somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সবাই মিলে একটু চা খাওয়া যাক !!!

০৬ ই মে, ২০০৮ রাত ৮:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সব ব্লগ বন্ধু যারা সিলেট যান নি তাদেরকে এই লেখাটা বেশ গাইড করবে আশা করি। গত বছরের অগাস্ট এ আমার সেমেস্টার গ্যাপ এ আমি আর আমার ফ্যামিলি-র সবাই সিলেট-এর শ্রীমঙ্গল গিয়েছিলাম। স্বপ্নের মতো সুন্দর একটা জায়গা। ওখানের ফিনলে-র টি-রিসোর্ট এ ছিলাম আমরা। তারপর লাউয়াছড়া বন, খাসিয়াগ্রাম এ ঘুরাঘুরি করে মাধবকুন্ড গিয়েছি। মাধবকুন্ড ছাড়া বাকি সব জায়গাই অপরিচিত ছিল আমার কাছে। সেই সাতদিন আমার জীবনের খুব বিশেষ কিছু দিন। এমন-ই বিশেষ আর ঘটনাপূর্ণ ছিল দিনগুলো যে প্রত্যেকটা জায়গা নিয়েই একটা একটা গল্প লিখে ফেলা যায়!

যাই হোক, এবার প্রসঙ্গে ফিরে আসি। শ্রীমঙ্গল সবচেয়ে বিশেষ সাজ নেয় বৃষ্টির সময়। আমরা গিয়েছিলাম যখন তখন সারাদিন-ই টিপটিপ বৃষ্টি। সবুজ থেকে সবুজ চা বাগান আর বড়বড় বন। আমরা সেই বৃষ্টি-র মধ্য-ই ভিজে ভিজে দেখেছি বাংলা মায়ের অসাধারণ সুন্দর এক মেয়ের সৌন্দর্য! লাউয়াছড়া বন বিশাল এক বন অদ্ভুত সব পাহাড়ি ফুলে ভরা আর তার গাছে গাছে হাজার হাজার বানর। আমার বাবা আমাদের ছেড়ে দিয়ে হাসি দিয়ে বল্লেন, " যাও হারিয়ে বনের মধ্য। দেখো তোমাদের বন্ধুরা গাছে গাছে আছে, যেখানেই যাবা ওরাই খুজে দিবে ! " আমরা সত্যি-ই বেশ স্বাধীণ হয়েই ঘুরেছি সেই গহীন বনে, রোমান্চকর ব্যাপার-স্যাপার ! এমন-ই অবস্থা যে আমার ভাইয়ার ৫-৬ বছরের মেয়েটা একটা কাল কুকুর দেখে চিৎকার দিয়ে বললো, " ফুপ্পিমা'! দেখো দেখো একটা বাঘ ! "

গল্প বড় হয়েই যাচ্ছে তাও প্রসঙ্গে আসতে পারছি না ! এবার প্রসঙ্গে আসি। বন থেকে বের হয়ে হলো মজাটা ! বাবা বললো, এখন আমরা লোকাল কোনো দোকানে বসে চা খাবো। তো বেশ কিছুদূর যাওয়ার পর মিললো "নীলকন্ঠ চা কেবিন"। এই দোকানের সাইনবোর্ডটা দেখে আমি ছবি তোলার লোভ সামলাতে পারলাম না ! এতোরকম চা ! যাই হোক... সবার চোখ পাঁচ কালারের চা -এর দিকে ( আমার ব্লগ এর পরের পোস্ট-এ চা-এর ছবিটা দিয়েছি)। ওদের একজন কে ডেকে বললাম, "মামা, পাঁচ কালার বুঝিয়ে দেন।" সে মজা পেয়ে বেশ গর্ব নিয়ে যা বললো তা হলো...পাঁচ কালারের চা হলো এক-ই গ্লাস-এ পর পর পাঁচ স্তরের পাঁচ রঙের চা। একেক স্তরে একেক রং আবার একেক রং-এর একেক টেস্ট !!! তারপর বললাম, " কি আজিব! মিলে যায় না! " সে আরো গর্ব নিয়ে বললো, "আপা, একটা তো নিয়া দেখেন! মিলে নি মিলে না!" বাবা দুই কাপ অর্ডার করলো। বাকি কালার গুলার-ও এক-ই নিয়ম, একেক স্তরে একেক ফ্লেভার। অবশেষে আসলো পাঁচ কালারের চা। কমলা রং -এর নানান শেড এর পাঁচটা স্তর। প্রথম স্তরে দুধ-চা, তার নিচে আদা-চা, তার নিচে লেবু-চা, তার নিচে "হাই-স্পেশাল" দুধ-চা আর সবশেষে "লাল গ্রিন টি" ("***"- এভাবে লেখা চা-গুলো ওখানের মামার ভাষা বুঝাতে চেয়েছি)। দুঃখিত হয়ে বলছি, চা -টার টেস্ট এতো-ই খারাপ যে বলার মতো না ! গরম কাশির ওসুধের মতো। চা-টায় কোন লেবু বা আদা কিছুর টেস্ট-ই পাওয়া যায় না। কেউ গিয়ে ভুলেও মিক্সড কালার এর কোনো চা খাবেন না এটা হলো আমার লেখার মূল কথা। কিন্তু আমি একটা ব্যপার-এ এখনো অবাক যে আসলেই চা-গুলো মিলে যায় না। আলাদা হয়ে থাকে কিভাবে যেন রংটা !!!

আসলে এই নানান ধরনের চা-এর আবিষ্কার হয়েছে টুরিস্টদের একটু অবাক করে দেয়ার জন্য। আমাদের দেশের মানুষগুলোর জীবিকার তাগিদে খুব কষ্ট পেতে হয়, একটু বাড়তি উপার্জনের জন্য-ই আবিষ্কার করতে হয় "পাঁচ কালারের চা" !!! আমি ব্যপারটার প্রতিবাদ করার সময় এটা আমাকে আস্তে করে বুঝিয়ে দিয়ে-ই আমার বাবা চা-মামাদের বললেন, "ভাই চা টা খুব ভাল ! তাই না মা ??"


এই পোস্টে পাঁচ কালারের চায়ের ছবিটা পাবেন :
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:২৫
৩২টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×