বৃষ্টি আমার অসহ্য লাগে।
বছরের প্রথম বৃষ্টিটা অসাধারণ লাগে কিন্তু তারপরের বর্ষার দিনের পর দিন ইনিয়ে-বিনিয়ে কান্নাটা চরম বিরক্তিকর লাগে। আর ঝড় হলেকিছু একটা করে ফেলতে ইচ্ছা করে! প্রবল ধরনের একটা আনন্দ আর টান পাই ঝড়ো বাতাস পেলে। আজকে বাতাসের ছোঁয়া পেয়ে ভাবলাম ঝড় হবে!... কিন্তু আকাশ কতোক্ষণ পলিটিক্যাল লিডারদের মতো আজাইরা গ্রুম-গ্রাম ভাব নিয়ে শুরু করলো ঘ্যানঘ্যানে কান্না! এমন রাগ লাগলো যে পাশে বসে থাকা মা'কে বললাম, "আমার ছেলে হলে নাম রাখবো 'বৃষ্টি' আর কাঁদলেই ঠশ ঠাশ চড় দিবো!" মা বললো, "তাহলে তো তোকে ঠাশ ঠাশ চড় দিয়ে কবেই মেরে ফেলতাম! তুই সারাদিন-ই কাঁদতি। অনেক জেদী ছিলি। তোর নানা তোকে চেঙ্গিস খাঁ-র নাতি ডাকতো মজা করে..."
আমার জেদের কারনে কম ঠেলা-গুতা খাই নি জীবনে! তাও শিক্ষা হয় নি মনে হয়। কারন জেদটা না কমে দিনে দিনে মহীরূহ হয়েছে।
আমার বেশিরভাগ জেদ-ই ছিল আমার "এইম অফ লাইফ" নিয়ে আর সব-ই মা'কে আক্রমন করে। ক্লাস টেন-এ থাকতে মা'র বিষয়ে মা থেকেই গিফট পাওয়া ডায়রীতে মা'র জন্মদিনের তারিখে লিখলাম- "আমার মা খুব খারাপ।" আর বাবার জন্মদিনে লেখা হলো- "আমার বাবা সবচেয়ে ভাল বাবা আর সবচেয়ে ভাল মানুষ। বাবা ম্যাকগাইভারের চেয়েও ভাল, ক্যাপ্টেন প্ল্যানেটের চেয়েও ভাল।" কারনটা বলতে গেলে অনেক কথা বলতে হয়। তো বলেই ফেলি হাবিজাবি কথাগুলো কারন কিছু অযথা সময় হাতে আছে অহেতুক কথা বলার জন্য...
বেশ ছোট থাকতে ঠিক করে ফেললাম বড় হলে "বরফ-ঠান্ডা পানিওয়ালা" হবো। পেশাটা হলো- ছোট ছোট ছেলেকে দেখতাম বাসের পাশে বা জ্যামে টিফিন-ক্যারিয়ারের বাটিতে বরফসহ পানি বিক্রী করে আর হাসিমুখে চিৎকার করতে থাকে "নিবেন বরফ-ঠান্ডা পানিই ই ই ই"... বলে । গরমের সময় ঠান্ডা পানিটা সত্যি দরকার অনেকের জন্য তাই ওদের দেখলেই অনেকের মুখ হাসি-হাসি হয়ে যেতো। পেশাটা আমার কাছে চরম লোভনীয় ছিল কারন আমার বরফের বিষয়ে ভয়ানক তীব্র আকর্যণ ছিল। আমার টনসিলাইটিস ছিল তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই মা ঠান্ডা কিছুর কাছে ঘেষতেও দিতো না। যাইহোক, আমি খোঁজ-খবর করে জানলাম টু-থ্রি পর্যন্ত পড়লেই "বরফ-ঠান্ডা পানিওয়ালা" হওয়া যায় তাই এটাও ঠিক হয়ে গেল যে টু-থ্রি পর্যন্তই পড়াশোনার বিরক্তিকর চাপটা সহ্য করবো তার বেশি দরকার-ই নাই! এই প্ল্যান দাদুকে জানিয়ে বললাম যাতে আর কাউকে না বলে। মা সন্ধ্যায় পড়তে বসে বললো, "তুমি নাকি পানিওয়ালা হবা এটা প্ল্যান করে ফেলসো? জানো ওদের কি কষ্টে জীবনটা কাটে? মজা করো ওদের জীবন নিয়ে? ওরা তোমার মতো পড়াশোনা করতে পারলে কতো খুশি হতো জানো সেটা? এসব আজেবাজে প্ল্যান যেন নাহয় আর!" বুঝলাম দাদু তার প্রতিজ্ঞা কতোটুক রেখেছে! কটমটিয়ে দাদুর সাথে "জীবনের কাট্টি" নিয়ে বারান্দায় গিয়ে দাদুর বিশ্বাসঘাতকতার রাগে-দুঃখে-শোকে কেঁদে গাল ফুলিয়ে ফেললাম! বাবা খুব-ই মনোযোগ দিয়ে পুরো ঘটনা শুনে আমাকে অনেক স্বান্তনা দেয়ার চেষ্টা করলো আর বুঝালো যে ওদের জীবনটা আসলেই খুব কষ্টের। আমি অতোকিছু না বুঝলেও এটুক বুঝলাম যে আমার কষ্ট বাবার মতো কেউ বোঝে না আসলে!
আরো বড় হয়ে ঠিক হলো "বুয়া" হবো। কারন- "রান্না-পাতিল খেলার মতো সুখ পৃথিবীর আর কিছুতেই নেই"- এই নীতিতে অটল বিশ্বাস! বুয়ারা এই অসম্ভব সহজ আর আনন্দময় একটা কাজ করে জীবন চালাচ্ছে এটাই পেশা হওয়া খুব উচিৎ! এবার প্ল্যান আর কাউকে জানালাম না। বুয়াকে নিজেই জিজ্ঞেস করলাম যে তিনি কতোদূর পড়েছেন। ক্লাস ফাইভ জেনে খুব খুশি হলাম কারন আমি নিজেই ক্লাস ফোরে পড়তাম। আর মাত্র এক বছর পড়লেই বুয়া হওয়া সম্ভব! আমার ম্যাথ-ড্রয়িং আর মাঝে মাঝে সায়েন্স ছাড়া কিছুই পড়তে বিশেষ করে মুখস্থ করতে ইচ্ছা করতো না। এজন্য পড়াশোনা জিনিসটা ততোটা এক্সপেক্টেড কখনোই ছিল না। মা খুব সিরিয়াস দেখে পড়তে হতো আবার ভাল পজিশন-ও শিওর করতে হতো। যাহোক, এখন এইম অফ লাইফ যেহেতু ঠিক তাই বুয়ার থেকে টুকটাক কাজ শিখতে থাকলাম গোপনে। প্রথম কাজ চুলা জ্বালানো। একটা ব্লোয়ার দিয়ে চুলা ধরাতে হতো যেটা আমার নাগালের বাইরে রাখা হতো আম্মুর নির্দেশে। আমি লুকিয়ে দেখলাম কিভাবে কাজটা করতে হয় তারপর সবাই দুপুরে ঘুমিয়ে গেলে মোড়ার উপর মোড়া দিয়ে চুলা ধরানোর চেষ্টা করতে গিয়ে দুই মোড়া উল্টে পড়ে হাটুর ছাল-চামড়া বিসর্জন দিলাম। মা বিকট শব্দ শুনে এসে কাহিনী কি জানতে চাইলে একটা চরম উদ্ভট কাহিনী বানাতে গিয়ে ডাবল কড়া বকা-ডোজ খেয়ে হতাশ হয়ে ময়দান ছাড়লাম। জেদ চেপে গেল। বুয়া হতেই হবে। এরপর রুটি বানানো শিখবো। আম্মু খুশি-ই যে টিভি-ভিডিও গেইম ছেড়ে মেয়ে রুটি বানাতে শিখছে। আমি কিছুতেই রুটি সাইজে আনতে পারছি না। কিন্তু এমন রোখ চেপেছে যে গোল বানাতেই হবে! এরপর দাদু বাটি দিয়ে রুটি কেটে গোল বানাতে শেখালে খুশি হয়ে গেলাম। কাপড়-ও ধুলাম একটা-দুইটা। আমার নতুন জব ট্রেইনিং যতোই করছি ততোই মধুময়তা বাড়ছে। এতো আনন্দময় একটা কাজ আমি "এইম অফ লাইফ" করেছি এটাতে নিজের প্রতি-ই গর্ব হতে লাগলো।
এতো ভাল প্ল্যানমতো চলছিলো সব কিন্তু একটা বেকুবি করে সব লন্ড-ভন্ড করে দিলাম! ইংলিশ পেপার টু পরীক্ষায় "Aim of Your Life"-এ লিখে ফেললাম যে, "I want to be like our "nurzahan bubu". she is honest and hard-working..." হেনতেন নূরজাহান বুবুর নানা গৌরবগাঁথা। [আমাদের বাসায় বুয়াদের "বুবু" ডাকা হতো]। পেপারে ২ পেয়েছি ৫-এ। সাড়ে সর্বনাশ। আমাদের স্কুলে আবার প্যারেন্টস মিটিং-এ মা-বাবাকে এক্সাম পেপার দেখানো হতো আর ডিসকাশন হতো ছেলে-মেয়ের ক্লাস প্রেজেন্স বা ডেভেলাপমেন্ট নিয়ে। মা সেই মিটিং থেকে থমথমে চেহারা নিয়ে বাসায় এসে আমাকে ডেকে বললো, "Aim of Your Life কি লিখেছিলা হোমওয়র্ক কপিতে?"... আমি ভ্যাবাচেকা খেয়ে বললাম, "ডক্টর"... মা আরো ঝাল মসলা গলায় ঢেলে বললো, "আর পরীক্ষায় কি লিখে আসছিস?" আমি এবার আল্লাহ-কে ডাকছি। ভয়ে গলা শুকিয়ে পুরা চিপসের মতো কড়কড়ে হয়েছে! কিন্তু আমি যদি গাছের ডালে ডালে চলি তো আমার মা চলে গাছের কোষে কোষে। আমার মা মারামারির মধ্য কখনো যায় নি। এমন সব সমাধানে গেছে যাতে আমি জীবনের জন্য একেবারে লেজ-সিধে কুকুরের মতো শুধরে যাই। মা সেদিন সন্ধ্যায় ঘোষনা করে দিলো যে পরদিন থেকে নূরজাহান বুবু আসবে না। কাজ আমি করবো, মা আমাকে প্রতিমাসে বুবুর মতোই বেতন দিবে। বাসার বাকিরা চরম ভড়কে গেলেও মা আমার সামনে বুবুকে ডেকে আঙুল নেড়ে একেবারে আইনের ধারার মতো বলে গেলো কথাগুলো। আমার এবার চ্যালেঞ্জের পালা... এতোদিন যা যা শিখেছি সেগুলা এ্যপ্লাই করতে হবে! মনে মনে খুশি-ই ছিলাম আমি। পরদিন মা আমাকে ডাকলো প্রায় সাড়ে ছয়টার সময়। ঘুমের চোটে চোখে ঠিকমতো দেখতেই পাচ্ছি না। মা বললো, "যাও লুচি-হালুয়া বানাবা নাস্তায় আর চা বানিয়ে ফেলো পরে। সারিয়ার (আমার ছোটবোন) টিফিন নুডলস ফ্রিজ থেকে বের করে গরম করে রেখো।" আমি অবাক!..."মা আমি স্কুলে যাবো না?" মা-ও নির্বিকার, "নূরজাহান স্কুলে যায়? দেখেছো কখনো? যাও যা যা বললাম করো। আজকে থেকে তোমার স্কুলে যেতে হবে না। আর আগে চোখ-মুখ ধুয়ে ব্রাশ করে তারপর রান্নাঘরে যাবা।" আমি মিনমিন করে বললাম, "চুলা জ্বালাতে পারি না।" মা বললো, "কেন? নূরজাহান শেখায় নি এটা এখনো? এসব না পারলে এইম কিভাবে ঠিক করলা আর তোমার ট্রেইনিং-এর কি হলো? আচ্ছা যাও রুটি বানাও।" আমি আবারো আগের চেয়ে ভলিউম কমিয়ে মিনমিন করে বললাম, "রুটির ঐ পেস্টটা বানিয়ে দাও আমি বাকিটা পারবো।" মা বললো, "যা করার নিজে করো। মানুষ পেস্ট বানিয়ে দেয়ার জন্য বুয়া রাখে না। আর এতো টাইম নষ্ট করবা না কথা বলে। সকালের সময় এমনিতেই ব্যস্ত থাকে সবাই।" আমি এবার পুরাই ধরাশায়ী... একবার ফ্রাইং প্যানের দিকে তাকাই আবার একবার চুলার দিকে... তারপর নূরজাহান বুবুর কাজের ছোট্ট মোড়ার উপর বসে শুরু করলাম কান্না। মা তখন এসে বললো, "কান্না খুব সহজ একটা কাজ। কেঁদে কেঁদে তুমি সীমপ্যাথি নিয়ে কাজ করতে চাইলে হবে না। বোকা আর লুজাররা কাঁদে কারন তারা কিছুই করতে পারে না। নূরজাহান যেটা পারবে সেটা তুমি কখনোই পারবে না। তোমার সেই ক্ষমতাটা নেই। আর যেটা পারবে না সেটা নিয়ে ডিসিশন নিতে যাবে না কারন সেটা ভুল হবে। এটা তুমি ভেবে দেখো নাই। যেটা তোমার ভাল লাগে সেটার সাথে সাথে নূরজাহান এমন অনেক কাজ-ই করে যেটা তোমার একটু-ও ভাল লাগবে না। সেগুলা তুমি ভেবেই দেখো নি। নূরজাহানের কষ্টের কাজগুলো বুঝতে শিখো তাহলে বুঝবা যে সে সত্যই-ই কতো কাজ করে। ঐ এইম নিবা না যেটা তুমি ফুলফিল করতে পারবা না। এখন বলো এইম বদলিয়ে কি স্কুলে যাবা না রুটি বানাতে যাবা?" আমি কথা না বলে ঘাড়ের রগ ত্যাড়া করে দাপাতে দাপাতে আমার ঘরে ঢুকে গেলাম স্কুলড্রেস পড়তে।
এরপর ঠিক করেছিলাম যে ফকির হবো। গাড়িতে ঠেলা দিবে কেউ আর আমি গলা খুলে ভিক্ষে করবো বিষয়টা অসাধারণ মনে হতে লাগলো। কিন্তু টিভিতে একটা ডকুমেন্টারি দেখে খুব কষ্ট পেয়েছিলাম আর বাবা-ও বলেছিল কতোভাবে এক্সপ্লয়েট হয়ে মানুষ ভিক্ষে করে। এরপর দাদুর সাথে নামাজ-ও পড়ে ফেলেছিলাম ওদের জন্য দোয়া করে দেয়ার জন্য!
ক্লাস এইটের ফাইনালের ঠিক আগে আমার কি একটা যেন ফাংশন ছিল। ওখানে আমি পার্টিসিপেইট করবো। নানা আয়োজন। হঠাৎ মা বললো যে ম্যাথ পরীক্ষার আগে কোনো ফাংশনে যাওয়া নেই। এইটের ফাইনালের উপর সায়েন্স-কমার্স-আর্টস ভাগাভাগি হয়; সুতরাং কোনো হাংকি-পাংকি-ত্যাড়ামি সহ্য করা হবে না আর আমি মা'কে কেন জিজ্ঞেস করি নি যে আমি ফাংশানে যাবো। আমি ঘাড়ের রগ ফুলিয়ে ডাবল ত্যাড়া হয়ে গাল ফুলিয়ে বললাম, বাবা বলেছে যেটা আমার করা উচিৎ মনে হয় সেটা আমি করতে পারবো। মা বললো, তোমার উচিৎ-অনুচিৎ বোঝার বয়স-ই হয় নি। কাঁদতে কাঁদতে প্রায় জামা-রুমাল ইত্যাদি ইত্যাদি ভিজিয়ে ফেললাম। মা অটল। রাতে ভাত খেলাম না। তাতেও লাভ হলো না কিছু। মা'র বক্তব্য, ক্ষুধা লাগলে নিজেই খাবে; রাস্তায় কতো মানুষ খেতে পায় না আর বেশি পেয়ে সে ঢং শিখে গেসে... ইত্যাদি ইত্যাদি। বাবা-দাদু মা'কে কিছুটা বোঝাতে চেষ্টা করেও বিফল হলেন। আমিও ঘাড় ত্যাড়া করেই রাখলাম, পরদিন নাস্তাও খেলাম না। মা তাও নির্বিকার। শেষে দুপুরে থাকতে না পেরে ফোঁপাতে ফোঁপাতে খেতে বসলাম... সবার থেকে আলাদা। একা।
ক্লাস নাইনে সায়েন্স পেলাম। ক্লাস করলাম এক-দেড় মাস। তারপর বাবা-কে বললাম যে ফিজিক্স-কেমিস্ট্রির কিছু বিষয় বিষের মতো লাগছে, প্লিজ মা'র থেকে আমাকে বাঁচাও এবং কমার্সে পড়বো এটা ঠিক করে দাও। বাবা মাকে বললো যে মেয়ে কিসে পড়বে এটা তাকে ঠিক করতে দাও নাহলে সে পড়ায় আগ্রহ পাবে না। জোড় করে পড়ায়ো না। মা বললো, ও যেটা পড়তে যায় সেটাই পড়তে দাও কিন্তু যেখানেই পড়বে ওকে মনোযোগী হতে হবে। সে পড়লেই পারে। আমি আই.বি.এ.-তে পড়া এক কাজিনের সাথে আলাপ-আলোচনা করে বুঝলাম ওর ফিল্ডটা কতোই না মজার। তাই ঠিক করে ফেললাম বিজনেস হলো আমার লাইন। পয়সা-পাতি দিয়ে একেবারে লালে-লাল হয়ে যাবো! কমার্সে বহু কষ্টে শিফট করলাম। এবং আরো ৩-৪ মাস পর এ্যকাউন্টিংটাকে বিষের মতো বিশ্রী-বিরক্তিকর লাগতে লাগলো। হায়ার ম্যাথ কতো ভাল ছিল তাই ভাবতে লাগলাম আর এসে বাবাকে নিয়ে আবারো বসে বললাম, সায়েন্স-ই ভাল ছিল। আমি সায়েন্স-ই পড়তে চাই। এবার মা'র ধৈর্যচ্যুতি ঘটাটাই স্বাভাবিক... তাই স্বাভাবিক ব্যপারটাই হলো। স্কুল থেকে প্রায় ৭ মাস ক্লাসের পর সাবজেক্ট বদলাতে দিবে না আবার এক বছর লস দিয়ে সায়েন্সে পড়া সম্ভব না সুতরাং মরে যাই আর বেঁচে থাকি কমার্স পড়তে হবে। সুতরাং মায়ের আকাশবাণী প্রচন্ড রাগের সাথে মেনে নিয়ে কমার্সে পড়াশোনা করেছি।
[বিরক্ত-ক্লান্ত-ত্যাক্ত পাঠক যারা এখন-ও পড়ছেন আমার পোস্ট তাদের বলি- আর বেশি ঝামেলা করবো না; আমরা জীবন-গপ্পের প্রায় শেষদিকে... সত্যি!]
মায়ের প্রতি আমার প্রবল রাগের কারন হচ্ছে তাঁর শাষন। আমার বাবা শক্ত হতে পারেন না, আবার শক্ত হলে তাঁকে নরম করা অসম্ভব। বাবা একটু ছাড় দেয়ায় মা'কে সবসময়-ই আমার লাগাম টানতে হয়েছে। আমার প্রতিটা এটিকেট বা হাইজিন, কি কথা বলার ধরন সবকিছু মা খুব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে গেঁথে দিয়েছিলো জীবনের প্রথম জ্ঞান হবার সময়টা থেকে। আর এসবকিছুর জন্যে মা আমার রাগ-অভিমান-বিরক্তি-ঘৃণা সব-ই কামিয়ে নিয়েছে সেই ছোটবেলা থেকে। তবে আমার ঐ অপরিণত সময় পাড় হয়ে যাবার পর মা কখনোই কোন বেড়ী পড়িয়ে দেয় নি, সবসময়-ই আমি নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি বেশ স্বাধীনভাবেই। তবে মা-র সাথে শেয়ার করতাম যাতে মা ঠিকঠাক করে সাবধান করে দিতে পারেন আমাকে। এখন-ও আমি আমার "এইম অফ লাইফ" নিয়ে সেই বুয়া হবার সময়ের মতোই ইনডিসিশানে ভুগি। তখন একমাত্র মা-কেই আঁকড়ে থাকি কোন একটা পথ দেখাবার জন্য!
সেদিন আমার ছোটবোনের ক্লাস নাইন-টেনের ডায়রীর একটা পেইজ চোখে পড়ে গেল হঠাৎ...
"I THINK I HATE MY MOM MOST...SHE IS THE WORST MOM OF THE WORLD"
ইশ! সৃষ্টিকর্তা! আমি যদি কখনো "মা" হই তাহলে আমাকে এমন ক্ষমতা দিও তো, যাতে আমি ঠিক আমার মা'র মতো একজন খারাপ মা হতে পারি!
______________________________________________
ঝড়লিপি ১
ঝড়লিপি ২
ঝড়লিপি ৩
ঝড়লিপি ৪
ঝড়লিপি ৫
ঝড়লিপি ৬
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


