আমার প্রিয় পোস্ট

গ্রীষ্মের মাশালা শীতে (রম্য সংগ্রহ) :) :) :)

০১ লা অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:০৩

শেয়ারঃ
0 0 0

গল্পখানা লোকমুখে বহুল প্রচলিত। কবি জসীম উদ্দীন সংকলিত ও বাংলা একাডেমী প্রকাশিত বাঙালীর হাসির গল্পেও রহিয়াছে। তবুও লিখিতেছি।
(বর্ণনার ভাষা আমার মত করিয়া পরিবেশিত)

এক তালেব-উল-এলেম তাহার ওস্তাদ মৌলভীর সহিত দীর্ঘদিন যাবৎ নানা ওয়াজ মাহফিলে অংশ গ্রহন করিয়া মোটা মুটি দক্ষতা অর্জন করিয়াছিল।

সেকালে মৌলভীদের কতইনা সমাদর ছিল। কাহারও গৃহে তাঁহারা গেলে মোরগ জবাই করিয়া খাওয়ানো, পুষ্কুনি হইতে মাছ ধরিয়া ভাজা করা তো রহিয়াছেই, উপরন্তু প্রত্যাবর্তনকালে মাচানের লাও, ক্ষেতের মূলা, বাগনের কলা, পেঁপে তো রহিয়াছেই। তালেব-উল-এলেম তাহার ওস্তাদের সাথে থাকিয়া এইসব বহন করিত ও যৎকিঞ্চিত ভাগীদার হইত।

যাহা হউক, পল্লীদেশে শীতকালে, বিশেষতঃ ধান উঠাইবার পরে সমাজের সকলে মিলিয়া ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করিত (ইহার প্রচলন এখনও রহিয়াছে)। সেইসব মাহফিল কতইনা জাঁকজমকপূর্ণ হইত! দূরদূরান্ত হইতে লোকসমাগম ঘটিত। তারপরে সারা রাত্রি ধরিয়া চলিত মাহফিল। বড়বড় মাওলানা, হুজুরদিগকে জিয়াফত করিয়া আনা হইত বক্তা হিসেবে। তাঁহারা সাধারনত গভীর রাত অবধি বক্তৃতা করিয়া গ্রামের মাতব্বরের আতিথেয়তায় রজনীর অবশিষ্টাংশ যাপন করিয়া পরদিন প্রত্যাবর্তন করিতেন।

এমনই এক মাঘ মাসে ওয়াজের বায়না লাইয়া আসিয়াছিল এক গ্রামের লোকেরা আমাদের উপরোক্ত ওস্তাদের নিকট। এদিকে ওস্তাদের বয়স হইয়াছে। অধিক দূরত্ব অতিক্রম করিয়া দাওয়াতে যাবার মত শরীর নাই, তাই তাঁহার শিষ্যটিকে কহিলেন, "ও হে, এইবার আমার স্থলে তুমিই যাও।" হুজুরের আদেশ শিরোধার্য্য করিয়া শিষ্য চলিল ওয়াজ করিতে।

যথাসময়ে ওয়াজ শুরু হইল। নানা বিষয়ে জ্ঞান বিতরনের এক পর্যায়ে শিষ্য জানাইল, "আপনারা আপনাদের গৃহে নারীবস্ত্র নির্মিত শিতের কাঁথা ব্যবহার করেন, ইহা শরীয়ত সম্মত নহে। নারীর পোশাক পুরুষের ব্যবহার নিষিদ্ধ।" সকলেই তওবা করিল, এহেন কর্ম আর করিবেনা।

মাহফিল ভঙ্গ হইলে শিষ্যের জন্য মাতব্বরের গৃহে রাত্রী যাপনের ব্যবস্থা হইল। এক্ষনে বাধিল গোল। মাতব্বরের গৃহে সমস্ত কাঁথা বৌ-ঝি দের শাড়ী দিয়া বানানো। উহা হুজুরকে কিভাবে দেয়? অতএব বেচারা হুজুর সেই মঘ মাসের শীতে ঠক্ ঠক্ করিয়া কাঁপিতে কাঁপিতে কোনমতে নির্ঘুম রাত্রি পার করিল।

প্রত্যুষে শিষ্য প্রচন্ড জ্বর ও নিউমোনিয়া লইয়া গুরুগৃহে ফিরিয়া আসিল। হুজুর তাহার এহেন কাহিল অবস্থা দেখিয়া কারন জিজ্ঞেস করিলে শিষ্য তাহার মাশালার বিষয়ে বিস্তারিত খুলিয়া বলিল। সব শুনিয়া হুজুর একগাল হাসিয়া কহিলেন,

"বেয়াকুব, তুমি গ্রীষ্মের মাশালা শীতে বয়ান করিয়াছ। গ্রীষ্মে তোমার কাঁথা প্রয়োজন নাই, তাই তখন এই মাশালা দেওয়ার উত্তম সময়।"

পাঠককূলঃ সুবিধাবাদী নীতি গ্রহন সর্বপেক্ষা উত্তম।

 

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:০৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

০১ লা অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৪৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। বাঙালির হাসির গল্প আমাদের সাহিত্যে এক অমূল্য সম্পদ। অথচ বাংলা একাডেমী বইটা পূনর্মূদ্রণ করেনা।:(

০১ লা অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:৩৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

৩. ০১ লা অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৪৭
নিপাতনে সিদ্ধ বলেছেন: আপনি গুপি গায়েন না গুপি গায়েনের শ্বশুর? মানে নামটা গুপি আবার প্রোফাইলের ছবিটা তো সন্তোষ দত্তের যিনি গুপির শ্বশুরের ভুমিকায় অভিনয় করেছিলেন।
০১ লা অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:৫৩

লেখক বলেছেন: আসলেই ঠিক ধরেছেন তবে মাঝে মাঝে শ্বশুরকে অতি ভক্তি দখাতে গিয়ে ইয়ে এই মান, তবে শুন্ডির রজা কিন্তু কাকা শ্বশুর (ওটাও সন্তোষ দত্তও আরকি :)), কারণ আমার মুক্তামালা তো হল্লা দেশের রাজকন্যা। :)

ঠিক আছে, এখনই ছবি বদলাচ্ছি।:)

০৩ রা অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:৫০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আমার ব্লগে বেড়াতে আসার জন্য স্বাগতম। :)

৫. ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:১৫
প্রণব আচার্য্য বলেছেন: অপছন্দঃ গদ্যসম মুক্তছন্দ কবিতা।:

গদ্যসম: কবিতাকে কি পদ্যই হতে হবে?
০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৯

লেখক বলেছেন: আমার মতে তাই। কারন আমি বিশ্বাস করি এই গুনটাই তাকে গদ্য থেকে স্বতন্ত্র করেছে। অন্তমিল কবিতার প্রথম বৈশিষ্ট্য বলে আমার মনে হয়।

৬. ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:১৬
প্রণব আচার্য্য বলেছেন: রম্য সংগ্রহ ভালো লাগলো; বেশ ভালো
০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:৫২

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ভাল লাগাতে পেরেছি বলে। চেষ্টা থাকবে আরও মৌলিক কিছু রম্য লেখার। আপনাকে আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ। খুব ভাল লাগল দু'টো মন্তব্যই।

৭. ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১৩
প্রণব আচার্য্য বলেছেন: লেখক বলেছেন: আমার মতে তাই। কারন আমি বিশ্বাস করি এই গুনটাই তাকে গদ্য থেকে স্বতন্ত্র করেছে। অন্তমিল কবিতার প্রথম বৈশিষ্ট্য বলে আমার মনে হয়।....


কবিতা মানে পদ্য নয়: আর অন্তমিলতো গদ্যেও হয়; আর আরেকটা ব্যপার বুঝতে হবে পদ্য আর কবিতা কিন্তু এক বিষয় নয়। রবীন্দ্রনাথের সোনারতরী পদ্য ছন্দে লেখা কবিতা; আর বাঁশি কবিতাটি একবারেই গদ্য ছন্দে লেখা; তাতে কি কবিতার কোন হানী হয়েছে? রবীন্দ্র পরবর্তি অধিকাংশ আধুনিক কবিই গদ্য ছন্দে কবিতা লিখেছেন। এবং সমকালীন বিশ্ব সাহিত্যও গদ্যধর্মীতা লাভ করেছে। এবং বর্থমান কালে গদ্য ছন্দই অধিকগ প্রচলিত। দিনে দিনে কবিতার 'ডেফিনেশন' বদলাচ্ছে। পদ্যের কোমল বাঁধা ভাষার চেয়ে গদ্যের বহুমাত্রিকতা কবিতাকে অধিক সার্থক করে তোলে;
০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:৫১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার মত প্রকাশের জন্য। আপনার মতামতের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে বলছি, আমার আসলে ব্যক্তিগত মতামত ঐ একটাই। গদ্যের মত পদ্য হলে সেটা আমার কাছে আর পদ্য মনে হয়না। ভাব প্রকাশে হয়ত বহুমাত্রিকতা যোগ হয় কিন্তু তারপরেও পদ্যের আপন সম্মান ক্ষুন্ন হয়। এ বিষয়ে আমার আরও কিছু মতামত ফরহাদ উদ্দীন স্বপনের ব্লগে আমি দিয়েছি।

Click This Link

আপনার ব্লগ দেখলাম। চমৎকার আপনার লেখা।

৮. ০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৫
প্রণব আচার্য্য বলেছেন: গদ্যের মত পদ্য হলে সেটা আমার কাছে আর পদ্য মনে হয়না। ভাব প্রকাশে হয়ত বহুমাত্রিকতা যোগ হয় কিন্তু তারপরেও পদ্যের আপন সম্মান ক্ষুন্ন হয়। ...


আমিতো বলেছি কবিতা নিয়ে... পদ্য কেন গদ্যের মতো হতে যাবে.. পদ্যতো পদ্য ঢঙেই হতে হবে;

কিন্তু কবিতা গদ্য পদ্য দুই ভাবে হতে পারে... তবে বর্তমান কালে গদ্যরীতির কবিতাই প্রচলিত....


ধন্যবাদ... আপনার ব্লগের অন্যান্য লেখাগুলোও পড়ছি... ভালো লাগছে...
০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:০৮

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। দুঃখিত, আমি অসাবধানতা বশতঃ কবিতাকে পদ্য বলে ফেলেছি। যদিও এ দু'য়ের মাঝে ভাবগত তফাৎ ব্যাতীত কম তফাৎই আমার চোখে পড়ে। যদ্দুর জানি পদ্যের বিষবস্তু একটু হাল্কা হয়, অন্যদিকে কবিতা একটু সিরিয়াস গোছের বিষয় কেন্দ্রিক। এটা আমার নয়, ম্যাথিউ আর্নল্ডের বক্তব্য।

"কিন্তু কবিতা গদ্য পদ্য দুই ভাবে হতে পারে... তবে বর্তমান কালে গদ্যরীতির কবিতাই প্রচলিত.... "

পদ্য বলুন বা কবিতাই বলুন, অন্তমিল থাকুক বা Blank verse/ Free Verse কবিতা হোক, ছন্দ একটা অবশ্যম্ভাবী উপকরণ। কবিতা বা পদ্যের সুনির্দিষ্ট ব্যাকরণ (কোন ব্যাকরণ ব্যবহার করবেন তা আপনার নিজস্ব ব্যাপার) মাথায় রেখে কবিতা লেখা উচিৎ বলে আমি মনে করি। আর সে কারনেই ভাল কবিতা সহজে মুখস্ত হয় বা স্বরণে থাকে। সম পরিমান শব্দ ব্যবহার করে লেখা গদ্যের চেয়ে পদ্য তাই তুলনামূলক দ্রুত মুখস্ত হয়।

একই কবিতায় যদি ভিন্ন ভিন্ন মিটার, রিদ্যম ব্যবহার হয় বা আদতেই তা মাথায় রাখা না হয়, তাহলে সে কবিতা পড়া যেমন দুঃষ্কর, মনে রাখাও। আর এখানেই কবিতার 'মানহানি' ঘটে।

আপনার মূল্যবান মন্তব্যের অপেক্ষায় রইলাম।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৪৩৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
সোনার ফসল ফলায় যে তার, দুই বেলা জোটে না আহার।
হীরের খনির মজুর হয়েও কানা-কড়ি নাই, ও ভাই রে...

ghunpoka@yahoo.com
http://aboutmusicss.blogspot.com/
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ