আগেকার দিনে রাজা বাদশারা যেতেন দামী আরবী বা ওয়েলার ঘোড়ায় চড়ে বা হাতির পিঠে অমূল্য কারুকার্য করা হাওদাতে বসে। এখন মন্ত্রীরা যাতায়াত করেন শীততাপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ীতে। দুটোই সাধারণ মানুষদের আয়ত্ত্বের বাইরে ছিল এবং আছে।
সম্প্রতি আমাদের ব্যাঙ্গালোর শহরে মাত্র ৩ দিনের জন্য এর সামান্য ব্যাতিক্রম হয়েছিল কর্ণাটক সরকারের সৌজন্যে। কর্ণাটক সরকার ব্যাঙ্গালোরে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বাসের ভাড়া গত শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত মাত্র ১ রুপি করেছিলেন। দূরত্ব যতই হোক শহরের সব সরকারী এসি ভলভো বাসের ভাড়া ৩ দিনের জন্য মাত্র ১ রুপি। খবরের কাগজেও প্রচার করা হল জনসাধারণের অবগতির জন্য। তবে যেসব বাস দেবানাহাল্লি বিমান বন্দর থেকে ব্যাঙ্গালোর শহরে আসে সেগুলি এই ১রুপির পরিকল্পনার বাইরে রাখা হয়েছিল।
আমিও একদিন সুযোগ পেয়ে অফিস থেকে ফেরার পথে চড়ে নিলাম শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বাস। তবে মনে হয় সাধারণ বাসে গেলেই ভাল হ্ত। সবাই গিয়ে ভিড় করেছে বাসে। শেষে এমন অবস্হা হল দরজা বন্ধ করতেই অসুবিধা হচ্ছে। আবার শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বাস দরজা বন্ধ না হলে চলে নাকি? এসি গ্যাসের শ্রাদ্ধ হবে তাহলে। অতি কষ্টে দরজা বন্ধ হলে বাসের যাত্রা শরু হল। ভেতরে লোক গিজগিজ করছে। এসি ফুল থাকা সত্ত্বেও প্রচুর গরম।
ব্যাঙ্গালোরে অনেক পর্দানশীন মুসলমান মহিলা আছে যারা প্রচন্ড কট্টরপন্হী। বোরখা ব্যাঙ্গালোরে অনেকেই পরেন তবে মুখে নকাব আঁটা থাকে না অনেকরই। কিন্তু কট্টরপন্হীরা মুখে নকাবতো বটেই এমন কী হাতে দস্তানা পায়ে মোজা পরেন। পরুষ ছোঁয়া এড়িয়ে চলার জন্য পারতপক্ষে ভিড় বাসে চড়েন না। কিন্তু তারাও আজ সওয়ারী।
এক বৃদ্ধ পুরোহিত দেখি কন্ডাকটরের সাথে তর্ক লাগিয়ে দিয়েছেন। বলছেন তাঁর মাসিক পাস আছে। তাহলে এক রুপি দিয়ে টিকিট কাটার কী দরকার?এসি বাসে চড়ে যাচ্ছে অথচ মাত্র ১ রুপি দিতেও কৃপন পুরোহিতের পেছন ফেটে যাচ্ছে!!
আমি পকেট সামলে চলেছি। ভিড় বাসেই পকেটমারদের হাত সাফাই দেখানোর সুযোগ বেশী। এর থেকে সাধারণ বাস তবু নিরাপদ। তবুও শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বাসে চড়ার লোভ কী সামলানো যায়?
সোমবারের খবরের কাগজে দেখি লোকজনের মুখে এই পরিকল্পনার প্রচুর প্রশংশা বেরিয়েছি। তবে বিরোধীরা বলছেন এই লোকসান সরকার জনগণের থেকে কর চাপিয়ে পুশিয়ে নেবে। তাহলে সত্যিই কী আর এমন লাভ হল জনতার? আমি মনে মনে ভাবি সে যাই হোক একদিনের বাদশাহী তো পেলাম।
এই মরেছে.. লুকিয়ে লুকিয়ে ব্লগ লিখতে গিয়ে কর্তার হাতে ধরা পড়ে গেলাম এখনি। বললাম প্রবাসে থেকে নিজের সংস্কৃতির সুঘ্রান নিচ্ছি। মনে হল না যে কনভিন্সড হয়েছেন। শুধু হাসলেন। আমার আজ খবর আছে মনে হয়। সবাই ভাল থাকবেন। আজ চলি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

