গল্পখানা লোকমুখে বহুল প্রচলিত। কবি জসীম উদ্দীন সংকলিত ও বাংলা একাডেমী প্রকাশিত বাঙালীর হাসির গল্পেও রহিয়াছে। তবুও লিখিতেছি।
(বর্ণনার ভাষা আমার মত করিয়া পরিবেশিত)
এক তালেব-উল-এলেম তাহার ওস্তাদ মৌলভীর সহিত দীর্ঘদিন যাবৎ নানা ওয়াজ মাহফিলে অংশ গ্রহন করিয়া মোটা মুটি দক্ষতা অর্জন করিয়াছিল।
সেকালে মৌলভীদের কতইনা সমাদর ছিল। কাহারও গৃহে তাঁহারা গেলে মোরগ জবাই করিয়া খাওয়ানো, পুষ্কুনি হইতে মাছ ধরিয়া ভাজা করা তো রহিয়াছেই, উপরন্তু প্রত্যাবর্তনকালে মাচানের লাও, ক্ষেতের মূলা, বাগনের কলা, পেঁপে তো রহিয়াছেই। তালেব-উল-এলেম তাহার ওস্তাদের সাথে থাকিয়া এইসব বহন করিত ও যৎকিঞ্চিত ভাগীদার হইত।
যাহা হউক, পল্লীদেশে শীতকালে, বিশেষতঃ ধান উঠাইবার পরে সমাজের সকলে মিলিয়া ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করিত (ইহার প্রচলন এখনও রহিয়াছে)। সেইসব মাহফিল কতইনা জাঁকজমকপূর্ণ হইত! দূরদূরান্ত হইতে লোকসমাগম ঘটিত। তারপরে সারা রাত্রি ধরিয়া চলিত মাহফিল। বড়বড় মাওলানা, হুজুরদিগকে জিয়াফত করিয়া আনা হইত বক্তা হিসেবে। তাঁহারা সাধারনত গভীর রাত অবধি বক্তৃতা করিয়া গ্রামের মাতব্বরের আতিথেয়তায় রজনীর অবশিষ্টাংশ যাপন করিয়া পরদিন প্রত্যাবর্তন করিতেন।
এমনই এক মাঘ মাসে ওয়াজের বায়না লাইয়া আসিয়াছিল এক গ্রামের লোকেরা আমাদের উপরোক্ত ওস্তাদের নিকট। এদিকে ওস্তাদের বয়স হইয়াছে। অধিক দূরত্ব অতিক্রম করিয়া দাওয়াতে যাবার মত শরীর নাই, তাই তাঁহার শিষ্যটিকে কহিলেন, "ও হে, এইবার আমার স্থলে তুমিই যাও।" হুজুরের আদেশ শিরোধার্য্য করিয়া শিষ্য চলিল ওয়াজ করিতে।
যথাসময়ে ওয়াজ শুরু হইল। নানা বিষয়ে জ্ঞান বিতরনের এক পর্যায়ে শিষ্য জানাইল, "আপনারা আপনাদের গৃহে নারীবস্ত্র নির্মিত শিতের কাঁথা ব্যবহার করেন, ইহা শরীয়ত সম্মত নহে। নারীর পোশাক পুরুষের ব্যবহার নিষিদ্ধ।" সকলেই তওবা করিল, এহেন কর্ম আর করিবেনা।
মাহফিল ভঙ্গ হইলে শিষ্যের জন্য মাতব্বরের গৃহে রাত্রী যাপনের ব্যবস্থা হইল। এক্ষনে বাধিল গোল। মাতব্বরের গৃহে সমস্ত কাঁথা বৌ-ঝি দের শাড়ী দিয়া বানানো। উহা হুজুরকে কিভাবে দেয়? অতএব বেচারা হুজুর সেই মঘ মাসের শীতে ঠক্ ঠক্ করিয়া কাঁপিতে কাঁপিতে কোনমতে নির্ঘুম রাত্রি পার করিল।
প্রত্যুষে শিষ্য প্রচন্ড জ্বর ও নিউমোনিয়া লইয়া গুরুগৃহে ফিরিয়া আসিল। হুজুর তাহার এহেন কাহিল অবস্থা দেখিয়া কারন জিজ্ঞেস করিলে শিষ্য তাহার মাশালার বিষয়ে বিস্তারিত খুলিয়া বলিল। সব শুনিয়া হুজুর একগাল হাসিয়া কহিলেন,
"বেয়াকুব, তুমি গ্রীষ্মের মাশালা শীতে বয়ান করিয়াছ। গ্রীষ্মে তোমার কাঁথা প্রয়োজন নাই, তাই তখন এই মাশালা দেওয়ার উত্তম সময়।"
পাঠককূলঃ সুবিধাবাদী নীতি গ্রহন সর্বপেক্ষা উত্তম।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


