আমরা সবাই বিখ্যাত হতে চাই। বিখ্যাত হওয়ার জন্য আমাদের চেষ্টা চলে অবিরাম, কেউ পারি-কেউ পারি না। বিখ্যাত হতে না পেরে কেউ কেউ চেষ্টা করি কুখ্যাত হয়ে বিখ্যাত হতে। মোট কথা, আমরা চাই আমরা এমন কিছু হতে চাই যাতে আমাদের কথা কেউ কখনো ভুলতে না পারে।
বিখ্যাত বা কুখ্যাত না হতে পারি, কিন্তু আমরা কেউ উপেক্ষার শিকার হতে চাই না কখনো। উপেক্ষার যন্ত্রণা মারাত্মক। ফলে বিখ্যাত বা কুখ্যাত হওয়ার তাড়না আমাদের মনে যতোটুকু থাকে, তার চাইতে বেশি থাকে উপেক্ষিত না হওয়ার তাড়না।
অনেক সময় আমরা নিজেরাই বুঝে যাই- আমাদের দ্বারা বিখ্যাত বা কুখ্যাত কোনোটি হওয়া সম্ভব কি-না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা উপলব্ধি করতে পারি, বিখ্যাত বা কুখ্যাত হওয়ার জন্য যে গুণাবলী আমাদের মধ্যে থাকা দরকার, সেগুলোর অভাব অসম্ভব রকমের প্রকট। মেধা না থাকলে চেষ্টা দিয়ে পুষিয়ে নেওয়া যায়, কিন্তু সেই চেষ্টাটুকু করতে আমাদের অনীহা স্বভাবগত। ফলে প্রায় সময়ই বিকল্প উপায়গুলো আমরা যেমন খুঁজে বের করার চেষ্টা করি, তেমনি আমরা অনেকে ভান করি বিখ্যাত হওয়ার, অখ্যাত হয়ে আচরণ করি বিখ্যাতের মতো।
আমাদের চেয়ারটিতেই আমাদের এ মানসিকতার প্রতিফলন ঘটে। আমরা চেষ্টা করি আমাদের চেয়ারটির সাইজ যেনো বড় হয়। ছোটো চেয়ারে বসলে আমাদেরকে ছোটো দেখায় কি-না, এই চিন্তা জ্বালিয়ে মারে আমাদের প্রায় সময়ই। ফলে টেবিলের এ পাশে আমাদের চেয়ারটি যতো বড় হয়, ওই পাশে যারা আমাদের সাথে দেখা করতে আসেন, তাদের চেয়ারটি ততো ছোট হয়। হবেই। প্রাকৃতিক নিয়মানুসারে একজন বড় হলে আরেকজন তো ছোট হবেই।
ফলে আমরা চেয়ার বাছি সযতনে। অটবিতে যাই, যাই নাভানাতে, পারটেক্সে। না হলে দামদর করে সেগুন কাঠ কিনি, কিনি বাজারের দামি ফোম। নিজের পশ্চাৎদেশের সাইজ মনে রাখি কষ্ট করে, মিস্ত্রিকে চেয়ারটা বানাতে বলি যাতে সেখানে অনায়াসে দুটো পশ্চাৎদেশ আটতে পারে। মিস্ত্রি মনে মনে হয়তো ভাবে - হালায়/হালিয় তার বউ/জামাইরে নিয়া চেয়ারে বইসা বইসা...
‘মানুষ তার আশার সমান বড়’। কিন্তু মানুষের চাইতেও বড় তার চেয়ার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



