উন্নত বিশ্বে বাংলাদেশের পরিচিত ছিলো কেবল ঝড় জলোচ্ছাস আর বন্যার মতো প্রাকৃতিক দূর্যোগের দেশ হিসেবে। সারাবিশ্বর সংবাদ মিডিয়ায় যতবার বাংলাদেশের নাম এসেছে, তা কেবল খারাপ সংবাদের জন্য। কেবলই কোন লজ্জাকর কোন অঘটনের জন্য। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পর সারা দুনিয়াকে একটা সুখবর দিল বাংলাদেশ। আর সে সুখবরের মাত্রাটা এমন যে তা সমূস্থ দুনিয়ার অর্থনীতিকে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ডক্টর ইউনুস তাঁর এ আবিস্কার বাংলাদেশে বগলদাবা করে বসে থাকলেননা। ছড়িয়ে দিলেন দুনিয়া জুড়ে। বাংলাদেশে সফলতার পর দারিদ্রতা তাড়ানোর কার্যকরি মাইক্রো-ক্রেডিট ফর্মুলা ব্যবহৃত হলো বিশ্বের অনেক দেশে। এখনও সফলতার সাথে কার্যক্রম চলছে বিশ্বব্যাপী। ফলাফল হিসেবে ডক্টর ইউনুসকে 13 October 2006 শ্বান্তিতে নোবেল প্রাইজ দিয়ে সম্মানিত করল নরওয়ের নোবেল কমিটি। কারণ বলতে গিয়ে নোবেল কমিটির ঘোষনা "for their efforts to create economic and social development from below"। আসলে আরো আগে কেবল তাঁর এ যুগান্তকারি অর্থনৈতিক ফর্মুলা আবিস্কারের জন্য অর্থনীতিতে নোবেল প্রাইজ পাওয়া উচিত ছিল। কেন পাননি তা ছিল বরং বড় বিস্ময়।
বাংলাদেশে দারিদ্রতা কমেনি, সেজন্য নোবেল বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসকে বা তাঁর প্রতিষ্টান গ্রামীন ব্যাংক কে দায়ী করা মূর্খের কাজ। আমাদের সমাজ ব্যবস্থা ও রাষ্ঠ্র যেখানে দারিদ্রতাকে জিইয়ে রাখছে, সেখানে গ্রামীন ব্যাংকের সামান্য ঋণ কী করতে পারে? তারপরও অনেকে জীবিকার সুন্দর অবলম্বন পেয়েছে। সরলভাবে বাচার সাবলীল উপায় বের করেছে। থাকার জন্য একটা ঠাঁই বানিয়েছে।
বাঙালী জন্মগতভাবেই হিংসুক। একে অন্যের উন্নতিতে জ্বলে পুড়ে মরে যায়। কে কার মাথা ভাংতে পারে তার প্রতিযোগিতা চলে সারা বছর। নিজের ক্ষতি করে হলেও অন্যের ধ্বংস তাঁর চাই। অনেক আগে মিমাংসিত একটি বিষয় যে ভাবে বাংলাদেশের মিডিয়ায় তুলে ধরা হয়েছে তা দেশপ্রমিক প্রতিটি বাংলাদেশিকে কষ্ঠ দিয়েছে। আমাদের মিডিয়াগুলো এখনও পরিপক্বতা অর্জনে সক্ষম হয়নি। এখনোও দেশের জন্য নিবেদিত হতে শিখেনি। এখনও সম্মানিত মানুষকে সম্মান করতে শিখেনি। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সামান্য নমুনাও বাংলাদেশের সংবাদ জগতে অনুপস্থিত। এদের শেকড় কোথায় প্রোথিত তা দেখার সময় এসেছে। কার টাকায় এরা নাচে তা আমাদের বুঝতে হবে। জানতে হবে।
প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাংলাদেশি। প্রতিটি বাঙালীর হৃদয়ের মনি কোঠায় তাঁর অবস্থান। তাঁর একমাত্র অপরাধ তাঁর জন্ম বাংলাদেশে এবং তিনি বাংলাদেশকে ভালোবাসেন। আমাদের ক্ষমা করবেন প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস। আমরা আপনাকে যোগ্য সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়েছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


