somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ডটার অব পিস: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘুরে দাঁড়ান

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘুরে দাঁড়ান। পাঁচ মাসের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে বদলে দিন বাংলাদেশকে। আপনার হাতে এখনো সাড়ে চার বছর। অদক্ষ, অযোগ্যদের বিতাড়িত করুন। জনগণের সকল আশা-আকাক্সক্ষা এখনো আপনাকেই ঘিরে। কারো ব্যর্থতার দায়ভার আপনি নেবেন না। নিতে পারেন না।

পাঁচ মাসের সরকারে দক্ষ নেতৃত্বের (মন্ত্রী, উপদেষ্টার) অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আগামী বছর বিগতদের দোষারোপ করলে জনগণ মানবে না। সরকার কী করছে তা এখনই তুলে ধরতে হবে। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের কাজ মনিটর করুন। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টিকারীদের বিদায় করুন। স্বাস্থ্যখাতে একটু খোঁজ-খবর নিন। ড্যাবের আচরণ স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কাছে জনগণ আশা করে না। বিএনপির প্রথম পাঁচ মাসের তুলনায় আইন-শৃঙ্খলা অনেক ভালো। আপনার কাছে দলের লোক ছাড় পাচ্ছে না। ছাত্রলীগের লাগাম টেনে প্রশংসা অর্জন করেছেন। র‌্যাব, পুলিশকে মাঠে নামিয়েছেন। আপনার সরাসরি তৎপরতায় জনজীবনে স্বস্তি নেমে এসেছে। র‌্যাবের কার্যক্রম আরো জোরদার করুন। আইন-শৃঙ্খলার অবনতির সুযোগ নেই।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগেরবার পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্থাপন করে আপনি সারাবিশ্বে প্রশংসা অর্জন করেছেন। এবার বিডিআর বিদ্রোহ আপনি শান্তিপূর্ণ উপায়ে সফলভাবে মোকাবিলা করেছেন। বিশ্ববাসীর কাছে আপনি এখন ‘ডটার অব পিস ’। দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি কন্যা। নেত্রী থেকে সফল রাষ্ট্রনায়ক। এই সফলতার দ্বার আগামী দিনে আপনাকে নিয়ে যাবে নতুনত্বের পথে। স্বপ্নের বেড়াজাল ডিঙ্গিয়ে এক নতুন রাষ্ট্রের রূপকার হিসেবে। শুধু আপনাকে থাকতে হবে কঠোর।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আজকের সকল সফলতার মালিক আপনি। আবার ব্যর্থতার দায়ভারও আপনার। শক্তহাতে বলিয়ান হয়ে বদলে দিন বাংলাদেশকে। পাঁচ মাসে কিছু বিষয় প্রশ্নবিদ্ধ। এই প্রশ্নের দায়ভার আপনি কেন নেবেন? আপনার বোন, ছেলে, বোনের ছেলে-মেয়ে কেউ এখন সাতে-পাঁচে নেই। কোনো উপদেষ্টা, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সরকারি আমলা, রাষ্ট্রদূতকে ব্যর্থ কিংবা প্রশ্নবিদ্ধ মনে হলে বাদ দিন। এতে প্রশংসা পাবেন।

মামলার ভয়ে অনেকে কাজ করছেন না। ভীত মানুষরা রাষ্ট্র চালানোর যোগ্য নন। আপনার প্রয়োজন দক্ষ, সৎ, নিষ্ঠাবান, সাহসী এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে এমন মানুষদের। আপনার গতির সঙ্গে সবার তাল মেলাতে হবে। জনগণকে দেয়া প্রতিটি অঙ্গীকারই জাতির জনকের কন্যাকে বাস্তবায়ন করতে হবে। আর বাস্তবায়নের জন্যই আপনার প্রিয় দক্ষ ও যোগ্য মানুষদের নিয়েই এগিয়ে যান।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম স্টাইলে সরকার চলে না। বিরোধী দল অনেক কথা বলছে। বলুক। তাদের সব কথা কানে নেয়ার প্রয়োজন নেই। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ দমনে সরকার কঠোর থাকুক। খালেদা জিয়ার বাড়ি ইসু, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া, জঙ্গিবাদ দমন, গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র চালানের নায়কের আটক করে ভুল করেননি। এবার ঘুরে দাঁড়ান। পাঁচ বছর রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।

ছবি সৌজন্যে: http://www.bangladeshihindu.com]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28961607 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28961607 2009-06-08 04:56:26
৬ নভেম্বর, ১৯৭১ তারিখে ইন্দিরা গান্ধী বলেন...
The cry for independence arose after Sheikh Mujib was arrested and not before. He himself, so far as I know, has not ask for independence even now.

Ref. Bangladesh documents vol-II, page 275 Ministry of external affairs, Govt of India-1972


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ৭ই মার্চের ভাষণের আইনগত দিক আগে পরীক্ষা করে নেয়া হয়েছিল যাতে শান্তিপুর্ন সমাধানের শেষ সুযোগটি থাকে। পলিটিক্যাল সলিউশন ব্যর্থ হলে পাকি আর্মি ঢাকাতে ক্রাক ডাঊন করে, এতে ইতিহাসের মোড় আরেক দিক নেয়। এমন রাজনৈতিকভাবে অচল ও সংকটপুর্ণ সময়েই বাংলাদেশের জনগন পাকি আর্মি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে ...ঐতিহাসিকভাবে সত্য, বেংগল রেজিমেন্ট প্রথমে বিদ্রোহ করে। যা স্বাধীনতার যুদ্ধের সুচনা করে।

এমন সংকটপুর্ণ সময়েই বাংলার আর্মি পারসোন মেজর জিয়া প্রথমে নিজের নামে, পরে মুজিবের নামে স্বলিখিত স্বাধীনতার ঘোষনা দেন। মেজর জিয়া মুজিবের পাঠানো ফ্যাক্স দেখে দেখে পত্র পাঠ করেন নি।

এই পোষ্টটি আমার "সামরিক অভ্যুত্থান করে ইতিহাস দখল করা যায় না " এই পোষ্টের সুত্র ধরে করা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28961531 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28961531 2009-06-07 23:49:45
হাতে মোবাইল ফোন, সমিতিতে জমান টাকাঃ তিনি একজন ভিক্ষুক!

বেলা একটা। কার্জন হলের সামনের রাস্তার পাশে যাত্রীছাউনির নিচে অনেক মানুষের জটলা। হাসি তামাশা করছে লোকজন। কেউ খাবার খাচ্ছে। কেউ টাকা গুনছে। কয়েকজন একসঙ্গে মিলে মোবাইল ফোন সেটে গান শুনছে। হাঁটাচলা করছে। এদের একজন রওশন বালা। এক হাতের কনুই পর্যন্ত নেই। যাত্রী ছাউনিতেই তাকে দেখা গেল হাঁটাহাঁটি করছেন এবং এক হাতে টিপছেন মোবাইল ফোন সেট। ফোনে কার সঙ্গে যেন কথা বলেন। এর একটু পরেই তিনি একটি গাড়িতে ওঠে বসেন। ২৮-৩০ বছরের এক যুবক ওই গাড়ি ঠেলে নিয়ে যায় হাইকোর্টের গেটে।

এভাবে যাত্রী ছাউনিতে থাকা লোকরা একে একে কাঠের তৈরি বিশেষ ধরনের ঠেলাগাড়িতে চড়ে চলে যান যার যার গন্তব্যে। কারও নির্ধারিত গন্তব্য হাইকোর্ট মাজার আবার কারও গন্তব্য শিক্ষাভবনের সামনের রাস্তা বা হাইকোর্টের গেট, বটতলা আবার কেউ কেউ যান গুলিস্থান, যাত্রাবাড়ী, সায়দাবাদ বা কমলাপুরে। ভিক্ষাবৃত্তি তাদের পেশা। এদের একেক জন দিনে আয় করেন তিনশ’ থেকে পাঁচশ’ টাকা। এ টাকা আবার ভাগ বাটোয়ারা হয়। গাড়ি ঠেলানোর জন্য নিয়োজিত লোককে দেয়া হয় একদিনের মজুরি। আর নিজের গাড়ি না হলে এরও ভাড়া দিতে হয় দিনে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। এলাকায় নির্বিঘ্নে থাকার জন্য মাজারের প্রভাবশালীদের দিতে হয় নিয়মিত চাঁদা। তারপরও দিব্যি আরামে চলছে তাদের পেশা।

হাইকোর্ট এলাকায় এরকম ভিখারির সংখ্যা ৮০ থেকে ১০০। শুক্রবারে এ সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। আর তাদের নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি ব্যবসা চক্রও। তাদের খাবার সরবরাহের জন্য রয়েছে নির্ধারিত লোকবাড়িতে টাকা পাঠানোর জন্য আছে লোকদূরে যারা থাকেন তাদের বাসায় পৌঁছে দেয়ার জন্যও আছে বাড়ায় চালিত ভ্যানআয় করা টাকা জমানোর জন্য আছে কয়েকজনের সমিতি। তারা খাবার খান এক সঙ্গে। আছে খাবারের নির্ধারিত মেনুও। পেশা ভিক্ষা হলেও অনেকে থাকেন সপরিবারে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে। দিনের অর্ধেক সময় করেন ভিক্ষা আর বাকি অর্ধেক সময় কাটান পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গল্পগুজব করে। দিনের অর্ধেক সময় ভিক্ষা করলেও এ আয়ে চলে নিজেদের থাকা খাওয়ার খরচ। প্রতিমাসে টাকা পাঠান বাড়িতে। নানা জায়গার প্রতিবন্ধী লোকদের এখানে এনে ভিক্ষাবৃত্তির ব্যবসাও করছেন কেউ কেউ!

নাজিম উদ্দিন নামের একজন জানান, নাম পরিচয়হীন এক প্রতিবন্ধীকে গুলিস্থানের ফুটপাত থেকে মানবিক কারণে নিয়ে আসেন। এখন তার খাওয়া আর ওষুধের জন্য এ প্রতিবন্ধীকে নিয়ে ভিক্ষা করতে হয়। এতে নিজের পরিবারের খরচের টাকাও আসে বলে জানান তিনি। গতকাল দুপুরে হাইকোর্টের সামনে একসঙ্গে খাবার খাচ্ছিলেন কয়েকজন। তাদের জন্য প্রতিদিন খাবার নিয়ে আসেন পুরান ঢাকার এক হোটেল কর্মচারী। দুপুর ও রাতে প্রতিবারের জন্য খাবারের বিল ২৫ টাকা। আর সকালের নাস্তা ১০ টাকা। কার্জন হলের সামনে খাবার নিয়ে বসেছিলেন এক মহিলা। তিনি জানান, প্রতিদিন মাজারে যারা ভিক্ষা করে তাদের কাছে তিনি খাবার বিক্রি করেন। প্রতিদিন অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন তার কাছ থেকে খাবার কিনে খায়। একবেলার খাবারের দাম নেন তিনি ১৮ থেকে ২০ টাকা। তবে শুক্রবারে খাবার বন্ধ থাকে। এদিন সবাই মাজারের খাবার খান।

১১ বছর ধরে কার্জন হলের সামনের রাস্তার ফুটপাতে থাকেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ইছাক। স্ত্রীকে নিয়ে ফুটপাতেই থাকেন তিনি। অসুখে তার হাত ও পায়ের আঙ্গুল কুকড়ে যাওয়ার পর থেকে তিনি বেছে নিয়েছেন এ পেশা। ভিক্ষা করে যা আয় করেন তা থেকে নিজে থাকা খাওয়ার পর প্রতিমাসে ছেলেমেয়েদের জন্য বাড়িতেও টাকা পাঠান তিনি। ইছাক জানান, হাইকোর্ট এলাকায় ৪০-৪৫ বছর ধরে ভিক্ষা করে এমন লোকও আছে। এদের কারও সন্তান জন্ম নিয়েছে এখানে। এরাও এখন ফুটপাতে থেকেই ভিক্ষা করে। তিনি জানান, খাবার-দাবারের সব আয়োজন ফুটপাতেই। গোসল করতে হলে যেতে হয় রমনা পার্কের লেকে অথবা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের গণশৌচাগারে। তবে রমনার লেকে গোসল করলে টাকা লাগে না। গণশৌচাগারে গেলে গোসল করতে পাঁচ টাকা লাগে।

সাত বছর ধরে হাইকোর্টের সামনে ভিক্ষা করছেন গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মুসলেম। তিনি জানান, মিরপুরের মাজার রোডে দেড় হাজার টাকা ভাড়ার বাসায় থাকেন। প্রতিদিন সেখান থেকে হাইকোর্টের সামনে আসেন। দিনে ২০ থেকে ২৫ টাকা দিতে হয় বাস ভাড়া। দুপুরের খাবারের জন্য লাগে ২৫ টাকা। মুসলেম জানান, তার কোন কোন দিন আয় দুইশ’ থেকে তিনশ’ টাকা। কোন দিন এর চেয়েও বেশি আয় হয়। সব খরচ করেও মাসে অন্তত দুই হাজার টাকা জমান। তিনি জানান, তার গাড়ি ঠেলানোর জন্য আছে ১২-১৪ বছরের একটি ছেলে। প্রতিদিন তাকে এ কাজের জন্য দিতে হয় ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

জব্বার নামের আরেক ভিক্ষুক ভিক্ষা করেন হাইকোর্ট মাজারে। ঠেলাগাড়িতে সারাদিন শুয়ে থাকেন। চোখে দেখেন না এমনটি বলে নিজেই ভিক্ষার জন্য আবেদন করেন লোকজনের কাছে। তবে ভিক্ষা শেষে একাই তিনি ফিরতে পারেন বকশীবাজারে তার ভাড়া করা বাসায়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28961234 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28961234 2009-06-07 05:29:03
১/১১ এর ব্যবচ্ছেদ শুরু


...মঈন কংকাল হওয়া শুরু করেছে ...

...ইয়াজ উদ্দিন পাগল হয়ে যাচ্ছেন...

...ফকুরুদ্দিন পালিয়ে বেড়াচ্ছে...

... ১/১১ সুশীলেরা কি বাচতে পারবে...

...ড কামাল হোসেন আর কতকাল নিজেকে লুকিয়ে রাখবে ...যুদ্ধাপরাধী ইস্যুতে কি কামাল ফেসে যাচ্ছে ..






]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28961209 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28961209 2009-06-07 02:24:16
সামরিক অভ্যুত্থান করে ইতিহাস দখল করা যায় না

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও জনপ্রিয় লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় ছোটদের উপযোগী করে আমাদের গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধের একটি ইতিহাস রচনা করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় কাজ করেছেন। রচনাটি খুবই সংক্ষিপ্ত কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানার জন্য মোটামুটি তথ্য উপাত্ত এতে আছে। পঁচাত্তরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়েও লুকোচুরি শুরু হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী হন জিয়াউর রহমান। তিনি সামরিক শক্তিবলে দেশের রাষ্ট্রপতির পদ দখল করেন এবং পরে রাষ্ট্রক্ষমতা স্থায়ী করার জন্য সেনাবাহিনী প্রধান পদ দখলে রেখে নির্বাচন করেন, রাজনৈতিক দল গঠন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে তাকে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাও পাঠ করানো হয়েছিল। এতে তিনি কিছু বাড়তি পরিচিতি পেয়েছিলেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের যে বিশাল রাজনৈতিক পটভূমি তাতে জিয়াউর রহমানের কোনও অবদান নেই। কারণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কোন সামরিক তৎপরতার বিষয় ছিল না, এটা ছিল একটা প্রকৃত জনযুদ্ধ। এই যুদ্ধে সামরিক বাহিনীর বাঙালি সদস্যরা অংশ নিয়েছিলেন কিন্তু তার চেয়ে বেশি সংখ্যায় অংশ নিয়েছিলেন ছাত্র-জনতা-কৃষক-শ্রমিক-নারী_ অর্থাৎ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর যখন আক্রমণ করে তখন বাঙালি কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। কারণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণেই বলে রেখেছিলেন, 'আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি...'। বাঙালির হাতে সেদিন প্রয়োজনীয় অস্ত্র ছিল না। ছিল না সামরিক প্রশিক্ষণ নেয়ার সময় ও সুযোগ। তা সত্ত্বেও মাতৃভূমির প্রতি গভীর মমতা ও সীমাহীন সাহস বুকে নিয়ে বাঙালি জাতি মুক্তির জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ আকস্মিক হলেও স্বাধীনতার জন্য কিন্তু বাঙালি জাতির প্রকৃত প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাঙালি স্বাধীনতার অগি্নমন্ত্রে দীক্ষিত হয়েছে। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের আকাঙ্ক্ষা বাঙালির মনে জাগিয়ে তুলেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার অন্যসব বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহকর্মী-সহযোগী। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির আত্দঅনুসন্ধান ও আত্দজাগরণের যে যাত্রা শুরু তারই সফল পরিণতি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। অর্থাৎ ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯-৭০_ এই কালপর্বে নানা ঘটনা ঘটেছে, আন্দোলন-সংগ্রামের বিভিন্ন অধ্যায়ের সৃষ্টি হয়েছে এবং ধাপে ধাপে স্বাধীনতার পথ রচিত হয়েছে। এই পথচলায় এবং অগ্রযাত্রায় নেতৃত্ব দিয়েছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, তাদের সামনের কাতারে ছিলেন নিঃসন্দেহে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সে জন্যই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বের প্রশ্ন এলে বঙ্গবন্ধুর নাম সবার আগে উচ্চারিত হয় এবং তার সঙ্গে আর কারও তুলনা চলে না, তার সঙ্গে একই মর্যাদায় অন্য কারো নাম উচ্চারণ করা যায় না।

দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্র ভেঙে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভু্যদয়ের পেছনে রাজনৈতিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক কার্যকারণ ছিল। বাস্তব অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি বাঙালি জাতিকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সহায়তা করেছিল যে, পাকিস্তানের রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে থেকে বাঙালির অস্তিত্ব বিকাশের সুযোগ নেই। তাই বলা যায়, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সামনে রেখেই স্বাধীনতার পথে অগ্রসর হয়েছি আমরা। অর্থাৎ অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক এবং বৈষম্যমুক্ত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মূল প্রেরণা। মোটা দাগে এটাকেই বলা যায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। একটি পাকিস্তান ভেঙে দুটি দেশ তৈরি নয়, বরং ভিন্ন রাষ্ট্রআদর্শ প্রতিষ্ঠার প্রেরণাই মুক্তিযুদ্ধে উজ্জীবিত করেছিল বাঙালি জাতিকে। ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রের বদলে 'ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার' এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই বাঙালি হিসেবে এক হয়ে মুক্তিযুদ্ধে শামিল হয়েছে।

কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে যারা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে তারা বাংলাদেশকে ফিরিয়ে নিতে চায় পাকিস্তানি ধারায়। সে জন্যই পাকিস্তানি রাষ্ট্রাদর্শ_ অর্থাৎ সামরিক শাসন, গণতন্ত্রহীনতা, সাম্প্রদায়িকতা এবং বৈষম্যমূলক নীতি-পদ্ধতি চালুর অপচেষ্টা চলতে থাকে। তাছাড়া রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করার জন্য ইতিহাস দখলের পাঁয়তারাও শুরু হয়। ক্ষুদ্রতা ও সংকীর্ণতা দিয়ে ইতিহাস রচনার প্রহসন চলতে থাকে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারীদের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দেশপ্রেম ও নিভর্ীকতার কথা, বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্ম জানতে পারলে ষড়যন্ত্রকারীদের পায়ের নিচে মাটি শক্ত হবে না মনে করেই ইতিহাস থেকে তাদের অবদানের কথা মুছে ফেলার এবং ঘৃণ্য দেশদ্রোহীদের বিশ্বাসঘাতকতার অপকর্তীতি লুকানোর সর্বাত্দক অপচেষ্টা চালানো হয়েছে পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে। সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হিসেবেই কৌশলের আশ্রয় নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা হয়েছে কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ কেন হয়েছে, কীভাবে হয়েছে, কাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হয়েছে, দেশে-বিদেশে কারা ছিল মুক্তিযুদ্ধের শত্রুমিত্র তা রাখা হয়েছে উহ্য। মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথা হয়তো বলা হয়েছে কিন্তু পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতার কথা, বর্বরতার কথা কিছু বলা হয়নি। এই বিকৃত ও অসম্পূর্ণ ইতিহাস পড়িয়ে নতুন প্রজন্মের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুকে হেয় করার জন্য, জিয়াউর রহমানকে মহিমান্বিত করার জন্য স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে ঘৃণ্য সব কুযুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে। যেন জিয়ার ঘোষণাতেই দেশ স্বাধীন হয়েছে! কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাস এবং বঙ্গবন্ধুর নাম অবিচ্ছেদ্য। তিনি এই ইতিহাসের নির্মাতা। হাত দিয়ে যেমন সূর্যের আলো আড়াল করা যায় না, তেমনি বঙ্গবন্ধুকে খাটো করা যায় না আর কাউকে তার পাশে দাঁড় করিয়ে। বায়ান্ন থেকে একাত্তর পর্যন্ত ধারাবাহিক রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতিটি পর্বেই বঙ্গবন্ধুর উজ্জ্বল উপস্থিতি আছে। সত্তরের নির্বাচনে বিপুল গণরায় ছিল বঙ্গবন্ধুর পক্ষেই। এমন কি মার্চের উত্তাল দিনগুলোতে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনাই ছিল বাঙালির কাছে অবশ্য পালনীয়। ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' বঙ্গবন্ধুর এই প্রত্যয়দৃঢ় উচ্চারণ ছিল প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা।

জিয়াউর রহমানের রেডিও ঘোষণাকে যারা অনেক বড় করে দেখেন এবং এর ভিত্তিতে জিয়াকে বঙ্গবন্ধুর সমান মাপের নেতা বানাতে চান তারা যুদ্ধকালে জিয়ার অবস্থানের কথা ভুলে যান। তার ঘোষণাতেই যদি মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে থাকে তাহলে তারই তো নেতৃত্বে থাকার কথা কথা ছিল? আসলে জিয়ার রেডিও ঘোষণার তাৎপর্য এতই ক্ষীণ যে, মুজিবনগর সরকার এবং বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী গঠনেও তার কোন প্রভাব দেখা যায়নি। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে জিয়াউর রহমানকে কেউই নেতা মানেনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় ১১টি সেক্টরের মধ্যে একটি সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি অর্থাৎ সামরিক নেতৃত্বের ১১ জনের ১ জন ছিলেন জিয়াউর রহমান। এর বেশি কিছু নয়। একাত্তরের ৭ মার্চের পর সারা বাংলা যখন টগবগ করে ফুটছিল তখন বিভিন্ন জায়গায় দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তারা রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নিয়েছেন। কিন্তু সে সময় জিয়াউর রহমান তেমন কিছু করেছিলেন বলে কোন তথ্য পাওয়া যায় না। পাকিস্তানের প্রতি তার আনুগত্য ছিল প্রশ্নাতীত। ৯ মাসের যুদ্ধকালে মুক্তিপাগল বাঙালি তো শেখ মুজিবের অনুপস্থিতিতেও তার নামেই জয়ধ্বনি দিয়েছে। জিয়ার নামে কোন জয়ধ্বনি কোথাও কেউ শুনেছিলেন কি? বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরই জিয়া তার নিজের মাপের চেয়ে বড় হয়ে উঠতে শুরু করেন।

ইতিহাস জোর করে দখল করা যায় না, ইতিহাস থেকে কাউকে জোরজবরদস্তি করে বাদও দেয়া যায় না, আবার ইতিহাসে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কারও নাম সংযোজন করাও যায় না। এই সত্য অনুধাবনে সহায়ক হবে মুহম্মদ জাফর ইকবালের ছোটদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বইটি। দেশজুড়ে এর ব্যাপক প্রচার হওয়া দরকার। এ ছাড়া এই বইটি স্কুলপাঠ্য হিসেবে অন্তভর্ুক্ত করা হলে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে একটি পরিচ্ছন্ন ধারণা পাবে।

বিভুরঞ্জন সরকার
[লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট] ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28960653 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28960653 2009-06-05 19:55:33
বিডিআর বিদ্রোহের নেপথ্যের কুশলীরা

বিডিআর-এর ঘটনায় গ্রেফতারকৃত বিএনপির সাবেক এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু এবং ডিএডি তৌহিদকে মালিবাগ সিআইডি সদর দফতরে মুখোমুখি করা হয়েছে। দুইজনকে সামনা-সামনি করে সরকারের ছকবাঁধা কিছু তথ্য পিন্টুর কাছ থেকে আদায়ের চেষ্টা করেছে পুলিশ।

পিন্টু পুলিশের পাতা ফাঁদে পা না দিয়ে বলেছেন, আমি কখনো তৌহিদকে দেখিনি। তার সঙ্গে বৈঠক করার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি আওয়ামী লীগের নির্বাচন করেছেন। বিডিআর সদস্যদেরকে বিএনপির বিরুদ্ধে নামিয়ে ছিলেন। একজন কর্মকর্তা জানান, বিদ্রোহী জওয়ানদের পালাতে সহায়তা করা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তৌহিদ নানাভাবে পিন্টুকে জড়ানোর চেষ্টা করেছেন।

মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসপি আব্দুল কাহহার আকন্দ-এর সঙ্গে গতরাতে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পিন্টু ও তৌহিদকে নিয়ে কথাবার্তা বলছি। তারা কি বলছে তা তদন্তের স্বার্থেই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন পিন্টুকে মঙ্গলবার বিকেলে হাইকোর্ট মাজার গেট থেকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতারের পর সিআইডির কাছে হস্তান্তর করে। সিআইডি বুধবার কোর্টে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। অপরদিকে বিডিআর ঘটনার পর পর বিদ্রোহী ডিএডি তৌহিদকে গ্রেফতার করার পর থেকে বিভিন্ন সময় তাকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেয় সিআইডি। সর্বশেষ অপর একটি মামলায় তৌহিদকে ২ দিনের রিমান্ডে নেয়। তৌহিদকে পিন্টুর সামনা সামনি করার জন্যই তাকে ২ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

ডিএডি তৌহিদ এবং তার অনুসারী কয়েকজন ক্ষুব্ধ জওয়ান সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ভাইপো ব্যারিস্টার তাপস, দলের নেতা মহিউদ্দিন খান আলমগীর, তোরাব আলীর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে। বৈঠকে বিডিআর সদস্যরা তাদের ক্ষোভের কথা ব্যক্ত করে সহায়তা দাবি করেন। এই নেতারা তাদের সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিদ্রোহ শুরুর কয়েকদিন আগে তারা সর্বশেষ বৈঠক করেন ব্যারিস্টার তাপসের সঙ্গে। এই এমপিকে বিডিআর সদস্যরা মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ পদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের জিম্মি করার কথা জানান। ব্যারিস্টার তাপস তাদের একথার প্রতিবাদ করেননি বা সরকারকে বিষয়টি জানাননি।

আওয়ামী লীগ নেতাদের সমর্থন নিয়েই সদর দফতরে বিদ্রোহ, সেনা কর্মকর্তা নিধন, লুটপাট ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। যুবলীগ নেতা সন্ত্রাসী লেদার লিটনের নেতৃত্বে এলাকায় মিছিল হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ভাই, ভাইপো, প্রভাবশালী নেতা হওয়ার কারণে সিআইডি তাদের জিজ্ঞাসাবাদও করেনি বা লেদার লিটনকে গ্রেফতার করা হয়নি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28960450 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28960450 2009-06-05 09:11:12
প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিশেষ নাগরিক সুবিধা দেয়ার নামে সরকারের মূলা ঝুলানো

এটা সবাই অবগত যে, প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্স বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার সবচেয়ে বড় উৎস। গত অর্থ বছরে (২০০৭-২০০৮ ইং) বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীদের পাঠানো মোট অর্থের পরিমান জিডিপির ৮.৮%, বিদেশি বিনিয়োগের ৫ গুন এবং ঐ বছর প্রাপ্ত মোট বৈদেশিক সাহায্য ও ঋণের ৭ গুনেরও বেশী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত অর্থ বছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৪৫ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। বিপুল পরিমান রেমিট্যান্স যেমন অর্র্থনীতিতে গুরত্বপূর্ণ অবধান রাখছে, তেমনি কর্মসংস্থান, দারিদ্র বিমোচন এবং গ্রামীন জনগণ ও অর্র্থনীতির উন্নয়নে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের ভুমিকা অত্যন্ত শক্তশালী। এই বিশ্ব মন্দা অর্র্থনীতির সময়েও আমাদের আশার কথা এই যে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের অংক দিন দিন বেড়েই চলেছে।

আমরা দীর্র্ঘদিন থেকে শুনে আসছি সরকারীভাবে প্রবাসীদের নানা সুযোগ সুবিধা দেয়ার কথা যা মূলত: বতৃতা বিবৃতি আর কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ১৯/০৬/২০০৮ ইং তারিখের বিজ্ঞপ্তি নং প্রকবৈকম-০২/২০০৪(২)/২০০২(অংশ-১)/৫০১ এর মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রেরণকারী প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিশেষ নাগরিক সুবিধা/২০০৯ প্রধানের জন্য দরখাস্ত আহবান করা হয়।

প্রবাসীরা বিগত ২০০৮ সালের জুলাই মাসে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দুতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করে। অদ্যাবধি আমরা সরকারের তরফ থেকে আর কোন সাড়া পাইনি। খোজ নিতে গিয়ে জানতে পারলাম দেশে গত ১ বছর ধরে আমাদের পাসপোর্ট পুনরায় ভেরিফাই করা হচ্ছে। আমরা পাসপোর্ট করে বৈধভাবে বিদেশে এসেছি এবং তা প্রদানের পূর্বে যথাযত পুলিশ ভেরিফিকেশন করা হয়েছে। আমরা দেশে বৈধ চ্যানেলে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা/ডলার পাঠাই। অথচ আমাদের সুযোগ সুবিধা দেয়ার কথা বলে দরখাস্ত আহবান করে তা নানা অজুহাতে বছর ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এই হল আমাদের প্রিয় দেশের কেরানীমার্কা গণ প্রশাসন যে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদানের বেলায় সম্ভুক গতি সঞ্চারণে তাদের কোন জুড়ি নাই।

সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে আমাদের প্রশ্ন পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন করতে আর কতদিন লাগবে? আমাদের সাথে এ ধরণের অশোভন আচরন না করলেই কি নয়? আমরা জরুরী ভিত্তিতে এই বিলম্বের সরকারী ব্যাখ্যা দাবী করছি এবং যারা এ বিলম্বের জন্য দায়ী তাদের শাস্থির দাবী জানাই।

আরমান মির্জা রিয়াদ, সৌদি আরব।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28960270 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28960270 2009-06-04 23:14:57
দিন বদলের ব্লগারদের সম্পর্কে জানতে চাই

তিনটি ছোট বিষয়ে জানার ছিল, অন্য ব্লগাররা সাহায্য করবেন আশা করি।

ব্লগের প্রতিথযশা ডিজিটাল ব্লগার যারা তাদের কে কে নিচের বিষয়ের উপর পোষ্ট দিয়েছেন? লিংক সহ দিলে বাধিত হতাম:

১. বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে
২. টিপাইমূখ বাধঁ নিয়ে
৩. বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে নারী নির্যাতন এবং দিন বদলের অব্যাহত সন্ত্রাস নিয়ে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28960151 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28960151 2009-06-04 18:00:34
বিডিআর হত্যাকান্ডের উপর সরকারী উপন্যাস
অনেক জল্পনা কল্পনা শেষে বিডিআর ম্যাসাকারের সরকারী ভার্সন প্রকাশিত হয়েছে। যেহেতু বিডিআর’এ নিহত সেনা অফিসারদের মৃত্যুর কোন দলীয় এবং আদর্শগত ভিত্তি ছিলনা, তাই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তাদের মৃত্যুও কোন পূর্ণাংগ মানুষের মৃত্যু ছিলনা। একদল ’পূর্ণাংগ’ মানুষের দলীয় মগজে সেনা অফিসারদের মত দলহীন, মেরুহীন অপূর্ণ মানুষদের মৃত্যু কতটা দাগ কাটতে সক্ষম হয়েছিল তার উপর ভিত্তি করেই বোধহয় রচিত হয়েছে হত্যাকান্ডের উপর সরকারী উপন্যাস।

সময়টা ছিল জেনারেল জিয়ার উত্তরসূরী জেনারেল এরশাদের সময়। সীমাহীন লুণ্ঠন বাংলাদেশে ততদিনে রাজনৈতিক ভিত্তি খুজে নিয়েছে, র্দুনীতির কাঠামোগত বৈচিত্র আবিস্কারে জেনারেল জিয়ার উচ্ছিষ্ট ল্যফট্‌ন্যান্টের দল দিনরাত গবেষনা করে চলছে এরশাদের জাতিয় পার্টির ছত্রছায়ায়। পাশাপাশি দুই বেগমের সেনাপতিরা ক্ষমতার স্বাদ হতে লম্বা সময় ধরে বঞ্চিত হয়ে বুলিমিয়া রোগের দারপ্রান্তে প্রায়। এমনই এক প্রেক্ষাপটে ক্ষমতা দখলের রশি টানাটানিতে নতুন এবং এফ্যাক্টিভ ফ্যাক্টর হয়ে উদয় হয় লাশ। লাশের গন্ধ কুকুরের মত টানতে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের। একদিকে ক্ষমতার আলী বাবা, অন্যদিকে ক্ষুধার বাসন্তীর দল, এই দুইয়ের মাঝে তফাৎ হয়ে দাড়ায় লাশ। প্রতিদিন নেতা-কর্মীর দল উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষায় থাকে নতুন লাশের খবরের আশায়। আবার একই লাশ নিয়ে শুরু হয় ত্রিমূখী টানাহেচড়া। এমনি এক লাশের দাবি জানাতে আওয়ামী নেতারা ঢাকার তেজকুনী পাড়ার দিকে ধাবিত হয় সদলবলে, বজ্রমুঠী আর পেটে ক্ষুধার দাউ দাউ আগুন তাদের চলার পথে নতুন মাত্রা যোগ করে। অন্যদিকে আমানুল্লাহ আমান এই লাশ কিছুতেই আওয়ামী শিবিরে যেতে দেবেন্‌না, যে করেই হোক লাশের জাতিয়তাবাদী সৎকার করতে এই তরুন নেতা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। দু’দলেরই অফিস হতে লাশের মালিকানা নিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়ে গেছে, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন বেগবান করতে এই মৃত্যু যে বিফলে যাবেনা তা নিয়ে নেত্রীদ্বয়ও ভাষন দিয়ে ফেলেছেন, এক কথায় ফেরার কোন রাস্তা নেই। দু’দল যখন লাশের মালিকানা নিয়ে মুখোমুখি তখনই মৃতের স্ত্রী এসে দাবি করল এ লাশ রাজনীতির লাশ নয়, নেহাতই ঠেলা গাড়িওয়ালার মৃতদেহ, হাংগামার বেড়াজালে আটকে প্রাণ হারিয়েছে। যে যুদ্ব শুরুই হয়নি তাতে দু’পক্ষ রনে ভংগ দিয়ে রওয়ানা দিল নতুন এক লাশের সন্ধানে। পথচারীদের দয়া ভিক্ষায় স্ত্রী তার মৃত স্বামীর দাফন করতে বাধ্য হয় মেরুর মাটিতে বেওয়ারিশ প্রায় লাশ। ঢকা বিশ্ববিদায়লয়ে দু’টি লাশ পরেছে, এরশাদের ছাত্র সমাজের লাশ। কবি এরশাদ কবির ভাষায় বর্ণনা করলেন এই অপমৃত্যুর বিভিষিকা। দিন শেষে নিশ্চিত হল, দু’টি নয় আসলে লাশ পরেছে একটি, অন্যটি লাশ হলেও পূর্ণাংগ মানুষের লাশ নয়, একজন মেরুহীন রিক্সাওয়ালার লাশ। ত্যাক্ত বিরক্ত ক্ষমতাসীন দল হেলিকÌটারে চড়িয়ে পূর্ণাংগ লাশ পৌছে দেয় তার শেষ ঠিকানায়, অপূর্ণ লাশের সৎকার করতে এগিয়ে আসে আঞ্জুমান এ মফিদুল ইসলাম। বাস, ট্রাক আর গরুর গাড়িতে চড়ে জীবনের শেষ জার্নি সমাপ্ত করে বেচারা রিক্সাওয়ালা।

সেনা ছাউনির চুরি চামারী বাংলাদেশের র্দুনীতির বাজারে নতুন কোন পন্য নয়, এ পন্য রাজনৈতিক চুরি চামারীরই সগোত্রীয় ভাই। এরা একে অন্যের সহায়ক এবং নিয়ামক শক্তি হিসাবে বেচে থাকে। বিডিআর’এ সেনা অফিসারদের প্রেষনে প্রেরনের অন্যতম কারণ হচ্ছে সীমান্তের লূটের পয়সায় ভাগ বসানো। বিদেশী মিশনে কাজ করে কিছু নগদের মুখ দেখা ছাড়া সেনা অফিসারদের ভাগ্য ফেরানোর একটাই রাস্তা খোলা থাকে, তা হল বিডিআর’এ যাওয়া। একজন সেনা অফিসার তার সার্ভিস সময়ের সবটাতেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকে সে মহেন্দ্রক্ষনের। শুধু বিডিআর’এ গেলেই যথেষ্ট হবেনা, দেখতে হবে বাংলাদেশের কোন সীমান্তে সে যাওয়া। কারণ সব সীমান্তে সমান আয় হয়না। এ নিয়েই বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআর। মাঝে মধ্যে ভারতীয় বিএসএফ’এর সাথে গোলাগুলি করে তারা জাতীয় খবরে চলে আসে যা আমাদের মত সাধারণ মানুষদের ভারতকে ঘৃনা করতে রসদ জোগায়। কিন্তূ একটা খবর জাতীয় খবর হয়না, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের সব গোলাগুলিই চোরাই কারবারীর বখড়া নিয়ে দুই সীমান্ত বাহিনীর হাতাহাতি মাত্র। সীমান্ত বাসিন্দাদের জীবন আর চোরাইকারবারীতে রাজনীতি এবং সেনা অফিসারদের সহাবস্থানের কথা কোন উপকথা নয়, এ আকাশ আর মাটির মতই সত্য। এ সত্যই বিডিআর’এ কর্মরত সাধারণ সেপাইদের মনবেদনার অন্যতম কারণ, কে চায় রান্না করা ভাতে আগন্তূকদের ভাগ?

বিডিআর সেপাইদের কি জানা ছিলনা সেনা অফিসারদের কচুকাটা করলে কোর্টমার্শাল শেষে তাদের রশিতে ঝুলানো হবে? বোধহয় জানা ছিল, প্রশ্ন জাগে, জেনে শুনে কেন তারা রশিতে ঝুলতে গেল! এখানেই আসে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার সন্দেহ। বিদ্রোহীর দল খুনের আগে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি নেতাদের সাথে দেখা করেছে, নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ রক্ষা করেছে। সরকারী উপন্যাসে সে কথার কোন বিবরন নেই, যেমন নেই কোন দূর দৃষ্টতার বিচারে প্রধানমন্ত্রী বিদ্রোহী নেতা ডিএডি তৌহিদকে জরুরী ভিত্তিতে বিডিআর প্রধান হিসাবে ঘোষনা দিয়েছিলেন। নাকি আজম চৌধুরীর মামলা প্রত্যাহারের মত সে সত্যও প্রত্যাহার হয়ে গেছে? প্রশ্নটা অন্যভাবে করা যায়, শেখ হাসিনা এবং তার সদ্য জেল ফেরত ফেরেশতা দলের কি এমন হারানোর ছিল সেনা অফিসারদের মৃত্যুতে? সেনাছাউনির বিরুদ্বে হাসিনার ক্ষোভ অনেকদিনের; পিতা, মাতা, ভাই বোন সহ পরিবারের সবাইকে হারাতে হয়েছে এই বাহিনীর পশুত্বের কাছে, তাদেরই কারণে এক বছর ধরে জেলের ভাত খেতে হয়েছে, চাঁদাবাজি চুরি চামারি সহ আয়ের সব পথ বন্ধ হয়েছে তাদেরই কারণে। সুতরাং এই বাহিনীর এলিটদের বিডিআর জওয়ানরা কচু কাটা করছে এমন সংবাদে শেখ হাসিনার মমতা উথলে উঠবে এমনটা আশা করা হবে দূরাশা মাত্র। বরং প্রতিশোধের যে মিশন নিয়ে শেখ কন্যা রাজনীতিতে এতদিন আকরে ছিলেন বিডিআর জওয়ানরা সেনা অফিসা্র হত্যার মাধ্যমে সে মিশনের অনেকাংশই পূর্ণ করে দিয়েছে। মার্কিন দেশে ৯/১১’এর ঘটনায় শত শত নীরিহ মানুষের মৃত্যুর পর সৌদি আরবের হারেম শরীফগুলোতে দুম্বা জবাই করে, আকাশে গুলি ছুড়ে উদযাপনা করেছিল মানব হত্যার উৎসব। আবার বাদশাহী সাম্রাজ্যের যুবরাজ তালাত বিন সৌউদ দশ মিলিয়ন ডলার পকেটে পুরে ভিক্ষা দিতে এসেছিলেন নিউ ইয়র্ক বাসীদের। মেয়র জুলিয়ানী ঘৃনাভরে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এমন গরু মেরে জুতা দানের ভিক্ষা। বিডিআর হত্যাকান্ড নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ্‌দের সমসাময়িক আহাজারি ৯/১১ উত্তর সে ঘটনার কথাই মনে করিয়ে দেয়। দুঃখ নয়, সেনাহত্যার খবর বরং আনন্দ বয়ে এনেছিল জেলখাটা চোরদের অন্তরে।

একজন তোরাব আলী , লেদার লিটন এবং পিন্টুকে ভিলেন বানিয়ে বিডিআর হত্যাকান্ডে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকে খাটোকরা ছিল খুব সহজ, কারণ এদের উপরের লেভেলে কাউকে সনাক্ত করতে গেলে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর রোষানল হবে শেষ রায়। কমিশনের কেউ এমন কাজ করে নিজের মা-বাবার দেয়া পৈত্রিক জান নিয়ে বাজি খেলবে বাংলাদেশে ইহকালে তা সম্ভব নয়। তাই আসুন, হত্যাকান্ডের উপর সরকারী উপন্যাসকে বেষ্ট থ্রিলার হিসাবে গন্য করে এর সবটুকু উপভোগ করতে চেষ্টা করি।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28959900 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28959900 2009-06-04 06:04:41
প্রকৃতি ও মানববিরোধী বাঁধ টিপাইমুখ
আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত।দেশটি বাংলাদেশের তুলনায় বেশ বড়। ভারতের সাথে নানা বিষয়ে আমাদের টানাপোড়েন আছে।সৎ প্রতিবেশীসুলভ মনোভাব ও ইনসাফের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে এলে ভারতের সাথে আমাদের টানাপোড়েন কমতে পারে।কিন্তু ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী প্রতিদিন যেভাবে গুলী করে পাখির মতো বাংলাদেশের মানুষ হত্যা করছে তাতে তো সৎ প্রতিবেশীর প্রমাণ মেলে না।

ফারাক্কার পর এখন আবার টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের তৎপরতায়ও প্রতিবেশী দেশটির আগ্রাসী মনোভাবের ক্রমবর্ধমান মাত্রাটা টের পাওয়া যায়। কোন বড় প্রতিবেশীর এমন আগ্রাসী নীতি ছোট দেশগুলোর জন্য দুশ্চিন্তার কারণ সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ আসলে বড় সমস্যার মধ্যে আছে। এমন অবস্থায় জাতীয় স্বার্থে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকার পালন করতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কিন্তু সরকার এ ব্যাপারে সচেতন আছে বলে মনে হয় না। বরং সরকার ও সরকারি দল বর্তমানে এমন ভূমিকা পালন করছে, যাতে মনে হতে পারে জাতির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি এবং বিরোধীদলকে কোণঠাসা করাই তাদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর বিডিআর বিদ্রোহ ও ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার বিষয়ে সরকারের ভূমিকাও জনমনে সৃষ্টি করছে নানা প্রশ্ন। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার নিশ্চিয়তা বিধানে বর্তমান সরকার কতটা সচেতন সে বিষয়েও জনমনে সৃষ্টি হয়েছে আশংকা।

প্রতিবেশী দেশ যখন বড় ও আগ্রাসী হয়, তখন ছোট দেশের সরকারও রাজনীতিবিদদের পরিপক্কতার পরিচয় দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে আমাদের ঘাটতি আছে। আর সরকারের ঘাটতিটা বড় হয়ে ধরা পড়ছে সবার চোখে। ভারত প্রসঙ্গে কোন কথা উঠলেই আমাদের মন্ত্রী মহোদয়রা কেন যেন একটু অস্বাভাবিক হয়ে ওঠেন এবং কখনো কখনো ক্ষেপেও যান। যেমন গত মঙ্গলবার এফবিসিসিআই আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে টিপাইমুখ বাঁধ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলে উঠলেন, আমাদের দেশের কিছু লোক না বুঝে ও না জেনেই ভারতের টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে কথা বলছে। মন্ত্রী যে মন্তব্যটি করলেন এবং যে অবস্থান নিলেন, তাতে তো মনে হতে পারে, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে সম্যকভাবে অবহিত। কিন্তু একই সময়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ?আমিও এ বিষয়ে কিছু জানি না। শিগগিরই সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল টিপাইমুখ বাঁধ পরিদর্শনে যাবে। এ প্রতিনিধিদলের মতামতের পরে আমরা এ বিষয়ে কথা বলবো।'- এই যদি হয় বাস্তব অবস্থা তাহলে বাণিজ্যমন্ত্রী কী করে বললেন, আমাদের দেশের কিছু লোক না বুঝে ও না জেনেই টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে কথা বলছে! নিজে কিছু না জেনে অপরের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য করা যায় কি? অথচ আমাদের জানা মতে বাংলাদেশে এমন অনেক বিশেষজ্ঞ আছেন, যারা টিপাইমুখসহ ভারতের অন্যান্য বাঁধ সম্পর্কে কমবেশি অবহিত। এবং নানা বিশ্লেষণের মাধ্যমে তারা তাদের উদ্বেগের কথাও প্রকাশ করছেন।

শুধু বাণিজ্যমন্ত্রীই নন, টিপাইমুখ বাঁধ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার রাতে টিভিতে চটে যেতে দেখলাম পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হাছান মাহমুদকেও। তিনি আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে বললেন, বাড়ি ও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা আন্দোলনের পর এখন তারা নেমেছেন টিপাইমুখ বিরোধী আন্দোলনে। আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীরা এ ভাষায় কথা বলছেন কেন? তাদের আচরণে দুর্মুখদের বক্তব্যই যেন হালে পানি পেয়ে যাচ্ছে। তারা বলছিলেন, ভারতের কাছে দাসখত দিয়েই মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসেছে। ভবিষ্যৎই বলে দেবে তাদের কথা কতটা ঠিক বা বেঠিক। এছাড়া টিপাইমুখ বাঁধ সম্পর্কে সরকারের অন্যান্য মন্ত্রীদের বক্তব্যেও লক্ষ্য করা যায় গড়মিল। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রী ড. মোঃ আফছারুল আমিন বলেছেন, টিপাইমুখ বাঁধের কারণে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। তিনি আরো বলেন, ফারাক্কার সময় আর এখনকার সময় এক নয়। জানি না এই 'সময়' বলতে তিনি আসলে কী বোঝাতে চেয়েছেন? অপরদিকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, টিপাইমুখে ভারত ড্যাম নির্মাণ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেও আমরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হবো, আর ব্যারেজ নির্মাণ করা হলে ক্ষতির পরিমাণ হবে আরো বেশি। আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিত হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের কাছে জোরালো প্রতিবাদ জানাবো। তবে এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ভারতের হাইকমিশনার পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তী সম্প্রতি সাংবাদিকদের জানান যে, ভারত আসামে বরাক নদীর উজানে টিপাইমুখে ড্যাম নির্মাণের পাশাপাশি ব্যারেজও নির্মাণ করছে। তাই প্রশ্ন জাগে, ভারতের হাইকমিশনার যখন স্পষ্টই ড্যাম ও ব্যারেজ নির্মাণের কথা বলছেন, তখন আমাদের মন্ত্রী বাহাদুররা এমন লুকোচুরি খেলছেন কেন? যেন তারা কিছুই জানেন না!

মন্ত্রীত্বে থেকে জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে না জানাটা লজ্জার বিষয়, বরং জানাটাই গর্বের। অথচ আমাদের মন্ত্রী বাহাদুররা না জানাটাকেই গর্বের সাথে প্রকাশ করছেন! শুধু তাই নয়, আমাদের বাণিজ্য মন্ত্রীতো টিপাইমুখ বাঁধ থেকে বাংলাদেশ উপকৃত হওয়ার আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন। জানি না তাদের এমন নতজানু ভূমিকার কারণ কী? অথচ একজন সাধারণ মানুষও জানে যে, প্রবাহমান নদীতে বাঁধ দিলে ভাটির দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ উপলব্ধির জন্য বিশেষজ্ঞ হতে হয় না, দেশপ্রেমই যথেষ্ট।

বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত টিপাইমুখে দ্রুততার সাথে স্টোরেজ ড্যাম ও ভাটিতে নীচে ব্যারেজ নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যেও একথার সমর্থন পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের এ প্রকল্প চালু হলে শুষ্ক মওসুমে গোটা সিলেট এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হবে। সেই সাথে মেঘনা বেসিনের সব নদী শুকিয়ে যাবে। আর বর্ষায় বন্যায় ভাসবে গোটা মেঘনা অববাহিকার সকল এলাকা। সেই সাথে ভূমিকম্পের ভয়াবহ ঝুঁকিতো আছেই। যৌথ নদীকমিশনের সাবেক সদস্য এবং পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত এ প্রসঙ্গে বলেন, ভারত টিপাইমুখে যদি শুধু ড্যাম নির্মাণ করে তাহলেও সিলেট অঞ্চলের হাওড় এলাকায় ব্যাপক পানিবদ্ধতা দেখা দেবে। সেই সাথে বন্যার সময় ড্যামের মুখ খুলে দিলে ভাটি এলাকায় ব্যাপক পাবনের সৃষ্টি হবে। আর যদি ড্যামের সাথে ব্যারেজও নির্মাণ করে তাহলে গোটা মেঘনা বেসিনের নদীগুলো পানি শূন্য হয়ে পড়বে। তদুপরি পরিবেশগত বিপর্যয়তো আছেই। তিনি বলেন, এ ধরনের স্থাপনা বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থেই বহুবিধ ঝুঁকির মুখে ফেলবে। তিনি আরো বলেন, ভারত যাই বলুক না কেন, কার্যত এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে ভারত বরাক নদীর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করতে চাচ্ছে। তবে ভারতের উচিত হবে বন্ধুপ্রতীম দু'টি রাষ্ট্রের মধ্যে এ নিয়ে যাতে কোন ধরনের ভুল বোঝাবুঝি না হয় সে জন্য অববাহিকাভিত্তিক পরিকল্পনা নেয়া। যাতে দু'দেশের পানি বিশেষজ্ঞ, কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে উভয় দেশ লাভবান হবে এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর হবে।

বাংলাদেশের পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত তো যৌক্তিক ও সঙ্গত প্রস্তাব করেছেন। কিন্তু এ ধরনের প্রস্তাবের প্রতি ভারতের কোন আগ্রহ আছে কি? বহুল ঘোষিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারত যদি গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার সনদের প্রতি বিন্দুমাত্র আস্থা রাখতো, তাহলে প্রবহমান একটি আন্তর্জাতিক নদীর ওপর ড্যাম ও ব্যারেজ নির্মাণের আগে কি ভাটির সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত দেশের সাথে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতো না? ভারত তেমন কোন গরজ অনুভব করেনি। ভারত আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে একা একাই ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শুরু করে দিয়েছে। এখন বাঁচার তাগিদেই বাংলাদেশের সরকার রাজনৈতিক দল, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে দেশে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সোচ্চার হতে হবে। এ ভাবেই হয়তো ভারতকে আলোচনার টেবিলে কিছুটা সঙ্গত অবস্থায় আনা যেতে পারে। কিন্তু আমাদের বর্তমান সরকার ভারতের সামনে যেভাবে নতজানু হয়ে পড়ছে তাতে ভারতের টনক নড়বে কিনা সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। তবে টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে আমাদের সরকার চুপ থাকতে চাইলেও কিন্তু খোদ ভারতের সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার লোক বেশ আগে থেকেই এই বাঁধের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সূত্রপাত করেছে। আমাদের সুবোধ সরকারের অবগতির জন্য এখানে তার কিছুটা তুলে ধরা হলো।

টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং-এর কাছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জনগণের পক্ষে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয় গত ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ তারিখে। আর স্মারকলিপি প্রদানকারীরা হলো-

১. টিপাইমুখ প্রকল্পের বিরোধী একশন কমিটি (ACTIP), ২. জিলিয়ানগড়ং ইউনিয়ন (ZU), ৩. নংবা এলপি গ্রাম কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান সংঘ (NAVACA), ৪. জিলিয়ানগড়ং ছাত্র ইউনিয়ন, মনিপুর নংবা এলাকা (ZSUM Nangba Zone), ৫. টিপাইমুখ বাঁধ দ্বারা আক্রান্ত গ্রামসমূহের কমিটি।

স্মারকলিপি প্রদানকারীরা ২০০৭ সালের ১৪ মার্চকে ?বাঁধ বিরোধী এবং নদী, পানি ও জীবনের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস' হিসেবে পালন করে। জানি না আমাদের মন্ত্রী মহোদয়রা এ বিষয়ে কোনো খবর রাখেন কিনা। উক্ত দীর্ঘ স্মারকলিপির এক জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে, ??৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ আহু (বরাক) নদী হল জিলিয়ানগড়ং-এর আদিবাসী এবং অন্যান্য বহু আদিবাসী ও অ-আদিবাসীসহ এর অববাহিকায় বসবাসরত ভারত ও বাংলাদেশের অগণিত মানুষ ও সম্প্রদায়ের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের নিরবচ্ছিন্ন উৎস। এসব এলাকার মানুষ বেঁচে আছে এ নদীকে কেন্দ্র করেই। টিপাইমুখ বাঁধ এই নদীকে গলা টিপে হত্যা করবে; নদীটির সুদীর্ঘ প্রাচীনজ্ঞাত ও নির্ভরযোগ্য স্বভাব পরিবর্তিত হয়ে যাবে এবং আমাদেরকে চিরদিনের জন্য দুঃখ-দুর্দশায় নিপতিত করবে। সুতরাং এ প্রকল্প জনগণের জন্য নয়।' স্মারকলিপিতে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে উদ্দেশ্য করে সর্বশেষে বলা হয়, ??টিপাইমুখ বাঁধ বাতিল করুন, আহু (বরাক) নদীকে মুক্তভাবে প্রবাহিত হতে দিন এবং আমাদের নিজেদের জন্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত প্রণয়ন করত আমাদের সঙ্গেই থাকুন।?? বরাক নদীর তীরবর্তী ভারতের জনগণ যখন বলছে, টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্প জনগণের জন্য নয়, তখন আমাদের মন্ত্রীরা ওই বাঁধ থেকে উপকৃত হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কোন্ কান্ডজ্ঞানে? আসলে প্রকৃতি ও মানবাবিরোধী এই বাঁধ শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, ভারতের জনগণের জন্যও ক্ষতিকর। স্মারকলিপিতে সেই সত্যই প্রকাশিত হয়েছে। এই সত্যকে স্বীকার করে নিতে বাংলাদেশ সরকারের দ্বিধা কেন? বিষয়টি ভেবে দেখার মত দায়িত্ববোধ সরকারের আছে তো?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28957513 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28957513 2009-05-29 19:32:27
জাতীয় পতাকা ছিড়ে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সংবর্দ্ধনা!!!

হায়রে পতাকা!!

শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ গত দু'দিন আগে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে এই কাজ করেন। বাফুফের দায়িত্বে থাকা ফুটবলার আসলাম ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন।

আওয়ামী লীগের মন্ত্রী নাহিদ আপনাকে স্বাগত। পতাকা অবমাননা সবাই করতে পারে না।

বিস্তারিত:

Click This Link

সাথে একটা বোনাস কচুপাতার ছবি (এই ছবির কারণে আমি জেনারেল)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28956791 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28956791 2009-05-28 04:21:52
আমি ভগবান

হে আদম সন্তানেরা,

আমি তোমাদের ভগবান বলছি। তোমরা ভাল হও। তোমাদের ভালর জন্য আমি দিন রাত কাজ করে যাচ্ছি। আমি ভগবান, তোমাদের সুখই আমার সুখ। তোমরা আমার আলোর নীচে আস। অন্ধকারকে বেছে নিও না। তোমাদের বিবেক বুদ্ধি কাজে লাগাও। অসৎ সংগ পরিহার কর। বাংলাদেশের অসৎ রাজনিতির বিরুদ্ধে কথা বলতে শিখ। আমি ভগবান সব সময় তোমাদের সাথে আছি।

সৃষ্টি জগতের সকল প্রানীর চেয়ে আমি এই আদম সন্তানদেরকে তৈরী করেছি। জ্ঞান বুদ্ধি দিয়েছি,দিয়েছি আহার নিদ্রা আর ভাল বাসা।দিয়েছি বিবেক,দিয়েছি অর্থ কড়ি টাকা পয়সা ধন ধৌলত। কিন্তু আমি একি দেখছি এখন? চারিদিকে চুরি চামারী হারমাদী বদমাশী কাটাকাটি মারামারি হৈ চৈ আর ও কত কি!

এই সামুতে এসে আদম সন্তানদের সাথে বাহাস করার ইচ্ছা আমার একেবারেই ছিল না এখন ও নেই তবে তোদের ভগবান হিসাবে তোদের দায়িত্ব কর্তব্য এবং ধ্যান জ্ঞান সম্বন্ধে কিছু বলা দরকার মনে করছি। আমি এই জগৎ তৈরী করেছি মানুষের জন্য। মানূষের মংগল যেখানে লুকায়ীত আমি সেখানেই লুকায়ীত।সৃষ্টির সেরা জীব হিসাবে তৈরী করেই আমি দায়ীত্ব শেষ করিনি।তোদের জন্য রেখেছি পরকালের আর এক জগত। সে হিসাবে না হয় নাই গেলাম এখন।

আমি অনেক দিন গভীরভাবে তোদের পর্যবেক্ষন করে একটি উপসংহারে পৌছেছি। তা হল এখানে অনেকেই চোর চোট্রা এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সরাসরি সাপোর্ট করে যাচ্ছিস।আমি ভগবান সব কিছু দেখছি আর মুচকি হাসি হাসছি।ছিঃ আমি কি তোদেরকে বিবেক দিয়ে তৈরী করিনি?আমি কি তোদেরকে ব্যাক্তি সত্ত্বা দিয়ে তৈরী করিনি?আমি কি তোদেরকে বিদ্যা বুদ্যি দিইনি?তাহলে তোরা কেন এইসব সস্তা এবং বস্তা পঁচা মানুষের সেবক হিসাবে নিজেকে জাহির করছিস।তোরা কেন তাহলে চুরি বিদ্যাকে সমর্থন করছিস?কেন তোরা তোদের ধ্যানে এবং জ্ঞানে তাদেরকে প্রভু আর নিজেদেরকে দাস মনে করছিস?

মনে রাখবি তারেক জিয়ার একমাত্র যোগ্যতা সে জিয়ার সন্তান।আর কি গুন তোরা তার ভিতর দেখতে পাচ্ছিস?কি আছে তার চরিত্রে?চুরি এবং ডাকাতি করে তোদেরকে কোথায় নিয়ে গিয়েছে এখন পর্যন্ত টের পাসনি।ওরে গরুর দল তোরা কবে চোরকে চোর আর সাধুকে সাধু বলতে শিখবি?কবে তোদের জিহবা লাফিয়ে উঠবে এইসব অনাচারের বিরুদ্ধে?খালেদার পরিচয় সে জিয়ার বউ।আর কি পরিচয় আছে তার?তার না আছে লেখা পড়া না আছে ইজ্জত শরম আর না আছে বিবেক বুদ্ধি।ওরে অবুঝের দল কবে তোরা এইসব আগাছা থেকে মুক্তি পাবি?আমি ভগবান তোদের মুক্তি দিতে চাই আর তোরা চাস অশিক্ষিত এক মহিলার সেবা দাস হতে।এর চেয়ে চরম অবক্ষয় আর কিসে হতে পারে বলতে পারিস ওরে আমার না বখতের দল?

তোদের আর এক নেত্রীর একমাত্র পরিচয় সে শেখ সাহেবের মেয়ে,এ ছাড়া আর কি গুনে গুনান্বিত এই মহিলা বলতে পারিস?ওরে আমার অবুঝ আদমের দল আমি তোদের দেশে এর চেয়ে লক্ষ গুন শ্রেষ্ট মানুষ পয়দা করে রেখেছি অথচ তোরা চিনতে পারছিস না।আমি ভগবান হয়ে কি তোদের তাও আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে?ওরে কম বখতের দল কি কারনে তোরা এই অসভ্য মহিলার পুজায় লিপ্ত রয়েছিস?কি আছে তার মধ্যে।তাহলে আমি কি ধরে নেব যে চুরি আর গুন্ডামি বিদ্যায় শরিক হওয়ার জন্যই তোরা এই ধরনের চোর এবং সন্ত্রাসীদের সমর্থন করে যাচ্ছিস।

আমি ভগবান সব সময় তোদের মংগল চাই।

সন্ত্রাসী গডফাদার গডমাদারদেরকে ত্যাগ করে স্ত্যের পথে আয়,ন্যায়ের পথে আয়।মনে রাখবি সত্যের ধ্বংস নেই,সত্যের পরাজয় নেই।আমি তোদের সামনে হাজার উদাহরন রেখে দিয়েছি।তোদের চাচা এরশাদ,তোদের নিরক্ষর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পতন তোদের মনে রেখাপাত করা উচিৎ।তোরা তাদের পুজা করা বন্ধ কর।সত্য এবং ন্যায়ের কাছে মাথা নত কর।অন্যায় অত্যাচার এবং চোর বাটপারদের কাছে মাথা নত করে নিজেকে ধ্বজবংগ বানাসনে।

অন্যায়কে লাথি মারতে শিখ। তোদের ভগবান তোদের দিকে তাকিয়ে আছে।সত্য এবং ন্যায়কে আলিংগন কর্‌।অস্বচ্ছতা এবং দুর্নিতির নামে যারা দেশকে ফকির বানিয়েছে তাদের লেজুরবৃত্তি তোদের মানায় না।

আমার প্রিয় মানব দুরের পাখি, কাক ভুষুন্ডি, অরণ্যদেব, আরিফুর, ঘনাদা, নাস্তিকের ধর্মকথা, মনির, খারেজি, তনুজা, অমি পিয়াল তোদের ভয়েস যেন সব সময় উচুতে থাকে আমি ভগবান সেই আশির্বাদ করছি।

সত্য এবং ন্যায়ের কথা বলার জন্য আমার কাছে তোরা চিরস্মরনিয় হয়ে থাকবি।তোদেরকে আমার দরবার থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।জানাচ্ছি ভগবানের আশির্বাদ।

হে আদম সন্তানেরা আমার ধরনিতে সত্য এবং ন্যায়কে ধারন করে বেচে থাক।আমি তোমাদের সংগেই আছি।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28956219 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28956219 2009-05-26 22:21:50
সৈয়দ আলীর দিনরাত্রি

সৈয়দ আলী গ্রামে-গঞ্জে ফেরী করে বেড়ায়, দিন শেষে যা আয় হয় তা দিয়ে ৭ জনের সংসার টানতে হয়। মাসের অর্ধেক সময় দু’বেলা খাবার জোটাতে কষ্ট হয়, নুন থাকলে পান্তা নেই, পান্তা থাকলে নুন নেই। এ ভাবেই চলে সৈয়দ আলীর জীবন। ঘরে ৪টা সোমত্ত মেয়ে, ২ জোয়ান ছেলে অল্প বয়সে বিয়ে করে বাড়ি ছাড়া, ছোট ছেলের বয়স ২ বছর। অভিযোগ করার মত কিছু ঘটেনা জীবনে, তা ছাড়া কার কাছেই বা করবে অভিযোগ, এটাই যে সৈয়দ আলীদের জীবন।

ভোটের সময় সৈয়দ আলীর কদর বেড়ে যায় হু হু করে, তার ছিন্নমূল ভিটা হাতী ঘোড়ার পদভারে কাপতে শুরু করে বৈশাখী ঝড়ের মত। সৈয়দ আলীর ৩২ দাতের এমন নির্জলা হাসি দেখে তার সূখে-দূখের সাথী ছমিরন বিবিও ভয় পেয়ে যায়। ‘ভাবিস নারে ছমিরন, এইবার আর অভাব থাকবিনিনে, চেয়ারমেন কথা দিছে, এইবারের ইলিকশনে ইলশা হাজীকে এমপি বানানিগেলে টেকা দিব, অনেক টেকা। গোলাক্তার আর নছিফার বিবাহ দিব, আইনুন নাহারকে স্কুলে ভর্তি করাইব, আর তোর জন্যে গঞ্জের হাট হতি একখান ১০হাতি শাড়ি আনি দিব’। আবারও ৩২ দাত বের করে সোনালী স্বপ্নের হাসি হাসতে থাকে সৈয়দ আলী।

ইলেকশনে ইলশা হাজি ধানের শীষ মার্কা নিয়ে জিতে যায় বিপুল ভোটে। গ্রামে গঞ্জে তিন দিন ধরে আমোদ ফুর্তি চলতে থাকে। ইলশা হাজি আগামী শীতে বসন্তপুর গ্রামে পালা গানের আয়োজন করতে যাচ্ছে খবরটা শুনে সৈয়দ আলীর শরীরে বিদুৎ খেলে যায়, রক্তের ভেতর পুরানো সাপটা নতুন করে হিস হিস করতে শুরু করে। চারদিকে সূখের প্লাবন দেখতে পায় সৈয়দ আলী।

পৌষের কোন এক পরন্ত বিকেলে গঞ্জের দিকে রওয়ানা দেয় সৈয়দ আলী, আজ তাকে দেখা করতেই হবে ইলশা হাজির সাথে। ছোট মেয়েটাকে টেনে হিছড়ে ছিনিয়ে নিতে চাইছে ইলশা হাজির এক ছেলে, সাথে তার শহুরে ইয়ার দোস্ত। তাছাড়া ইলিকশনে পাশ করলে তার জন্যে কিছু একটা করার প্রতিশ্রুতির কথাটাও মনে করিয়ে দেয়ার সময় হয়েছে। এমন একটা ছোট শহরে এমন আলীশান বাড়ি দেখে ভড়কে যায় বসন্তপুরের সৈয়দ, দু’চোখে রাজ্যের বিস্ময়। বাড়ির আংগিনায় হরিন, গাছের ডালে হরেক রকম পাখীর মেলা, মূল ফটকে বাঘের হিংস্রতা নিয়ে দাড়িয়ে আছে দু’দুটো ভিনদেশী কুকুর। এমন শান শওকতের হাজি সাহেব কি করে সৈয়দ আলীর নোংরা আংগিনায় পা রেখেছিল তা ভাবতেই সন্মানের পাহাড়ে চড়িয়ে দিল ইলশা হাজিকে। হাজি সাহবের দিলটা কত বড় হতে পারে তা হিসাব করতে বেশ কিছুটা সময় ব্যয় করে ফেল্‌ল সৈয়দ।

উজির, নাজির কোতয়াল আর ডাজ্ঞার বেড়ি পেরিয়ে এমপি সাহেবের দেখা পেতে রাত হয়ে গেল। ডানে বায়ে ২ জন বিশাল বপুর দাড়োয়ান সহ হাজী সাহেবের আগমন বৈঠকখনার চৌহাদ্দিতে নুরানী আলো ছড়িয়ে দিল যেন, বসন্তপুরের সৈয়দ আলী বোবা হয়ে গেল হাজী সাহেবের উচ্চতায়। ’তুই আবার কেডা? এত রাইতে কি চাস এইখানে?’। ’সাব, আমি বসন্তপুরের সৈয়দ, ইলিকশনের সময় আমার বাড়ির আংগিনা আপনার পায়ের ধূলায় ধন্য হয়েছিল। আমার ছোট মেয়েটার একটা ব্যবস্থা করবেন বলে কথা দিয়াছিলেন, তাই হুজুরের দরবারে এই অধমের আগমন’। ইলশা হাজি একটা কিছু ভাবলেন, ’তা তোর মাইয়্যাডা কই, তারে আনছুস?’ একসাথে চকচকিয়ে উঠল হাজির চোখ আর জিহবা। কথা সংক্ষিপ্ত করে হাতে একশত টাকার পাচটা নোট ধরিয়ে ছোট মেয়েটাকে নিয়ে আসার জন্যে সমন জারি করল ইলশা হাজী। ’যা, মাইয়্যাডারে লইয়্যা আয়, ঢাকায় আমার গার্মেন্টস ফ্যক্টরীতে কাম আছে, সাথে তোর যাতি হবিনা, বায়জিদ বোস্তামী আগামীকাল সকালে ঢাকা যাইব, ভাল কইর‌্যা ছিনান করাইয়া মাইয়াডারে তুইল্যা দিস’। সৈয়দ আলীর চোখে পানি এসে গেল হাজী সাহেবের বদন্যতায়, পা ছুয়ে সালাম করে রওয়ানা দিল বসন্তপুরের দিকে।

সে রাতে বসন্তপুরের সৈয়দ আলীর বাড়িতে কেউ ঘুমাতে পারেনি। ডিম দেয়া মুরগীটা জবাই করে সবাই মিলে একসাথে রাতের খাবার খেল উঠানে বসে। জোৎস্নার প্লাবনে ভেসে গেল সৈয়দ আলীর আংগিনা, সাথে একটা রাতের জন্যে হলেও ভাসিয়ে নিল অভাব অনটনে বেড়ে উঠা কটা মানুষের দীর্ঘশ্বাষ।

সে যাওয়াই ছিল আইনুন নাহারের শেষ যাওয়া, তাকে আর কেউ কোথাও দেখেনি। শোনা যায় ইলশা হাজী আইনুন নাহারকে দিয়ে হরেক রকম বানিজ্য করাত, দেশী-বিদেশী অতিথির মনোরঞ্জন করিয়ে কোটি টাকার ব্যবসা আদায় করত। প্রথম প্রথম টাকা আসত ইলসা হাজীর বডিগার্ড বায়েজিদ বোস্তামীর হাত হয়ে, ধীরে ধীরে তাও বন্ধ হয়ে গেল। সৈয়দ আলী শূধু ফ্যাল ফ্যাল করে দেখে গেল তার সোমাত্তা মেয়েদের পরিনতি। নছিফাকে তুলে নিতে বর্ষারাতে মুখে গামছা এটে হাজির হল ইলশা হাজীর ছোট ছেলে কেয়ামতউল্লাহ্‌, গোলাক্তার গেল চেয়ারম্যানের দখলে। বছর না ঘুরতেই সৈয়দ আলী লাশ হয়ে বাড়ি ফিরল। ইলশা হাজী আর মারফত চেয়ারম্যানের লোকেরা সৈয়দ আলীর লাশ তড়িঘরি করে কবর দিয়ে হারিয়ে গেল উজানী বিলে। পুলিশ এসে ছমিরন বিবিকে ধরে নিয়ে গেল স্বামী হত্যার অপরাধে।

এখানেই শেষ হতে পারত সৈয়দ আলীর কাহিনী, কিন্তূ তা হতে দেয়নি সৈয়দ আলীর স্ত্রী ছমিরন বিবি। ইলশা হাজীর এমপিগিরি পতনের সাথে সাথে ফেরারী হয়ে পালিয়ে যায় বিদেশে, স্থানীয় জনগণ লুটেপুটে নেয় হাজীর সম্পদ। ছমিরন বিবি বেরিয়ে আসে জেল হতে, তার সাহায্যে এগিয়ে আসে গঞ্জের মানবাধিকার সংস্থা। অনিশ্চিত ভবিষতের দুঃস্বপ্ন হতে উদ্বার করতে এগিয়ে আসে গ্রামীন ব্যংক। নাবালক দুই সন্তান নিয়ে ছমিরন বিবি শুরু করে নতুন এক জীবন, যে জীবনকে ছুতে পারেনি ইলশা হাজী আর মারফত চেয়ারম্যানের মত কুলাংগারের দল এবং তাদের কালো অপবিত্র টাকা। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28955796 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28955796 2009-05-26 05:24:59
আমি কিংবদন্তির কথা বলছিঃ আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল
তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল।

তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন
অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন
পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।

জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কবিতা,
কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা কবিতা।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে।

আমি উচ্চারিত সত্যের মতো
স্বপ্নের কথা বলছি।
উনুনের আগুনে আলোকিত
একটি উজ্জ্বল জানালার কথা বলছি।
আমি আমার মা'য়ের কথা বলছি,
তিনি বলতেন প্রবহমান নদী
যে সাতার জানে না তাকেও ভাসিয়ে রাখে।

যে কবিতা শুনতে জানে না
সে নদীতে ভাসতে পারে না।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে মাছের সঙ্গে খেলা করতে পারে না।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে মা'য়ের কোলে শুয়ে গল্প শুনতে পারে না

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
আমি বিচলিত স্নেহের কথা বলছি
গর্ভবতী বোনের মৃত্যুর কথা বলছি
আমি আমার ভালোবাসার কথা বলছি।
ভালোবাসা দিলে মা মরে যায়
যুদ্ধ আসে ভালোবেসে
মা'য়ের ছেলেরা চলে যায়,
আমি আমার ভাইয়ের কথা বলছি।

যে কবিতা শুনতে জানে না
সে সন্তানের জন্য মরতে পারে না।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে ভালোবেসে যুদ্ধে যেতে পারে না।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে সূর্যকে হৃদপিন্ডে ধরে রাখতে পারে না।

আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
আমি আমার পূর্ব পুরুষের কথা বলছি
তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল
কারণ তিনি ক্রীতদাস ছিলেন।

আমরা কি তা'র মতো কবিতার কথা বলতে পারবো,
আমরা কি তা'র মতো স্বাধীনতার কথা বলতে পারবো!
তিনি মৃত্তিকার গভীরে
কর্ষণের কথা বলতেন
অবগাহিত ক্ষেত্রে
পরিচ্ছন্ন বীজ বপনের কথা বলতেন
সবত্সা গাভীর মত
দুগ্ধবতী শস্যের পরিচর্যার কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।

যে কর্ষণ করে তাঁর প্রতিটি স্বেদবিন্দু কবিতা
কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা কবিতা।

যে কবিতা শুনতে জানে না
শস্যহীন প্রান্তর তাকে পরিহাস করবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে মাতৃস্তন্য থেকে বঞ্চিত হবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে আজন্ম ক্ষুধার্ত থেকে যাবে।

যখন প্রবঞ্চক ভূস্বামীর প্রচন্ড দাবদাহ
আমাদের শস্যকে বিপর্যস্ত করলো
তখন আমরা শ্রাবণের মেঘের মত
যূথবদ্ধ হলাম।
বর্ষণের স্নিগ্ধ প্রলেপে
মৃত মৃত্তিকাকে সঞ্জীবিত করলাম।
বারিসিক্ত ভূমিতে
পরিচ্ছন্ন বীজ বপন করলাম।
সুগঠিত স্বেদবিন্দুর মত
শস্যের সৌকর্য অবলোকন করলাম,
এবং এক অবিশ্বাস্য আঘ্রাণ
আনিঃশ্বাস গ্রহণ করলাম।
তখন বিষসর্প প্রভুগণ
অন্ধকার গহ্বরে প্রবেশ করলো
এবং আমরা ঘন সন্নিবিষ্ট তাম্রলিপির মত
রৌদ্রালোকে উদ্ভাসিত হলাম।
তখন আমরা সমবেত কন্ঠে
কবিতাকে ধারণ করলাম।
দিগন্ত বিদীর্ণ করা বজ্রের উদ্ভাসন কবিতা
রক্তজবার মত প্রতিরোধের উচ্চারণ কবিতা।

যে কবিতা শুনতে জানে না
পরভৃতের গ্লানি তাকে ভূলুন্ঠিত করবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
অভ্যূত্থানের জলোচ্ছ্বাস তাকে নতজানু করবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
পলিমাটির সৌরভ তাকে পরিত্যাগ করবে।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তিনি স্বপ্নের মত সত্য ভাষণের কথা বলতেন
সুপ্রাচীন সংগীতের আশ্চর্য ব্যাপ্তির কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।

যখন কবিকে হত্যা করা হল
তখন আমরা নদী এবং সমুদ্রের মোহনার মত
সৌভ্রত্রে সম্মিলিত হলাম।
প্রজ্জ্বলিত সূর্যের মত অগ্নিগর্ভ হলাম।
ক্ষিপ্রগতি বিদ্যুতের মত
ত্রিভূবন পরিভ্রমণ করলাম।
এবং হিংস্র ঘাতক নতজানু হয়ে
কবিতার কাছে প্রাণভিক্ষা চাইলো।

তখন আমরা দুঃখকে ক্রোধ
এবং ক্রোধকে আনন্দিত করলাম।

নদী এবং সমুদ্রে মোহনার মত
সম্মিলিত কন্ঠস্বর কবিতা
অবদমিত ক্রোধের আনন্দিত উত্সারণ কবিতা।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে তরঙ্গের সৌহার্দ থেকে বঞ্চিত হবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
নিঃসঙ্গ বিষাদ তাকে অভিশপ্ত করবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে মূক ও বধির থেকে যাবে।
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল
আমি একগুচ্ছ রক্তজবার কথা বলছি।

আমি জলোচ্ছ্বাসের মত
অভ্যূত্থানের কথা বলছি
উত্‌ক্ষিপ্ত নক্ষত্রের মত
কমলের চোখের কথা বলছি
প্রস্ফুটিত পুষ্পের মত
সহস্র ক্ষতের কথা বলছি
আমি নিরুদ্দিষ্ট সন্তানের জননীর কথা বলছি
আমি বহ্নমান মৃত্যু
এবং স্বাধীনতার কথা বলছি।

যখন রাজশক্তি আমাদের আঘাত করলো
তখন আমরা প্রাচীণ সংগীতের মত
ঋজু এবং সংহত হলাম।
পর্বত শৃংগের মত
মহাকাশকে স্পর্শ করলাম।
দিকচক্রবালের মত
দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হলাম;
এবং শ্বেত সন্ত্রাসকে
সমূলে উত্পাটিত করলাম।

তখন আমরা নক্ষত্রপুঞ্জের মত
উজ্জ্বল এবং প্রশান্ত হলাম।

উত্‌ক্ষিপ্ত নক্ষত্রের প্রস্ফুটিত ক্ষতচিহ্ন কবিতা
স্পর্ধিত মধ্যাহ্নের আলোকিত উম্মোচন কবিতা।

যে কবিতা শুনতে জানে না
সে নীলিমাকে স্পর্শ করতে পারে না।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে মধ্যাহ্নের প্রত্যয়ে প্রদীপ্ত হতে পারে না।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে সন্ত্রাসের প্রতিহত করতে পারে না।

আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
আমি শ্রমজীবী মানুষের
উদ্বেল অভিযাত্রার কথা বলছি
আদিবাস অরণ্যের
অনার্য সংহতির কথা বলছি
শৃংখলিত বৃক্ষের
উর্দ্ধমুখী অহংকারের কথা বলছি,
আমি অতীত এবং সমকালের কথা বলছি।
শৃংখলিত বৃক্ষের উর্দ্ধমুখী অহংকার কবিতা
আদিবাস অরণ্যের অনার্য সংহতি কবিতা।

যে কবিতা শুনতে জানে না
যূথভ্রষ্ট বিশৃংখলা তাকে বিপর্যস্ত করবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
বিভ্রান্ত অবক্ষয় তাকে দৃষ্টিহীন করবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে আজন্ম হীনমন্য থেকে যাবে।

যখন আমরা নগরীতে প্রবেশ করলাম
তখন চতুর্দিকে ক্ষুধা।
নিঃসঙ্গ মৃত্তিকা শস্যহীন
ফলবতী বৃক্ষরাজি নিস্ফল
এবং ভাসমান ভূখন্ডের মত
ছিন্নমূল মানুষেরা ক্ষুধার্ত।

যখন আমরা নগরীতে প্রবেশ করলাম
তখন আদিগন্ত বিশৃংখলা।
নিরুদ্দিষ্ট সন্তানের জননী শোকসন্তপ্ত
দীর্ঘদেহ পুত্রগণ বিভ্রান্ত
এবং রক্তবর্ণ কমলের মত
বিস্ফোরিত নেত্র দৃষ্টিহীন।
তখন আমরা পূর্বপুরুষকে
স্মরণ করলাম।
প্রপিতামহের বীর গাঁথা
স্মরণ করলাম।
আদিবাসী অরণ্য এবং নতজানু শ্বাপদের কথা
স্মরণ করলাম।

তখন আমরা পর্বতের মত অবিচল
এবং ধ্রুবনক্ষত্রের মত স্থির লক্ষ্য হলাম।

আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
আমি স্থির লক্ষ্য মানুষের
সশস্ত্র অভ্যুত্থানের কথা বলছি
শ্রেণীযুদ্ধের অলিন্দে
ইতিহাসের বিচরণের কথা বলছি
আমি ইতিহাস এবং স্বপ্নের কথা বলছি।

স্বপ্নের মত সত্যভাষণ ইতিহাস
ইতিহাসের আনন্দিত অভিজ্ঞান কবিতা
যে বিনিদ্র সে স্বপ্ন দেখতে পারে না
যে অসুখী সে কবিতা লিখতে পারে না।

যে উদ্গত অংকুরের মত আনন্দিত
সে কবি
যে সত্যের মত স্বপ্নভাবী
সে কবি
যখন মানুষ মানুষকে ভালবাসবে
তখন প্রত্যেকে কবি।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
আমি বিচলিত বর্তমান
এবং অন্তিম সংগ্রামের কথা বলছি।

খন্ডযুদ্ধের বিরতিতে
আমরা ভূমি কর্ষণ করেছি।
হত্যা এবং ঘাতকের সংকীর্ণ ছায়াপথে
পরিচ্ছন্ন বীজ বপন করেছি।
এবং প্রবহমান নদীর সুকুমার দাক্ষিণ্যে
শস্যের পরিচর্যা করছি।

আমাদের মুখাবয়ব অসুন্দর
কারণ বিকৃতির প্রতি ঘৃণা
মানুষকে কুশ্রী করে দ্যায়।
আমাদের কণ্ঠস্বর রূঢ়
কারণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
কণ্ঠকে কর্কশ করে তোলে।
আমাদের পৃষ্ঠদেশে নাক্ষত্রিক ক্ষতচিহ্ন
কারণ উচ্চারিত শব্দ আশ্চর্য বিশ্বাসঘাতক
আমাদেরকে বারবার বধ্যভূমিতে উপনীত করেছে।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
আমার সন্তানেরা
আমি তোমাদের বলছি।
যেদিন প্রতিটি উচ্চারিত শব্দ
সূর্যের মত সত্য হবে
সেই ভবিষ্যতের কথা বলছি,
সেই ভবিষ্যতের কবিতার কথা বলছি।

আমি বিষসর্প প্রভুদের
চির প্রয়াণের কথা বলছি
দ্বন্দ্ব এবং বিরোধের
পরিসমাপ্তির কথা বলছি
সুতীব্র ঘৃণার
চূড়ান্ত অবসানের কথা বলছি।

আমি সুপুরুষ ভালবাসার
সুকণ্ঠ সংগীতের কথা বলছি।

যে কর্ষণ করে
শস্যের সম্ভার তাকে সমৃদ্ধ করবে।
যে মত্স্য লালন করে
প্রবহমান নদী তাকে পুরস্কৃত করবে।
যে গাভীর পরিচর্যা করে
জননীর আশীর্বাদ তাকে দীর্ঘায়ু করবে।
যে লৌহখন্ডকে প্রজ্জ্বলিত করে
ইস্পাতের তরবারি তাকে সশস্ত্র করবে।
দীর্ঘদেহ পুত্রগণ
আমি তোমাদের বলছি।
আমি আমার মায়ের কথা বলছি
বোনের মৃত্যুর কথা বলছি
ভাইয়ের যুদ্ধের কথা বলছি
আমি আমার ভালবাসার কথা বলছি।
আমি কবি এবং কবিতার কথা বলছি।

সশস্ত্র সুন্দরের অনিবার্য অভ্যুত্থান কবিতা
সুপুরুষ ভালবাসার সুকণ্ঠ সংগীত কবিতা
জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি মুক্ত শব্দ কবিতা
রক্তজবার মতো প্রতিরোধের উচ্চারণ কবিতা।

আমরা কি তাঁর মত কবিতার কথা বলতে পারবো
আমরা কি তাঁর মত স্বাধীনতার কথা বলতে পারবো।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28955330 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28955330 2009-05-25 07:30:11
আশ্রম মামা সচেতনতা পোষ্টঃ মোবাইল ফোনের ফাঁদ থেকে তরুণীরা সাবধান!
বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. এমএ মোহিত কামাল বলেন, মোবাইল ফোনে স্কুল-কলেজ পড়ণ্ডয়া কিশোরী কিংবা তরুণী কন্যা ও তরুণ-যুবক পুত্র ঘণ্টার পর ঘণ্টা কার সঙ্গে কথা বলছে তা অভিভাবকরা দেখে না দেখার ভান করেন। আবার কোন কোন অভিভাবক বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। কোন কোন পরিবারে ফোনে কথা বলা ফ্যাশন। লেখাপড়া বাদ দিয়ে তার সন্তান ঘণ্টার পর ঘণ্টা কার সাথে কথা বলছে তা অভিভাবকেরই যাচাই করা দায়িত্ব। তিনি বলেন, এই ধরনের যৌন নিপীড়নের ঘটনা সামাজিক অপরাধ। এক্ষেত্রে থানা পুলিশের কিছুই করার নেই, অভিভাবকদেরই মূল দায়িত্ব। তার কাছে প্রতিদিন এমন প্রতারণার শিকার ৩ থেকে ৫ জন তরুণী চিকিৎসার জন্য আসে বলে জানান। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, রাজধানী ও আশপাশে মোবাইল ফোনের ফাঁদে পড়ে প্রতিমাসে শতাধিক কিশোরী-তরুণী যৌন নিপীড়নের শিকার হয়।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্রীরা বেশি মোবাইল ফোনে প্রেমের ফাঁদে পড়ে। বখাটে তরুণ-যুবকরা ঐ সকল ছাত্রীর মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধু-বান্ধব ও বিভিন্ন কায়দায় সংগ্রহ করে। ফ্লেক্সিলোডের দোকান থেকেও এক শ্রেণীর তরুণ-যুবক তরুণীদের মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে।

এসব বখাটে তরুণ-যুবক মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। মোবাইল নম্বর সংগ্রহ শেষে তারা প্রথমে কুশল বিনিময় করে। এরপর নানা ধরনের মিষ্টি কথা বলে উভয়ের মধ্যে কথা বলার সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর নানা অভিনয়-কৌশলে পার্কে কিংবা রেস্টুরেন্টে এসে সাক্ষাৎ শুরু করে। এক পর্যায়ে তরুণী তরুণের প্রেমে পড়ে যায়। তাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক শুরু হয়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তরুণ কিংবা যুবক তরুণীর সঙ্গে দৈহিক মেলামেশার চিত্রটি ভিডিওতে ধারণ করে। কোন কোন তরুণী রাজী না হলে ভিডিও চিত্র তরুণীকে দেখায়। এরপর এক প্রকার বাধ্য করে দৈহিক মেলামেশা করতে। তরুণ দিনের পর দিন তরুণীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক চালিয়ে যায়। এই কায়দায় তরুণীরা মোবাইল ফোনে প্রেমের ফাঁদে পড়ে যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। এইসব মোবাইল ভিডিও নানা ধরণের দেশী পর্ণো সাইটে আপলোডও হচ্ছে।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তারা এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি উত্তর জোন) মাইনুল হাসান বলেন, প্রায়ই এই ধরনের অভিযোগ তারা পেয়ে থাকেন। তদন্ত কাজে পরিবারের সামাজিক অবস্থানের কথা বিবেচনা করে অভিভাবকরা সহযোগিতা করেন না। অভিযুক্ত তরুণ-যুবকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে অভিভাবকদেরকে তিনি সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। এক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত তরুণী ও তার পরিবারের পরিচয় গোপন রাখা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28953589 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28953589 2009-05-21 09:03:43
মনপুরা ছবির ডাউনলোড লিংক


কিন্তু বিধি বাম, পেলাম নাই।

তাই নেটেই ভরসা। অনেক খোজাখুজি করে অবশেষে...

তাও পেলাম না <img src=" style="border:0;" />

কারো কাছে থাকলে কি শেয়ার করবেন?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28953075 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28953075 2009-05-20 02:39:20
সাহায্য চাইঃ গুগুল আর্থ প্রো http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28952610 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28952610 2009-05-19 02:37:22 অবিবাহিতা মায়ের সংখ্যা বেড়ে চলায় যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ
'যুক্তরাষ্ট্রে অবিবাহিত অবস্থায় সন্তান জন্মের পরিবর্তিত রূপরেখা' শিরোনামের বুধবার প্রকাশিত এক সরকারি সমীক্ষায় বলা হয়েছে ২০০৭ সাল থেকে জন্ম নেওয়া ১০টি শিশুর মধ্যে ৪টিরই জন্ম দিয়েছে অবিবাহিত মায়েরা। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) এ সমীক্ষা চালিয়েছে।

১৯৭০ এর দশক পর্যন্ত মার্কিন নীতিনির্ধারক ও সমাজবিজ্ঞানীরা টিনএজারদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান গর্ভবতী হয়ে পড়ার হারে চিন্তিত ছিলেন যাদের বেশিরভাগই ছিলো অবিবাহিত। কিন্তু সা¤প্রতিক বছরগুলোতে বিশ ও তিরিশের কোঠার অবিবাহিতা নারীদের মধ্যে মা হওয়ার হার বেড়ে চলাটা তাদের ভাবিত করছে। ৩০ থেকে ৩৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ২০০২ সাল থেকে এই হার বেড়েছে ৩৪ শতাংশ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28951253 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28951253 2009-05-15 21:37:40
ইংরেজি ও আরবি
: এটার ইংরেজি পারি না স্যার। আরবিটা পারি।
: আরবিটা পার!!? ঠিক আছে বল।
: ইন্নালিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন!!

সামহোয়ার ব্লগ তাদের সার্ভার ভাড়া দিয়েছে অন্য একটা কোম্পানীকে।

তাদের জায়গা আছে দিতেই পারে।

তারা ইউজারদের নিক, পাস এবং প্রোফাইল তথ্য সহ ডাটাবেস "হোস্টেড সার্ভিস হবার" সুবাদে কম্পজগৎ এর সাথে চুক্তির বিনিময়ে শেয়ার করা হয়েছে!!

ইন্নালিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন

কে কে ফেসবুকের থেকে হোস্টেড একাউন্ট কিনতে চান হাত তোলেন, আমি টাকা জমাইতেছি। সেখান থেকে সাইট হোস্টিং করে সব ইউজার নেম/পাস আর প্রফাইল তথ্য নিয়া নেমু।

এরপর ব্যবসাই ব্যাবসা!!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28950966 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28950966 2009-05-15 01:57:28
অপরাধ এবং শাস্তিঃ ক্রসফায়ার

ক্রসফায়ার, যার সহজ বাংলা অনুবাদ আটক আসামীকে বিনা বিচারে গিলোটিনে পাঠানো। বাংলাদেশের শহর গঞ্জে রাস্তার অনেক ছিচকে ছিনতাইকারীকে গনপিটুনী দিয়ে মেরে ফেলতে দেখা যায়। হত্যাকান্ড বাস্তবায়নকারী এবং এর দর্শকরাও মহা-উল্লাসে এই পৈচাশিকতায় অংশ নেয় অথবা স্বাগত জানায়। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের honor killing'এর মত এই খুন সমাজে এক ধরনের নীরব সমর্থন আদায় করে নেয় এর আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার কারনে। ধরে নেই ছিনতাইকারীকে হত্যা না করে পুলিশে দেয়া হল, এবং যারা ছিনতাইয়ের শিকার তারা আশা করল অপরাধীকে আইনের আওতায় শাস্তি দিয়ে ভবিষতে এ ধরনের অপরাধের রাস্তা বন্ধ করা হবে। এ বিশ্বাসটুকু আমাদের সমাজে অনুপুস্থিত বলেই সাধারন মানুষ আইন হাতে তুলে নিতে দ্বিধা করেনা।

এবার আসুন ছিনতাইকারীর পিছু নিয়ে তার গ্রেফাতারাবস্থায় ভাগ্যের একটা ছবি আকি। পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যাবে অপরাধীকে, হাজতে ঠেলে দেয়ার আগে হাজতীর পকেট হাতড়ে সবকিছু গলধকরন করবে পুলিশ বাহিনী যার একটা অংশ যাবে Officer-In-Command'এর পকেটে। এরপর দৃশ্যে আসবে পুলিশের সোর্স, যার দায়িত্ব হাজতীর আত্মীয়-স্বজন খুজে বের করে তাকে জামিনের ব্যবস্থা করা। এখানেই শুরু হবে নাটকের মূল অংক। এই অংকের নেতা-অভিনেতারা হবেন পুলিশ, ছাত্রনেতা, দলনেতা, পৌরসভার মেম্বার/চেয়ারম্যান, এমপি সহ আরও অনেকে। লেনাদেনায় বুঝাপড়া না হলে আসামীকে হাজত হতে চালান করা হবে জেলে। এবার বিচারের তৃতীয় পর্ব। উকিল, মোক্তার, পেশকার, বিচারক সহ গোটা দশেক পকেট উন্মুখ হয়ে থাকে এ ধরনের চালানের আশায়।

মেজিষ্ট্রেট কোর্টে তখনই কেস শুনানির জন্যে উঠে যখন লেনদেনের ব্যাপারে একটা সূরাহা হয়। সাধারনত এ ধরনের ছিনতাইকারীরা তাদের পরিবারের সর্বশেষ পয়সাটা খরচ করে ১ম, ২য় এবং ৩য় অংকের সব নেতা, অভিনেতা এবং ভিলেনদের সন্তূষ্ট করে বেরিয়ে আসে আইনের হাত হতে। বলার অপেক্ষা রাখেনা এর পরের দৃশ্য; বেচারাকে আবারও ফিরে যেতে হয় সেই পুরানো ধান্ধায়। অতীতে যারা ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিল তারাও অবাক হয়না পুরানো মূখকে আগের জায়গায় দেখে। কারন তাদেরও জানা আছে কোন সমীকরন সমাধান শেষে তাকে ফিরতে হয়েছে পুরানো ব্যবসায়। এ ভাবেই শুরু। মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠে যখন এই অপরাধীর দল রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ছিনাতাই ছাড়াও হাত বাড়ায় চাদাবাজি, খুন, ধর্ষনের মত আরও ঘোরতর অন্যায় কাজে। জমতে থাকে অপরাধীর পাপ, পাশাপাশি বাড়তে থাকে অনেকের আয়-রোজগার। একটা সময় আসে যখন মানুষের ধৈর্যের বাধ ভেঙ্গে যায়, থানা-পুলিশ, আইন-আদালত এবং প্রশাষন সহ সবার উপর হতে বিশ্বাষ উঠে যায়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় নাটকের শেষ অংক। এই অধ্যায়ের অভিনেতা শুধু দুই পক্ষ, ছিনতাইকারী নিজে এবং তার শিকার। মুগুরের আঘাতে মাথা থেতলে যায় অনেক অপরাধীর। তার মৃত্যুতে শোক দূরে থাক অনেকে মিষ্টি বিতরন করে উল্লাশ করে।

ছোট এই ছিনতাইকারী হতে দৃশ্যপট যদি আমরা রাষ্ট্রীয় পর্য্যায়ে নিয়ে যাই ফলাফল হবে একই। থানা-পুলিশ হয়ে এবার পকেট ভরবে হাইকোর্ট-সুপ্রিমকোর্টের উকিল, মোক্তার, পেশকার আর বিচারকের দল। রাজনীতির অনেক রাঘব বোয়াল অপরাধের এই জটিল সমীকরন হতে হাতড়ে নেয় বিরাট অংকের টাকা। অপরাধীর অপরাধের মাত্রা চলে যায় মাটি হতে আকাশে। ব্যবসা, বানিজ্য হতে শুরু করে সমাজের সবকিছু হয় লন্ডভন্ড। ভিকটিম হয় নীরিহ মানুষ, মা, ভাই-বোন...। এবারে জনগনের বদলে র‌্যাব থেতলে দেয় অপরাধীর মাথা।

অনৈতিক হত্যা সহ সমাজের স্বাভাবিক জীবন লন্ডভন্ড করায় জানিনা আপনারা কাকে দায়ী করবেন, আমার আদালতে আসামী হবে আমাদের অসূস্থ, অক্ষম রাজনীতি এবং এর অসৎ খেলোয়াড়বৃন্ধ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28950352 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28950352 2009-05-13 22:00:58
মোবাইলকে না বলে ফোনে কথা বলুন: ল্যান্ডফোনের কলরেট আরও কমছে


আগামী ২১ জুন থেকে বিটিসিএলের কলরেট (Local & NWD call) ২৫ পয়সা/মিনিট হচ্ছে। এছাড়া প্রত্যেক অঞ্চলের গ্রাহকদের জন্য ছাড়া হবে বিশেষ প্যাকেজ।

সুতরাং বিদেশী ডাকাত মোবাইল কোম্পানী গুলো কে না বলুন।

দেশী ফোনে কথা বলুন, দেশের টাকা দেশে রাখুন।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28949575 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28949575 2009-05-12 08:34:39
৪ মাসে ৩য় বারের মতো পদোন্নতি!!!

মহাজোট সরকারের চার মাসের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো পদোন্নতি পেলেন জনপ্রশাসনের যুগ্ম-সচিব আবু আলম শহীদ খান। সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের এক ঘোষণায় তাকে অতিরিক্ত সচিব করা হয়েছে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় পদোন্নতিবঞ্চিত বলে পরিচিত এ কর্মকর্তাকে বৃহস্পতিবার এ পদোন্নতি দেওয়া হয়।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগে পর্যন্ত তিনি সিনিয়র সহকারী সচিব পদে কর্মরত ছিলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের এর আগের আমলে আবু আলম শহীদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

(ছবিটা ফিফার সৌজন্যে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28948505 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28948505 2009-05-09 19:42:25
০ দানবাক্স বাণিজ্য ০ প্রতিদিন আয় ২ লক্ষাধিক টাকা

দানবাক্স। মসজিদ, মাজার, পীর, মাদ্রাসার নামে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে হাজার হাজার দানবাক্স। সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা না গেলেও ঢাকায় এর সংখ্যা কমপক্ষে পাঁচ হাজার বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। দানবাক্সের বেশিরভাগই রাজধানী ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় অবস্থিত মসজিদ ও মাজারের। লাল ও কালো রং এর ছোট গোল এবং চৌকোনাবিশিষ্ট এসব দানবাক্সে প্রতিদিন গড়ে আড়াই লাখ টাকা জমা পড়ে বলে আদায়কারীদের দেয়া তথ্য সমন্বয় করে জানা যায়। মাজার, মসজিদ, মাদ্রাসার নামে কিছু কিছু দানবাক্স থাকলেও মূলত মাজার ও পীরের নামে থাকা দানবাক্সের সংখ্যাই বেশি।

সরেজমিন তেজগাঁও, পল্টন, মতিঝিল, মোহাম্মদপুর এলাকায় গিয়ে জানা যায়, তেজগাঁওয়ের কলমিলতা বাজারের চালের আড়তের পাশেই ইয়ার উদ্দিন (রঃ) পীর সাহেবের দানবাক্স। কলমিলতা বাজারের ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন ব্যবসা শুরুর আগে এ দানবাক্সে দান করেই ব্যবসার কাজ শুরু করেন। বাজারের ব্যবসায়ীদের দানের পরিমাণ প্রতিদিন পাঁচ টাকা থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এক ধরনের বিশ্বাস থেকে তারা প্রতিদিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দরজা খোলার আগে দান করেন। তাদের বিশ্বাস, এই সামান্য দানে ব্যবসায় ভাল লাভ হয়। ব্যবসায়ীরা বিশ্বাস করেন, ইয়ার উদ্দীনের দানবাক্সে দান করলে পীর সাহেব কবর থেকে ব্যবসায় উন্নতির জন্য দোয়া করবেন।

কলমিলতা বাজার ছাড়াও সরেজমিন নগরীর বিভিন্ন কাঁচা বাজার, চালের আড়ত, পীরের মাজার, অধিকাংশ মাদ্রাসা ও মসজিদের প্রবেশ পথগুলোতে দেখা যায় দানবাক্স। আবার নগরীর কোনো কোনো এলাকায় এবং বড় বড় বাজারে টিনের তৈরি ছোট ও মাঝারি সাইজের দান বাক্সের দেখা পাওয়া যায়। এসব দানবাক্সের বেশিরভাগই কোনো না কোনো পীরের নামে বসানো হয়েছে। দানবাক্সের গায়েই পীরদের নাম লেখা থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা শহরে যেসব পীরের নামে দানবাক্স খোলা হয়েছে এদের মধ্যে ইয়ার উদ্দিন (রঃ), চন্দ্রপাড়া (রঃ), শাহবাবা ফরিদপুরী (রঃ), শর্র্ষীনা পীর (রঃ) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ পীরদের কথিত কিছু খাদেম নামধারী সহযোগী দানবাক্স প্রথা চালু করেছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায় উন্নতির জন্য পীরের দোয়া কামনায় এ দানবাক্সগুলো নিজ উদ্যোগেই দেখাশুনা করছেন নগরীতে বসবাসরত দেশের উপকূলবর্তী জেলার নদীভাঙ্গনকবলিত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। পীরের প্রতি ভক্তি, শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে তারা এসব করছেন। যদিও ইসলাম ধর্ম কখনো মাজার সংস্কৃতিকে অনুমোদন করে না, তারপরও ধর্মকে পুঁজি করে আর সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর ধর্ম ব্যবসায়ী সাধারণ মানুষের পকেট থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। জানা যায়, ঘর থেকে বের হওয়া খেটে খাওয়া মানুষ প্রতিদিন বাজার শেষে পাঁচ টাকা থেকে শুরু করে যে যার মতো করে আল্লাহর ওয়াস্তে দানবাক্সে টাকা ফেলে যান।

দানবাক্সে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা উঠলেও এ টাকার সিংহভাগই যায় কথিত খাদেমদের পকেটে। দানবাক্সে উঠা এসব টাকায় পীরের মাজার উন্নয়নে ব্যবহারের নজির খুবই কম। সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর তেজগাঁও রেল স্টেশন, কারওয়ান বাজার কাঁচাবাজার এলাকায় বেশকিছু দানবাক্স রয়েছে। এসব দানবাক্স পরিচালনাকারীরা বরিশাল গ্রুপ, ফরিদপুর গ্রুপ, কুমিল্লা গ্রুপ বলে পরিচিত। এ এলাকায় যারা দানবাক্স চালু করেছে, তারা সবাই নিম্ন আয়ের মানুষ হিসেবে ব্যবসা শুরু করলেও অনেকেই এখন মহাজন বা আড়তদার হয়েছে। নগর জুড়ে এসব দানবাক্স বসিয়ে রীতিমতো বাণিজ্য চলছে। আর এখান থেকেই মাস শেষে আয় হচ্ছে কোটি টাকা। মানুষের পকেট খালি করে নেয়া দানবাক্সের টাকা থেকে সরকারও কোনো রকম লাভবান হচ্ছে না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, তেজগাঁও এলাকা ছাড়া রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায়ও বেশকিছু দানবাক্স রয়েছে। এ এলাকায় দানবাক্সের সংখ্যা হবে ৮০টির মতো। এরমধ্যে দারুল কোরআন জামেয়া-এ মোহাম্মদীয়া (দঃ) দানবাক্স, মির্জাগঞ্জের ইয়ার উদ্দিন (রাঃ) দানবাক্স এবং পাঁচ বাড়ি, হাজী বাড়ি জামে মসজিদের দানবাক্স উল্লেখযোগ্য। মজার বিষয় হচ্ছে, যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাতে দানবাক্স বাণিজ্য বসেছে তার কোনোটিই ঢাকার নয়। বাইরের বিভিন্ন জেলা ও গ্রামাঞ্চলের প্রতিষ্ঠান এগুলো। অথচ টাকা তোলা হচ্ছে রাজধানী থেকে। চাঁদপুরের মুন্সিরহাট বাজারের পাঁচ বাড়ি, হাজী বাড়ি জামে মসজিদের টাকা তোলেন গিয়াস উদ্দিন। পুরানা পল্টন কারী রেস্তোরাঁর সামনে দানবাক্সের দায়িত্বে নিয়োজিত গিয়াস উদ্দিনের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, এটি তাদের পারিবারিক মসজিদ। তারা বংশ পরম্পরায় এই মসজিদের টাকা তুলে আসছেন। তাদের মসজিদের সেক্রেটারি জলিল মাস্টার তার চাচা। দানবাক্স এবং মানি রিসিটের মাধ্যমে তারা টাকা উঠান। আয়কর দেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ধর্মের কাজে সংগৃহীত টাকার কোনো আয়কর দিতে হয় না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভোলার ইলিশা দারুল মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং দানবাক্সের টাকা তোলেন মোহাম্মদপুরের জহুরী মহল্লার দারুল জান্নাত জামে মসজিদের ইমাম রুহুল আমিন। তার নামেই চলে এ দানবাক্স। অবশ্য মসজিদে গিয়ে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। জানা যায়, বর্তমানে তিনি ইমাম হিসেবে কাজ করেন না। তবে তার একটি খতিব চেম্বার ও দাওয়াইখানা রয়েছে। খতিব চেম্বারে বসে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, ঢাকায় তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক থেকে দেড়শ’ দানবাক্স রয়েছে। এরমধ্যে পল্টন, মতিঝিল, উত্তরা, মোহাম্মদপুরেই রয়েছে প্রায় ২১০টির মতো। সংগৃহীত এই টাকার কোনো ধরনের রাজস্ব দিতে হয় না বলে জানান তিনি।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মির্জাগঞ্জ মরহুম ইয়ার উদ্দিন খলিফা (রঃ) ওয়াকফ স্টেট কমিটির সভাপতি মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান মোবাইলে জানান, ‘ইয়ার উদ্দিন খলিফা (রঃ) মাজারের দানবক্সের টাকা সংগ্রহের জন্য সারাদেশে ৯২ জন লোক নিয়োগ করা আছে। সব মিলিয়ে মাসে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার মতো আসে। এ টাকা মাজার ও এতিমখানার কাজে ব্যয় করা হয়।’

সংশ্লিষ্ট খাদেম জিন্নাত আলী মল্লিক জানান, ‘যারা আমাদের দানবক্সে টাকা তুলেন তাদেরকে আমরা ২৫% কমিশন দেই। তারা সবাই পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের লোক।’]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28946120 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28946120 2009-05-04 10:40:50
পারমাণবিক বিদ্যুৎ : চিন্তা বিলাস নাকি বাস্তবতা?
আমাদের দেশে বিদ্যুৎ শক্তি তৈরীর প্রধান উৎসগুলো হলো, প্রাকৃতিক গ্যাস, পানি, তেল ও কয়লা। প্রাকৃতিক গ্যাস, যার অধিকাংশই সাম্রাজ্যবাদী কিছু কোম্পানীর কাছে দায়বদ্ধ। তারা পূর্বের সরকারগুলোকে গ্যাসের মজুদ ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখিয়েছিল, শুধুমাত্র অত্যাধিক পরিমানে আহরণ, বিক্রি ও বিদেশে রপ্তানীর পরিকল্পনা করে অল্পসময়ে প্রচুর মুনাফা লাভের আশায়। আমাদের কি ক্ষতি হবে তাতে তাদের কোন মাথাব্যাথা থাকার কথা নয়। এজন্যেই তারা কর্পোরেট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বাপেক্সকে সুপরিকল্পিত ভাবে পঙ্গু করে রেখে।

গ্যাসের বাজার ভ্যালু কম হওয়ায় এটা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা এবং বড় আকারে তার জন্যে প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলো গ্যাসের ব্যবহারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে অদূরদর্শী ও অদক্ষ কাজগুলির মধ্যে অন্যতম। এখন সেইসব কয়েকশ কোটি টাকার প্ল্যান্টগুলো গ্যাসের অভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। আসলে গ্যাস নিজেই একটি শক্তি। তাকে রুপান্তর করে অন্য শক্তিতে নেওয়ার প্রয়োজন কি? গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়া মানে সারের দাম তথা চাউল সহ সকল শস্যের দাম কি পরিমান বাড়বে, সেটা কল্পনা করতেও ভয় হয়। গ্যাস শেষ হওয়া মানে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেখা দিবে স্থবিরতা। যার আলামত আমরা পেতে শুরু করেছি। এজন্যে আমাদেরকে অনেক আগেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল। অন্য যে উৎস্যগুলো রয়েছে তা হলো পরমাণু বিদ্যুত, বায়ুকলচালিত বিদ্যুৎ, সৌরবিদ্যুৎ ও বায়োডিজেল। পরমাণু বিদ্যুৎ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রগুলো এখনো সম্পুর্ণ সমাধান নয়। তাছাড়া সৌরবিদ্যুৎ খুবই ব্যয়বহুল ও আমাদের মতন বর্ধিষ্ণু কিন্তু দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য অপর্যাপ্ত। তাই আমাদের সামনে ক্রমবর্ধমান বিপুল চাহিদার প্রেক্ষিতে এখন একটিই পথ খোলা আছে, আর তা হল পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন।

প্রশ্ন উঠতে পারে এটাতো ব্যয়বহুল এবং এত বৃহৎ ও কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ প্ল্যান্ট আমরা কি চালাতে পারবো? অবশ্যই পারবো। আমাদের ভালো ভালো সুদক্ষ প্রকৌশলীরা বিদেশে গিয়ে তাদের গবেষণা ও পেশাগত সাফল্য দেখাচ্ছে। তাতে পৃথিবীর বহুদেশের মানুষ উপকৃত হচ্ছে আমাদের মেধাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে। সুতরাং উঁচুমানের ট্রেনিং দিয়ে নিয়ে আসলে তাদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেনা। শুধু প্রয়োজন আমাদের কৃচ্ছতা সাধনের মানসিকতা তৈরী। সমস্ত সরকারী-বেসরকারী অপ্রয়োজনীয় অনুষ্ঠান আর দিবস পালনের নামে শতকোটি টাকা ব্যয় কমাতে হবে। প্যারেড গ্রাউন্ডের ওপর দিয়ে ডগ-ফাইট দেখার জন্য মিগ-২৯ বিমান কেনা বন্ধ করতে হবে।

একটি অতি প্রয়োজনীয় সেক্টরে টাকা বিনিয়োগে সমস্যা কোথায়? এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে তৃণমূল পর্যায়ে বিদ্যুৎ পৌছে দেয়ার জন্য যতদ্রুত সম্ভব পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প একান্ত জরুরী। কারন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকে প্ল্যান্টের ফিজিবিলিটি টেস্ট, প্রসেস লাইসেন্সিং, ভ্যান্ডরদের মেশিনারীজ সাপ্লাই ও কমিশনিং স্টার্টআপ করতেই ৩-৪ বছর লেগে যায়। এছাড়া দেশের বৃহৎ শিল্পায়নে কোন ভোল্টেজ ফ্ল্যাকচুয়েশন ছাড়া নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুত সরবরাহের জন্য পারমানবিক শক্তি অপরিহার্য। এপ্রসঙ্গে বলা যেতে পারে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে জনসংখ্যার তুলনায় রয়েছে বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ ও বিপুল বৈভব। যা বাংলাদেশে অনুপস্থিত ও চিত্রটা ঠিক এর উল্টো। তাই আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশে পারমাণবিক প্রযুক্তি গ্রহণ করে বিদ্যুত উৎপাদন বেশী জরুরী, যতটা না তাদের। খুব অল্পসময়ে তেল, গ্যাস ও পাথুরে কয়লা প্রভৃতি ফসিল জ্বালানী শেষ হয়ে যাবে। তাই আমাদের এই স্বল্প সম্পদের ব্যবহারকে করতে হবে ন্যুনতম ও সর্বোত্তম পদ্ধতিতে।

পারমানবিক বর্জ্যের কি হবে? সেটার জন্য রয়েছে কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা যারা পারমানবিক বর্জ্য ট্রিটমেন্ট করে। আবার এটাও আশঙ্কা করা স্বাভাবিক, চেরনোবিলের মত দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কতটুকু? আসলে প্রযুক্তি এই গত দু'দশকে অনেক এগিয়েছে। এখন ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়ামের ফুয়েল রডের স্থলে পিবল বেড রিএ্যাক্টর ব্যবহার করা হয় যা প্রায় একশত ভাগ নিরাপদ। তাছাড়া এটা নিয়ে আমাদের অত ভয় নেই। কেননা আমরা নিউক্লিয়ার জ্বালানী পরিশোধন বা উৎপাদনের কোন কৌশল হস্তগত করতে চাইছিনা। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যে জ্বালানী ব্যবহৃত হয় তা দিয়ে কোন ভাবেই ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র বা ঐ গ্রেডের জ্বালানী প্রস্তুত সম্ভব নয়। তাই এদিক থেকে আমরা সম্পূর্ণ নিরাপদ।

আনন্দের কথা, বাংলাদেশ খুব ধীরে ধীরে হলেও পরমাণু বিদুৎ কেন্দ্র স্থাপনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর জন্যে নতুন আইন হচ্ছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু কনভেনশনে স্বাক্ষর করবে বাংলাদেশ। হবে। গত বছর জুন মাসে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দেয়। ২০৫০ সাল পর্যন্ত ৮টি উন্নয়নশীল দেশকে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে জাতিসংঘ, তার মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম। বর্তমানে রাশিয়া, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন বাংলাদেশকে আর্থিক ও কারিগরী সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছে। উচ্চ পর্যায়ে কথাবার্তা চলছে, বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে ১০০০ মেগাওয়াট সম্পন্ন ২ টি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের। প্রচলিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তুলনায় পরমানু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে দেড়গুন বেশি খরচ হয়। তাই বর্তমানে এটি কোন কল্পনা-বিলাস নয়। বর্তমান ও ভবিষ্যতের যেকোন উন্নয়নের জন্যে এখন এটি বাস্তবতা। তর্ক-বিতর্ক থাকবেই। কিন্তু এর মধ্যে থেকেই এগিয়ে যেতে হবে সোনালী ভবিষ্যতের দিকে। কিন্তু পাবনার রূপপুরের পরমাণু প্রকল্পের মত কোন অদৃশ্য হাতের কারসাজিতে এ উদ্যোগ যেন আবারো ব্যর্থ না হয়। আমাদের আশা বাংলাদেশ সফল হবে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28938353 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28938353 2009-04-15 11:51:26
ডিজিকে মারা হয়েছে? শাবাশ! ওকে! ওয়েলডান













নিহত এক সেনা কর্মকর্তার চুরি বা লুট করে নেয়া মোবাইল ফোনে দুই বিডিআর জওয়ানের কথোপকথনের একটি টেপ পাওয়া গেছে। ১২ জন সেনা কর্মকর্তার মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। চলছে অন্য মোবাইলগুলোও উদ্ধারের চেষ্টা। সব কর্মকর্তার মোবাইল নম্বর ও সেট নম্বর দিয়ে ট্র্যাক করার চেষ্টা করছে র‌্যাব। সূত্র জানায়, বিডিআরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এলাহীর মোবাইলে ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টায় একজন বিডিআর জওয়ান অনেক কথা বলেছে বিদ্রোহী অপর জওয়ানের সঙ্গে। এর মধ্যে একজন সিপাহি রমজান। দুই জওয়ান মোবাইলে কথা বলার সময় একজন জানতে চেয়েছে, ডিজিকে কি মারা হয়েছে? অন্য জওয়ান বলেছে, ডিজিকে মারা হয়েছে। অপর দিক থেকে বলা হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে এটা নিশ্চিত করার জন্য টেকনিক অবলম্বন করেছিল? উত্তর এসেছে, সবই করা হয়েছে। ডিজি শেষ। আর নাই। অপর জওয়ান তখন বলেছে, শাবাশ শাবাশ! ওকে! ওয়েলডান, চালিয়ে যাও।

প্রায় আট ঘণ্টার ওই টেপে দেখা যায়, জওয়ানরা হই-হুল্লোড় করছে। উল্লাস করছে। আর ক্ষণে ক্ষণে খবর নিচ্ছে কোন কোন অফিসারদের মারা হয়েছে। কর্নেল এলাহীর মোবাইল ফোনে ফোন করেছিলেন রংপুরের একজন ব্রিগেড কমান্ডার। তখন ওই মোবাইল বেহাত হয়ে চলে গেছে সিপাহি রমজানের কাছে। ওই জওয়ান ফোন কলটি ইচ্ছা করেই রিসিভ করেনি। লাইনটি কেটে দিতে গিয়ে রিসিভ বাটনে টিপ পড়ে যায়। ফোন আধঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। ওই আট ঘণ্টার কথোপকথন রেকর্ড করা ছাড়াও ওই সময়ে ওই ব্রিগেড কমান্ডার সংশ্লিষ্টদের খবর দিলে পরে কর্নেল এলাহীর মোবাইল ফোনের কথোপকথন রেকর্ড করা হয়। ফোনের কথোপকথন থেকে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছে সাবেক ডিজি জেনারেল শাকিলকে ১১টার মধ্যেই মেরে ফেলা হয়েছে। বিদ্রোহীদের কাছে অনেক মোবাইল ছিল। তারা মোবাইল ফোনে হত্যার নির্দেশ দিয়েছে। সূত্র জানায়, জওয়ানরা ঢাকায় বিদ্রোহ শুরু করার পরপরই বিভিন্ন সেক্টর ও ব্যাটালিয়নে বিদ্রোহ করার জন্য বার্তা পাঠিয়েছে। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন সেক্টর ও ব্যাটালিয়নে বিদ্রোহ শুরু হয় মুহূর্তের মধ্যে। বিদ্রোহের দু’দিন ও পরে বিভিন্ন মোবাইল ফোনের কললিস্ট ধরে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। বিডিআর বিদ্রোহে সহযোগিতা করেছেন এমন কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম পাওয়া গেছে। ওই তালিকায় বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছে। সূত্র আরও জানায়, একজন জওয়ান বিদ্রোহ শেষ করে অস্ত্র নিয়ে পালিয়ে গেছে। সে তার মোবাইল ফোনে কথা বলেছে অন্য জওয়ানের সঙ্গে। ওই অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছে সে। তার মতো আরও অনেক জওয়ানই অস্ত্র নিয়ে পালিয়ে গেছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28936487 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28936487 2009-04-11 07:31:42
ছাত্রলীগের উপর হতে অন্যায় এবং অবৈধ চাপ তুলে নেয়া হোক


দলীয় হাইকম্যান্ডের সূরে সূর মিলিয়ে কেন্দ্রীয় নেন্ত্রীবৃন্দ, বুদ্বিজীবি, সাংবাদিক সহ আওয়ামী ঘরনার সব অংশ হতে অংগ সংগঠন ছাত্রলীগকে বলি করা হচ্ছে চাদাবাজির ফিকির তুলে। লক্ষ্যনীয়, নেত্রী মুখ খোলার আগে এই তোতা পাখির দল যেন কিছুই দেখেনি, কিছুই বুঝেনি। অবাক হবনা যদি কোন এক সকালে পত্রিকা খূলে দেখি আওয়ামী আইনজীবি সমিতি ছাত্রলীগের কথিত অপকর্মের বিরুদ্বে সোচ্চার হওয়ার জন্যে নেত্রীকে "Angel of Salvation" উপাধি দিয়ে তৈলমর্দন শুরু করে দিয়েছে! ছাত্রলীগের বিরুদ্বে এহেন বিশেষদ্গার অবৈধ, অন্যায় এবং দেশীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে hippocratic. ব্যপারটা খোলাসা করার জন্যে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ঝুলি হতে একটা উদাহরন টানছি।

আমাদের জেলা শহরে তখন ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশ ঘটছে হু হু করে, চারদিকে হৈহৈ রৈরৈ কারবার। পরিকল্পনাহীন এবং কাঠামোগত সাপোর্ট ছাড়াই যত্রতত্র গড়ে উঠছে শিল্প-কারখানা। বার বার তাগাদা এবং বিপুল অংকের টাকা ঘুষ দেয়া সত্বেও বর্জ্য পদার্থ নিস্কাসনের কোন ব্যবস্থা নেয়নি স্থানীয় পৌরসভা। স্বভাবতই একটা পর্য্যায়ে শহরের খাল-বিল, ডোবা, নর্দমা ভরে উঠে রাসায়নিক বর্জ্য পদার্থে। এমন একটা মোক্ষম সময়ের জন্যেই বোধহয় ওৎ পেতেছিলেন স্থানীয় আওয়ামী চেয়ারম্যান। দলীয় ক্যডার দিয়ে আটকে দেন শহরের নিস্কাষন ব্যবস্থা, পাশাপাশি রাতের আধারে প্রতিটি কারখানায় ব্যক্তিগত দূত পাঠান সমস্যার সমাধান দিয়ে। কারখানা প্রতি ৩ লাখ টাকা ঘুষ, মোট টার্গেট ১ কোটি টাকা। মিয়ার ব্যাটার মত সেই একই হুমকি, " ... হয় টাকা নইলে কারখানা..."। ১৩টা খুনের হুকুমের আসামী এই বংগবন্ধু সৈনিক জীবনের একটা সময় দুমুঠো আহারের জন্যে পরিবারিক সহকারী হিসাবে আমাদের নিত্যদিনের বাজার-সদাই করতেন, যার কারনে আমাদের কারখানার জন্যে ধার্য্য করা হয় ২ লাখ টাকা (ডিসকাউন্টেড!)। ৭৫ লাখ টাকা আদায়ের মাধ্যমে খুলে দেয়া হয় শহরের নিস্কাষন ব্যবস্থা। খবরটা সময়মত পৌছে যায় পঞ্চমশ্রেনী ফেল, চার বিবির স্বামী স্থানীয় বিএনপির সাংসদের কানে। ঢাকা হতে জরুরী তারের মাধ্যমে মাঠে আনা হয় তৎকালিন পরিবেশ মন্ত্রী আকবর হোসেনকে। শুরুহয় চাদা আদায়ের নতুন খেলা। মন্ত্রীকে ৫ লাখ এবং এমপিকে ৫ লাখ দিয়ে খোলাহয় কারখানার দুয়ার। সমস্যার কেবল মাত্র শুরু যেন, ক্ষমতাসীন বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল প্রতি কারখানায় ২/৩ জন সসস্ত্র ক্যাডার বসিয়ে বন্ধ করে দেয় কারখানার চাকা, রাতের আধারে আসতে শুরু করে বাকি পিপড়ার দল; থানা, পুলিশ, এসপি, ডিসি, সাংবাদিক... সবার কিছু চাই, কারন পরিবেশ দূষিতকরনের মূল্যত দিতেই হবে! বিএনপির পতন এবং আওয়ামী উত্থানের পর একই সমস্যার পূনঃজন্ম হয়, আবারও চলে টাকার খেলা। এবার শুধু ছাত্রদলের বদলে মাঠে নামে ছাত্রলীগ!

ঘটনাটার সারমর্ম হচ্ছে, সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকার সহ প্রশাষনের সর্বস্তরে যদি নীরব চাদাবাজি বৈধ হয় তাহলে ছাত্রদের বেলায় এমন দ্বিমূখী মনোভাব কেন? বরং প্রকাশ্য চাদাবাজির কিছু ভাল দিক রয়েগেছে, যেমন, চাদাবাজরা ভাল সাজার চেষ্টা করেনা, নিজদের চেহারা লুকাতে রাতের আধারে হাজির হয়না, তৃতীয় কাউকে পাঠায়না। আমার দৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পরিষদের জন্যে চাদা আদায় আর ছাত্রদের টেন্ডারবাজির মধ্যে মৌলিক কোন পার্থক্য নেই, আছে গুনগন পার্থক্য। একজন করে মাথায় ঘোমটা দিয়ে আর ছাত্ররা করে প্রকাশ্যে, হাতে নাংগা তলোইয়ার উচিয়ে।

তাই আসুন, আমরা সোচ্চার হই ছাত্রদের স্বার্থ রক্ষার্থেঃ ছাত্রলীগের চাদাবাজি চলছে চলবে, ছাত্রলীগের টেন্ডারবাজি বৈধ কর বৈধ কর...। জয়বাংলা!!!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28935902 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28935902 2009-04-09 21:02:29
সকল গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত
এদিকে গতকাল মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবি তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিদেশে থাকা যুদ্ধাপরাধীদের ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে তদন্তকারী সংস্থা গঠিত হবে সিআইডি, ডিজিএফআই, এনএসআই, এসবি, র‌্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে বাছাই করা ব্যক্তিদের নিয়ে। এদের তদন্তের পরেই মামলা দায়ের করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিচারের লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) এ্যাক্ট অনুযায়ি প্রথমে এক থেকে তিনটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে এবং এসব ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েকমাস সময় লাগবে বলেও জানা গেছে।

তদন্তকারী সংস্থার কাছে যুদ্ধাপরাধীদের একটি তালিকা দেবে সরকার। ইতোমধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তালিকা সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম এবং ওয়্যার ক্রাইম ফ্যাক্টস এন্ড ফাইন্ডিং কমিটি সরকারের কাছে যুদ্ধাপরাধীদের ভিন্ন ভিন্ন তালিকা পেশ করেছে। এ দু’টি তালিকার ভিত্তিতেই সরকার যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা তৈরি করছে। ইতোমধ্যে ওয়ার ক্রাইম ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত করে ১৭ হাজার ৭৫ জনের একটি তালিকা সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। কমিটি এদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে।

এছাড়া বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলে দালাল আইনে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদেরও তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ওই সময় দালাল আইনে গ্রেফতারকৃত ১১ হাজার ৪৭৭ জনের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এদের মধ্যে অনেকেরই শাস্তি হয়ে গিয়েছিল। আবার অনেকের বিচার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে ছিল। জিয়াউর রহমানের সরকার দালাল আইন বাতিল করে দিয়ে এদের মুক্ত করে দিয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার একাত্তরের দালালদের বিচারের লক্ষ্যে ৭৩টি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিল। এর মধ্যে ঢাকায় গঠন করা হয় ১১টি ট্রাইব্যুনাল। ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ দালাল আইন (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশ অনুযায়ী এসব ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বঙ্গবন্ধু সরকারের এই আইনের সুযোগে একাত্তরের নিহতদের পরিবার পরিজনরা ৪২টি মামলা দায়ের করেন। ১৯৭৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এই মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় কয়েক হাজারে।

বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলে দালাল আইনে গ্রেফতারের সংখ্যা ছিল ৩৭ হাজার ৪৭৭ জন। এরমধ্যে ২৬ হাজার ব্যক্তিকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বাকি ১১ হাজার ৪৭৭ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় তারা সাধারণ ক্ষমার আওতায় পড়েনি। ’৭৫ সালের আগ পর্যন্ত এদেরই বিচার চলছিল।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে এখন ট্রাইব্যুনাল গঠন সম্পর্কে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ জানিয়েছেন, প্রথমে তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত করবে। তদন্তের পর মামলা দায়ের করা হবে। তিন থেকে পাঁচ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে। এই ট্রাইব্যুনালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের চেয়ারম্যান করা হতে পারে। আইনে বলা হয়েছে, সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি অথবা হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি এই ট্রাইব্যুনালে চেয়ারম্যান হবেন। এছাড়া জেনারেল কোর্ট মার্শালের অবসরপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানরা এই ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হতে পারবেন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28934646 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28934646 2009-04-07 03:38:24
মন ভালো নেই হাসান মশহুদ চৌধূরীর

পদত্যাগের পর থেকেই নানামুখি সমালোচনা আর তীর্যক মন্তব্যে হাসান মশহুদ চৌধূরী মন ভালো নেই। স্ত্রী আর দুই পুত্রকে নিয়ে ঢাকায় নিজ বাসাতেই দিন কাটাচ্ছেন। এরকম পরিস্থিতিতে তার ঘনিষ্ঠ অনেকেই দেশের বাইরে থেকে ঘুরে আসার পরামর্শ দিলেও এ ব্যাপারে তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।

হাসান মশহুদ চৌধূরীর ভাগ্নে নাহিদ আহমেদ চৌধূরী জানান, সততার কারণে দীর্ঘ কর্মজীবনে নিজের বোন-ভাগ্নেসহ নিকটাত্মীয়দের নানা তদবির সবসময়ই এড়িয়ে চলতেন হাসান মশহুদ। এমনকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় নিজের অসুস্থ মাকে দেখতে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার কানিশাইলের গ্রামের বাড়িতে এক-আধবার এলেও আধাঘণ্টার বেশি অবস্থান করতেন না। এমনকি বৃদ্ধ মা আরো কিছুটা সময় বাড়িতে থাকার অনুরোধ করলে বলতেন, বেশিক্ষণ বাড়িতে থাকলে গ্রামের লোকজন নানা তদবির নিয়ে আসবে। গরীব-অসহায় এসব মানুষদের তো আর না বলতে পারব না।

হাসান মশহুদ চৌধূরীর ছোট বোন নায়মা চৌধুরী বলেন, ছেলেবেলা থেকেই ভাইকে দেখে এসেছি। তিনি কর্মজীবনের মতোই ব্যক্তিগত, পারিবারিক জীবনেও কোনো অন্যায়-অস্বচ্ছতাকে প্রশ্রয় দেননি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28934502 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28934502 2009-04-06 21:03:42
ভারত আমাদেরকে নতুন বাহিনী বানিয়ে দিবে...
আমেরিকা-ইসরাইল-ব্রিটেনের নতুন পদলেহনকারী এশীয় কুত্তা ইন্ডি্যা প্রভুদের কাছ থেকে সেই টেকনিকটা শিখে ফেলেছে আমাদের বি.ডি.আর ধ;স আর আর্মীকে প্রায় প;গু করে দিয়ে সে এখন কুমিরের কান্না শুরু করেছে|আর নতুন বি.ডি.আর ডিজির ভারত প্রেম দেখলে মনে হবে ভারত থাকতে আমাদের সীমান্ত নিয়ে ভাববার কিচ্ছু নাই| মনে হয় শুরুতেই এই ডিজি বি.এস.এফ'র সামনে প্যান্ট খুলে উপুড় হয়ে আছে|ভারত যদি এতই ভাল দোস্ত হয় তাহলে ৭০ হাজার বি.ডি.আর পুষে লাভটা কী..? চলুন ইউরোপের মত হয়ে যাই নো বর্ডার...

Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28934095 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28934095 2009-04-05 21:31:30
সিরাজ সিকদারকে কর্নেল তাহের গোপনে সামরিক ট্রেনিং দিয়েছেন
গুপ্ত সংগঠনের বেপরোয়া সদস্যরা যদি বিডিআর জওয়ানদের কাছে সামরিক প্রশিক্ষণ পায় তাহলে তারা হয়ে উঠবে আরো দুর্ধর্ষ। তাদের রোখা কষ্টকর হবে। নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের নানা মাধ্যমে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে চৌকস হয়ে ওঠার দৃষ্টান্ত আছে সারা পৃথিবী জুড়েই। আমাদের দেশেও এ দৃষ্টান্ত বিরল নয়।

কর্নেল তাহের চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত অবস্থাতেই পলাতক সিরাজ সিকদারকে সামরিক ট্রেনিং দিয়েছিলেন। তাহেরের ছোট দুই ভাই আবু সাঈদ ও আনোয়ার হোসেন যুক্ত ছিলেন সিরাজ সিকদারের ‘নিউক্লিয়াসের’ সঙ্গে। তাদের মাধ্যমেই কর্নেল তাহেরের পরিচয় হয় সিরাজ সিকদারের সঙ্গে। তাহের প্রায়ই তার ইউনিট নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে সামরিক প্রশিক্ষণে যেতেন। এজন্যেই সিরাজ সিকদার পাহাড়ি অঞ্চলে তার সাংগঠনিক তৎপরতা শক্তিশালী করেন। সিরাজ সিকদারপন্থী একদল তরুণকে প্রাথমিক পর্যায়ে বাছাই করা হয় প্রশিক্ষণের জন্যে। কর্নেল তাহেরের জন্যে এ প্রশিক্ষণ ছিল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যারা প্রশিক্ষণে অংশ নেন তাদের সবাই তার অপরিচিত। একজন সামরিক অফিসারের এমন রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ছিল বিপজ্জনক। অবশ্য ওই প্রশিক্ষণ দীর্ঘ হয়নি। সিরাজ সিকদার হঠাৎ প্রশিক্ষণ বন্ধ করে দেন। যুক্তি দেন, একজন পেটি বুর্জোয়া সামরিক অফিসারের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেয়া নীতিগতভাবে সঠিক নয়। (সিরাজ সিকদার রচনাবলী, ৩য় খণ্ড)।

এ ব্যাপারে কর্নেল তাহেরের ভাই আনোয়ার হোসেন বলেছেন, এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করলাম। কিন্তু সিরাজ ভাই তার সিদ্ধান্তে অটল রইলেন। তার আশঙ্কা ছিল, প্রশিক্ষণার্থীরা যেভাবে তাহের ভাইয়ের ভক্ত হয়ে উঠছে তাতে তিনিই না প্রধান নেতা হয়ে ওঠেনঃ (সাপ্তাহিক সময়, ২য় বর্ষ, সংখ্যা ১৭)।

পাদটিকা: কর্নেল তাহের একটি মহত্তম লক্ষ্য নিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন সিরাজ সিকদারকে। তারা দুজনই ছিলেন দেশপ্রেমিক। কিন্তু বিডিআরের পলাতক সদস্যরা যদি দুর্ভাগ্যক্রমে প্রশিক্ষণ দেয় গুপ্তঘাতকদের তাহলে দেশের অন্ধকার আরো দীর্ঘ হবে। এদের রুখতে হবে এখনই।

ই-মেইল: ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28923443 http://www.somewhereinblog.net/blog/hassanbest/28923443 2009-03-12 21:16:39