somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পিচ্চি প্রতিভা !!!

২৪ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


যার কথা বলছি; সে আমার ছোটখালার মেয়ে। আভা। সে দেখতে খুব-ই শান্ত-শিষ্ট হলেও সে বিশাল লেজ বিশিষ্ট!

সে সবার সামনে খুব-ই শান্ত। পেছনে সে সারাক্ষণ মুখে মুখে ধাঁধা বানাচ্ছে, কবিতা/ছড়া বানাচ্ছে, কৌতুক বলছে। নাহলে টিভির অনুষ্ঠানগুলো নকল করছে। সে খুব সুন্দর ছবি আঁকে। আর্ট এ্যটাক বা বাচ্চাদের শোগুলো দেখে দেখে খুব সুন্দর সুন্দর জিনিস বানাতে পারে। সেগুলোর জন্য রঙিন কাগজ, টুকরো কাপড়, লেইস, মাথার ব্যান্ডের ভাঙা অংশ, পুরনো ম্যাচবক্স, টিস্যু পেপার, চুমকী-জড়ি, স্টিকার, জুতার বক্স সব তার নিজের গোডাউনে জমতে থাকে। ওসব থেকে বানানো চমৎকার সব জিনিস আমি আর আমার বোন প্রায়-ই গিফট পাই।

আমাদের বাসায় বেড়াতে আসলে বা বাইরে বের হলেও নানা কাহিনী করে সে। একবার বিয়ের শপিং-এ গেছি সব খালারা মিলে। ওকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সারা রাপা প্লাজায় আতঙ্ক ছড়িয়ে গেলো! একটু পর আমার ছোট বোন দেখলো সে একটা বাচ্চাদের দোকানে গিয়ে দু'টা ম্যানিকুইনের মাঝখানে ফ্রিজ হয়ে পোজ দিয়ে আছে! আমরা এতোক্ষণ তাকেও পুতুল ভেবেছি!

আরেকবার সে বাসায় এসেছে বেড়াতে। সবাই মিলে নাস্তা খেতে বসেছি। সে জানালো সে নতুন ধাঁধা শিখেছে। আমরা সবাই সম্পূর্ণ মনোযোগ তার দিকে দিলাম। সে বলে, "একটা হাতির সামনে চারটা কলা কিন্তু হাতিটা খাচ্ছে না কেন ?" বাবা বললো, "হাতির খিদা নাই" - সে মাথা নাড়ে ডান-বাম। আমি বললাম, "কলাগুলা পঁচা" -তাও মাথা না-বোধক হয়ে নড়ছে। বাকিদেরও কারোটাই হলো না। শেষে সে সবাইকে "থুক্কু" করিয়ে বিজ্ঞের মতো মুখ করে বলে, "কারন কলাগুলা প্লাস্টিকের ছিল।" আমার বাবা রাগে প্রায় নিজের চুলগুলা ছিড়তে বাকি রাখলো! এরপর সে বলে, আচ্ছা এবারেরটা সোজা। "একটা হাতির সামনে ৪টা কলা। কলাগুলা প্লাস্টিকের না। তাও হাতি কেন খাচ্ছে না?" বাবা এবার-ও মহা চিন্তায় পড়ে গেলো! এবার-ও যে যেটাই বলি সেটাই "না"। শেষে এটার উত্তর-ও ওর মুখ থেকেই আসলো, "কারন, হাতিটাই প্লাস্টিকের ছিল!"

এই হলো আভা। আমাকে একদিন একটা খাতা দিয়ে দৌড় দিয়ে চলে গেল। খাতার ওপর আস্ত আস্ত বড় বড় অক্ষরে লেখা-

"কবিতার বই"
আঁকা ও লেখা -
চুকিলামুক্তি হক হিলিংপ্রিং"

তার নিচে একটা স্মাইলি আঁকা, সেটার নিচে লেখা "SMILE"। তার ভেতরে সূচিপত্রের মতো মার্জিন দিয়ে চারটা কবিতার নাম লেখা। পেইজ নাম্বার-ও দেয়া। সে খুব গোছানো। হাতের লেখাও সুন্দর। পরের পেইজগুলোতে পেইজ নং অনুযায়ী চারটা কবিতা লেখা। কবিতা (না ছড়া ?!?) পড়ে মেগা মজা পেলাম। নামের অর্থ জিজ্ঞেস করতেই সে স্বভাবগত গাম্ভির্য নিয়ে বললো এটা তার নিজের ভাষা, এর কোন মানে নাই। শুধু "হক"-টা টাইটেল দেখে চেইন্জ করা হয় নি। ঠিক তখন হঠাৎ একটা আইডিয়া আসলো; "ওকে একটা ব্লগ খুলে দিলেই তো হয়!" এতোদিনের ব্যস্ততায় ভুলে গেলাম আইডিয়াটা।

আজকে খাতা-বই গুছাতে গিয়ে চুকিলামুক্তি হক হিলিংপ্রিং-এর খাতাটা হাতে আসলো। সন্ধ্যা থেকে ওর ব্লগ পেইজ বানিয়ে ফেললাম। একেবারেই ওর ভাষাতে ওর প্রতিটা কথা লিখেছি যাতে ওর নিরেট শৈশবটা বাঁধা পড়ে থাকে এই ব্লগটায়। আজকের ছোট্ট আভা একসময় পাড় করে খিলখিল করে হাসতে হাসতে চুকিলামুক্তি হক হিলিংপ্রিং-এর ব্লগ পড়ছে; এটা চিন্তা করেই আমার খুব ভাল লাগলো। ওর আজব-সরল কর্মকান্ডের শৈশবের একটু হলেও জমে থাকুক আমাদের সামুতে!

http://www.somewhereinblog.net/blog/hiling

আপনারা আমার ছোট্ট বোনটাকে নিজেদের একজন মনে করে গাইড করবেন। ওকে অনুপ্রানিত করবেন, ওর পথচলাটা সুন্দর করে দিবেন। ওর খুব সোজা-সুন্দর সময়টা আপনাদের কথায়-হাসিতে আরো সুন্দর হয়ে উঠুক!



এই হলো আমাদের নতুন কবি : চুকিলামুক্তি হক হিলিংপ্রিং

সবাইকে শুভেচ্ছা!


সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১:২৪
২৮টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×