কী মনে করিয়া রাজা দুষ্মন্ত একা একা শিকারে বাহির হইলেন কেউ বুঝিতে পারিলো না। এমনকি তিনি কোনো উষ্ট্র, অশ্ব কিংবা নিদেনপক্ষে খচ্চরও লইলেন না। সবাই বলিতে লাগিলো- দেশে শকুন্তলার অভাব পড়িয়াছে, তাই রাজা অভাবমোচনে শিকারে বাহির হইয়াছেন।
দুই.
পথিমধ্যে বিরান প্রান্তরে একা অশ্বত্থ বৃক্ষ দেখিয়া রাজা কিছুকাল থামিলেন। বিশ্রাম লইবেন কিনা ভাবিতে ভাবিতেই বৃক্ষতলে আঁচলখানি সাজাইয়া বসিলেন। উপরে তাকাইয়া দেখিলেন সেইখানে একখানিও কাক-পক্ষী নেই। রাজার মনে প্রশ্ন জাগিলো- এর কি কোনো কালাকাল বোধ আছে? রাজা আরও ভাবিলেন- এই কালাকাল বোধ না থাকিলে মনুষ্যজীবন কতোই না সুখের হইতো! বিরান প্রান্তরে রাজা বিদূষকের অভাববোধ করিলেন।
তিন.
শিকার উপলক্ষ কিন্তু লক্ষ্য নদীর জল এবং জলের উপরিপৃষ্টের নিশ্চলতা। রাজা নদীর জলে অবগাহন করিয়া দূর গ্রামের প্রতি তাকাইয়া রইলেন। আসিবার সময় প্রজারা শকুন্তলার কথা বলাবলি করিতেছিলো। রাজা ভাবিলেন- হায়রে! ওই গ্রামে হয়তো কোনো কোনো শকুন্তলা আমারি অপেক্ষায় পঞ্চব্যঞ্জন সাজাইয়া বসিয়া রহিয়াছে, কিন্তু তাহাদের ডাক আমার অন্তরে বাজিতেছে না কেন? তবে কি শকুন্তলাদের মালাগুলো দিক বদলাইয়াছে? ভাবিতে ভাবিতে রাজা ঘুমাইয়া পড়িলেন।
চার.
শিকার শেষে রাজা ফিরিয়া আসিলেন। কী খাইলেন, কী ঘুমাইলেন, কী শিকার করিলেন- কেহই জানিলো না। কেবল রাজা জানিলেন- বনে যাইলে কিছুটা সময়ের জন্য হইলেও কালাকালের বোধটাকে ডুবাইয়া মারা যায়। রাজা বিদূষককে জিজ্ঞেস করিলেন- ওহে, এই পৃথিবীতে কেউ কালাকালনিয়ন্ত্রণকক্ষ তৈরি করিতে পারে? বিদূষক বিস্তর পুঁথি ঘাঁটিয়া বলিলেন- মহারাজ! কালাকাল একান্তই কালের সাক্ষী, ক্ষেত্রবিশেষে কালের অধীন। মানুষের সাধ্য নাই ইহাকে নিয়া কাব্য করিবার।
পাঁচ.
অন্দরমহলে রাজা দুষ্মন্ত দেখিলেন- শকুন্তলার চারিপার্শ্বে কালাকালের ছায়া। রাজা দুষ্মন্ত বুঝিলেন- চাহিলেই নিয়তিদেবীর লিখন মুছিয়া ফেলা যায়, কিন্তু মানুষ তা চাহিবেই কেন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



