somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপরূপ বাওয়াছড়া

১৮ ই মে, ২০১১ দুপুর ১২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দূর থেকে শোনা যায় ঝরনার রিমঝিম শব্দ। পাহাড়িয়া সবুজ গাছের সমারোহ পাখির কলতান কার না মন জুড়ায়। শিশু থেকে বৃদ্ধ যে কেউ মুগ্ধ হবেন বাওয়াছড়া দেখে। সে সৌন্দর্যের অপরূপ নৈসর্গ বাওয়াছড়া পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। চট্টগ্রাম শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ের ছোট কমলদহ বাজার থেকে দেড় কিলোমিটার পূর্বে পাহাড়ের পাদদেশে এ প্রকল্পের অবস্থান। নীল আকাশের বিশালতার নিচে পাহাড়ি সবুজের সমারোহ। এ যেন প্রকৃতির রঙিন আয়োজন। পশ্চিমে অজগরের মতো রেললাইন, পূর্বে পাহাড়ের পাদদেশ, সারি সারি গাছ আর দু'পাশে থাকা বনাঞ্চলের দিকে তাকালে হয়তো সহজেই দেখা যাবে অনেক জীববৈচিত্র্য। শেষ বিকালে সূর্যের লালরশ্মিতে ঝরনা আর লেকের পানিতে স্বর্ণালী রোধের বর্ণালী চিত্র পরিবর্তনের চোখধাঁধানো সৌন্দর্যে যে কেউ মুগ্ধ হবে। আর এই অপরূপ দৃশ্য দেখতে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন শত-শত প্রকৃতিপ্রেমী ছুটে আসছে বাওয়াছড়ায়। এই প্রাকৃতিক স্পটটি দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশি পর্যটকদেরও আকৃষ্ট করবে যদি সরকার এটিকে পর্যটন স্পট হিসেবে ঘোষণা করে।

এলাকাবাসী হারিয়েছেন, সরকার নজর দিলে এটি হবে দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্রে। মনোমুগ্ধ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর প্রকল্পটিতে ঝরনার পানি আছড়ে পড়ছে। চিকচিক বালিতে যেন সকালের মিষ্টিরোদ আলো ছড়ায় আর অস্তগামী সূর্যের লালিমা মাখা অনন্ত ছায়া যেন ঢলে পড়ে। এখানে এলেই বাওয়াছড়ায় মনমোহনীরূপ আপনাকে আকৃষ্ট করবেই। চট্টগ্রাম এম ই এস কলেজ থেকে ঘুরতে আসা শিক্ষার্থী রনি ভৌমিক বলল, এখানে আমি প্রথম এসেছি। এত চমৎকার দৃশ্য সবারই মন জুড়াবে। জানা গেছে, গত সরকারের আমলে দ্বিতীয় ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলাভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিলে উপজেলার ১৫নং ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সালাহ্উদ্দিন সেলিম এ প্রকল্পের প্রস্তাব দেন। পরে সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা প্রকল্পটি পরিদর্শন করেন এবং এলাকার লোকজনের মতামত নিয়ে এটি বাস্তবায়নে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। নেদারল্যান্ড সরকার আর্থিকভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সহযোগিতা করে।

শুধু তাই নয়, এ প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারলে প্রকল্পের লেকে সংরক্ষণ করা পানি দিয়ে এলাকার প্রায় ১৪০০ একর জমিতে বিভিন্ন মৌসুমে ফসলাদি চাষ করা যাবে। এতে প্রায় ১৮ হাজার দরিদ্র কৃষক সাবলম্বী হবে। বিশেষ করে ইরি, বোরো, আউশ, আমন, বিভিন্ন জাতের শাক, টমাটো, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, আলু, কপি, শিম, বরবটি, ঢেঁড়স, ধুন্দুলসহ সব ধরনের রবিশস্য উৎপাদিত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৩৪-৩৫ সালে প্রকল্পটি চালু ছিল। কিন্তু পাকিস্তান আমলে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯৭২ সালে প্রকল্পটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। সম্প্রতি প্রকল্পটিকে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকা থেকে এলজিইডির প্ল্যানিং কমিটির প্রধানসহ একটি প্রতিনিধিদল প্রকল্পটি পরিদর্শন করে গেছেন।

মিরসরাইয়ের বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন প্রকল্প এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন শেষে জানান, বাওয়াছড়া প্রকল্পটিকে চট্টগ্রামের ফ'য়স লেকের আদলে গড়ে তোলা গেলে এটিই হবে চট্টগ্রামের অন্যতম পর্যটন স্পট। বাওয়াছড়া প্রকল্পটি রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে পর্যটকদের তীর্থস্থান হওয়ার পাশাপাশি ওই এলাকায় কাজের সৃষ্টি হবে এবং এতে বেকারত্ব হ্রাস পাবে।

প্রকৃত লেখক: রিগান উদ্দিন, মিরসরাই
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মে, ২০১১ দুপুর ১:০৪
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×