somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... প্রতিবাদচিত্র
প্রতিবাদ জানাই। প্রতিবাদ জানাই। এর স্বপক্ষে আমার এ প্রতিবাদচিত্র। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28861635 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28861635 2008-10-29 17:34:20
সব্বাইকে শুভেচ্ছা।
ক'দ্দিন বাদে আসছে ঈদ। ঈদুল ফিতর। প্রাণ ছড়ানো একটি উৎসব।
তারও কিছু প’র শারদীয় দুর্গা পূজা। বাঙালি প্রাণিত আবহমান সার্বজনীন উৎসব।

এ দুটো উৎসব এবারও পাশাপাশি জড়ো হচ্ছে।
বাঙলাদেশে বাঙালির বাঙালির সামাজিক ঐক্যের বৃহত্তম উৎসবে স্রোত তৈরি হয়েছে। সকল ধর্ম-বর্ণ-সমাজ-রাজনীতিতেও একটি অংশ হয়ে যাচ্ছে। পুরো বাঙলাদেশ তখন একাত্ম হয়ে জেগে উঠে। সারা বাঙলাদেশ জেগে উঠবে প্রাণের আয়োজনে। প্রাণের আমেজে।

এ কথা আজ প্রতিষ্ঠিত ও সমর্থিত, বাঙালিরা প্রথম জীবন থেকে চিরায়তভাবে উৎসবে মুখর। কোনো প্রতিকূলতাই এর প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে না। হিন্দুদের প্রধান উৎসব শারদীয় দুর্গা পুজা, মুসলমানদের ঈদ। আমাদের এসব ধর্মীয় উৎসবগুলো নিজস্ব স¤প্রদায় থেকে উৎসারিত হলেও এর মধ্য দিয়ে আমাদের সামাজিক ঐক্যের বন্ধন দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর করে চলছে, নির্মান করে চলছে পারস্পরিক সংহতি। পরস্পর পরস্পরের সাথে একাত্ম হওয়ার সুযোগ তৈরি হয় এসব ধর্মীয় আচারে-ই। নিশ্চই এ উপলব্ধি এভাবে আসে, ধর্মীয় উৎসব আমাদের ব্যক্তিজীবনে যতোটা না বেশি সুখকর, তারচেয়ে সামাজিক বন্ধন প্রভাবিত করে অনেকবেশি। এখানে কোনো ভেদাভেদ স্পর্শ করে না।

অত্যাধুনিক আক্রান্তে জীবনটা আটপৌরে হয়ে উঠছে, সত্যি তাই। আমরা হাপিয়ে উঠছি দৈনদিন আমাদের ক্রম ব্যস্ততায়। সেখানে আমাদের স্বজন কিঙবা প্রিয়জন সংপ্তি হচ্ছে, সন্দেহ নেই। সেখানে একটি উৎসব আমাদের মাঝে আমেজ তৈরি করে। উৎসবের আমেজ। আমাদের নি®প্রাণ প্রাণ জেগে ওঠে তার সান্নিধ্যে। নৃত্য খেলা করে। আমরা নতুন মানুষ, নতুন ভাবনা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সাথে প্রযুক্ত হই।

আসুন আমরা উজ্জীবিত হই।
সব্বাইকে শুভেচ্ছা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28847348 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28847348 2008-09-24 12:58:54
লাশকাঁটা ঘরে কারও মুখ এখানে চেনা, কেউবা অচেনা।
কারও নিখাদ ঘেন্নামাখা অভিব্যক্তি
কারও খারাপ মন বিষিয়ে ওঠে আরও
কেউবা খুঁজে মুখ বহুদিন আগে হারিয়ে যাওয়া কারুর
কেউ প্রেম খুঁজে
আবার কেউ খুঁজে নিঃশেষ হওয়া হিংস্রতাকে

একদিন এখানে কেউ জল ফেলে লাশের চোখে
একদিন কেউ লাশ হয় হতাশায় ভুগে ভুগে
একদিন কেউ অভিশাপকে করে দুর্দান্ত চুম্বন
অথবা ধরিয়ে দেয় পঁচা লাশে নতুন করে কাঁপন!

লাশ কাঁটা ঘর
অভিশাপের পর অভিশাপ এখানে কেটে গ্যালে প’র
বিষণ্নতা ছোঁয় আবক্ষ কন্টকে
তারও পরওতো লাশ কাঁটা ঘরে
লাশ ও মানুষ ঢোকে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28842996 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28842996 2008-09-14 12:47:33
শামসুর রাহমান : অনন্য কবি ... সাতচল্লিশের ভারত-পাকিস্তান ভাগের প'রে পূর্ববঙ্গ ভুখন্ড বাঙলা সাহিত্যেও একটি স্বতন্ত্র সৌধ-ভিত্ নির্মাণে আর্বিভূত হয়, একদিন সেই ভূ-খন্ডের নয়া সাহিত্য প্রবহমানতায় পঙ্খিরাজ নাও ভাসে, তিনি নৌকোয় চেপে সাহিত্যের খেরোখাতা হাতে নিয়ে বললেন, আমি কবিতার বৈঠায় হাত রাখলাম। তিনি বাঙলাদেশের কবিতার প্রাণপুরুষ। কবি প্রাণ শামসুর রাহমান। তিনি আমাদের স্বপ্নের রূপকথার দরোজা খুলে দিয়ে জাতিকে দিয়েছিলেন আত্মআবিস্কারের গৌরব।

বহুল সমারোহে কবিতার স্বর্ণডালিকে যে কবি সাজিয়েছেন তিনি শামসুর রাহমান। রবীন্দ্রোত্তরকালে তিরিশের কবিকূলে সফল উত্তরসূরী এবঙ তাঁর নিজের কালের সার্থক রূপকারদের পুরোধা হিসেবে এ কীর্তিত কবিকে নিয়ে গর্ব আর অহঙকারে সীমা নেই আমাদের। তিনি এমন একটি স্থানে নিজেকে উদ্ভাসিত করেছেন যেখানে তার সমকালে তার প্রতিদ্বন্ধী বা তার সমশ্রেণীর কবি আর কাউকে দ্যাখা যায় না। এটা আমাদের বাঙলাদেশ এবঙ পশ্চিমবাঙলার সকল কবিই মাএ এ বিবেচনায় স্বীকার করবেন নিশ্চয়।

বাঙলা কবিতা কত বিচিত্র ও পাশ্চাত্যের কবিদেরও কোনো কোনো েেত্র ছাড়িয়ে যেতে পারে তার প্রমাণ মেলে শামসুর রাহমানের বিভিন্ন কবিতা। ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবরে ঢাকার মাহুতটুলিকে জন্ম নেয়া শামসুর রাহমান তার যাত্রা শুরু করেছেন বাঙলা সাহিত্যের প্রভাবশালী সাহিত্য পত্রিকা দিয়ে। ১৯৪৯ সাল, পুরান ঢাকার মাহুতটুলি লেনের এক সদ্য যুবার মন ডানা মেলেছিল কল্পনায়, ভাবাবেগ প্রকাশিত হয়েছিলো ছন্দবন্ধনে। ভয়ে ভয়ে সেই রচনাকে পাঠিয়ে দিলেন তিনি, সোনার বাংলা নামের সাপ্তাহিকে। সম্পাদক নলিনী কিশোর গুহ বেশিদিন অপোয় রাখেন নি। অজ্ঞাত পরিচয়ে কবির লেখা ছাপিয়ে দিলেন পরের সংখ্যাতেই। প্রসঙ্গক্রমে শিাবিদ, প্রাবন্ধিক মুস্তফা নুরউল ইসলাম জনকন্ঠে ‘প্রথম দেখার দিনগুলি’ স্মৃতিচারণে লিখেছেন, “... আমাদের চাপাচাপিতে লাজুক গলায় কবি আবৃত্তি করে শুনিয়েছিলেনÑ‘দান্তের নরক তুমি দেখেছে কখনো’। তারপর আউয়ে গেলেন সবটা। পর পরই তাঁর অপর কবিতা কলকাতার নতুন সাহিত্যে মাসিক পত্রিকায় ‘কয়েকটি দিন ওয়াগনে’।’’ তাঁর কবিতা দিয়েই শুরু হয়েছে পূর্ব্বাশা, সেই ১৯৫১ সালেই। পূর্ব্বাশার সম্পাদক সঞ্জয় ভট্টাচার্য কবি ও ঔপন্যাসিক হিসেবে তখন খ্যাত। শামসুর রাহমানের বয়স তখন বাইশ বছর। আর ১৯৫৩ সালে কবি বুদ্ধদেব বসু কবিতা পত্রিকা শুরু করেন শামসুর রাহমানের মনে মনে ও তার শয্যার পাশে কবিতা দিয়ে। এভাবেই তিনি ছয় দশকের অধিক কালব্যাপি কাব্যচর্চায় নিজেকে সুসংহত করে রেখেছিলেন।

আধুনিক বাঙলা কবিতার অপরিহার্য-অবিসংবাদিত ব্যক্তিত্ব শামসুর রাহমান। ঐতিহ্যসমৃদ্ধ বাঙলা কবিতার ধারাকে তিনি অত্যন্ত সৌন্দর্যমন্ডিত করে এগিয়ে নিয়ে এসেছেন। এই ধারাটি প্রগতিশীল অসা¤প্রদায়িক ধারা। বিভিন্ন ব্যক্তি বা বিভিন্ন গোষ্ঠী প্রবহমান এই ধারাটিকে রূদ্ধ করে দিতে চেয়েছিলো। কিন্তু শামসুর রাহমানের মতো ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন কবির দৃঢ়তার মুখে তা পন্ড হয়ে যায়। এটি সত্য, বাঙলা ভাষাভাষি মানুষ তারা যেখানেই থাকুক না কেনো এই মহান কবিব্যক্তিত্বকে হৃদয়ে লালন করেন, করবেনও নিশ্চিত। তিনি দীর্ঘদিন তার হৃদয়, মনন ও মেধা দিয়ে নিরলস চর্চা করে আধুনিক কবিতা ও বাঙলা ভাষাকে সর্বোচ্চ শিখরে পৌছে দিয়েছেন।

তিনি আমাদের কবিতাকে দিয়েছেন যৌবনের সৌন্দর্য, প্রজ্ঞার সৌরভ। সেই সঙ্গে বিশ্বকবিতার মানচিত্রে দিয়েছেন একটি সুনির্দিষ্ট স্থান। তার কবিতার পাঠক একই সঙ্গে পাবেন বাঙালি সত্তার গভীর অনুভব ও আন্তর্জাতিক মনন। পাঠকের কাছে তাই তার কবিতা প্রেম যন্ত্রণা ও জীবনানুভবের আধুনিকতার উদ্ভাস। কখনো কখনো মনে হবে বাস্তব ও কল্পনার সমাহারে নির্মিত এক অলৌকিক ভূবন পরিভ্রমণ করে চলেছি। ৩১ বছর বয়সে প্রথম কাব্যগ্রন্থের কবিতা প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, তাতে তিনি লিখেছিলেন গ্রীক পুরাণকথিত ল্যাজারাস পুর্নজন্ম পেয়ে এসেছে এই পৃথিবীতে। তাকিয়ে দেখছে ‘এই সেই পৃথিবী সাবেকী’। অনুমান করা চলে এই কবিতার জন্মসময়ই বাঙলা কবিতার আধুনিকতার জন্মসময়। অধ্যাপক কবীর চৌধুরী যুগান্তরে ‘নিজস্ব উচ্চতায়’ লিখেছেন. “ তিনি তার কবিতায় গ্রিক পুরাণের অনুষঙ্গ অসাধারণ দতার সঙ্গে প্রকাশ করেছেন। অ্যাগামেমনন, ইলেকট্রা এরকম গ্রিক পুরাণের নানা কাাহিনী তিনি আশ্চর্য কুশলতার সঙ্গে, আমাদের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে একটি সমান্তরলতা নির্মাণ করেছেন। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন প্রাচীন ধ্র“পদী গ্রিক নাটক পড়াইÑতখন আমি শামসুর রাহমানের এসব কবিতা উল্লেখ করেছি। মাঝে মাঝে তার কবিতার চরণ পর্যন্ত পড়ে শুনেছি। ’’
পাশ্চাত্য ঢঙ্গে মিথভিত্তিক কবিতার বই লিখেছিলেন শামসুর রাহমান, ইকারুসের আকাশ, যার নাম। সেই বইয়ে শামসুর রাহমানের হস্তার দিয়ে প্রচ্ছদ এঁকে দিয়েছিলেন সরদার ফজলুল করীম। মলাটের পেছনে বইয়ের বিষয়ে নামহীন জ্ঞাপন লেখাটিতে তিনি লিখেছেন ‘শামসুর রাহমান সম্ভবত আমাদের শেষ ইয়োরোপমনস্ক কবি।’

তাঁর কবিতা এসে মিশেছে নানা রঙ, নানা স্রোত; কবিতার স্টাইল, ধরণ, সংজ্ঞা বদলে গেছে তার প্রতি কবিতায়। তিনি তার কবিতায় আমাদের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর গণতন্ত্রের সংগ্রাম, ধর্মের সাথে অধর্ম তথা হিংস্র উগ্র সা¤প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে-কোথায় ছিলো না তার বলিষ্ট উচ্চারণ? বর্ণমালা আমার দুঃখিনী বর্ণমালায় যেমন মায়ের মর্যাদা দিয়েছেন মাতৃভাষাকে, তেমনি ষাটের দশকের প্রতিটি গণআন্দোলনে তাঁর কবিতা ধারণ করেছে বাঙালির প্রাণের আবেগ-অনুভূতি।

আসাদের শার্টর মতো রক্তে ঝাঁকুনি-তোলা কবিতা যেমন স্বাধীনতা পূর্ববর্তী বাঙলার গণজাগরণে মন্ত্রের মতো কাজ করেছে সাংস্কৃতিক আন্দোলন সংগঠনে। বন্দি শিবির থেকে, ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা এই দুটি কাব্যগ্রন্থ পুরোটা মুক্তিযুদ্ধেরই রক্তাত্ব দিনগুলোর দর্পণ। এখানে এমন কিছু কিছু কবিতা রয়েছে, যা মুখে মুখে ফিরেছে বাঙালির। তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা, স্বাধীনতা তুমি, দুঃসময়ের মুখোমুখি, ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা ইত্যাদি বহু কবিতা কন্ঠস্থ হয়ে গেছে সংস্কৃতিবান বাঙালির। স্বাধীন দেশে প্রতিক্রিয়াশীলদের পুনবার্সনকালে তাঁর কবিতা একটি মোনাজাতের খসড়া চাবুকের মতো নেমে এলো। ধর্মীয় উগ্রতার সংক্রমনে ছড়াতে থাকলে তিনি লিখলেনÑ উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। এরশাদের স্বৈরচারী সরকারের গুলিতে নূর হোসেনের মৃত্যু হলে লিখলেন তিনি বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়। তাঁর অসঙখ্য কবিতা লিফলেট হয়ে মানুষের হাতে হাতে গিয়েছে, উঠে এসেছে পোষ্টার, দেয়াললিখনে। স্লোগানে পরিণত হয়েছে মিছিলে।
উল্লেখ করতেই হয়, শহীদ নূর হোসেন নিহত হলে শামসুর রাহমান দৈনিক বাংলার সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করে স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরাসরি মিশে যান মানুষের সাহসি মিছিলে। তখন দেশের সকল কবিদের নিয়ে তিনি জাতীয় কবিতা উৎসবের শুভ সূচনা করেন।

দুই.
শামসুর রাহমান ছিলেন একজন সাংবাদিক। যদিও তিনি পরিপূর্ণভাবে কবিতায় সমর্পিত। তবু জীবনের তাগিদে একটু ভিন্ন পেশায় কাটিয়েছিলেন তিনি দীর্ঘদিন। বেতাওে কিছুদিন কাটিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন সংবাদপত্রের দফতরে। কনিষ্ঠ সহ-সম্পাদক থেকে নিজেকে উন্নীত করেছিলেন এক সময়ের শীর্ষ জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকের আসন।
সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করলেও শামসুর রাহমানের সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণের আগ্রহী ছিলেন না। উচ্চপদের মোহ থাকলে স্বাধীনতার পর দৈনিক পাকিস্তান যখন দৈনিক বাংলা হয় তখন তিনিই হতেন এর প্রধান সম্পাদক। শামসুর রাহমানের অনীহার কারণে কবি হাসান হাফিজুর রহমান দৈনিক বাংলার প্রধান সম্পাদক হন। পওে শামসুর রাহমান অনেকটাই পরিস্থিতি আর সহকর্মীদের চাপে সম্পাদকের দাযিত্ব নেন।
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সম্পাদকের ভূমিকায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে। শুধু সম্পাদনাই নয়, সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও সম্পাদকের কাঁধে আসে পড়ে। শামসুর রাহমান এ জটিল দায়িত্ব সাফল্যের সঙ্গে পালন করেছিলেন। দৈনিক বাংলার সম্পাদক শামসুর রাহমান এশিয়ার অন্যতম সেরা সম্পাদকের হিসেবে একটি আন্তর্জাতিক মিৎসুবিসি পুরস্কাওে ভূষিত হয়েছিলেন।

তিন.
তাঁর কবিতা নিয়ে বলবার এবঙ আলোচনা করবার মত সস্থির মনস্বিতা ও যোগ্যতা আমার অমতাই থাকবে সবসময়। আমি বরঙ সেই মানুষ, লিখতে গিয়ে কবির মুখটি আজ ঘুরে ফিরে দ্যাখি। সেই তাঁর মুখ। য্যানো এখনো কী জীবন্ত! ঠোঁট য্যানো উচ্চারণের জন্যে প্রতিটি মুহূর্তে ...

শামসুর রাহমান আমার, আমাদের প্রিয় কবি। প্রিয় কবিকে দেখার ইচ্ছে বহুদিন ছিলো।
দুই হাজার ছয় সালের ১ ফেব্র“য়ারি ঢাকায় অনুষ্টিত হয়ে জাতীয় কবিতা উৎসব। উদ্বোধন করতে আসেন কবি শামসুর রাহমান। তখনো তিনি অসুস্থ। কবি শামসুর রাহমান এসেছেন, সকলে ঘিরে আছে। দূর থেকে তাঁকে দ্যাখছি। কাছে যেতে পারছি না। শেষ পর্যন্ত কবির সাথে সাাত আমার মিললো। কথা হয় সংপ্তিই। সৌজন্য কুশল বিনিময় বলতে যা বোঝায়। কথাবার্তায় তাঁর সেদিন অস্পষ্টই ছিলো। সেই দিনের সেইরাত্রটি আর ঘুমাতে পারিনি। প্রিয় কবির সাথে কথা বলার বিহ্বল আনন্দে।

একদিন শ্যামলি, কবির বাসায় গেলাম। ভয়ে ভয়ে গুটিয়ে ছিলাম আমি। কিছুণের মধ্যে সেই ভয় উপচে ফেলে দিলেন কবি স্বয়ং।
যখন শুনলেন কবি ও কবিতার প্রতি আমার বিশেষ অনুরাগের কথা। তিনি পরম øেহে কাছে টেনে নিলেন। আন্তরিকতায় আলিঙ্গন করলেন। একটি কবিতা দিলেন। সাতটি কবরে নুয়ে চুমো খায়। আমার সম্পাদিত দ্রোহকালের কবিতা কাগজ স্পর্ধা সবসময়ে’র জন্য। প্রকাশিত হলোও। কবি দ্যাখলেন না!

কবির সাথে কথা ছিলো কবির একটি সাাৎকার আমি নিবো। সেটি আর হলো না !
প্রিয় কবি’র কাছে যাওয়ার যৎসামান্য বিচ্ছিন্ন স্মৃতিগুলো আজ উজ্জ্বল, আঁকড়ে ধরে রাখলাম এণ।

শামসুর রাহমান অনন্য। চিরঞ্জীব। জয় হোক আগামি সকালে। 

সহযোগী সূত্র : সমকাল, যুগান্তর, জনকণ্ঠ
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28831766 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28831766 2008-08-17 11:22:42
কমরেড ট্রেনের হুইসেল, যাত্রী নামছে
কেউবা উঠছে
গার্ডের সবুজ পতাকা নাড়তেউ
দুলে উঠল ট্রেন
ছুটল গন্তব্যে
কেউ শহরে যায়
কেউবা ফিরে গ্রামে

প্রতিদিন ব্যস্ত হয়ে ওঠে স্টেশন
আবার নিস্তব্ধ হয় গভীর রাতের মতোন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28830756 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28830756 2008-08-14 11:32:06
তুই চলে যাবি বলে
তুই চলে যাবি বলে,
চলে যাবি তুই
রাতের ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকে হুইসেল বাজিয়ে।

বাজে হুইসেল, বাজে হুইসেল
ঘড়্ঘড়্ শব্দ কাঁপে যান্ত্রিক পা
ধীরে ধীরে অপসৃয়মান হবি তুই
অদৃশ্য হবি ধীরে।

তুই চলে যাবি বলে
প্ল্যাটফর্মের পিলারের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকি
তাকিয়ে থাকি চাকার দিকে, কখন ছোটে কখন ছোটে।

চলে যাবি তুই
সবুজ পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবো আমি
সবুজ পাতায় লিখব কবিতা তোকে নিয়ে
তুই চলে যাবি বলে।

৩ আগস্ট ২০০৮, খিলগাঁও, ঢাকা

উৎসর্গ : জুবায়ের, শিবলী, প্রণব আচার্য্য, আশিক, মিলন, সাবরুন, বাবু ...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28827246 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28827246 2008-08-04 11:43:12
বাংলাদেশে তাঁর জন্ম। স্ব-ভূমে ফিরে আসতে চান বাসন্তী ওয়াদ্দেদার।
গেলো বছরের ডিসেম্বর শেষ সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ থেকে চিঠি একটা পেলাম। চিঠির লেখক শংকর নারায়ণ চক্রবর্ত্তী, নেতাজী সুভাষ জন্মোৎসব কমিটির সভাপতি তিনি, পাশাপাশি কবি, একটি হাই স্কুলের প্রধানশিক্ষক। আমি তাঁকে চিনতাম না। পরিচয়ও ছিলো না আমার। হঠাৎ করে তার চিঠি পেয়ে একটু চমকে উঠলাম।
চিঠিটার ভাষ্য এমনÑ ‘নেতাজী সুভাষ জন্মোৎসব কমিটি আয়োজিত ২৩তম ছাত্র-যুব স¤প্রীতি উৎসব আগামী ২০-২৪ জানুয়ারি বগুলা ডাকবাংলো ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। পাঁচদিন ব্যাপি উৎসবের উদ্বোধনী দিন অর্থাৎ ২০ জানুয়ারি বিকাল ৪টায় আপনাকে আমরা সম্বদ্ধিত করার সিন্ধান্ত গ্রহণ করেছি।’ চিঠিটা হাতে পেয়ে আমি কী করবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আমি কি যেতে পারবো? দ্বিধান্বিত হলাম। আমার কাছে পাসর্পোট ছিলো না।
সময় ছিলো না, স্বল্প সময়। এরিমধ্যে পোহাতে হচ্ছে হয়রানি পাসপোর্ট। পপাত জোরে খুব বেশি ঝামেলা পোহাতে হয়নি তবে। একদিনে ভিসা পেলাম।
সবকিছু যখন রেডি করছি অনুষ্ঠানের দাওয়াতপত্রও এসে হাজির। সংবর্ধিত তালিকা দেখে আমার চোখ ছানাবড়া। স্বাধীনতা সংগ্রামী বাসন্তী ওয়াদেদ্দার (সেনগুপ্তা), অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবী, কথাসাহিত্যিক বীণা বসুসহ আরো অনেকের নাম। এতো বিশেষ গুণীজন। সেখানে আমিতো কিছুই না। উদ্বোধন করবেন কথাসাহিত্যিক তারাদাস বন্দোপাধ্যায়। চোখকে কোনোভাবেই বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না নিজের নামটা তাঁদের পাশে দেখে। দারুন এক উত্তেজনার বৈভব আমার ভিতরে ভিতরে।
স্বাধীনতা সংগ্রামী বাসন্তী ওয়াদেদ্দার (সেনগুপ্তা) এর নাম দেখে প্রীতিলতার কথা আমার মনে পড়লো। সঙ্গত কীনা জানি না। নামের শেষে টাইটেলে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করলাম তার সাথে বাসন্তীর সম্পর্ক। নামের সাথে আবার সেনগুপ্তা দেখে কনফিউজড হলাম।

বিশাল আয়োজন। বিশাল প্যান্ডেল। বিশাল স্টেজ। লক্ষাধিক মানুষের সমাগম।
আমার জন্য এসব অনেক বড়ো ব্যাপার মনে হলো। আমরা সংবর্ধিতরা মঞ্চে উঠে গেলাম। বাসন্তী ওয়াদেদ্দার তখনো এসে পৌছাননি। অনিশ্চয়কা অপূর্ণ বেদনা চেপে ধরছে। কিছুসময় অতিক্রম পর স্বেচ্ছাসেবকদের একজন কর্মী বাসন্তী ওয়াদেদ্দারকে কোলে তুলে নিয়ে আসে। আমরা প্রত্যেকেই দাঁড়িয়ে গেলাম, সম্মান জানালাম এই মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীর প্রতি। টাইম মেশিন ছিলো না। কিন্তু আমাদের মন, চেতনা ফিরে গেলো পিছনে এ মহান মানুষের সাথে।
১০৭ বছর প্রায় তাঁর। দীর্ঘদিন লোকচুর আড়ালে ছিলেন তিনি। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী প্রীতিলতা ওয়াদেদ্দার এর বড় দিদি তিনি। মাষ্টারদা সূর্যসেনের আর্দশে প্রাণিত হন এ দুই বোন। প্রীতিলতার সাথে একসাথে চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করেন বাসন্তী ওয়াদেদ্দার। তিনি ভিুক বেশে বিট্রিশদের অবস্থান ও গোপন খবর জেনে নিতেন। সে অনুযায়ী বিপ্লবের চূড়ান্ত পরিকল্পনা হতো। ১৯৩২ সালে ২৪ সেপ্টেম্বর পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান কাব ধবংস করে পটাসিয়াম সাইনাইট খেয়ে প্রীতিলতা আত্মহত্যা করেন। আর বাসন্তীকে তার স্বামী পুর্ণেন্দু কিশোর সেনগুপ্ত ইংরেজদের হাত থেকে বাঁচাতে বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়ার রানাঘাটে নিয়ে আসেন। আত্মগোপন করতে গিয়ে বাসন্তীকে নতুন নাম নিতে হয়-পুষ্পরাণী সেনগুপ্তা। সেই থেকে বাসন্তী ওয়াদেদ্দা আড়াল হয়ে যান, মানুষের আড়ালে চলে যান।
দুই হাজার সাত সালে নদীয়ার রানাঘাটবাসী প্রীতিলতার নামে স্কুল ও পাঠাগার নির্মাণ করেন। তা উদ্বোধনে জন্য প্রীতিলতার স্বজনদের খোঁজ করলে বাংলাদেশের ”ট্টগ্রাম থেকে বাসন্তী ওয়াদেদ্দার নাম পাওয়া যায়। রানাঘাটের অনুসন্ধিতসু ব্যক্তি রানাঘাটে বাসন্তী ওয়াদ্দেদার এর খোঁজ পান।
এরপরই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারসহ বিভিন্ন সংগঠন বাসন্তী ওয়াদেদ্দারকে জনসমে নিয়ে আসেন। সংবর্ধিত করেন।
নেতাজী সুভাষ জন্মোৎসব কমিটি আয়োজিত গুণীজন সংবর্ধিত অনুষ্ঠানে মঞ্চে বাসন্তী ওয়াদেদ্দার এর সম্মানার্থে কারা লৌহ ঐ কপাট গানটি বেজে উঠছিলো মঞ্চে আর তখন উপবিষ্ট বাসন্তী ওয়াদ্দেদার এর বিপ্লবী চেতনা জেগে উঠে তার অবচেতন মনে আর সারা শরীর নড়ে-চড়ে উঠল। অদ্ভুত এক ফিলিংস। দেখার ছিলো সেটি। আমার নয় কেবল, সবার চোখ ভিজে উঠেছে। পুরো পরিবেশ তৈরি তখন হয়েছিল অন্যরকম আবেগে।
বক্তব্য দিতে চাননি, সবার আহবানে দিয়েছিলেন তিনি। কথা তার পরিস্কার, স্পষ্ট নয়। তবে বলিষ্ট। বক্তব্য শেষ পর্যায়ে উচ্চারণ করেন বন্দে মাতরম।
বার্ধক্য এখন তার স্বাভাবিক দৈনন্দিন জীবনে প্রতিবন্ধক।
স্বামী পুর্ণেন্দু কিশোর সেনগুপ্ত রানাঘাট পৌরসভায় কার্ক ছিলেন। কয়েকবছর হলো তিনি প্রয়াত হন।

পরদিন সূর্য নিভু নিভু বেলা, গিয়েছিলাম তাঁর বাড়িতে, সাথে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট কবি কার্তিক মোদক। জীর্ণ একটি বাড়ী। অর্ধ পাকা, পুরোনো। বাড়ীর চারপাশ লতায় লতায় আকড়ে আছে। সবুজে সবুজে চারদিক।
তামাটে রঙে, শীর্ণ শরীরে ছোট্ট একটি খাটে শুয়ে আছেন তিনি। বাসন্তী ওয়াদেদ্দার এর সাথে কথা বলতে চেয়েছিলাম।
চট্টগ্রাম থেকে পালিয়ে আসার পর থেকে কথা-বার্তা তিনি কমই বলতেন। বয়স বাড়ার সাথে একদমই কম বলেন। তবে সারাণ বিড় বিড় করে কী যেনো বলেন। বাংলাদেশ থেকে এসেছি শুনে একবার তাকালেন আমার দিকে। কি যেনো আকুতি তার মনে। বলতে চাইলেন। পারলেন না।
একমাত্র ছেলে পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরি করে। জানলাম তার কাছেই, বাসন্তী ওয়াদেদ্দার বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি অসুস্থ। সুচিকিৎসা প্রয়োজন। আর্থিক অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।

বাংলাদেশে তাঁর জন্ম। স্ব-ভূমে ফিরে আসতে চান বাসন্তী ওয়াদ্দেদার।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28824309 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28824309 2008-07-26 12:57:30
আমরা যারা তাঁর সান্নিধ্য পেয়েছিলাম, তারা আজ ভীষণ অসহায়
গতকাল সকালের প্রখর ঘুম ভাঙ্গল আসলাম সানী ভাই’র ফোনে। তিনি জানালেন কবির প্রয়াণের খবর। সমুদ্র গুপ্ত আর নেই। ভারতের ব্যাঙ্গালোরের একটি হাসপাতালে ভোরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। আর বাঁচানো গেলো না। যে কবি প্রতিনিয়ত কবিতায় শব্দতরঙ্গ সৃষ্টি করতেন, প্রতিবাদের কন্ঠস্বর যিনি সেই কবি এখন প্রয়াত, বিশ্বাস হয় না, মানতে চাই না। বুকের মধ্যে কেমন যেনো বিষণ্নতা ছেঁয়ে গেছে অবচেতনে। অথচ তিনি আমাদের চেতনা-তারুন্যের প্রতীক ছিলেন। কবির সুস্থ কর্মময় আরও বহুবছর কামনা করেছিলাম। তার মহাপ্রয়াণ বড় তি হয়ে গেলো। আজ আমাদের অজানা হয়ে ওঠেনি। সারাজীবন যিনি তিমির হননের সংগ্রামে ছিলেন অক্লান্ত যোদ্ধা, তাঁকেই গ্রাস করে নিলো মৃত্যুর কপট অন্ধকার!

সিরাজগঞ্জের সন্তান কবি সমুদ্র গুপ্ত। ১৯৪৪ সালের ২৩ জুন তিনি জন্ম নেন। আবদুল মান্নান তাঁর আসল নাম। পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থার নজর এড়াতে সমুদ্র গুপ্ত নামে ছদ্মাবরণ করেন। সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকা-এই পথ পরিক্রমা তাঁর সহজ ছিলো না। ষাটের দশক থেকেই তিনি কবিতা, গল্প, সমালোচনা, সাহিত্য, প্রবন্ধ ইত্যাদি রচনা শুরু করেন। তাঁর ১৩টি কাব্য, একটি গদ্য, একাধিক সম্পাদিত ও অনুবাদ গ্রন্থ ছাড়াও বহু লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে রোদ ঝলসানো মুখ, স্বপ্নমঙ্গল কাব্য, চোখে চোখ রেখে, একাকী রোদ্রের দিকে, শেকড়ের শোকে, নদীও বাড়িতে ফেরে ইত্যাদি। তাঁর কবিতা ইংরেজি, ফরাসি, চীনা, হিন্দি, নেপালি ও সিংহলি ভাষায় অনূদিত ও প্রকাশিত হয়েছে।

ছুঁটে বেড়িয়েছেন সারাদেশ, কবি ও কবিতার আয়োজনে। কবি হিসেবেও নয় কেবল, যেকোনো সাংস্কৃতিক উদ্যোগেও সমুদ্র গুপ্ত ছিলেন প্রথম সারিতে। জাতীয় কবিতা পরিষদের তিনি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি, পরবর্তীকালে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এ সংগঠনে।

১৯৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থানের সক্রিয় কর্মী এবং মুক্তিযুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

সমুদ্র গুপ্ত। অনেক বিশেষণে তাঁকে জানা যায়। সব বিশেষণ ছাপিয়ে তিনি আমার কাছে কেবল দাদাই ছিলেন। আমার মতো তরুণদের পাশে ছিলেন সবসময়, প্রাণিত করতেন সৃষ্টিশীল সব কাজে। শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেট ছিলো তার দ্বিতীয় ঠিকানা, তিনি প্রায় বলতেন এটি। আমাকে শাহবাগে নিয়মিত আমন্ত্রণ জানাতো এ মানুষটি। তার টানেই যেতাম শাহবাগে

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কবি হয়েও কবিতার প্রসাদ গুণে সমুদ্র গুপ্ত প্রধান কবিদের মধ্যে নিঃসন্দেহে বিশিষ্ট। তার এ বৈশিষ্ট্য নানামাত্রিক-যেমন কবিতার নিবিড় স্বভাবে, তেমনি মাটি ও মানুষ নিয়ে, ব্যক্তি ও সমাজ নিয়ে গভীর বাস্তবতার প্রকাশে। সমুদ্র গুপ্ত তার কবি স্বভাবে যেমন রাজপথের কবি, তেমনি বরাবর গ্রাম বাংলার মাটি, মানুষ ও নিসর্গের কবি। তার কবিতার পাঠক একই সঙ্গে পাবেন বাঙালি সত্তার গভীর অনুভব ও মননশীল। পাঠকের কাছে তাই তার কবিতা আধুনিকতার উদ্ভাস।

মনে পড়ে অসুস্থ হওয়ার কিছুদিন আগে শাহবাগের আজিজ মার্কেটের নিচে দেখা হয় সমুদ্র দা’র সাথে। আমার হাত ধরে দ্বিতীয় তলা, তৃতীয় তলা চল্লেন। অনেক কথা এরমাঝে। কবিতার কথা, রাষ্ট্র-সমাজ বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়। সেদিনের সাাতে জানান দিলেন তিনি অসুস্থ। খুউব হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন। বাধর্ক্য তার শরীরকে ছেয়ে গেলেও তারুণ্য ছিলো সবসময় অদম্য।
প্রিয় কবি’র কাছে যাওয়ার বিচ্ছিন্ন স্মৃতিগুলো আজ উজ্জ্বল, আঁকড়ে ধরে রাখলাম এণ।

আমরা যারা তাঁর সান্নিধ্য পেয়েছিলাম, তারা আজ ভীষণ অসহায়।

বিশ জুলাই দুই হাজার আট, খিলগাঁও, ঢাকা
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28822504 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28822504 2008-07-21 10:19:47
তিনি-ই তো হতে চেয়েছিলেন সিরাজউদ্দৌলা ! এখনো অজু হয়নি, ইতিমধ্যে সেখানে
জন্মেছে হলদে ঘাস-তৃণ;
জানি, একদিন খুলবে আমাদের
রঙিণ আস্তিন
আকাশ ভেঙ্গে পড়বে সেদিন, বিষ্টি ঝরে
পড়বে তার কপাল ভেঙ্গে ঘামে
কত আর ঢুকবে তার মাথাটা
নিলর্জ্জতারও তো শ্যাষ আছে;

পাড়ি দিয়ে এসে ভাসে কৃষ্ণপক্ষ,
অমাবশ্যা ভোর-জ্যোৎস্না জ্বলে উঠে
মেঘনা নদী ভেঙ্গে সর্বনাশা অতিক্রমে,

তবুও তার আর ফতুয়া খোলা হলো না
অদৃশ্য, কেবল অদৃশ্য থাকলো আমার-আমাদের বোধ,
আমাদের অস্তিত্ব বিলোপে চলমান প্রক্রিয়ায়
নিরন্তর প্রয়াস তার;

জানি, একদিন হেরে যাওয়া গল্প তার শ্যাষ হবে
মীরজাফর আখ্যায়, তার পিঠ জুড়ে
বেজে উঠবে ধ্বনি-প্রতিধ্বনিময়
মীর জাফর, মীর জাফর, মীর জাফর
ইতিহাসে বুকে তিনি-ই তো হতে চেয়েছিলেন সিরাজউদ্দৌলা !

সকরুণ ইতিহাস আজ, নৈর্ব্যত্তিক প্রশ্ন এখানে সীমাবদ্ধ।
সময় বড়ো অদ্ভুত গান গায়!
অদ্ভুত কথা কয় !

এ জীবন বড় আশ্চর্য গতিতে!
‘মুখোমুখি হওয়ার যন্ত্রণা’ মাঝে মাঝে দাঁড় করে দেয়
মতালোভী, একমস্তক বিশিষ্ট বিশ্বাসঘাতকের মুখোমুখি।

চিনচিনে ব্যথায় কবিতা আজ স্তব্ধ
নির্জীব,
বড্ড অসহায় নতজানু কবিতা
টাউন হল কিম্বা মৌমাছি কচি কাঁচার মেলায়
একদিন নতুন করে জানালার ফাঁক দিয়ে যায় একাকী
নির্বাক জলে স্নান করে
আকাশ ছুঁয়ে কোলাহলে, জীবিত অথবা মৃত মন দ্যাখে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28822176 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28822176 2008-07-20 13:08:35
তো এরকম হতো না! লাল বাতি জ্বলা মানেই,
আজ সকালে পিষ্ট হলো ক্লান্ত বকুল ফুল;
সবুজ বাতির প্রাণ মানেই,
'পুরোনো প্রেমিকার কাছে যেতে পারো ফিরে'
নতুন প্রেমের কাছে আজ হবো আমি চক্ষুশূল!

সময়েরও আছে নানারকম ব্যাধি ...
প্রতিদিন সন্ধ্যেবেলায় পূর্ণমানব বোধ করে অসুস্থ বেদনা
মাঝরাতে হাহাকার বাড়ে, সুস্থ দিবসে তো এরকম হতো না!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28821363 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28821363 2008-07-17 18:19:31
ফলোআপ : সুস্মিতা চলে গ্যাছে ম্লান, ম্লান সবই, অঝর বিষ্টির কাছে সব

>>
১৩ জুলাই চলে গ্যাছে পরবাসে প্রিয়তম সুস্মিতা।
একটি দীর্ঘশ্বাস কেবল আজ আমার জন্যে ...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28820855 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28820855 2008-07-16 11:22:05
অসুখের পরে অজস্র মিথ্যের ভিড়ে তোমায় দেবো
-নির্জলা সত্য।
অথচ অসুরেখর সময়,
হৃদয়ের উষ্ণতায়র বদলে তুমি দিয়েছো ফিরিয়ে
-হিম শৈত্য।

যতবার বলেছি বিশ্বাসের মন্ত্রে ঘর পালানোর গান,
জেনো মেয়ে, আমি ভুলেছি পথ,
ভুলেছি সকল মান কিম্বা অভিমান।
অসুখের পরে, চরম অবহেলার বদলে তোমায় দেবো
-বাঘবন্দি খেলা।

অথচ, অসুখের সময়
ব্যকুল দৃষ্টির প্রতিদানেতুমি দিয়েছো ফিরিয়ে
-অস্থির সন্ধ্যেবেলা। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28813505 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28813505 2008-06-25 12:32:49
শহরে এসেছো,প্রাণের অতিথি এমন রাত্রি-দিন নিরন্তর নির্বাক!

আঠারোটি বছর প'র কুয়াশা ঘেরা শহরে এসেছো,
-প্রাণের অতিথি,
প্রাণবন্ত নৈশভোজে প্রানান্তকর আমন্ত্রণ তোমায়;
তোমায় আমন্ত্রণ বন্ধ্যা নারীর আতুরঘরে,
-যে আতুরঘরে সন্তানেরা পৃথিবীর আলো খুঁজে পায় না।

এমন কি দুঃখ আছে যা দেখি নি
এমন ভঙ্গুর আকাশ নিরন্তর বৃষ্টিহীন!

কুয়াশা ছিন্ন করে এসেছো অভিশাপের আলোয়
পাড়ার ঘুপচি গলিতে তোমাকে আমন্ত্রণ,
তোমারও আমন্ত্রণ যুবকের নেশাতুর চোখে
-যে চোখে কোনো নারী স্বপ্নের জ্যোৎস্না হাতড়ে বেড়ায় না !]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28813098 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28813098 2008-06-24 09:58:46
যদি কোনোদিন মনে পড়ে যায় শুধূ দূর থেকে ডাক দিয়ে যেয়ো
আমি সেদিনও তোমার পাশে থাকবো।

যদি কোনোদিন মনে পড়ে যায়
সেদিনের সেই কথাগুলো স্মরণে রেখো
আলতো পায়ে সাজিয়ে রেখো আমারকে।

যদি কোনোদিন মনে পড়ে যায়
খুঁজে নিয়ো আমাকে
আকাশে অসংখ্য নক্ষত্রে
আমিও ফুটে থাকবো নক্ষত্র হয়ে।

যদি কোনোদিন মনে পড়ে যায়
শুধূ দূর থেকে ডাক দিয়ে যেয়ো
আমি সেদিনও তোমার পাশে থাকবো।
যদি কোনোদিন মনে পড়ে যায়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28812426 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28812426 2008-06-22 13:55:06
অন্ধকার, নীলগান আমার অহঙকার
হয়তো হতে পারে !
অন্ধকারই আমার কাছে ঢের বেশী নন্দিত
অতিক্রম করে যাওয়ার মতো, সমুদ্র গভীরের কাছাকাছি
হয়তো হতেই পারে এ একটি ছেলেখেলা
কিন্তু, এই অন্ধকার, নীলগান আমারই অহঙকার।

আমি আগের মতোই আছি
এখনো আমি পাথরের পথে চিল
নিরন্তর, একা একা
এখনো রঙ খেলা করে চোখে কিছুটা ধূসর।

আমি ঠিক আগের মতোই
চোখের জল শুকিয়ে কালো সমান্তরাল
রেখা বইছে ঠিক
কালি, ধূলোমাখা শহরে ঠিক
এখানে আমার লাশ ঠিক পড়ে থাকে
ইমন, তুমি রূপ হারিয়েছ জলে
মন হারিয়েছ দারুণ অস্তাচলে
ইমন, তুমি ডুব তিয়ে যাও, ডুবে যাও
একটু লজ্জা শিহরণে, একটু প্রেম অভিমানে।

আমি বদলাইনি এতটুকু
আঘাদের পর আঘাত বিশীর্ণ করেছে, তবু
উপসনালেয়র মাঝে ক্ষীণ স্রোতা বহমান নদী
শুকিয়ে আছে জীর্ণ বৃক্ষের মতো।

আমি গলা ছেড়ে গান গাই
তোমাদের কারখানার ঝপাং শব্দে
উচ্চিরত হয় আমার অভিশাপের মন্ত্র
অবিশ্বাসের সুকোয় ওড়ে নীল ঘুড়ি
আমি আজও আছি অনেকের চোখে
ঠিক আগের মতোই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28811971 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28811971 2008-06-21 11:30:15
নামহীন-২ জেগে ওঠার প্রাণ আজকাল নিয়মিত হয় না, মরচে
ধরে আছে আগামি গৌধুলি,
কোলাহল লাগে না আর ভালো, ধূসর আকাশের মতো
হয়ে ওঠেছে আমার প্রাত্যকাল, লাল-নীল মদের
বোতলে সঙহতি আঁকি প্রায়হীন, খুঁজি নতুন আহবান ...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28806870 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28806870 2008-06-06 18:14:05
তবুও প্রত্যাশায় আছি এক সলতে আলো . . . মোহম্মদপুর সিটি হসপিটালের আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন সে। বাচ্চার কাপড় শুকোতে গিয়ে চুলার আগুনে দগ্ধ হয় সুস্মিতা।

শিশুকাল থেকে তার সাথে আমার যোগাযোগ। ঠিক সম্পর্ক বর্তমান হয়নি। কৈশোর পর্দাপনে বর্তমান হয়।
যাচ্ছিল কেঁটে সময়। আমার বোহেমিয়ান জীবন অ্যাতোটা তন্দ্রাচ্ছন্ন, আমার সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়ে যায় ততোদিনে।
অতঃপর তার বিয়ে হয়ে যায় দুই হাজার ছয় সালে ২১ জুলাই।

কিছুদিন হলো সুস্মিতা পুত্র সন্তানের জননী হয়। মাস দুয়েক হয়।

সুস্মিতা আমার কবিতা প্রাণ। বার বার আমার কবিতায় ফের ধরা দিয়েছে।
তাকে ছাড়া আমার কবিতা বড্ড অসহায়, ক্ষুধার্ত।

বন্ধুবর, আজ আমার সুস্মিতা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। শুয়ে আছে হসপিটালে।
ডাক্তাররা বার বার রেড এলার্ট দিয়ে যাচ্ছে। একটু আশার খোঁজ পাই খুঁজি। রক্তের প্রয়োজন হলো। বহু চেষ্টা হলো, সাড়া পেলাম না।

কিছুক্ষণ আগে খবর পেলাম, ডাক্তাররা রেড এলার্ট দিয়েছে।
জানি না কি হচ্ছে। কিঙবা কি হতে যাচ্ছে।
তবুও প্রত্যাশায় আছি এক সলতে আলো . . .
তোর লাইগ্যা আমার পরাণ যায় খেইল্যা . . .

সবারে করি আমন্ত্রণ, প্রার্থনা চাই . . .
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28803886 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28803886 2008-05-28 18:41:44
মূমু্ষ রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজন একজন মুমূষ্ রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজন।
রক্তের গ্রুপ এবি পজেটিভ।
আগ্রহী বন্ধুদের যোগাযোগের নাম্বার ০১৭১৬৮৪৫০৭২
একজন মানুষকে বাচাঁতে সহৃদয় মানুষের সাহায্যর প্রয়োজন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28803717 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28803717 2008-05-28 11:04:39
একজন মুমূর্ষ রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজন প্রিয় ব্লগারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যদি কেউ সন্ধান দিতে পারেন

দয়াপূর্বক এই নাম্বারে যোগাযোগ করুন

০১৭১৬ ৮৪৫০৭২]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28803710 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28803710 2008-05-28 10:47:40
একটি লাইন [ তৃতীয়] http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28803059 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28803059 2008-05-26 17:39:12 একটি লাইন [দ্বিতীয়] http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28801723 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28801723 2008-05-23 12:44:17 একটি লাইন . . . http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28798878 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28798878 2008-05-17 12:20:44 খোয়াব খেইল্যা যায় উৎসর্গ : দূরবাসী অনর্জিত প্রেম-ভালোবাসাকে






পাগলী, তোরে নিয়া খেলা করে খোয়াব
নিশ্চলা শহর, ভ্যাপসা বাতাসের ভিতরে ভিতরে
খেইল্যা যায়-
খেইল্যা যায়, খোয়াব খেইল্যা যায় তোরে ঘিরা।

পরপুরুষের চক্ষের আড়াল থ্ন যক্ষের ধনের মত কইরা,
উত্থাল-পাথাল কইরা তাবিজের মতন-
হ, তাবিজের মতন তোরে বুকে রাখতে মন চায়,
পাগলী-রে, তোকে নিয়া আমার খোয়াব খেইল্যা যায়।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28798874 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28798874 2008-05-17 12:04:31
একাত্তরের ঘাতক দালাল জামায়াতে ইসলামীর আমির মওলানা মতিউর নিজামীর দুষ্কর্মের চিত্র সংগ্রাম এ, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বিভিন্ন প্রতিবেদনে। আর এ বাহিনীর পুরো পাকিস্তানের প্রধান ছিলেন দলটির প্রধান (আমির) মওলানা মতিউর রহমান নিজামী। বিগত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-১ (সাঁথিয়া ও বেড়ার একাংশ এলাকা) আসনে চার দলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে একাত্তরের ঘাতক দালাল নিজামী প্রথমে এমপি নির্বাচিত হয়ে কৃষিমন্ত্রী, পরে শিল্পমন্ত্রী হন। তিনি পাবনার মানুষের কাছে একাত্তরের কুখ্যাত 'মইত্যা রাজাকার' হিসেবে পরিচিত। এই নিজামী এবং তার দল জামায়াতে ইসলামী বাঙলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধেই শুধু অবস্থান নেননি, পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর গণহত্যাযজ্ঞ ও যাবতীয় ধ্বংসলীলার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা বাঙালিদের হত্যা, মা-বোনদের সম্ভ্রমহানী, সম্পদ লুট. বাড়ি-ঘরে আগুন দেওয়া সহ ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ কর্মকর্তা মেজর সিদ্দিক সালিকের লেখা উইটনেস টু সারেন্ডার বইয়ে জামায়াত ও তাদের সৃষ্ট রাজাকার, আল-বদর, আল সামস বাহিনীর অপকর্মের খবর পাওয়া যায়।

একাত্তরের নথি কি বলে ?

১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর আমির মওলানা নিজামী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে তার যাবতীয় কর্মতৎপরতা পরিচালনা করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি ছিলেন। তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মুক্তিযুদ্ধকে প্রতিহত এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নির্মূল করার জন্য আল বদর বাহিনী গঠন করা হয়। মতিউর রহমান নিজামী ছিলেন এই আল বদর বাহিনীর প্রধান ছিলেন। আল বদরের নেতারা বুদ্ধিজীবী হত্যার নীল নকশা প্রণয়ন করেন এবং তাদের নির্দেশে ডিসেম্বর মাসে ঢাকাসহ সারা দেশে শত শত বরেণ্য বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়। নিজামীর নেতৃত্বে পরিচালিত আল বদর বাহিনীর হাতে বুদ্ধিজীবী হত্যার ভয়াবহ বিবরণ দেশের বিবরণ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

নিজামী ১৯৭১ সালের ১৪ নভেম্বর দলীয় মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম এ 'বদর দিবস : পাকিস্তান ও আল বদর' শিরোনামে একটি উপসম্পাদকীয় লিখেন। তিনি লিখেন, ' আমাদের পরম সৌভাগ্যই বলতে হবে, পাক বাহিনীর সহযোগিতায় এদেশের ইসলাম প্রিয় তরুণ সমাজ বদর যুদ্ধের স্মৃতিকে সামনে রেখে আল বদর বাহিনী গঠন করেছে। সেদিন আর খুব দূরে নয় যেদিন আল বদরের তরুণ যুবকেরা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি হিন্দু বাহিনীকে (শত্রুবাহিনী) পর্যুকরে হিন্দুস্থানের অস্তিত্বকে খতম করে সারা বিশ্বে ইসলামের পতাকা উড্ডীন করবে।' তিনি তার দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের পাকিস্তান রক্ষায় আক্রমণাত্মক হওয়ার আহবান জানিয়েছিলেন। তিনি লিখেছেন,' ... শুধু পাকিস্তান রক্ষার আত্মরক্ষামূলক প্রচেষ্টা চালিয়েই এ পাকিস্তানকে রক্ষা করা যাবে না।'

শান্তি কমিটি গঠনের পর ১২ এপ্রিল ১৯৭১ তারিখে ঢাকায় প্রথম ঢাকঢোল পিটিয়ে মিছিল বের করা হয়। এ মিছিলে নেতৃত্ব দেন গোলাম আযম, খান এ সবুর, মতিউর রহমান নিজামী প্রমুখ। মিছিল শেষে গোলাম আযমের নেতৃত্বে পাকিস্তান রক্ষার জন্য মোনাজাত করা হয়। ( তথ্যসূত্র : দৈনিক সংগ্রাম, ১৩ এপ্রিল১৯৭১)

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যারা যুদ্ধ করেছে তাদের ধ্বংস করার আহবান সম্বলিত নিজামীর বক্তব্য, বিবৃতির বহু বিবরণ একাত্তরের জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামে পাওয়া যায়। যশোর রাজাকার সদর দপ্তরে সমবেত রাজাকারদের উদ্দেশ্য করে নিজামী বলেন, ' জাতির সংকটজনক মুহূর্তে প্রত্যেক রেজাকারের উচিত ইমানদারীর সাথে তাদের উপর অর্পিত এ জাতীয় কর্তব্য পালন করা এবং ঐ সকল ব্যক্তিকে খতম করতে হবে যারা সশস্ত্র অবস্থায় পাকিস্তান ও ইসলামের বিরু্দ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। ( দৈনিক সংগ্রাম, ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)

বিবরণ

মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তার এলাকাবাসীও হত্যা, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ, নির্যাতন ইত্যাদির অভিযোগ এনেছেন। পাবনার জেলার বেড়া থানার বৃশালিকা গ্রামের আমিনুল ইসলাম ডাবলু গণতদন্ত কমিশনকে জানিয়েছে, তার পিতা মোঃ সোহরাব আলীকে একাত্তরে নিজামী নির্দেশেই হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, নিজামীর নির্দেশেই তাদের এলাকার প্রফুল্ল (পিতা : নয়না প্রামানিক), ভাদ ( পিতা : ক্ষিতীশ প্রামানিক ), মনু ( পিতা : ফেলু প্রামাণিক) এবং ষষ্ঠী প্রামাণিক ( পিতা : প্রফুল্ল প্রামানিক) কে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী রয়েছে বলে তিনি জানান।

একাত্তরের সাত নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কুদ্দুসকে (পিতা : ডি. সৈয়দ আলী শেখ, সাং-গ্রাম : মাধবপুর, পো: শোলাবাড়িয়া, থানা-জেলা : পাবনা) আল বদররা ধরে নিয়ে গেলে তিনি প্রায় দু'সপ্তাহ আল বদর ক্যাম্পে আটক ছিলেন। ক্যাম্পে আটক থাকাকালীন তিনি আল বদর বাহিনী কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, অগ্রিসংযোগ, ধর্ষণ ইত্যাদির পরিকল্পনা প্রত্যক্ষ করেন। এই পরিকল্পনারয় মতিউর রহমান নিজামী নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে তিনি জানান। ২৬ নভেম্বর সাত্তার রাজকারের সহযোগিতায় ধুলাউড়ি গ্রামে পাকিস্তানী সৈন্যরা ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করে। মুক্তিযোদ্ধা কুদ্দুস আল বদর বাহিনীর একটি সমাবেশ এবং গোপন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি জানিয়েছেন। বৈঠকে নিজামীও উপস্থিত ছিলেন। নিজামী সে বৈঠকে তার বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিহত ও সমূলে ধ্বংস করার নিদের্শ দেন। ব্ঠৈকে কোথায় কোথায় মুক্তিবাহিনীর ঘাঁটি এবং আওয়ামী লীগ সেতৃবৃন্দের বাড়ি আছে তা চিহ্নিত করা হয়। কুদ্দুস আরো জানান, নিজামী তার গ্রামের ঝুটি সাহার ছেলে বটেশ্বর সাহা নামক একজন তরুণ মুক্তিযোদ্ধোকে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করেন।

নিজামীর বিরু্দ্ধে অনুরূপ অভিযোগ করেন সাঁথিয়া থানার মিয়াপুর গ্রামের মোঃ শাহাজাহান আলী ( পিতা : জামাল উদ্দিন)। যুদ্ধের সময় রাজাকারদের হাতে ধরা পড়লে আরো কয়েকজন আটক মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তারও গলায় ছুরি চালানো হয়েছিলো। অন্যদের জবাই করে করলেও শাহাজাহান আলী ঘটনাচক্রে বেঁচে যান। গলা কাঁটা দাগ নিয়ে তিনি এখন পঙ্গু জীবন যাপন করছেন। তাঁর সহযোদ্ধা দারা, চাঁদ, সুলমে, আখতারসহ আরো অনেককে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে গরু জবাই করার লম্বা ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যা করা হয়। সে দিন প্রায় ১০/১২ জন মুক্তিযোদ্ধা জবাই হয়েছিলেন। মু্ক্তিযোদ্ধা কবিরের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকান্ডের নীল নকশা প্রণয়ন করেন মতিউর রহমান নিজামী।

৭ ডিসেম্বর ২০০০ তারিখে জামায়াতের আমির হিসেবে নিজামীর শপথ গ্রহণের দিন ঢাকায়, কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত এক গণসমাবেশে মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে পাবনা থেকে এসেছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফ। একাত্তরে নিজামীর হাতে নির্যাতিত নিজামীর-ই নির্বাচনী এলাকা পাবনা জেলার বেড়া থানার বৃশালিকা গ্রামের অধিবাসী আবদুল লতিফ সেদিন সমবেত সমাবেশে বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনায় যিনি মইত্যা রাজাকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনিই জামায়াতে ইসলামীর নতুন আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী। তিনি একাত্তরে নিজামীর দুষ্কর্ম বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ৩ ডিসেম্বর ১৯৭১ রাতে নিজামী এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ এবং বাড়ি-ঘরে অগ্নি সংযোগ করে। সেই আক্রমণে বেশ কয়েকজন নিহত হয়। . . . সেই রাতে হামলাকারী আল বদর ও পাকিস্তান হানাদাররা তাঁর মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে ধরে নিয়ে যায় এবং নির্যাতনের পর তাকে গুলি করে হত্যা কর। এর আগে ১৩ আগষ্ট আবদুল লতিফকে আল বদর বাহিনীর বেড়া বাজার থেকে ধরে নগরবাড়ি পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। ষেকানে পাকিস্তানী বাহিনীদের পাশাপাশি মতিউর রহমান নিজামীও তাঁর ওপর নির্যাতন
চালায় ( ভোরের কাগজ, ৮ ডিসেম্বর ২০০০)।


প্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র :

: একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি-গণতদন্ত কমিশন রির্পোট সংক্রান্ত প্রকাশনা
: প্রথম আলো
: সমকাল]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28798341 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28798341 2008-05-15 18:23:59
নামহীন মৃত্যুকে পাশে ফেলে
ঘুমিয়ে পড়ছি, জেগে উঠছি, ঘুমিয়ে পড়ছি
চারদিকে নীলব্যথা-
কালোজলে নিমজ্জিত!
মাথার ওপর মায়ের নরোম হাত
দিদির প্রার্থনা ভোরের শ্যাষে
ওম শান্তি ! ওম ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28797599 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28797599 2008-05-13 17:53:23
অচেনা পথ আছি এখোনো অচেনা
দুই সমান্তরাল নদী মেলে না কখনো
মেলে কি ভুল করেও?

অচেনা আছি এখোনো আমরা দু'জনে
ধূসর আকাশের মতো, গাঢ়
সমুদ্রের ফেনার মতো
অথবা নতুন মদের মতো
-আছি আমরা এখনো অচেনা।

ভুল পথ বাড়িয়ে বা ভুল করে এসে
অচেনা প্রেমিক কাঁদে একা ভুল ভালোবেসে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28796143 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28796143 2008-05-10 12:16:10
দিদির জন্যে ছিন্নপঙতি দিন শ্যাষ কিঙবা অবিরতির প'রই
আজ হঠাৎ ঝেঁকে বসলো মাথার ওপর
নামাতেই পারছি না, চেষ্টা যখন করছি
অনবরত বিষ্টি ঝরছে তখন,
মেঘশূণ্য
কালো নিকষ আকাশ ভেঙেগ আমার দিকে;
কতটা অসহায় এখন আমি, চলছে নিরন্তর
নিরবধি সবকিছুই, থেমে নেই জাগতিক কাজ
আর আমি রঙিণ সুতোয় বুনে আছি স্বপ্ন চাষ

সমস্ত জীর্ণতা নিয়ে উঠোন পেরিয়ে
পিছন ফিরে দ্যাখি জ্যোৎস্না . . . ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28796119 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28796119 2008-05-10 11:23:42
অলঙকৃত সুন্দর আকাশ জুড়ে সারি সারি শুভ্র বলাকা
ঘুম ভেঙে সুখময় স্বপ্ন কল্পনা;
আমাদের সুখ সুন্দর ! আমাদের দুঃখ সুন্দর !!
আমাদের প্রেম-বিরহ সুন্দর; য্যানো শুধু শ্বাশত মহান
-সুন্দর তুমি এর চেয়ে ঢের বেশি অলঙকৃত
প্রতিনিয়ত সঙ্গী সুন্দর আমাদের পথিকৃত।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28795211 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28795211 2008-05-07 18:47:03
নদী ও আমি হৃদয় থেকে উত্থিত একটি ভালোবাসা
বিকেলে হ্রদের পাশে খোলা মাঠে
নদীর সোনালী চুল হাওয়ায় দোল খায়
তার শাড়ীর আঁচল নীল আকাশের মেঘের মতো
আমার হৃদয় স্পর্শ করে;-
সমস্ত বিকেল নদীর অবিচল শরীর আমার বাহুজুড়ে
গভীর স্বপ্নের বিভোর হয়ে আমি যখন বিচ্ছিন্ন তখন দ্যাখি
মেঘের আস্তিন ছি'ড়ে কে য্যানো চাঁদটাকে বের করে এনেছে
আমার চোখের সামনে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28794779 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28794779 2008-05-06 12:57:33
বেদনা, শুধু হতাশায় নয়-কিছুটা অবিশ্বাসেও এইখানে ত মৃত্তিকা ছিলো। ছিলো উর্মিমালা সাগর। ছিলো দিগন্ত
ছোঁয়ার স্বপ্ন। ছিলো শাদা ধবল বক। এইখানে এই বালুতীরে আমরা হেঁটেছিলাম।
নেচেছিলাম ভ্রমরার নাচনে। দ্যাখেছিলাম জ্যোৎস্নার ভরায়। দ্যাখেছিলাম
সন্ধ্যের নগ্নতীরে স্বপ্ন শ্যাষে নগ্নতায়।

ঘটনাগুলো মিথ্যে হয়তো নয়। কিন্তু কল্পনায় যেতে বড়ো ভয় হয়। এইখানে
ত আমার বিশ্বাস ছিলো। ভালোবাসা ছিলো। আজ উড়ে গ্যাছে
নীল আকাশ বাষ্পে, সেসব।

আজ জুড়েছে সেইখানে বেদনা, শুধু হতাশায় নয়-কিছুটা অবিশ্বাসেও।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28794474 http://www.somewhereinblog.net/blog/habib_emonn007/28794474 2008-05-05 15:54:08