আমার প্রিয় পোস্ট

হয়তো আমি কোন কিছু সম্পর্কে নিশ্চিত নই

নতুন আমল পার করছি পুরনো শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে - ৪

০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ সকাল ১১:০০

শেয়ারঃ
0 0 0

একটি দেশের শিক্ষার ট্রেন্ড বা গতিপ্রকৃতি সাধারণভাবে কোন্ দিকে প্রবাহিত হবে এবং সে দেশের মানুষকে কীভাবে জনসংখ্যা থেকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা হবে, সেই বিষয়গুলোসহ শিক্ষাকে কীভাবে সার্বিকভাবে কাজে লাগানো হবে, তা নির্ধারণে প্রথমে শিক্ষার কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঠিক করতে হয়। জাতীয় চেতনা ও সংবিধানের আলোকে এই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো ঠিক করা হয়। লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য ঠিক করে সে অনুযায়ীই শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা করা হয়। সুতরাং শিক্ষাব্যবস্থার যে কোনো দিক নিয়ে আলোচনার প্রথমেই চলে আসে শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথমদিকে তখনকার প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাই অনুসরণ করা হয়েছিলো। কিন্তু পাকিস্তান আমলের সেই শিক্ষাব্যবস্থা নতুন দেশের পক্ষে অনুপযোগী হওয়ায় এবং যুগের সঙ্গে পরিবর্তনের তাগিদ থেকে শিক্ষানীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। ড. কুদরাত-এ-খুদার নেতৃত্বে গঠিত হয় জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিশন। এই কমিশন তৎকালীন জাতীয় চেতনা বা সংবিধানের চার মূলনীতি অর্থাৎ জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেতার আলোকে ১৯৭৪ সালে একটি শিক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করে। সেখানে শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেতা, দেশপ্রেম ও সুনাগরিকত্ব, মানবতা ও বিশ্বনাগরিকত্ব, নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক রূপান্তরের হাতিয়াররূপে শিক্ষা, প্রয়োগমুখী অর্থনৈতিক অগ্রগতির অনুকূলে শিক্ষা, কায়িক শ্রমের মর্যাদাদান, নেতৃত্ব ও সংগঠনের গুণাবলী, সৃজনশীলতা ও গবেষণা এবং সামাজিক অগ্রগতি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক প্রগতির ক্ষেত্রে শিক্ষা।

কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে গিয়ে একদিকে জাতীয় চার মূলনীতির কথাকে প্রাধান্য দিয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীর মধ্যে যে যে গুণাবলীর বিকাশ ঘটবে, সেগুলোর কথাও সেখানে বলা হয়েছে। একটি পর্যায় বা স্তর অতিক্রম করার পর শিক্ষার্থীর নিজের মধ্যে কোন্ গুণের বিকাশ ঘটবে, সেগুলো যেমন বর্ণিত হয়েছে এখানে, তেমনি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সার্বিকভাবে এবং সাধারণীকরণের মাধ্যমে সবার জন্য কোন্ গুণগুলো উন্মুক্ত হবে, তাও সেখানে বলা হয়েছে। নতুন সমাজতান্ত্রিক সমাজ সৃষ্টির প্রেরণা সেখানকার সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে একটি মুখ্য বিষয় হিসেবে কাজ করেছে এবং কমিশন শিক্ষার্থীদের সেভাবেই সামাজিক রূপান্তরের হাতিয়াররূপে তৈরি করার দিকে গুরুত্ব দিয়েছিলো। কুদরাত-এ-খুদা কমিশনের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিলো কৃষক, শ্রমিক, মধ্যবিত্তসহ সকল শ্রেণীর জনগণের জীবনে নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনে উপলব্ধি জাগানো। কারণ তারা বুঝতে পেরেছিলেন, শুধু শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সমাজের সব মানুষকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে উপলব্ধি ঘটাতে না পারলে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না। শুধু শিক্ষার্থীরা সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে না, সমাজে পরিবর্তন আনতে পারবে না। এ কাজ করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে করতে হবে, তবে শিক্ষার্থীরা নানা দিক থেকে এই কাজকে গতিশীল করায় ভূমিকা রাখতে পারে।

কুদরাত-এ-খুদা কমিশনের তৈরি প্রতিবেদন রাজনৈতিক কারণে গৃহীত হয়নি। অবশ্য বাংলাদেশে অধিকাংশ শিক্ষা কমিশন রিপোর্টই রাজনৈতিক কারণে গৃহীত হয়নি। এক সরকারের তৈরি শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট অন্য সরকার বাতিল করে দেয়। সরকারের নিজস্ব কিছু কর্মসূচির আলোকে পরবর্তী সময়ে তৈরি হয় নতুন শিক্ষা কমিশন। এই ধারাবাহিকতায় অনেক দিন বিরতির পর ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয় মফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে নতুন আরেকটি শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট। সেখানে শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে ১০টি পয়েন্ট উত্থাপন করা হয়। এই ১০টি পয়েন্ট বা বিষয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেÑ সমাজের প্রতি স্তরের মানুষের নিজ নিজ মেধা ও প্রবণতা অনুসারে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেয়া, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করা, সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত রাষ্ট্রীয় মূলনীতির সঙ্গে শিক্ষার সুষ্ঠু সমন্বয় সাধন করা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্মানুরাগ বৃদ্ধি করা, শিক্ষার্থীদের বস্তুনিষ্ঠ, বিজ্ঞানমনস্ক ও সমাজ-সচেতন মানুষে পরিণত করা, সমাজে মুক্ত চিন্তার বিকাশ করা ইত্যাদি।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): শিক্ষা ব্যবস্থাশিক্ষার গুণগত মানশিক্ষা কমিশন রিপোর্ট ;
প্রকাশ করা হয়েছে: শিক্ষা  বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:০৯
দিনমজুর বলেছেন:
এখানে আবার একটূ ভুল হলো, আসলে- লক্ষ ও উদ্দেশ্যে যতই মনোহর, চটকদারি কথা লেখা থাকুক না কেন- সেটা আসলেই ঐ কমিশনের উদ্দেশ্য কি-না নির্ধারিত হওয়া উচিৎ বিভিন্ন ধারা দেখেই। সেজন্য নিচের আলোচনাগুলোর অবতারণা, সামান্য দেখলেই বুঝা যাবে- জাতীয় মূলনীতি- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেতা এসবের ধারে কাছেই যায়নি এই কমিশন।

সার্বজনীন শিক্ষাঃ
সকল মানুষকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার তাগিদ ও আয়োজনের সুপারিশের পরিবর্তে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিমাণ ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে তাতেই কমিশন বিরক্তি প্রকাশ করেছে। কমিশন বলছে,

"বর্তমানে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষা সামাজিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যবিহীন হওয়ার ফলে উচ্চশিক্ষার মানের উপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত বেকারের দল অনন্যোপায় হয়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অহেতুক ভিড় জমাচ্ছে"।

"আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষা সরকারি চাকুরি লাভের ছাড়পত্র মাত্র। কাজেই চাকুরির সংস্থান হবার বা সম্ভাবনা ফুরাবার সঙ্গে সঙ্গে এ শিক্ষার কার্যকারিতাও নিঃশেষিত হয়ে যায়। অনেকের জন্য অবশিষ্ট থাকে শুধু বেকারত্বের অভিশাপ। যে সমাজে শতকরা আশিজন নিরক্ষর, সে সমাজে উচ্চশিক্ষাপ্রাপ্ত বেকারের অস্তিত্ব সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতারই পরিচায়ক"।

এভাবে বেকারত্বের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকেই দায়ী করা হয়েছে! যেন- উচ্চশিক্ষাপ্রাপ্ত বেকারের অস্তিত্বের জন্য দেশের সরকার পরিচালনার নীতি দায়ী নয়, বেকারের অস্তিত্ব তথা কর্মসংস্থান তৈরির অপারগতা রাষ্ট্র ব্যবস্থার ব্যর্থতার পরিচায়ক নয়- তা শিক্ষা ব্যবস্থারই ব্যর্থতার পরিচায়ক!!!

কর্মমুখী বা উৎপাদনমুখী শিক্ষাঃ
এভাবে উচ্চশিক্ষাপ্রাপ্ত বেকারের জন্য শিক্ষাকে দায়ী করে- উপায় হিসাবে বাতলে দেয়া হয়েছে, কর্মমুখী বা উৎপাদনমুখী শিক্ষার কথা। বলা হয়েছে,
"আমাদের অবস্থা এমন নয় যে, ১৪ থেকে ২২ বছর বয়সের সকল তরুনকে বা তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে আমরা সর্বক্ষণের জন্য শিক্ষায় নিযুক্ত রেখে উৎপাদনমুখী কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারি"।

কি করতে পারি তাহলে? করণীয় সম্পর্কে জোরেশোরে কর্মমুখী বা উৎপাদনমুখী শিক্ষার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু মজার ও আশ্চর্যের বিষয় এই যে, এই কর্মমুখী/উৎপাদনমুখী শিক্ষায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাকেও এরপরে সীমিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে একই যুক্তিতে। বলা হয়েছে,

"বর্তমানে দেশে কয়েক হাজার ডিপ্লোমা প্রাপ্ত টেকনিশিয়ান বেকার অবস্থায় আছে। প্রতি বছর প্রায় দু'হাজার শিক্ষার্থী ডিপ্লোমা নিয়ে বের হচ্ছে। এদের উল্লেখযোগ্য অংশ বেকার থেকে যাচ্ছে।........ এ বেকার সমস্যা লাঘব করার জন্য আমরা নিম্নলিখিত সুপারিশ পেশ করছিঃ 'পরিকল্পনা কমিশনের জনশক্তি বিভাগ দ্বারা দেশে বিভিন্ন স্তরের এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের কারিগরী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসূহে শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ন্ত্রিত করতে হবে। যেসব ক্ষেত্রে বর্তমানে টেকনিশিয়ানদের চাহিদা কম, সেসব ক্ষেত্রে ছাত্র ভর্তির সংখ্যা আপাতত কমিয়ে দেয়া বাঞ্ছনীয়'"।

এভবাবেই এবং এই উদ্দেশ্যেই শাসকগোষ্ঠী শিক্ষা সংকোচনে অবতীর্ণ হয়। কেননা, দেশে শিল্প সৃষ্টি না হলে, দেশীয় উৎপাদনশীল খাত সমূহকে বিকশিত করতে না পারলে কোনদিনই কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে না। আর, কর্মসংস্থান করতে না পারলে- দেশের বড় অংশই থেকে যাবে কর্মহীন বেকার। অথচ, শাসকগোষ্ঠী এর জন্য শিক্ষাকে দায়ী করতে চায় বারবার। কেন? কারণ তাদের কাছে শিক্ষিত বেকারের তুলনায় মুর্খ বেকার অনেক বেশী নিরাপদ। ফলে, যে কটি কর্মসংস্থান করতে পারে - শুধু সে কজনকেই তারা সেই অনুযায়ী শিক্ষিত করতে চায়। একাজটিই করেছে এদেশের সমস্ত শিক্ষা কমিশন।

নারী শিক্ষাঃ
নারী শিক্ষা প্রসঙ্গে অতি পশ্চাদপদ দৃষ্টিভঙ্গীর প্রকাশ ঘটিয়ে কমিশন বলেছে,
"মেয়েদের গার্হস্ত্য অর্থনীতি থাকা দরকার। কারণ প্রতিটি মেয়েকেই গৃহে জীবনযাপন করতে হবে এবং সে বিষয়ে প্রস্তুতি থাকা আবশ্যক। ......... একই সঙ্গে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং পারিবারিক সেবাও পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করবার প্রয়োজনীয়তা‌ রয়েছে"।

"অষ্টম শ্রেণীর লেখাপড়া শেষ করে আমাদের দেশের বহু মেয়ে পড়াশুনার সুযোগ পায় না। সুতরাং তাদের পাঠ্য বিষয়ে নিম্নলিখিত বিষয়সূচি থাকা একান্ত আবশ্যকঃ শিশুর যত্ন, রুগীর সেবা, স্বাস্থ্যবিধি, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, খাদ্যপুষ্টি, খাদ্য প্রস্তুত, খাদ্য সংরক্ষণ, সূচী শিল্প ও পোষাক-পরিচ্ছদ তৈরি, পুতুল ও খেলনা তৈরি, বাঁশ, বেত ও পাট প্রভৃতি কাজ, পাটি ও মাদুর বোনা, হাঁস-মুরগি ও গৃহপালিত পশুপালন ইত্যাদি"।

স্পষ্টতই এই সুপারিশের মাধ্যমে যারা ড্রপ আউট হয় তারা যাতে না হয় সেরকম কোন দিক-নির্দেশনা তো নেইই, বরং ড্রপ আউট হয়ে বিয়েশাদি-ঘর সামলানো প্রভৃতিতে নিয়োজিত হওয়ার জন্য মেয়েদের উৎসাহিত করা হয়েছে এবং দ্বিতীয়ত যারা ড্রপ আউট হবে না তাদেরও এ ধরণের পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্যই হলো- নারীকে একটা পশ্চাদপদ দৃষ্টিভঙ্গীর মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠার আয়োজন করা। এবং আমাদের এই তথাকথিত সর্বোৎকৃষ্ট প্রগতিশীল শিক্ষা কমিশনের নারী শিক্ষা প্রসঙ্গে সুপারিশের সাথে জামাতের সুপারিশকৃত নারী শিক্ষা বিষয়ক অবস্থানের কোনরূপ পার্থক্য পাওয়া যথেস্ট দুরুহই বলে মনে হয়।

এমন আরো অনেক উদাহরণই হয়তো দেয়া যাবে, কিন্তু খুব প্রয়োজনীয় নয়; কেননা- আমার উদ্দেশ্য শুধু খুদা কমিশনের দৃষ্টিভঙ্গীটি সকলের সামনে তুলে ধরা। অনেক বাহারি চটকদারি কথার ভীড়ে ও কিছু কিছু আপাত ভালো সুপারিশের আড়ালে পড়ে যায়- এই কমিশনের প্রকৃত রূপ, তথা তৎকালীন সরকারের শিক্ষা সম্পর্কিত নীতি বা অবস্থান। আশা করি- আড়াল কিছুটা আড়াল হয়েছে।
০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:১৭

লেখক বলেছেন: কুদরাত-এ-খুদা কমিশনের অনেক ধারাই এখনকার মনমানসিকতার সাথে মিলবে না। কিন্তু আমি উচ্চশিক্ষার ব্যাপারে এই কমিশনের সাথে কিছুটা একমত। আমাদের সবারই কি উচ্চশিক্ষা গ্রহণের প্রয়োজন আছে? নাকি যোগ্যতা অনুযায়ী কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা- যার ক্ষেত্রে যেটা প্রযোজ্য সেটাই বেছে নেওয়া উচিত? উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করার পর যখন দেখা যায় একজন শিক্ষার্থী রিসিপশনিস্ট বা অফিস সহকারীর কাজ করছে (এখানে চাকরি না পাওয়া অবশ্যই বড় বিষয়, কিন্তু যোগ্যতাও যাচাই করে দেখা যায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করলেও দশম শ্রেণীর যোগ্যতাও অর্জন করেত পারে নি অনেকে), তখন কিন্তু এই উচ্চশিক্ষা নিয়েই প্রশ্ন জাগে।

তার চাইতে কারিগরি দিকগুলো নিয়ে পড়ার প্রতি বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। তাছাড়া বেসিক শক্তিশালী না করে উচ্চশিক্ষা দেওয়া আসলে এক ধরনের প্রহসন। এর চাইতে স্বল্প বেসিকেও কারিগরি শিক্ষায় ভালো করা সম্ভব। উপযোগিতা বিচারে এই দিকটির প্রতি লক্ষ করা উচিত। এখানে অবশ্য বামপন্থীরা আলাদা। বিশেষ করে ছাত্র ইউনিয়ন এবং ছাত্র ফ্রন্টের অবস্থান পুরোপুরি বিপরীত।

সচলায়তনে আপনার লেখা পড়লাম। আমার মনে হয়, সেখানে একই ধরনের লেখা না দিয়ে নতুন কিছু দিলে ভালো হবে। বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাদর্শনের দিক দিয়ে আমরা একেবারেই গরীব। সে দিকটি নিয়ে আলোচনা করা উচিত। অবশ্য এটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত। অন্যভাবে নেবেন না, প্লিজ।

২. ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:০৯
অনিশ্চিত বলেছেন: যিনি মাইনাস দিয়েছেন, লেখাটি তাঁর কেন ভালোলাগে নি, জানতে পারলে উপকৃত হতাম। ভুল থাকলে শুধরে নিতে পারতাম। আসলে প্লাস বা মাইনাস দিলে কোনো লাভ হয় না, তার চাইতে কেন প্লাস বা মাইনাস দেয়া হচ্ছে, সেটি জানালে লেখকসহ পাঠক- সবারই উপকার হয়।
৩. ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:১১
দিনমজুর বলেছেন:
একটা প্রশ্ন স্বভাবতই চলে আসে, অনেকেই খুদা কমিশনকে সর্বোৎকৃষ্ট বা প্রগতিশীল প্রভৃতি বিশেষণে অভিহিত করে কেন? এমনকি, সে সময়ে সিপিবি বা ছাত্র ইউনিয়ন সহ বাম সংগঠনও এই কমিশনকে সমর্থন জানিয়েছিল!! কেন??

আমার মনে হয়েছে, বড় অংশই এই কমিশনের সুপারিশগুলো পুরোপুরি না পড়েই প্রচারণার দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে এ কাজ করেছেন। শাসকগোষ্ঠী সবসময়ই তাদের বিভিন্ন নীতিতে ভূমিকা- সূচনা- প্রারম্ভিকা- শিরোনাম প্রভৃতি গালভরা নামে গালভরা গালগল্প করে এবং সেটাই ব্যাপক আকারে প্রচার করে।

বিশ্বব্যংক/আইএমএফ যখন এখানে স্যাপ কর্মসূচী চালু করে তখন এটির গালভরা নাম "কাঠামোগত সমন্বয় কর্মসূচী" দিয়ে এর উদ্দেশ্য হিসাবে প্রচার করতে থাকে খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জন!! আজ আমরা এর সুফল(!!!) মর্মে মর্মে টের পাচ্ছি। তেমনি সকল শিক্ষা কমিশনের মত এই খুদা কমিশনেও শুরুতে অনেক চমৎকার চমৎকার কথা আছে। যেমন- রিপোর্টের সূচনাতে শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যাবলী বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছেঃ
"১.১ শিক্ষাব্যবস্থা একটি জাতির আশা-আকাঙ্খা রূপায়নের ও ভবিষ্যৎ সমাজ নির্মানের হাতিয়ার। কাজেই দেশের কৃষক, শ্রমিক, মধ্যবিত্তসহ সকল শ্রেণীর জনগণের জীবনে নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনের উপলব্ধি জাগানো, নানাবিধ সমস্যা সমাধানের যোগ্যতা অর্জন এবং তাদের বাঞ্ছিত নতুন সমাজতান্ত্রিক সমাজ সৃষ্টির প্রেরণা সঞ্চারই আমাদের শিক্ষা কমিশনের প্রধান দায়িত্ব ও লক্ষ্য। ......."
"১.২ .. শিক্ষার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বোধ শিক্ষার্থীর চিত্তে জাগ্রত ও বিকশিত করে তুলতে হবে এবং তার বাস্তব জীবনে যাতে এর সাম্যক প্রতিফলন ঘটে সে দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।"
"১.৫ দীর্ঘদিনের শোষণ জর্জরিত সমাজে দ্রুত সামাজিক রুপান্তর ও অগ্রগতির জন্য শিক্ষাকে বিশেষ হাতিয়ার রূপে প্রয়োগ করতে হবে। সাম্যবাদী গণতান্ত্রিক সমাজ সৃষ্টির স্বার্থে সকল নাগরিকের মেধা ও প্রবণতা অনুযায়ী শিক্ষালাভের সুযোগ-সুবিধার সমতা বিধান দ্বারা জাতীয় প্রতিভার সদ্ব্যবহার সুনিশ্চিত করতে হবে।"

এমনিতর বহু চিত্তাকর্ষক বক্তব্য মানুষকে ধোকা দিয়েছে। মনে পড়ে আমাদের বাজেট বক্তৃতার কথা। অর্থমন্ত্রী তাঁর দীর্ঘ বক্তৃতার বেশ কয়েক ঘন্টা ব্যয় করেন- আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে, কিভাবে আমরা দ্রুত উন্নয়ন করতে পারি তা নিয়ে, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ- কৃষক-মজুরদের দুর্দশা নিয়ে অনেক গালভরা কথা বলে। অবশ্য দেশের মানুষ এখন এসব কথায় ভুলে না- তাদের অভিজ্ঞতা থেকেই। কেননা, তারা অভিজ্ঞতা থেকেই জানে- এই বাজেট তার অবস্থার উন্নয়নে কোন ভূমিকা রাখতে পারবেনা। কিন্তু স্বাধীনতার পরপরে খুদা কমিশন গঠিত হওয়ায়, এদেশের মানুষের আকাঙ্খা ছিল আকাশ সম, বিশ্বাসও ছিল অনেক- সেই তুলনায় বিশ্বাস ভঙ্গের অভিজ্ঞতা ছিল নগণ্য, (সেতো ছিলো বিশ্বাস ভঙ্গের সূচনা কাল)।

ফলে- অনেক কিছুই তারা সরল মনে বিশ্বাস করে নিয়েছে। এটিই হলো- খুদা কমিশনের প্রতি অনুরাগের মূল কারণ।


আমার ধারণা- আপনিও সে-ই চটকদারি কথায় বিভ্রান্ত একজন।
০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:২৫

লেখক বলেছেন: হয়তো বা আমিও সে-ই চটকদারি কথায় বিভ্রান্ত একজন! কারণ এর পরের কমিশন রিপোর্টগুলো আমাকে খুদা কমিশন রিপোর্টের চাইতেও কম মুগ্ধ করেছে।

তবে একটি বিষয় আমি বোধহয় বুঝাতে পারি নি। আমি আগেও বলেছি, খুদা কমিশন রিপোর্ট সে সময়ের জন্য গ্রহণীয় ছিলো অনেকাংশে, এখনকার জন্য নয়। এটি এমন কোনো রিপোর্ট নয়, যাকে বদলানো যাবে না। বরং এখন আরো অনেক কিছুই পরিবর্তিত হবে। পরবর্তী কমিশনগুলো তো চেতনার দিক থেকে খুদা কমিশনের চাইতেও কয়েক যুগ পেছনে অবস্থান করছে।

আরেকটি বিষয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ। সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোতে যে ধরনের কমিশন নিয়ে চলে, সেটি আমাদের এখানে প্রয়োগ করার কোনো বাস্তবতা নেই, কিন্তু করতে পারলে ভালো হতো। শুনেছি, কুদরাত-এ-খুদা নিজেও অনেক সুপারিশ নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন। কিন্তু বাস্তবতার কারণে সেগুলো করা সম্ভব হয় নি। এটি মাথায় রাখতে হয়।

আপনার সাথে আলোচনা করে একটি লাভ হলো- এই বিষয়গুলো নিয়ে আসলে খুব কম মানুষ আলোচনা করতে চায়। অন্তত আমার অভিজ্ঞতা তাই বলে। সেক্ষেত্রে ইদানিং কয়েকজন আছেন, যারা বিষয়গুলো তুলে আনছেন। নিজেকে তাই আর একা লাগছে না।

এখানে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নামে একটি গ্রুপ আছে। আপনাকে সেখানকার সদস্য হওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। এছাড়া স্রোতের বিরুদ্ধে... গ্রুপেও আপনি যোগ দিতে পারেন। কারণ আপনার অনেক লেখাই স্রোতের বিরুদ্ধে যায়, যেটা এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ।

৪. ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:২৯
দিনমজুর বলেছেন:
উচ্চশিক্ষা নিয়ে আপনার অবস্থান জানলাম। এ ধরণের আলোচনা/বক্তব্যই আশা করছিলাম- কেননা, এ ধরণের সমাজে ব্যাপক প্রচলিত। সে ব্যাপারে একটু পরে আসছি.........

সচলায়তন প্রসঙ্গে একটু বলে নিই। আমি আসলে- সা.ইন থেকে বিদায় নিতে চাই। অপেক্ষা করছি সচলায়তনে সচল হওয়ার জন্য (আপনি কি আমাকে কোনরূপ হেল্প করতে পারেন??), আর এখানেও বেশকিছু পোস্টে কিছু আলোচনা পেণ্ডিং হয়ে আছে- সেগুলোর জন্য। আর, দেখবেন শিক্ষা নিয়ে সা.ইনে কোন পোস্ট দেই নি। উপরের কমেন্ট কিন্তু সচলায়তনেই পোস্ট আকারে দিয়েছিলাম গতকাল। সেটা এখানে কপি পেস্ট করে দিয়েছি- আপনার পোস্টের সাথে রিলেভেন্ট মনে করেই। আশা করি বুঝতে পারছেন।
৫. ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৬
দিনমজুর বলেছেন:
আপনি মনিরুজ্জামান কমিশন দেখেন, আপনি শামসুল হক সাহেবেরটা দেখেন- শুধু যদি সূচনার লক্ষ ও উদ্দেশ্য এসব পড়েন- আপনার মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই, মুগ্ধ যে কেউই হবে।

সাইফুর রহমানের অনেক কথায় আমরা মাঝেমধ্যেই মুগ্ধ হতাম, কালো টাকা নিয়ে - ঋণ খেলাপি নিয়ে যেভাবে সরাসরি কথা বলেছেন- আমরা দারুন মুগ্ধ হতাম, একেবারে অভিভূত হয়ে যেতাম। কিন্তু বাজেট দেখলেই বুঝা যেত- ওনারা আমাদের শুধু মুগ্ধই করতে চেয়েছেন- আর কিছু না!!! কালো টাকা সাদা করা থেকে কত কিই যে আমরা দেখেছি!!!

যাহোক আপনাকে ধন্যবাদ, উচ্চ শিক্ষা নিয়ে পরে বলছি।
৬. ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৪
দিনমজুর বলেছেন:
গ্রুপ ব্লগের কাজ কি?
আমি সমাজতান্ত্রিক গ্রুপ নামে একটি গ্রুপের সদস্য হয়েছি, কিন্তু এখনও আমার কাছে বিষয়টি পরিস্কার না। যেকোন পোস্ট দেয়ার আগে, গ্রুপ সিলেক্ট করে দেই, কিন্তু গ্রুপের স্পেশালিটি কিছু খুঁজে পাইনি। যাহোক, গ্রুপে আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু আমি তো আসলে এই সা.ইন থেকেই বিদায় নিতে চাচ্ছি, ফলে নতুন করে আর কোন গ্রুপে যোগ দেয়ার কথাটা ভাবছি না।

আর আপনি যদি অনুমতি গ্রুপ দুটি নিয়ে দুটি কথা বলতে পারি (আমার নিজস্ব ভাবনা- আপনার ভালো না-ও লাগতে পারে!!)।
০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:৫৫

লেখক বলেছেন: গ্রুপ ব্লগের কাজ ব্যাপক। যদিও আমরা অনেকেই বিষয়টি নিয়ে সচেতন না। গ্রুপের উদ্দ্যেশ্য অনুযায়ী গ্রুপ ব্লগে লেখালেখি হয়, তর্ক-বিতর্ক হয়। সাধারণ ব্লগে বিষয়ের কোনো সীমারেখা থাকে না, সে দিক দিয়ে গ্রুপ ব্লগে এক ধরনের হোমোজেনিটি থাকে। তবে গ্রুপ ব্লগের চর্চা ভালোভাবে হচ্ছে বলে আমি মনে করি না।

সা.ইন থেকে কেন বিদায় নিতে চাচ্ছেন জানি না। অবশ্যই আপনি আরেকটি ব্লগে যোগ দিতে পারেন, সেটা অন্য ব্যাপার। কিন্তু একটি বিষয় খারাপ লাগে- যখন দেখি আমরা অনেকেই ফিল্ড ত্যাগ করি। কোনোকিছু ভালো না লাগলে সেটিকে ভালো করার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করলে অপরপক্ষ পিছু হটতে বাধ্য। আপনি যদি এ ধরনের কোনো কারণে সা,ইন ছাড়তে চান, তাহলে আপনাকে অনুরোধ করবো থাকতে। কারণ একজনের শূন্যস্থান আরেকজন পূরণ করবেই; কিন্তু সেটা লেখা দিয়ে না গালি-ফ্লাডিং দিয়ে, সেটা বলা মুশকিল। যারা গালাগালি বা ফ্লাডিং করেন না, তাদের এখানে থাকা উচিত।

অনুমতি দেওয়া বা না দেওয়ার কোনো বিষয় নয়। আপনি অবশ্যই এখানে আপনার মতামত প্রকাশ করতে পারেন। তাতে কারো ভালো লাগলো বা না লাগলো সেটা বিষয় নয়। আপনার কথার সাথে একমত নাও হতে পারি, কিন্তু যুক্তি দিলে সেটি না শোনার তো কথা নয়! অবশ্যই আপনার ভাবনা শুনতে চাই। ধন্যবাদ।

৭. ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:০৭
দিনমজুর বলেছেন:
আর আপনি যদি অনুমতি দেন গ্রুপ দুটি নিয়ে দুটি কথা বলতে পারি (আমার নিজস্ব ভাবনা- আপনার ভালো না-ও লাগতে পারে!!)।
৮. ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:১১
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: গুরুগম্ভীর আলোচনা ... কউদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের প্রণীত শিক্ষানীতিটি অনলাইনে কোথাও পাওয়া যাবে? ...

শিক্ষার নীতির সাথে সাথে শিক্ষার বিষয়বস্তু, শেখানোর পদ্ধতি -- এবিষয়গুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা এবং পরিবর্তনের প্রয়োজন।

হরলাল রায়ের বই মুখস্থ করে "মাতা-পিতার প্রতি কর্তব্য" পরীখ্ষার খাতায় উগড়ে দেয়ার চেয়ে নিজের মা-বাবকে নিয়ে দু'চার কলম লেখালেই বরং বাচ্চাদের বাবা-মা সম্পর্কে সম্মান বাড়ে --- যদিও উপরের আলোচনার সাপেক্ষে অপ্রাসঙ্গিক, তাও এই দিকটাতেও নজর দেয়া দরকার।
০৬ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ১১:৪০

লেখক বলেছেন: কুদরাত-এ-খুদার শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট অনলাইনে আমি অন্তত পাইনি। শিক্ষার বিষয়বস্তু, শেখানোর পদ্ধতি ইত্যাদি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট এবং টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলো কাজ করছে। তবে তাদের সুপারিশে সরকার আদৌ চোখ বুলায় কি-না জানিনা।

আপনার শেষ মন্তব্যটি অপ্রাসঙ্গিক হলেও অনেক প্রাসঙ্গিক এই অর্থে যে, 'মাতা-পিতার প্রতি কর্তব্য' আমরা মুখস্ত করি। কিন্তু যা পালন করি, সেটি লিখি না। প্রায়োগিক দিকটাকে আমরা সবসময়ই অবহেলা করে আসছি।

আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

৯. ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৫
দিনমজুর বলেছেন:
এখানে থাকার অনুরোধের জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু, অনুরোধ রক্ষা করতে পারবো না বলে দুঃখিত। সা.ইন সম্পর্কে মনোভাবটাই তিক্ত হয়ে গিয়েছে, কি করবো বলুন? তবে এটা অবশ্যই ঠিক যে, আপনাদের মতো অনেক বন্ধুকে মিস করবো।

যাহোক, গ্রুপ ব্লগিং নিয়ে কিছু বলতে চেয়েছিলাম- বলছি ........

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা গ্রুপ নিয়ে কিছু কথাঃ এই গ্রুপে দেখলাম সদস্য সংখ্যা ২০ পোস্ট ১৩ এবং মন্তব্য ২২। আমার খটকা যেখানে লেগেছে- সেটি হলো এখানকার পোস্টগুলো নিয়ে। আপনার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সিরিজ পোস্ট ছাড়া কোন পোস্টকে গ্রুপের উদ্দেশ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ মনে হয়নি। উদাসী স্বপ্নের কমেডি পোস্ট গুলোকে লেগেছে যথেস্ট খাপছাড়া। এখন- অন্যগ্রুপগুলোতে যেকোন পোস্ট চালানো যেতে পারে- কিন্তু এ ধরণের সেকটরাইজড গ্রুপে কি সেটা চলে?
আর, আপনার এই সিরিজে তো গ্রুপের বাকিদের বেশিরভাগকেই তেমন কোন আলোচনা করতে দেখলাম নাহ!!!

তারপরেও বলছি- আমি যদি সা.ইনে থাকতাম- এই গ্রুপের সদস্যপদের জন্য আবেদন করতাম। আশা করবো- এই গ্রুপটি অনেক কার্যকর হোক, সেই সাথে এটাও মনে করি এর মডারেটরদের অনেক ক্রিয়াশীল ভূমিকা রাখা দরকার- গ্রুপের পোস্টের সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে, বিষয়ের দিকে মনোযোগ দেয়া বেশি দরকার।

স্রোতের বিরুদ্ধে..... গ্রুপ নিয়ে কিছু কথাঃ এই গ্রুপের মূল বক্তব্যের সাথে আমি একাত্ম নয়। আমার উদ্দেশ্য কখনও স্রোতের বিরুদ্ধে চলা নয়, ভিন্ন। আমার সে উদ্দেশ্যের কারণে যদি স্রোতের বিপরীতে চলতে হয়- তবে পিছপা হইনা, কিন্তু স্রোতের অনুকূলে চলতে হলেও কোন সমস্যা মনে করিনা।

এটা ঠিক যে, গতানুগতিকতার বাইরে এসে- প্রচলিত ধারা-মত-পথকে অগ্রাহ্য করেই আমরা আজকের জগতের অনেক অর্জন পেয়েছি- কিন্তু আমি মনে করি- সেই অর্জন গুলোর মূলে শুধু শুধু গতানুগতিকতার বাইরে যাওয়াই নয়- বরং মানব সমাজ বিকাশের পক্ষে ভূমিকাই প্রধান। "প্রচলিত যেকোন বিষয়কেই চ্যালেঞ্জ জানানো"কে তাই আমার কাজের কিছু মনে হয় না। বরং প্রচলিত যে বিষয়ের মধ্যে কুমণ্ডুকতা, অন্যায়-অনাচার আছে, সেটিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে আমার আপত্তি নেই- কিন্তু সেই সাথে- প্রচলিত যে বিষয়ে প্রকৃত কোন সমস্যাই পাইনা, তাকেও চ্যালেঞ্জ জানানো আকাম মনে হয়।

আসলে- স্রোতের বিরুদ্ধে চলার মধ্য দিয়ে যারা কেবল আত্মপ্রসাদ লাভ করতে চান, নিজেকে অন্য সকলের থেকে পৃথক ভেবে যারা কেউকেটা হতে চান- তাদের সাথে আমি থাকতে চাই না।

আমি অহেতুক- প্রথা বিরোধিতার বিরোধিতা করি।

তবে আপনাদের গ্রুপের পথচলাকে আশীর্বাদ করি- স্রোতের বিরুদ্ধে চলার ঝোকেও যদি কিছু উপকার হয় দুনিয়ার!!

আপনাকে ধন্যবাদ।


০৬ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৭

লেখক বলেছেন: আপনি এখানে থাকতে পারছেন না বলে আমিও দুঃখ পাচ্ছি। অনেক মানুষের ভিড়ে একজনের সাথে কথা বলার সুযোগ হারাচ্ছি। জানি না কী কারণে ছাড়ছেন। অনেক কারণ হয়তো আছে। আমিও একবার ছাড়ার কথা ভেবেছিলাম। একবার নিষ্ক্রিয় হয়ে ছিলাম কিছুদিন। কিন্তু তারপরও ছাড়িনি। এতো সহজে মাঠ ছাড়তে ইচ্ছে করে না। তবে আপনি কর্তৃপক্ষের কাছে আপনার ছাড়ার কারণটি যদি জানিয়ে যান, তাহলে হয়তো কর্তৃপক্ষ আপনার মতো আরো অনেককেই যাতে হারাতে না হয়, সেরকম উদ্যোগ নিতে পারে। অবশ্য কর্তৃপক্ষ যেভাবে ঘুমায়!!! (এই মন্তব্যের পর না জাগলেই হয়...)

শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রুপটি নিয়ে আপনার কথা সত্য। দ্বিমতের কোনো অবকাশ নেই। কিন্তু আমরা চেষ্টা করছি অনেকেই। সর্বদাবেলায়েত, একরামুল হক শামীমরা চেষ্টা করছেন। কিন্তু ব্লগারসদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই আসলে একটি গ্রুপকে কার্যকর করে তুলে। সে হিসেবে আমি নিজেও অনেকটা দোষী। প্রথম অনেকদিন এখানে লিখিনি। এখন চেষ্টা করছি। আপনি থাকলে ভালো হতে। তবে এখন যারা প্রকৃতপক্ষেই এ বিষয়ে আলোচনা করতে উৎসাহী তাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে।

আপনি গ্রুপের সদস্য হলে স্রোতের বিরুদ্ধে... গ্রুপব্লগে আপনার আপত্তিটি নিয়েই একটি পোস্ট হতে পারতো। কারণ আপনার বক্তব্য স্রোতের বিরুদ্ধেই যায়।

এখানে আমার বক্তব্য একটু অন্যরকম। হ্যাঁ, আমরা যারা এই গ্রুপের সদস্য, আমরা স্রোতের বিরুদ্ধেই চলতে চাই। সবাই হয়তো সব ধরনের স্রোতের বিরুদ্ধে যেতে পারবো না, কিন্তু যার যে ধরনের স্রোতের বিরুদ্ধে যাওয়ার ক্ষমতা আছে, সে সেই স্রোতের বিরুদ্ধেই যেতে চাই। আর সবকিছুই আসলে পরিবর্তনশীল। আজকের যা অর্জন, তাও আগামীতে বদলাতে হবে। এই সময়ের জন্য প্রয়োজন হলেই তাকে ধরে রাখতে হবে, তেমনটি মনে করতে পারছি না। তাছাড়া প্রচলিত অনেক বিষয়ই আছে, যেগুলোতে সমস্যা আপাতত না পাওয়া গেলেও তার চাইতে ভালো কোনো অপশন বের করতে তো সমস্যা নেই। সেই লক্ষ্যেই আমাদের এ যাত্রা।

তবে একটি বিষয় নিয়ে আমরাও স্রোতের পক্ষে। এখানে মুক্তিযুদ্ধ চেতনাবিরোধী কোনো কিছু স্থান পাবে না। তবে আমরা বিচার করবো লেখাকে, লেখককে নয়।

সবকিছু নিয়ে আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। দুঃখ পাচ্ছি আপনাকে হারাচ্ছি বলে।

১০. ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৬
দিনমজুর বলেছেন:
উচ্চশিক্ষা নিয়ে আপনার মতের সাথে আমার দ্বিমতের কথাগুলো রাতে বলার আশা করছি, এখন অফিস থেকে বের হচ্ছি........

ভালো থাকবেন।
১১. ০৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:০২
দিনমজুর বলেছেন:

উচ্চ শিক্ষার ব্যাপারে ব্যাপক ভাবে প্রচার করা হয়, উচ্চশিক্ষা সবার জন্য প্রয়োজন নেই। উচ্চ শিক্ষিত একজনকে তো কেরানীর কাজ দিতে পারেন না। সবাই যদি উচ্চ শিক্ষিত হয়, তবে রিকশা চালাবে কে? রাস্তা ঝাড়ু দিবে কে? ক্ষেত খামারে চাষাবাদ করবে কে?

এবং মজার ব্যাপার হলো- এই প্রচারণায় আমরা সহজে শিক্ষার মূল লক্ষ ও উদ্দেশ্যের বিষয়টি হারিয়ে ফেলি...........
০৯ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ১১:৫০

লেখক বলেছেন: এভাবে বললে তো মুশকিল!! আমি সবার উচ্চশিক্ষা সমর্থন করছি না, তার মানে তো এটা না যে আমি তাদেরকে কেরানী, রিকশাওয়ালা, ঝাড়ুদার বা কৃষক বানাতে চাচ্ছি।

উচ্চশিক্ষা এক জিনিস, আর দক্ষ মানুষ হওয়া আরেক জিনিস। উচ্চশিক্ষিতরা তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি একজন দক্ষ মানুষ হবে। কিন্তু সবার কি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করার মতো সমান ও পর্যাপ্ত মেধা রয়েছে কি-না, সেটাও যাচাইযোগ্য। আজকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়ছে, তারা সবাই এখানে আসার যোগ্য বলে আমি মনে করি না। তাছাড়া উচ্চশিক্ষা বা বিশ্ববিদ্যালয় কনসেপ্টও সেটা সমর্থন করে না। অবশ্য আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয় কনসেপ্টটাই বিতর্কিত। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে অধিকতর পড়াশোনা হওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মৌলিক বিষয়গুলো উপেক্ষিত। বদলে কারিগরি-সম্পর্কিত বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে অধিকহারে।

বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান সৃষ্টির জায়গা। করিগরি দক্ষতাশিক্ষা তা বৃদ্ধির জায়গা। দুটোর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ভিন্ন। শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে কিন্তু সবাইকে উচ্চশিক্ষিত বানাতে চায় না। জ্ঞানসৃষ্টির মতো যোগ্যতা যাদের আছে, তারা জ্ঞান সৃষ্টি করবে। জ্ঞান প্রয়োগ করার যোগ্যতা যাদের আছে, তারা সেটির দক্ষতা আয়ত্ত করে প্রয়োগ করবে।

একটা বিষয় অবশ্য এখানে ভাবতে হবে, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কেবল অর্থের অভাবে বা অন্যান্য সুযোগ সুবিধার অভাবে কেউ যেন উচ্চশিক্ষা বা কারিগরি বা কোনো ধরনের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়। এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

১২. ০৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:৩৫
দিনমজুর বলেছেন:
সরি- বিহংগ ও পুতুলের পোস্টে সময় দিতে গিয়ে এটাতে আলোচনা করা হচ্ছে না- আশা করি, আগামীকাল অবশ্যই আমার কথাটা বলে ফেলবো........ সে পর্যন্ত আপনার ধৈর্য ভিক্ষা করছি.......

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৭২৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
শুয়েছে ভোরের রোদ ধানের উপরে মাথা পেতে
অলস গেঁয়োর মতো এইখানে কার্তিকের ক্ষেতে;
মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার,-চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ,
তাহার আস্বাদ...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ