আমি এবং সে
সেদিন পৌষের দুপুর ছিল
অথবা বৈশাখ কিনা ঠিক মনে নেই
সেই দুপুরে অথবা বিকেলে
নাহয় সেই রাত্রির বুক চিরে আমরা --
অন্ধকার দেখেছি ।
বহুকাল একভাবে আধাঁর দেখিনি বলে
আমার এবং তার চোখে বরফ জমেছিল ,
অত:পর আমি এবং সে---
সেই বরফ ঘুচাতে ছুটে চললাম সুমেরুর দেশে ।
আমি এবং সে ........
তপ্ত বালু মেখে হেঁটেছি মিশরীয় সভ্যতায় ,
গহীন বনের বুকে রাত্রি নেমে এলে ......
জড়াজড়ি ভয়ে আকড়ে রেখেছি অস্তিত্ব ধরে .....
পরস্পর ।
কখনো নীলচে ঝাউয়ের দেশে মাংশাসী প্রানী ----
আমাদের প্রান তবু ফুরোবার নয় ।
নদীতীর ঘেষাঁ কোন সভ্যতায় এসে
আমাদের হাতে ছিল রংধনু আঁকা তাই ---
মৃত শহরের বুকে আল্পনা চাই ।
এভাবে অন্ধের মতো চোখেতে বরফ আর
অস্তিত্বে অনিশ্চয়তার জল নিয়ে ঘুরেছি আমরা
অনির্দিষ্টকাল ...............
নির্দিষ্ট গন্তব্যে ।
আমরা ঘুরেছি কোন পাহাড়ের দেশে
তিব্বত , পামীর কিংবা মিসৌরীর বুকে ,
কখনো মিসিসিপির বুকে রাত্রি নেমে এলে
বজরা ভিড়িয়েছি এক প্রাচীন সিডারের ডালে ।
আমি এবং সে .......
কখনো পায়ে হেটেঁ কখনো উটের পিঠে
কখনো স্লেজে চেপে কখনো নোঙর মেপে
এগিয়ে চলেছি এক বরফের দেশে .............. ''
যেখানে রাত্রি নামে পেঙ্গুইনের ডানায়
যেখানে শ্বেতভালুকের দল এসে স্বাগত জানায়
যেখানে বরফগলা জলে নতুন বরফ জমে
যেখানে ভোর আসে দুপুরের পথ ধরে
যেখানে জমেনা মেঘ ,
মেঘের ছায়া জমে ।
এভাবে বহুপথ হাটাহাটিঁ শেষ হলো তবু .....
তবু কই সেই দেশ ...... খুজেঁ পাইনা ........... ।
অত:পর কোন এক পৌষের দুপুরে
অথবা বৈশাখ কিনা ঠিক মনে নেই
সেই দুপুরে অথবা বিকেলে
নাহয় সেই রাত্রির বুকে আমরা
অন্ধকার খুজেঁ পেলাম ।
আমি এবং সে
পৃথিবীর শেষ সীমানায়
বরফ শীতল এক চাদেঁর শহরে
ঈষৎ নীলচে কিছু জোছ্না আলোয়
শ্বেতভালুকের পিঠে , সীলের পাখায় .....
... সেদিন বরফী মেয়ে স্বাগত জানায় ।
অবশেষে পৃথিবীর সেইসব প্রাচীন রূপকথার মতো
আমি এবং সে ........ আমাদের হৃদয়ে যতো
উষ্ণতা ছিল সব পুড়িয়ে দিলাম ........
মিসিসিপি , মরুভূমি আর চিরসবুজের দেশ ঘুরে এসে ,
আমি এবং সে -----
আমাদের হৃদয়ের সব কথা বলা হলে শেষে ......
ফিরে দেখি ভালোবাসা আমাদের ফেলে গেছে ... .... আর ....
পরস্পর হৃদয়ে জড়ানো এক অচিন অন্ধকার ...............

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

