প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিশেষ নাগরিক সুবিধা দেয়ার নামে সরকারের মূলা ঝুলানো
০৪ ঠা জুন, ২০০৯ রাত ১১:১৪
এটা সবাই অবগত যে, প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্স বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার সবচেয়ে বড় উৎস। গত অর্থ বছরে (২০০৭-২০০৮ ইং) বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীদের পাঠানো মোট অর্থের পরিমান জিডিপির ৮.৮%, বিদেশি বিনিয়োগের ৫ গুন এবং ঐ বছর প্রাপ্ত মোট বৈদেশিক সাহায্য ও ঋণের ৭ গুনেরও বেশী।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত অর্থ বছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৪৫ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। বিপুল পরিমান রেমিট্যান্স যেমন অর্র্থনীতিতে গুরত্বপূর্ণ অবধান রাখছে, তেমনি কর্মসংস্থান, দারিদ্র বিমোচন এবং গ্রামীন জনগণ ও অর্র্থনীতির উন্নয়নে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের ভুমিকা অত্যন্ত শক্তশালী। এই বিশ্ব মন্দা অর্র্থনীতির সময়েও আমাদের আশার কথা এই যে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের অংক দিন দিন বেড়েই চলেছে।
আমরা দীর্র্ঘদিন থেকে শুনে আসছি সরকারীভাবে প্রবাসীদের নানা সুযোগ সুবিধা দেয়ার কথা যা মূলত: বতৃতা বিবৃতি আর কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ১৯/০৬/২০০৮ ইং তারিখের বিজ্ঞপ্তি নং প্রকবৈকম-০২/২০০৪(২)/২০০২(অংশ-১)/৫০১ এর মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রেরণকারী প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিশেষ নাগরিক সুবিধা/২০০৯ প্রধানের জন্য দরখাস্ত আহবান করা হয়।
প্রবাসীরা বিগত ২০০৮ সালের জুলাই মাসে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দুতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করে। অদ্যাবধি আমরা সরকারের তরফ থেকে আর কোন সাড়া পাইনি। খোজ নিতে গিয়ে জানতে পারলাম দেশে গত ১ বছর ধরে আমাদের পাসপোর্ট পুনরায় ভেরিফাই করা হচ্ছে। আমরা পাসপোর্ট করে বৈধভাবে বিদেশে এসেছি এবং তা প্রদানের পূর্বে যথাযত পুলিশ ভেরিফিকেশন করা হয়েছে। আমরা দেশে বৈধ চ্যানেলে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা/ডলার পাঠাই। অথচ আমাদের সুযোগ সুবিধা দেয়ার কথা বলে দরখাস্ত আহবান করে তা নানা অজুহাতে বছর ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এই হল আমাদের প্রিয় দেশের কেরানীমার্কা গণ প্রশাসন যে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদানের বেলায় সম্ভুক গতি সঞ্চারণে তাদের কোন জুড়ি নাই।
সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে আমাদের প্রশ্ন পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন করতে আর কতদিন লাগবে? আমাদের সাথে এ ধরণের অশোভন আচরন না করলেই কি নয়? আমরা জরুরী ভিত্তিতে এই বিলম্বের সরকারী ব্যাখ্যা দাবী করছি এবং যারা এ বিলম্বের জন্য দায়ী তাদের শাস্থির দাবী জানাই।
আরমান মির্জা
রিয়াদ, সৌদি আরব।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): প্রবাস, বাংলাদেশ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার দেশ বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
আহছানউল্লাহ বলেছেন:
বস লিখছেন তো একখান হাছা কথা।তবে কি পেয়েছেন অতীতে, কি পাচ্ছেন বর্তমানে, বা আর কি আশা করেন ভবিষতে?যে দেশ অন্তত ছয় মাস চলে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে।সে দেশ ইচ্ছে করলে অনেক সুযোগ-সুবিধা দিতে পারে এই প্রবাসীদের।আপনি দেশে যান ছুটিতে দেখবেন আপনি কি পাচ্ছেন সুযোগ-সুবিধা তা বিমান বন্দর থেকে টের পেতে শুরু করবেন।আরমান মির্জা ভাই আপনি জানেন কি, গত সাড়ে তিন বছর পর্যন্ত ইউ.এ.ই(আবুধাবী)দিরহামের বিপরীতে বাংলা টাকার মূল্য একই অথচ গত সাড়ে তিন বছরে দেশের দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়েছে দুই থেকে তিন গুণ।লেখক বলেছেন: সে মূল টা ১৮ টাকারা আশে পাশে আমি জানি। কারণ টা যে কি কে জানে? এর মাঝে ডলারের দাম উঠলো আবার নামলো আবার উঠছে।
প্রবাসীদের হেনস্তা তো নতুন কিছু নয়। কিন্তু নতুন সুবিধা নিয়ে আবার নতুন করে হেনস্তা করার উদ্যোগ কে ধিক্কার জানাই
আহছানউল্লাহ বলেছেন:
বস তা হলে আর কি আশা করতে পারেন।
লেখক বলেছেন: দুরাশা করতে পারি
কাজু বলেছেন:
মিয়া ভাই বিশেষ এর দরকার নাই , সাধারন নাগরিক হিসাবে যা পাওয়ার দরকার, তা পাইলেই খুশী।বিশেষ এ র নাম করে প্রবাসীদের অপমান করা হইতেছে। বিশেষ নাগরিক হলো আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতারা। ভাই আমরা রাজনৈতিক নেতা হতে চাইনা।
সত্য লিখার জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিশেষ নাগরিক সুবিধা দেয়ার নামে সরকারের মূলা ঝুলানো
কথাটা হাচা ।
খড় কুটো বলেছেন:
সরকারী চাকুরী জীবি দের ক্ষেত্রে একবার পুলিশ ভেরিফাই হলে পরবর্তিতে আর কোন সময় লাগে না। যাদের পাঠানো টাকা নিয়ে আমরা দেশ চালাই তাদের প্রতি এত অবিচার কেন?চমতকার একটি লেখা।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














