..........সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে......

সামরিক অভ্যুত্থান করে ইতিহাস দখল করা যায় না

০৫ ই জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৫

শেয়ারঃ
0 0 0



বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও জনপ্রিয় লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় ছোটদের উপযোগী করে আমাদের গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধের একটি ইতিহাস রচনা করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় কাজ করেছেন। রচনাটি খুবই সংক্ষিপ্ত কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানার জন্য মোটামুটি তথ্য উপাত্ত এতে আছে। পঁচাত্তরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়েও লুকোচুরি শুরু হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী হন জিয়াউর রহমান। তিনি সামরিক শক্তিবলে দেশের রাষ্ট্রপতির পদ দখল করেন এবং পরে রাষ্ট্রক্ষমতা স্থায়ী করার জন্য সেনাবাহিনী প্রধান পদ দখলে রেখে নির্বাচন করেন, রাজনৈতিক দল গঠন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে তাকে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাও পাঠ করানো হয়েছিল। এতে তিনি কিছু বাড়তি পরিচিতি পেয়েছিলেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের যে বিশাল রাজনৈতিক পটভূমি তাতে জিয়াউর রহমানের কোনও অবদান নেই। কারণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কোন সামরিক তৎপরতার বিষয় ছিল না, এটা ছিল একটা প্রকৃত জনযুদ্ধ। এই যুদ্ধে সামরিক বাহিনীর বাঙালি সদস্যরা অংশ নিয়েছিলেন কিন্তু তার চেয়ে বেশি সংখ্যায় অংশ নিয়েছিলেন ছাত্র-জনতা-কৃষক-শ্রমিক-নারী_ অর্থাৎ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর যখন আক্রমণ করে তখন বাঙালি কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। কারণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণেই বলে রেখেছিলেন, 'আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি...'। বাঙালির হাতে সেদিন প্রয়োজনীয় অস্ত্র ছিল না। ছিল না সামরিক প্রশিক্ষণ নেয়ার সময় ও সুযোগ। তা সত্ত্বেও মাতৃভূমির প্রতি গভীর মমতা ও সীমাহীন সাহস বুকে নিয়ে বাঙালি জাতি মুক্তির জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ আকস্মিক হলেও স্বাধীনতার জন্য কিন্তু বাঙালি জাতির প্রকৃত প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাঙালি স্বাধীনতার অগি্নমন্ত্রে দীক্ষিত হয়েছে। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের আকাঙ্ক্ষা বাঙালির মনে জাগিয়ে তুলেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার অন্যসব বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহকর্মী-সহযোগী। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির আত্দঅনুসন্ধান ও আত্দজাগরণের যে যাত্রা শুরু তারই সফল পরিণতি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। অর্থাৎ ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯-৭০_ এই কালপর্বে নানা ঘটনা ঘটেছে, আন্দোলন-সংগ্রামের বিভিন্ন অধ্যায়ের সৃষ্টি হয়েছে এবং ধাপে ধাপে স্বাধীনতার পথ রচিত হয়েছে। এই পথচলায় এবং অগ্রযাত্রায় নেতৃত্ব দিয়েছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, তাদের সামনের কাতারে ছিলেন নিঃসন্দেহে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সে জন্যই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বের প্রশ্ন এলে বঙ্গবন্ধুর নাম সবার আগে উচ্চারিত হয় এবং তার সঙ্গে আর কারও তুলনা চলে না, তার সঙ্গে একই মর্যাদায় অন্য কারো নাম উচ্চারণ করা যায় না।

দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্র ভেঙে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভু্যদয়ের পেছনে রাজনৈতিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক কার্যকারণ ছিল। বাস্তব অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি বাঙালি জাতিকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সহায়তা করেছিল যে, পাকিস্তানের রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে থেকে বাঙালির অস্তিত্ব বিকাশের সুযোগ নেই। তাই বলা যায়, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সামনে রেখেই স্বাধীনতার পথে অগ্রসর হয়েছি আমরা। অর্থাৎ অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক এবং বৈষম্যমুক্ত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মূল প্রেরণা। মোটা দাগে এটাকেই বলা যায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। একটি পাকিস্তান ভেঙে দুটি দেশ তৈরি নয়, বরং ভিন্ন রাষ্ট্রআদর্শ প্রতিষ্ঠার প্রেরণাই মুক্তিযুদ্ধে উজ্জীবিত করেছিল বাঙালি জাতিকে। ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রের বদলে 'ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার' এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই বাঙালি হিসেবে এক হয়ে মুক্তিযুদ্ধে শামিল হয়েছে।

কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে যারা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে তারা বাংলাদেশকে ফিরিয়ে নিতে চায় পাকিস্তানি ধারায়। সে জন্যই পাকিস্তানি রাষ্ট্রাদর্শ_ অর্থাৎ সামরিক শাসন, গণতন্ত্রহীনতা, সাম্প্রদায়িকতা এবং বৈষম্যমূলক নীতি-পদ্ধতি চালুর অপচেষ্টা চলতে থাকে। তাছাড়া রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করার জন্য ইতিহাস দখলের পাঁয়তারাও শুরু হয়। ক্ষুদ্রতা ও সংকীর্ণতা দিয়ে ইতিহাস রচনার প্রহসন চলতে থাকে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারীদের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দেশপ্রেম ও নিভর্ীকতার কথা, বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্ম জানতে পারলে ষড়যন্ত্রকারীদের পায়ের নিচে মাটি শক্ত হবে না মনে করেই ইতিহাস থেকে তাদের অবদানের কথা মুছে ফেলার এবং ঘৃণ্য দেশদ্রোহীদের বিশ্বাসঘাতকতার অপকর্তীতি লুকানোর সর্বাত্দক অপচেষ্টা চালানো হয়েছে পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে। সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হিসেবেই কৌশলের আশ্রয় নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা হয়েছে কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ কেন হয়েছে, কীভাবে হয়েছে, কাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হয়েছে, দেশে-বিদেশে কারা ছিল মুক্তিযুদ্ধের শত্রুমিত্র তা রাখা হয়েছে উহ্য। মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথা হয়তো বলা হয়েছে কিন্তু পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতার কথা, বর্বরতার কথা কিছু বলা হয়নি। এই বিকৃত ও অসম্পূর্ণ ইতিহাস পড়িয়ে নতুন প্রজন্মের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুকে হেয় করার জন্য, জিয়াউর রহমানকে মহিমান্বিত করার জন্য স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে ঘৃণ্য সব কুযুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে। যেন জিয়ার ঘোষণাতেই দেশ স্বাধীন হয়েছে! কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাস এবং বঙ্গবন্ধুর নাম অবিচ্ছেদ্য। তিনি এই ইতিহাসের নির্মাতা। হাত দিয়ে যেমন সূর্যের আলো আড়াল করা যায় না, তেমনি বঙ্গবন্ধুকে খাটো করা যায় না আর কাউকে তার পাশে দাঁড় করিয়ে। বায়ান্ন থেকে একাত্তর পর্যন্ত ধারাবাহিক রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতিটি পর্বেই বঙ্গবন্ধুর উজ্জ্বল উপস্থিতি আছে। সত্তরের নির্বাচনে বিপুল গণরায় ছিল বঙ্গবন্ধুর পক্ষেই। এমন কি মার্চের উত্তাল দিনগুলোতে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনাই ছিল বাঙালির কাছে অবশ্য পালনীয়। ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' বঙ্গবন্ধুর এই প্রত্যয়দৃঢ় উচ্চারণ ছিল প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা।

জিয়াউর রহমানের রেডিও ঘোষণাকে যারা অনেক বড় করে দেখেন এবং এর ভিত্তিতে জিয়াকে বঙ্গবন্ধুর সমান মাপের নেতা বানাতে চান তারা যুদ্ধকালে জিয়ার অবস্থানের কথা ভুলে যান। তার ঘোষণাতেই যদি মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে থাকে তাহলে তারই তো নেতৃত্বে থাকার কথা কথা ছিল? আসলে জিয়ার রেডিও ঘোষণার তাৎপর্য এতই ক্ষীণ যে, মুজিবনগর সরকার এবং বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী গঠনেও তার কোন প্রভাব দেখা যায়নি। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে জিয়াউর রহমানকে কেউই নেতা মানেনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় ১১টি সেক্টরের মধ্যে একটি সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি অর্থাৎ সামরিক নেতৃত্বের ১১ জনের ১ জন ছিলেন জিয়াউর রহমান। এর বেশি কিছু নয়। একাত্তরের ৭ মার্চের পর সারা বাংলা যখন টগবগ করে ফুটছিল তখন বিভিন্ন জায়গায় দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তারা রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নিয়েছেন। কিন্তু সে সময় জিয়াউর রহমান তেমন কিছু করেছিলেন বলে কোন তথ্য পাওয়া যায় না। পাকিস্তানের প্রতি তার আনুগত্য ছিল প্রশ্নাতীত। ৯ মাসের যুদ্ধকালে মুক্তিপাগল বাঙালি তো শেখ মুজিবের অনুপস্থিতিতেও তার নামেই জয়ধ্বনি দিয়েছে। জিয়ার নামে কোন জয়ধ্বনি কোথাও কেউ শুনেছিলেন কি? বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরই জিয়া তার নিজের মাপের চেয়ে বড় হয়ে উঠতে শুরু করেন।

ইতিহাস জোর করে দখল করা যায় না, ইতিহাস থেকে কাউকে জোরজবরদস্তি করে বাদও দেয়া যায় না, আবার ইতিহাসে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কারও নাম সংযোজন করাও যায় না। এই সত্য অনুধাবনে সহায়ক হবে মুহম্মদ জাফর ইকবালের ছোটদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বইটি। দেশজুড়ে এর ব্যাপক প্রচার হওয়া দরকার। এ ছাড়া এই বইটি স্কুলপাঠ্য হিসেবে অন্তভর্ুক্ত করা হলে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে একটি পরিচ্ছন্ন ধারণা পাবে।

বিভুরঞ্জন সরকার
[লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট]

 

প্রকাশ করা হয়েছে: আমার দেশরাজনীতি  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০০৯ রাত ৮:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৫ ই জুন, ২০০৯ রাত ৮:০৫
এলোমেলো মন বলেছেন: বইটি দারুন।নতুন প্রজন্মের অনেক কিছু জানার আছে এটাতে।
০৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ১১:৫১

লেখক বলেছেন: কত অজানারে! জিয়ার কোন অবদানই ছিল না এই সত্য কি এতদিন জানতেন?

২. ০৫ ই জুন, ২০০৯ রাত ৮:২২
আরি০০৯ বলেছেন: জাফর ইকবাল ..................ঐ ব্যাটা আবার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হইল কবে ????
ও ব্লগার মামু রা শুইনা যান.....................নির্বাক হাসান এর মাথা খারাপ হইছে ...........................
ইকবাইল্যা ( বিশেষ এক শ্রেনীর রাজনীতিবিদ আর একটা দেশের চামচামি আর তৈল মরদনই যারা একমাত্র কাম) যদি হয় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ.........তয় আমাগো ভার্সিটির হগল প্রফেসর গো বিদ্যা চর্চা থুইয়া মাছ ধরন অনেক ভালা ।।
৩. ০৫ ই জুন, ২০০৯ রাত ৮:২৭
ধূসর মানচিত্র বলেছেন: বঙ্গবন্ধুকে জিয়ার সমান করার জন্য দুই দল দায়ি।
১। বি,এন,পিঃ এরা এত সাধীনতার ঘোষক বইল্যা লাফালাফি
করে যে কয়দিন পরে আমাদের নেক্সট জেনারেশন প্রশ্ন করবেঃ
বাংলাদেশের সাধীনতার ঘোষক আছে, ভারতে সাধীনতার ঘোষক
কে অথবা যুক্তরাস্ট্রের সাধীনতার ঘোষক কে?? কি উওর দিবেন
আপনি অথবা বি,এন,পির অণুসারিরা ভেবে দেখুন।
সাধীনতার ঘোষক এই টা'মটাই হলো একটা খাটি আবাল টা'ম। এখন যদি কোন চট্রগ্রামের মেজর যদি চট্রগ্রামে গিয়া বলে
চট্রগ্রাম মুক্ত এমনিই চট্রগ্রামের মানুষ বন্দুক হাতে নাইমা পড়বে।
২। আ,লীগঃ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এত মাতামাতি করছে যে অন্য নেতাদের কোন অবদান সামনে আনছে না। কেন,তাজউদ্দিনের
আ,লীগের ৭০ এর নি'বাচনের আগে সংগঠন গোছাতে ভুমিকা ছিল না। ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধ ইমোশন ছিল শেখ মুজিব, কিন্তু
কোথায় রইল যুদ্ধকালীন নেতৃতের ভূমিকা। কোথায় ক'ণেল ওসমানি। আ,লীগ কেন তাদের কথা হাইলাইট করে না, যদি করতো
তাহলে মানুষ রিয়েল ইতিহাস জানতো।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে মাতামাতি না করাই ভাল, যত বেশি নাচবে তত বেশি মানুষের মন থেকে মুছে যাবে যদি ও নাম তা কখনো
মুছার না। বাট আ,লীগেই এই মহান নেতার প্রতিদন্দী দাড়া করাচ্ছে।
৪. ০৫ ই জুন, ২০০৯ রাত ৮:৩০
সৌম্য বলেছেন: দারুন লিখছেন। প্লাস।

তবে একটা বিষয়ে একটু বিতর্ক থাকবেই। আপনি বললেন, এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের যে বিশাল রাজনৈতিক পটভূমি তাতে জিয়াউর রহমানের কোনও অবদান নেই। কারণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কোন সামরিক তৎপরতার বিষয় ছিল না, এটা ছিল একটা প্রকৃত জনযুদ্ধ।

কিন্তু যুদ্ধ তো শূধু সাহস আর অস্ত্র বা দেশপ্রেম দিয়ে করা যায় না। তাহলে প্যালেস্টাইন তামিল গেরীলা, সেভেন সিস্টার্স অনেক আগেই স্বাধীন হতো। জেনারেল ওসমানী কিংবা জেনারেল রব যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন কলকাতা থেকে। কিন্তু ফিল্ডে সেক্টর কমান্ডাররা স্বাধীনভাবে যে কোন যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা ছিল এবং খুব কম সময়েই তারা হাইকমান্ডের সাথে যোগাযোগ করতে পারার মতো টেকনিক্যাল সুবিধা ছিল।

হাজার হাজার ছাত্র জনতাকে যুদ্ধপোযোগী গনবাহীনীতে রুপান্তর এবং তাদের দিয়ে যুদ্ধ করানো একটা কাজ। সৈনিকরা যুদ্ধ করে। এখন সৈনিকদের আপনি সব ক্ষমতায় বসাতে পারবেন না। কারন যুদ্ধবিদ্যা একটা বিশাল সায়েন্স। অনেক গুলো সাবজেক্ট থাকে। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই এটা একটা সায়েন্স। দির্ঘদিনের অভিজ্ঞতা আর সুশিক্ষা ছাড়া যুদ্ধ পরিচালনা করা অসম্ভব। গণবাহিনী যুদ্ধ করেছে। কিন্তু যুদ্ধ পরিচালনাও করতে হয়। উদাহরন স্বরুপ অনেকেই ভালো করে যুক্তি দিয়ে কথা বলতে পারে। কিন্তু কোর্টে মামলা লড়তে হলে আপনাকে ল-এর ডিগ্রি নিয়ে যেতে হবে। অনেকেই ল-পড়ে। কেউ কেউ বড় উকিল হয় এই বিদ্যার উপরে দখলটা সেভাবে পোক্ত করে নিয়ে।
৫. ০৫ ই জুন, ২০০৯ রাত ৮:৩৪
আরি০০৯ বলেছেন: অথচ দুই নেতাই বাংলাদেশের দুই নক্ষত্র......আপন আপন যায়গায় দুইজন ই উজ্জল........................নো ডাউট।
কিন্তু ইহাদের চ্যালা চামুন্ডারা হইল এমন .........যে বিলাতি হলুদ লেম্বু পাইয়া যেমন পোলাপাইন কপচাইয়া কপচাইয়া তিতা বানাইয়া ছারে .........লেম্বু আর তখন ডাইলের লগে স্বাদ লাগে না , খাইলে বমি লাগে ইহারা নেতাদেরও তেমন বানাইছে ???
ভাইজান কথাডা মিছা কইলে সাইরা দিয়েন.।.।
৬. ০৫ ই জুন, ২০০৯ রাত ৮:৫৬
ইউনুস খান বলেছেন: ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে তাকে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাও পাঠ করানো হয়েছিল।
------- এই পাঠটা করতে কে নির্দেশ দিয়েছিলো বইটিতে তা উল্লেখ করলে ভালো হতো।

"এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের যে বিশাল রাজনৈতিক পটভূমি তাতে জিয়াউর রহমানের কোনও অবদান নেই। "

- একজন সেক্টর কমান্ডের মুক্তিযুদ্ধে কোনও অবদানই নেই :( তাইলে কি জিয়া কি মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডিং বদলে াল ফালাইছিলো।
০৮ ই জুন, ২০০৯ রাত ২:৩১

লেখক বলেছেন: পাকিস্তানের কারাগারে আটক শেখ মুজিবকে পাকিস্তান সরকার রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে বিচারের প্রহসন করে হত্যার উদ্যোগ নিলে প্রধানমন্ত্রী গান্ধী মুজিবের পক্ষে জনসমর্থন সৃষ্টির লক্ষ্যে পৃথিবীর কয়েকটি গুরুত্বপুর্ণ রাজধানী সফরকালে ৬ নভেম্বর, ১৯৭১ তারিখে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বক্তৃতায় বলেন:

The cry for independence arose after Sheikh Mujib was arrested and not before. He himself, so far as I know, has not ask for independence even now.


Ref. Bangladesh documents vol-II, page 275 Ministry of external affairs, Govt of India-1972


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ৭ই মার্চের ভাষণের আইনগত দিক আগে পরীক্ষা করে নেয়া হয়েছিল যাতে শান্তিপুর্ন সমাধানের শেষ সুযোগটি থাকে। পলিটিক্যাল সলিউশন ব্যর্থ হলে পাকি আর্মি ঢাকাতে ক্রাক ডাঊন করে, এতে ইতিহাসের মোড় আরেক দিক নেয়। এমন রাজনৈতিকভাবে অচল ও সংকটপুর্ণ সময়েই বাংলাদেশের জনগন পাকি আর্মি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে ...ঐতিহাসিকভাবে সত্য, বেংগল রেজিমেন্ট প্রথমে বিদ্রোহ করে। যা স্বাধীনতার যুদ্ধের সুচনা করে।

এমন সংকটপুর্ণ সময়েই বাংলার আর্মি পারসোন মেজর জিয়া প্রথমে নিজের নামে, পরে মুজিবের নামে স্বলিখিত স্বাধীনতার ঘোষনা দেন। মেজর জিয়া মুজিবের পাঠানো ফ্যাক্স দেখে দেখে পত্র পাঠ করেন নি।

০৮ ই জুন, ২০০৯ রাত ২:৩৪

লেখক বলেছেন: পাকিস্তানের কারাগারে আটক শেখ মুজিবকে পাকিস্তান সরকার রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে বিচারের প্রহসন করে হত্যার উদ্যোগ নিলে প্রধানমন্ত্রী গান্ধী মুজিবের পক্ষে জনসমর্থন সৃষ্টির লক্ষ্যে পৃথিবীর কয়েকটি গুরুত্বপুর্ণ রাজধানী সফরকালে ৬ নভেম্বর, ১৯৭১ তারিখে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বক্তৃতায় বলেন:

The cry for independence arose after Sheikh Mujib was arrested and not before. He himself, so far as I know, has not ask for independence even now.


Ref. Bangladesh documents vol-II, page 275 Ministry of external affairs, Govt of India-1972


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ৭ই মার্চের ভাষণের আইনগত দিক আগে পরীক্ষা করে নেয়া হয়েছিল যাতে শান্তিপুর্ন সমাধানের শেষ সুযোগটি থাকে। পলিটিক্যাল সলিউশন ব্যর্থ হলে পাকি আর্মি ঢাকাতে ক্রাক ডাঊন করে, এতে ইতিহাসের মোড় আরেক দিক নেয়। এমন রাজনৈতিকভাবে অচল ও সংকটপুর্ণ সময়েই বাংলাদেশের জনগন পাকি আর্মি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে ...ঐতিহাসিকভাবে সত্য, বেংগল রেজিমেন্ট প্রথমে বিদ্রোহ করে। যা স্বাধীনতার যুদ্ধের সুচনা করে।

এমন সংকটপুর্ণ সময়েই বাংলার আর্মি পারসোন মেজর জিয়া প্রথমে নিজের নামে, পরে মুজিবের নামে স্বলিখিত স্বাধীনতার ঘোষনা দেন। মেজর জিয়া মুজিবের পাঠানো ফ্যাক্স দেখে দেখে পত্র পাঠ করেন নি।

৮. ০৬ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১:২৬
ধীবর বলেছেন: মুক্তিযুদ্ধে জিয়ার কোন অবদান নেই, এই মহৎ তথ্যটা ইকবাল মিয়া কোথায় পেলেন? তিনি সুশিল সমাজে ভেরার জন্য মুক্তিযুদ্ধকে পণ্য বানিয়েছেন। এই জন্য তার প্রতি ধিক্কার। তাছাড়া যে ব্যাটা ( ইকবাল) মুক্তিযুদ্ধের সময় শর্ষিনার পীরের বগলের নীচে নিরাপদে বসে ছিল, তার মুখে যাই হোক মুক্তিযুদ্ধের কথা শোভা পায় না। তাছাড়া এই ইকবাল লোকটাকে টিপাইমুখ বাধ নিয়ে তো কিছু বলতে শুনছি না। আর এই হালায় মুখে মুখে মুক্তিযুদ্ধ মাড়ায়? জুতা দিয়ে পিটানোর কাজ এরে। বিভু হালারে সুদ্ধা মাইনাস।
০৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ১১:৫০

লেখক বলেছেন: :) টিপাইমূখ বাধঁ হলে শাবি ঢুবে যেতে পারে, তাকে আর চাকরী করে বেতন নিতে হবে না, এমনিতেই পাবে...! এইজন্য চুপ মনে হয়

১০. ০৮ ই জুন, ২০০৯ সকাল ৯:৫৫
প্রবাসী মন বলেছেন: ভাই, মুজিব যে দেশের স্বাধীনতা চান নাই তা তো লেখক ইন্দিরা গান্ধীর বক্তৃতা দিয়ে প্রমাণ দিলেন। এরকম আরো হাজারো প্রমাণ আছে।

জিয়ার অবদান আছে কি নেই, তা অস্থায়ী সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিনের প্রথম ভাষণেই আছে। জেনে নিবেন। তিনি তিনি কোন পাঠক ছিলেন না, তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক ও অন্যতম সংগঠক।

জাফর ইকবাল একজন দালাল, তার বেশী কিছু নয়। দালালদের দিয়ে দালালীই সম্ভব, টিপাইমুখের বিরোধীতা সম্ভব না। কারণ উনাদের রক্তে দেশপ্রেম নেই।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০০৭২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
নির্বাক থেকে খানিকটা সবাক হলেই জেনারেল আর পর্যবেক্ষণে চলে যাই। ব্লগীয় রাজনীতির হাল-হকিকত অন্যদের চেয়ে একটু বেশিই জানি বলি তাদের...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ