আমার প্রিয় পোস্ট

আমার স্মৃতিতে হুমায়ুন আজাদ: যেভাবে তাকে হাসপাতলে নিয়েছিলাম এবং পরবর্তী ঘটনাগুলো...

১২ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৫:০৬

শেয়ারঃ
0 17 0

ব্লগে হুমায়ুন আজাদকে নিয়ে কয়েকটি লেখা এবং ছবি দেখলাম। তাতে চোখে পড়লো সেই বিখ্যাত ছবিটিও। রক্তাত্ব হুমায়ুন আজাদকে জড়িয়ে ধরে আছি আমি। এটি আমার জীবনের এক স্মরনীয় ঘটনা। লিখবো লিখবো করেও কখোনো লেখা হয়নি। সবসময় মনে হয়েছে, মানুষকে জানিয়ে লাভ কি?

প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি আর আগষ্ট এলেই ভাবি এবার সেই ঘটনা নিয়ে লিখবো। কিন্তু আলসেমিতে হয়ে ওঠে না। আমাদের অফিসের ফিচার সম্পাদক জাহিদ রেজা নূর কয়েকবার বলেছিলেন লিখতে। তাঁর কথায় একবার কিছুটা লিখেওছিলাম। কিন্তু শেষ আর করা হয়ে ওঠেনি নানা ব্যস্ততায়।

আজ মনে হচ্ছে ব্লগে শেয়ার করি সেদিনের ঘটনা। পাঠক বিষয়টি জানুক। আমি মুক্ত হই গণমাধ্যমে ইতিহাস চেপে রাখার দায় থেকে। কারন আমার পরিচিতরা ছাড়া সাধারন মানুষ ঘটনাটি জানে না। আজ তাদের জানাচ্ছি।


আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের (ডিইউএফএস) তুখোড় সদস্য। ক্লাস শেষ করেই কলা ভবন থেকে ছুটে যাই টিএসসিতে। সেখানেই আড্ডা, সেখান থেকে খেতে যাওয়া, আবার ফিরে আসা। রাতে এখান থেকে নয়টা সাড়ে নয়টা কখনো কখনো ১০ টায় হলে ফিরি।

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৪। তখন শীতকাল। বইমেলা চলছে। টিএসসি জমজমাট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন একটি গানের উৎসব হবে। টিএসসির নিচে তার মহড়া চলছে। গিটারে গান। আমি বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে সেই গান শুনছি। রাত আটটা থেকে নয়টার মধ্যে। হঠাৎ একটি বোমা ফাটার মতো শব্দ হলো। মাঝারি ধরনের শব্দ। আমার আবার সব কিছুতেই ব্যাপাক কৌতুহল। খুব সাহসী আমি সেটি বলবো না, তবে ভয় ডর নেই এটুকু বলতে পারি।

তো কোথা থেকে এলো সেই শব্দ সেটি জানতে আমি টিএসসি থেকে হাঁটা শুরু করলাম বাংলা একাডেমির দিকে। রাস্তার মাঝে যে ডিভাইডার আমি সেটি ধরে আনমনে হাঁটছি। মনে হলো সোহরাওয়াদী উদ্যান দিয়ে কেউ দৌড়ে পালাচ্ছে। একটু দূরে যেতেই দেখি এক জায়গায় জটলা। গেলাম সেখানে। দেখলাম চাঁর-পাঁচজন পুলিশ সদস্য, কিছু লোক সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের সামনে পড়ে আঝছ রক্তাত্ব একটি দেহ। কিন্তু কেউ ধরছে না। বরং সবাই যেন তামাশা দেখছে। কিংবা হয়তো ঝামেলার ভয়।

আমি দ্রুত সেখানে গিয়ে উপুড় হওয়া লোকটিকে তুললাম। রক্তে ভেজা। মুখ দেখে চিৎকার করে উঠি এ তো হুমায়ুন আজাদ। আমি যখন স্যারকে তুলি স্যারের এক পাশের গাল দুই ভাগ হয়ে দুদিকে চলে গিয়েছিলো। পুরো মুখটা পুরো হা হয়ে ছিল। আমি দুই পাশে চাপ দিয়ে জোড়া লাগানোর চেষ্টা করলাম।

হুমায়ুন আজাদকে আমি সামনাসামনি আগে কখনো দেখি নাই। কিন্তু তাঁর অনেক বই পড়েছি। আমার স্কুলের এক ইংরেজি শিক্ষক যে আমাকে মানুষ হওয়ার দীক্ষা দিয়েছিল তাঁর কাছ থেকে জেনেছি হুমায়ুন সম্পর্কে। অনেক বই পড়েছি স্যারের। ব্যাক কাভারের সেই ছবি আর সেই চুল দেখে তাই স্যারকে চিনতে পারলাম।

মূল ঘটনায় ফিরি। স্যারকে হাসপাতালে নিতে হবে। কি করবো? আমি আমার মোবাইল ফোন থেকে একটি ফোন করলাম বিটু ভাইকে। বললাম-বিটু ভাই, হুমায়ুন আজাদকে বোমা মারছে। আপনি বাংলা একাডমেরি সামনে আসেন। বিটু ভাই তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যায় চলচ্চিত্র সংসদের অর্থ সম্পাদক এবং আমাদের খুব ঘনিষ্ঠ বড় ভাই। (আমি তখন ভেবেচিলাম স্রারকে বোমা মারা হয়েছে। আসলে তকা নয়, তাহলে কোপানো হয়েছিল, দুস্কৃতিকারীরা পালানোর সময় বোমা ফাটায়)
বিটু ভাইকে ফোন করে আমি রক্তাত্ব হুমায়ুন আজাদকে হাপাতালে নেওয়ার জন্য একটি রিকশায় উঠানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু রিকশায় উঠানো সম্ভব হলো না।
স্যারকে কোনভাবেই রিকশায় রাখতে পারছিলাম না।
আমি তখন দৌড়ে টিএসসির দিকে আসলাম। সাদা একটি প্রাইভেট কার এদিকেই আসছিলো। আমি তাকে বললাম ভাই আমাদের এক স্যার হুমাযুন আজাদকে কেউ বোমা মেরেছে। হাসপাতালে নিতে হবে। একটু আসেন। সে কিছুতেই রাজি হলো না। বরং গাড়ি ঘুরিয়ে উল্টো দিকে চলে গেলো। আমি কি করবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। এদিক ওদিক তাকিয়ে কোন দিশা পাচ্ছিলাম না। ছটফট করছিলাম।

হঠাৎ অন্য বুদ্ধি আসে। দেখি পুলিশের বিশাল এক ট্রাক দাঁড়িয়ে টিএসসির সামনে। আমি তখন চিৎকার দিয়ে তাদের বললাম ভাই স্যারকে হাসপাতালে নিতে হবে। আমি এখানকার ছাত্র। প্লিজ আপনাদের গাড়িটা নিয়ে আসেন। একই সঙ্গে আমি হুমকিও দিলাম। চেচামেচি করলাম। পুলিশ সদস্যরা রাজি হলো। তারা এলো গাড়ি নিয়ে। লোকজনের সহায়তায় আমি স্যারকে পুলিশের সেই ট্রাকে তুললাম। স্যারের খুব কষ্ট হচ্ছিল বোঝা যাচ্ছিল।

এদিকে স্যারকে আমি ট্রাকে উঠনোর আগে আগে সেখানে হাজির হলো পাভেল ভাই। (সে বোধহয় নিউ নেশন বা কোন একটা ইংরেজি কাগজে কাজ করতো। মাঝে মাঝে আমাদের সংগটনে আসতো। তাই তাকে চিনতাম।) দেখি পাভেল ভাই তাঁর ক্যামেরা দিয়ে একের পর এক ছবি তুলছে স্যারের সঙ্গে আমার। আমি তাকে গালি দিয়ে বলছি, পাভেল ভাই এখন ছবি তোলার সময়? পরে বুঝেছিলাম সে তার কাজ করেছে। তাঁর তোলা এই ছবিগুলোই পরের দিন সব ফটো সাংবাদিকরা নেয়। পরে সিআইডিও তার ছবিগুলো নিয়েছিল এবং তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিল।

যাই হোক আমি স্যারকে ট্রাকে তুললাম অনেক কষ্টে। কি করবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। এতো ভীড়, চেচাচেমি, আমি খুব অস্থির বোধ করছি। পরিচিত কাউকে খুঁজছিলাম। পুলিশের ট্রাক ছাড়ার আগে আমি দেখলাম আমার পাশে বিটু ভাই আছে। আমি চরম স্বস্তি বোধ করলাম।

ট্রাকের মধ্যে স্যারকে জড়িয়ে ধরে আছি। ট্রাক চলছে। স্যারের হা করা মুখ দিয়ে আমি রাস্তা দেখছি। স্যার আমাকে জিঞ্জাসা করলো বাবা আমাকে কই নিয়ে যাও? আমি বললাম স্যার হাসপাতালে। আপনার কিছু হয়নি। স্যার বললো আমার চশমা কই? আমি বললাম স্যার আছ। স্যার বললো আমি পুলিশের গাড়িতে যাবো না। আমি বললাম ঠিক আছে স্যার আমরা নেমে যাবো এখুনি।

আহত রক্তাক্ত অবস্থায় আমি কোন মানুষকে এতো শক্ত থাকতে দেখিনি। অন্য কেউ হলে এতো ব্যাথা নিয়ে চিৎকার করতো। ভয় পেতো, কিন্তু স্যার খুব শক্ত দৃড় চিত্তে বসে আছে যেন কেউ কোন ভুল করেছে। কেউ যেন ভুল করে তাকে কুপিয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি যেন খুব কষ্ট পেয়েছেন। যাই হোক ট্রাক চলছে। আমরা যাচ্ছি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

বাংলা একাডেমি থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ গেলে দোয়েল চত্ত্বর পেরিয়ে সোজা চলে গেলেই হয়। কিন্তু পুলিশের ভ্যান দোয়েল চত্ত্বর হয়ে অবার ডানে স্টেডিয়ামের দিকে চলে গেলো। আমি চিৎকার করলাম। পুলিশকে বললাম ভাই আপনারা ঢাকা মেডিকেল চেনেন না? পুলিশের এই সময় নষ্টে মেজাজ খারাপ হলো। ট্রাক ঘুরে শহীদ মিনার হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরী বিভাগের সামনে গিয়ে থামলো। আমি আর বিটু ভাই অনেক কষ্টে স্যারকে নামালাম ট্রাক থেকে। জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলাম।


ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরী বিভাগে যে কোন রুগীর জন্য পাঁচ টাকা দিয়ে স্লিপ কাটতে হয়। সেটা কাটলাম। এরপর স্যারকে নিয়ে ট্রলিতে করে রওয়ানা দিলাম সম্ভবত ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসককে বললাম উনি আমাদের স্যার। ডাক্তার স্লিপ চাইলো। আমি স্লিপ বের করতে গিয়ে দেখি সেটি রক্তে ভিজে গেছে। কান্না পেল। ডাক্তার আবারো স্লিপ আনতে বললেন। ছুটলাম আবার। এরপর শুরু হলো স্যারের চিকিৎসা।

প্রাথমিক কিছু ওষুধ আমি আর বিটু ভাই নিজেরেদর টাকায় আনালাম। এরপর টাকা শেষ। আমরা সেখানে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তাকে বললম এগুলো আনার ব্যবস্থা করতে। তিনি তাই করলেন। স্যারের চিকিৎসা শুরু হলে আমি শুভকে বললাম শুভ হাসপাতালে আয়। শুভ আসলো। (শুভ মানে আমার বন্ধু। ও তখন প্রথম আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক) এরপর শুভ, তখনকার ভিসি ফায়েজ স্যারসহ আরো অনেকেই আসলো। আমাদের চলচ্চিত্র সংসদের বড় ভাইরাও আসলো।

সবাই বললেন, আমি যনে এখন হলে গিয়ে রক্তে ভেজা এসব ড্রেস চেঞ্জ করি। আমার হাসপাতাল থেকে আসতে ইচ্ছে করছিল না। তবুও এলাম।

এদিকে স্যারকে নিয়ে আমি যখন ট্রলিতে করে ৩২ নম্বর ওয়র্ডে যাচ্ছিলাম সেটি চ্যানেল আই তাদের খবরে দেখায়। অঅমার বাবা-মা আমার রক্তে ভেজা সে ছবি দেখে ফোন করে আমার বাবা-মা ঘটনা জানতে চাইলো। বললাম আমি ভালো আছি। কোন সমস্যা নেই। আমার কিছু হয়নি। তারা নিশ্চিন্ত হলো।

এরপর আমি আর বিটু ভাই ফজলুল হক হলে এলাম। আমি গোসল করলাম। ড্রেস চেঞ্জ করে বের হলাম। ততোক্ষনে বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল শুরু হয়ে গেছে। হুমায়ুন আজাদের ওপর হামলা কেন? বিচার চাই এই টাইটের কোন মিছিল। যোগ দিলাম সেই মিছিলেও। অনেক রাতে হলে ফিরলাম। ঘুমালাম।

একটি বিষয় জানা দরকার-ঘটনা ঘটার মাত্র ১১ মিনিটের মাথায় স্যারকে আমি হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বলেছিলো, কোনভবে স্যারকে হাসপাতালে নিতে দেরি হলে রক্তক্ষরনের কারনে স্যারকে বাঁচানো যেতো না। এজন্য খুব ভালো লাগছিল আমাদের। যে স্যারকে বাঁচাতে পারবো।

রাতে ৩ টার দিকে ঘুমাতে গেলাম। সারাদিনের ক্লান্তি, পরিশ্রম, উত্তেজনায় দীর্ঘক্ষন ঘুমালাম।

পরদিন দুপুর ১২ টায় আমার ঘুম ভাঙ্গলো। দ্রুত টিএসসি গেলাম। জানতে পারলাম স্যারকে রাতেই সিএমএইচ নেওয়া হয়েছে। এদিকে পরদিনের প্রায় সব দৈনিকে আমার ছবি। আমি স্যারকে ধরে আছি। এই সেই ছবি। যাই হোক। একটা জনকন্ঠ কিলনাম। খবরটা পড়লাম। নিজের ছবি দেখলাম।

এদিকে আমি মনে মনে বারবার প্রার্তনা করছি -স্যার আপনি সুস্থ্য হয়ে উঠেন। যাই হোক। সারাদিন নানা গুজব। একবার শুনি স্যার নেই। আবার শুনি বেঁচে আছেন। এসবরে মধ্যে সময় কাটছে। এর মধ্যে বিকেলে কলকাতার তারা বাংলা বা কারো কল্যাণে টিএসসিতে খবর শুনলাম স্যার নাকি মারা গেছে। কথাটা শুনেই আমার প্রচন্ড মন খারাপ হলো। টিএসসির দোতালায় সংসদের রুমে এসে আমার মাথা ঘুরতে লাগলো। এরপর আমি অসুস্থ্য হয়ে গেলাম। বমি করলাম। কিছুক্ষন পরেই জানতে পারলাম না স্যার বেঁচে আছে। তাকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়া হচ্ছে। অঅমি স্বস্তি ফিরে পেলাম। স্যারকে ক'দিন পর যথারীতি দেশের বাইরে নেওয়া হলো।

এদিকে স্যারের উপর হামলার ঘটনার বিচার চেয়ে ক্যাম্পাসে শুরু হলো তীব্র আন্দোলন। সব জায়গায় পোষ্টার টানানো হয়েছে। তাতে একটিই ছবি-আমি স্যারকে ধরে আছি। ক্যাম্পাসের যেদিকেই তাকাই আমার ছবি। আমার হাঁটতে বিব্রত লাগে। মনে হয় সবাই আমাকে দেখছে। টিএসসিতে গেলে মনে হয় পুলিশ আমাকে ফলো করছে। ইনকিলাব সে সময় নিউজ করলো ঘটনা ঘটার কিছুক্ষনের মধ্যেই যে দুই ছাত্র স্যারকে হাসপাতালে নিয়ে গেলো তাদের গ্রেপ্তার করা হোক। তাহলেই সব জানা যাবে।

ছবিটা খেয়াল করুন। দেখুন আমি চিৎকার করছি। কিন্তু সংগ্রাম ইনকিলাব্ নিউজ করলো এই ছেলে হাসে কেন? পরে জানতে পারলাম যথাসময়ে হাসপাতালে নেওয়ায় সংগ্রাম খুবই বিরক্ত। সে সময় স্যারের রাজাকদের বিরুদ্ধে বই নিয়ে সংগ্রাম কেপে আছে।

যাই হোক আমার খালি মনে হয় পুলিশ আমাকে ফলো করে। সবাই বললো বাসা থেকে ঘুরে আয়। ভালো লাগবে। আমি চট্টগ্রাম গেলাম।

মাস খানেক পর স্যার সম্ভবত দেশে আসলেন সুস্থ্য হয়ে। মুখে একটা দাগ হয়ে থাকলো। স্যারের ফেরা উপলক্ষ্যে অপরাজেয় বাংলার সামনে অনুষ্ঠান। সবাই সেখানে বক্তৃতা করছে। আমি দর্শকের মতো শুনছি।

স্যার বক্তৃতা করা শুরু করলো। আমি স্যারের কথাগুলো শুনলাম। মুগ্ধ হয়ে দেখছি। খুব তৃপ্ত লাগছে। মনে মনে বলছি স্যার আপনি কি জানেন রাস্তায় যখন আপনি পড়ে ছিলেন, কেউ যখন আপনাকে ধরেনি, তখন এই আমিই আপনাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম।

স্যারের সঙ্গে দেখা করতে ইচ্ছে করছিলো। শুভকে নিয়ে আমি একদিন স্যারের বাসায় যাওয়ার চেষ্টাও করলাম সেদিনের ঘটনা বলতে। একদিন গেলামও কিন্তু জানানো হলো, স্যার বাসায় নেই। স্যারের সঙ্গে আমার সেই আলাপ আর কখনোই করে ওঠা হয়নি। সস্রার কখনো জানতেও পারিনি কে তাকে হাসপাতালে নিয়েছিলো?


এদিকে স্যার দেশে ফেরার পর এই ঘটনা নিয়ে দায়ের করা মামলার তদন্ত নিয়ে শুরু হলো আলোচনা। তদন্তভার পড়লো সিআইডির ওপর। একদিন আমি ক্লাস করে বের হচ্ছি আমাদের জহরুল হক হলের এক কর্মচারী এসে জানালো, প্রভোষ্ট স্যার আপনাকে এখুনি তাঁর বাসায় যেতে বলছে। আমি বুঝলাম না এতো সকালে স্যার কেন আমাকে ডাকছে? সন্দেহ হলো। শুভকে জানালাম। আমি প্রভোষ্টের বাসায় যাচ্ছি। কোন সমস্যা হলে খবর নিস। সে সময় আমাদের হলের প্রভোষ্ট ছিলেন আমিনুর রহমান মজুমদার।


যাই হোক, আমি সকাল ১০ টার দিকে স্যারের বাসায় গেলাম। স্যার নানান তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আমার সাথে গল্প শুরু করলো। কিছুক্ষন পর দেখি সেখানে দু'জন লোক এসে ঢুকলো। স্যার চলে গেলো। তারা দেখি কতোগুলো ছবি দেখছে। পাভেল ভাইয়ের তোলা সেই ছবিগুলো যেখানে আমি স্যারকে নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছি। আমি শুনছিলাম পাভেল ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিআইডি ধরে নিয়েছে। যাই হোক, অনেকক্ষন তারো আমার ছবিগুলো দেখলেন। এরপর নিজেদের পরিচয় দিলেন। জানালেন তারা সিআইডির কর্মকর্তা। একজনের নাম মনে আছে আব্দুল মালেক।

তারা আমাকে নানান বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন সেদিনের ঘটনা নিয়ে। জানতে চাইলেন স্যার কি সে সময় কারো নাম বলেছিলেন কিনা, স্যার শেষ পর্যন্ত কি বলেছিলেন এসব। বললো আপনার সঙ্গে আরেকটা ছেলে ছিলো ও কই। আমি মোবাইলে বিটু ভাইকেও আসতে বললাম স্যারের বাসায়। বিটু ভাই এল। মালেক ভাই আমাদের দু'জনের সঙ্গে কথা বললেন।

মালেক সাহেব আমাকে বললনে, আপনেকে আমাদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা ছিল। কিন্তু আপনার প্রভোষ্ট স্যার বলছে সে অপনাকে চেনে। তাই আপনাকে অ্যারেস্ট কলা হলো না। আপনি আর বিটু কাল সিআইডর মালিবাগ অফিসে আসবেন। মালেক ভাই দেখালেন, গতো এক মাসে আমি কখনে কোথায় গেছি সব রিপোর্ট তাদের কাছে আছে। আমি দেখলাম। আমি কবে চট্টগ্রাম গেছি, কথন কি করি সব সেখানে লেখা। কিছুটা ভয় পেলাম। রাতে আমার এক শিক্ষকের বাসায় গেলাম। পুলিশের সাবেক আইজি এনামুল হক তাঁর ঘনিষ্ট। তাকে দিয়ে ফোন করানোর চেষ্টা করলাম। লাভ হলো না।

ভয় নিয়েই কাটলো বাকি রাত। পরদিন সকাল ১১ টায় কিছুটা ভয়েই গিয়ে পৌছালাম মালিবগে সিআইডির হেড অফিসে। কিছুক্ষন পর মালেক সাহেব আমাকে নিয়ে গেলেন সিআইডির উর্ধ্বতন এক অফিসারর রুমে। তিনি সম্ভবত বড় কোন পোষ্টে। দাড়িওয়ালা ভদ্রলোক। এখন আর নাম মনে করতে পারছি না।

তিনি আমাকে ভালো করে দেখলেন। তারপর বললেন, ঘটনার পরদিন যখন আপনার এই ছবিটা পত্রিকয়া ছাপা হলো তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ সাহেব আমাকে বলেছিলৈন এই ছেলেটাকে অ্যারেস্ট করে জিজ্ঞাসাবদ করেন। কিন্তু আমি সেটা করি নাই। কারন আমার কাছে মনে হয়েছে, যারা হামলা করে, তারা কখনোই তাকে উদ্ধার করে না। সেখানকার সব পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি, সবাই বলেছি, আপনি তাকে উদ্ধার করেছেন। কাজেই আপনাকে আমি গ্রেপ্তার করি নাই।

এরপর তিনি নানান বিষয়ৈ জানতে চাইলেন। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এক কথা। সার শেষ মুহুর্তে কি কি বলেছিলেন মনে করার চেষ্টা করেন। স্যার কারো নাম বরেছিলো কিনা মনে করার চেষ্টা করেন। যাই হোক, আমি একটা লিখিত স্টেমেন্ট দিয়ে সেখান থেকে এলাম। আর মনে মনে ভাবলাম এসব কারনেই মানুষ বোধহয় মানুষের উপকার করে না। একজন মানুষকে আমি বাঁচালম আর এজন্য আমাকে এখন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।


মেজাজ খারাপ হলো হুমায়ুন আজাদ এবং তার পরিবারের প্রতিও। কারন তারা গত দুই মাসে একবারও খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করে নাই কে স্যারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলো। উল্টো তারাও সংগ্রাম পত্রিকবার সুরে বলছেন এমনকি স্যারও নাকি বলেছেন, এই ছেলেটা হাসছে কেন?

যাই হোক। আজাদ স্যারকে জড়িয়ে আমার গল্পটা এখানেই শেষ হলো ভালো হতো। কিন্তু হলো না। গল্প আরো জড়িয়ে আছে। ২০০৪ সালেরই আগস্ট মাস। আমি তখন কাজ করি বাংলাবাজার পত্রিকায়। ১১ বা ১২ আগষ্ট শুনতে পেলাম জার্মানে স্যার মারা গেছেন। সেদিন সম্ভবত শুক্রবার ছিলো।

সেদিন অফিসে ক্রাইমের কেউ ছিলো না। তখন চীফ রিপোর্টার ছিলেন আশরাফ ভাই। তিনি কি করবেন কিভাবে লিখবেন এই স্টোরি বুঝে উঠতে পারছিলেন না। আমি তাকে বললাম ভাইয়া, আমি স্টোরিরা লিখে দিচ্ছি। আমার পুরো ঘটনা জানা। আমি লিখলাম। আশরফ ভাই বললেন, আমি তারিখ, সময়সহ স্যারের ওপর হামলার ঘটনার এতো বিস্তারিত জানলাম কি করে? পরদিন এই স্টোরিটা সম্ভবত লিড হলো। এরপর টানা কয়েকদিন আমি স্টোরিটা করলাম। আমার কাছে মালেক ভাইয়ের নাম্বার ছিল, তার সঙ্গে যোগযোগ করে মামলার সব তথ্য দিলাম। সব মিলিয়ে আশরাফ ভাই খুব খুশি ছিলেন স্টোরিগুলো দেখে। তিনি প্রায়ই আমাকে বাসায় নিয়ে খাওয়াতেন।

যাই হোক, পরে যখন একটি জঙ্গি সংগঠনের হত্যার লিষ্টের তালিকায় হুমায়ুন আজাদের নাম এবং এ সংক্রান্ত কাগজপত্র পাওয়া গেলো, তখন প্রমানিত হলো জঙ্গিরাই স্যারকে হত্যা করতে চেয়েছিল। সে সময় আমি দেশের একটি প্রধান দৈনিকে। একইভাবে সেবারও আজাদ স্যারের নিউজে পুরোনো ঘটনার ইতিহাস টানলাম আমি।

আমার পরিবার এবং শিক্ষকরা শিখিয়েছেন নিজের শতো সমস্যা হরো মানুষের উপকার করবে। এখনো সেটি মানার চেষ্টা করি। বারবার মানুষের কাছ থেকে কষ্ট পাই, তবুও মানুষকেই ভালোবাসি। চেষ্টা করি মানুষের পাশে থাকার। জানি না কতোটা সফল হয়েছি। তবে আমি ব্যাক্তিগতভাবে তৃপ্ত। আমি জানি মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর কি আনন্দ। কিন্তু আফসোস স্যারকে আমরা বাঁচিয়ে রাখতে পারলাম না। অরেকটা আফসোস আজ পর্যণ্ত স্যারের পরিবারের কেউ ককনো খোঁজ করে সেদিনের ঘটনা জানতে চায়নি।

আমি দীর্ঘদিন ক্যাটস আইয়েল সেই গেঞ্জিটা যেটি ভিজে গিয়েছিল আজাদ স্যারের রক্তে সেটি সংরক্ষন করে রেখেছিলাম। এ বছর হল ছাড়ার সময় আর আনিনি সেটা। তবে স্মৃতিগুলো এখনো আছে জ্বলজ্বেলে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কালে শামসুন্নাহার আন্দোলন, হ্যাপির মৃতু, ২০০৭ সালের আগস্টের আন্দোলন, শিক্ষকদের গ্রেপ্তার ও মুক্তিসহ নানান ঘটনার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী আমি। প্রায়ই ভাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনাগুলো নিয়ে একটা বই লিখি। হয়ে উঠে না আলসেমিতে কিংবা সারাদিনের ব্যস্ততায়। তাই ভাবলাম এবার ব্লগেই লিখে ফেলি ডিজিটাল ডায়েরি। ভালো লাগছে লেখাটা শেষ করে।

 

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৬:১৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৫:১২
নাজিম উদদীন বলেছেন: ঠিক কাজ করেছেন, ক্ল্যারিফিকেশানের দরকার আছে।
২. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৫:২২
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য বলেছেন:
আপনার কাছে পুরা জাতি কৃতজ্ঞ। তারপরও শেষরক্ষা হলো না।
আমার কখনোই মনে হয় নি আপনি ছবিতে হাসছেন। আপনার অভিমান বুঝতে পারছি।
৩. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৫:২৩
আট আনা বলেছেন: প্লাস। ফেভারিটে নিলাম।
৪. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৫:২৪
দেশী পোলা বলেছেন: একটা ভাল কাজ করেছেন, দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাড়ানো প্রশংসার বিষয়।

তবে আপনার এই লাইনটা ভাল লাগেনি "আমি যে স্যারকে বাঁচালাম এসবের জন্য কোন কৃতজ্ঞাতা পেলাম না পরিবারিটর কাছ থেকে"

কৃতজ্ঞতার জন্য মুখায়িত থাকলে পরোপকার করা বাদ দিন, যদি কেউ কৃতজ্ঞতা নাই জানায় অসুবিধা নেই, বিধাতা আছেন, আপনার পুরস্কার আপনি অবশ্যই পাবেন
৫. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৫:৩০
নাজিম উদদীন বলেছেন: সবার সব কথা ধরার দরকার কি, ইগনোর করেন।
৬. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৫:৩১
হাসান শরিফ বলেছেন: ভাই দেশী পোলা: একটা লেখা মানে একটি বাক্য নয়। অনেকগুলো বাক্যে মিলে একটি অর্থ। আপনি এতোকিছু বাদ দিয়ে একটি লাইন-ই ভাবছেন কেন? বিসয়টি সেরকম নয়। এটি এক ধরনের ব্যাক্তিগত অভিমান। আপনি রাস্তায় পড়ে থাকা একজন মানুষের জন্র কিছু করলেন। সে যদি আপনাকে একটি ধন্রবাদ না দিয়ে উল্টো চলে যায় কেমন লাগবে? আমিও তো একজন মানুষ নাকি। আমি তো কোন দেবদূত নই।
৭. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৫:৩৪
হাসান শরিফ বলেছেন: পড়ুয়া ভাই: ধন্যবাদ। আমি আপনার নীতি নিয়েই দীর্ঘক্ষ চুপ থাকার চেষ্টা করেছিলাম। পারছিরাম না লোকজনের অযাচত মন্তব্যে। তবে এবার আর কারো কোন মন্তব্রের উত্তর দোবা না। আপনাদের যার যা ইচ্ছা ভাবতে পারেন, বলতে পারেন। তবে একটাই অনুরোধ-অন্য সবার মতো চোখ বুঝে দাড়িয়ে থাকিয়েন না। একটা পরের বিপদে এগিয়ে যাবেন। ক্ষমা চাইছি এই উউপদেশটুকুর জন্য।
৮. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৫:৩৮
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য বলেছেন:
হাসান,
এইটা আপনার স্মৃতিচারণ। এইখানে দুঃখ আছে। অভিমান আছে।
তাই অনুরোধ করছি। সব কথার জবাব দেয়ার দরকার নেই। জ্ঞানী হুমায়ূন আজাদের রক্ত আপনার দেহে লেগেছে এটাই বড় পাওয়া।
আপনার পোস্টের ছবিটা আমি ২০০৪ থেকে খুব যত্নে লালন করেছি, কেননা সাথে হুমায়ুন আজাদ।

শুভকামনা
৯. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৫:৫২
বঙ্গাব্দ বলেছেন: সহানুভূতি রইলো,

কেউ কেউ রাগানোর পায়তারা করছে,নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন...............


কোন সুরাহাইতো হল না

পেশীশক্তির দাপটে ন্যায় সত্যের বাণী নিরবে নিভৃতে কাঁদে

ভালো থাকুন
১১. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৬:০২
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
আপনার অভিমান এবং ক্ষোভটা ঠিক আছে ।

তারপরও, যে মহৎগুণে আপনি সেদিন স্যারের সাহয্যে এগিয়ে গিয়েছিলেন,
সেটি আপনার নিজের সম্পদ, সেটিকে যদি কেউ গুরুত্ব না দেয় বা মূল্য দিতে না জানে তাতে করে তারাই ছোট হয় ।
১২. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৬:০৯
আসাদুজ্জামান তাপুশিকদার বলেছেন: ভাই হুমায়ুন আজাদ কে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌছে দিয়ে তাঁকে বাঁচালেন-আপনিতো ভাই নিজেই ইতিহাস হয়ে থাকবেন। জাতিগত ভাবে আমাদের সমাজের এলিটরা কারো প্রতি কৃতজ্ঞতা পারত পক্ষে প্রকাশ করেনা।

আপনি বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করলেন।
১৩. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৬:০৯
জলসাধক বলেছেন: স্যালুট হুমায়ুন আজাদ । স্যালুট আপনাকে ও।

আপনি আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে থাকবেন ।

ভালো থাকবেন । আর ব্লগের এইসব কিছু সারমেয়দের কথায় পাত্তা
দেবেন না ।
১৪. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৬:১৮
অম্লান অভি বলেছেন: সততায় বসবাস করতে শেখায় কিছু কিছু মানুষ...............হুমায়ূন আজাদ তাদের মধ্যে একজন। শ্রদ্ধা তার বোধের জন্য। শ্রদ্ধা তার এক নিষ্ঠ প্রকাশের জন্য- যদি জানি আমাদের এমন হাজারো শ্রদ্ধা জন্য নয় বরং তিনি লিখেছেন সমাজের কাঙ্খিত পরিবর্তনের আশায়। আমাদের অনুভব ছুঁয়ে থাক সেই সততা.........
১৬. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৬:২৪
সৌরভ১৩ বলেছেন: স্মৃতিচারনা ভাল লাগল। আপনিতো ভাই ইতিহাসের অংশ, কষ্টটা উপলব্ধি করতে পারি আপনার। ভাল থাকুন।
১৭. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৬:২৫
বহ্নিশিখা বলেছেন: ভাই আপনি খুবই ভালো কাজ করেছেন। যারা আপনার এই পোস্টে বাজে কথা বলেছে তারা জাস্ট রাস্তার কুত্তা। ইগনোর দেম।
১৮. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৬:৩৪
মিলটনরহমান বলেছেন: আপনি উদাহরণ হয়ে থাকলেন আমাদের জন্য। সেদিন মেলায় স্যার কে দেখেছিলাম। আমার বাসায় যেতেই কে যেনো বললেন'এই দেখো হুমায়ুন আজাদ কে কারা যেনো মেরেছে। আমি বোবার মত চেয়েছিলাম টেলিভিশনের পর্দায়। চোখ ভিজলো। মনে পড়লো স্যারের কাছে যাবার সময়গুলো। একটা সাক্ষাৎকার উনার করেছিলাম। যেটি ওনার 'ধর্মানুভূতির উপকথা ও অন্যান্য' গ্রন্থে অন্তর্ভূক্ত আছে। তখনকার সময়ের কথা আপনার লেখা পড়ে খুব মনে পড়ছে, খুব। লন্ডনে বসে এ মূহুর্তে আমি আবার উল্টেপাল্টে দেখছি সে সাক্ষাৎকার।
১৯. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৬:৫৪
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: অসাধারন পোস্ট।

দেশ থেকে সহিংসতা হানাহানির দিন শেষ হোক।

উনার পরিবারের কেউ যোগাযোগ করেনি ভেবে মন খারাপ করবেন না। তারাও তো কম শোকের মধ্যে নেই।
২০. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৬:৫৯
নুশেরা বলেছেন: আপনার সংবেদনশীল মানবিকতার প্রতি রইলো নতজানু শ্রদ্ধা। পোস্টটির জন্য অশেষ ধন্যবাদ।
২১. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৭:০৮
শূন্য আরণ্যক বলেছেন: দুনিয়াতে এক পদের মানুষ আছে যারা তড়িৎ ডিসিশন নিতে পারে । আপনে সেই দলে ।

ঐদিন রাস্তায় আর আজকে ব্লগের ৯০% লোক ঐ অবস্থায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যেতো । আপনার সাহস আর পরোপকার করা ক্ষমতারে স্যালুট ।

তবে ভাই আপনার নার্সিসিষ্ট টোনটা বেশী ভালো লাগে নাই আর পরোপকার করে কিছু আশা করা বোকামী ।

ধন্যবাদ পোষ্টের জন্য । অনেক ভালো থাকুন ।
২২. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৭:৫৭
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: প্লাস এবং প্রিয় পোস্টে। পাভেলের কাছে শুনছিলাম কাহিনীটা, আপনার পোস্ট পইড়া বৃত্তপূরণ হইলো।
২৩. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৮:৩৭
ধ্রুবতোষ বলেছেন: পোস্টটি ভালো লাগলো হাসান ভাই।
আমরা চলচ্চিত্র সংসদের সবাই এটা জানতাম, কিন্তু কেন জানি এ কখাটা সবাই একটু গোপনেই বলত । আজ ঘটনার পরর্বতী কাহিনী পরে বুঝলাম কেন?


স্যালুট আপনাকে.............................
২৪. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৯:২৩
প্রজ্ঞা তাসনুভা রূবাইয়াৎ বলেছেন: হাসান ভাই, আমি আপনাকে অনেক দিন আগেই একবার বলতে চাইসিলাম, আপনার অভিজ্ঞতাগুলো নিয়ে একটা বই লিখে ফেলেন......

২৫. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৯:৩৭
ইচ্ছে বলেছেন: ভাই সবাই যদি আপনার মত করে চিন্তা করত...
+++
২৬. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৯:৪১
সুবিদ্ বলেছেন: পরে সিআইডিও তার ছবিগুলো নিয়েছিল এবং তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিল।.......হায়রে উদ্ভট এ দেশ!!!

প্রিয়তে......ভালো থাকবেন
২৮. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৯:৫৪
মুহিব বলেছেন: সেদিনের সাহসিকতার জন্য ধন্যবাদ। হুমায়ূন আযাদ স্যার তারপর কিছুদিন বেচে ছিল সেদিন আপনারা তাকে সাহায্য করাতে। তবে পুলিশি হয়রানি মানুষের সাহায্য করার মানসিকতা ভেঙে দেয়। আপনাকে দেয়নি বলে আবারো ধন্যবাদ।
২৯. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:০১
এস রহমান বলেছেন: প্লাস। ফেভারিটে নিলাম। ধন্যবাদ।
৩১. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:১৭
ফেরারী পাখি বলেছেন: টুপি বিয়োজন করলাম। সত্যি সব কিছুকে উপেক্ষা করে যে অসীম সাহসের কাজ করেছেন--- পুরো জাতিরই আপনার কাছে কৃতজ্ঞ ।
আপনার পোষ্ট পড়ে আপনার অভিমানটুকু বুঝতে পারছি।

ধন্যবাদ আপনাকে পোষ্টটা শেয়ার করবার জন্য।
৩২. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:২০
সাদা মনের মানুষ বলেছেন: তিনি আমার পরম শ্রদ্ধেয় একজন ব্যক্তিত্ব, তাহার জন্য আমার মনটা এখনো কাঁদে ।

৩৩. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:২৫
ত্রেয়া বলেছেন: লেখাটা পড়ে খুব ভালো লাগলো,,
ভয় না পেয়ে যেভাবে আপনি এগিয়ে গেছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়ো।
আপনার অভিমানের যায়গাটুকু বুঝতে পারছি।তবে আমার মনে হয় এতো বড় একটা কাজ করতে পারায় নিজের ভেতর যে আত্মতৃপ্তি আসে তার চেয়ে আর বড় কোনো স্বীকৃতির কি প্রয়োজন হয় কখনো।
স্যারের পরিবার খোজ না নিলেও,,যে কেউ যখনই এই ঘটনা শুনেছে আমার ধারনা প্রত্যেকেই মনে মনে সম্মান করেছে আপনার সাহসকে।
সবসোময় জানবেন আপনি এমন একটি ভালো কাজ করেছেন যা করার সাহস খুব কম লোকেরই হয়।
সময়মত কিছু করতে পারাটাই বড় কথা।আপনি পেরেছেন।
সাহায্য করাটাকে কেউ মনে রাখলো কিনা তা ভেবে নিজেকে ছোট করছেন কেনো?
ভালো থাকবেন।

৩৪. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:২৬
বিদিশা বলেছেন: প্রিয়তে গেল। জাতি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ।
৩৫. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:৩৫
না বলা কথা বলেছেন: বুকের গভীর থেকে আপনাকে শ্রদ্ধা।
৩৬. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:৪৫
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: অনেককিছু জানলাম।
সাহসী ভূমিকার জন্য আপনার প্রতি শ্রদ্ধা।
৩৭. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:২৮
অলস ছেলে বলেছেন: বিপদে সবাই পাশে দাড়ানোর সাহস পায়না। আপনি ভালো কাজ করেছিলেন। ভালো লেগেছে।
৩৯. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:৫১
এস এম শাখওয়াত আহমেদ বলেছেন: ভাল কাজ করার ক্ষমতা সবার থাকেনা।

ধন্যবাদ ......।
আপনি ভালো কাজ করেছিলেন।
৪০. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:২০
শিমুল সালাহ্উদ্দিন বলেছেন: প্র্রিয়...+

আপনার জন্য শ্রদ্ধা ও শুভকামনা।
৪৩. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:২৬
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: যাক ব্লগেই দেখা হল। পোষ্ট প্রিয়তে....
৪৪. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:৪০
নাজমুস বলেছেন: Reading this I'm feeling aches in my heart.
৪৫. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:৪২
মানবী বলেছেন: মুখে বা কাগজে কলমে অনেক বড় বড় কথা বলা সহজ হলেও কার্যক্ষেত্রে এভাবে কারো বিপদে সাহায্যে ঝাঁপিয়ে পরাটা কঠিন। বীরোচিত এই কাজের জন্য আপনাকে সন্মান জানাই।


শুধু উপকার করে ঘটনা শেষ হলে একরকম হতো, সেই উপকার করার কারনে আপনি বিপদে পরেছিলেন, বিভিন্ন উটকো ঝামেলা পোহাতে হয়েছে... এক্ষেত্রে পরিবার(হয়তো তাঁরা ভীত সন্ত্রস্থ ছিলেন) খোঁজ না নিলেও উপকৃত ব্যক্তি, তাও হুমায়ুন আজাদের মতো খ্যাতিমান শিক্ষক যে খোঁজ নেননি জেনে খারাপ লাগলো!!!


১৯৬৮ সালে বিল্ডিং এ আগুন ধরে যাওয়ায় একজন দমকল কর্মী একটি ছোট্ট শিশুকে উদ্ধার করেছিলেন(যা তারেঁ পেশাগত দায়িত্ব ছিলো)।


এই শিশুটি বড় হয়ে খুঁজে বেড়ান সেই উদ্ধারকারীকে, ৪০ বছরের বেশি সময় পর সফল হন এবং দেখা করেন শুধু "ধন্যবাদ" জানাতে।

আমাদের দেশে এসব জঙ্গী, সন্ত্রাসী, খুনি, ছিনতাইকারী আর কাগুজে বাঘের সংখ্যা কমে আপনার মতো বীরের সংখ্যা যেন বৃদ্ধি পায় সেই কামনা করি।


পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ হাসান শরিফ।


৪৬. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:৫২
মুহিব বলেছেন: মানবীর ঘটনাটা খুব রোমাঞ্চকর।
৪৭. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৭
এহসান জুয়েল বলেছেন: আমি নিজে কিছুটা স্মৃতিকাতর হলাম তোর লেখা পড়ে। মনে পড়ে গেলো দেশের বাইরে কাটানো সেই দিনগুলোর কথা। তোর মনে আছে কিনা জানিনা, একদিন গভীর রাতে তুই বিদেশী এক হেস্টেলের কক্ষে বসে কথা প্রসঙ্গে আমাকে বলেছিলি হুমায়ন আজাদ স্যারকে নিয়ে এ স্মৃতিতার কথা। সে সময় তোর চোখ দুটো উত্তেজনায় জ্বলজ্বল করছিল। সেখানে কোন অহমিকা কিংবা অহংকার ছিল না। তবে আমি স্পস্ট তোর কথায় টের পেয়েছিলাম স্যারের প্রতি তোর গভীর ভালোবাসা। ওই সময় আমি নিজে বুকে গর্ব নিয়ে তোর দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম, তুই আমার বন্ধু।

তুই খুব অভিমানি, এটা আমরা তোকে যারা কাছ থেকে চিনি, তারা অনেকেই বুঝি। আমরা খুব ভালোভাবে জানি , কোন কিছু পাওয়ার আশায় তুই মানুষের প্রয়োজনে সবার আগে দৌড়ে আসিস না। আসিস স্বভাবের তাগিদে। ঔদিন নিশ্চয় সেখানে শতাধিক লোক ছিল। কিন্তু কেউতো আসেনি। তুই এসেছিস। স্যারকে হাসপাতালে সময়মত না নেয়া গেলে কি হতো সেটা পরে ডাক্তারইতো বললো। আমি খুব ভালো করে জানি, ঐদিন সেখানে স্যার না হয়ে একজন সাধারণ রিকসাওয়ালা হলেও তুই সবার আগে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতি।

কথাগুলো অনেকটাই ব্যাক্তিগত। বলটাম না। তার পরও বলতে বাধ্য হলাম প্রথম দিকে দেখা কিছু মন্তব্য দেখে। মানুষ এমন কেন!!! কাউকে তার প্রাপ্য সম্মান দিতে না পারি, অসম্মান করার চেষ্ঠা কেন????

৪৮. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:৫২
সামছা আকিদা জাহান বলেছেন: আপনি তো ভাই নিজেই একটা ইতিহাস হয়ে আছেন ইতিহাসের সাক্ষি হয়ে।


---বন্ধু থামাও তোমার উদ্বেগ, শুচি কর তব মন
বাংলার মাটি দূর্জয় ঘাঁটি বুঝে নিক দূর্জন।---------
৪৯. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:২৬
পারভেজ বলেছেন: ধন্যবাদ পোস্টের জন্য।
স্যালুট টু ইউ।
৫০. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:৩০
বিডি আইডল বলেছেন: এই তাহলে কাহিনী! ইনকিলাবের সে রির্পোটের কথা মনে আছে এখনও...সে ইনকিলাব এখন আওয়ামী বন্ধু!

কি বিচিত্র স্বদেশ

@মানবী আমাদের কালচারে ধন্যবাদ জানানোর রীতিটা নেই..হবেও না বোধকরি
৫১. ১৩ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:০১
আলোকিত পৃথিবী বলেছেন: মানুষ মানুষের জন্য। বিপদে একজন আরেকজনের পাশে দাড়ানোই মানুষের ধর্ম। প্রতিদানে কি পেলাম সেইটা খুব বড় দেখার বিষয় নই। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি প্রতিটি মানুষই তার কর্মফল ভোগ করবে। আপনি বিপদাপন্ন একজনকে সাহায্য করেছেন। আমি নিশ্চিত বলতে পারি, এর স্বীকৃতি আজ অথবা কাল আপনি পাবেনই। এই পোস্টে ৫৮ টা মন্তব্য যার অধিকাংশই আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ। এটাই বা কম কিসে?
৫২. ১৫ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৮:৩৫
সৈয়দ সাইফুল আলম শোভন বলেছেন:

গতকাল শ্রীনগর গিয়েছিলাম শামুক-ঝিনুক নিধনের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশগ্রহনের জন্য। পাশেই রাড়িখাল জগদীশ চন্দ্রবসুর বাড়ী ভাবলাম একবার দেখে যাই। পথে দেখা পেলাম অনেক কিছুর।
ভাবছিলাম পোস্ট দিব শামুক-ঝিনুক নিয়ে কিন্তু ঘুম থেকে ওঠে পত্রিকার পাতায় দেখি আজ ড.হুমায়ুন আজাদ এর মৃত্যু বার্ষিক। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। আমার ক্যামেরায় তোলা কিছু ছবি।

এপিটাফ
আমি জানি, ভালো ক'রেই জানি, কিছু অপেক্ষ ক'রে নেই আমার জন্যে;
কোনো বিস্মৃতির বিষন্ন জলধারা, কোনো প্রেতলোক, কোন পুনরুত্থান,
কোন বিচারক, কোন স্বর্গ, কোন নরক; আমি আছি, একদিন থাকবো না,
মিশে যাবো, অপরিচিত হয়ে যাবো, জানবো না আমি ছিলাম। নিরর্থক সব
পুণ্যশ্লোক, তাৎপর্যহীন সমস্ত প্রার্থনা, হাস্যকর উদ্ধত সমাধি; মৃত্যুর পর যে-
কোনো জায়গায়ই আমি প'ড়ে থাকতে পারি,-জলাভূমিতে, পথের পাশে,
পাহাড়ের চূড়োয়, নদীতে মরুভূমিতে, তুষারস্তূপে! কিছুই অপবিত্র নয়...







৫৩. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৮:৩৮
কাদা মাটি জল বলেছেন: হাসান ভাই, মানে ডুফস হাসান ভাই আপনি? ভাই এই ঘটনা তো আমরা জানিনা... বলেননাই কেন?
৫৪. ২১ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৩
জইন বলেছেন: আপনার কাছে পুরা জাতি কৃতজ্ঞ। তারপরও শেষরক্ষা হলো না।
আমার কখনোই মনে হয় নি আপনি ছবিতে হাসছেন। আপনার অভিমান বুঝতে পারছি।


আপনি জানতে পারবেন না,তাই আপনাকে জানাচ্ছি--আমি আপনার লেখাটা পড়ে কিন্তু কাঁদছি।

কেউ আপনাকে কিছু না বলুক আমি বলছি,আপনি কেমন আছেন?
৫৫. ২৭ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:০৩
মাঠশালা বলেছেন: "স্যার বললো আমি পুলিশের গাড়িতে যাবো না।"- হুমায়ুন আযাদ
৫৬. ২৮ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৫৯
হুমায়রা হারুন বলেছেন: আপনি সৌভাগ্যবান যে সেদিন আপনি ওখানে ছিলেন স্যারকে সাহায্য করবার জন্য।।

পোস্টটি প্রিয়তে সরাসরি।
৫৭. ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৩৯
রাজিব মোস্তাফিজ বলেছেন: স্যালুট হাসান শরিফ।
৫৮. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৩:২৬
নির্ণয় বলেছেন: আপনি না লিখলে কোনদিন জানতেও পারতাম না যে কেউ এই ছবি তে হাসি খুঁজে পেয়েছে! আমি তো দাঁতে দাঁত চেপে সব শক্তি এক করে আজাদকে ধরে রাখা একটা ছেলেকে দেখলাম ছবিতে, যার ভয়ার্ত বিস্ফোরিত চোখ ছেলেটার কিংকর্তব্যবিমূঢ়তাই প্রকাশ করছে।
মনে কোন খারাপ লাগারবোধ রেখেননা। নিজেকে নিয়ে নিজের কাছে গর্ব করার মত একটা কাজ করেছেন, এমন কয়জনেরই বা সাহস হয়।
আমি ধন্যবাদ জনালাম, আমি কৃতজ্ঞতা জানালাম।
৫৯. ১৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৩:০২
অন্যরকম বলেছেন: এই ছবি দেখে একমাত্র কোন বেকুবই বলবে যে সে হাসছে.....

শরীফ, তুমি ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলা! স্যলুট!
৬০. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:০৮
সত্যান্বেষী বলেছেন: এত ঘন সাহস আর মানব দরদ! বিনম্র শ্রদ্ধা।
৬১. ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৩৫
নীজর্ন বলেছেন: apnake salut deya ta asole e jorori. sir amr priyo ki opriyo seta porer bepar bt apni akta manus er jonno ja korechen ta asolai salut tollo.
valo thakben r abave agiye asben manobotar jonno ae asay.....
৬২. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৫১
মুহসিন বলেছেন: পৃথিবীতে ভালোকাজের স্বীকৃতি মিলবে কি না মিলবে, সেজন্যে কোন মহানুভব চিন্তা করেননা।

আমার মনে হয় আপনি একজন আদর্শবাদী লোক। মহানুভব। কি আছে, মানুষ আপনাকে যাই স্বীকৃতি দেক, তেমন কিছু আসে যায়না।

আপনি এই ধরণের ভালো কাজ, সাহসী কাজ আরো করবেন এই কামনা।
৬৩. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:০৩
শুভ্রমেঘ বলেছেন: যখনই মনে হয়, স্যার এর চিন্তা ও ভাষার তীক্ষ ছুরি থেমে গেছে ধাতব ছুরির আঘাতে।
তখন শুধুই কান্না পায়।

ধন্যবাদ আপনাকে।
৬৪. ২৯ শে মার্চ, ২০১০ ভোর ৪:২৩
আলী বলেছেন: Pavel mean Pavel Rahman?bisal kolizawala manus 21 August Graned attack ar pic & case story bolsilo amader same DB;SB onek jalaisilo tare he is great man
৬৫. ০৮ ই জুন, ২০১০ রাত ২:২৪
মামুন মাহফুজ বলেছেন: তুখোড় সদস্য বলে নিজেকে বড়করে ভাবার বা বিশেষায়িত করার চেষ্টা দেখে মনে হচ্ছে স্যারের মতো বিকৃতি আপনারও ঘটেছে। বুদ্ধির বিনয় শব্দটা হয়ত ভুলে গেছেন, ধ্যান-প্রজ্ঞা ওতপ্রোত তাও হয়ত জানেন না এটা নিশ্চই জানেন সবকিছু ভেঙে পড়ে চটি বইটা কার লেখা! সেই বিকৃত রুচির পর্ণো লেখককে নিয়ে আদিখ্যেতা দেখলে আপনাদের রুচি নিয়ে ভীষণ প্রশ্ন জাগে। তবে লেখকের কাছে কিছুটা কৃতজ্ঞ লালনীলদীপাবলীর জন্য।
৬৬. ০৮ ই জুন, ২০১০ রাত ২:৩৩
মামুন মাহফুজ বলেছেন: তবে যারা তাকে মারতে চেয়েছিল তাদের বিবেকের কাছে একটি জিজ্ঞাসা মতের অমিল হলেই তাকে খুন করার এ প্রবৃত্তি কী পূর্বপুরুষের? তার একমাত্র অস্ত্র ছিল কলম সেই কলমকে স্তব্ধ করতে মারণাস্ত্র ব্যবহার না করে মেধা বা ক্ষুরধার লেখার আশ্রয় নেয়া যেত না? লেখা হচ্ছে শিল্প শিল্প মানে সুর সুরের বিরুদ্ধে অসুরের লড়াই বেমানান! এ বোধ ক্ষমতাবানদের কোনদিন হয় না। এই যে মাহমুদুর রহমান তার কলাম কে থামাতে ক্ষমতাবানরা কী না করলো?
৬৭. ০৮ ই জুলাই, ২০১০ দুপুর ২:১৩
হুপফূলফরইভার বলেছেন: প্রিয়তে রেখে দিলাম সযতনে!
৬৮. ২৫ শে জুলাই, ২০১০ রাত ৩:৪৪
কাজল আব্দুল্লাহ বলেছেন: হাসান ভাই, আপনার সম্পর্কে অজানা আরেকটি দিক পাইলাম।
৬৯. ১০ ই আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৪:৫৩
কাকপাখি ২ বলেছেন: গান্ধা আজাদরে আমি ঘৃনা করি। তবে তার জান বাচানোর চেষ্টা করার জন্য আপনেরে ধইন্যবাদ।
৭০. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৯
আবদুল্লাহ আল জাফর মালেক বলেছেন: পরিতাপের বিষয় হচ্ছে এই পোস্টেও দুটো মাইনাস।
৭১. ২৬ শে মার্চ, ২০১১ সকাল ৯:১৫
শায়েরী বলেছেন: হুম ভালো লিখেসেন
৭২. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ ভোর ৫:২৮
কান্নার ছায়া বলেছেন: ছবিটা দেখেই ভালো লাগা দিয়ে দিলাম ।

 

মোট সময় লেগেছে ১.৫৭২৮ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
বাবার সরকারি চাকুরির সুবাদে শৈশব কৈশোর-স্কুল কলেজ সবই চট্টগ্রামে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সাংবাদিকতা করি। পরের জন্মে মুক্তিযোদ্ধা হতে চাই।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই