জ্যোৎস্না নিয়ে কাব্যে মাতে নি এমন মানুষ বেশ হাতেগোনা। একরঙা শুভ্র নানান আকৃতির টুকরো চাঁদ বা আস্ত গোল চাঁদটা কাব্যপ্রেমীদের নাড়া দিয়ে গেছে সবসময়।
রহস্যময়তা বা আলো-ছায়ার কথোপকথন যে কারনেই হোক না কেন জ্যোৎস্নার রাতগুলো চেনাজানা পৃথিবীটাকে হঠাৎ অপার্থিব করে দেয়। নিকষ অন্ধকারে বসে জ্যোৎস্নায় নিজেকে জড়ালে মনে হয় কুয়াশার মতো ঝাপসা ভালবাসায় আবৃত আছে চারপাশটা...
আজ জ্যোৎস্না রাতে সবাই গেছে বনে
আজ বসন্তের এই মাতাল সমীরণে
আমারে যে জাগতে হবে
কি জানি সে আসবে কবে
যদি আমায় - যদি আমায় পড়ে তাহার মনে...
বসন্তের এ মাতাল সমীরণে...
(আজ জ্যোৎস্না রাতে সবাই গেছে বনে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
কোন এক দুঃসহ জোছোনাদিনে বাতি নিভে গেলে...
কড়া নেড়েছি তোমার হাতের ঘরে...
কিছু অর্থহীন শব্দ বুনে ডেকেছি তোমায়...
(প্রেমাতাল - তাহ্সান)
জ্যোৎস্নার লন্ঠনে পথ চিনে আমার একটু কাছে বসো
তারার ঝকমকে কারুকাজ দেখে মিষ্টি একটু হাসো ...
আমি আকন্ঠ ভরে নেবো ঝলমলে স্মৃতি পান করে
কতদূর মায়াবী পথ হেটে যাব... তোমার হাত ধরে।
সে পথে থাকবে কুয়াশার রন্ধ্র...
আর থাকবে তোমার হাতের মাতাল গন্ধ !
(অপার্থিব...)
----------------------------------------------------------------------------------
জ্যোৎস্নামোহে মাতাল হয়ে তুলেছিলাম ছবিগুলো... গেল ঈদের পর চাঁদ সম্পূর্ন হবার পরে তোলা ছবি...
চন্দ্রাহত হয়ে চন্দ্রকথা শেষ করছি প্রিয় চন্দ্রকাব্যের অংশ দিয়ে...
শোনা গেল লাশকাটা ঘরে
নিয়ে গেছে তারে;
কাল রাতে - ফাল্গুনের রাতের আঁধারে
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
মরিবার হ'ল তার সাধ।
. . . . .
'কোনোদিন জাগিবে না আর
জাগিবার গাঢ় বেদনার
অবিরাম-অবিরাম ভার
সহিবে না আর-'
এই কথা বলেছিল তারে
চাঁষ ডুবে চলে গেলে - অদ্ভুত আঁধারে
যেন তার জানালার ধারে
উটের গ্রীবার মতো কোনো এক নিস্তব্ধতা এসে।
(আট বছর আগের একদিন - জীবনানন্দ দাশ)
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


