.......জিরো গ্র্যাভিটি.......

অনন্তের প্রার্থনায়.........

২৯ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৬

শেয়ারঃ
0 0 0

আজ কি এক আশ্চর্য রঙে আকাশটা রেঙে উঠেছে। এতটাই চমক লেগে গেছে যে চেয়ে থাকতে থাকতে থাকতে ওটাকে সূর্যের আলোর খেলা ভাবারও অবসর হয় না। হাতে আমার একটা কাশফুল, গন্তব্য কোথায়_ জানি না।
আকাশের মেঘগুলো অদ্ভুত রঙ বদলের খেলায় মেতেছে। লাল থেকে কমলা, তার থেকে হলুদ আবার ধুসর। আমি মেঘের সাথে সাথে হাঁটছিলাম। আকাশটা যেখানে এসে তার সব রঙগুলো একতুলিতে গুলিয়ে ফেলল, সেখানে এসে থমকে গেলাম। মেঘ গর্জন করে বৃষ্টি নামল। ঝুম বৃষ্টি। জনমানবশূন্য পৃথিবীর বুকে অবাধ বৃষ্টি...............
অবাধ্য বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হয়ে যাচ্ছি। হাতের কাশফুলটা ভিজে চুপসে গেল। লেকের এক কোণায় এসে বসলাম। একী উদাস নির্বাধ বাতাস! আমি চেয়ে রইলাম আমারই অন্তরে। একটা আশ্চর্য ঝর্ণা কুলকুল শব্দে বয়ে যাচ্ছে! এতদিন কোথায় ছিল সব? এইসব আশ্চর্য উদাস দুপুর, সোনার সকাল, মৃদু বিকেল আর স্বপ্নময় রাতগুলোর পর এই কি সেই কাঙ্খিত সময়? সোনার রঙে রাঙা নয়, রৌদ্রতাপে গাঢ় নয়............. কেবলই উদাস সময়। বাতাসের তালে তালে বৃষ্টির নুপূর-নৃত্য। লেকের পানিতে, গাছের পাতায়, মাঠের ঘাসে... এই কি সেই প্রতীক্ষিত বিকেল? বৃষ্টির কান্নায় ভেজা, মেঘের রঙে রাঙা? আমার ঝর্ণাধারাটা আজ বিনা বেদনায় বয়ে চলেছে। পাহাড়ের বুক চেরার বেদনা নেই, এ কেবল আমারই। এই বিকেলের দান। সৃষ্টির তীব্র বেদনার ভয় নেই, জনপদকে গ্রাস করার বুভুক্ষা নেই, এই তো ছিল আমার নিত্যদিনের প্রার্থনা- ব্যথার বুক চিরে বয়ে চলা বেদনাহীন গতি! হৃদয়ে প্রার্থনার সুর ঝংকার দিচ্ছে,
হে প্রভু, এই ব্যথাকে ক্ষমা কর
বয়ে চলতে দাও প্রভু
যতক্ষণ বয়ে চলে সে নিজে
শ্রান্তি যেন না আসে
যেন তার আগে আসে মৃত্যু।
ক্ষমা কর আমাদের
ক্ষমা করতে দাও আমাদের।
শক্তিকে সৌন্দর্য দাও,
সৌন্দর্যকে দাও শক্তি।
হে প্রভু, আমাদের ভালবাস
আমাদের ভালবাসতে দাও,
ভালবাসতে দাও.....................
বৃষ্টির নেশাটা আরো গাঢ় হয়ে উঠছে..... নুপুর পায়ে বৃষ্টিপরীর মৃদু নৃত্য..... ঝর্ণার শব্দ গাঢ় হয়ে উঠছে....... প্রগাঢ় চুম্বনে শ্বেত কাশফুলের আলতো শরীর.......... ঝর্ণাটা সশব্দে বয়ে চলছে............... পাখির গানে মুখর হয়ে উঠছে নির্জন ঝর্ণাটা.......
........................................
সৃষ্টির আদিতে, যেখানে মানুষের পথচলা শুরু, যেখান থেকে মানুষের আকাশ ছোঁয়ার তৃষ্ণা, যেখান থেকে ইউনিকর্ণের পিঠে চেপে আগুনমুখো ড্রাগনকে জয়ের দুর্দম স্পৃহা, যেদিন থেকে এক আত্মা দু'দেহের ফিনিক্সের বিচ্ছেদ......... সেইসব সময় থেকে এক কঠিন পরীক্ষা। অনন্তকাল তৈরীর পরীক্ষা। ছোট্ট সেই ছেলেটা, যার চোখে বিঁধে গিয়েছিল যাদুর আয়নার ছোট্ট একটা ভাঙা টুকরো। যে ভুলে গিয়েছিল তার সব ভালবাসার স্মৃতি। তুষার রাণী তাকে বলেছিল 'অনন্তকাল' বানাতে। অবশেষে যেদিন শীতল তুষার দিয়ে সে বানাল অনন্তকাল শব্দটি, সেদিন তার আত্মা মুক্তি পেল। ব্যথায় তার ছোট্ট বুক টনটনিয়ে উঠল, চোখে নামল অঝোর অশ্রুর ধারা- সেদিন সে মুক্তি পেল। অশ্রুতে ভেসে গেল জাদুর কাচ।
বর্ষায় বিশ্ব চরাচর ঝাপসা হয়ে আসছে.... আমি কাশফুলটা গালে স্পর্শ করাই, হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখি- আমার অশ্রু না বৃষ্টির ফোঁটা?
বৃষ্টিপরী আর জলপরীদের নাচ........... মনে হচ্ছে, অনন্তকাল ধরে আমার হৃদয়ে এমনি ঝর্ণা বয়ে চলছে....... সেইসব ইউনিকর্ণ-ফিনিক্স-ড্রাগনের সময় থেকেআজকের বিকাল পেরিয়ে আমার শবযাত্রা পেরিয়ে আরো বহুদূর.......
দিগন্তরেখায় দাঁড়িয়ে, রংধনু ছুঁয়ে আকাশের শেষ সীমানায় আজ দাঁড়িয়ে আমি!
অবশেষে আমি অনন্তকাল তৈরি করেছি!!!
.........................
আদি অন্ত সব একাকার হয়ে যাচ্ছে অবিরাম জলধারায়....... জাদুর আয়নার টুকরো ধুয়ে ভেসে গেছে........ আমার প্রার্থনা ধ্বনিত হচ্ছে,
আমাদের ভালবাসতে দাও....... ভালবাসতে দাও..................
অবশেষে............
আমি অনন্তকাল তৈরী করেছি.........................
আমি অনন্তকাল তৈরি করেছি...........................

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২৯ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ প্রচেত্য।

২৯ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:০৯

লেখক বলেছেন: হুমম...

৩. ২৯ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৪
ফারজানা মাহবুবা বলেছেন: আপনারো আমার মত পরীদের সাথে মিলামিশা আছে দেখি! :) :)
৩০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৫

লেখক বলেছেন:
ঠিকই.... ওটা ছাড়া আমার বাঁচা হয় না!

৪. ২৯ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৭
অনির্বান বলেছেন: একবড় ভাই বলেছেন, বেশি বেশি মন্তব্য করবে, তবে মন্তব্য পাবে। তাই মন্তব্য করতে আসলাম। বড় দেখে পড়তে পারলাম না।

আপা, আমাকে খেমা করে দিবেন।
৩০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৭

লেখক বলেছেন: খেমা করলাম। তবে আপনার বড়ভাইয়ের পরামর্শ সর্বাংশে সত্য নয়, অনেক কমেন্ট মাস্টার আছেন, যারা লেখক হিসেবে ততটা ভালো নন, তারা বেশি কমেন্টও পান না।
আপনাকে ধন্যবাদ।

৫. ২৯ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১৩
ভাস্কর চৌধুরী বলেছেন:
দারুন লিখেছেন..........................................................................+


আদি অন্ত সব একাকার হয়ে যাচ্ছে অবিরাম জলধারায়....... জাদুর আয়নার টুকরো ধুয়ে ভেসে গেছে........ আমার প্রার্থনা ধ্বনিত হচ্ছে,
আমাদের ভালবাসতে দাও....... ভালবাসতে দাও..................
৩০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৮

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ, ভাল লেগেছে জেনে ভালো লাগল।

৬. ২৯ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১৩
কিরিটি রায় বলেছেন: শক্তিকে সৌন্দর্য দাও,
সৌন্দর্যকে দাও শক্তি।
হে প্রভু, আমাদের ভালবাস
আমাদের ভালবাসতে দাও,
ভালবাসতে দাও....................ভালবাসতে দাও.....................
ভালবাসতে দাও.....................ভালবাসতে দা ও ..... দাও.....................

৩০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৮

লেখক বলেছেন: আমাদের এটাই প্রার্থনা.....

৭. ৩০ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:০৮
শাওন বলেছেন: এমন লেখা মাহবুবা আখতারকে মানায় না যে । কি হলো হঠাৎ ?
তবে যথেষ্ঠ ভালো লাগলো ।
+
৩০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৯

লেখক বলেছেন: 'যথেষ্ঠ'=p~ ধন্যবাদ তোমাকে....

৮. ৩০ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৮:৪৮
কোলাহল বলেছেন: একান্ত অনুভুতির ভাল লাগা।
৩০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:০০

লেখক বলেছেন: ঠিক তা-ই....

৯. ৩০ শে মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:৫২
বিবেক সত্যি বলেছেন:

কি লিখছে রে..


ছবিটাও সেইরকম ...

দারুন,দারুন এবং দারুন....
৩০ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:০০

লেখক বলেছেন:
আপনাকে ধন্যবাদ, ধন্যবাদ এবং ধন্যবাদ।

১০. ৩০ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১৯
মুনিয়া বলেছেন: হুমম...
I need a little room to pray....
০১ লা এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:২০

লেখক বলেছেন:
we don't get it easily, so let's make a room inside our heart.....

১১. ৩০ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩০
সারওয়ার জামান চন্দন বলেছেন: +++

আদি অন্ত সব একাকার হয়ে যাচ্ছে অবিরাম জলধারায়....... জাদুর আয়নার টুকরো ধুয়ে ভেসে গেছে........ আমার প্রার্থনা ধ্বনিত হচ্ছে,
আমাদের ভালবাসতে দাও....... ভালবাসতে দাও..................
০১ লা এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:২১

লেখক বলেছেন: কি ব্যাপার?! সবাই কেবল আমার লেখা থেকেই কমেন্ট করছেন? কেমন লাগল তা তো বললেন না.....
তবে ধন্যবাদ।

১২. ৩১ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৫:৫৯
ডেলফ বলেছেন: ভিন্ন এক বিস্মৃত অনুভূতি

ক্ষমা কর আমাদের
ক্ষমা করতে দাও আমাদের।
শক্তিকে সৌন্দর্য দাও,
সৌন্দর্যকে দাও শক্তি।
হে প্রভু, আমাদের ভালবাস
আমাদের ভালবাসতে দাও,
ভালবাসতে দাও ...
০১ লা এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:২২

লেখক বলেছেন:
বিস্মৃতির অতলে এই প্রার্থনা কখনো হারায় না...

০১ লা এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:২২

লেখক বলেছেন: অনন্ত ধন্যবাদ!

১৪. ৩১ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৯:০৮
সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেছেন: ++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++
০১ লা এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:২৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৫. ০২ রা এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১৪
আবু সালেহ বলেছেন: চমৎকার অনুভুিতর বহিঃপ্রকাশ....


++++
০২ রা এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:২৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

০২ রা এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:২৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

০৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ ভোর ৬:২৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৮. ১৩ ই এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৭
সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন:



চচচচচচমৎকার!!!

+

সত্যিই ভালো লিখেছেন। মোহনীয় মুগ্ধতা!!
৩১ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ২:২৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৬৯৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
যা+ইচ্ছা+তাই
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই