somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপরাধ এবং শাস্তিঃ ক্রসফায়ার

১৩ ই মে, ২০০৯ রাত ১০:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ক্রসফায়ার, যার সহজ বাংলা অনুবাদ আটক আসামীকে বিনা বিচারে গিলোটিনে পাঠানো। বাংলাদেশের শহর গঞ্জে রাস্তার অনেক ছিচকে ছিনতাইকারীকে গনপিটুনী দিয়ে মেরে ফেলতে দেখা যায়। হত্যাকান্ড বাস্তবায়নকারী এবং এর দর্শকরাও মহা-উল্লাসে এই পৈচাশিকতায় অংশ নেয় অথবা স্বাগত জানায়। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের honor killing'এর মত এই খুন সমাজে এক ধরনের নীরব সমর্থন আদায় করে নেয় এর আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার কারনে। ধরে নেই ছিনতাইকারীকে হত্যা না করে পুলিশে দেয়া হল, এবং যারা ছিনতাইয়ের শিকার তারা আশা করল অপরাধীকে আইনের আওতায় শাস্তি দিয়ে ভবিষতে এ ধরনের অপরাধের রাস্তা বন্ধ করা হবে। এ বিশ্বাসটুকু আমাদের সমাজে অনুপুস্থিত বলেই সাধারন মানুষ আইন হাতে তুলে নিতে দ্বিধা করেনা।

এবার আসুন ছিনতাইকারীর পিছু নিয়ে তার গ্রেফাতারাবস্থায় ভাগ্যের একটা ছবি আকি। পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যাবে অপরাধীকে, হাজতে ঠেলে দেয়ার আগে হাজতীর পকেট হাতড়ে সবকিছু গলধকরন করবে পুলিশ বাহিনী যার একটা অংশ যাবে Officer-In-Command'এর পকেটে। এরপর দৃশ্যে আসবে পুলিশের সোর্স, যার দায়িত্ব হাজতীর আত্মীয়-স্বজন খুজে বের করে তাকে জামিনের ব্যবস্থা করা। এখানেই শুরু হবে নাটকের মূল অংক। এই অংকের নেতা-অভিনেতারা হবেন পুলিশ, ছাত্রনেতা, দলনেতা, পৌরসভার মেম্বার/চেয়ারম্যান, এমপি সহ আরও অনেকে। লেনাদেনায় বুঝাপড়া না হলে আসামীকে হাজত হতে চালান করা হবে জেলে। এবার বিচারের তৃতীয় পর্ব। উকিল, মোক্তার, পেশকার, বিচারক সহ গোটা দশেক পকেট উন্মুখ হয়ে থাকে এ ধরনের চালানের আশায়।

মেজিষ্ট্রেট কোর্টে তখনই কেস শুনানির জন্যে উঠে যখন লেনদেনের ব্যাপারে একটা সূরাহা হয়। সাধারনত এ ধরনের ছিনতাইকারীরা তাদের পরিবারের সর্বশেষ পয়সাটা খরচ করে ১ম, ২য় এবং ৩য় অংকের সব নেতা, অভিনেতা এবং ভিলেনদের সন্তূষ্ট করে বেরিয়ে আসে আইনের হাত হতে। বলার অপেক্ষা রাখেনা এর পরের দৃশ্য; বেচারাকে আবারও ফিরে যেতে হয় সেই পুরানো ধান্ধায়। অতীতে যারা ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিল তারাও অবাক হয়না পুরানো মূখকে আগের জায়গায় দেখে। কারন তাদেরও জানা আছে কোন সমীকরন সমাধান শেষে তাকে ফিরতে হয়েছে পুরানো ব্যবসায়। এ ভাবেই শুরু। মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠে যখন এই অপরাধীর দল রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ছিনাতাই ছাড়াও হাত বাড়ায় চাদাবাজি, খুন, ধর্ষনের মত আরও ঘোরতর অন্যায় কাজে। জমতে থাকে অপরাধীর পাপ, পাশাপাশি বাড়তে থাকে অনেকের আয়-রোজগার। একটা সময় আসে যখন মানুষের ধৈর্যের বাধ ভেঙ্গে যায়, থানা-পুলিশ, আইন-আদালত এবং প্রশাষন সহ সবার উপর হতে বিশ্বাষ উঠে যায়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় নাটকের শেষ অংক। এই অধ্যায়ের অভিনেতা শুধু দুই পক্ষ, ছিনতাইকারী নিজে এবং তার শিকার। মুগুরের আঘাতে মাথা থেতলে যায় অনেক অপরাধীর। তার মৃত্যুতে শোক দূরে থাক অনেকে মিষ্টি বিতরন করে উল্লাশ করে।

ছোট এই ছিনতাইকারী হতে দৃশ্যপট যদি আমরা রাষ্ট্রীয় পর্য্যায়ে নিয়ে যাই ফলাফল হবে একই। থানা-পুলিশ হয়ে এবার পকেট ভরবে হাইকোর্ট-সুপ্রিমকোর্টের উকিল, মোক্তার, পেশকার আর বিচারকের দল। রাজনীতির অনেক রাঘব বোয়াল অপরাধের এই জটিল সমীকরন হতে হাতড়ে নেয় বিরাট অংকের টাকা। অপরাধীর অপরাধের মাত্রা চলে যায় মাটি হতে আকাশে। ব্যবসা, বানিজ্য হতে শুরু করে সমাজের সবকিছু হয় লন্ডভন্ড। ভিকটিম হয় নীরিহ মানুষ, মা, ভাই-বোন...। এবারে জনগনের বদলে র‌্যাব থেতলে দেয় অপরাধীর মাথা।

অনৈতিক হত্যা সহ সমাজের স্বাভাবিক জীবন লন্ডভন্ড করায় জানিনা আপনারা কাকে দায়ী করবেন, আমার আদালতে আসামী হবে আমাদের অসূস্থ, অক্ষম রাজনীতি এবং এর অসৎ খেলোয়াড়বৃন্ধ।
৮টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×