জয়া জয়া ডাক পাড়ি
জয়া মোদের কার বাড়ী
আয়রে জয়া ফিইরা আয়
মফিজ্জ্যা পথ চাইয়া রয়!!
দুপুর হইতেই মফিজের মন খুব খারাপ। মোটর চালিত দ্বিচক্রযান লইয়া অফিস হইতে দুপুরের আহারের উদ্দেশ্যে গৃহে ফিরিবার কালে যানের যান্ত্রিক বিভ্রাট ঘটে।

উহাকে হস্ত দ্বারা ঠেলিয়া গলদঘর্ম অবস্থায় হাজির হয় মেকারের দ্বারে যাহা ঠিক এলজি শো রুম এর সম্মুখে অবস্থিত। মেকারের কর্ম সারা হইবার পূর্বে কি করিবে ভাবিতে ভাবিতে হঠাৎ চোখ পড়ে শো রুমের বিশাল টেলিভশনের পর্দায়। হোঁদল কুত কুত টাইপ একজনা এটিএন বাংলায় সংবাদ পাঠ করিতেছে,
"নাট্যাভিনেত্রী জয়া হারাইয়া গিয়াছে"।

সংবাদ শ্রবন করিবা মাত্র মফিজের মনে হইল বাম বক্ষে কে যেন খামচাইয়া ধরিয়াছে।:-& জয়া তাহার বড়ই পেয়ারের অভিনেত্রী। শয়নে-স্বপনে তাহারে নিয়া কতই না কল্পনা করিয়াছে আর মনে মনে ফয়সালের একটা ফয়সালা হয়না কেন; ইহাই ভাবিয়াছে।

কিন্তু কাহার ফয়সালা হইতে কাহার হইল!!! এইসব ভাবিতে ভাবিতে বাইক মেরামত হইয়া গেল, মফিজ গৃহের পথ ধরিল। পথে হঠাৎ তাহার মনে হইল, আচ্ছা জয়াকে খুঁজিতে নামিলে কেমন হয়!

তাহাকে যদি কোন ভাবে খুঁজিয়া পাওয়া যায় তাহা হইলে তাহার কত নাম হইবে। টেলিভিশনে তাহারে দেখাইবে, তাও আবার জয়ার পাশে

। ফয়সালের না জানি কত ইর্ষা হইবে (ঠিক যেমন এখন তাহার হয়)!
গৃহে ফিরিয়া স্নানাহার তো করিল বটে কিন্তু আর তর সয়না। আপিসে জরুরী কর্ম রহিয়াছে, কিন্তু কোন মতেই আপিসে যাইতে মন চাহেনা। কি করা! আপিসে এক্টা ফোন করিয়া জানাইল পেটে তীব্র যন্ত্রণা হইতেছে, আপিসে আসা সম্ভবপর নহে

। ম্যানেজার কিঞ্চিত বিরক্তবোধ করিলেও কিছু বলিলেন না। কাউকে কিছু না বলিয়া সন্তর্পনে মফিজ পথে নামিল; জয়ার খোঁজে।
প্রথমেই ভাবিল, কোথায় কোথায় যাওয়া যায়। জয়াকে একবার অলিয়স ফ্রঁসেজে দেখিয়াছিল হাসান মাসুদের সাথে। উহা নাকি তাহার 'বড় ভালা পাই'


জায়গা (ফিল্ম ব্যাচেলর দ্রঃ)। ভাবিল সেখানেই যাই প্রথমে। অলিয়স ফ্রঁসেজে গিয়া এদিকে সেদিকে চাইয়া দেখিল। নাহ, জয়া এইখানে নাই।
কোথায় যাইতে পারে? আজিজ সুপার মার্কেটে একটা চক্কর দেওয়া যায়? এখন প্রায় পড়ন্ত বেলা। দেখা যাক না কি হয়। শাহবাগে গিয়া দেখে আজিজ সুপার মার্কেটেও নাই।
এইভাবে সে শহরে সম্ভাব্য সকল স্থান চষিয়া ফেলিল কিন্তু জয়ার দেখা নাই। মনে মনে হতাশ অবস্থায় এবার গোলাপ শাহের মাজারে ২২.৫০ র শির্নি দিয়া আসিল আর আগামী তিন দিন নফল রোজা রাখিবে নিয়ত করিল।

কিন্তু শর্ত হইল জয়াকে প্রথম তাহারই খুঁজিয়া পাওয়া চাই।

মাজারের খাদেম কে তাহার অভিযানে সফলতার জন্য খাস দেলে দোআ করিতে বলিয়া আবার পথে নামিল মফিজ। শোনা যায় তাহার দোআ নাকি অব্যার্থ।
পথে নামিতেই হঠাৎ দেখে জয়া ঠিক তাহারই সম্মুখে!!

পেছন হইতে তাহারে দেখা যাইতেছে। খাদেমের দোআ এত
তড়িৎ বেগে আসমানে পৌঁছাইবে তাহা ভাবে নাই মফিজ। আবেগের বশবর্তী হইয়া দিল জয়ার হাত ধরিয়া এক টান। আর যায় কোথায়, মূহূর্তে রমনীর ঘুরিয়া দাঁড়ানো ও
তড়িৎ গতিতে চপেটাঘাত। ইহা জয়া নহে। অন্য কেউ। ভুল বুঝিতে পারিয়া ক্ষমা চাহিতে গিয়া দেখে আশে পাশের নানা অসুবিধাজনক চেহারার মানুষ তাহার পানে অগ্নিদৃষ্টি বর্ষন করিয়াছে।

কিছু বুঝিবার পূর্বেই চারুকলার ছাত্ররা যেমন করিয়া গতকল্য সাংবাদিক গনেরে
ছুঁইয়াছিল 
মাত্র তেমনই তাহাকে
ছুঁইয়া গেল।
কোনমতে পৈত্রিক প্রাণ বাঁচাইয়া যখন গৃহে ফিরিল তখন তাহার ছেঁড়াখোঁড়া দশা।

বাসায় আসিয়া দেখে টিভিতে একই বিজ্ঞাপন দেখাইতে আছে এবং একই হোঁদল কুত কুত টাইপ লোক এনটিভিতেও একই সংবাদ পরিবেশন করিতেছে। কিন্তু ইহা কি করিয়া সম্ভব!! উৎসুক হইয়া আরও চ্যানেল প্রদক্ষিন করিয়া দেখা গেল একই ব্যাক্তি। তাহা হইলে কি সকল চ্যানেলের অন্যান্য সংবাদ পাঠকরা টিভি রাখিয়া জয়াকে খুঁজিতে নামিয়াছে, এই ব্যাক্তি একাই সমস্ত কভার করিতেছে!! না না ইহা সম্ভব নহে।
এইবার সে বসিল ইন্টারনেটে তাহার প্রিয় সাম হোয়ার ইন ব্লগে

। দেখে এখানেও একই কথা চলিতেছে। তবে এখানে জনপ্রিয় নামিদামী ব্লগাররা ইহাকে গুজব ও কোন মোবাইল কোম্পানির বিজ্ঞাপন বলিতেছে।
মফিজেরও এখন তাই ধারনা। কিন্তু ইহা যদি সত্যিই এ্যাড হয় তাহা হইলে মফিজ শপথ নিয়াছে বিজ্ঞাপন নির্মাতারে একটা পুন্দানী প্রদান করিবে সে নিজে।
হোক তাহাতে তাহার জেল জরিমানা; মাফ নাই।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৩২