somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধূপছায়াপথ

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি নিজেকে নিয়ে মাঝে মাঝে খুব বেশি বিরক্ত থাকি। অনেকগুলো কেন এসে যন্ত্রণা করে প্রায় সারাক্ষন-ই।

কেন এটা করলাম ? করলাম তো ভেবে কেন করলাম না ? কেন আরো সময় নিলাম না ? কেন করার পর বুঝেও বারবার এক-ই ভুল করি ? আজকে কয়েকটা কাজ না করলে আমি কোথায় পৌঁছাতে পারতাম! কেন করি নি ? কেন বুঝি নি ? একেকটা সময় পাড় হয়ে যায় আর শুড় পেঁচিয়ে আমার শ্বাসরোধ করে এই অসভ্য কেনগুলো!

মা-বাবার কাছে তাঁদের ছেলে-মেয়ে সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হয়। তাদের কাছে আমি যা-ই করি না কেন আমি অসাধারন! আমার ছবি তোলার শখ মা-বাবা জানেন। আর অনেকেই হয়তো উচ্ছসিত প্রশংসা করে আমার নিতান্ত এ্যামেচারিশ ছবিগুলোর। কিন্তু মা যখন মুগ্ধ চোখে আমার তোলা ছবি দেখে, তখন আমার মনে হয়, "সত্যিই তোহ! বিশাল কিছু করে ফেলেছি!" আমার খুব খারাপ সময়গুলোতেও ওঁরা আমাকে জড়িয়ে রাখে। হঠাৎ একসময় মনে হয়, আসলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।

আমি বছরের শেষে হিসাব মেলাতে বসে তালগোল পাকিয়ে কেমন বকে যাচ্ছি! শব্দগুলো আমার চিন্তার মতোই বিক্ষিপ্ত! এঁদের মাঝে ঐক্য নেই কোন। এখন ওদেরকে একসাথে করি। আমি বলতে চেয়েছি যে আমি যখন যা করতে চেয়েছি তা করা হয়ে উঠেনি কখনোই।

আজকে বিফোর নিউ ইয়ার ইভে অনেককেই অদ্ভুত একটা ওয়েস্টার্নাগত মাদকতা পেয়ে বসে। একটা ওয়েস্টার্ন ব্যপার আছে "নিউ ইয়ার রিযোলিউশন" নামে। আজকের ইভের এই একটা মাত্র বিষয়কে আমি পছন্দ করি যেটা আমাদের দেশের মানুষেরা মানে না। পশ্চিমারা প্রত্যেকে দু'টা করে সয়্যার বা প্রতিজ্ঞা করে নিউ ইয়ার ইভে। প্রথমটা হলো - তারা দ্বিতীয় প্রতিজ্ঞাটা ভাঙবে না। আর দ্বিতীয়টা হলো যারযার ব্যাক্তিগত প্রতিজ্ঞা। তারা পুরো বছর এ সয়্যারগুলো মনে-প্রানে মেনে চলতে চেষ্টা করে।

আমি আজকে নিজের অভিজ্ঞতার তিনটা ঘটনা বলি এবার।


১.

সন্ধ্যায় বেইলী রোড দিয়ে বাসায় ফিরছি। একদম আটকে বসে আছি জ্যামে। ছেলেমেয়েরা রাস্তা আটকে জটলা পাকিয়ে বসে আছে দলে-দলে; কেউ গান গায় তো কেউ স্রেফ আড্ডা। সামনে একটা মেয়ের চিৎকার শুনলাম হঠাৎ। ঘটনা হলো পাঁচজন ছেলে বাজি ধরেছে রাস্তার একটা মেয়ের শরীরে হাত দেয়ার। এই মেয়েটার সাথে ওর মা ছিল সম্ভবত। বার-তেরো হবে বয়সে মেয়েটা। দলের একটা ছেলে টাকাটা আগেই নিয়ে বীরদর্পে গিয়ে মেয়েটার শরীর জাপটে ধরলো। মেয়েটা রগছেড়া চিৎকারে পুরো এলাকা কাঁপিয়ে ফেললো। মহিলা মেয়েকে নিয়ে চুপ করাতে করাতে মান-সম্মান বাঁচাতে সরে পড়লেন।


২.

শান্তিনগর মোড়। একজন রিক্সাওয়ালা। বয়স ৫০+। ৪-৫ জন ছেলে চেপে রেখেছে তাঁকে রাস্তায়। দলের নেতা হেলমেট দিয়ে দমদম করে মারছে মানুষটার মাথায়। মানুষটা আঘাতের দমকে কেঁপে কেঁপে যাচ্ছেন। মাথা থেকে রক্তের একটা চিকন ধারা থরথর করে নিচে পড়ছে। ৫০+ অথর্ব মানুষটার চোখ থেকে উপচে পড়ছে অপমানের ধারা। তাঁর অপরাধ হলো সে ঐ দলের কিছু ছেলেকে ধানমন্ডিতে নিয়ে যায় নি।


৩.

গুলশান থেকে সন্ধ্যায় এক ভাই ফোন করে বললো তাঁকে রাস্তায় চেপে ধরে তার সবকিছু নিয়ে গেছে একদল ছেলে। যাওয়ার সময় হাত-পায়ে পোঁচ দিয়ে গেছে কিছু। আমার বাবা আছেন কিনা, তাকে স্টিচ দেয়া লাগবে। সে অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে একটা টয়োটা থেকে ৫-৬ জন ছেলে নেমে তার মোবাইল-ওয়ালেট-ঘড়ি এমনকি বেল্টটাও নিয়ে গেছে। ওরা ভাইয়াকে বলেছে, নিউ ইয়ার ইভের জন্য ওদের ফান্ডিং দরকার। গার্লফ্রেন্ড নিয়ে হোটেল গেলে পয়সা লাগে। ও! ভাল কথা। দলে ২টা মেয়েও ছিল। দেশ কতোটা এগিয়ে (!?!) গেছে!

বাংলাদেশের মানুষ দেশটার নামটার উপর অপবাদ দিয়ে দিচ্ছে ক্রমাগত। পশ্চিমাদের নকল করতে করতে নোংরামীর সব স্তর পাড় করে ফেলছে দামাল বাঙালী ছেলেরা! অথচ ওদের মধ্য "নিউ ইয়ার রিযোলিউশন"-এর মতো ব্যপার-ও আছে!

আমার নিজের সারাজীবনের জন্য কিছু রিযোলিউশন আছে। তার মধ্য কিছু হলো আমাকে এমন সামর্থ দেয়া হোক যাতে নিজের বা সবার ভেতর থেকে আমি নোংরামী মুছে দিতে পারি। যাতে দেশের বা দেশের বাইরের কিছু অসাধারণ অথচ বঞ্চিত বাবা-মাদের জন্য আমরা সবাই মিলে একটা অসাধারণ পদক্ষেপ নিতে পারি। সাহায্য চেয়েছিলাম এখানে। যাতে আমি মা-বাবার সম্মান অক্ষত রাখতে যেকোনো কিছু করার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকতে পারি। যাতে আমাদের নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারি। এমনকি এই সামুর মডুদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ-ও তার মধ্য একটা। আমরা যেনো যেকোনো ন্যয়সঙ্গত আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ-একজোট থাকতে পারি। আমরা যেনো অসহায়ের জন্য শক্তি আর অন্যায়ের জন্য হুমকী হয়ে উঠতে পারি!!!

ঐ গাছের মরতে থাকা লালের লাইনিঙে শুকনো সবুজ পাতাটার কীটে খাওয়া ফাকা জায়গাটা দিয়েও সূর্যের তীব্র রশ্মি আসে! ওকে বাঁচার স্বপ্ন দেখায়! আমি আমার এই অর্ধমৃত লাল-সবুজ দেশের আত্মা-শুদ্ধির জন্যও ওমন একটা রশ্মি দেখতে পাই!!!

নাঃ! আমি আসলেই আজকে খুব অযথা-অর্থহীন বাজে বকে গেলাম!!!
































||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||


আমার ফ্লিকার জগৎ

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১:২৫
২৩টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×