প্রথমে আমার ব্যপারে একটু বলে নেই, তারপর মূল বিষয়ে যাবো।
আমি আমার বাবা বা মা-র দুই দিক থেকেই খুব আদর পেয়ে বড় হয়েছি। আমার আগের যারা খালা বা ফুপ্পিদের ছেলে-মেয়ে ছিল তারা খুব শান্ত-শিষ্ট ছিল, একমাত্র আমি-ই লেজবিশিষ্ট ছিলাম। খুব লাফালাফি করতাম, চঞ্চলতার সীমা-পরিসীমা ছিল না। আমার নামটাকে বিকৃত করে "সর্বনাশ" দিয়েছিল এক চাচ্চু। পিচকু বানরী, ফড়িং, ঝড়ো, সোনালি, সরু, হাসিখুশিমা, নাচোতো... এমন আরো হাজারো নিক ছিল খুব ছোট থেকে। এখন আমার অনেক কাজিন দু'দিক থেকেই, কিন্তু এখনো সবাই আমাকে তেমন-ই ভাবে। আমার জ্বর আসলে বাবা-মা তো অবশ্যই ছোটচাচ্চু-ও মুখটা বাকিয়ে মাথার সাথে মাথা লাগিয়ে বসে থাকবে, বড়ফুপ্পি দোয়া করে "ফু" দিয়ে দিবে। খালাদের সাথে তো চরম বন্ধুত্ব! আর আমি একদম সুস্থ থাকলেও এরা প্রতি সপ্তাহে একবার হলেও ফোন করবে..." হাসিখুশি! তুই ঠিক তো?" দাদু (আমার মৃত্যুগাথা সূত্র)মারা যাবার পর আমার পিতৃ পরিবারে আমাকে দাদুর জায়গাটা দেয়া হয়েছিল ...সবাই আমাকে একভাবে "মা" বলে ডাকে...
আমি অবশ্যই ভালবাসা পাওয়ার বিরল ভাগ্য নিয়ে পৃথিবীতে এসেছি !
এবার পরিবারের বাইরে আসি একটু। আমার পরিবারের বাইরে এমনকিছু সম্পর্ক আছে যা হয়তো রক্তের যোগ থাকলেও ওতোটা গভীর হতো না। আমার বন্ধু খুব বেশি নেই কিন্তু যারা আছে তারা বেশ শক্ত... কয়েকদিন পরপর ফোন করে বলবে, "দোস্ত, তুই জঘন্য একটা মেয়ে! তোর সাথে কেনো এখনো কথা বলি জানি না। যাই হোক, বলে লাভ নাই তুই ঠিক হবি না। আগে বল ঠিক আছিস তো?" ... আবার বেশ দুশ্চিন্তা নিয়ে হয়তো কেউ কখনো বলে, "কোন আওয়াজ নেই যে ? ঠিক আছো তো তুমি না?"
আমার ভাইয়ের সংখ্যা যে কতো তা আমি নিজেই জানি না... অসাধারণ সব মানুষের সত্যিকার ভালবাসায় সবসময় নিজেকে ভাল থাকতে দেখেছি। আমার ছোটভাইটার হাউকাউ শুনলে খারাপ থাকা সম্ভবই হয় না! আমি আদর করে ওকে মিগলা (মিষ্টি + পাগলা) ডাকি। কেউ এসে দেখাক ও আমার ভাই না, রক্তের সম্পর্কের চে' অনেক বড় সম্পর্ক আছে আমাদের! বড় ভাইয়ারা এত্তো বেশি কেয়ার নেয়... ব্লগের সাইফুর ভাই ফোন করে যখন বলে, "টুনি ভাল তো?" অথবা অরুনাভ ভাই মালয়শিয়া থেকে নিজের চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় বলবে, "আপুটা ঠিক আছে তো?" ... বলোতো ভাইয়া! তোমরা এমন করলে আমি কিভাবে খারাপ থাকবো ?!?
এছাড়াও কিছু বিদেশী মানুষের সাথে আমার সম্পর্ক আছে। এক জাপানিজ মহিলার ছোট্ট পুতুলের মতো মেয়েটাকে খুব আদর করেছিলাম। মেয়েটার একটা ছোট্ট ঝামেলায় সাহায্য করেছিলাম। তেমন কোন বড় কিছু না, কিন্তু সেই জাপানিজ মহিলা আমাকে দেখলেই জড়িয়ে বলে ওঠে... "হেই মাই এ্যন্জেল! অলওয়েইজ বি ইন এক্সট্যাসি!"
আমার সম্পর্ক আছে আরো অনেক অনেক! মানুষের জীবনে যতো বড় অর্জন-ই থাকুক, আমার মতো অর্জন বা প্রাপ্তি কি আছে কারো ?!?
শেষ কয়েকমাস বেশ অসুস্থ ছিলাম... শারীরিক অসুস্থতা আমাকে খুব বিরক্ত করে... আমার শুয়ে-বসে থাকা অভ্যাসের মধ্য নেই। বাবা-মা ডাক্তার হয়ায় ছোট-খাট অসুখ হলে জানাই না ওদের, নিজেই অসুধ খেয়ে নেই। শেষ কয়েকমাসের অসুখটা বেশ থমকে দিয়েছে। বাবা খেয়াল করে কয়েকটা টেস্ট করতে নিয়ে গেল। রিপোর্ট পাবার পর থেকে আশে-পাশের সব মানুষগুলো পেশাদার অভিনেতা হয়ে গেছে ... বাবা হাসতে হাসতে আমার মাথার চুলগুলো এলোমেলো করে দেয়, হাসির ভেতর উঁকি দিয়ে বাবার দীর্ঘশ্বাস শুনি আমি... হাহাকার করে ফিসফিসিয়ে বলা কথা শুনি... প্রচন্ড ভালবাসা নিয়ে হাত রাখে মাথায় কেউ কেউ ... ভালবাসার ভেতর একটা গহীন কষ্ট টের পাই... জড়িয়ে থাকা নরম হাতগুলো ধরে রাখতে চায় সবসময়... একটু ছেড়ে দিলে যদি হারিয়ে যাই!!!
সব্বাই বোকামানুষ আমার আশেপাশের তোমরা !!! তোমরা বুঝতে শিখোনি বাস্তবতা! দেখো, আমি যদি হারিয়ে যাই এখন তাও তো বেঁচে যাবো... তোমাদের মতো পৃথিবীর কাল সময় পাড় করতে হবে না, নিরাশ হতে হবে না... নানা কারনে কষ্ট পেতে হবে না, কারো থেকে ধাক্কা খেতে হবে না, কারো ওপর প্রতিশোধ নিতে হবে না... কতোগুলো অসহনীয় প্রহর থেকে বেঁচে যাবো আমি! স্বার্থপরের মতো তোমাদের সবটুকু ভালবাসা নিয়ে যাবো...
আমি সত্যি ভালবাসা পাওয়ার বিরল ভাগ্য নিয়ে পৃথিবীতে এসেছি !
আমি অনেক ভাল থাকবো দেখো... শুধু তোমরা খুব খুব ভাল থেকো !!!
ভালবাসি... অনেক অনেক অনেএএএএএক বেশি!!!
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


