শীতের রাতে কাঁপতে কাঁপতে এসে কবি একটি কলম চাইলেন;কবিতা লিখবেন তিনি।
সাদরে নরোম সোফায় বসিয়ে আমি তাকে কলমসহ কাগজ তুলে দিলাম,
তিনি লিখতে শুরু করলেন।
কবিতার ভাষা আমি বুঝি না, কিন্তু উঁকি মেরে দেখি- তিনি লিখছেন
ঠাণ্ডায় কাঁপতে কাঁপতে;
অক্ষরগুলো মানচিত্রের মতো বাঁকতে বাঁকতে- তবে অবশ্যই,
কিছু একটা কবিতা লিখছেন কবি।
আমি, তবে, কবিতা দেখি না, কবির কাঁপাকাঁপি দেখি
বলি- কবি, একটা গরম কাপড় দেবো কি?
কবি কাঁপেন ততোধিক।
বলি- গরম চা বানাবো কি আপনার জন্য?
কবিদের দুনিয়ায় নীরবতা অসম্মতির লক্ষণ।
শুধাই- কবি, আপনাকে গরম করে দেবো? দিই?
কবি মুখ তুলে বলেন- আনন্দে কখনও কবিতা আসে না।
অসংখ্য কাটাকুটির পর কবি লিখলেন তাঁর সদ্যপ্রসূত কবিতাখানি।
ততোক্ষণে তিনি ধুমনিস্তেজ, ঠাণ্ডায় আরও জুবুথুবু।
আমি কোলে করে কবিকে উঠিয়ে নিলাম সোফার চেয়ে আরো নরোম আরেকটি স্থানে
শরীরের অসংখ্য আবরণ উঠিয়ে এই প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় কবিকে আরও ঠাণ্ডা করে আমি গরম করে দিলাম কবিকে
কাগজে-কলমে কবিতা লিখি না সত্য, কিন্তু কাগজ ছাড়াও কবিতার অসংখ্য আধার আছে এই পৃথিবীতে
আমার কবিকে নিয়ে একসঙ্গে কবিতা লেখার সব আয়োজন সম্পন্ন করতে করতে একসময়-
শৃঙ্খলিত ধারায় অসংখ্য একরঙা শ্বেতশুভ্র কালি ঢেলে দিলাম কবি নামক খাতাটির ওপর-
অসংখ্য সৃষ্টিশীল শব্দ উৎপাদনে কবি আবারও জানালেন- নীরবতা কবিদের অসম্মতির লক্ষণ।
যদিও সম্ভাবনা ছিলো কোটি কোটি কবিতার হবার-
কিন্তু,
পরে, একসময়,
কবি পৃথিবীকে উপহার দিলেন কেবল একটি কিংবা আরেকটি শ্রেষ্ঠ কবিতা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

