রমকে বাদ দিয়ে বৃত্তি কোচিংকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হতো। এতে দেখা যায়, যারা ভালো শিক্ষার্থী, তাদেরকে সযত্নে বিকশিত করে তোলা হলেও দুর্বলরা অবহেলিত থাকছে-- যদিও হওয়ার কথা ছিলো উল্টোটা। তাছাড়া যারা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, তাদেরকে বিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও বৃত্তি পরীক্ষা দুটোতেই অংশ নিতে হতো যা তাদের জন্য ছিলো একটা বাড়তি চাপ। এরকম নানা যুক্তি শোনা গেছে সমাপনী পরীক্ষার পক্ষে।

বিপক্ষে থাকা যুক্তিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জোরালোভাবে যেটি এসেছে তার সঙ্গে শিশুর বয়স ও সামর্থ্যের বিষয়টি জড়িত। অনেকেই মনে করেন, এ বয়সের শিশুদের পাবলিক পরীক্ষা নেয়া উচিত নয়। শিশুর বয়স ও বিকাশ, মানসিক গঠন, এক জায়গায় বসে থাকার ধৈর্য্য বা স্থিরতা এগুলোর শিশুর পক্ষে যায় না। আবার এই পরীক্ষা সনদসর্বস্ব একটি পরীক্ষা হয়ে যায় কিনা, তা নিয়েও সন্দেহ আছে অনেকের। এই পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে কী হবে অর্থাৎ এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল ভর্তি, চাকুরি কিংবা অন্যান্য ক্ষেত্রে কাজে লাগে-- এই পরীক্ষার সনদ সেরকম কোনো কাজে লাগবে কিনা সে বিষয়েও কথাবার্তা হচ্ছে। তার মানে পরীক্ষার সার্বিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনেকে এখনও অবগত নন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চয়ই ভেবেচিন্তে পঞ্চম শ্রেণীর পর পাবলিক পরীক্ষার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত তিন-চার বছরে দেশের নানা জায়গায় এ নিয়ে পাইলটিংও করা হয়েছে। গত বছর সফলভাবে প্রায় ২৫% শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়ে মন্ত্রণালয় সারা দেশে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো যা হয়, এখানেও সমাপনী পরীক্ষার ঘোষণাটা এসেছে হুট করে-- এ বছরের আগস্ট মাসে। যেকোনো বিষয়ে তাড়াহুড়া করা, হুট করে সিদ্ধান্ত নেয়া বা সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা না বলে, নিদেনপক্ষে না জানিয়ে উপর থেকে চাপিয়ে দেয়ার যে সংস্কৃতি বিদ্যমান, এই পরীক্ষার ক্ষেত্রেও তা দেখা গেলো ভালোভাবেই। মন্ত্রণালয় যদি পরীক্ষাগ্রহণ করবেই, তাহলে উচিত ছিলো এ বছরের শুরুতে তা জানিয়ে দেয়া। সেটি করা সম্ভব না হলে এর জন্য আরও এক বছর অপেক্ষা করাই সমীচিন ছিলো। এর মধ্যে মন্ত্রণালয় সবাইকে বিষয়টি সম্পর্কে ভালোভাবে জানাতে পারতো, মতবিনিময় করতে পারতো, জনগণকে সরাসরি এর সাথে সম্পৃক্ত করে বিষয়টিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে পারতো। এই কথাগুলো বলার সময় অনেক আগেই পার হয়ে এসেছে, কেউ কেউ বলেছেনও ইতোমধ্যে; কিন্তু আবার বলতে হলো এ কারণে যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় যেনো স্থৈর্য্যের পরিচয় দেয়। পদ্ধতি শুধু ভালো হলেই হয় না, সেটা যে ভালো, তা সবাইকে উপলব্ধি করানোরও প্রয়োজন থাকে। কিছুটা আশঙ্কা কিংবা উদ্বিগ্নতা থাকলে জনগণ শেষ পর্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়েই এর সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে। সবসময় কিন্তু এমনটা নাও হতে পারে, যেটা কিছুদিন আগেই সৃজনশীল পদ্ধতি চালুর সময় দেখা গেছে। তাছাড়া বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে ধাপে ধাপে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বাড়াতে চায়। সেটা হলে এই সমাপনী পরীক্ষার ভবিষ্যৎ কী হবে? তখন কি পঞ্চম শ্রেণীর বদলে অষ্টম শ্রেণীতে সমাপনী পরীক্ষা হবে? তাই সবমিলিয়ে একটু ধীরস্থিরে বিষয়টি চালু করলে বোধহয় ভালো হতো।

যা হোক, এবারের সমাপনী পরীক্ষায় প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এই সংখ্যা দ্বারা প্রতি বছর প্রাথমিক স্তরে শেষ করে কতো শিক্ষার্থী তার একটি ধারণা পাওয়া যায়। এডুকেশন ওয়াচের গবেষণা থেকে দেখা যায়, যতোজন শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয়, তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত উঠতে পারে তার ৭৭.৬%, পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত উঠতে পারে ৫৮.৪% এবং পঞ্চম শ্রেণী শেষ করতে পারে এর মাত্র ৫০.১% শিক্ষার্থী, বাকি অর্ধেক নানা স্তরে ঝরে যায়। তার মানে আরও প্রায় বিশ লাখ অর্থাৎ মোট চল্লিশ লাখ শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিলো। বাকি শিক্ষার্থীদের কী হলো? তারা কেন সমাপনী পরীক্ষা পর্যন্ত আসতে পারলো না? আগামী বছরগুলো থেকে সমাপনী পরীক্ষাকে সার্বিক অর্থেই সফল করতে হলে এ প্রশ্নগুলোর উত্তর বের করা দরকার। তাছাড়া প্রথম দিনের পরীক্ষায় প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে উপস্থিত হয় নি কেন? সে প্রশ্নের উত্তরও জানা দরকার। বাংলাদেশের অনেক জায়গা আছে, বিশেষত হাওর, চর ও পাহাড়ি এলাকা যেখান থেকে শিক্ষার্থীদের একই উপজেলার সংশ্লিষ্ট সেন্টারে যেতে ভৌগলিক ও অন্যান্য কারণে খুব ঝামেলা পোহাতে হতে পারে। কিংবা নিজ গ্রাম থেকে শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার জন্য উপজেলা সদরে পাঠানো, তিন দিন রাখা, খাওয়ানো ইত্যাদি খরচের সামর্থ্য অনেক অভিভাবকের নেই। সমাপনী পরীক্ষার প্রথম আয়োজনের আগে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চয়ই এগুলো নিয়ে ভেবেছেন। তারপরও দেড় লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করার অর্থ কিন্তু একপ্রকার ঝরে পড়া। এসব প্রশ্নের ফয়সালা ছাড়া সমাপনী পরীক্ষাকে কোনোভাবেই কার্যকর করা যাবে না।

এবারের সমাপনী পরীক্ষায় ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের অংশগ্রহণ বেশি দেখে অনেকে খুশি হয়েছেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো জানাতে পারবে দেশে এই বয়সী জনসংখ্যায় ছেলের চেয়ে মেয়ের সংখ্যা বেশি কিনা। যদি বেশি হয়, তাহলে এটা আদৌ খবর নয় বা বলা ভালো-- এটাই স্বাভাবিক। আর যদি না হয়, তাহলেও খুশি হওয়ার কিছু নেই। কারণ এ দ্বারা বুঝা যায়, যেকোনোভাবেই হোক মেয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আনা ও তাদের প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার দিক দিয়ে বাংলাদেশ সফলতা অর্জন করেছে। কিন্তু সেক্ষেত্রে ছেলেদের পরিপ্রেক্ষিতে সফলতা কম। উপবৃত্তিসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে মেয়েদের শিক্ষার প্রতি মনোযোগ দিতে গিয়ে ছেলেরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে কিনা সেটা দেখা দরকার। নাকি এ বয়সী ছেলেশিশুরা পড়ালেখার বদলে কাজে ঢুকে পড়ছে, তাও জানা দরকার। সেটা হলে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। এ কাজগুলো যে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোও করতে পারে। সমাপনী পরীক্ষার উদ্দেশ্য সফল করতে হলে এগুলোর নিষ্পত্তি ছাড়া এগুনো যাবে না।

আলাদা কোনো বৃত্তি পরীক্ষা না নিয়ে সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে বৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তটি খুবই ভালো। শুধু বৃত্তির জন্য বিদ্যালয়ে যে বৈষম্যের পরিবেশ সৃষ্টি হতো, এতে সেটি কমবে বলে আশা করা যায়। শিক্ষকদের এখন শুধু মেধাবী শিক্ষার্থীদের নজর দিলে চলবে না, সবাইকে সমানভাবে গড়ে তুলতে হবে। তারপরও কিছুটা যে হবে না, তা না। এ পরীক্ষায় ফলাফলে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বিভাগ থাকছে। প্রথম বিভাগ পাওয়ার সম্ভাবনা যাদের আছে, তাদেরকে আলাদা যত্ন নেয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তবে এই পর্যায়ে এই ধরনের বিভাগ না করলেই ভালো হতো। নম্বরের ওপর ভিত্তি করে একদলকে বৃত্তি দেওয়া হবে, একটি দল শুধু পাশ করবে, আরেকটি দল ফেল করবে-- এরকমটা করাই বোধহয় সমীচীন ছিলো। না হলে প্রথম থেকেই গ্রেড পয়েন্ট চালু করার দরকার ছিলো। আর যারা ফেল করবে, তাদেরকে নিয়ে কী চিন্তা? বিভাগভিত্তিক ফলাফল প্রাথমিক স্তর থেকেই বৈষম্য বাড়াতে থাকে কিনা, তা এখন দেখার বিষয়।

তবে কেন্দ্র থেকে পরীক্ষার প্রশ্ন সরবরাহের সিদ্ধান্তটি আখেরে ভালো হয় নি। সমাপনী পরীক্ষা নিয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম যখন শুরু হয়, তখন সংশ্লিষ্ট জেলার শিক্ষা অফিসগুলো আলাদাভাবে এ কাজটা করতো। এতে শিক্ষা কর্মকর্তা, বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ অনেকেই জড়িত থাকতেন। এর খারাপ ফলাফল তো দেখা যায় নি! শিক্ষাকে যেখানে দিন দিন বিকেন্দ্রীকরণের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে এই সিদ্ধান্ত উল্টোদৌড়ের শামিল। মূল্যায়নের বিষয়টি নিয়েও আরেকটু চিন্তাভাবনা করা উচিত। মূল্যায়ন পুরোটাই পরীক্ষাকেন্দ্রিক না করে শিক্ষার্থীরা গত পাঁচ বছরে পড়ালেখা ছাড়াও নানা ধরনের যে কর্মকাণ্ড করেছে বা নানাক্ষেত্রে তাদের পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, সেগুলোকেও মূল্যায়নের আওতায় আনা দরকার। প্রয়োজনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-অভিভাবক-ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যদের দিয়ে বিদ্যালয়ে একটি কমিটি করা যেতে পারে যারা প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের সার্বিক কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করে নম্বর দিবে যা পরবর্তী সময়ে সমাপনী পরীক্ষার নম্বরের সাথে সমন্বয় করা যাবে। সমাপনী পরীক্ষার মোট নম্বরের ২০ শতাংশ এ বাবদ বরাদ্দ রাখলে শিক্ষার্থীর অন্য গুণগুলো যেমন মূল্যায়িত হয়, তেমনি পরীক্ষার দিন নানা কারণে যারা ভালো করতে পারে না, তারাও উপকৃত হয়। এটা নিয়ে আরও ভাবা দরকার, কারণ এ কাজের জন্যও আমাদের বিদ্যালয়গুলোকে তৈরি করতে হবে। তবে সমাপনী পরীক্ষা উপলক্ষে চালু করলে নিশ্চয়ই এর একটি ম্যাকানিজম তৈরি করা সম্ভব যাতে নম্বর-দুর্নীতিজাতীয় ঘটনা ঘটতে না পারে।

যেহেতু এই পরীক্ষাটি চালু হয়েই গেছে, সেহেতু পরীক্ষা পদ্ধতিকে সুচারূ করা ও এর ফলাফলকে কার্যকর করার জন্য উপর্যুক্ত বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করা ও সে অনুযায়ী সমাধান খোঁজা জরুরি এখন থেকেই। প্রথম কয়েকবার হয়তো নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অভিজ্ঞতা ও গবেষণার দ্বারা সেগুলোর সমাধান করতে হবে। পাশাপাশি সমাপনী পরীক্ষার উসিলা ধরে আরও বেশ কিছু কাজ এগিয়ে নিতে হবে। যেমন, একটি উপজেলায় সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে। বছরপ্রতি কেন্দ্রগুলো যেন পরিবর্তিত হয়। এ ব্যাপারে স্থানীয় পর্যায়ে আগেথেকেই সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে। এতে যেসব বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত ভৌত অবকাঠামো নেই, সেসব বিদ্যালয়ে সমাপনী পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপনকে কেন্দ্র করে ভৌত অবকাঠামো সুবিধা সহজেই বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। এই কাজটি অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তাছাড়া শিশুরা নিজেদের বিদ্যালয়ের পরিবেশের বাইরে গিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিবে। এই বয়সী শিশুদের কাছে এটি একটি সাংঘাতিক ঘটনা। সমাপনী পরীক্ষার পরপরই পরীক্ষার বাইরেও শিক্ষাসফর কিংবা শিশুদের দিয়ে বিভিন্ন সহপাঠক্রমিক কর্মকা- করানোসহ অনেককিছুই করা যেতে পারে। একদল ভবিষ্যৎ নাগরিককে এক জায়গায় জড়ো করে তাদের মধ্যে শুভবোধ জাগিয়ে তোলার মতো কিছু প্রয়াস গ্রহণ করাটা একটা দারুণ কাজ হতে পারে। পড়ালেখার বাইরের দুনিয়া সম্পর্কে বোধ জাগানোর জন্যও সমাপনী পরীক্ষাকে একটা উসিলা হিসেবে দেখা যেতে পারে। একটা পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ঘিরে নানা কর্মকাণ্ড শুরু হতে পারে-- সমাপনী পরীক্ষাকে এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বোধহয় এ থেকে সর্বাধিক উপকার পাওয়া সম্ভব।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29060450 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29060450 2009-12-17 11:46:00
মুক্তি, স্বপ্ন, জাদুবাস্তবতা ও হেমাঙ্গ বিশ্বাস
মানুষের জন্মের সময় মস্তিষ্কে সাম্য-অসাম্যের কোনো উপাদান থাকে কিনা জানি না, তবে শৈশবকালে অসাম্যের দিকগুলো খুব একটা ধরা দেয় না। আস্তে আস্তে বড় হওয়ার সাথে সাথে মানুষ প্রবলভাবে আবিষ্কার করে এই দুনিয়া কতোই না অসাম্যে ভরা! তখন সে বিস্মিত হয়, চিন্তিত হয়, ক্রোধান্বিত হয়, বিক্ষুব্ধ হয়। এই নানা ধরনের ‘হওয়া’র পাশাপাশি মস্তিষ্কের ধূসর পদার্থগুলোতে জন্ম নিতে থাকে আরও দুটি উপাদান— আশা ও স্বপ্ন। বিশেষ করে অসাম্যের পাইপলাইনে যাদের নিত্য-বসবাস, তাদের একটি বিরাট অংশের পুঁজিই থাকে মাত্র দুটো জিনিস— স্বপ্ন আর আশা।

পূর্বসূরিদের স্বপ্নের ধারাবাহিকতা ভর করে উত্তরপুরুষদের মাঝে। কৈশোরকালের কথা মনে পড়ে— আস্তে আস্তে তরুণ বয়সের দিকে এগিয়ে চলেছি— টুকটাক দু’একটা প্রশ্ন মাথার মধ্যে কুটকুট করা শুরু করেছে। পাশের বাড়ির ওরা এতো কিছু খায়, আমি কেন একটা বড় ইলিশের টুকরা পাই না?

তরুণ বয়সে নিজের খাওয়াটা গৌণ হতে থাকে। বাস্তবতার জগতে যখনই মাত্র ঘুম থেকে উঠা— তখনই দেখি অসাম্য শুধু খাওয়াতে সীমাবদ্ধ নেই! আস্তে আস্তে আবিষ্কৃত হতে লাগলো— পুরো পৃথিবীটাই নানান জাতের অসাম্যে ভরা। ‘ছোটদের অর্থনীতি’ কিংবা ‘ছোটদের রাজনীতি’ এসময় হাতে ধরিয়ে দিলেন কিছু বড়-তরুণ। ছোট ছোট ধাপগুলো পেরিয়ে মার্কস, এঙ্গেলস, লেনিন, মাও, চে কিংবা ক্যাস্ত্রোদের জগত থেকে আবিষ্কৃত হতে থাকলো কার্য ও কারণের অবিচ্ছিন্ন সূত্রগুলো।

এরই মধ্যে উদীচীর এক অনুষ্ঠানের কিছু গান জানিয়ে দিলো হেমাঙ্গ বিশ্বাস নামের আরেক তরুণতর এই অসাম্যের বিষয়গুলো নিয়েই গান করেন— খেটেখাওয়া মানুষ যার বলিষ্ঠ কণ্ঠের যোগানদাতা। প্রবল উৎসাহে নিউ মার্কেট থেকে কিনে আনি তাঁর গাওয়া গানের ক্যাসেট। ধার করা ওয়াকম্যানে দিনের পর দিন শুনতে থাকি সুরেলা কথায় অসাম্যের নানা কাহিনী, কথা, চিন্তা, বাস্তবতা কিংবা (হয়তো) জাদুবাস্তবতার কথা। মিছিলের প্রতিটি স্লোগানের মতোই হেমাঙ্গ বিশ্বাসের গানের সুর মগজে মাদকতা ছড়ায়, বিটগুলো ছন্দোবদ্ধ লয়ে অনুরণিত হতে থাকে— হতেই থাকে।

একটা সময় পর দূরত্ব বাড়তে থাকে— মিছিলের ময়দান ক্রমশই দূরবর্তী তেপান্তরের মাঠ হয়ে যায়। প্রোফাইলে লেখা আছে আমার— সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী, অপছন্দ সমাজের তান্ত্রিকদের। তান্ত্রিকদের ওই অবোধ্য নানা মন্ত্র আস্তে আস্তে দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিতে থাকে। তর্ক-বিতর্কের ময়দানে একসময় দেখি চেষ্টা চলে আবেগ দ্বারা বশীভূত করার, ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইলের। অনেককিছু মেলে না, আর অনেককিছু মিলাই না। আপন নিজেকে রেখে পর নিজেকে নিয়ে সরে আসি সেখান থেকে।

...কিন্তু হেমাঙ্গ বিশ্বাস কখনোই আমাকে ছাড়েন না। আমিও ছাড়ি না হেমাঙ্গ বিশ্বাসকে। দু’বন্ধুর এই জগতে আজও কোনো গভীর রাতে মোবাইলের মিউজিক প্লেয়ার কানে কানে বলে যায়— গাও ইন্টারন্যাশনাল, মিলাও এ মানবজাত!

সত্যিই কি মানবজাত মিলবে! মধ্যবিত্তীয় দোদুল্যমানতায় হেমাঙ্গ আবারও দৃঢ়তর হন— আমরা করবো জয়, নিশ্চয়ই!

এই অফুরান আত্মবিশ্বাসের উৎস কী? ধন্ধে পড়ে যাই, ভাবতে থাকি। ছোট্ট মাথায় সারা বিশ্বের ভাবনা আসে না। এই বাংলাদেশের কথাটুকুই শুধু ভাবি— হেমাঙ্গ বিশ্বাস নানাভাবে নানাসুরে ভাবনা খোরাক দিয়ে যান, ভাবনা দূর করে যান। আর যাওয়ার সময় বলে যান রবসনের কথা। নিগ্রো ভাই আমার পল রোবসন!

আমাদের আশেপাশে কতো রোবসন! কখনো ওদের দিকে তাকাই, কখনো উপেক্ষা করি, অবহেলা করি। ওদের শক্তি কিংবা উদ্যমতা হয়তো এই ছোট্ট মস্তিষ্ক কখনোই ধারণ করতে পারবে না— কিন্তু মুক্তির দিকে তাকানোর স্বপ্নটাকে মাঝে মাঝে নাড়িয়ে দেওয়া এই রোবসন-হেমাঙ্গদের হঠাৎ করেই কুর্নিশ করতে ইচ্ছে করলো!

(এই লেখার সাথে ইন্টারন্যাশনাল, আমরা করবো জয় আর রোবসন গান তিনটি জুড়ে দিয়েছিলাম- ইস্নিপসের লিঙ্ক হিসেবে। কিন্তু কাজ করছে না। গানগুলো হয়তো অনেকের ভালো লাগতো।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29059153 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29059153 2009-12-15 12:26:12
উবুন্টু আপগ্রেডে সমস্যা
কমান্ড লাইনেও একই সমস্যা। দেখুন কী আসে--

goutam@Goutam:~$ do-release-upgrade
Checking for a new ubuntu release
Done Upgrade tool signature
Done Upgrade tool 19s 4s
Done downloading
extracting 'karmic.tar.gz'
authenticate 'karmic.tar.gz' against 'karmic.tar.gz.gpg'

Reading cache

Checking package manager
Reading package lists: Done
Reading state information: Done
Reading state information: Done
Reading state information: Done
Done downloading
Reading package lists: Done
Reading state information: Done
Reading state information: Done
Reading state information: Done

Updating repository information

Third party sources disabled

Some third party entries in your sources.list were disabled. You can
re-enable them after the upgrade with the 'software-properties' tool
or your package manager.

Done downloading

Checking package manager
Reading package lists: Donearmic-updates/universe Packages: 95
Reading state information: Done
Reading state information: Done
Reading state information: Done

Calculating the changes

Support for some applications ended

Canonical Ltd. no longer provides support for the following software
packages. You can still get support from the community.

If you have not enabled community maintained software (universe),
these packages will be suggested for removal at the end of the
upgrade.

Demoted:
acl, binutils-static, bluez-gnome, contact-lookup-applet, cpp-4.3,
cupsddk, epiphany-browser, epiphany-browser-data,
epiphany-browser-dbg, epiphany-extensions, epiphany-gecko, g++-4.3,
gcc-4.3, gcc-4.3-base, gfortran-4.3, gnome-mount,
gnome-user-guide-en, gstreamer0.10-gnomevfs, human-icon-theme, klogd,
libglew1.5, libgnome-speech7, libgnomevfs2-bin, libmono-data2.0-cil,
libmysqlclient15off, libpolkit-gnome0, libsmbios2,
libstdc++6-4.3-dev, nvidia-180-modaliases, phonon,
phonon-backend-gstreamer, policykit-gnome, python-gdata,
python-launchpad-bugs, python-usb, qt4-qtconfig, rss-glx, scim-m17n,
sysklogd, tangerine-icon-theme, ttf-kochi-gothic,
ttf-sazanami-gothic, ubuntu-gdm-themes, w3c-dtd-xhtml

Calculating the changes

Do you want to start the upgrade?

26 packages are going to be removed. 236 new packages are going to be
installed. 1181 packages are going to be upgraded.

You have to download a total of 34.2k. This download will take about
1 second with a 1Mbit DSL connection and about 4 seconds with a 56k
modem.

Fetching and installing the upgrade can take several hours. Once the
download has finished, the process cannot be cancelled.

Continue [yN] Details [d]y

Fetching
Done downloading
Done downloading
Done downloading

Could not download the upgrades

The upgrade is now aborted. Please check your Internet connection or
installation media and try again. All files downloaded so far are
kept.

Failed to fetch
http://archive.ubuntu.com/ubuntu/pool/m … 1_i386.deb
403 Forbidden

Restoring original system state

Aborting
Reading package lists: Doneunty/main Packages: 95 ackages: 94
Reading state information: Done
Reading state information: Done
Reading state information: Done

অথচ বর্তমান আপডেটগুলো ঠিকই হচ্ছে, অন্য সবকিছু ডাউনলোড হচ্ছে, ব্রাউজিঙ করা যাচ্ছে ইজিলি। চিন্তিত। কেউ কি এ ব্যাপারে হেল্প করতে পারবেন?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29049925 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29049925 2009-11-26 12:03:18
যে ডুবে ভেসে উঠি বারবার - ০২ ০১.১১.০৯

২.
কুমিল্লায় কুকুর-সংখ্যা বেশি। বাংলাদেশের যতো হাইওয়ে আছে, তার প্রত্যেকটিতে অন্তত একবার করে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু কুমিল্লায় রাস্তায় যে পরিমাণ কুকুর দেখা যায়, অন্য কোনো রাস্তায় শতভাগের এক ভাগও মেলে না। সমস্যা সেটা না— রাস্তার কুকুর তো রাস্তায়ই থাকে! কতো মানুষই তো রাস্তায় থাকে! অনেক কুকুরের পাকা মেঝেতে শোয়ার বন্দোবস্ত থাকলেও প্রচুর মানুষ আছে যারা কখনোই একটা পাকা বাড়ি চোখেও দেখে নি। যেটা বলছিলাম- কুমিল্লার কুকুরের কথা মনে হলো এই দিনাজপুরে এসে। বাঁশেরহাটের ঠিক আগে আগে রাস্তায় একটাকে মরে পড়ে থাকতে দেখলাম। উত্তরবঙ্গে গত দুদিনে এই প্রথম মৃত কুকুর দেখলাম। অথচ কাঁচপুর ব্রিজ পার হয়ে মোটামুটি ফেনী পর্যন্ত যে রাস্তাটা, এই ১২০ কিলোমিটারের মধ্যে সেখানে অন্তত ১০-১৫টি মরা কুকুর পড়ে থাকতে দেখা যাবে। এই আমার গাড়িই তো সেদিন একটা কুকুর মেরেছে!

এর কারণ কী? ধূর, মানুষ নিয়েই চিন্তায় বাঁচি না— এ সামান্য কুকুর! কুত্তা! কুত্তা মরলে আমার কী? আমার কিছু না। কিন্তু থ্যাঁতলানো, রক্ত-মগজ বের করা, দলা মাংসপিণ্ড দেখলে গা গুলায়! ভাত খাবার সময় মনে হলে পাকস্থলীর পিস্টন ভাতগুলোকে সহজে নামতে দেয় না! না হলে কুত্তা মরলে আমার কী? কুকুররা মানুষনির্মিত সভ্যতার সাথে এখনও একাত্ম হতে পারে নি— মরবেই; ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলার শিক্ষা ওদের দেওয়া হয় নি- তাই মরে পরে থাকে। কুত্তার বাচ্চা তো, একটাকে মরতে দেখেও শিক্ষা হয় না! আবার সে নিজেও রাস্তায় দুদিন পরে এভাবেই মরে পড়ে থাকে। খেতে পায় কিনা কে জানে! মানুষের কাছ থেকে কি প্রতিবাদের ভাষা শিখে এসেছে— রাস্তা না যাওয়া পর্যন্ত দাবি আদায় হবে না? খাওয়া না পাওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়া যাবে না? কে জানে? হতেও পারে। দুনিয়াতে কিছুই অসম্ভব না! আর রাস্তায় নামলে কুত্তার মরণ এদেশে অস্বাভাবিক কিছু না।

আচ্ছা, এমন কি হতে পারে ‘কোন এক বিপন্ন বিস্ময়ের’ ঠেলায় কুকুরগুলো রাস্তায় দামি লেক্সাস-আরএমটু-ভলভো-স্ক্যানিয়ার নিচে মরে সুখ পেতে আসে?
০২.১১.০৯

৩.
যতো বঙ্গ আছে, তার মধ্যে উত্তরবঙ্গের মানুষ রাস্তা পার হতে সবচেয়ে বেশি কেয়ারলেস। কথা নেই, বার্তা নেই— হুট করে দৌড় মারে! একটু আগে এক মুরুব্বি রাস্তা পার হলেন— মোটামুটি ঘাড় ঘুরিয়ে দুদিকে দেখে যে পার হতে হয়- সেই নিয়ম পুরোপুরি অগ্রাহ্য করে। এদিকে আমার গাড়ি, ওদিকে হানিফ পরিবহনের গাড়ি- দুটোই কড়া ব্রেক কষলো। ক্যাঁচ ক্যাঁচ শব্দে গোটা তাবাড়িয়া বাজারে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণে সমর্থ হলেন মুরুব্বি- অথচ কোনো বিকার নেই! গাড়ির কাচ নামিয়ে শুনলাম অভিধানে না থাকা বেশ কয়েকটি শব্দ নিবেদন করছেন আমাদের উদ্দেশ্যে। বিমলানন্দ পেলাম<img src=" style="border:0;" />। আচ্ছা, একটা গালিয়ভিধান বানালে কেমন হয়? বাংলা একাডেমী আবার সেন্সরশিপ আরোপ করবে না তো?
০৩.১১.০৯

৪.
নানা কারণে হিন্দি গান শোনা হয় কম। এখনও মোটামুটি তু চিজ বারি হায় মাস্তে মাস্তের জমানায় আটকে আছি। আহা! ওই কোমরের জন্য কতোদিন ঘুমাতে পারি নি! এর ঠিক পরের আমলের মোটামুটি জনপ্রিয় গানগুলো মাঝে মাঝে শোনা হয়েছে। অধিকাংশ হিন্দি গান আসলে শোনা হয় রাস্তার পাশের ক্যাসেটের দোকানে। যেতে যেতে একটুখানি সুর বাতাসে ভেসে আসে- পছন্দ হলে দাঁড়িয়ে পুরোটাই শুনে ফেলি। মাঝখানে যে হিন্দি গানে নানা কিসিম চলে এসেছে, সেটা জানাই হয় নি।

গাড়িতে বসে ল্যাপটপে গুতাচ্ছি— কালকের প্ল্যান। ড্রাইভার আক্কাস ভাই গান শুনতে শুনতে গাড়ি চালান, এবং যথারীতি হিন্দি। হঠাৎ করে শরীরটা কেমন যেনো নেচে উঠলো! বাইরে যদিও গাম্ভীর্যের মুখোশ যথারীতি পরা, কিন্তু শরীরে ভেতরকার রক্ত নাচানাচি শুরু করে দিলো। ব্রয়লারের বাইরের দিক দেখে ভেতরকার ফুটন্ত পানির নাচানাচি বুঝা যায় না। ওদিকে ভেতরে মনে হচ্ছে হাইপোথ্যালামাস গ্রন্থি পামেলাকে নিয়ে একবার ডান হাতে, আরেকবার বাম হাতে যাচ্ছে। একবার উপরে উঠছে তো আরেকবার নিচে নামছে। ডিএনএর সাইটোসিন-গুয়ানিন-এডিনিনরা ধমনী ছেড়ে শিরায়, শিরা থেকে ধমনীতে কুর্নিকোভার সাথে ভরতনাট্যম করছে, কলজেটা মোটামুটি রাভিনা ট্যান্ডন ট্যান্ডন ট্যান্ডন ট্যান্ডন হয়ে গেছে ইতোমধ্যে, বামপায়ের কড়ে আঙ্গুল দেখি শাবনূরের মতো লাফাচ্ছে, পাকস্থলীর জারক রস দুলতে দুলতে ইয়ের (এর নাম বলা যাবে না) বৃষ্টিভেজা শাড়ি দেখছে— সে এক এলাহী কাণ্ড! মর জ্বালা, ঠোঁটও দেখি ক্রমাগত নিশপিশ করছে! মাঝখানে ঐশ্বরিয়া কোন ফাঁকে হৃৎপিণ্ডের লাল পানি সঞ্চালনেও স্পিড বাড়িয়ে দিয়েছে। আর আমি এদিকে চোখ বুঁজে রাণী মুখার্জির কোমরের একটু নিচে ধরে ঝাঁকাচ্ছি- আওওওসাইইওওওওও... আওসাইওও.. টুটে দিল কি পীড় সহি না যায়েয়েয়েয়েয়েয়েয়ে....

রাণীর সুড়সুড়ি লাগছে। আমার করার কিচ্ছু নাই <img src=" style="border:0;" /> । আহা! টুটে দিল কি পীড় সহি না যায়েয়েয়েয়েয়েয়েয়ে....
০৪.১১.০৯

(ঈষৎ সম্পাদিত <img src=" style="border:0;" />)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29045962 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29045962 2009-11-19 10:34:17
জুমলা টিউটোরিয়াল ৯: মেন্যু জুমলা টিউটোরিয়াল ৮: সাইট মেন্যু

একটি ওয়েব সাইটের নানা বিষয়ের লেখা মূলত মেন্যুর মাধ্যমেই সাজানো হয়ে থাকে যাতে পাঠক সহজে ক্যাটাগরি বা সেকশন অনুসারে লেখাগুলো খুঁজে পায়। সাইটের জন্য মেন্যু খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মেন্যু না থাকলে পাঠক বুঝতে পারবেন না সাইটের কনটেন্টগুলোকে কীভাবে সাজানো আছে।

জুমলাতে ডিফল্ট হিসেবে Main Menu, Resources, Key Concept ইত্যাদি থাকে, যেগুলো ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করা যায়, নতুন মেন্যু যুক্ত করা যায় বা পুরনো মেন্যু মুছে ফেলা যায়। জুমলাতে লগইন করার পর দেখবেন Site-এর পরই Menus আসে। মেন্যু-সম্পর্কিত যা-ই করতে চান না কেন, সব কাজ এখান থেকেই করতে হবে।



Menu Manager
Menus-এ ক্লিক করলে প্রথমে আসে Menu Manager। এতে ক্লিক করলে এরকম একটি পৃষ্ঠা আসবে।



এখানে দেখুন মোট ছয়টি মেন্যু রয়েছে। এগুলো জুমলা ইনস্টল করার সময় ডিফল্টভাবেই চলে আসে। আপনি ইচ্ছে করলে প্রত্যেকটি মেন্যুই মুছে ফেলতে পারবেন, কিংবা মেন্যুর নাম পরিবর্তন করে আপনার ইচ্ছেমতো নামে মেন্যু বানাতে পারবেন। আপনি আপনার সাইটে যে কয়টি মেন্যু রাখতে চান, সে কয়টি মেন্যু এখানে তৈরি করতে পারেন।

মেন্যু তৈরি করা খুবই সহজ। ডানদিকের কর্নারে দেখুন বেশ কয়েকটি আইকন আছে।



New আইকনটিতে ক্লিক করুন। এরকম একটি পৃষ্ঠা আসবে।



সেখানে Unique Name-এর জায়গায় মেন্যুর নাম দিন, Title-এর জায়গায় শিরোনাম দিন, Description-এর জায়গায় মেন্যুর বর্ণনা দিতে পারেন বা নাও দিতে পারেন, Module-এর জায়গায় কোনো কিছু দিতে পারেন, নাও দিতে পারেন- আপনার ইচ্ছা। তবে দেওয়া ভালো। ব্যস, কাজ শেষ। এবার Save করে বেরিয়ে আসুন। আর মেন্যু তৈরি না করতে চাইলে Cancel করে বেরিয়ে আসুন। এভাবে আপনি যতোখুশি মেন্যু তৈরি করতে পারেন এবং পরবর্তীতে সেগুলো এডিটও করতে পারেন।

এই পৃষ্ঠার ডানদিকে কর্নারে দেখুন আরও চারটি আইকন আছে। প্রথমটি Copy- যদি কোনো মেন্যুর হুবহু প্রতিলিপি তৈরি করতে চান, তাহলে ওই মেন্যুটি সিলেক্ট করে Copy-তে ক্লিক করলেই আগের মেন্যুটির মতো আরেকটি মেন্যু তৈরি হয়ে যাবে। অর্থাৎ আপনি যদি Main Menu-টি কপি করেন, তাহলে এই বাটনে ক্লিক করলে এরকম একটি পৃষ্ঠা ওপেন হবে।



সেখানে নতুন মেন্যুর নাম ও মডিউল লিখে কপিতে ক্লিক করলেই মেন্যু আইটেমে বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন আরেকটি মেন্যু তৈরি হয়ে যাবে। দ্বিতীয়টি Delete- কোনো মেন্যু মুছতে চাইলে সেটি সিলেক্ট করে এই বাটনে চাপলেই সেটি মুছে যাবে। তৃতীয় বাটনটি হচ্ছে Edit- কোনো মেন্যু তৈরি করার পর মনে হলো নাম বা বর্ণনা পরিবর্তন করতে চান। সেক্ষেত্রে ওই মেন্যুটি সিলেক্ট করে Edit বাটন চাপলে নতুন আরেকটি পৃষ্ঠা আসবে। তখন মেন্যু তৈরি করার সময় যেরকম পৃষ্ঠা এসেছিলো, ঠিক সেই পৃষ্ঠাটিই আসবে। আপনি যা যা পরিবর্তন করতে চান, সেগুলো করে সেভ করে বেরিয়ে আসুন। সর্বশেষ বাটনটি Help- ইন্টারনেট সংযুক্ত থাকা অবস্থায় এই বাটনে ক্লিক করলে জুমলার হেল্প সাইটে যেতে পারবেন।

প্রতিটি মেন্যুর পাশেই দেখবেন বেশ কয়েকটি অপশন আছে (নিচের ছবি)। এগুলো মূলত মেন্যুর স্ট্যাটাস দেখায়। এখানে Menu Item(s) ছাড়া বাকিগুলোতে করার কিছু নেই। Menu Item(s)-এ ক্লিক করলে এই মেন্যুর অধীনে কী কী আছে তা দেখা যাবে। যেমন- Main Menu-এর অধীনে কী কী আছে তা এই বাটনে ক্লিক করলে দেখা যাবে।



Menu Trash



Menus-এর দ্বিতীয় অপশনটি হলো Menu Trash। কোনো সাবমেন্যু মুছে ফেললে সেটি সরাসরি হারিয়ে যায় না, Menu Trash-এ জমা হয় যা ইচ্ছে করলে পরবর্তী সময়ে পুনরায় ফিরিয়ে আনা যায়। মুছে ফেলা সাবমেন্যু ফিরিয়ে আনতে চাইলে সেটি সিলেক্ট করে ডান কর্নারের Restore বাটনে ক্লিক করুন। সাবমেন্যুটি পুনরায় মেন্যুতে চলে যাবে। আর পুরোপুরি মুছে ফেলতে চাইলে Delete বাটনে ক্লিক করুন। মনে রাখতে হবে যে, যেটি Trash করছেন, সেটির সাথে সম্পর্কিত সব লেখা বা আইটেমও কিন্তু একইসাথে মুছে যাবে। সুতরাং সাবধানে এই কাজটি করতে হবে।

Main Menu
একটু ভালো করলে খেয়াল করলে দেখতে পাবেন, উপরের Menu Manager-এ Main Menu-এর পাশে একটি এস্টেরিকস (*) দেওয়া। এর অর্থ হচ্ছে, সাইটের জন্য যে পৃষ্ঠা বা সাবমেন্যুটি ডিফল্ট করা, সেটি Main Menu-এর মধ্যে অবস্থিত। আপনি চাইলে অন্য কোনো মেন্যু বা পেজকেও ডিফল্ট করতে পারবেন।

Main Menu-তে ক্লিক করলে ভেতরে বেশ কিছু সাবমেন্যু বা আইটেমের নাম দেখা যাবে যেগুলো জুমলা ইনস্টলের সময় তৈরি হয়েছে। মেন্যুর মতোই আপনি চাইলে সেগুলোর সবগুলোকে মুছে ফেলতে পারেন বা সম্পাদনা করতে পারেন।



এই পৃষ্ঠায়ও ডানদিকের কর্নারে দেখবেন বেশ কটি আইকন রয়েছে। এখানে সর্বমোট দশটি আইকন রয়েছে সেখানে।



প্রথম আইকনটি অর্থাৎ Menus-এ ক্লিক করলে কী কী সাবমেন্যু রয়েছে বা কী কী সাবমেন্যু আপনি সৃষ্টি করেছেন, তার একটি তালিকা দেখাবে।

যে সাবমেন্যুটিকে আপনি ডিফল্ট হিসেবে দেখাতে চান, সেটি সিলেক্ট করে দ্বিতীয় আইকন অর্থাৎ Default-এ ক্লিক করলে সেটিই হয়ে যাবে আপনার হোমপেজ। অর্থাৎ আপনি যদি সাবমেন্যুটিকে ডিফল্ট করে দেন তাহলে আপনার সাইটের অ্যাড্রেস ওপেন করলে FAQ পেজটি ওপেন হবে।

তৃতীয় ও চতুর্থ আইটেমগুলো যথাক্রমে Publish ও Unpublish । অর্থাৎ কোনো সাবমেন্যুকে আপনি চাইলে প্রকাশ করতে পারেন বা প্রকাশ নাও করতে পারেন। প্রকাশ করতে চাইলে সেটি সিলেক্ট করে Publish বাটন চাপুন আর না চাইলে Unpublish বাটন চাপুন। Publish সাবমেন্যুগুলোকে সবুজ রাইট চিহ্ন ও Unpublish সাবমেন্যুগুলোকে মূল পৃষ্ঠায় লাল ক্রস চিহ্নের মতো দেখাবে। আপনি চাইলে বেশ কিছু সাবমেন্যু তৈরি করে সেগুলোকে Unpublish করে রাখতে পারেন যেগুলো হয়তো ভবিষ্যতে ব্যবহার করবেন।



পঞ্চম বাটনটি Move। অর্থাৎ একটি সাবমেন্যুকে এক মেন্যু থেকে অন্য মেন্যুতে ট্রান্সফার করতে চাইলে সেটি সিলেক্ট করে Move বাটন চাপুন। তারপর কোন মেন্যুতে সেটিকে পাঠাতে চান, সেটি সিলেক্ট করে সেভ করে দিন। এক মেন্যু থেকে আরেক মেন্যুতে পাঠানোর কাজ শেষ।

ষষ্ঠ বাটনটি Copy। আগের অংশের মতোই এখানেও কোনো সাবমেন্যুকে কপি করতে চাইলে সেটি সিলেক্ট করে এই বাটনটিতে ক্লিক করলেই হবে। প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে সাবমেন্যুর নাম বদলাতেও পারবেন।



সপ্তম বাটনটি Trash। কোনো সাবমেন্যু মুছতে চাইলে সেটি সিলেক্ট করে এই বাটনে ক্লিক করলে সেটি মুছে যাবে।

সপ্তম বাটনটি Edit। কোনো সাবমেন্যু তৈরি করার পর এর কোনোকিছু পরিবর্তন করতে চাইলে সেটি সিলেক্ট করে Edit বাটন চাপলে সাবমেন্যু তৈরি করার সময় যেরকম একটি পৃষ্ঠা এসেছিলো, ঠিক সেরকম একটি পৃষ্ঠা আসবে। সেখানে আপনি প্রয়োজনীয় সম্পাদনা করতে পারবেন।

সর্বশেষ Help বাটন নিয়ে আলাদা আলোচনার প্রয়োজন নেই। কিন্তু তার আগের New বাটনটি গুরুত্ব পূর্ণ। আগামী পর্বে আলোচনা হবে শুধু New বাটন নিয়ে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29041570 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29041570 2009-11-11 10:50:20
BDeduarticle.com : একটি ক্ষুদ্র সাফল্যের কথা
এর আগে অন্য এক লেখায় বিস্তারিত বলেছিলাম স্বপ্নটার কথা। আবারও বলি, সংক্ষেপে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার শেষ দিকে থিসিস করার সময় কিছু জার্নালের আর্টিক্যাল ডাউনলোড করতে পারি নি- পারমিশন কিংবা ক্রেডিট কার্ড নেই বলে। তখনই প্রথম প্রশ্নটা মনে জেগেছিলো- জ্ঞানের জগতে এই বাঁধানিষেধ থাকাটা কি ঠিক? হয়তো ঠিক। জ্ঞান তৈরিতেও তো অর্থ লাগে! সেদিক দিয়ে ঠিকই আছে। কিন্তু তাহলে কি আমার মতো অর্থহীনদের জন্য জ্ঞানার্জন বন্ধ থাকবে?

স্বভাবজ্ঞান বলে- না, থাকবে না। থাকা উচিত নয়।

তাহলে?

তাহলে আর কি! অন্য কোনো প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে যেখানে পড়ালেখার জন্য সমস্ত জ্ঞান উন্মুক্ত থাকবে। পৃথিবীতে এমন অনেক প্ল্যাটফর্ম ইতোমধ্যে রয়েছে। যেমন- উইকিপিডিয়া। কিন্তু সেখানে তথ্যের সমাহার; বিশেষায়িত জ্ঞানের জন্য গবেষণাভিত্তিক লেখা সেখানে নেই। তাই এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা দরকার যেখানে ‘শিক্ষা’সম্পর্কিত যাবতীয় লেখা থাকবে। যে কেউ সেখান থেকে লেখা পড়তে পারবে, ডাউনলোড করতে পারবে, জ্ঞানার্জনের কাজে ব্যবহার করতে পারবে। আমার দেশ যেহেতু বাংলাদেশ, তাই বাংলাদেশের শিক্ষাসম্পর্কিত লেখাগুলোই সেখানে প্রাধান্য পাবে



সেই থেকে শুরু http://www.bdeduarticle.com -এর যাত্রা, যার আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয় ২০০৯ সালের মার্চের ১৪ তারিখে। ইতোমধ্যে সাইটটি ১০০ লেখার মাইলফলক অতিক্রম করেছে। এটুকু দাবি করা যায়- খুব খারাপ লেখা সেখানে নেই, কিন্তু বেশ কিছু ভালো লেখা পাওয়া যাবে। ভালো-খারাপ সব মিলিয়েই এই একশটির বেশি লেখা বাংলাদেশের শিক্ষাকে তুলে ধরেছে নানা দিক থেকে। এগুলোর মধ্যে যেমন গবেষণাধর্মী লেখা আছে, তেমনি আছে কেস স্টাডি, অ্যাকাডেমিক লেখা, বিভিন্ন সংস্থার উদ্যোগ, কলাম ইত্যাদি।

যেভাবে চলছে
নাম না দিয়ে নিজের একটি লেখা দিয়েই সাইটটির কাজ শুরু করেছিলাম। সহকর্মী, বন্ধুবান্ধব, অ্যাকাডেমিশিয়ান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক- সবার কাছেই লেখা চেয়েছি। কেউ কেউ লেখা দিয়েছেন, কেউ কেউ দিবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। কেউ বা কোনো কথাই দেন নি। কিন্তু সবাই উৎসাহ দিয়েছেন অফুরান। লেখা চেয়েছি বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকেও। পদ্ধতিগত জটিলতার কারণে অনেক সংস্থা থেকে অনুমতি আসতে দেরি হচ্ছে, কিন্তু মৌখিকভাবে আশ্বাস দিয়েছেন অনেক সংস্থার প্রধানরাই। সবার আগে অনুমতি পেয়েছি আমার কর্মস্থল ব্র্যাক গবেষণা ও মূল্যায়ন বিভাগের লেখাগুলো প্রকাশের। তৎকালীন পরিচালক ইমরান মতিন সাইটের উদ্দেশ্য জেনে সাথে সাথেই অনুমতি দিয়ে দেন। তাঁকে ধন্যবাদ। পাশাপাশি বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক তাদের সমস্ত লেখা এই সাইটে প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন। তাঁদেরকেও ধন্যবাদ। অনুমতি দেওয়ার এই পাইপলাইনে আছে আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান- দেশের ও বিদেশের।

এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে প্রচুর মানুষ সাইট তৈরির পর থেকে উৎসাহ দিয়েই যাচ্ছেন। অনেকে লেখা দিচ্ছেন নিয়মিত, কেউ কেউ লেখা যোগাড়ও করে দিচ্ছেন। কেউ কেউ নিয়মিত সাইট ভিজিট করছেন, কেউ মন্তব্য করছেন। কেউ ইমেইলে নিয়মিত পরামর্শ পাঠাচ্ছেন। পরিচিতদের যে যেভাবে পারেন, সেভাবেই উৎসাহ দিচ্ছেন, সাহায্য করছেন। যদিও উদ্যোগটি আমার, কিন্তু তাঁদের সবার নানামাত্রার সম্পৃক্ততা সাইটটি ভালোভাবে চলার পাথেয়।

যাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
সাইটটি তৈরির সময় এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র জ্ঞানও আমার ছিলো না। সুতরাং সাহায্য নিতে হয়েছে বিভিন্নজনের কাছ থেকে। নানান ধরনের কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে জুমলাটাকে ভালো লাগলো। গুগলিং করে, ইবুক ডাউনলোড করে কিছুটা জুমলা শিখলাম, অবশ্যই শিখতে গিয়ে অনেককে বিরক্ত করতে হয়েছে। পুরো সাইটটি তৈরি করা জুমলা দিয়ে। সাইটটি ডোমেইন নেম, স্পেস ইত্যাদি বিষয়ে সোলার সফটওয়্যার সিস্টেমের সিইও আননূর রহমান বিভিন্ন সময়ে পরামর্শ দিয়েছেন, সাহায্য করেছেন। সাইট চালুর পর নানা কারণেই একের পর এক ঝামেলা দেখা দিতে থাকে। পিএইচডি থিসিস নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটানোর পরও সচলায়তনের সহমর্মী আলমগীর ভাইকে বিরক্ত করেছি। তিনি অনেক খুঁটিনাটি টেকনিক্যাল বিষয়ে সহায়তা করেছেন। সহকর্মী রিফাত আফরোজ বিভিন্নজনের কাছ থেকে লেখা আনার ব্যাপারে সহায়তা করেছেন। ইউনিভার্সিটি অব মালয়-এর সিনিয়র লেকচারার গাজী মাহবুবুল আলম লেখা ও বিভিন্ন উপদেশ দিয়ে সাহায্য করেছেন। এ সম্পর্কিত একটি লেখা লিখেছেন সামহোয়্যারইনের কৌশিক। সময়ে সময়ে বিভিন্ন উপদেশ ও মন্তব্য দিয়ে সহায়তা করেছেন শেভরন বাংলাদেশের পলাশ বসাক ও ইউনিভার্সিটি অব জর্জ ওয়াশিংটনের পিএইচডি গবেষক ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির লেকচারার মোহাম্মদ মিজানুর রশিদ শুভ্র। ডি. নেটের আসাদুজ্জামান আসাদ লেখা দিয়ে ও নানাজনকে সাইটের কথা বলেছেন সময়ে সময়ে। নানা ধরনের খুঁটিনাটি সাহায্য করেছেন ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির তামান্না কলিম। প্রজন্ম ফোরামের বন্ধুদের কাছ থেকে নানা ধরনের টেকনিক্যাল সহায়তা। এরকম প্রচুর মানুষ আমাকে সাহায্য করেছেন যাদের অবদানের কারণেই আজকের এই সাইট- সবার নাম উল্লেখ করতে গেলে বিশাল তালিকা হয়ে যাবে। আর যারা লেখা দিয়েছেন, তাদের সহায়তার কথা উল্লেখ নাই করলাম! তাঁদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার একার পক্ষে কিছু করা সম্ভব হতো না, যদি না তারা আমার পাশে থাকতেন। সবচেয়ে বড় কথা, যে স্লোগান দিয়ে সাইটটি শুরু করেছিলাম, Knowledge is power only when it is shared, তাঁরা সেটিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রভুত সহায়তা করেছেন।

অর্থই অনর্থের মূল
থাকলে অফুরান আনন্দের উৎস, না থাকলে টাকা-পয়সা খুব খতরনাক বিষয়। একটি সাইট তৈরি করে দেওয়ার জন্য বেশ কয়েকজনের কাছে ধর্না দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে যখন হাল ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছিলাম, তখনই জুমলার সাথে পরিচয়। কিছুদিন ঘাটাঘাটি করে নিজের ল্যাপটপে একটা সাইট তৈরিও করে ফেললাম। ব্যস, আর পায় কে! কয়েকদিনের মধ্যে ডোমেইন নেম আর স্পেস কিনে যাত্রা শুরু করলাম।

ডোমেইন নেম আর স্পেস কিনতে গিয়ে আরেক অভিজ্ঞতা। পকেট থেকে বেশকিছু টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে দেখে প্রথমে ফ্রিতে করার চেষ্টা করলাম। লাভ হলো না। নানা জনে ভয় দেখালেন, ফ্রিতে করে অমুক হ্যাপা, তমুক হ্যাপা। তাঁদের পরামর্শ মেনে শেষ পর্যন্ত কারো কাছে হাত না পেতেই কাজ শুরু করে দিলাম।

সাইট চালু হওয়ার পর গুগল অ্যাডসেন্সের দ্বারস্থ হলাম। প্রবল জনপ্রিয় এই মাধ্যমটি নিয়ে প্রথমদিকে বেশ চিন্তাগ্রস্তই ছিলাম- না জানি কী সব অ্যাড দেখায়! কিছুদিন ব্যবহারের পর মোটামুটি নিঃশঙ্ক হলাম যে, তারা উল্টাপাল্টা কোনো বিজ্ঞাপন দেখায় না। সেই থেকে গুগল অ্যাডসেন্স চালু রাখলাম। পকেটের পয়সা খরচ করে সাইট তৈরি ও মেইনটেইনেন্সের মতো সামর্থ্য নেই, ফলে এর দ্বারস্থ হতেই হলো। উদ্দেশ্য- সাইটের খরচটুকু তুলে আনা। পাশাপাশি উদ্বৃত্ত থাকলে বাড়তি টাকা দিয়ে ঠিক একই রকম আরেকটি সাইট বানানোর চিন্তা আছে- আমার প্রিয় বাংলায়। সেখানে শিক্ষাবিষয়ক সব বাংলা লেখা থাকবে, থাকবে বাংলায় ভাবনাচিন্তা বিনিময় করার সহায়ক উপাদানগুলো। যারা বিভিন্ন কারণে ইংরেজিতে লিখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, তারাও তখন এখানে বাংলায় লিখতে পারবেন সহজেই। না, সাইটের খরচ উঠে আসে নি, কিন্তু ছোট্ট সুখবর এই যে, বাংলা সাইট বানানোর কারিগরি দিকটি তৈরি করে রাখা হচ্ছে। যে কোনোদিন হুট করেই হয়তো শিক্ষাবিষয়ক এরকম একটি বাংলা সাইট চালু হয়ে যাবে।

শেষ কথা
এই লেখাটা কেন লিখলাম? নিজের আনন্দটুকু প্রকাশের জন্য, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য। পাশাপাশি শিক্ষা বিষয়ে যারা ভাবেন, চিন্তা করেন, লিখেন- তাঁদের অনুরোধ করার জন্য যে, আপনার মতামত কিংবা লেখাটা পাঠিয়ে দিন সাইটের ঠিকানায়। শিক্ষা নিয়ে প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু ভাবনা আছে, আছে নিজস্ব মতামত- সেগুলোই পাঠিয়ে দিন। আপনার-আমার ছোটখাট ভাবনাগুলোই হয়তো একদিন অনেক বড় হয়ে উঠবে, দেশের শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29035938 http://www.somewhereinblog.net/blog/goutamblog/29035938 2009-11-01 18:18:38