somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দ্বিতীয় অপরাধ

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একজন ধর্ষিতার বয়ান

এটা আমার জন্য বিস্ময়কর ছিল। দম বন্ধ হয়ে আসছিল।
-ভাইয়া আমার কষ্ট হচ্ছে।
অনেক কষ্টে উচ্চারণ করি আমি।
-চুপ করে থাকো। একদম চেঁচাবে না।
আমি ভয়ে চুপসে গেলাম। জ্ঞান ফেরার পর দেখলাম বিছানা রক্তে ভেসে গেছে। চিৎকার করার শক্তিটুকুও অবশিষ্ট ছিল না আর।

আমি একটা কালো অধ্যায় পার করে এসেছি সেটা বুঝেছি অনেক পরে। ও ছিল আমার ভাই। বাবা এক মা দুই আমাদের। এই বিষয়টা সুখকর ছিলনা আমার জন্য। সেদিনের পর ওকে আর দেখিনি আমি। পনের বছর হঠাৎ দেখাটা কিছুটা দৈব মনে হলেও হাসি মুখে এগিয়ে গেলাম ওর দিকে। আমাকে চিনতে পারেনি ও। ওর নজর ছিল আমার বুক আর পেছনের দিকে। লোকচক্ষুর আড়ালে একটা ধূর্ত হাসি খেলে গেল আমার ঠোটে। এটাই সুযোগ! নিজেকে যথাসম্ভব পণ্য আর রহস্যময়ী করে তুলালাম ওর কাছে। ওর চোখ বলে দিচ্ছিল পারলে সে আমাকে ওখানেই বলৎকার করে ফেলে! কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলাম ও সম্পূর্ণ মাতালে পরিণত হয়েছে। সাদা কাগজে রুমের নাম্বার লেখা চিরকুট সব সময়ই কাছে রাখতে হয় আমাকে একজন নর্তকী হওয়ার দরুণ। ওটা পেয়ে ওর চোখ জোড়া চকচক করে উঠলো।


একজন ধর্ষকের বয়ান

এই মুহুর্তে মেয়েটার কথা না ভেবে পারছি না। আমার থেকে দশহাত দুরে কাৎ হয়ে পড়ে রয়েছে যে। বেকায়দায় পড়ে গিয়ে মাংশল উরু আবৃত হয়ে পড়েছে। নিপলের গভীরতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ব্রা-হীন বুকে। ভাবতেই অবাক লাগে, গত রাতে এই মেয়েটাই হুইস্কি সার্ভ করেছিল কোমরে ঢেউ তুলে। ভরাট উরু, গোলাপী ঠোট, ঢোলের ন্যায় কোমর আর উন্নত বক্ষ নিয়ে মেয়েটা বারের প্রতেকটা পুরুষকে নাচাচ্ছিল যেন। মাঝ রাতে ক্ষুধার্ত কুকুর যেমন ল্যাম্প পোষ্টের আলোয় টলতে থাকতে ঠিক সেইভাবে। কি যেন মেয়েটার নাম? করবী। হ্যা ওটাই বলেছিল সে প্রথম এবং শেষ কথা হিসেবে। আমার নেশাটা তখনও পুরোপুরি ধরেনি। অথচ মেয়েটার গায়ের গন্ধ সবকিছু কেমন ওলট পালট করে দিল নিমিষেই। সে যখন মদ ঢেলে দিচ্ছিল গ্লাসে, তার বুকের ডান পাশটা নগ্ন হয়ে উঠছিল প্রত্যেকবার। এটা কি ইচ্ছাকৃত? হতে পারে। নারী রহস্যময়।

-আচ্ছা মেয়েটা কি আজকের রাতটা শেয়ার করতে রাজি হবে?
ভাবলাম আমি। মনে হলো মেয়েটা আমার চোখের ভাষা পড়ে ফেলল সাথে সাথেই। ছোট্ট একটা চিরকুট গুজে নিমিষেই হারিয়ে গেল ভিরের মাঝে। মেয়েলি হাতের লেখাটায় ঝাপসা চোখে বার কয়েক চোখ বোলালাম। তারপর ঠোটের কোণে এক চিলটে হাসি নিয়ে টলতে টলতে উঠে দাড়ালাম। ভেজানো ছিল দরজাটা। ওয়াশ রুমে পানি পড়ার শব্দ হচ্ছিল। এগিয়ে যেতেই ইশারায় ডাকলো সে। বাথটাবে দুজনের জন্য যায়গাটা পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও বিছানায় অাসতে বাধ্য করলো সে। সে কোন কথা বলছিল না। এটা বিস্ময়কর হলেও আমাকে তেমন ভাবাচ্ছিল না বিষয়টা। ইস! তখন যদি ওর চোখের দিকে একবার তাঁকাতাম! চরম মুহুর্তে যে অনুভুতি টা পেলাম সেটার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না। জ্ঞান হারানোর আগে দেখতে পেয়েছিলাম মেয়েটার রক্তমাখা হাতে ব্লেডের ঝলকানি। আর চোখ থেকে নিঙ্গড়ে বেরুচ্ছিল প্রতিহিংসা। তখন মনে হয়েছিল মেয়েটি আমার চেনা।

একটি পিস্তলের বয়ান

ড্রয়ারে তালাবদ্ধ ছিলাম বহুদিন। অনেকদিন পর একটা মেয়েলি হাতের স্পর্শ পেলাম। আহ! দেখলাম একজন নগ্ন পুরুষ বিছানায় মরার মত পড়ে রয়েছে। গোঙ্গাচ্ছে সে। অস্ফুট স্বরে কিছু বলার চেষ্টা করছে। মুও..ক..তি..।
মেয়েটার একহাতে ছিল জলন্ত সিগারেট আর হাতে আমাকে মেলে ধরেছিল পুরুষটির দিকে। তার চোখে মুখে ছিল আশ্চর্য একটা দ্যুতি। হঠাৎ মেয়েটা আমাকে ছুড়ে দিল পুরুষটির দিকে।

বিচ্ছিন্ন শিশ্নের বয়ান

দীর্ঘ ঊনত্রিশ বৎসর একজন ধর্ষকের সাথে কাটিয়েছি আমি। একজন ধর্ষককে আমার থেকে বেশি কেউ হয়তো জানবে না। আমি জানি আমাকে ছাড়াও সে ধর্ষণ করে যেতে পারবে অনায়াসে। ধর্ষনের জন্য তার রয়েছে, দুইটি চোখ, দুইটি হাত, দুইটি পা, নাক, মুখ ও জিহ্বা। মিথ্যে বলবো না, মেয়েটার মৃত দেহের প্রতি তাঁকিয়ে আমার কোন প্রকার করুণা হচ্ছে না বরঞ্চ আরেকবার ধর্ষণের ইচ্ছাটা প্রকট হয়ে উঠছে একজন ধর্ষককে বিশ্বাস করার অপরাধে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১২:১২
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে সন্দেহ-কলহ

লিখেছেন তালপাতারসেপাই, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ভোর ৬:২৫


প্রায় ১০ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকায় সাংগঠনিক কাঠামো নড়বড়ে হয়ে পড়েছে বিএনপির। সৃষ্টি হয়েছে বিশৃঙ্খল এক অবস্থা। দলটির নেতাদের পরস্পরের প্রতি সন্দেহ আর অবিশ্বাস দিন দিন বাড়ছে। সুসম্পর্ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাশার মাসে কেউ বানান ভুল করবেননা !

লিখেছেন মোস্তফা সোহেল, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১০:১৯



এক ভাইয়ের ফেসবুক ওয়ালে দেখলাম লেখাটি,
ফ্রেন্ড লিস্টের একজনে স্ট্যাটাস দিলো " ভাশার মাসে কেউ বানান ভুল করবেননা"।
সেই স্ট্যাটাসে একজন কমেন্ট করল "ভাই আপনার 'ভাষা' শব্ধটা ভুল হইছে"। সেই কমেন্টে একজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যাংকক শহরের ডাইনিং ক্রুজ : এক আনন্দময় নদী ভ্রমণ

লিখেছেন অনঢ়পাথর, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১০:৪৪



ব্যাংকক শহরকে আমার ঢাকার থেকে আহামরি খুব ভালো কিছু মনে হয়না। বিশেষত সুকুম্ববির যে জায়গাতে আমরা বাংলাদেশীরা বেড়াতে গেলে উঠি, সেই জায়গাটা ঢাকার বনানী গুলশানের তুলনায় নিতান্তই অনুন্নত মনে হয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেমুর কবিতা লেখার সাধ! :P

লিখেছেন গেম চেঞ্জার, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৪:২৬

(ব্যাখ্যার উর্ধ্বে লেখা কবিতা। মিনিংলেস যে হবে সে আগেই স্বীকার করে নিচ্ছি! ;) ;) ;) )



অ্যান্টিওকের জাদুর কাঠিটা কি তোর কাছেই?
আমার সব তরংগ যে শুষে নিচ্ছে সে নিমেষেই!
হ্যারিকে হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

:):)রম্য:- ধাঁ ধাঁ এর নাম শাহাদাৎ হোসাইন (সত্যের ছায়া):):)

লিখেছেন বিলিয়ার রহমান, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ৮:০৮

বেশ কয়েক মাস ধরেই ব্লগের একজন পরিচিত মুখ শাহাদাৎ হোসাইন (সত্যের ছায়া) তবে আজকে আমি চারজন শাহাদাৎ হোসাইনকে পেলাম:):)

কাউন্টডাউনের শুরুতেই থাকছেন শাহাদাৎ হোসাইন (সত্যের ছায়া) :)
... ...বাকিটুকু পড়ুন

×