আমার প্রিয় পোস্ট

হয়তো আমি কোন কিছু সম্পর্কে নিশ্চিত নই

সমাজতন্ত্র: ব্যক্তিগত-সংকীর্ণ অভিজ্ঞতার আলোকে হৃদয়যাতনার কথা - ১

২৯ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:০৬

শেয়ারঃ
0 0 0

আদর্শিক দিক বিচারে সমাজতন্ত্র ও ইসলাম পৃথিবীর দুই অন্যতম বৃহৎ প্রপঞ্চ। দুটোর বাস দু’মেরুতে হলেও তাদের মধ্যে সাধারণ একটি মিল রয়েছে- নিজস্ব স্বার্থবিচারে এবং নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে দুটোই সাম্রাজ্যবাদবিরোধী, যদিও সমাজতন্ত্র একইসাথে উপনিবেশবাদবিরোধী- সেটা সরাসরিই হোক বা মনোজগতে। আজকাল অবশ্য কেউ কেউ সমাজতন্ত্রে ইসলামিক উপাদান খুঁজে পাচ্ছেন, ইসলামিক ব্যাখ্যা দ্বারা সমাজতন্ত্রের তত্ত্বগুলোকে বিচার করার চেষ্টা করছেন। একইসাথে অনেকে ইসলামের জীবনব্যবস্থায় সমাজতন্ত্রের সূত্রের যোগসূত্র দেখানোর মাধ্যমে বলার চেষ্টা করছেন- দুটো পরস্পরবিরোধী নয়; বরং অনেকক্ষেত্রে যুগপৎ।

এই কথাগুলো মনে পড়লো িনেকার বিতর্ক পোষ্ট- সমাজতন্ত্রের প্রায়োগিকতা পড়তে গিয়ে। আমাদের দেশে ‘বড় সমাজতান্ত্রিক’ কিংবা ‘নামকরা কমিউনিস্ট’ কিংবা ‘একদা কমিউনিস্ট’ বলে খ্যাত-বিখ্যাত হয়েছেন অনেকেই। এই উপাধাগুলো তাদের নামের সাথে লাগানোর সাথে সাথে তাদেরকে সমাজতান্ত্রিক জগতের তাত্ত্বিক ব্যাখ্যাদার হিসেবেও স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। রাজনীতিবিদ হিসেবে একজন কমিউনিস্ট এবং সমাজতান্ত্রিক নেতার সাথে একজন তাত্ত্বিকের কিছু পার্থক্য থেকে যায়। এই পার্থক্যটি আমাদের দেশে দেখা যায় না। এখানে যিনি যতো বড় নেতা, তিনিই ততো বড় তাত্ত্বিক। কেউ হয়তো ব্যতিক্রম হিসেবে বদরুদ্দিন উমর বা এরকম কারো নাম বলতে পারেন, কিন্তু এখানে মনে রাখা দরকার, বড় নেতা বলতে এখানে বিশাল সমর্থকদের নেতা বা বড় পার্টির নেতা বুঝানো হচ্ছে না। প্রচার মাধ্যমে যাকে যতো বেশি দেখা যাবে, তাকে ততো বড় নেতা হিসেবে মেনে নিতে হবে। আলাদা কোনো তত্ত্বচর্চা এবং গবেষণার সংস্কৃতি এখানে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ফলে সমসাময়িক রাজনীতির প্রতিক্রিয়া দেখানো ছাড়া সত্যিকার অর্থে সমাজতান্ত্রিক জ্ঞানচর্চার আবহ এখানে বিরল।

ঠিক উল্টো ঘটনাটি ঘটছে প্রপঞ্চ হিসেবে ইসলামের জগতে। সমাজতান্ত্রিক বা কমিউনিস্টরা যে কাজটি করতে পারছে না, সেটি সেখানে হচ্ছে- আপাতসফলভাবে, সীমিত আকারে হলেও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে। ফলে যে কর্মকৌশল নিয়ে ইসলামের তাত্ত্বিকরা এগিয়ে যাচ্ছেন, তার বিপরীত চিত্রই আসলে দেখা যায় এই জগতে। এই কর্মকৌশলের প্রভাব কতদূর, তা বুঝা যাবে সমাজতান্ত্রের কর্মীরা যখন বুঝে বা না বুঝে ইসলামিক সমাজতন্ত্রের কথা বলেন। পাশাপাশি ফরহাদ মজহার গ্রুপ যখন লাদেনকে ক্রুসেডের মহানায়ক বানান, তখন ইসলামিক তাত্ত্বিকদের কর্মকৌশলের প্রভাবের মাত্রাটা বেশ টের পাওয়া যায়।

এই শিরোনামে ধারাবাহিক যে লেখাগুলো পোস্ট করা হবে, তা পুরোপুরিই ব্যক্তিগত (এবং সংকীর্ণ) অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মন্তব্যের সাধারণীকরণ হয়ে যেতে পারে, যেমন এই পোস্টে সব মন্তব্যই করা হয়েছে সাধারণীকরণ করে, তবে পরবর্তী পোস্টগুলোতে সেগুলোর ব্যাখ্যা থাকবে। যারা পড়বেন, তাদের শুধু এটুকু মনে রাখতে হবে, কোনো তাত্ত্বিক নয়, একজন সাধারণ মানুষ কমিউনিস্টদের কাছ থেকে যা প্রত্যাশা করে, যেভাবে প্রত্যাশা করে, এই পোস্টগুলোতে হয়তো তারই প্রতিফলন ঘটবে। বিতর্ক সৃষ্টি একটি বড় ব্যাপার, সেটি হলে ভালো; না হলেও খুব একটা ক্ষতি নেই- মানুষের প্রত্যাশার লাইন বড় হওয়া ছাড়া।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: সমাজতন্ত্র  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:২০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৯ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:২২
চে বলেছেন: আগ্রহ নিয়ে আছি পরের পর্ব গুলোর জন্য।
২৯ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:৪৯

লেখক বলেছেন: আমি পরিকল্পনা হচ্ছে, আস্তে ধীরে লিখবো, হয়তো কিছুটা সময় লাগবে। তবে আমি যা বলতে চাই, আমার চিন্তাভাবনা সবগুলো এখানে থাকবে। পড়ার পর মন্তব্য দিলে খুশি হবো। মন্তব্য বিপক্ষে হলে আরো ভালো। চিন্তাভাবনাগুলোকে শানানো যাবে। আপনাকে ধন্যবাদ।

২. ২৯ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:৩১
হ্যারি সেলডন বলেছেন: চরম ডান আর চরম বামদের মধ্যে আদর্শগত চরম অমিল থাকলেও পদ্ধতিগত চরম মিল পাওয়া যায়। চরম ডানরা কিছুটা সফল হওয়ার কারণ হচ্ছে পরকালের লোভ দেখিয়ে ব্রেনওয়াশ, মধ্যপ্রাচ্যের সাহায্য। কিন্তু সোভিয়েটদের পতনের পর চরম বামদের নেই কোন ফান্ডিং আর পরকালের কোন কিছুইত তারা বিশ্বাস করেনা। তাই তাদের সফলতা নেই।

তবে চরম বামরা যেভাবে চরম ডানে লাফ দেয় সেটা দেখলেই বুঝা যায় তাদের আসলে কমিটমেন্ট কোনদিন ছিলনা। নাহয় একজন আল-মাহমুদ, ফরহাদ মজহার, মান্নান ভুঁইয়া, শাজাহান সিরাজ, আসম রব এভাবে বিক্রি হতেননা।
৩. ২৯ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:৩৪
এস্কিমো বলেছেন: পড়ার জন্যে অপেক্ষায় থাকলাম।
৪. ২৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:০৭
চে বলেছেন: চরম বাম বলতে কি বোঝালেন, হ্যারি সেলডন? আর বামই বা কি?

মান্নান ভুঁইয়া, শাজাহান সিরাজ, আসম রব বাম ছিলেন!

ন্যাপ আর জাসদ তো তাত্বিকভাবেও কোনকালে বাম ছিল না। সমাজতন্ত্র বানান করতে পারলে যদি তারে বাম বলেন তাহলে হিটলার সবচেয়ে বড় বাম। তার দলের নাম ছিল-জাসদ। আওয়ামী লীগও বাম। তাদের চার মুলনীতির একটা সমাজতন্ত্র। আওয়াজ অনেকেই দেয়।

বদরুদ্দিন উমর আর আল মাহমুদরা একসময় প্রগতি প্রকাশনার লাল মলাটের বইগুলা পড়ত আর সুন্দর করে নিজের ভাষায় লিখতে পারত। এরাও বাম!

আ: হক, তোয়াহা, সিরাজ সিকদার, চারু মজুমদার, চে গুয়েভারা.......এরাও বাম আর মান্নান ভুঁইয়া, শাজাহান সিরাজ, আসম রব, বদরুদ্দিন উমর আর আল মাহমুদরাও বাম। মতিয়া চৌধুরীকে এই দলে ফেললেন না কেন? কাজী জাফর?

আরে ভাই সেই সময় কারও টেবিলে এক আধখান লাল বই না থাকলে সে স্মার্টই না আর মুখে সমাজততন্ত্রের বুলি না থাকলে রাজনীতি পানসে মনে হত।

বামের কথা বলা আর বাম হওয়ার মধ্যে ফারাক অতটুকুই যতটুকু অবাস্তব কিন্তু অসম্ভব নয় বিপ্লবের পিছনে ছোটা চারু অথবা চে বনাম চারুর জীবনী মুখস্ত করা আজিজ মার্কেটের যুবক অথবা চে-র ছবি সম্বলিত টি শার্ট পরিহিহিত যুবকের মধ্যে।
৫. ২৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:২৪
অনিশ্চিত বলেছেন: অবশ্য একইভাবে মায়ানমারের সামরিক জান্তা কিংবা খেমাররুজ নেতা পলপটও বাম ছিলেন।
৬. ২৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:২৬
চে বলেছেন: ধন্যবাদ, অনিশ্চিত।
৭. ২৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৯
হ্যারি সেলডন বলেছেন: চারু মজুমদারও এযুগে মনে হয় বাম থেকে ডান হয়ে যেত। ভুপেন হাজারিকার মত!

যাদের উদাহরণ দিলাম তারা কি এককালে ঘোর বাম ছিলেননা? এখন ডান হয়ে যাওয়াতে কি তাদের সেকালের সব ইতিহাস মিথ্যা হয়ে গেল? রব আর শাজাহান সিরাজরা কি ছাত্রজীবনে বাম ছিলেননা? নাকি এখন সুবিধাবাদী হয়ে গেছে বলে এদেরকে একসময় বাম ছিলনা বলবেন? টাকায় বাম-ডান সবাইকেই কিনে ফেলে। @চে ।
৮. ২৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৬
অনিশ্চিত বলেছেন: এখানে যে নামগুলো লেখা হয়েছে, সবাইকে এক কাতারে বিবেচনা করা চলে না। প্রত্যেকের ব্যাকগ্রাউন্ড দেখা দরকার। ফরহাদ মজহার, মান্নান ভুইয়া আর আসম রব- তিনজন তিন ধরনের বাম ছিলেন।

আর চারু মজুমদার এ যুগে ডান হয়ে যেতেন- এ সিদ্ধান্ত আসলে আমরা দিতে পারি না। - হ্যারি
৯. ২৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১:০২
হ্যারি সেলডন বলেছেন: অনিশ্চিত, আমি যাস্ট বললাম। চারু মজুমদারকে ভীষণ শ্রদ্ধা করি। কিন্তু ভূপেন হাজারিকাকেও করতাম। চারু মজুমদার যদি ৬০'র ডশকে না হয়ে ৯০'র দশকে হতেন তাহলে তিনি যে ডান হতেননা তার কোন গ্যারান্টি নেই। বেশিরভাগই তো হয়।


মান্নান, ফরহাদ, রব- আমি খুব ভালমতেই জানি ওরা তিনজন তিন ধরণের বাম ছিলেন। কিন্তু পরিণতি তো একই।


নক্সালরা ভুলপথে চললেও আমি তাদের ভীষন শ্রদ্ধা করি। কালবেলা, কালপুরুষ, পূর্ব-পশ্চিম পড়ে তাদের জন্য চোখের পানিও ফেলি। কিন্তু বাংলাদেশে বামদের কোন ভবিষ্ৎ নেই। এটা পরিষ্কার। হয়ত সারা বিশ্বেই নেই, কি জানি। পুঁজিবাদের থাবায় সব ধুয়ে মুছে একাকার।
১০. ২৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১:০৮
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন: হ্যারির সাথে একমত।
নক্সালরা ভুলপথে চললেও আমি তাদের ভীষন শ্রদ্ধা করি। কালবেলা, কালপুরুষ, পূর্ব-পশ্চিম পড়ে তাদের জন্য চোখের পানিও ফেলি। কিন্তু বাংলাদেশে বামদের কোন ভবিষ্ৎ নেই। এটা পরিষ্কার। হয়ত সারা বিশ্বেই নেই, কি জানি। পুঁজিবাদের থাবায় সব ধুয়ে মুছে একাকার।
১১. ২৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ২:১৫
অনিশ্চিত বলেছেন: একটা উদাহরণ প্রায়ই দিয়ে থাকি- মিডিয়ার এ যুগে গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করলে তাঁর বোধিত্ব পাওয়া কঠিন হতো। কারণ মিডিয়া আমাদেরকে গ্রাস করে নিচ্ছে, আমাদের নিজস্বতা দিন দিন গুরুত্ব হারাচ্ছে, আমরা স্বকীয়তা হারানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছি। আমাদের আবেগ-অনুভূতিও এখন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বহুজাতিকের হাতে।

মিডিয়ার এই বিপজ্জনক বৈশিষ্ট্য কিন্তু রাজনীতির ক্ষেত্রেও আমাদের ভুল পথে নিয়ে যায়। নকশালরা ভুল পথে আছে কি-না, বামদের কোনো ভবিষ্যৎ আছে কি নেই- এসব বিষয়ের ব্যাখ্যা আজকাল আমরা দিচ্ছি মিডিয়ার কাছ থেকে ধার করে। নিজস্ব পর্যালোচনা এখানে অবান্তর। ডানপন্থী মিডিয়ার অর্থের প্রাচুর্য অনেক, ফলে সে বারবার প্রচারণা চালিয়ে আপনাকে বিশ্বাস করিয়েই ছাড়বে যে, বামদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই।

নেপালে মাওবাদীরা যখন নব্বইয়ের দশকের শুরুতে আন্দোলন শুরু করেছিলো, তখন তাদেরকে নকশালপন্থীদের উত্তরসূরি হিসেবে চিহ্নিত করে বলা হয়েছিলো- এদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই; এমনকি এদের চিহ্নিত করা হয়েছিলো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ভারতও এসব মাওবাদীদের নিয়ে চিন্তিত ছিলো। অথচ আজকে সেই ভারতের সুর পাল্টেছে। পাল্টেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুরও। তাদের সাথে তাল মিলিয়ে সুর পাল্টেছে মিডিয়ারও। একই মিডিয়ার তিন বছর আগের খবর, আর এখনকার খবর মিলিয়ে দেখুন- নেপালের বামপন্থী আন্দোলন নিয়ে তাদের সুর বদল কতটাই নাটকীয়!

সুতরাং ভুলপথ-শুদ্ধপথ এগুলো আসলে মিডিয়া আমাদের ঠিক করে দিচ্ছে। প্রত্যেকের উচিত হবে ভুল-শুদ্ধ বাদ দিয়ে তার নিজস্ব দেশের জন্য কোনটি উপযোগী, সেটির বিষয়ে মনোযোগী হওয়া।
১২. ২৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ২:২৫
হ্যারি সেলডন বলেছেন: অনিশ্চিত, আপনার কমেন্ট খুবই ভাল লেগেছে। বামপন্থীদের নিয়ে আসলে হতাশ হতে হতে এমন জায়গায় চলে গেছি! সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সফল হওয়ার জন্য আমার মনে হয় নন-ইসলামিক দেশ হওয়া বান্ঞণীয়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশে সমাজতন্ত্র তেমন সফলতা পাচ্ছেনা। বাংলাদেশের মত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সফল হওয়ার মত এমন উর্বর ক্ষেত্র মনে হয় খুব কমই আছে। অথচ কিছুই হচ্ছেনা। একসময় আশায় থাকতাম যে হয়ত সমাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ আছে দেশে, এখন সেই আশা আর করিনা।

তবে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব হলেও কি হবে। শেষ পর্যন্ত আসল সমাজতন্ত্র আর থাকেনা। শুধু সমাজতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্র কায়েম হয়। মানুষের সমস্ত প্রকার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। তবুও মনে হয় পুঁজিবাদ থেকে শতগুনে ভাল।
১৩. ২৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ২:৩৬
জামাল ভাস্কর বলেছেন: দক্ষিণ আমেরিকা আর ইউরোপের পূর্ব আর দক্ষিণ পশ্চিমে যখন সোশ্যাল ডেমোক্রেটগো জয় জয়কার চলতেছে...ঠিক সেই মুহুর্তে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে ইসলামী জঙ্গীবাদের উত্থান কি কোন সন্দেহ তৈরী করে না?

সমাজতন্ত্রের সম্ভাবনা দেখাইন্যা সোশ্যাল ডেমোক্রেটরা ধান্দাবাজ হইতে পারে...কিন্তু তাগো লিফলেট কিন্তু সমাজতন্ত্রেরই আহ্বান...
১৪. ২৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ২:৪১
হ্যারি সেলডন বলেছেন: সোশ্যাল ডেমক্রেটদেরকে অনেকেই সমাজতন্ত্রী মনে করেনা। কিন্তু পুঁজিবাদ থেকে তারা কি অনেক ভাল নয়? @জামাল ভাস্কর।
১৫. ২৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ২:৪২
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: সমাজতন্ত্র: ব্যক্তিগত-সংকীর্ণ অভিজ্ঞতার আলোকে হৃদয়যাতনার কথা

শুধু এমন শিরোনামের জন্যই লেখাটি পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম । আমাদের বাঙালীদের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য হল , নিজের চিন্তা চেতনার সাথে অমিল হলেই তাকে নৃশংস ভাবে আক্রমণ করা , নিজের চিন্তা ভাবনাকে ঐশীজ্ঞান করা । এই বৃত্তের বাইরে বেরিয়ে আসার জন্য আপনাকে আগাম কৃতজ্ঞতা ।

১৬. ২৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ২:৪৫
জামাল ভাস্কর বলেছেন: সোশ্যাল ডেমোক্রেটরা আশার আলো দেখায়...কিন্তু আলোর উৎস নিয়া মাথা ব্যথা তাগো কম...তয় আমি ইসলামী জঙ্গীবাদের উত্থানে ষড়যন্ত্রের আভাষ পাই...তৃতীয় বিশ্বেও নাইলে হয়তো মাথাচাড়া দিতো সোশ্যাল ডেমোক্রেটরা নাইলে সমাজতান্ত্রিক শক্তি...
১৭. ২৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ২:৪৫
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: আমার ব্যক্তিগত অভিমত বলি , চরমপন্থা শেষ পর্যন্ত সর্বত্রই বিষবৃক্ষের আকার পেয়েছে । নতুন মিক্সড কনসেপ্টটা বরং অনেক বেশি ফিজিবল মনে হয় ।

ইউরোপের দেশগুলোতে যেমন সোশ্যাল ডেমোক্রেট , ঠিক একই ভাবে তুরস্কে ইসলামপন্থি একে পার্টি
১৮. ২৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ২:৫১
চে বলেছেন: হ্যারি সেলডন, আমি খুব ভাল লিখতে পারি না বলে বোঝাতে পারি নি। আমার বক্তব্য হচ্ছে, মান্নান ভুঁইয়া, শাজাহান সিরাজ, আসম রবরা কোন কালেই বাম ছিলেন না। এমনকি বদরুদ্দিন উমর আর আল মাহমুদরাও!

তারা এককালে বামের কথা বলতেন। 'এখন সুবিধাবাদী' হওয়ার পর আর বলাটাও বলেন না। সুবিধাবাদী তারা সবসময় ছিলেন। তখন বামের কথা বললে যে সুবিধা পাওয়া যেত এখন বামের কথা না বললে তা পাওয়া যায়। শহুরে বিলাসী, আয়েশী জীবন সবসময়ই তারা যাপন করেছেন।

বাস্তবতাটা মাথায় রাখবেন। আপানার কথাই চারু এ যুগে ডানে যেতেন। হ্য়ত যেতেন। কিন্তু যতক্ষন, যতদিন যেতেন না ততদিনের তাদের কাজ দিয়ে বলা যায় তারা বাম ছিলেন। কিন্তু রবরা কখনই বাম ছিলেন না। অন্য দলে ছিলেন। তখন সেটাতেই থাকলেই সুবিধা বেশী।

দুনিয়াতে বাম আসার আগ পর্যন্ত বলাবলি দিয়ে রথী-মহারথী হতেন (রুশো, ভলতেয়ার, রাসেল.........)। বামই প্রথম চোখে আংগুল দিয়ে দেখাল বলার চেয়ে করাটা, করতে যাওয়াটা জরুরী। বামের সবচেয়ে বড় 'বলার' গুরুও (মার্কস) এটা বোঝার পর করার চেস্টা করেছিলেন এবং সাময়িক সাফল্যও পেয়েছিলেন।

রব, ভুইয়ারা কবে কি করেছিলেন একটু বলবেন? দয়া করে বলবেন না উনারা অমুক দল তমুক দল করেছেন যেগুলো বাম দল।
১৯. ২৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ২:৫৪
দিনমজুর বলেছেন:
চে বলেছেন,
"......আ: হক, তোয়াহা, সিরাজ সিকদার, চারু মজুমদার, চে গুয়েভারা.......এরাও বাম আর মান্নান ভুঁইয়া, শাজাহান সিরাজ, আসম রব, বদরুদ্দিন উমর আর আল মাহমুদরাও বাম। মতিয়া চৌধুরীকে এই দলে ফেললেন না কেন? কাজী জাফর?"

======>>>>>>

মান্নান ভুঁইয়া, শাজাহান সিরাজ, আসম রব, আল মাহমুদ, মতিয়া চৌধুরী, কাজী জাফর এদের সাথে এক লাইনে কি বদরুদ্দিন উমর এর নামটি খাপ খায়??? তিনি কতখানি কি করতে পেরেছেন সে প্রসঙ্গ ভিন্ন, তবে ওনাকে কি এই লিস্টের এক সময়কার তুখোড় বামদের মত কি পল্টি খেতে দেখেছেন??
২০. ২৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ২:৫৫
চে বলেছেন: চমতকার আলোচনার জন্য হ্যারি সেলডন, অনিশ্চিতকে ধন্যবাদ। এ আলোচনায় দিনমজুরকে মিস করছি। উনি হয়ত আমি যা বলতে চাচ্ছি তা আরও গুছিয়ে লিখতে পারতেন।
২১. ২৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ২:৫৮
হ্যারি সেলডন বলেছেন: চে, বদরুদ্দিন ওমরের ব্যাপারে আমি দ্বিমত পোষণ করছি। তিনি এই বুড়া বয়সেও টাকার জন্য ডানপন্থীদের ভিড়ে চলে যাননি। তার নিশ্চয়ই শ্রদ্ধাটা প্রাপ্য।
২২. ২৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ২:৫৯
চে বলেছেন: কি মজা, দিন মজুরকে মিস করছি বলে কমেন্ট করার পরই দেখি উনি হাজির।

"মান্নান ভুঁইয়া, শাজাহান সিরাজ, আসম রব, আল মাহমুদ, মতিয়া চৌধুরী, কাজী জাফর এদের সাথে এক লাইনে কি বদরুদ্দিন উমর এর নামটি খাপ খায়???"

এক লাইনে অবশ্যই খাপ খায় না ।

আপনার মন্তব্য পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম।
২৩. ২৯ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৩:০২
চে বলেছেন: বদরুদ্দিন উমরকে আমি সরলীকরন করে এক কাতারে বলেছি। দু:খ প্রকাশ সহ মন্তব্যের ঐ অংশ প্রত্যাহার করছি।
২৪. ২৯ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৩:১১
দিনমজুর বলেছেন:
@অনিশ্চিত,
আপনার এক জায়গায় দেখলাম আপনি লিখেছেন, সমাজতান্ত্রের কর্মীরা যখন বুঝে বা না বুঝে ইসলামিক সমাজতন্ত্রের কথা বলেন...।

আসলেই কি কোনও সমাজতন্ত্রী বা সমাজতন্ত্রের কর্মী ইসলামিক সমাজতন্ত্রের কথা বলতে পারে????

যখন মাজহার গ্রুপ বা আরো একসময়ের সমাজতন্ত্রী এই ধরণের কথা বলেও, তখন কি সে নিজেকে একজন সমাজতন্ত্রী বলে মনে করে? দেখুন, একজন মানুষ তার জীবদ্দশায় পাল্টে যেতে পারে, তার জীবন বোধ, তার সংগ্রামের ধরণ, চিন্তা-চেতনা-আদর্শ অনেক কিছুই চেঞ্জ হতেই পারে। কিন্তু, আগের চেতনাগত পরিচয় দিয়ে পরবর্তী পরিবর্তিত চেতনাকে তুলে ধরাটা কি ঠিক? ধরেন, একজন চুড়ান্ত আস্তিক ও ধার্মিক ব্যক্তি একসময় নাস্তিক হলো। এখন কি বলবো যে, ধার্মিক ব্যক্তি অমুক ঈশ্বরকে গালি দেয়!! না-কি যে মুহুর্তে সে গাল দিচ্ছে, সে মুহুর্তে সে আস্তিক/ধার্মিক না নাস্তিক সেটি দেখবো??
২৫. ২৯ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৩:১৮
দিনমজুর বলেছেন:
চে,

রব ভাইয়েরা, শাহজাহান সিরাজরা কিন্তু একসময় কিছুই করেন নি- এটা বলতে পারিনা। এমন কি কাজী জাফররাও। হয়তো সমাজতন্ত্রের মধ্যে রোমান্টিসিজমের খোঁজ পেয়ে, হয়তো আবেগের বশে, হয়তো তারুন্যের জোশে অনেক অনেক কারিশমাও ওনারা একসময় দেখিয়েছিলেন- কেউ কেউ শ্রমিক বেল্টে-কৃষক বেল্টে, বস্তিতে ছুটেও গিয়েছিলেন- ওনারা যে বিপ্লবের স্বপ্ন, সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন কখনো দেখেননি- সেটাও জোর গলায় বলতে পারি না। তবে, ওনাদের ১৮০ ডিগ্রী চেঞ্জে দুঃখ পেলেও কষ্ট পাই না।

কেননা, এ ধরণের সমস্ত আয়োজনই তো এই পুঁজিবাদী সমাজে আছে। এ সমাজ যখন একটা মানুষকে তার ব্যক্তিপ্রবণতাকে যেভাবে প্রতিনিয়ত টান দেয়- সেখানে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকাটা খুব কষ্টের, দারুন সংগ্রামের এটা মানি। আর, মিডল ক্লাস তো সবচেয়ে বড় দোলায়মান অংশ!! তাই, ওনাদের সেই ইউ টার্ণ দেখে এখন যতখানি না শকড হই, তার চেয়ে শিক্ষা পাই।
২৬. ২৯ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৩:১৯
দিনমজুর বলেছেন:
তবে, ওনাদের ১৮০ ডিগ্রী চেঞ্জে দুঃখ পেলেও কষ্ট পাই না ===>>> তবে, ওনাদের ১৮০ ডিগ্রী চেঞ্জে দুঃখ পেলেও অবাক হই না।

২৭. ২৯ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৮
দিনমজুর বলেছেন:
অনিশ্চিত,

এবারে আপনার পোস্টের ব্যাপারে আসি।

আজ ইসলামকে আমরা যে রূপে দেখছি, ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েমে যেভাব জীবনপাত করতে দেখছি, যে গ্লোবাল রূপে দেখছি- সেটির ইতিহাস কতদিনের এবং কিরূপ?? আমার মনে হয় এ বিষয়টি আগে বুঝা দরকার।

৫০ এর দশকে, ৬০ এর দশকে আমরা কি এমনটি দেখেছি? তখন কি তালেবান, লাদেন রা ছিল? হরকাতুল জিহাদরা ছিল? গোটা দুনিয়ার কোথাও কি ছিল???

যখন থেকে মার্কিন সম্রাজ্যবাদ তথা অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদীরা মধ্য প্রাচ্যের তেলের গন্ধ পাওয়া আরম্ভ করলো- তখন থেকেই কিন্তু ধীরে ধীরে সিনারিও পাল্টাতে শুরু করলো। ৯০ এর সোভিয়েত পতনও একটি ফ্যাক্ট। আপনার কি মনে হয় না- এ ধরণের ইসলামী জিগিরে সাম্রাজ্যবাদীরাই প্রকারান্তরে লাভবান হচ্ছে? আগ বাড়িয়ে কেন- ইরাক দখল/ আফগানিস্তান দখলকে বুশ প্রশাসন ও বুশ মিডিয়া "ক্রুসেড" নাম দেয়?? সে সময়ে সিএনএন খুললেই দেখা মিলতো ক্রুসেড শব্দটির। এটাকি ধর্মযুদ্ধ ছিল???

আমি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে যতখানি ভূমিকা রেখেছে- তার জন্য লাদেনকে, সাদ্দামকে সমর্থন করি, সমস্ত আরব যোদ্ধাকে শ্রদ্ধা করি, ফিলিস্তীনের লড়াকু জনগণকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু, সাথে সাথে এই বেদনাও বুকে বাজে যে, এই লড়াই তো হওয়ার কথা ছিল শ্রমিক শ্রেণীর, নিপীড়িতের, শোষিতের। সেখানে কেমন একটা ধর্মীয় রূপ দিয়ে একটা উন্মাদনা তৈরী করে রাখা হয়েছে!!!






২৮. ২৯ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৩:৪০
দিনমজুর বলেছেন:
আসলে, আরো বেশ কিছু কথা বলার ছিল, কিন্তু সমায়াভাবে পারছি না। ইদানিং দারুন ব্যস্ত হয়ে পড়েছি বিধায় সময় করে উঠতে পারছি না। তবে এই আলোচনা ফলো করবো এবং পরবর্তী পোস্টগুলোও পড়ার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম। আপাতত বিদায় নিচ্ছি।

সবাইকে ধন্যবাদ।
২৯. ০১ লা জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:১৩
অনিশ্চিত বলেছেন: আপনাদের সবার মন্তব্য ও প্রতিক্রিয় এই লেখাটি চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমাকে উৎসাহিত করছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই পরবর্তী পর্বটি লিখতে পারবো। হয়তো অনেক প্রশ্নের উত্তর বা অনেক মন্তব্য সেখানে থাকবে।

শুধু একটি কথা মনে রাখতে অনুরোধ করবো- আমার এ লেখাটির উদ্দেশ্য শিরোনামে স্পষ্ট। তাত্ত্বিক আলোচনার চাইতে ব্যক্তিগত বেদনাবোধই এখানে স্পষ্ট হয়ে উঠবে। কারণ মানুষের দুর্বল মুহূর্তে মস্তিষ্কের যুক্তির চাইতে হৃদয়ের আবেগ কাজ করে বেশি। আমার দুর্বল মুহূর্তের কিছু আবেগের সাথে পরবর্তী সময়ের যুক্তিকে মেলাতে পারি নি। যার ফলে আজকের এই লেখা।

যারা পড়েছেন এবং যারা মন্তব্য করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
০৫ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৯:১৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, বিগব্যাং

 

মোট সময় লেগেছে ২.৫৬৭৪ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
শুয়েছে ভোরের রোদ ধানের উপরে মাথা পেতে
অলস গেঁয়োর মতো এইখানে কার্তিকের ক্ষেতে;
মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার,-চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ,
তাহার আস্বাদ...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ